বাবার আত্মত্যাগে দুই সন্তান বাঁচল, নিজে আর ফিরলেন না
ম্যাসাচুসেটসের মার্থা’স ভিনইয়ার্ডে পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে দুই সন্তানকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী কেভিন ফস্টার। প্রবল স্রোতে তাঁর দুই কিশোর ছেলে কেনেথ ও কেডেনসহ পাঁচজন পানিতে বিপদে পড়েছিলেন।
৩১ জুলাই বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটের দিকে লং পয়েন্ট এলাকায় তাঁদের উদ্ধারে জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়। তীব্র স্রোতের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজন সাহস করে পানিতে নামেন। শেষ পর্যন্ত ফস্টারের দুই ছেলেসহ চারজন নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হন। কিন্তু ফস্টারকে অচেতন অবস্থায় তীরে আনা হলে তাঁকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যদের বিপদে দেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়াটা ছিল ফস্টারের স্বভাবেরই অংশ। তাঁর স্ত্রী নাদিয়া ও দুই সন্তান এখন তাঁকে হারানোর গভীর শোকে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেভিন ছিলেন ভালোবাসা, উদারতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পরিচিত একজন মানুষ।
ফস্টারের মৃত্যুতে স্থানীয় সম্প্রদায়েও শোক নেমে এসেছে। তাঁর স্মরণে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর দুই ছেলের শিক্ষার জন্য গঠিত তহবিলে ২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছিল।
১১ আগস্ট ফস্টারের দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী ও স্বজনদের কাছে তাঁর শেষ মুহূর্তটি এখন শুধু এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়—সন্তানদের বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করা এক বাবার ভালোবাসার প্রতীক।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরপরই একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর গভীরতার কারণে কম্পনটি তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভূমিকম্পে ফ্লোরেস অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি এলাকায় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ দুইজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। পরে উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে। পরে বিভিন্ন এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ শনাক্ত হলেও বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। প্রবল কম্পনের সময় আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। নাজেওকেও এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ফ্লোরেস ও আশপাশের অঞ্চলও অতীতে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো চলছে। ফলে নিহত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের, যুদ্ধবিরতির বদলে চান ‘শান্তি ব্যবস্থা’
ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে ধার দেওয়া টাকা এখন সুদসহ ফেরত চায় ভারতীয় পরিবার
২০ বছরের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সামা সাফি অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি কারাগারে, মুক্তির দাবি রাশিদা তালিবের
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী জেসন আরডে মারা গেছেন। শুক্রবার ১৪ আগস্ট দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসির একটি বাড়িতে ৪১ বছর বয়সী আরডেকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মাত্র নয় দিন আগে একাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ও নিজের কিছু অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তিনি কেমব্রিজ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কাছ থেকে খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ব্যাটারসির ওই ঠিকানায় যান। সেখানে ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ তার মৃত্যুকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখছে, তবে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। জেসন আরডে ২০২৩ সালে ৩৭ বছর বয়সে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হন। প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার এই অবস্থানে পৌঁছানোর গল্প সে সময় ব্রিটেনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। তবে সম্প্রতি তার একাডেমিক কাজ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে জমা দেওয়া তার পিএইচডি থিসিসের কিছু অংশ অন্য একটি গবেষণার সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে মিলে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। আরডে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে নিজের একাডেমিক জীবনে কিছু ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করেছিলেন তিনি। বিতর্ক শুধু তার গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দাতব্য তহবিল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ দূরত্ব দৌড়ানোর বিষয়ে আরডের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পুরোনো পরিচিতিতে ছয় দিনে ৬০০ মাইল দৌড়ানোর কথা উল্লেখ থাকলেও পরে অন্তত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তা পরিবর্তন করে ১২ দিনে ৬০০ মাইল করা হয়। এসব দাবি ঘিরে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তার নিয়োগ এবং সেখানে দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করেন আরডে। তার পদত্যাগের পরও বিষয়টি নিয়ে কেমব্রিজের শিক্ষক ও একাডেমিক মহলে বিতর্ক চলছিল। আরডের মৃত্যুর পর তার পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা গভীর শোক ও হতবাক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০২৩ সালে কেমব্রিজে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে আরডেকে ঘিরে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হয়রানির একটি ধারাবাহিক প্রচার চলছিল। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। আরডের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল উচ্চশিক্ষা ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে গবেষণার মধ্য দিয়ে। কেমব্রিজে যোগ দেওয়ার আগে তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। শিক্ষা, জাতিগত বৈষম্য এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল তার গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তার মৃত্যুর পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের শিক্ষা অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। জেসন আরডের মৃত্যুর তদন্ত এখন পুলিশের সেন্ট্রাল সাউথ কমান্ড ইউনিটের অধীনে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা না করলেও পরবর্তী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা হবে।
জীবনসঙ্গীকে কল্পনা করে ছবি এঁকেছিলেন ইরানি শিল্পী, এক বছর পর বাস্তবে খুঁজে পেয়ে তাকেই করলেন বিয়ে
১৪ বছর বয়সে দত্তক নেওয়া পালক ছেলেকেই বিয়ে করলেন মা, কেড়ে নেওয়া হলো অন্য ৫ সন্তান
বিমান দুর্ঘটনায় মা নিহত, আমাজনের গভীর জঙ্গলে ৪০ দিন বেঁচে ছিল চার শিশু
ম্যাসাচুসেটসের লরেন্স শহরের মেয়র ব্রায়ান ডেপেনাকে ফেডারেল ওয়্যার ফ্রড ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, কোভিড মহামারির সময় তার ব্যবসার জন্য পাওয়া ফেডারেল রিলিফ লোনের অর্থ ব্যক্তিগত ট্যাক্স, রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন এবং অন্যান্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ব্রায়ান ডেপেনার বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। সিবিএস বোস্টনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে লরেন্সের মেয়র নির্বাচিত হওয়া ডেপেনা ২০২৫ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি লরেন্স সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি লরেন্সে টেনারেস টায়ার সার্ভিসেস ইনকরপোরেটেড নামে একটি টায়ার ও অটোমোবাইল ব্যবসার মালিক। ফেডারেল ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৪ মে ডেপেনার ব্যবসা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন বা ইআইডিএলের অনুমোদন পায়। ওই বছরের ১৮ জুন কোম্পানিটি অর্থ পায়। এই লোন মূলত কোভিড মহামারির কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি মোকাবিলা ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০২১ সালের শুরুর দিকে ডেপেনা লরেন্সের ৩৪২ ব্রডওয়েতে ৭ লাখ ডলারে একটি কমার্শিয়াল প্রপার্টি কেনার পর নগদ অর্থের চাপে পড়েন। এরপর তিনি তার ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের সহায়তায় ব্যবসার ইআইডিএল বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্টে উল্লেখ করা টেক্সট মেসেজ অনুযায়ী, সে সময় ডেপেনা তার অ্যাডভাইজারের কাছে দ্রুত অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ১২ আগস্ট তার ব্যবসার ইআইডিএল বাড়িয়ে ৫ লাখ ডলার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, লোনের অর্থ কেবল ব্যবসার ক্ষতি সামাল দিতে ব্যবহারের কথা থাকলেও ডেপেনা তা অন্য কাজে খরচ করেন। ২০২১ সালের আগস্টে তিনি ইআইডিএল তহবিল থেকে ৮৫ হাজার ডলার ব্যক্তিগত ট্যাক্স পরিশোধে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরের মাসে আরও ৯০ হাজার ডলার তার মেয়র ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটররা। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে ফেডারেল লোনের অর্থ থেকে তার ক্যাম্পেইন অ্যাকাউন্টে একাধিক ডিপোজিট করা হয়। ২০২১ সালের অক্টোবরে ব্যবসার ইআইডিএল আবারও বাড়ানো হয় এবং কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ১১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৮ ডলার আসে। এরপরও ওই অর্থের কিছু অংশ রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন ও বিভিন্ন ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হিসাবে, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত টেনারেস টায়ারের ইআইডিএলের বিপরীতে মাত্র ১৬টি পেমেন্ট করা হয়েছিল। মোট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ১৬০ ডলার, যার পুরোটাই জমে থাকা সুদের বিপরীতে গেছে। তখনও মূল ঋণের বকেয়া ১৬ লাখ ডলারের বেশি ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেপেনার বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড এবং সেই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে বোস্টনের ফেডারেল কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। মামলাটি এখন বিচারাধীন এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। লরেন্স শহর ম্যাসাচুসেটসের একটি বড় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে ডোমিনিকান বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ডেপেনার গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনীতিতে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ তিনি বর্তমানে দায়িত্বে থাকা মেয়র এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোর জন্য বরাদ্দ করা ফেডারেল সহায়তা তহবিলের ব্যবহার।
বাবার আত্মত্যাগে দুই সন্তান বাঁচল, নিজে আর ফিরলেন না
মুসলিমদের ‘শিকারের পারমিট’ চেয়ে মিশিগানের জনপ্রতিনিধির পোস্ট, তীব্র বিতর্ক