তাজিয়া মিছিলে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার চক্রান্ত ফাঁস, ধরা পড়ল ‘মাস্টারমাইন্ড’
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে তাজিয়া মিছিলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ফাইয়াজ প্রেমজি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মিছিলে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে তার এ বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার রেয়ে রোডের রেহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে আশুরার শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ফাইয়াজ প্রেমজিকে ক্যাপসুল বিতরণ করতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেগুলোকে ব্যথানাশক ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ বলে প্রচার করছিলেন।
পুলিশ জানায়, ক্যাপসুল গ্রহণের পর অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে। আক্রান্তদের একজন ক্যাপসুল খাওয়ার পর পেটব্যথা ও বমির উপসর্গ অনুভব করেন।
মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার জয়ন্ত মীনা জানান, পরীক্ষায় ক্যাপসুলগুলোতে জিঙ্ক ফসফাইড থাকার প্রমাণ মিলেছে। এটি সাধারণত ইঁদুর দমনে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক। তিনি বলেন, এ ধরনের ক্যাপসুল বিতরণের জন্য অভিযুক্তের কোনো অনুমোদন ছিল না।
পুলিশের অভিযানে ফাইয়াজের কাছ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল জব্দ করা হয়। এছাড়া আরও ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং প্রায় ৫০ কেজি ফসফরাস অর্ডার দেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব তথ্যের সত্যতা ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষকে বিষপ্রয়োগের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তার এই বক্তব্যসহ মামলার সব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের একজন অভিযুক্তের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে অন্যদের সতর্ক করেন এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। একই সময়ে লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে উপস্থিত মানুষকে ওই ক্যাপসুল গ্রহণ না করার অনুরোধ জানানো হয়।
স্থানীয় আদালত শনিবার অভিযুক্তকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র বা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।
জিঙ্ক ফসফাইড অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক পদার্থ। এটি শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফসফিন গ্যাস তৈরি করে, যা হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এ বিষের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। তাই বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়াই জীবন রক্ষার প্রধান উপায়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংবাদটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreলন্ডনের একটি ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা ব্রিটিশ নারী খলিলা লিস্টার জীবনের এক পর্যায়ে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে ধর্মটি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির পর ১৯ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি একজন পাবলিক স্পিকার, যোগাযোগ প্রশিক্ষক এবং পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা। নিজের ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে কথা বলেছেন খলিলা। তার বক্তব্য ও একাধিক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, মুসলিম হওয়ার আগে তিনি বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রেডিও উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং হিপহপ ঘরানার বিভিন্ন আয়োজনে কাজ করতেন তিনি। বিভিন্ন তারকার সাক্ষাৎকার নেওয়ার পাশাপাশি বড় মঞ্চেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তার। পেশাগতভাবে এগিয়ে গেলেও জীবনের অর্থ ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে তার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ইসলাম গ্রহণ করেন। বন্ধুর জীবনে পরিবর্তন দেখেই ইসলাম সম্পর্কে তার আগ্রহ আরও বাড়ে। এক সাক্ষাৎকারে খলিলা জানিয়েছেন, শুরুতে ইসলামকে নিজের জীবনধারার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি তার। মুসলিম নারীদের পোশাক ও জীবনযাপন থেকে শুরু করে ধর্মটির বিভিন্ন বিষয় তার কাছে অপরিচিত ছিল। তবে ইসলাম গ্রহণের পর নিজের বন্ধুর আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং জীবনবোধে পরিবর্তন তাকে ধর্মটি সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করে। খলিলার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বন্ধু প্রায় এক বছর ধরে তার সঙ্গে ইসলাম, হাদিস ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা ও চিন্তাভাবনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে এক স্রষ্টার উপাসনা এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি আস্থা তৈরি হয় তার। শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন খলিলা। নিজের পুরোনো জীবনধারার সঙ্গে নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয় করতে না পেরে সে সময় বিনোদন জগতের ক্যারিয়ার থেকেও সরে আসেন তিনি। খলিলা নিজেই ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ১৯ বছর বয়সে মুসলিম হওয়ার পর তার জীবনের অনেক কিছু বদলে যায়। যে মূল্যবোধের সঙ্গে তিনি আগে যুক্ত ছিলেন, ইসলাম গ্রহণের পর সেগুলোর অনেক কিছুর সঙ্গে আর নিজেকে মেলাতে পারছিলেন না। ফলে সে সময়ের পেশাগত জীবন ছেড়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন। তার পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ধর্মীয় এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। খলিলা জানিয়েছেন, তার বাবা ছিলেন ইহুদি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাবার মৃত্যুর পর তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে তার বাবা শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবারও পেশাগতভাবে সক্রিয় হন খলিলা। বর্তমানে তিনি পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশেষ করে মুসলিম নারী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের পাবলিক স্পিকিং এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তিনি ইসলাম চ্যানেলে উপস্থাপনার পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও অনুষ্ঠানে নিজের ধর্মীয় যাত্রা, মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং যোগাযোগ দক্ষতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা থেকে ইসলাম গ্রহণ পর্যন্ত নিজের যাত্রাকে খলিলা ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আত্মঅনুসন্ধানের ফল হিসেবেই তুলে ধরেছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুর জীবনে ইসলামের প্রভাব প্রত্যক্ষ করা তাকে ধর্মটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করেছিল। সেই কৌতূহল থেকেই শুরু হওয়া অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে তার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা কি ফিরে পাবেন নাগরিকত্ব!
