উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও অংশীদারিত্ব জোরদারে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইল ইউজিসি
বিমসটেক ও ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। সোমবার (১৮ মে) ইউজিসিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নেটওয়ার্কিং বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ইউজিসি সদস্য ও চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত সুহাদা ওথমান, মালয়েশিয়ার হায়ার এডুকেশন লিডারশিপ একাডেমির পরিচালক ড. হারশিতা আইনি হারুন, ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলামসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আনোয়ার হোসেন বলেন, যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, উচ্চশিক্ষা–সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দেশ একসাথে কাজ করতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশ্ব র্যাংকিং, শিক্ষার্থীদের চাকরির উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনি মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর সাইদুর রহমান বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, শিক্ষা এখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। এই নেটওয়ার্কিং ইভেন্টটি দুই দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে অর্থবহ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রায় ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন, যা উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিকীকরণের প্রতি যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত সুহাদা ওথমান জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানসম্পন্ন শিক্ষা, তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয় এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ৪০১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যার বিচারে তৃতীয়। এদের অধিকাংশেরই পছন্দ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেস (ইএমজিএস)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নভি তাজউদ্দীন সভায় একটি ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত বছরের তুলনায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গুণগত শিক্ষা ও আধুনিক একাডেমিক পরিবেশের কারণেই মূলত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
উক্ত দ্বিপাক্ষিক সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি), উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি), কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার), রেজিস্ট্রার এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreসৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’ অর্থবোধক একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের পাঠ্য ক্রম পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই। জেরুজালেম, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে সৌদি পাঠ্যবইয়ে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই বিষয়টি সামনে এসেছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি আরবের নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা প্রকাশ করে ইমপ্যাক্ট-এসই। সংস্থাটি সৌদি পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, নতুন পাঠ্যক্রমে শান্তি, সহাবস্থান ও ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জেরুজালেম সম্পর্কিত ওই বাক্যটি। এর আগে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের আরবি ভাষার একটি পাঠ্যবইয়ের লেখার অনুশীলনে ছিল, ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না।’ ইমপ্যাক্ট-এসইর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পর্যালোচনাতেও বাক্যটির উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সংস্থাটির ব্যাখ্যায়, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি বা নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্য গোষ্ঠী, বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের একটি ক্ষেত্র হিসেবেও এটি উপস্থাপন করতে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি। ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-এসই বলেছে, সৌদি আরবের ২০২৪-২৬ সালের পাঠ্যক্রমে শান্তি, সহাবস্থান ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর জোর বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী এবং অন্যান্য সম্প্রদায় সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়েও ভাষা পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তন অবশ্য হঠাৎ শুরু হয়নি। গত কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবের পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েল, ইহুদি, খ্রিস্টান, জিহাদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী সম্পর্কিত বক্তব্যে ধারাবাহিক পরিবর্তনের তথ্য দিয়ে আসছে ইমপ্যাক্ট-এসই। সংস্থাটির ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পর্যালোচনায় ৩৭১টি সৌদি পাঠ্যবই বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, আগের কিছু বইয়ে জায়নবাদকে ‘বর্ণবাদী’ ইউরোপীয় আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের লক্ষ্য থাকার মতো যেসব বক্তব্য ছিল, সেগুলোর কিছু পরবর্তী সংস্করণে আর রাখা হয়নি।