সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

রাবার শ্রমিকের মেয়ে থেকে ব্রাজিলের মন্ত্রী: যিনি ১৬ বছর বয়সেও পড়তে জানতেন না তিনি বাঁচালেন আমাজন বন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২২:২৮
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে পরিবেশবাদী রাজনীতিক মারিনা সিলভা। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে পরিবেশবাদী রাজনীতিক মারিনা সিলভা। ছবি: সংগৃহীত

১৬ বছর বয়সেও পড়তে ও লিখতে জানতেন না তিনি। ছোটবেলায় ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলে রাবার গাছ থেকে কষ সংগ্রহ করে পরিবারের জীবিকা চালাতে সাহায্য করতেন। সেই মেয়েটিই পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন এবং আমাজন বন রক্ষার আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত নেতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। তিনি মারিনা সিলভা।

 

১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আকরের একটি রাবার সংগ্রহকারী পরিবারে জন্ম মারিনার। ১১ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। শৈশব কেটেছে আমাজনের বনাঞ্চলের কাছাকাছি অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও রাবার গাছ থেকে কষ সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন।

 

শৈশবেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ১৫ বছর বয়সে মাকে হারান মারিনা। এর আগেও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারা গিয়েছিলেন। শৈশবে নিজেও একাধিকবার ম্যালেরিয়া ও হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেছেন। ১৬ বছর বয়সে হেপাটাইটিসের চিকিৎসার জন্য আকরের রাজধানী রিও ব্রাঙ্কোয় যান তিনি। সেখানেই জীবনের বড় একটি পরিবর্তন আসে।

 

চিকিৎসার পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিচালিত একটি সাক্ষরতা কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে প্রথমবারের মতো পড়তে ও লিখতে শেখেন মারিনা। অর্থাৎ যে বয়সে অধিকাংশ শিশু-কিশোর বিদ্যালয়ের পড়াশোনা অনেকটা এগিয়ে নেয়, সেই বয়সেই তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়।

রিও ব্রাঙ্কোয় গিয়ে জীবিকার জন্য গৃহকর্মীর কাজও করেন তিনি। পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরে ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব আকরে ইতিহাস বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের এই যাত্রাই তাকে ধীরে ধীরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে নিয়ে যায়।

 

আমাজনের বন রক্ষার আন্দোলনে মারিনার যুক্ত হওয়া ছিল তার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাবার সংগ্রহকারী নেতা ও পরিবেশকর্মী চিকো মেন্ডেসের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বন উজাড়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৮০-এর দশকে আকরে বন উজাড় ও বনভূমি থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মারিনা ও মেন্ডেস।

 

রাজনীতিতে তার উত্থানও ছিল দ্রুত। রিও ব্রাঙ্কোর স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এবং পরে জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেন তিনি। ১৯৯৫ সালে আকরের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রীও হন।

২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রথম মেয়াদে পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মারিনা। তার দায়িত্বকালে আমাজনে বন উজাড় কমানোর জন্য নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হয়। বিশেষ করে উপগ্রহের মাধ্যমে বন উজাড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা পরিবেশ সুরক্ষার নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

 

মারিনার মন্ত্রীত্বের সময় ব্রাজিলের আমাজনে বন উজাড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বন উজাড়ের হার প্রায় ৫৯ শতাংশ কমেছিল। এই সময়কার নীতির মধ্যে বন উজাড় প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত সরকারি কর্মপরিকল্পনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

 

আমাজনের বন রক্ষায় উপগ্রহভিত্তিক নজরদারি ছিল এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোথায় বন উজাড় হচ্ছে, কোন এলাকায় তা ঘটছে এবং কোথায় দ্রুত আইন প্রয়োগ প্রয়োজন, এসব শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইনপে বর্তমানে ডিইটিইআর ও প্রোদেসের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাজনের বন উজাড় পর্যবেক্ষণ করে।

 

তবে মারিনা সিলভার পরিবেশনীতি শুধু বন রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, টেকসই অর্থনীতি এবং বন সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির প্রয়োজনীয়তা। ব্রাজিলের সরকারও পরবর্তী সময়ে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজনে বন উজাড় শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

 

লুলার সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদেও মারিনা আবার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে আমাজনে বন উজাড় কমানোর প্রবণতা আবারও দেখা গেছে। ব্রাজিলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আমাজনে বন উজাড় আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমেছিল। পরবর্তী সময়েও এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

 

