সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

হুথিরা লোহিত সাগরে হামলা করলে বিপদে বিশ্ব বাণিজ্যপথ: ইসরায়েলও উদ্বিগ্ন

Unknown প্রকাশ: মার্চ ২৮, ২০২৬ ১:৩৫
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেও তা তুলনামূলকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। কারণ, এসব হামলা ছিল ছড়ানো-ছিটানো এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র পথেই প্রতিরোধ করা হয়েছিল।

 

তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে একটি হুথি ড্রোন তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, যার ফলে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুথিরা আবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে দেশটির জন্য নতুনভাবে উদ্বেগ তৈরি হবে, যদিও বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু যদি হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে।

 

বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করছে। এই তেলবাহী জাহাজগুলো ইয়েমেনের পাশ দিয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে এশিয়ার বাজারে পৌঁছে।

 

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে হুথিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে প্রায় ২০০টি হামলায় লক্ষ্য করে। এতে ৩০টিরও বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের শিকার হয়। এর ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।

 

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং একই সঙ্গে হুথিরা লোহিত সাগরের পথও অবরুদ্ধ করে, তাহলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ একসাথে বন্ধ হয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভয়াবহ প্রভাব দেখা দিতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, ৫০০ হাইস্কুলে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, ৫০০ হাইস্কুলে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা

শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভ, অবরোধ এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ হাইস্কুলে সোমবার ক্লাস পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় পরিবেশ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদোয়ার গেফ্রে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন এখন ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষার্থী আন্দোলনগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।    ফ্রান্সে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হাইস্কুল রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ৪০০ থেকে ৫০০ প্রতিষ্ঠানে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু ইল দ্য ফ্রান্স অঞ্চলেই ১৬০টির বেশি হাইস্কুল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ক্লাস চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।    শিক্ষার্থীরা মূলত শিক্ষা খাতে আরও জনবল ও অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক সংকট, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বদলি না হওয়া, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, দীর্ঘ ও চাপপূর্ণ ক্লাস সূচি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম পারকুরসুপ ঘিরে বৈষম্যের অভিযোগ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। নঁত, মার্সেইসহ বিভিন্ন বড় শহর ও ছোট এলাকায় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।    গত সপ্তাহে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শুক্রবার শত শত হাইস্কুলে বিক্ষোভ ও কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর অন্তত ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অগ্নিসংযোগ বা ব্যাপক ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। একই সময়ে শিক্ষা বিভাগের অন্তত ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। সরকারের দাবি, এসব সহিংসতার অনেক ঘটনায় স্কুলের বাইরের ব্যক্তিরাও জড়িত ছিল।    বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড়ও হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের কয়েক দিনের অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। শুধু শুক্রবারই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে আটক করা হয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার আটক করা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে। শুক্রবার ১৫৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।    তবে পুলিশের কঠোর অবস্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, তাদের মূল দাবি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা না করে সরকার নিরাপত্তা ও সহিংসতার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানিয়েছে, তারা প্রত্যাশিত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের আশ্বাস পায়নি। ফলে মঙ্গলবার আরও বড় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নও ওই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।    অন্যদিকে ফরাসি সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে অস্বীকার করা হচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুও শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো নিয়ে কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ নির্ধারণ করেছেন। চলতি মাসের শেষ নাগাদ কিছু বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে যেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে, সেখানে দ্রুত ক্লাস পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    সরকারের কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনে কিছু রাজনৈতিক ও উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শিক্ষক ও শিক্ষা খাতে জনবল সংকট, ভবনের দুরবস্থা এবং শিক্ষাব্যবস্থার চাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকেই বর্তমান আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। সরকারও আন্দোলনের প্রাথমিক দাবিগুলোর যৌক্তিকতা পুরোপুরি অস্বীকার করেনি।    সোমবার শত শত প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ থাকলেও সংকটের এখানেই অবসান হচ্ছে না। মঙ্গলবারের নতুন দেশব্যাপী কর্মসূচিকে সামনে রেখে ফরাসি সরকার, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে চলমান আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২:৪৫
রাশিয়ায় ‘অজানা’ ভাইরাসে ল্যাবকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

রাশিয়ায় ‘অজানা’ ভাইরাসে ল্যাবকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু, কোয়ারেন্টিনে শত শত মানুষ

ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরান থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়েছে মার্কিন বাহিনী: দাবি আইআরজিসির

ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জীবন বাজি রেখে বিমান রক্ষা, ভারতীয় পাইলটকে বিশেষ সম্মান দিতে চান নেতানিয়াহু

ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর
ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ডেলিভারির অর্ডারের অপেক্ষায় মোটরসাইকেলের পাশে বসে কোরআন পড়েন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া। কাজের বিরতিতে তাঁর কোরআন পড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় এসেছেন এই ডেলিভারি রাইডার। তবে মনসুর জানিয়েছেন, মানুষের নজরে আসার জন্য নয়, নিজের ধর্মীয় চর্চার অংশ হিসেবেই নিয়মিত কোরআন পড়েন তিনি।   গত ১ অক্টোবর প্রকাশিত খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনসুর প্রায় দুই বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও কাজ করছেন। গত পাঁচ মাস ধরে তিনি তালাবাতের ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান উগান্ডায় থাকেন। তাঁদের ভালো জীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই দেশ ছেড়ে আমিরাতে এসেছেন তিনি।   ডেলিভারির কাজে দিনের বড় একটি অংশ রাস্তায় কাটে মনসুরের। এক অর্ডার শেষ করে পরবর্তী অর্ডারের অপেক্ষায় কিছুটা সময় পেলেই সঙ্গে রাখা কোরআন খুলে বসেন। মোটরসাইকেলের পাশে বসে তাঁর এমন একটি মুহূর্তের ভিডিওই সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে মানুষের নজর কাড়ে।   মনসুরের এই অভ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের তিন সদস্যকে হারানোর বেদনা। তিনি জানিয়েছেন, বাবা, মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর ধর্মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। প্রায় তিন বছর আগে তিনি কোরআন মুখস্থ করেন। এখন নিয়মিত পড়ার পাশাপাশি মুখস্থ করা অংশগুলো পুনরাবৃত্তি করেন।   কাজের বিরতিতে হাতে কোরআন নিয়ে পড়লে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন বলে খালিজ টাইমসকে জানিয়েছেন মনসুর। এই সময় তিনি প্রয়াত মা-বাবার জন্যও দোয়া করেন। তাঁদের ক্ষমা এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন তিনি।   পরিবার থেকে দূরে থেকে জীবিকার দায়িত্ব পালন করছেন মনসুর। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই কোরআন পড়ার জন্য সময় রাখেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আগেও এই অভ্যাস ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৩:৪
এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!

এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হামলার নতুন কারণ জানালেন ট্রাম্প, পাঠানো হচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ম্যানচেস্টারের ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্ত করছে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই ইরানি নাগরিক

ইন্দোনেশিয়ায় গন্ধগোকুলের মল থেকে পাওয়া বীজ দিয়ে তৈরি কোপি লুওয়াক বিশ্বজুড়ে কফিপ্রেমীদের কাছে দারুণ সমাদৃত। ছবি: সংগৃহীত
হাতি ও গন্ধগোকুলের মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম দামি কফি