সহিংস জিহাদ ও শাহাদাতকে উৎসাহিত করে বলে সংস্থাটি যেসব উদাহরণ চিহ্নিত করেছিল, সেগুলোরও অনেকগুলো বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সৌদি পাঠ্যক্রম থেকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন বা ইসরায়েলি দখলদারিত্বের উল্লেখ পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগের পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-এসই নিজেই জানিয়েছিল, সৌদি পাঠ্যক্রমে ফিলিস্তিনি ইস্যুর গুরুত্ব এখনও রয়েছে। কিছু পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েলকে ‘ইসরায়েলি দখলদার’ বা ‘দখলদার বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখও বহাল ছিল। সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। একই সঙ্গে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। ফলে পাঠ্যবইয়ের এসব পরিবর্তনকে সরাসরি সৌদি আরবের ইসরায়েল নীতির পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’ বাক্যটি কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বাক্যটির পরিবর্তন নিয়ে যে মূল্যায়ন সামনে এসেছে, সেটি মূলত ইমপ্যাক্ট-এসইর নিজস্ব পাঠ্যক্রম বিশ্লেষণ। ফলে সৌদি পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনটি নিশ্চিত হলেও এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। তবে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট, ধর্মীয় শিক্ষা, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং অন্য ধর্ম ও জনগোষ্ঠীকে নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে ক্ষেত্রে সৌদি আরব তার স্কুল পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস চালিয়ে যাচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় পিএইচডিতে ফুল ফান্ডিং, পরিবার নিয়েও যাওয়ার বড় সুযোগ
বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা
তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, সাড়ে তিন বছরেও স্কুলে ফেরেননি প্রধান শিক্ষক
কানাডায় উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন ফ্রেঞ্চভাষী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে ২ হাজার ৯৭০টি স্টাডি পারমিট আবেদন গ্রহণের কোটা শুরু হচ্ছে আগামী ২৬ আগস্ট। কানাডার ফ্রাঙ্কোফোন মাইনরিটি কমিউনিটিজ স্টুডেন্ট পাইলট বা এফএমসিএসপির আওতায় এই কোটা কার্যকর থাকবে ২০২৭ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসির সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা যাচাই করে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইআরসিসির ২৫ জুন স্বাক্ষরিত এবং ২১ জুলাই প্রকাশিত হালনাগাদ নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০টি নতুন স্টাডি পারমিট আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সীমা পূরণ হয়ে গেলে অতিরিক্ত আবেদন গ্রহণ না করে আবেদনকারীর কাছে ফেরত দেওয়া হবে। আগের ২০২৫-২৬ মেয়াদেও কোটা ছিল ২ হাজার ৯৭০। সুযোগ ৩৩ দেশের নাগরিকদের এই বিশেষ কর্মসূচি বিশ্বের সব দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকা অঞ্চলের নির্ধারিত ৩৩টি দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন। আফ্রিকার ২৮টি দেশের মধ্যে রয়েছে বেনিন, বুরকিনা ফাসো, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাদ, কোমোরোস, আইভরি কোস্ট, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, জিবুতি, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, গ্যাবন, গিনি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, মালি, মৌরিতানিয়া, মরিশাস, মরক্কো, নাইজার, রুয়ান্ডা, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, সেশেলস, টোগো ও তিউনিসিয়া। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মিসর ও লেবানন এবং আমেরিকা অঞ্চল থেকে হাইতি, ডমিনিকা ও সেন্ট লুসিয়ার নাগরিকরা সুযোগটি পাবেন। তবে শুধু এসব দেশের নাগরিক হলেই আবেদন করা যাবে না। আবেদনকারীকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলা, শোনা, পড়া ও লেখার প্রতিটি দক্ষতায় কানাডিয়ান ভাষা মানদণ্ড এনসিএলসি-তে কমপক্ষে লেভেল ৫ অর্জন করতে হবে। অনুমোদিত ভাষা পরীক্ষার ফলও আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। কানাডায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য নয় নতুন আবেদন এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। নতুন আবেদনকারীকে এফএমসিএসপির আওতায় স্টাডি পারমিটের আবেদন কানাডায় প্রবেশের আগেই করতে হবে। অর্থাৎ ইতোমধ্যে কানাডায় অবস্থানকারী কেউ সাধারণভাবে এই পাইলটের নতুন মূল আবেদনকারী হিসেবে ভেতর থেকে আবেদন করতে পারবেন না। তবে আগে থেকেই এফএমসিএসপির স্টাডি পারমিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডার ভেতর থেকে সেই পারমিট নবায়নের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আইআরসিসির বর্তমান তালিকায় কুইবেকের বাইরে ১৭টি নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এফএমসিএসপিতে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব অটোয়া, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা, ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনা, ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্লেনডন ক্যাম্পাস, ইউনিভার্সিটি দ্য মঙ্কটন, কলেজ লা সিতে এবং কলেজ বোরিয়ালের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আইআরসিসি। আবেদনকারীর কাছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রহণপত্র থাকতে হবে এবং সেখানে উল্লেখ থাকতে হবে যে শিক্ষার্থী এফএমসিএসপির অধীনে আবেদন করছেন। শিক্ষা কার্যক্রমটি