মারিনার জীবনের গল্প তাই শুধু একজন রাজনীতিকের উত্থানের গল্প নয়। এটি ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের প্রান্তিক একটি পরিবারের মেয়ের শিক্ষা অর্জন, সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়া এবং পরে জাতীয় পর্যায়ের পরিবেশনীতি প্রভাবিত করার দীর্ঘ যাত্রার গল্প।

একসময় যে মেয়েকে ১৬ বছর বয়সে নতুন করে পড়তে ও লিখতে শিখতে হয়েছিল, তিনিই পরে ব্রাজিলের সবচেয়ে পরিচিত পরিবেশবাদী রাজনীতিকদের একজন হয়ে ওঠেন। আমাজনের বন রক্ষার আন্দোলনে তার দীর্ঘ ভূমিকার জন্য ১৯৯৬ সালে তিনি গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজও পান।

 

২০২৬ সালে মারিনা আবারও নির্বাচনী রাজনীতির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। মে মাসের এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম বান্দনিউজ জানিয়েছিল, তিনি সাও পাওলো থেকে সিনেট নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে সময় তিনি অর্থনীতি ও পরিবেশকে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে দুটিকে একসঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

 

মারিনার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। শুরুটা যেখানে ছিল দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও শিক্ষার সুযোগের অভাব দিয়ে, সেখান থেকে তিনি ধীরে ধীরে উঠে এসে ব্রাজিলের পরিবেশনীতি ও আমাজন সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত হয়েছেন। তার জীবনের পথ দেখায়, দেরিতে শুরু করলেও সঠিক সময়ে নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
শিশু হিন্দ রাজাব নিহতের ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিজস্ব তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন তার মা উইসাম হামাদা। ছবি: সংগৃহীত
হিন্দ রাজাব হত্যার তদন্ত করবে ইসরায়েল, ‘ইসরায়েলের কোনো বিচারব্যবস্থার ওপর আমার আস্থা নেই’: শিশু হিন্দের মা

গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শুরু করা ফৌজদারি তদন্তে আস্থা নেই তার মা ওয়েসাম হামাদার। তার আশঙ্কা, এই তদন্ত প্রকৃত সত্য উদঘাটনের বদলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা হয়ে উঠতে পারে।   এ সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালানোর ঘটনায় সামরিক পুলিশের মাধ্যমে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হবে। এর আগে ওই এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল আইডিএফ।   শুক্রবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিন্দের মা ওয়েসাম হামাদা বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, সরকার কিংবা দেশটির বিচারব্যবস্থার ওপর তার কোনো আস্থা নেই। তিনি এমন কোনো তদন্ত চান না, যার উদ্দেশ্য হবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায় এড়িয়ে তাদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা।   হামাদা বলেন, তার দাবি করা তদন্ত কোনো ‘বন্ধ সামরিক তদন্ত’ হওয়া উচিত নয়। তিনি চান স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং যারা দায়ী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক। তার ভাষায়, হিন্দ শুধু একটি সংবাদঘটনা নয়, সে তার সন্তান।   হিন্দ রাজাবের হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। গাজা সিটিতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি গাড়িতে ছিল পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ। গাড়িটিতে থাকা অন্য কয়েকজন স্বজন নিহত হওয়ার পরও হিন্দ কিছু সময় জীবিত ছিল। পরে সে জরুরি সেবাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সাহায্যের জন্য আকুতি জানায়। সেই ফোনালাপের রেকর্ডিং পরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   হিন্দকে উদ্ধারের জন্য ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যাওয়ার পর উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১২ দিন পর হিন্দ, তার পরিবারের সদস্য এবং তাকে উদ্ধারে যাওয়া দুই প্যারামেডিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথমে ওই এলাকায় তাদের কোনো সেনা উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রমাণে ঘটনাস্থলের আশপাশে ইসরায়েলি সামরিক যান ও সেনাদের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সামনে আসে। চলতি সপ্তাহে আইডিএফ প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে তাদের সেনারা হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল।   আইডিএফের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কথিত ব্যর্থতার বিষয়টি পর্যালোচনার পর ফৌজদারি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তটি সামরিক পুলিশ পরিচালনা করবে।   এই তদন্তকে হিন্দের পরিবারের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মীরাও যথেষ্ট মনে করছেন না। তাদের প্রশ্ন, দুই বছরেরও বেশি সময় পর ইসরায়েলি বাহিনী কেন নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে তদন্ত শুরু করল এবং এই তদন্ত আদৌ স্বাধীনভাবে দায় নির্ধারণ করতে পারবে কি না।   হিন্দের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহির দাবি উঠেছে। তার মৃত্যুর আগে জরুরি সেবাকর্মীদের কাছে করা ফোনকলের রেকর্ডিং ঘটনাটিকে গাজা যুদ্ধের অন্যতম আলোচিত বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিণত করে। ঘটনাটি নিয়ে পরে নির্মিত ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ চলচ্চিত্রটিও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক মনোযোগ পায় এবং অস্কারের মনোনয়ন লাভ করে।   আইডিএফ একই সময়ে গাজায় আরও একটি বহুল আলোচিত ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে রাফাহ এলাকায় ১৫ ফিলিস্তিনি প্যারামেডিক নিহত হওয়ার ঘটনাটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তবে গাজায় ত্রাণকর্মীদের নিহত হওয়ার আরও কয়েকটি ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।   হিন্দের মায়ের দাবি, তার পরিবারের জন্য শুধু একটি অভ্যন্তরীণ সামরিক তদন্ত যথেষ্ট নয়। তিনি এমন একটি প্রক্রিয়া চান, যেখানে তদন্তকারীরা স্বাধীনভাবে প্রমাণ পর্যালোচনা করবেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এখন আইডিএফের সামরিক পুলিশের তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং এর ভিত্তিতে কোনো সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হিন্দের পরিবার অবশ্য শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা শুধু তদন্তের ঘোষণা নয়, ঘটনার পূর্ণ সত্য ও দায়ীদের জবাবদিহি দেখতে চায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২৩:৩৬
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে পরিবেশবাদী রাজনীতিক মারিনা সিলভা। ছবি: সংগৃহীত

