সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের নীতি বেআইনি, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতের রায়

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২২:৫৭
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে মার্কিন ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে মার্কিন ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। আজ শুক্রবার, ২১ আগস্ট, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেনেট এ. ভার্গাস সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরের ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করা হয়েছে।

 

মামলাটি কয়েকটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন, অভিবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে করা হয়। মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর ঘোষণা এবং পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

 

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতির আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়। আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও ভিসা ইস্যু করা বন্ধ রাখা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের যুক্তি ছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় রয়েছে।

 

শুক্রবারের রায়ে বিচারক ভার্গাস পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সামগ্রিক নীতিকে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করেন। আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো, শুধু কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে একজন আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা আটকে রাখা যাবে না। আইনের অধীনে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়নের যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি অনুসরণ করতে হবে।

 

আদালত প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে পুরো নীতিটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার মূল নীতির ওপরই সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

 

মামলায় বাদীপক্ষের অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের তৈরি অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের পৃথকভাবে ভিসা আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু ৭৫ দেশের জন্য জারি করা নীতিতে কর্মকর্তাদের সেই ব্যক্তিগত মূল্যায়নের সুযোগ কার্যত সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। আদালত সরকারের এই পদ্ধতিকে আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার বিষয় হিসেবে দেখেছেন।

 

এর আগে একই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে অন্য ফেডারেল আদালতেও মামলা হয়। ৩১ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা ব্রাজিলের নাগরিক নিউটন দে মোরাউ গোমেস ও তার পরিবারের মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই রায়ে মূলত ওই পরিবারের আবেদন ব্যক্তিগতভাবে পুনরায় মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৭৫ দেশের পুরো নীতি বাতিল করা হয়নি।

 

আজকের নিউইয়র্কের রায়টি সে কারণে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু একজন বা একটি পরিবারের ভিসা আবেদন নিয়ে নয়, বরং ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর প্রয়োগ করা পুরো ভিসা স্থগিত নীতির বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং নীতিটি বাতিল করার আদেশ দিয়েছে।

 

বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় অনেক পরিবার, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

 

তবে আদালতের রায়কে এমন অর্থে নেওয়া ঠিক হবে না যে আজই প্রত্যেক বাংলাদেশি আবেদনকারীর হাতে ভিসা চলে আসবে। নীতি বাতিল হলেও প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কোনো আবেদনকারীর অন্য কোনো আইনগত অযোগ্যতা থাকলে সেটিও কর্মকর্তারা পৃথকভাবে বিবেচনা করতে পারবেন।

 

এ ছাড়া মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে রায়ের পর ভিসা প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে এগোবে, আগে স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলো কীভাবে পুনরায় বিবেচনা করা হবে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো কখন স্বাভাবিকভাবে ভিসা ইস্যু শুরু করবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

 

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য তাই শুক্রবারের রায়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হলেও, সব আবেদনকারীর ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে ইস্যু হবে এমন নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি। পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম এবং মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের ওপর এর বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
টেক্সাসের দুই বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর সুবিধা নিয়ে আপত্তি। ছবি: সংগৃহীত
বিমানবন্দরে মুসলিমদের ওজু সুবিধা নিয়ে আপত্তি, বিচার বিভাগে গেলেন টেক্সাসের গভর্নর

টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর জন্য থাকা সুবিধা নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্ত চেয়েছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। শুক্রবার, ২১ আগস্ট, দুই সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরের এসব সুবিধাকে ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বলে দাবি করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।    অ্যাবটের অভিযোগ, বিমানবন্দর দুটির ওজু সুবিধা একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। তার ভাষ্য, সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দর কোনো একটি ধর্মকে অন্য ধর্মের তুলনায় অগ্রাধিকার দিতে পারে না। তিনি মার্কিন বিচার বিভাগকে বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।    এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওজু বা ইসলামী ধর্মীয় পবিত্রতার জন্য পানি দিয়ে হাত, মুখ ও পা ধোয়ার ব্যবস্থা। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে আগে থেকেই দুটি ওজু স্টেশন চালু রয়েছে। নতুন করে আরও কয়েকটি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেই পরিকল্পনা বাতিল করে।    অন্যদিকে, হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল ডিতে ২০২৪ সাল থেকে একটি ওজু কক্ষ এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত নামাজের কক্ষ চালু রয়েছে। হিউস্টন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব সুবিধা শুধু মুসলিমদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। টার্মিনাল ডিতে প্রবেশাধিকার থাকা সব ধর্মের যাত্রী, কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।    হিউস্টনের মেয়র জন হুইটমায়ারও অ্যাবটের অভিযোগের জবাবে বলেছেন, বিমানবন্দরের এই সুবিধা নির্মাণে নগরীর করদাতাদের অর্থ, রাজ্য অনুদান কিংবা ফেডারেল অনুদান ব্যবহার করা হয়নি। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ফি দিয়ে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় এটি তৈরি করা হয়েছে।    অ্যাবট এর আগে বিমানবন্দর দুটির এসব ধর্মীয় সুবিধা নিয়ে রাজ্য অনুদান পর্যালোচনার ঘোষণা দেন এবং মার্কিন পরিবহন বিভাগ ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে তদন্তের অনুরোধ জানান। তার ওই পদক্ষেপের পর ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর অতিরিক্ত ওজু সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।    এবার বিষয়টি মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে পাঠানোয় বিতর্কটি ফেডারেল পর্যায়ে গড়াল। বিচার বিভাগ অভিযোগটি কীভাবে পর্যালোচনা করবে এবং বিমানবন্দর দুটির বিদ্যমান ওজু সুবিধা নিয়ে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২৩:৬
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে মার্কিন ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের নীতি বেআইনি, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতের রায়

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের স্কুল অব ফার্মেসির শিক্ষক ড. বেরহানু কিবরেট। ছবি: সংগৃহীত

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘টিচার অব দ্য ইয়ার’ আইসিই হেফাজতে, বন্ডে মুক্তি মেলেনি

যুক্তরাষ্ট্রে কম দামের খাবারের দোকান ডলার স্টোর। ছবি: সংগৃহীত

ডলার স্টোরের খাবার নিয়ে সতর্কবার্তা, গবেষণায় নতুন তথ্য সাশ্রয়ী খাবারের আড়ালে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

স্কাইলার মে। ছবি: সংগৃহীত
মাসে আয় ১০ লাখ ডলার, অসুস্থ মা-বাবাকে রাজকীয় জীবন উপহার দিলেন ২৩ বছরের তরুণী

পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের সময় মা-বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ভিন্ন এক পেশা বেছে নিয়েছিলেন স্কাইলার মে। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণী এখন একজন জনপ্রিয় 'অ্যাডাল্ট স্টার' বা প্রাপ্তবয়স্কদের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। বর্তমানে মাসে তার আয় ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) ডলারেরও বেশি। বিপুল এই আয়ের একটি বড় অংশ তিনি পরম যত্নে খরচ করছেন তার মা-বাবার জন্য। বিলাসবহুল উপহার, গাড়ি এবং নতুন ব্যবসার মূলধন দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে মা-বাবাকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হাতখরচ দিচ্ছেন তিনি।   স্কাইলার জানিয়েছেন, তিনি বছরে তার মা-বাবাকে ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ অর্থ দিয়ে থাকেন। তবে এটি তাদের পেছনে করা খরচের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। বাবার নতুন সোলার ব্যবসার জন্য তিনি এককালীন ২ লাখ ডলার দিয়েছেন। পাশাপাশি মা-বাবার জন্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলার মূল্যের রোলেক্স ঘড়ি কিনেছেন এবং তাদের গাড়ির বকেয়া ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন।   শুধু চলতি বছরেই মায়ের জন্য পাঁচটি ডিজাইনার পার্স কিনেছেন স্কাইলার। তিনি বলেন, “আমার মা-বাবা মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলারের মতো হাতখরচ পান। তারা কখনোই আমার কাছে এসে টাকা চাননি। এটি স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছিল, কারণ আমি জানতাম স্বাস্থ্য বীমার বিল পরিশোধ করতে তাদের বেশ কষ্ট হচ্ছিল।”   তিনি আরও বলেন, “তখন আমি ভাবলাম, ঠিক আছে, আমি প্রাপ্তবয়স্কদের কন্টেন্ট তৈরি শুরু করব এবং তাদের বীমার খরচ মেটাব। আমি তাদের বলেছিলাম চিন্তা করো না, আমি দেখছি। এরপর আস্তে আস্তে পরিস্থিতি এমন হলো যে আমি বললাম বাবা, আমি চাই না তোমাকে আর অফিসে যেতে হোক, তাই আমি প্রতি মাসে তোমাকে এই পরিমাণ টাকা দেব।”   সাধারণ আমেরিকানদের চেয়ে চার গুণ বেশি মাসিক ভাতা পেলেও স্কাইলারের মা-বাবা কখনোই তার কাছে বিলাসবহুল জীবনযাপন বা কোনো কিছু কিনে দেওয়ার দাবি করেননি। স্কাইলার বলেন, “এখনও আমার মা-বাবা আমার কাছে কিছু প্রত্যাশা করেন না। তারা জানেন, যদি কখনও তাদের কিছুর প্রয়োজন হয়, আমি সেটা দেব। আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকলে আমি যে পেশাতেই থাকি না কেন, মা-বাবার যত্ন নিতাম।”   বাবার জন্য স্কাইলার প্রায় ৮০ হাজার ডলার মূল্যের দুটি রোলেক্স ঘড়ি কিনেছিলেন। এতে তার মা কিছুটা মন খারাপ করায়, মায়ের জন্যও তিনি প্রায় ৩০ হাজার ডলারের একটি ঘড়ি কিনে দেন। স্কাইলার বলেন, “আমি এখন মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছি। তাদের আগের সব গাড়ির ঋণও আমি শোধ করে দিয়েছি।”   তবে স্কাইলারের সবচেয়ে বড় অনুদান হলো তার বাবার সোলার ব্যবসার জন্য দেওয়া ২ লাখ ডলার। তিনি চাইলে তার বাবাকে সম্পূর্ণ বসিয়ে খাওয়াতে পারতেন, কিন্তু স্কাইলার চাননি তার বাবা পুরোপুরি কাজ ছেড়ে দিন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তার বাবাকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয়, যার ফলে মাঝে মাঝেই তিনি কয়েক দিন কাজ করতে পারেন না। কিন্তু স্কাইলার বিশ্বাস করেন, একটি ব্যবসা তার বাবাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।   স্কাইলার বলেন, “আমার বাবা একজন অসাধারণ বিক্রয়কর্মী। তিনি চাইলে একজন এস্কিমোর কাছেও বরফ বিক্রি করতে পারেন! আমি চেষ্টা করি তিনি যেন কাজ চালিয়ে যান। কারণ আমার মনে হয়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার যদি কোনো কারণ না থাকে, তবে তিনি হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন। তাই আমি তাকে সোলার ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করেছি। আমি চাই, তারা যখন সুস্থ বোধ করবেন কেবল তখনই কাজ করবেন, অসুস্থ শরীরে বাধ্য হয়ে নয়।”   স্কাইলারের মা 'লুপাস' নামক জটিল রোগে ভুগছেন। এই রোগের কারণে তিনি এক সপ্তাহ সুস্থ বোধ করলেও পরের সপ্তাহে হয়তো বিছানা থেকেই উঠতে পারেন না। অন্যদিকে বাবার নিয়মিত কেমোথেরাপির কারণে তাকে প্রতি দুই সপ্তাহের মধ্যে চার-পাঁচ দিন অসুস্থ থাকতে হয়।   অসুস্থ হওয়ার আগে স্কাইলারের মা-বাবা ছিলেন সফল উদ্যোক্তা। তাদের একাধিক ব্যবসা ছিল। স্কাইলার জানান, “তারা সবসময় আরামদায়ক জীবনযাপন করতেন। কিন্তু যখন তাদের শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেল, তারা আর কাজ করতে পারলেন না এবং তাদের ব্যবসাগুলো ধসে পড়ল। আমি যখন হাইস্কুলে পড়ি, তখন প্রায় চার বছর আমরা চরম আর্থিক কষ্টে ভুগেছি। সেই কষ্ট না দেখলে হয়তো আমি কখনোই এই পেশায় আসতাম না।”   কৈশোরে মা-বাবার সেবা করার অভিজ্ঞতাই স্কাইলারকে দ্রুত পরিণত করেছে এবং পরিবারের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে। তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই তাদের যত্ন নিতাম। তারা অসুস্থ থাকলে আমি তাদের বিছানার পাশে বসে থাকতাম। ছোটবেলায় মা-বাবার দেখভাল করতে গিয়েই হয়তো আমি বয়সের চেয়ে বেশি পরিপক্ব হয়ে গেছি।”   নিজের ক্যারিয়ারে এই অক্লান্ত পরিশ্রমের মানসিকতা তিনি তার মা-বাবার কাছ থেকেই শিখেছেন বলে জানান স্কাইলার। তিনি বলেন, “মা-বাবাকে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে দেখেই আমি পরিশ্রমী হয়েছি। তারা ভোরবেলা উঠে কাজ শুরু করতেন। ব্যবসা থাকলে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে হয়। ছুটি বা জন্মদিনেও তারা কাজ করেছেন। তারাই আমাকে তৈরি করেছেন।”   বর্তমানে মা-বাবাকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারাই স্কাইলারের জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। তিনি বলেন, “আমার আসলে তাদের সাহায্য করার বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু আমি নিজের ইচ্ছাতেই করি। আমাকে একটি সুন্দর জীবন দেওয়ার জন্য তারা অনেক কষ্ট করেছেন। এখন আমি শুধু তাদের সেই ঋণ একটু বড় পরিসরে শোধ করার চেষ্টা করছি।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২১:১৩
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাতনি কাই ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নাতনির পিছু নিয়েছেন এক যুবক, নিরাপত্তার ভয়ে দিন কাটছে ১৯ বছর বয়সী কাইয়ের