২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
‘গোল্ডেন ভিসা’র চাহিদা বাড়ায় এই দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন ধনী আমেরিকানরা
আফগানিস্তানে নিখোঁজ এক মার্কিন সেনাকে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জর্জিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের মাস্টার সার্জেন্ট মার্ক অ্যালেন। সেই গুলিতে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের পর হাঁটা ও কথা বলার ক্ষমতা হারান তিনি। প্রায় এক দশক সেই আঘাতের জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকার পর ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর ৪৬ বছর বয়সে মারা যান অ্যালেন। ঘটনাটি ২০০৯ সালের। আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন সেনা বো বার্গডাল তার পোস্ট ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। তাকে উদ্ধারে বড় ধরনের অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সামরিক আদালতের নথি অনুযায়ী, সেই অনুসন্ধান অভিযানের অংশ হিসেবেই অ্যালেন ও তার দলকে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের এমন কিছু এলাকায় পাঠানো হয়েছিল, যেখানে দীর্ঘ সময় মার্কিন সেনারা টহল দেয়নি। ২০০৯ সালের ৮ জুলাই বার্গডালকে খোঁজার অভিযানে থাকা অবস্থায় অ্যালেনের দল শত্রুপক্ষের হামলার মুখে পড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে অ্যালেনের মাথায় গুলি লাগে। সামরিক আদালতে পরে দেওয়া সাক্ষ্যে ওই অভিযানে থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জন মার্ক্স জানান, হামলার সময় তিনি অ্যালেনের পাশেই ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অ্যালেনকে মেডিক্যাল ইভাকুয়েশনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। মাথায় গুলির আঘাতে অ্যালেন গুরুতর ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। তার একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আঘাতের প্রভাব ছিল স্থায়ী। তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা কথা বলতে পারেননি এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজেই অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হতো। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অ্যালেনের পাশে ছিলেন তার স্ত্রী শ্যানন অ্যালেন ও পরিবারের সদস্যরা। ২০১৭ সালে বার্গডালের সামরিক বিচার প্রক্রিয়ায় শ্যানন তার স্বামীর দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছিলেন। অ্যালেনকে বিছানা থেকে ওঠানো, গোসল করানো ও পোশাক পরানোর মতো সাধারণ কাজেও দীর্ঘ সময় এবং বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হতো। মার্ক অ্যালেন ১৯৯১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে ফ্লোরিডা আর্মি ন্যাশনাল গার্ড এবং এরপর জর্জিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে দায়িত্ব পালন করেন। আফগানিস্তানের পাশাপাশি তিনি ইরাক এবং সিনাই উপদ্বীপেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সরকারি সামরিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২ বছরের সামরিক ক্যারিয়ার শেষে আফগানিস্তানে পাওয়া আঘাতের কারণে ২০১৩ সালের মে মাসে তিনি অবসর নেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পার্পল হার্ট পান। অ্যালেনকে যে অভিযানে পাঠানো হয়েছিল, সেই বো বার্গডাল পরে প্রায় পাঁচ বছর তালেবানের হাতে বন্দি ছিলেন। ২০১৪ সালে গুয়ানতানামো বে-তে আটক পাঁচ তালেবান সদস্যের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে সামরিক আদালতে বার্গডাল নিজের পোস্ট ত্যাগ এবং সহযোদ্ধাদের বিপদের মুখে ফেলার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি, তবে পদাবনতি, বেতন কর্তন এবং ডিজঅনারেবল ডিসচার্জের সাজা দেওয়া হয়েছিল। অ্যালেনের আহত হওয়ার সঙ্গে বার্গডালকে খোঁজার অভিযানের সরাসরি সম্পর্কও সামরিক আদালতের নথিতে উঠে আসে। আদালতে উপস্থাপিত সরকারি নথিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের ৮ জুলাই অ্যালেন যে মিশনে অংশ নিয়েছিলেন, সেটির উদ্দেশ্যই ছিল বার্গডালকে খুঁজে বের করা। সেই অভিযানেই হামলার মুখে পড়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। আঘাত পাওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর মারা যান মার্ক অ্যালেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি নথিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানে পাওয়া গুরুতর যুদ্ধকালীন আঘাতের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছর লড়াইয়ের পর তার মৃত্যু হয়। অ্যালেনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জানিয়েছিলেন, শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা তার পাশেই ছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে একটি মুহূর্তের আঘাত কীভাবে একজন সেনা এবং তার পরিবারের পরবর্তী পুরো জীবন বদলে দিতে পারে, মার্ক অ্যালেনের গল্প তারই এক দীর্ঘস্থায়ী উদাহরণ।