রাবার শ্রমিকের মেয়ে থেকে ব্রাজিলের মন্ত্রী: যিনি ১৬ বছর বয়সেও পড়তে জানতেন না তিনি বাঁচালেন আমাজন বন

কিমের সঙ্গে কথা বলতে চান ট্রাম্প, কিন্তু সাড়া মিলছে না পিয়ংইয়ং থেকে। ছবি: সংগৃহীত

কিম জং উনের সঙ্গে কথা বলতে মরিয়া ট্রাম্প, তবে ট্রাম্পের ফোন ধরছেন না কিম

প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট
বাগদাদের আকাশে ক্ষতবিক্ষত যুদ্ধবিমান, হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট

২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল ইরাকের বাগদাদের আকাশে স্থলবাহিনীকে আকাশপথে সহায়তা দেওয়ার মিশনে ছিলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর পাইলট ক্যাপ্টেন কিম ক্যাম্পবেল। হঠাৎ তাঁর এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ যুদ্ধবিমানের পেছনের অংশে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লাগে। এতে বিমানের সব হাইড্রলিক লাইন ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটির দিকে কাত হয়ে পড়লেও ক্যাম্পবেল বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেননি। বরং বিকল্প যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি নিরাপদে কুয়েতে ফিরিয়ে আনেন তিনি।   সেদিন ক্যাম্পবেল ৭৫তম ফাইটার স্কোয়াড্রনের হয়ে বাগদাদের ওপর স্থলবাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার মিশনে ছিলেন। মিশন শেষ করে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক পাইলট এলাকা ছাড়ার সময় হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশে তীব্র আঘাত অনুভব করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ককপিটে একের পর এক সতর্কসংকেত জ্বলে ওঠে এবং বিমানের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।   আঘাতের পর এ-১০ বিমানটি বাম দিকে তীব্রভাবে কাত হয়ে মাটির দিকে নেমে যেতে শুরু করে। ক্যাম্পবেল নিয়ন্ত্রণব্যবহার করে বিমানটিকে সামলানোর চেষ্টা করলেও সেটি কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর এমন অবস্থায় বিমান থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।   তখন ক্যাম্পবেল বিমানের জরুরি বিকল্প ব্যবস্থা চালু করেন, যাকে বলা হয় ম্যানুয়াল রিভারশন। স্বাভাবিক হাইড্রলিক ব্যবস্থা কাজ না করলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যান্ত্রিক কেবল ও সংযোগের সাহায্যে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায়। ব্যবস্থা চালু করার পর বিমানটি ধীরে ধীরে তাঁর নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে এবং মাটির দিকে নেমে যাওয়ার পরিবর্তে আবার ওপরে উঠতে শুরু করে।   তবে বিপদ তখনও কাটেনি। বিমানের পেছনের অংশ, লেজ এবং অনুভূমিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ককপিট থেকে ক্যাম্পবেলের পক্ষে বিমানের পেছনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা সম্ভব ছিল না। তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট পাশ থেকে বিমানটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাঁকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানাচ্ছিলেন।   পরে বিমানের ছবি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর কাঠামোর বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছিল। এমনকি ডান পাশের অনুভূমিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশেও বড় একটি গর্ত হয়েছিল। এত ব্যাপক ক্ষতি সত্ত্বেও বিমানটি আকাশে টিকে ছিল এবং ক্যাম্পবেল সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন।   বাগদাদ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও বিমানটি শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঝুঁকির মধ্যে ছিল। ক্যাম্পবেল ও তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটিকে কুয়েতের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুরো পথেই তাঁকে স্বাভাবিক হাইড্রলিক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বিকল্প যান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়।   ঘাঁটির কাছে পৌঁছানোর পর শুরু হয় আরও কঠিন পরীক্ষা। হাইড্রলিক ব্যবস্থা নষ্ট থাকায় বিমানের গতি কমানোর বিশেষ ব্যবস্থা, স্বাভাবিক ব্রেক এবং দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণও কাজ করছিল না। জরুরি পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্যাম্পবেল অবতরণের জন্য চাকার ব্যবস্থা নামান। তিনটি চাকাই ঠিকভাবে স্থির হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি রানওয়ের দিকে এগিয়ে যান।   অবতরণের শেষ মুহূর্তেও বিমানটি একদিকে কাত হয়ে যায়। কিন্তু ক্যাম্পবেল দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এ-১০-কে নিরাপদে রানওয়েতে নামাতে সক্ষম হন।   মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই মিশনে অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার জন্য ক্যাম্পবেল ডিস্টিংগুইশড ফ্লাইং ক্রস পদকে ভূষিত হন। যুদ্ধক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি যুদ্ধবিমানকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ঘটনা তাঁর সামরিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে।   পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পবেল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ২০০৪ সালে ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামেও তিনি ওই মিশনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি কীভাবে জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানের বিকল্প নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে সেটিকে আকাশে ধরে রেখেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানান।   ক্যাম্পবেলের ব্যবহৃত এ-১০ যুদ্ধবিমানটি পরবর্তী সময়ে সংরক্ষণ করা হয়। ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়ও বিমানটির নিরাপদে ফিরে আসার ঘটনা এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২-এর শক্তিশালী কাঠামো ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:৫৭
ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল

ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল

ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর

ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর

সঙ্গীর গলায় ছুরি ধরে তরুণীকে ধর্ষণ করে দুই আফগান নাগরিক

পার্কে ডেটে গিয়েছিলেন তরুণী, সঙ্গীর গলায় ছুরি ধরে তরুণীকে ধর্ষণ করে দুই আফগান নাগরিক

মানুষের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইলেক্ট্রোকেমোথেরাপি নিয়ে সুস্থ হয়েছে চেস্টার চিড়িয়াখানার অজগর জোডি ফস্টার। ছবি: সংগৃহীত
মানুষের ক্যানসারের চিকিৎসায় সুস্থ হলো ১৫ ফুটের অজগর, বিশ্বে প্রথমবারের মতো নতুন চিকিৎসা

যুক্তরাজ্যের চেস্টার চিড়িয়াখানার ১৫ ফুট লম্বা একটি অজগর মানুষের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসা পাওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, সাপের ক্ষেত্রে এই ধরনের চিকিৎসা ব্যবহারের ঘটনা বিশ্বে প্রথম। ২৩ বছর বয়সী জোডি ফস্টার নামের জালিকাবদ্ধ অজগরটি এখন আবার স্বাভাবিকভাবে খাচ্ছে এবং আগের মতোই সক্রিয় হয়ে উঠেছে।   প্রায় ৪০ কেজি ওজনের এই অজগরের চোয়ালে ক্যানসারের একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ফাইব্রোসারকোমা ধরা পড়ে। ২০২৪ সালে চিড়িয়াখানার কর্মীরা লক্ষ্য করেন, জোডি আগের তুলনায় কম খাচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর চোয়ালে টিউমার শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরের বছর টিউমারটি আবার ফিরে আসে এবং ধীরে ধীরে চোয়ালের হাড়েও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।   চেস্টার চিড়িয়াখানার চিকিৎসা কর্মকর্তা ইয়ান অ্যাশপোল বলেন, টিউমারের কারণে জোডির খাবার খাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছিল। ফলে শুধু অস্ত্রোপচার করে তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগ তৈরি হয়। তখন তাঁরা লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইলেক্ট্রোকেমোথেরাপি পদ্ধতিটি সাপটির ক্ষেত্রে প্রয়োগের উপায় বের করেন।   চিকিৎসার আগে জোডিকে তাঁর আবাসস্থলেই অচেতন করা হয়। এরপর তাঁকে চিড়িয়াখানার চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সাপটির আকার এত বড় ছিল যে অস্ত্রোপচারের জন্য দুটি অপারেশন টেবিল পাশাপাশি জুড়ে প্রায় একটি ডাবল বেডের সমান জায়গা তৈরি করতে হয়। অস্ত্রোপচারের সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে উষ্ণ কম্বল ও গরম বাতাস ব্যবহার করা হয়। প্রায় ৯০ মিনিটের অস্ত্রোপচারে টিউমার এবং চোয়ালের আক্রান্ত অংশের কিছুটা অপসারণ করা হয়।   এরপর অবশিষ্ট ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে ইলেক্ট্রোকেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে ক্যানসারের ওষুধ ব্লিওমাইসিনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট স্থানে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রয়োগ করলে কোষগুলো সাময়িকভাবে ওষুধ গ্রহণে বেশি সক্ষম হয়। ফলে তুলনামূলক কম মাত্রার ওষুধ ব্যবহার করেও আক্রান্ত স্থানে কার্যকরভাবে চিকিৎসা পৌঁছানো সম্ভব হয়।   লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট প্রাণীর চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগের বিশেষজ্ঞ হোসে আলভারেজ পিকর্নেল জানিয়েছেন, এই চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। যাতে বিশ্বের অন্যান্য পশুচিকিৎসকও এ অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে একই ধরনের চিকিৎসা প্রয়োগ করতে পারেন।   চিকিৎসার পর জোডির শারীরিক অবস্থায় দ্রুত উন্নতি দেখা যায়। চলতি সপ্তাহে করা সর্বশেষ পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ক্যানসার ফিরে আসার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তাঁর খাবারের রুচিও স্বাভাবিক হয়েছে। চিড়িয়াখানা প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে পুরো একটি মুরগি খেতে দেখা গেছে।   অজগরের জন্য খাবার গেলার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সাপ শিকারকে গিলে খাওয়ার সময় চোয়াল ব্যাপকভাবে প্রসারিত করতে পারে এবং নিজের মাথার চেয়েও বড় আকারের শিকার গিলে ফেলতে সক্ষম। অস্ত্রোপচারের পরও জোডির এই স্বাভাবিক ক্ষমতায় কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।   ইয়ান অ্যাশপোল বলেন, কয়েক মাস আগেও তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন না জোডি বেঁচে থাকবে কি না। এখন তাঁকে স্বাভাবিকভাবে খেতে, নিজের আবাসস্থল ঘুরে দেখতে এবং আগের মতো সক্রিয় থাকতে দেখে চিকিৎসক ও পরিচর্যাকারীরা স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁর মতে, মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত পদ্ধতিকে পশুচিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করার এই ঘটনা প্রাণীদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিরও একটি উদাহরণ।   জোডি ফস্টারের নামটিও বেশ মজার একটি কারণে রাখা হয়েছিল। প্রায় দুই দশক আগে চেস্টার চিড়িয়াখানায় আসার সময় সাপটির কোনো নাম ছিল না। তার নথিতে ‘JF’ লেখা ছিল, যার অর্থ ছিল ‘জুভেনাইল ফিমেল’ বা অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী সাপ। একই আদ্যক্ষর হওয়ায় চিড়িয়াখানার কর্মীরা হলিউড অভিনেত্রী জোডি ফস্টারের নাম অনুসারে সাপটির নাম রাখেন।   চিড়িয়াখানার চিকিৎসকদের এই সাফল্য এখন শুধু জোডি ফস্টারের সুস্থতার খবর নয়, বরং প্রাণীদের ক্যানসার চিকিৎসায় মানুষের জন্য তৈরি চিকিৎসাপদ্ধতি কীভাবে নতুনভাবে ব্যবহার করা যায়, তারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে এই পদ্ধতি অন্য সাপের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর হবে কি না, তা জানতে আরও গবেষণা ও চিকিৎসার তথ্য প্রয়োজন হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ০:১১
ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে বাধ্য হয়েই চড়া দামে পণ্য কিনছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের বিধিনিষেধে গাজায় জমজমাট কালোবাজার: মুনাফা লুটছে ইসরায়েলি সেনা ও ব্যবসায়ীরা, নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা

আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল, সম্প্রতি এটি কিনেছেন মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডে ১৯ শতকের দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ, মূল্য হতে পারে ৩০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত

১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

0 Comments