সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ভূমিকম্প

ভূমিকম্পের সময় ১০ নবজাতককে উদ্ধারে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন কলম্বিয়ার চিকিৎসক জার্মান সোমোয়ার। ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পের সময় জীবন বাজি রেখে ১০ শিশুকে বাঁচালেন, সেই চিকিৎসক পেলেন জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের নবজাতক বিভাগ থেকে ১০ শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে আলোচনায় আসা শিশু বিশেষজ্ঞ জার্মানিতে আরও উচ্চতর চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেড দে মেডিকোস হিস্পানোহাবলান্তেস এন আলেমানিয়া বা রেমা চিকিৎসক জার্মান আন্দ্রেস সোমোয়ারকে পেশাগতভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের সময়। অ্যান্টিওকিয়া বিভাগের আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকানার ষষ্ঠ তলায় তখন নবজাতক বিভাগে ১০টি শিশু ছিল। ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর চিকিৎসক সোমোয়ার অন্য চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে নিয়ে শিশুদের ভবন থেকে নিরাপদে বের করে আনেন।   সোমোয়ারের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রথমে রোগী ও স্বজনদের বের হওয়ার পথ দেখান। এরপর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা নবজাতকদের কাছে ফিরে যান। দুই চিকিৎসক ও তিন নার্সের সহায়তায় তারা একে একে শিশুদের কোলে নিয়ে ভবন থেকে বের করে আনেন। উদ্ধার করা শিশুদের মধ্যে একজন ওই দিনই জন্মেছিল বলে সোমোয়ার জানিয়েছেন।   নবজাতকদের মধ্যে যাদের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল, তাদের সবাইকে একইভাবে বের করা সম্ভব হয়নি। সোমোয়ার জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা কিছু শিশুর দায়িত্ব একজন সহকর্মী সামলাচ্ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় ওই সহকর্মী অন্য এক রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করছিলেন। অন্যদিকে, যারা নিজেরা নিরাপদে বের হতে পারছিল না, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার করা হয়।   ভূমিকম্পের পর সোমোয়ারের দুই নবজাতককে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দ্রুত কলম্বিয়ায় সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে আলোচনায় আসে। অ্যান্টিওকিয়ার গভর্নর আন্দ্রেস হুলিয়ান রেনদোনও তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সাহসিকতার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান।   সোমোয়ার মূলত কলম্বিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যা ও শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত পরিচয়ও অনলাইনে যাচাই করা যায়, যেখানে তার শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং ওই হাসপাতালের সঙ্গে কাজের তথ্য রয়েছে।   ভূমিকম্পের সময় তার ভূমিকার খবর জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেমার কাছেও পৌঁছে যায়। এরপর সংগঠনটি সোমোয়ারকে জার্মানিতে তার পেশাগত ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা সনদ জার্মানিতে স্বীকৃত করার প্রক্রিয়া, শিশু চিকিৎসায় তার বিশেষায়িত যোগ্যতা যাচাই এবং ভবিষ্যতে শিশু হৃদরোগ বিষয়ে আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণের পথে সহায়তার কথা জানানো হয়েছে।   তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেমা এখন পর্যন্ত তাকে সহায়তা করার উদ্যোগ ও আগ্রহের কথা জানিয়েছে এবং সোমোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছে। সংগঠনটি বিদেশি চিকিৎসকদের জার্মানিতে সনদ স্বীকৃতি, ভাষা শিক্ষা, নথিপত্রের অনুবাদ এবং বিশেষায়ন বা চাকরির প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তাই মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সব খরচ ইতোমধ্যে নিশ্চিতভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে, এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   রেমার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে চিকিৎসকদের পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সনদ স্বীকৃতি, চিকিৎসকদের জন্য জার্মান ভাষা শেখা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং হাসপাতাল খোঁজার মতো বিভিন্ন ধাপে সহায়তা দেওয়া হয়। সংগঠনটির সঙ্গে জার্মানিতে বসবাস ও কর্মরত ৪৫ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত রয়েছেন এবং ৯০০ জনের বেশি মানুষকে তারা প্রাথমিকভাবে পরামর্শ দিয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।   সোমোয়ারের জন্য জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগটি তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত পেশাগত অর্জন নয়, বরং ভূমিকম্পের মুহূর্তে তার নেওয়া সিদ্ধান্তের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের সেই উদ্ধার অভিযানে তিনি নিজের নিরাপত্তার চেয়ে হাসপাতালের সবচেয়ে অসহায় রোগীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।   কলম্বিয়ায় ১০ আগস্টের ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রেও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় সোমোয়ার ও তার সহকর্মীদের নবজাতক উদ্ধারের ঘটনা সেই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত মানবিক ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে।   সোমোয়ারের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, দুর্যোগের সময় চিকিৎসকদের দায়িত্ব শুধু রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো কখনো কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই রোগীর জীবন রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই সিদ্ধান্তই এবার কলম্বিয়ার এই শিশু বিশেষজ্ঞের সামনে জার্মানিতে নতুন পেশাগত সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সংগীতশিল্পী শাকিরা
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় ১০ স্কুল গড়বেন শাকিরা, করবেন মিলিয়ন ডলারের সহায়তা

ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নিজ দেশ কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী শাকিরা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি চোকো সফর করে সেখানে অন্তত ১০টি স্কুল নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় পুনর্গঠনে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   গত ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে শিশুদের আবার স্কুলে ফেরানো।   মঙ্গলবার চোকোর রাজধানী কুইবদো সফর করেন শাকিরা। তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন ধনকুবের ও সমাজসেবী হাওয়ার্ড জি. বাফেট। তারা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।   শাকিরা জানান, তার পিয়েস দেসকালসোস ফাউন্ডেশন হাওয়ার্ড জি. বাফেট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় চোকোতে অন্তত ১০টি স্কুল নির্মাণে কাজ করবে। একই সঙ্গে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিভার্সিদাদ তেকনোলজিকা দেল চোকোর পুনর্গঠনেও সহায়তা করা হবে।   এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি এসেছে। গ্লোবাল সিটিজেন ও লাইভ নেশন মিলিয়ে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া সিএএফ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক আরও আড়াই লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   শাকিরা বলেন, চোকোর প্রতি দীর্ঘদিনের একটি 'ঐতিহাসিক ঋণ' রয়েছে। কলম্বিয়ার তুলনামূলক দরিদ্র ও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষ যেন দুর্যোগের জরুরি পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর আবারও ভুলে না যায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   শিক্ষা নিয়ে শাকিরার কাজ নতুন নয়। তার পিয়েস দেসকালসোস ফাউন্ডেশন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চোকোসহ কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের শিক্ষা ও স্কুল অবকাঠামো নিয়ে কাজ করছে। হাওয়ার্ড বাফেটের ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও এর আগে একাধিক শিক্ষা প্রকল্পে কাজ করেছেন তিনি।   ভূমিকম্পের পর শাকিরার এবারের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু ভবন পুনর্নির্মাণ নয়, যত দ্রুত সম্ভব শিশুদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে স্কুলকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন তিনি।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেসে ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত ছবি:সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৬৮, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৬৮ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ১৫ আগস্টের এই ভূমিকম্পের পর একের পর এক পরাঘাত অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।   ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহরের উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্রের কাছে। ভূমিকম্পটি ছিল অগভীর, প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব বেশি হয়েছে।   ভূমিকম্পের পর ভূমিধসের কারণে বিভিন্ন সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং কয়েকটি দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান করছেন। অনেক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অস্থায়ী তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।   প্রায় ১ হাজার ৬০০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেকে ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।   ভূমিকম্পে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে চলে গেছেন। দুর্গম এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রঢেউ দেখা যায়। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।   উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ দুর্গম এলাকায় বিমান ও অন্যান্য মাধ্যমে জরুরি সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Unknown আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার মানুষ

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক, ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।    শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার ভূকম্পন ও আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নাজেওকেও এলাকার কাছে সমুদ্রের নিচে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার।    ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং অনেক মানুষ বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিক্কা, নাজেওকেও, মাঙ্গারাই ও পূর্ব মাঙ্গারাই। সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র, ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছেন।    ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপাসনালয় ও সরকারি স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।    ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি না থাকায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রের ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছিল।    উদ্ধারকাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিধস। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাটি ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বেগ পেতে হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।   ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে হাজার হাজার সামরিক ও পুলিশ সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরানো, আটকে পড়াদের উদ্ধারের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আফটারশক অব্যাহত থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এর আগেও দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ২০২২ সালের পশ্চিম জাভার ভূমিকম্পে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল।   বর্তমান ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনো চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত অন্তত ২০

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরপরই একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর গভীরতার কারণে কম্পনটি তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।   ভূমিকম্পে ফ্লোরেস অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি এলাকায় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।   প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ দুইজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। পরে উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।   ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে। পরে বিভিন্ন এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ শনাক্ত হলেও বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।   প্রবল কম্পনের সময় আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। নাজেওকেও এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।   ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ফ্লোরেস ও আশপাশের অঞ্চলও অতীতে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো চলছে। ফলে নিহত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জন্ম থেকে ঘনিষ্ঠ তিন বোনের মধ্যে ভূমিকম্পের পর বেঁচে রইলেন শুধু আনিয়া মারিয়া। ছবি: সংগৃহীত
একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা: কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে তিন বোনের মধ্যে বেঁচে রইলেন শুধু একজন, হারালেন বাবা-মাকেও

কলম্বিয়ার কালি শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তিন বোনের দুইজন, যারা জন্ম থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন, একই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং একসঙ্গে বিদেশেও ভ্রমণ করেছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় তিন বোনের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন শুধু ২৩ বছর বয়সী আনিয়া মারিয়া।   ১৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কালি শহরের একটি ভবন ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন আনিয়া মারিয়া, তার তিনজনের মধ্যে দুই বোন সোফিয়া ও ইসাবেলা এবং তাদের বাবা-মা হাইরো হার্নান সাভেদ্রা ও ভিক্টোরিয়া কাইসেদো। পরিবারের আরেক সদস্যও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।   উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে আনিয়া মারিয়ার বাবা-মাকে খুঁজে পান। পরে তার বোন সোফিয়ার সন্ধান মেলে। সর্বশেষ ইসাবেলাকে খুঁজে পাওয়া গেলেও তখন তিনি আর বেঁচে ছিলেন না। ১৩ আগস্ট রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   আনিয়া মারিয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন। তার শ্রোণিতে একাধিক হাড় ভেঙেছে এবং দুই হাতেও আঘাত রয়েছে। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কালি শহরের ইমবানাকো ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজন ও বন্ধুরা হাসপাতালে তার পাশে রয়েছেন।   তিন বোনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ছোটবেলা থেকেই তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। একই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি সময় ফ্রান্সেও কাটিয়েছেন। বন্ধু ও স্বজনদের কাছে তারা ছিলেন সব সময় একসঙ্গে থাকা তিন বোন।   এই দুর্ঘটনার আগে তাদের জীবন ছিল অনেকটাই পরস্পরকে ঘিরে। একসঙ্গে পড়াশোনা, ঘোরাঘুরি এবং পারিবারিক সময় কাটানো ছিল তাদের জীবনের নিয়মিত অংশ। কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই পরিবারের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।   কলম্বিয়ার এই ভূমিকম্পে কালি শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ২৮১ জন নিহত, প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন আহত এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি রয়েছে।   ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।   আনিয়া মারিয়ার পরিবারের এই ঘটনা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের একটি চিত্র তুলে ধরেছে। যে তিন বোন জন্ম থেকে একসঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে এখন একজনই বেঁচে আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিয়া মারিয়াকে ঘিরে এখন তার স্বজন ও বন্ধুরাই হয়ে উঠেছেন প্রধান ভরসা।   সূত্র: ইউওএল, দ্য সান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, কিন্তু মেয়ের টানে আবার ধ্বংসস্তূপে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারালেন নিউজার্সির এক মা
নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, কিন্তু মেয়ের টানে আবার ধ্বংসস্তূপে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারালেন নিউজার্সির এক মা

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে নিজের মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির বাসিন্দা ম্যাগনোলিয়া গার্সিয়া লুগো। ধসে পড়া বাড়ি থেকে তিনি প্রথমে নিরাপদে বের হতে পেরেছিলেন। কিন্তু মেয়ে নাতালিয়া ভেতরে রয়ে গেছে বুঝতে পেরে তাকে উদ্ধারের জন্য আবারও সেই ধ্বংসস্তূপের দিকে ছুটে যান তিনি। দুর্ভাগ্যবশত, তখনই একটি ভারী দেয়াল ধসে পড়ে তাঁর ওপর, কেড়ে নেয় এই সাহসী মায়ের প্রাণ।   মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে ম্যাগনোলিয়ার পরিবার ও তাঁর স্থানীয় চার্চ কমিউনিটিতে। 'মার্সি চার্চ অব গড'-এর মিডিয়া লিড আনা কাস্ত্রো জানান, ভূমিকম্পের পরপরই ম্যাগনোলিয়ার স্বামী এই দুঃসংবাদ পান। ফোনে তাঁকে জানানো হয় যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে মা ও মেয়ে দুজনেই চাপা পড়েছেন এবং তাঁদের খোঁজ মিলছে না। চার্চের সহকারী যাজক অস্কার ফার্নান্দো কাস্ত্রো জানান, কলম্বিয়ায় বসবাসরত ম্যাগনোলিয়ার ভাই (যিনি নিজেও একজন যাজক) উদ্ধারকাজে সরাসরি সহায়তা করেন। দীর্ঘ তল্লাশির পর যখন ম্যাগনোলিয়াকে উদ্ধার করা হয়, ততক্ষণে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।   গার্সিয়া লুগো পরিবার গত ২২ বছর ধরে নিউজার্সির ওই চার্চের নিবেদিতপ্রাণ সদস্য। মেয়ে নাতালিয়াকে নিয়ে ম্যাগনোলিয়া এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চার্চের বিভিন্ন কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণকে কমিউনিটির জন্য এক বিশাল ও অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন চার্চের নেতারা।   এদিকে, নিউজার্সির বার্গেনফিল্ডের মেয়র আরভিন আমাতোরিও জানিয়েছেন, শহর কর্তৃপক্ষ এই শোকসন্তপ্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে ও সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। জানা গেছে, বুধবার কলম্বিয়ার নিজ শহরেই ম্যাগনোলিয়ার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এক বুক শূন্যতা আর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই পরিবারটিকে এখন তাদের মাতৃভূমি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার কঠিন লড়াই শুরু করতে হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
টানা অনুসন্ধানের পর মা ও ১৮ দিনের শিশুকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে ৩২ ঘণ্টা, জীবিত উদ্ধার মা ও ১৮ দিনের শিশু

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও আশার আলো দেখাল একটি উদ্ধার অভিযান। ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৩২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর এক মা ও তার মাত্র ১৮ দিন বয়সী নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শহর কালি (Cali)-তে ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে মা ও শিশুটি আটকা পড়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে টানা অনুসন্ধান চালানোর পর জরুরি সেবা বিভাগের সদস্য, দমকলকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ধাপে ধাপে ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর তারা প্রথমে শিশুটিকে এবং পরে তার মাকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসেন। উদ্ধারস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা এ সময় করতালি ও উচ্ছ্বাসে উদ্ধারকারী দলকে অভিনন্দন জানান।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর কালি শহরসহ পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। শত শত উদ্ধারকর্মী এখনো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে দিনরাত কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়।   এপি, দ্য টাইমস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।   এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মা ও তার ১৮ দিনের নবজাতককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে মানবিক সাহস, ধৈর্য এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার এক বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি লাখো মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছে এবং দুর্যোগের মাঝেও আশা হারিয়ে না ফেলার বার্তা দিচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
জাপানের ভূমিকম্প কি সত্যিই মানবসৃষ্ট ছিল? কুমামোতো বিপর্যয়ের পর জাপানে নতুন বিতর্ক
জাপানের ভূমিকম্প কি সত্যিই মানবসৃষ্ট ছিল? কুমামোতো বিপর্যয়ের পর জাপানে নতুন বিতর্ক

জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন এক ষড়যন্ত্রতত্ত্ব। হাজারো পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটি প্রাকৃতিক ছিল না, বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা এসব দাবি নাকচ করে বলেছেন, এত বড় ভূমিকম্প কৃত্রিমভাবে ঘটানো প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও বাস্তবিক দিক থেকে অবাস্তব।    গত ২৮ জুলাই বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটের দিকে কুমামোতো অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১ এবং কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তির ধরন ছিল ফল্টের স্বাভাবিক নড়াচড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় কুমামোতোর উকি সিটি ও হিকাওয়া এলাকায়।    ভূমিকম্পের দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী দাবি করেন, রেকর্ড করা সিসমিক ওয়েভ বিস্ফোরণের মতো, ভূমিকম্পের মতো নয়। পোস্টটি কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখবার দেখা হয়। অনলাইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মেল্টওয়াটারের তথ্য অনুযায়ী, জাপানি ভাষায় ‘কৃত্রিম ভূমিকম্প’ উল্লেখ করা পোস্টের সংখ্যা ভূমিকম্পের দিন প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। পরের দিন তা বেড়ে প্রায় ৩৮ হাজার হয়।    এসব পোস্টের অনেকটিতে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ পুরোনো ভিডিও, অসম্পূর্ণ সিসমিক গ্রাফ এবং আগের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সম্পর্কহীন তথ্য ব্যবহার করে দাবি ছড়িয়েছেন। একই সঙ্গে বহু ব্যবহারকারী এসব দাবির বিরোধিতা করে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।   জাপানের সিসমোলজিক্যাল সোসাইটি এ ধরনের দাবি মোকাবিলায় তাদের ওয়েবসাইটে আলাদা ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ছোট পরিসরে ভূগর্ভস্থ কাঠামো পরীক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ বা কম্পন তৈরি করা সম্ভব হলেও, বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পকে অস্ত্র হিসেবে ঘটানো বাস্তবসম্মত নয়।    জাপান ফ্যাক্ট-চেক সেন্টারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিস্ফোরণ এবং প্রাকৃতিক ভূমিকম্পের সিসমিক ওয়েভ এক নয়। বিস্ফোরণে সাধারণত পি ওয়েভ বেশি শক্তিশালী হয় এবং এস ওয়েভ তুলনামূলক দুর্বল থাকে। অন্যদিকে ফল্টের নড়াচড়ায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক ভূমিকম্পে ভিন্ন ধরনের তরঙ্গ দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন সিসমিক স্টেশন এসব তথ্য রেকর্ড করায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ গোপন করাও কঠিন।    বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বড় ভূমিকম্পের শক্তি এত বেশি যে তা কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং ভূগর্ভের অনেক গভীরে পৌঁছানোর প্রযুক্তি লাগবে। বর্তমানে মানুষের খননক্ষমতা যে গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছেছে, তা বড় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের তুলনায় অনেক কম। ফলে নির্দিষ্ট ফল্টে গোপনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করার ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।    কুমামোতো ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৩৮ এবং আহতের সংখ্যা শতাধিক বলে জানানো হয়েছে। হাজারো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু পরিবার পানি ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা ছাড়া দিন কাটাচ্ছে। তবে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চলমান থাকায় এসব সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।    জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় একাধিক টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ায় সেখানে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়। ২০১৬ সালেও কুমামোতো অঞ্চলে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।   বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দুর্যোগের পর এ ধরনের ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধার কার্যক্রম, সরকারি নির্দেশনা এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকম্প প্রস্তুতির ওপর মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবি শেয়ার করার আগে জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রেমিকের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা পরই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায়, পাঁচ ঘণ্টা পরই ভূমিকম্পে প্রাণ গেল প্রেমিকের

মাসের পর মাস অনলাইনে কথা বলার পর অবশেষে প্রেমিকের সঙ্গে প্রথমবার দেখা করতে মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায় যান এক তরুণী। কিন্তু বহু প্রতীক্ষিত সেই সাক্ষাতের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পরই শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণ হারান তার প্রেমিক। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ওই তরুণীর অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, "lobita_xx94" নামে পরিচিত ওই তরুণী গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে ফুল ও উপহার নিয়ে তাকে স্বাগত জানান তার প্রেমিক ভিক। দীর্ঘদিনের ভার্চুয়াল সম্পর্ক সেদিনই প্রথম বাস্তবে রূপ নেয়।   কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তরুণীর দাবি, সাক্ষাতের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে শক্তিশালী দ্বৈত ভূমিকম্প। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ওই ঘটনায় ভিক নিহত হন, আর তিনি নিজে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন।   ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তরুণী লিখেছেন, "জীবন আমাদের একসঙ্গে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল।" এই একটি বাক্যই যেন তাদের অসমাপ্ত ভালোবাসার পুরো গল্প তুলে ধরে। বহুদিনের অপেক্ষার পর যে সম্পর্ক বাস্তবে শুরু হয়েছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে শেষ হয়ে যায়।   সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তার এই অভিজ্ঞতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে ভালোবাসা, ভাগ্য এবং জীবনের অনিশ্চয়তার এক হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তবে তার ব্যক্তিগত বর্ণনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পে প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করলেও, তরুণীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলো কখনো কখনো সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়, বরং অনুভূতির গভীরতায় মাপা হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
নেপলসে ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
ইতালিতে ৪.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ট্রেন চলাচল বন্ধ

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেপলসের উপকণ্ঠে ৪ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে (১৭:৪৬ জিএমটি) এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে নেপলস ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, সাময়িকভাবে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি ভবনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলক্যানোলজি (আইএনজিভি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নেপলসের পশ্চিমে অবস্থিত কাম্পি ফ্লেগ্রেই আগ্নেয়গিরি অঞ্চল। ভূগর্ভের মাত্র ৩ কিলোমিটার গভীরে এর কেন্দ্রস্থল হওয়ায় কম্পনটি বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়।   ইতালীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতেও বাসিন্দাদের আতঙ্কিত অবস্থায় বাইরে জড়ো হতে দেখা গেছে।   ইতালির ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কয়েকটি ভবনে ফাটল ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া কাউকে উদ্ধারের জন্য জরুরি সহায়তার আবেদন আসেনি। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ভবনগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তার স্বার্থে নেপলসের কিছু রেলপথ ও মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে সেবা চালু করার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।   কাম্পি ফ্লেগ্রেই ইউরোপের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি অঞ্চলগুলোর একটি এবং এটি একটি সুপারভলকানো হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছরে সেখানে ভূকম্পন ও ভূত্বকের অস্বাভাবিক নড়াচড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে ইতালির ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই ঘটে। তবে এবারের মতো শক্তিশালী কম্পন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকের ভূমিকম্পের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময়ের ধারাবাহিক ভূকম্পনের কারণে হাজার হাজার মানুষকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছিল।   ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে ইতালির অতীতেও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৬ সালে মধ্য ইতালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এরও আগে ১৯৮০ সালে দক্ষিণাঞ্চলের এরপিনিয়া অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হন এবং শত শত শহর ও গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা, উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। কম্পনের পর কুমামোতোসহ কয়েকটি এলাকায় মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং উপকূলীয় অঞ্চল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাপানের কিউশু অঞ্চলের কাছে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কারণে কিছু এলাকায় ভবন কেঁপে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সমুদ্রপৃষ্ঠে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের আশঙ্কায় সুনামি সতর্কতা ও সতর্কবার্তা জারি করা হয়। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং সমুদ্রের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটির অবকাঠামো ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হলেও শক্তিশালী কম্পনের পর নিয়মিতভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আফটারশকের আশঙ্কায় মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   জাপানে ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর দেশটির দুর্যোগ প্রস্তুতি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটে, যা বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ভূমিকম্পে প্রাণ হারানো অ্যান্ড্রু ও ইয়েলিৎসা উইডম নতুন জীবন শুরু করতে ভেনেজুয়েলায় গিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ’ করা মার্কিন নাগরিকের মরদেহ মিলল ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ থেকে!

ভেনেজুয়েলায় গত মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় এক মাস পর উদ্ধার করা হয়েছে মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্রু উইডমের মরদেহ। তার স্ত্রী ইয়েলিৎসা উইডমে, যিনি অভিবাসন মামলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়েছিলেন, তিনিও একই দুর্ঘটনায় নিহত হন। দম্পতির মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।    নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রু উইডমে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার বাসিন্দা ছিলেন। তার স্ত্রী ইয়েলিৎসা কয়েক বছর আগে আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং কাজের অনুমতিও পেয়েছিলেন। তবে একটি পৃথক আইনি জটিলতার পর আইনজীবীর পরামর্শে তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, যাতে ভবিষ্যতে বৈধভাবে দেশে ফেরার সম্ভাবনা বাড়ে। পরে স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে চলতি বছরের ৪ মে অ্যান্ড্রুও ভেনেজুয়েলায় চলে যান।    দম্পতি ভেনেজুয়েলায় একটি ছোট খাদ্য ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ জুন উত্তর উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুইরা এলাকার তাদের আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ দাহ করা হয় এবং অ্যান্ড্রুর মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।    ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাজারো মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং বহু ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের শনাক্ত করার কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।    অ্যান্ড্রু ও ইয়েলিৎসার মৃত্যুর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান আলোচনায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভূমিকম্পে ভবন ধসকেই নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
পেরুর আন্দিজ অঞ্চলে শক্তিশালী ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, ধসে পড়ল ঘরবাড়ি-গির্জা, নিহ ত ৫

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর আন্দিজ অঞ্চলে শনিবার রাতে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ৫ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের সামান্য পর পেরুর মধ্যাঞ্চলীয় সিকায়া শহরের কাছে ৫.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।   আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু ঘরবাড়ি এবং একটি স্থানীয় গির্জা ধসে পড়ায় অন্তত ৩০০ জন বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া, ধ্বংসস্তূপের নিচে অজানা সংখ্যক মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে রোববার সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   পেরুর ন্যাশনাল সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে স্থানীয় গির্জা ও মঠসহ বেশ কয়েকটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং অনেক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। নিখোঁজ বাসিন্দাদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।   স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের প্রধান লুইস ভাসকুয়েজ জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী 'অ্যাডোবি' বা কাঁচা মাটির তৈরি বাড়িঘরের বহুল ব্যবহারের কারণেই মূলত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গ্রামীণ এসব দুর্বল নির্মাণসামগ্রী শক্তিশালী কম্পন সহ্য করতে না পারায় সহজেই ভবনগুলো ধসে পড়ে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।   ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিনির্ভর জনপদ চোঙ্গো বাজো থেকে আসা ছবিগুলোতে চরম হৃদয়বিদারক দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে গৃহহীন পরিবারগুলো কম্বল মুড়ি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন এবং প্রতিবেশীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু খুঁজছেন।   ধসে পড়া ভবনের নিচে গবাদিপশু আটকে থাকার দৃশ্যও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। ভূমিকম্পে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া হারমেনেগিল্ডা গুয়ামালাতো নামের এক বাসিন্দা স্থানীয় রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আক্ষেপ করে বলেন, "আমার বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।" বর্তমানে তিনি তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী হুয়ায়ুকাচি প্রদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
আবহাওয়ার গ্রাফিক্স। ছবি:সংগৃহীত
এক সপ্তাহে ৮৩ ভূমিকম্পে কাঁপল ইরান, পরমাণু পরীক্ষা?

ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে এক সপ্তাহে মোট ৮৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে খুজেস্তান প্রদেশে সর্বশেষ ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্সের সিসমিক নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে দেশজুড়ে ৮৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে ৭১টির মাত্রা ছিল ৩-এর নিচে, ১০টির মাত্রা ৩ থেকে ৪-এর মধ্যে এবং দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ১০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে খোরাসান রাজভি প্রদেশে। এছাড়া সেমনান, কেরমান ও ফারস প্রদেশে আটটি করে এবং মাজানদারান প্রদেশে সাতটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানেও তিনটি কম্পন অনুভূত হয়।   খুজেস্তান প্রদেশে সর্বশেষ ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে। আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যেও ওই অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব ভূমিকম্পকে সম্ভাব্য গোপন পরমাণু পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে বিভিন্ন দাবি ছড়ানো হলেও, এ দাবির পক্ষে কোনো সরকারি বা স্বাধীন বৈজ্ঞানিক সংস্থার নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। ভূকম্পবিদদের গবেষণায় অতীতেও ইরানের ভূমিকম্পকে ঘিরে এ ধরনের পরমাণু পরীক্ষার দাবি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে ইরান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে নিয়মিত ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ২ শতাংশ ইরানেই সংঘটিত হয় এবং অতীতেও দেশটি বহু বিধ্বংসী ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়েছে।

Unknown জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৫ হাজার
ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৫ হাজার

গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৬৯ জনে পৌঁছেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশটির জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন।   হোর্হে রদ্রিগেজ তার পোস্টে জানান, ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪টি পরিবারকে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষদের আশ্রয়ের জন্য এরই মধ্যে ১০৬টি অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২১ হাজার ২৩৫ জন অবস্থান করছেন। তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হলেও এখনো প্রায় ১৭ হাজার ৯০৭ জন মানুষ স্থায়ী আবাসনের বাইরে রয়েছেন।   সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশজুড়ে মোট ৮৫৬টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ায় বহু মানুষ এক লহমায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গত এলাকায় এখনো নিবিড়ভাবে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ভয়াবহ কম্পনে কেঁপে উঠল মেক্সিকো-গুয়াতেমালা সীমান্ত
ভয়াবহ কম্পনে কেঁপে উঠল মেক্সিকো-গুয়াতেমালা সীমান্ত, ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস অঙ্গরাজ্যের উপকূলের কাছে শুক্রবার (স্থানীয় সময়) ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সম্ভাব্য বিপজ্জনক সুনামি ঢেউয়ের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা  জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মেক্সিকোর পুয়ের্তো মাদেরো শহরের উপকূলের কাছে। ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার (প্রায় ৬ মাইল) গভীরে সংঘটিত হওয়ায় এর কম্পন ব্যাপক এলাকাজুড়ে অনুভূত হয়।   মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) ব্যাসার্ধের উপকূলীয় এলাকায় বিপজ্জনক সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রতিবেশী দেশ গুয়াতেমালার রাজধানী গুয়াতেমালা সিটিতেও ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আতঙ্কিত অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী একটি সরকারি ভবন থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   এছাড়া এল সালভাদরেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।   মেক্সিকোর প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য ওয়াহাকার গভর্নর সালোমন জারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, অঙ্গরাজ্যের রাজধানীতে মাঝারি মাত্রায় কম্পন অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।   এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেক্সিকো, গুয়াতেমালা কিংবা এল সালভাদরের কোনো কর্তৃপক্ষ হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেনি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখেন মা

ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মায়ের গল্প ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, লা গুয়াইরা এলাকার একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে ওই মা টানা ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে তার তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন। পরে উদ্ধারকারীরা তাদের চারজনকেই জীবিত উদ্ধার করেন।   ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হয়েছে, লা গুয়াইরার ওপিপি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ওই মা নিজের বুকের দুধ খাইয়েই শিশুদের বাঁচিয়ে রাখেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা শেষ পর্যন্ত মা ও তার তিন সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করলে ঘটনাটি অনেকের কাছে 'অলৌকিক' হিসেবে বিবেচিত হয়। গল্পটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ ওই মায়ের সাহস, আত্মত্যাগ ও মাতৃত্বের প্রশংসা করছেন। অনেকেই তাকে 'নায়ক' হিসেবে উল্লেখ করছেন।   তবে এ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   কয়েকটি স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার কিছু অংশ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনও আশঙ্কা করা হয়েছে যে, ভূমিকম্প-পরবর্তী বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানের তথ্য একসঙ্গে মিশে এই বর্ণনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।   ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ হতাহত বা নিখোঁজ হন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে একাধিক জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করার ঘটনাও ঘটেছে।   তবে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা এক মা ১১ দিন ধরে বুকের দুধ খাইয়ে তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন, এমন দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত তথ্যের পরিবর্তে ভাইরাল দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ১৩ দিন পরও উদ্ধারকাজ চলমান
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ১৩ দিন পরও উদ্ধারকাজ চলমান, মৃত ৩,৫৩৫—নিখোঁজের খোঁজে স্বজনদের আহাজারি