কফির সুবাস ও স্বাদ উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এক কাপ পানীয় হাতে নেন। কিন্তু বিশ্বের কিছু বিশেষ কফি রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদনপ্রক্রিয়া সাধারণ কফির তুলনায় একেবারেই আলাদা। থাইল্যান্ডের ব্ল্যাক আইভরি কফি এবং ইন্দোনেশিয়ার কোপি লুওয়াক এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি নাম। দুই ক্ষেত্রেই কফির চেরি প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর মল থেকে আস্ত বিন সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার মাধ্যমে পান করার উপযোগী করা হয়।   ব্ল্যাক আইভরি কফি তৈরি হয় থাইল্যান্ডে। এর জন্য নির্বাচিত আরাবিকা কফির পাকা চেরি হাতিদের স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে দেওয়া হয়। কফি চেরিগুলো খাওয়ার পর হাতির পরিপাকতন্ত্রে সেগুলো কয়েক ঘণ্টা থাকে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এই সময় ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। পরে হাতির মল থেকে কফির বিন আলাদা করে হাতে সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকানো এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ভাজা হয়।   এই কফির বিশেষত্বের একটি কারণ হিসেবে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি হাতির পরিপাকতন্ত্রে সংঘটিত জৈবিক গাঁজন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে। তাদের দাবি, হাতির পরিপাকতন্ত্রের এনজাইম কফি চেরির কিছু প্রোটিন ভেঙে দেয়। এতে সাধারণ কফির তিক্ততা কমে এবং স্বাদে মাটির মতো ও ফলের আভাস তৈরি হয়। তবে এসব স্বাদগত বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা মূলত উৎপাদক ও কফি-বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।   ব্ল্যাক আইভরির উৎপাদনও খুব সীমিত। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৫০০ পাউন্ড বা ২২৭ কেজির মতো কফি উৎপাদন করা হয়। ২০২৫ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৪৯৫ পাউন্ড উৎপাদনের কথা জানিয়েছে। সীমিত উৎপাদন, হাতে বাছাই ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে এর দাম সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্যাকেজের দাম বেশ চড়া, আর তাদের এক প্রতিবেদনে প্রতি কেজি কফির দাম প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।   অন্যদিকে কোপি লুওয়াকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এশিয়ান পাম সিভেট বা গন্ধগোকুলের নাম। ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘কোপি’ অর্থ কফি এবং ‘লুওয়াক’ বলতে গন্ধগোকুলকে বোঝায়। এই নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী কফি চেরি খাওয়ার পর ফলের বাইরের অংশ হজম করে। কিন্তু শক্ত কফির বীজ পুরোপুরি হজম না হয়ে মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। পরে সেই বীজ সংগ্রহ করে পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজা হয়।   কফির এই অস্বাভাবিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া থেকেই কোপি লুওয়াকের বিশেষত্বের ধারণা এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্র ও এর সঙ্গে যুক্ত অণুজীব কফির রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে কোপি লুওয়াকের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য কেবল প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের কারণে তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাণীটির বেছে বেছে পাকা কফি চেরি খাওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত স্বাদের পার্থক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   কপি লুওয়াকের দামও সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। সীমিত সরবরাহ, উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিশেষত্ব এবং এর বিরলতার ধারণা এই কফিকে বিলাসবহুল পণ্যে পরিণত করেছে। তবে এই কফির বাজার নিয়ে প্রাণীকল্যাণের প্রশ্নও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ২৯টি সিভেট কফি পর্যটন খামার নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে প্রাণীদের কল্যাণের মান নিয়ে গুরুতর ঘাটতি ছিল এবং কোনো সিভেটই গবেষণায় মূল্যায়ন করা পাঁচটি মৌলিক প্রাণীকল্যাণের স্বাধীনতা পুরোপুরি পূরণ করেনি।   এ কারণে সব কোপি লুওয়াককে একইভাবে উৎপাদিত বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বন্য পরিবেশ থেকে সংগৃহীত কফি এবং খাঁচায় রাখা প্রাণী দিয়ে উৎপাদিত কফির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গবেষকেরা বিশেষ করে খাঁচায় রাখা সিভেটকে জোর করে কফি চেরি খাওয়ানো, সীমিত চলাচল ও অনুপযুক্ত পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফলে এই কফি কেনার ক্ষেত্রে উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রাণীকল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শও উঠে এসেছে।   আধুনিক গবেষণায় অবশ্য প্রাণী ব্যবহার না করেও কোপি লুওয়াকের মতো গাঁজন প্রক্রিয়া তৈরি করার চেষ্টা চলছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্রের অণুজীব ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে অনুরূপ জৈবিক গাঁজন পদ্ধতি তৈরির কথা জানানো হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল প্রাণীকে ব্যবহার না করেই একই ধরনের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া।   ফলে ব্ল্যাক আইভরি ও কোপি লুওয়াক শুধু অদ্ভুত উৎপাদনপ্রক্রিয়ার জন্যই আলোচিত নয়। সীমিত উৎপাদন, বিশেষ গাঁজন প্রক্রিয়া, বাজারের বিরলতার ধারণা এবং বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা মিলিয়ে এগুলো কফির দুনিয়ায় আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। তবে দাম বা স্বাদের পাশাপাশি প্রাণীকল্যাণের বিষয়টিও এই বিশেষ কফিগুলোর আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া যায় না।   সূত্র: Black Ivory Coffee, গবেষণাপত্র ও PubMed।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ২৩:৫৬
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ

রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ

স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

0 Comments