ইসরায়েলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইরানের ‘ক্লাস্টার মিসাইল’: কেন এই অস্ত্র এতোটা ভয়ানক?
চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র। গত ১৭ মার্চ ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিকে ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে তেল আবিবসহ মধ্য ইসরায়েলে একের পর এক ক্লাস্টার মিসাইল ছুড়েছে ইরান। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তেল আবিবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায় যেখানে একটি মাত্র শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকে, সেখানে ক্লাস্টার মিসাইলের মাথায় থাকে অসংখ্য ছোট ছোট বোমা বা ‘বোম্বলেট’। ক্ষেপণাস্ত্রটি যখন লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন এর খোলসটি খুলে যায় এবং ভেতরে থাকা ২০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ছোট বোমা একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সামরিক বিশ্লেষক এলিজাহ ম্যাগনিয়ার আল জাজিরাকে জানান, এই প্রযুক্তিটি একটি একক ব্যালিস্টিক মিসাইলকে অনেক বেশি বিপজ্জনক করে তোলে। কারণ এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে আঘাত না করে পুরো এলাকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে। এটি ইসরায়েলের মাল্টি-লেয়ারড এয়ার ডিফেন্স আর্কিটেকচারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
কেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হচ্ছে?
ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক উজি রুবিন বলেন, “ইরানের কাছে থাকা প্রায় সব ধরনের ওয়ারহেডেই এখন ক্লাস্টার সুবিধা রয়েছে।” সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করা সহজ হলেও ক্লাস্টার মিসাইল যখন তার ভেতরের বোমাগুলো ছেড়ে দেয়, তখন রাডার বা ইন্টারসেপ্টরগুলোর পক্ষে একযোগে এতগুলো লক্ষ্যবস্তুকে আটকে দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
গত সপ্তাহের হামলায় তেল আবিবের কাছে রামাত গান এলাকায় দুই বয়স্ক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, সাইরেন বাজার পর তারা সেফ রুমে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত সময় পাননি। এছাড়া দানিয়া ও দিমোনার পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের কাছের শহরগুলোতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যাতে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রুখতে পুরোপুরি সফল হয়নি।
ক্লাস্টার বোমা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ না হলেও ১১১টি দেশ ২০০৮ সালের ‘কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিউনিশনস’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির বাইরে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই বোমার ৯৩ শতাংশ শিকারই সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, এই ছোট বোম্বলেটগুলোর সব সময় তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরিত হয় না। এগুলো মাটিতে পড়ে থাকে এবং বছরের পর বছর পর শিশুদের খেলনা ভেবে তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবেই এখন ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার বাড়িয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিশাল এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি সাধন এবং উদ্ধারকারী দল বা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
ইরান গত ২০২৫ সালের জুনে প্রথম এই সক্ষমতার মহড়া দিলেও ২০২৬-এর এই যুদ্ধে তারা এটিকে নিয়মিত মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইরাকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টাগন জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের শেষ বিমানঘাঁটি থেকেও সেনারা সরে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন শেষ হলো। তবে ইরান যুদ্ধের মধ্যে এই প্রস্থান ইরাকের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা ও সরঞ্জাম পরিকল্পিতভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন ইরাকের নিরাপত্তায় দেশটির নিজস্ব বাহিনী নেতৃত্ব দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা চলবে দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কের ভিত্তিতে। প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটন ও বাগদাদ ২০২৪ সালেই সামরিক মিশন গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল। জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে হওয়া সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা দেশটি ছেড়ে যায়। কিন্তু আইএস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর ২০১৪ সালে ইরাকি সরকারের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আবার সেখানে যায়। এবার সেই দ্বিতীয় মিশনও শেষ হলো। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরানঘনিষ্ঠ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে দেশটির কুর্দি অঞ্চলের কর্মকর্তারা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরে যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইরাকে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার কাজও শেষ হয়নি; এ জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত পিছিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। আইএস নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সংগঠনটি আগের মতো এলাকা নিয়ন্ত্রণ না করলেও তাদের গোপন সক্রিয় সদস্য রয়ে গেছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরাকি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনীর দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির সহায়তা বন্ধ হলে নিরাপত্তার ফাঁক তৈরির সুযোগ নিতে পারে আইএস। এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি, আইএস আবার বড় এলাকা দখল করেছে বলে কোনো তথ্য নয়। এই প্রেক্ষাপটে নিউজউইকের বিশ্লেষণে ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ভবিষ্যৎ ভাবার কথা বলা হয়েছে। লেখাটির সতর্কবার্তা ইরানকে দেওয়া মার্কিন সরকারের কোনো নতুন হুমকি নয়। এর মূল প্রশ্ন হলো, সামরিক শক্তি দিয়ে লক্ষ্য অর্জনের দাবি করার পর দীর্ঘ সংঘাত থেকে বের হওয়ার রাজনৈতিক পথ কী হবে। ইরাকে মার্কিন সামরিক মিশন শেষ হলেও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে। ফলে সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাক কতটা স্থিতিশীল থাকবে এবং ইরান যুদ্ধের জন্য ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
দামি ফোন, স্বর্ণের গহনার জন্য দুই মাসের শিশুকে ৪ দফায় বিক্রি করেন বাবা-মা
মুসলমানদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ রেখে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করলো ইসরাইলিরা
মুসলিম শিশুদের খ্রিষ্টধর্ম শেখাতে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি
শরণার্থীদের জন্য স্থগিত থাকা ‘ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিমে’ নতুন সুপারিশ গ্রহণ আবার শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হবেন আফগান নারী ও বালিকা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বে তাঁদের শনাক্ত ও সুপারিশ করা হবে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন সুপারিশ গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং এ পথে প্রথম শরণার্থীদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কথা। ‘এক-চতুর্থাংশ’ হলো সুপারিশের প্রত্যাশিত অনুপাত; ইতিমধ্যে পৌঁছানো শরণার্থীদের হিসাব নয়। এই পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি তিনটি নতুন স্পন্সরশিপ পথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে দাতব্য ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো কমিউনিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্পন্সরশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে। এসব পথে শরণার্থীদের প্রথম আগমন প্রত্যাশিত ২০২৭ সালের শরতে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানভিত্তিক স্পন্সরশিপের আবেদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের বসন্তে; এর প্রথম আগমনও ওই বছরের পরের দিকে হতে পারে। স্পন্সরদের আবাসন ও নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সহায়তা দিতে হবে। সরকার বলছে, পুনর্বাসন ও নতুন তিনটি স্পন্সরশিপ পথ মিলিয়ে শুরুতে কয়েক শ শরণার্থী আসতে পারেন। পরে অনিয়মিত অভিবাসন কমার সঙ্গে সংখ্যা কয়েক হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবছর একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসব পথে আসা শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য পাঁচ বছরের পথ দেওয়া হবে। শাবানা মাহমুদের বক্তব্য, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালানো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পারাপার কমাতে সরকার নিয়ন্ত্রিত আইনি পথ রাখতে চায়। তবে নতুন কর্মসূচির আকার এত ছোট হলে তা নৌকায় আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসন গবেষকেরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেছেন, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত কতজনকে নেওয়া হয়, তার ওপর নির্ভর করবে। রিফিউজি কাউন্সিল নতুন নিরাপদ পথ তৈরির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির প্রধান নীতিবিশ্লেষক জন ফিটনবির মতে, মানবপাচারকারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে হলে কয়েক শ নয়, হাজার হাজার মানুষের জন্য এসব পথ চালু করতে হবে। অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে নতুন পথ চালুর সমালোচনা করেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রস পৃথকভাবে শরণার্থীদের পারিবারিক পুনর্মিলনের পথ কবে আবার চালু হবে, তা জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পুনর্বাসনের এই ঘোষণা যুক্তরাজ্যে যেতে ইচ্ছুক সবার জন্য সরাসরি আবেদনের সুযোগ নয়। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির নিজের আবেদন করার ব্যবস্থা নেই; সুরক্ষার প্রয়োজন বিচার করে সংস্থাটি শরণার্থী শনাক্ত ও সুপারিশ করে, আর গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট দেশ। পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ অর্থ চাইলে তা-ও সতর্কতার বিষয়, কারণ এই প্রক্রিয়া শরণার্থীর জন্য বিনামূল্যে।
বছরে ১ লাখ পাউন্ড আয় করেও সংসার চালাতে হিমশিম দুই সন্তানের মা, জামাকাপড় কেনাও বন্ধ
তারেক রহমানের ভারত সফরে তাড়াহুড়ো নেই, বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার
রাশিয়ায় আরও ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি
গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের মুহান্নাদ আল-হাসানি ২০১৫ সালে মাত্র ২৬ দিনে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৪ বছর। ওই বছরের ২৫ জুলাই প্রকাশিত আল জাজিরা নেটের প্রতিবেদনে তাঁর এই অর্জনের কথা উঠে আসে। মুহান্নাদ জাবালিয়ার ‘আল-আওদা ইলাল্লাহ’ মসজিদে ‘আন-নুখবা’ নামের নিবিড় কোরআন মুখস্থ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ফজরের নামাজের পর থেকে আসরের নামাজ পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকতেন। প্রতিদিন প্রায় ২৫ পৃষ্ঠা মুখস্থ করে শিক্ষকের কাছে পড়ে শোনাতেন। আল জাজিরাকে মুহান্নাদ বলেছিলেন, কর্মসূচিটি নিবিড় হলেও তাঁর কাছে বিরক্তিকর লাগেনি। কোরআন মুখস্থ শেষ করার পর তিনি তা মনে রাখার জন্য নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করছিলেন। একই কর্মসূচিতে গাজার আরও কয়েকজন কিশোর কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। ঘটনাটি ২০১৫ সালের; এটি সাম্প্রতিক কোনো অর্জনের খবর নয়।
সৌদি থেকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে ফেরত
৭০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে লাফ দেওয়ার পর উইংসুটে দেখা দিল ত্রুটি, জাম্পারের মৃত্যু