অবশ্যই পোস্ট-সেকেন্ডারি পর্যায়ের, পূর্ণকালীন এবং কমপক্ষে দুই বছরের হতে হবে। কোর্স শেষ করলে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা অর্জন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, কোর্সের ৫০ শতাংশের বেশি ক্লাস ফ্রেঞ্চ ভাষায় পরিচালিত হতে হবে। সাধারণ স্টাডি পারমিটের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা এফএমসিএসপির একটি বড় সুবিধা হলো, এই কর্মসূচির আবেদনকারীদের প্রভিন্সিয়াল বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় কানাডায় সেটেলমেন্ট সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগও পান। আর্থিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও বিশেষ নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীকে প্রথম বছরের টিউশন ফি ও যাতায়াত খরচ বহনের সামর্থ্য দেখানোর পাশাপাশি যে শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ক্যাম্পাস অবস্থিত, সেই এলাকার জন্য নির্ধারিত অর্থের প্রমাণ দিতে হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ শহরের জনসংখ্যা ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরের পরের আবেদনের বর্তমান হিসাবে পাঁচ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার শহরে একক শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার জন্য বছরে ২২ হাজার ৮৯৫ কানাডিয়ান ডলার দেখাতে হয়। গ্রামীণ এলাকায় একই হিসাব ১৫ হাজার ৭৬১ কানাডিয়ান ডলার। এর বাইরে প্রথম বছরের টিউশন ও যাতায়াতের অর্থ থাকতে হবে। স্টাডি পারমিট আবেদনের সরকারি ফি বর্তমানে ১৫০ কানাডিয়ান ডলার। পরিবারও যেতে পারবে যোগ্য শিক্ষার্থী তার স্বামী বা স্ত্রী, কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের সঙ্গে কানাডায় নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিজিটর ভিসা, স্টাডি পারমিট কিংবা ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তাদের আবেদনে মূল শিক্ষার্থী যে এফএমসিএসপির আওতায় আবেদন করছেন বা অনুমোদন পেয়েছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে। পড়াশোনা শেষেই খুলতে পারে স্থায়ী বসবাসের পথ এই পাইলটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু স্টাডি পারমিট নয়। সফলভাবে নির্ধারিত কোর্স শেষ করা শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় স্থায়ী বসবাসের বিশেষ পথও রাখা হয়েছে। আইআরসিসির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এফএমসিএসপির স্থায়ী বসবাসের আবেদন ব্যবস্থা ২০২৭ সালের শীতকালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন। এটিকে সরাসরি ‘পড়াশোনা করলেই পিআর নিশ্চিত’ বলা ঠিক হবে না। আবেদনকারীকে এফএমসিএসপির অধীনে স্টাডি পারমিট পেতে হবে, নির্ধারিত কমপক্ষে দুই বছরের কোর্স সফলভাবে শেষ করতে হবে, আবেদন করার সময় কুইবেকের বাইরে কানাডায় বসবাস করতে হবে এবং বৈধ অস্থায়ী স্ট্যাটাসসহ অন্যান্য গ্রহণযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে প্রচলিত অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচির মতো আলাদা কোনো চাকরির প্রস্তাব বা এক্সপ্রেস এন্ট্রির সিআরএস স্কোরকে এই বিশেষ নীতিতে যোগ্যতার শর্ত হিসেবে রাখা হয়নি। মূল শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগ্য পরিবারের সদস্যদেরও স্থায়ী বসবাসের আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। স্থায়ী বসবাসের আবেদন জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা যোগ্য গ্র্যাজুয়েট সর্বোচ্চ তিন বছরের ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্যও ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো - বাংলাদেশ এই ৩৩ দেশের তালিকায় নেই। ফলে শুধু বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী ২৬ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এফএমসিএসপির ২ হাজার ৯৭০ আবেদনের কোটায় আবেদন করতে পারবেন না। ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষ হলেও নাগরিকত্বের শর্ত পূরণ না হলে এই বিশেষ পাইলটের সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশিদের জন্য কানাডার স্টাডি পারমিট বন্ধ। এফএমসিএসপি সাধারণ স্টাডি পারমিট ব্যবস্থা থেকে আলাদা একটি বিশেষ পাইলট। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা পূরণ করলে কানাডার প্রচলিত স্টাডি পারমিট ব্যবস্থায় আবেদন করতে পারবেন। সব মিলিয়ে ২৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন ২ হাজার ৯৭০ আবেদনের কোটা মূলত নির্দিষ্ট ৩৩ দেশের ফ্রেঞ্চভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় পড়াশোনা থেকে স্থায়ী বসবাস পর্যন্ত একটি বিশেষ পথ। তবে সীমিত কোটা, নির্দিষ্ট নাগরিকত্ব, ফ্রেঞ্চ ভাষায় এনসিএলসি ৫, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং আর্থিক সক্ষমতাসহ প্রতিটি শর্ত পূরণ করেই আবেদন করতে হবে। আর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বার্তা - এই ২ হাজার ৯৭০টি সুযোগ বাংলাদেশের জন্য নয়; কানাডায় পড়তে চাইলে তাদের নিয়মিত স্টাডি পারমিটের পথেই আবেদন করতে হবে।
কাজের অনুমতি দাবিতে ক্যালগেরিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ১২ জনকে নিয়ে নতুন অভিবাসন শঙ্কা
ফেডারেল সংস্কার প্রস্তাবে চাপে ইয়েলসহ কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
তীব্র গরমে হাফপ্যান্ট পরা নিষেধ, অভিনব প্রতিবাদে স্কার্ট পরেই স্কুলে গেল ছাত্ররা
কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করলেই স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায় না। স্টাডি পারমিট বা অন্য বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হলে এবং কানাডায় থাকার নতুন কোনো বৈধ পথ না থাকলে দেশে ফিরে যেতে হবে। আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এমন বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাখ্যাত হওয়া পোর্টেজ কলেজের একদল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর বিক্ষোভের মধ্যে তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২৯ জুলাই রেড ডিয়ারে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন স্মিথ। সেখানে তিনি বলেন, কেউ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এলে এবং তার ভিসা বা বৈধ স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি না পেলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। তবে স্মিথ একই সঙ্গে বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর এমন দক্ষতা থাকলে যা আলবার্টার শ্রমবাজারে প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে তাদের জন্য পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির বৈধ পথ তৈরির সুযোগ থাকা উচিত। অর্থাৎ তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, স্টাডি পারমিট নিজে থেকে স্থায়ীভাবে কানাডায় থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। কানাডার সরকারি ইমিগ্রেশন নীতিতেও একই মূলনীতি রয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, স্টাডি পারমিটধারীদের তাদের পারমিটের শর্ত মেনে চলতে হয় এবং বৈধভাবে থাকার মেয়াদ শেষ হলে দেশ ছাড়তে হয়, যদি এর মধ্যে তারা অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাস না পান। সাধারণভাবে একজন শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট তার শিক্ষা কার্যক্রমের মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে। এই সময় শিক্ষার্থী কানাডা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে অথবা বৈধভাবে অবস্থান বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারেন। আবার যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে কানাডায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা অর্জন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায় না। বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে আলবার্টার পোর্টেজ কলেজের কিছু গ্র্যাজুয়েট। কলেজটির নির্দিষ্ট কয়েকটি নন ক্রেডিট প্রোগ্রাম শেষ করা শিক্ষার্থীদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ ভারতীয় শিক্ষার্থী। প্রত্যাখ্যানের পর ক্যালগারি ও এডমন্টনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন এবং কয়েকজন অনশন কর্মসূচিতেও অংশ নেন। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা যখন সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন, তখন তাদের ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হবেন। পরে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় এই যুক্তিতে যে তারা যে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন সেটি নন ক্রেডিট এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য নয়। তবে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা জানিয়েছে, নন ক্রেডিট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে নতুন করে যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন করা হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে তাদের ওয়েবসাইটে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট পেতে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যোগ্য প্রোগ্রাম সম্পন্ন করাসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। পোর্টেজ কলেজও জানিয়েছে, কিছু নন ক্রেডিট প্রোগ্রামের গ্র্যাজুয়েটের ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি তারা জানে। তবে কারও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত কলেজ নেয় না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার কানাডার ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের। কলেজটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অনুমোদিত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা রেগুলেটেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতি কানাডায় পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও সামনে এনেছে। কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কানাডার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেই সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি প্রোগ্রাম পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য হবে, এমন নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম দুটির বর্তমান যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। একইভাবে স্টাডি পারমিট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট এবং পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি তিনটি আলাদা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া। কানাডায় পড়াশোনা শেষ করার পর স্থায়ীভাবে থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী আলাদা বৈধ ইমিগ্রেশন পথ অনুসরণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় প্রবেশ করাই ভবিষ্যতে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গুলিতে পাঁচজন আহত, ১৯ বছরের সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সেমিস্টারের গ্রেডিংয়ে বড় পরিবর্তন