আবাসিক এলাকার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির দাম বাড়ায় কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান? যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ

ফ্লোরিডায় অভিনব প্রতারণা, গ্রেপ্তারের পর নারীর গোপনা ঙ্গে মিলল ৩২০০ ডলার

ফ্লোরিডায় অভিনব প্রতারণা, গ্রেপ্তারের পর নারীর গোপনা ঙ্গে মিলল ৩২০০ ডলার

প্রশান্ত গাজেরা এবং ধারাবেন বাভাদিয়া অভিযুক্ত দুই ভারতীয়
যুক্তরাষ্ট্রে পেপ্যাল প্রতারণায় দুই ভারতীয় দোষী সাব্যস্ত, স্থগিত ৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড়সড় ‘পেপ্যাল রিফান্ড স্ক্যাম’ বা আর্থিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রশান্ত গাজেরা এবং ধারাবেন বাভাদিয়া নামের দুই ভারতীয় নাগরিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের জেন্ট্রি পুলিশের একটি বিশেষ আন্ডারকভার বা ছদ্মবেশী অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়েন তারা।   সম্প্রতি এই মামলার রায়ে উভয়কেই পাঁচ বছরের স্থগিত কারাদণ্ড (সাসপেন্ডেড সেন্টেন্স) দিয়েছেন আদালত। এর ফলে গুরুতর এই জালিয়াতিতে জড়িত থাকার পরও তাদের আপাতত সরাসরি কারাগারে যেতে হচ্ছে না।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতারক চক্রটি পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে ভুলবশত টাকা চলে যাওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত চাইত।   এমনই এক ঘটনায় প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তারা। খবর পেয়ে পুলিশ এক বয়স্ক ব্যক্তির ছদ্মবেশে নকল টাকার বাক্স নিয়ে ফাঁদ পাতে এবং সেখানে টাকা সংগ্রহ করতে এলে প্রশান্ত ও ধারাবেনকে ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।   সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অভিযুক্ত নারী ধারাবেন পুলিশকে জানান যে, তিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং ভারতে থাকা তার পরিবার বিপদের মুখে থাকায় তাকে বাধ্য হয়ে এই প্রতারণামূলক কাজ করতে হয়েছে।   মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভিনদেশে এসে এমন সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রবাসী কমিউনিটির মাঝেও ব্যাপক বিস্ময় তৈরি করেছে।   তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই দুজন মূলত মধ্যস্থতাকারী বা ‘ক্যাশ মিউল’ হিসেবে কাজ করছিলেন এবং পেশাদার এই আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের নির্দেশে অর্থের অভাবেই তারা কাজটি করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৯:৩৩
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফ্লাইটে হুইলচেয়ারের দীর্ঘ সারি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফ্লাইটে হুইলচেয়ারের দীর্ঘ সারি, বিনামূল্যের সেবা নিয়ে নতুন বিতর্ক

টেক্সাসে ট্রাকের ট্রেইলারে লুকিয়ে রাখা ২০ অভিবাসী উদ্ধার, চালক আটক

টেক্সাসে ট্রাকের ট্রেইলারে লুকিয়ে রাখা ২০ অভিবাসী উদ্ধার, চালক আটক

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি

0 Comments