চিকিৎসকেরা বলেছিলেন টনসিল, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল ১১ বছরের শিশুর স্টেজ-৪ ক্যানসার
১৪ বছরের মেয়ের কক্ষে প্রেমিক: ক্ষুব্ধ বাবা ৭ তলা থেকে ফেলে হত্যা করলেন কিশোরকে
এআই দিয়ে কাজ করিয়ে কর্মী ছাঁটাই করা যাবে না, চীনা আদালতের যুগান্তকারী রায়
শৈশবে আলাদা হয়ে যাওয়া দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী কিশোরী বয়সে একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। চেহারার অদ্ভুত মিল দেখে আশপাশের মানুষ অবাক হলেও তারা কেউই জানতেন না, আসলে তারা আপন দুই বোন। প্রায় তিন দশক পর একটি ডিএনএ পরীক্ষায় সেই সত্য সামনে আসে। দুই নারীর নাম মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিজসেন। দুজনেরই জন্ম ভারতে। শিশুকালে তাদের আলাদা এতিমখানায় রাখা হয় এবং পরে নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবার তাদের দত্তক নেয়। ফলে একই দেশে বড় হলেও নিজেদের রক্তের সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না তাদের। ১৯৯৬ সালে দত্তক নেওয়া শিশুদের একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। তখন তারা দুজনই কিশোরী। পরিচয়ের পর দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। চেহারার মিলও নজর এড়ায়নি বন্ধুদের। ঠিকানা বিনিময় করে চিঠি চালাচালিও শুরু করেন তারা। এমনকি মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন। কিন্তু সেই সময় কেউই জানতেন না, কথাটি কেবল মজার ছলে বলা নয়। বাস্তবেই তারা আপন দুই বোন। পরে জীবনের ব্যস্ততায় তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৫ বছর একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। এর মধ্যে দুজনের জীবন এগিয়েছে আলাদা পথে। মীনা নেদারল্যান্ডসে থেকে যান এবং তিন সন্তানের মা হন। মিনাল তার সঙ্গী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ফ্রান্সে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের এপ্রিলে আসে জীবনের সবচেয়ে বড় চমক। ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানায়, মীনা ও মিনালের মধ্যে পূর্ণ ভাইবোনের সম্পর্ক রয়েছে। তখনই বহু বছরের পুরোনো বন্ধুত্ব নতুন অর্থ পায়। ফল হাতে পাওয়ার পর প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি মিনাল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে নিশ্চিত হন, ডিএনএ পরীক্ষায় যে আপন বোনের সন্ধান মিলেছে, তিনি সেই পুরোনো বান্ধবীই। দুই বোনের আবেগঘন পুনর্মিলন হয় ১১ আগস্ট নেদারল্যান্ডসে। দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি হয়ে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। কান্না আর হাসিতে কাটে সেই মুহূর্ত। জীবনের এতটা সময় আলাদা থাকার পর প্রথমবার তারা জানতেন, এবার আর তারা শুধু পুরোনো বন্ধু নন, আপন দুই বোন। মীনা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তার মনে হতো জীবনে যেন কিছু একটা অপূর্ণ রয়ে গেছে। বোনকে ফিরে পাওয়ার পর সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। মিনালের অনুভূতিও একই রকম। দত্তক পরিবারে ভালোবাসা পেলেও নিজের জন্মপরিচয় ও রক্তের সম্পর্কের কাউকে না জানার একটি শূন্যতা তার মধ্যে ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। এখন আলাদা দেশে থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন দুই বোন। প্রায় ৩০ বছর আগে যে সম্পর্ক শুরু হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে, তিন দশক পর সেই সম্পর্কের আসল পরিচয় সামনে এসেছে। একটি ডিএনএ পরীক্ষা শুধু তাদের জন্মপরিচয়ের রহস্যই ভাঙেনি, ফিরিয়ে দিয়েছে বহু বছর ধরে অজানা থেকে যাওয়া আপন সম্পর্কও।
ইরানে সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন, প্রতিরক্ষার বদলে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশলে জোর
১২ আগস্ট আকাশে মহাজাগতিক উৎসব, একসঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি