ছয় মাস ইসরাইলি কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতনে চেহারা বদলে গেল ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের
ছয় মাস ইসরাইলি কারাগারে আটক থাকার পর ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুজাহিদ বানি মুফলেহর একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ছবিটি প্রকাশের পর ফিলিস্তিনি বন্দী অধিকার সংগঠন ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি দাবি করেছে, এটি ইসরাইলি কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মানবিক পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বুধবার নিজের ছবি প্রকাশ করেন বানি মুফলেহ। ছবিতে দেখা যায়, ইসরাইলি কারাগারে চিকিৎসার সময় একাধিক অস্ত্রোপচারের ফলে তার মাথার খুলির একটি অংশ অপসারণ করতে হয়েছে। এছাড়া তার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং তাকে অত্যন্ত দুর্বল ও ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে।
এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি অভিযোগ করে, ইসরাইলি কারাগারগুলো ফিলিস্তিনি বন্দীদের জন্য ধীরে ধীরে মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠছে। সংগঠনটির দাবি, বানি মুফলেহর ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি কারাগারের ভেতরে বন্দীদের ওপর চলমান পদ্ধতিগত নির্যাতনের প্রতিফলন।
সংগঠনটির অভিযোগ, এসব নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পর্যাপ্ত খাদ্য না দেওয়া, চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ সৃষ্টি।
ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি জানায়, তারা ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া শত শত ফিলিস্তিনির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের অনেকেই গুরুতর শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। পুনরায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেক পরিবার তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতেও ভয় পাচ্ছে বলে সংগঠনটির দাবি।
সংগঠনটির তথ্যমতে, পশ্চিম তীরের নাবলুসের বেইতা শহরের বাসিন্দা মুজাহিদ বানি মুফলেহকে ২০২৫ সালের জুন মাসে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই ইসরাইল প্রশাসনিক আটক নীতির আওতায় গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটির দাবি, মুক্তির মাত্র দুই দিন পর তিনি গুরুতর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার সম্পূর্ণ সুস্থ হতে দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজ্জা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযান বেড়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত ২৪৫ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সরকারি ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের অভিযানে ১ হাজার ১৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত, ১২ হাজার ৬৬৬ জন আহত এবং প্রায় ২৩ হাজার জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। একই সময়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ।
তবে ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটির এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreপাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২৭ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছে দলটি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি পেশোয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, দলের রাজনৈতিক কমিটি বৈঠক করে সর্বসম্মতভাবে লংমার্চ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ওই দিন পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হবে। এর আগে পিটিআই ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছিল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়া, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। লংমার্চের প্রস্তুতির মধ্যেই ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রশাসন ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এর আওতায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসলামাবাদে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ইসলামাবাদ-ডেরা ইসমাইল খান মোটরওয়ে এবং গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের কয়েকটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানী ও পাঞ্জাবের কয়েকটি এলাকায় পাকিস্তান রেঞ্জার্সও মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী, এই মোতায়েন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল রাখার কথা রয়েছে। পিটিআইয়ের এক জ্যেষ্ঠ নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী ও এর আশপাশের সড়ক আগে থেকেই বন্ধ করে দেওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন থাকায় দলটি কর্মসূচির সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ডনের প্রতিবেদনে ওই নেতাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে দীর্ঘ সময় রাজধানীতে মোতায়েন রাখার বিষয়টিও দলটির বিবেচনায় ছিল। তবে এটি পিটিআইয়ের নিজস্ব ব্যাখ্যা। পিটিআইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে এর আগেও দলটির নেতাকর্মীদের আটক করার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বর লাহোরে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩০ দিনের জন্য আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তারের সমালোচনা করা হয়েছে। ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরানের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে তার পরিবার ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েন চলছে। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এর আগে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিল। ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় সাজা হয়েছে এবং এসব মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়াও চলছে। পিটিআইয়ের নতুন সূচি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রাজধানীতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা কর্মসূচির নতুন তারিখ পর্যন্ত কতটা বহাল থাকে এবং পিটিআই কীভাবে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। সূত্র: ডন, রয়টার্স, আল জাজিরা
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসায় শ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া
অক্টোবর থেকে জাপানে স্থায়ী বসবাসের নতুন আইন কার্যকর, বিপাকে বাংলাদেশিসহ লাখো বিদেশি কর্মী
শখের বশে মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে ঘুরতেই মিলল ভাইকিং যুগের কয়েক হাজার রৌপ্যমুদ্রা
ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বিমান হামলা শুরু হতে পারে বলে ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাত দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ বা সীমিত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ববাজারেও জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবে রাজি হননি। তবে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কাতারসহ কয়েকটি দেশ সংঘাত কমাতে আলোচনার উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে। সিবিএস নিউজও জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সাত দিনের একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও বৃহত্তর শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও কঠোর। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন ইরান তাঁর দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ব্যাপারে অনিচ্ছুক। তাঁর প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে তেহরানকে আরও অনুকূল শর্তে আলোচনায় আনতে চায়। ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর ইরানে আবার বিমান হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কী ধরনের বা কতটা মাত্রার হামলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্প জাতিসংঘে দাবি করেছেন, তাঁর ইরান নীতি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বা সংঘাতের অবসান নিয়ে তাঁর অবস্থান একই রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার বিষয়ে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আগের সমঝোতার কাঠামোর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তেহরানের অবস্থানের মধ্যে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, আটকে থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকার মতো বিষয় রয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অবস্থায় সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করছে। এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা হবে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ, মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন নজরে রয়েছে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিবিএস নিউজ, রয়টার্স
যমুনা নদী থেকে একাই ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সরালেন বিট্টু, প্রশাসনকে কটাক্ষ জনতার
আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপকের মর্যাদা! নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়
তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রস্তুতিতে নাইজেরিয়ায় ২ হাজার তরুণকে তেল-গ্যাস প্রশিক্ষণ
ইউরোপের দূরপাল্লার বাজারে দ্রুত প্রবেশের জন্য ভাড়ায় নেওয়া বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে ভারতের ইন্ডিগো। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ওয়াইড-বডি কার্যক্রম বন্ধ করবে প্রতিষ্ঠানটি এবং একই সঙ্গে সাময়িকভাবে বন্ধ হবে লন্ডন হিথ্রো ফ্লাইট। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আকাশসীমার বিধিনিষেধ, জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে পরিচালন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্ডিগোর এই সিদ্ধান্তকে শুধু একটি রুট বন্ধের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। ২০২৫ সালের শুরুতে নরওয়ের নর্স আটলান্টিক এয়ারওয়েজ থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ড্যাম্প লিজে নিয়ে দূরপাল্লার বাজারে প্রবেশ করেছিল ইন্ডিগো। নিজস্ব ওয়াইড-বডি বহর আসার আগেই ইউরোপের বাজারে অভিজ্ঞতা অর্জন, ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এই উড়োজাহাজ দিয়েই যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশ করে ইন্ডিগো। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মুম্বাই থেকে লন্ডন হিথ্রোতে দৈনিক সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছিল। তখন লন্ডনকে ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই সেই পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত এলো। ইন্ডিগো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন আকাশসীমায় বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে। এতে ইউরোপগামী ফ্লাইটের পথ দীর্ঘ হচ্ছে, বাড়ছে উড্ডয়ন সময় ও জ্বালানি খরচ। এর সঙ্গে উড়োজাহাজের জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ যোগ হয়ে রুটগুলোর কার্যকারিতা, সময়সূচি, কানেক্টিং ফ্লাইট ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলেছে। এই চাপ আগেই দৃশ্যমান হয়েছিল। ইন্ডিগো এর আগে কোপেনহেগেন পরিষেবা স্থগিত এবং দিল্লি-লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট কমিয়েছিল। পরে ৩১ আগস্ট থেকে ম্যানচেস্টার পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘতর উড্ডয়নপথ ও দ্রুত বাড়তে থাকা খরচের কারণে এসব রুট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এবার ২৫ অক্টোবর থেকে পুরো বোয়িং ৭৮৭-৯ ওয়াইড-বডি কার্যক্রমই বন্ধ হচ্ছে। আর নর্স আটলান্টিকের সঙ্গে ছয়টি উড়োজাহাজের ড্যাম্প লিজ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে ৩১ অক্টোবর। ড্যাম্প লিজ ব্যবস্থায় উড়োজাহাজ ও পাইলট সরবরাহ করছিল নর্স আটলান্টিক, আর কেবিন ক্রু ছিল ইন্ডিগোর। তবে ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছে না ইন্ডিগো। ২৫ অক্টোবর থেকেই মুম্বাই-আমস্টারডাম রুটে বোয়িং ৭৮৭-৯-এর পরিবর্তে এয়ারবাস এ৩২১এক্সএলআর ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ আপাতত বড় ওয়াইড-বডির পরিবর্তে দীর্ঘপাল্লায় সক্ষম তুলনামূলক ছোট উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করে ইউরোপীয় নেটওয়ার্কের একটি অংশ ধরে রাখার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইন্ডিগো এটিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ থেকে পিছু হটা হিসেবে দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নর্স আটলান্টিকের সঙ্গে এই প্রকল্প থেকে দূরপাল্লার নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, যাত্রীসেবা, ক্রু অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতে নিজস্ব ওয়াইড-বডি বহর পরিচালনায় এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। ইন্ডিগোর নিজস্ব এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ বহরই হবে সেই পরবর্তী ধাপ। তবে এখানে সময় নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। ইন্ডিগোর ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর অফিসিয়াল বিবৃতিতে নিজস্ব এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ ২০২৮ সালের শুরু থেকে বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণায় নির্দিষ্ট বছর উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, এ৩৫০-৯০০ সরবরাহ পাওয়ার আগ পর্যন্ত লন্ডন হিথ্রো পরিষেবা বন্ধ থাকবে। লন্ডন রুটে আগে থেকে টিকিট কাটা যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে ইন্ডিগো। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ফ্লাইট অথবা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, ইন্ডিগোর বোয়িং ৭৮৭ অধ্যায় আপাতত শেষ হলেও ইউরোপ ও দূরপাল্লার বাজারের পরিকল্পনা শেষ হচ্ছে না। বরং ব্যয়বহুল ভাড়ার ওয়াইড-বডি কার্যক্রম থেকে সরে এসে এ৩২১এক্সএলআর দিয়ে কিছু ইউরোপীয় রুট ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব এ৩৫০ বহর দিয়ে নতুন করে বড় পরিসরে দূরপাল্লার বাজারে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের বৃহত্তম এয়ারলাইনটি। সূত্র: ইন্ডিগো, রয়টার্স, ক্যাপা, নর্স আটলান্টিক এয়ারওয়েজ
আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তার অভিযোগে উজবেক নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ
কানাডায় প্রতি দশজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যুর মাধ্যমে