সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে নতুন নির্দেশনা; যানজট কমাতে বিশেষ উদ্যোগ

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ২১:১৯
ছবি: ফাইল ফটো
ছবি: ফাইল ফটো

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও কেন্দ্রের আশপাশে যানজট কমাতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা। পরীক্ষার্থীরা এখন থেকে সকাল সাড়ে আটটা থেকেই কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের আশপাশে জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের জন্য সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সকল কেন্দ্র সচিবদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ ও অন্যান্য নির্দেশনাবলী আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।

 

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা সহযোগিতার জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফোন ও মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করেছে।

 

বোর্ডের কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর হলো ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়াও ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ এবং ০১৭৫৬১০৩১৫২ মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে। ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্যের জন্য controller@dhakaeducationboard.gov.bd ঠিকানায় যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েস প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলফান্ডেড স্কলারশিপ, আবেদন শুরু

বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ অর্থায়নে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি বা ইয়েস প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। আবেদন করা যাবে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা পর্যন্ত।    ইয়েস প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিস্টার অবস্থান করে একটি আমেরিকান হাইস্কুলে পড়াশোনা করবেন। একই সময়ে তারা একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।    প্রোগ্রামটির আওতায় শুধু একাডেমিক পড়াশোনাই নয়, নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শাসনব্যবস্থা, ব্যবসা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকবে। মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েস প্রোগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণ নেতৃত্বের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা।    এই কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। ফলে এটি শুধু বিদেশে পড়াশোনার কর্মসূচি নয়, দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির একটি বিনিময় কর্মসূচিও।   শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে মেধার ভিত্তিতে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ইয়েস প্রোগ্রাম ২০০৪ সালে চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫৩০ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছেন বলে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে।    আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসোর্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা। আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে আবেদন করতে হবে।    স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের এই কর্মসূচিতে সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন শিক্ষা পরিবেশে অভিজ্ঞতা অর্জন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন।  সূত্র: দি ডেইলি ক্যাম্পাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২:৩৪
১৯৬৪ সালে ইপুয়েটে (বর্তমান বুয়েট) প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাজির হন তিন তরুণী। ছবি: সংগৃহীত

তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার ভাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

চার ছেলেই বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, প্রশংসায় ভাসছেন এক রত্নগর্ভা মা

অটিজম জয় করে মাত্র ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিস্ময় বালক জোশুয়া বেকফোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ক্যাম্পাসের সামনে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে আসা শান্তা যাদব। ছবি: সংগৃহীত
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন শান্তা যাদব। বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তিনি।   শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রীনা যাদব দুজনই লংলা চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে উঠলেও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল শান্তার। চা-বাগানের জীবন এবং সেখানকার শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের নানা বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।   লংলা চা-বাগানে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন শান্তা। এরপর চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন নিয়ে তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয়। নিজের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও এই আগ্রহকে প্রভাবিত করেছে। চা-বাগানের মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের বাস্তবতা তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।   স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন শান্তা। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ পেলেও নিজের লক্ষ্য ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক স্নাতকোত্তর কর্মসূচি বেছে নেন তিনি।   এই কর্মসূচিতে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য, মানুষের কাছে কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন শান্তা। তাঁর পড়াশোনার জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা সমপরিমাণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।   শান্তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও নিজের শিকড় থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা। শৈশব থেকেই তিনি দেখেছেন, চা-বাগান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ কতটা সীমিত হতে পারে। সেই বাস্তবতাই তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার লক্ষ্য স্থির করতে সাহায্য করেছে।   শিক্ষাজীবনে চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের নিয়েও কাজ করেছেন শান্তা। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়ার সময় তিনি চা-ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন তিনি।   উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে শান্তার। তাঁর লক্ষ্য নিজের অর্জিত জ্ঞানকে এমন কাজে ব্যবহার করা, যা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।   লংলা চা-বাগানের সীমিত সুযোগের পরিবেশ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর শান্তার এই পথচলা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি দেশের চা-বাগান ও অন্যান্য প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ। শুরুর জায়গা সীমিত হলেও শিক্ষা, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় লক্ষ্য একজন মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে, শান্তার পথচলা তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৯:১১
মার্কিন ভিসা ছবি:সংগৃহীত

পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি

বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি

বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়

এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন

এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন

সৌদি পাঠ্যবই থেকে বাদ ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি

সৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’ অর্থবোধক একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের পাঠ্য ক্রম পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই। জেরুজালেম, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে সৌদি পাঠ্যবইয়ে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই বিষয়টি সামনে এসেছে।   মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি আরবের নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা প্রকাশ করে ইমপ্যাক্ট-এসই। সংস্থাটি সৌদি পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, নতুন পাঠ্যক্রমে শান্তি, সহাবস্থান ও ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তবে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জেরুজালেম সম্পর্কিত ওই বাক্যটি। এর আগে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের আরবি ভাষার একটি পাঠ্যবইয়ের লেখার অনুশীলনে ছিল, ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না।’ ইমপ্যাক্ট-এসইর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পর্যালোচনাতেও বাক্যটির উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।   সংস্থাটির ব্যাখ্যায়, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি বা নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্য গোষ্ঠী, বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের একটি ক্ষেত্র হিসেবেও এটি উপস্থাপন করতে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি।   ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-এসই বলেছে, সৌদি আরবের ২০২৪-২৬ সালের পাঠ্যক্রমে শান্তি, সহাবস্থান ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর জোর বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী এবং অন্যান্য সম্প্রদায় সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়েও ভাষা পরিবর্তন করা হয়েছে।   এই পরিবর্তন অবশ্য হঠাৎ শুরু হয়নি। গত কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবের পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েল, ইহুদি, খ্রিস্টান, জিহাদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী সম্পর্কিত বক্তব্যে ধারাবাহিক পরিবর্তনের তথ্য দিয়ে আসছে ইমপ্যাক্ট-এসই।   সংস্থাটির ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পর্যালোচনায় ৩৭১টি সৌদি পাঠ্যবই বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, আগের কিছু বইয়ে জায়নবাদকে ‘বর্ণবাদী’ ইউরোপীয় আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের লক্ষ্য থাকার মতো যেসব বক্তব্য ছিল, সেগুলোর কিছু পরবর্তী সংস্করণে আর রাখা হয়নি।সহিংস জিহাদ ও শাহাদাতকে উৎসাহিত করে বলে সংস্থাটি যেসব উদাহরণ চিহ্নিত করেছিল, সেগুলোরও অনেকগুলো বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয়েছে।   তবে এর অর্থ এই নয় যে সৌদি পাঠ্যক্রম থেকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন বা ইসরায়েলি দখলদারিত্বের উল্লেখ পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগের পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-এসই নিজেই জানিয়েছিল, সৌদি পাঠ্যক্রমে ফিলিস্তিনি ইস্যুর গুরুত্ব এখনও রয়েছে। কিছু পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েলকে ‘ইসরায়েলি দখলদার’ বা ‘দখলদার বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখও বহাল ছিল।   সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। একই সঙ্গে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। ফলে পাঠ্যবইয়ের এসব পরিবর্তনকে সরাসরি সৌদি আরবের ইসরায়েল নীতির পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’ বাক্যটি কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বাক্যটির পরিবর্তন নিয়ে যে মূল্যায়ন সামনে এসেছে, সেটি মূলত ইমপ্যাক্ট-এসইর নিজস্ব পাঠ্যক্রম বিশ্লেষণ।   ফলে সৌদি পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনটি নিশ্চিত হলেও এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। তবে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট, ধর্মীয় শিক্ষা, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং অন্য ধর্ম ও জনগোষ্ঠীকে নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে ক্ষেত্রে সৌদি আরব তার স্কুল পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস চালিয়ে যাচ্ছে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৭:৪৫
ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রশাসনিক ভবন। ছবি:সংগৃহীত

ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় পিএইচডিতে ফুল ফান্ডিং, পরিবার নিয়েও যাওয়ার বড় সুযোগ

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছবি সংগৃহীত।

বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান

তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, সাড়ে তিন বছরেও স্কুলে ফেরেননি প্রধান শিক্ষক

0 Comments