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি উদ্ধার তৎপরতা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা প্রায় নিভে এসেছে।   সর্বশেষ সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে প্রতিদিন।   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের গভীরে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত ক্ষীণ। ফলে বর্তমানে উদ্ধার অভিযানের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধার।   ভূমিকম্পের পরদিন মঙ্গলবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজে বিলম্ব ও সমন্বয় ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন বিদেশে বসবাসরত ভেনেজুয়েলার নাগরিকেরা। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তার আবেদন জানাচ্ছেন এবং সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করছেন।   স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দুই চাচাতো ভাইবোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের দাদা-দাদির সন্ধানে সহায়তা চেয়েছেন। ভেনেজুয়েলার কারাবায়েদা শহরের একটি সাততলা ভবনে বসবাস করতেন পেদ্রো ভেলোজ মেদিনা ও আলেহান্দ্রিনা রামিরেজ দে ভেলোজ। ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়ার পর থেকে তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।   স্পেনে থাকা ভ্যালেরিয়া ভেলোজ জানান, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের বলেছেন, ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা সম্ভাব্য জীবিত বা মৃতদের খুঁজে পেতে হলে অন্তত ১০টি বড় কংক্রিটের স্ল্যাব সরাতে হবে। এ জন্য ভারী যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে ক্রেনের প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো থেকে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেদ্রো ভেলোজ বলেন, “ভবনটি যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তাতে ক্রেন ছাড়া ধ্বংসস্তূপ সরানো প্রায় অসম্ভব।”   উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে গত রোববার নতুন একটি সামরিক ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ। এই ইউনিট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করবে।   এরই মধ্যে সরকারি হিসাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। তবে নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ বলছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি—প্রায় ৫৯ হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এতে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।   ভেনেজুয়েলা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। দুর্বল জনসেবা ব্যবস্থা, খাদ্যসংকট এবং দারিদ্র্যের কারণে আগে থেকেই প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল। এই ভূমিকম্প সেই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।   তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও পুনর্গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসিক কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সরকার। ওই কমপ্লেক্সের বাসিন্দা এস্টার বিরিয়ের বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কাজ শেষ হলে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী।”   উদ্ধারকাজের ধীরগতি, বিপুল প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ধ্বংস—সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার জন্য এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এখন নজর কেবল নিখোঁজদের খোঁজ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দিকে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
নিখোঁজদের খোঁজে এখনো অপেক্ষা স্বজনদের
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে মৃত প্রায় ৩ হাজার, নিখোঁজদের খোঁজে এখনো অপেক্ষা স্বজনদের

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে প্রায় তিন হাজারে পৌঁছেছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২ হাজার ৯৫৪ জনে।   শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা আরও তিন শতাধিক বেড়েছে, যা দুর্যোগের প্রকৃত ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।   গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই দুই ভূকম্পন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সংঘটিত হয়, যা মুহূর্তেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   দুর্যোগের পর উদ্ধার তৎপরতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধীরে ধীরে তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে।   তবে হতাশার মাঝেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখনো আশায় বুক বেঁধে দুর্ঘটনাস্থলগুলোর আশপাশে অবস্থান করছেন। নিখোঁজ স্বজনদের কোনো খোঁজ বা চিহ্ন পাওয়ার অপেক্ষায় তারা দিন গুনছেন।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং নিখোঁজ আরও হাজার হাজার মানুষের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।   এদিকে, প্রধান দুটি ভূমিকম্পের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। দেশটির আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক দপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ৯৪২টি আফটারশক বা মৃদু কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যা উদ্ধার কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক এই দুর্যোগ লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বিধ্বংসী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দেশটির সামনে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
ভূমিকম্পের আট দিন পরও হার মানেননি হার্নান গিল। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আট দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এক নিরাপত্তারক্ষী। দীর্ঘ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের পর হার্নান গিলকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।   গত ২৪ জুন দেশটির উত্তর উপকূলে আঘাত হানা যমজ ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের কাছে কাতিয়া লা মার এলাকার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিংমলের একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই সময় পার্কিং এলাকার বেজমেন্টে অবস্থিত একটি ছোট কংক্রিটের নিরাপত্তা বুথে দায়িত্ব পালন করছিলেন হার্নান গিল। ভবন ধসে পড়ার পর প্রায় ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন তিনি।   উদ্ধারকারীরা জানান, দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর গিলের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তার কাছে পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। ধ্বংসস্তূপের বিশাল চাপ, অস্থিতিশীল কাঠামো এবং উদ্ধারপথ বারবার ধসে পড়ায় অভিযান আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিরাপদ করিডোর তৈরি করে ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তার কাছে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়।   উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চিলির এক দমকল কর্মকর্তা বলেন, এটি তার কর্মজীবনের সবচেয়ে কঠিন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি। ছোট ক্যামেরা, বিশেষ অনুসন্ধান যন্ত্র এবং সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করে ধাপে ধাপে গিলের অবস্থানে পৌঁছান উদ্ধারকর্মীরা।   কোস্টারিকার রেড ক্রসের প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগাল জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে প্রথমে ক্ষীণ কণ্ঠে সাহায্যের আবেদন শুনতে পান তিনি। পরে সহকর্মীরাও একই শব্দ শুনলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে নিচে একজন জীবিত রয়েছেন। এরপরই উদ্ধার অভিযান নতুন গতি পায়।   উদ্ধারকারীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অবস্থায় গিলকে সরু একটি নলের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে শিরায় স্যালাইনও দেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকলেও তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত লাগেনি বলে তিনি উদ্ধারকারীদের জানিয়েছেন।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় যে কংক্রিটের নিরাপত্তা বুথে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন, সেটি ধসে পড়া ভবনের ভেতরে তার চারপাশে একটি সুরক্ষিত ফাঁকা জায়গা তৈরি করে। এ কারণেই তিনি প্রাণে বেঁচে যান বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।   এই উদ্ধার অভিযানে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল অংশ নেয়। কয়েকবার উদ্ধারপথ ধসে পড়লেও তারা অভিযান চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সফল হন।   ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৪ জুনের ওই যমজ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০