মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে বোমা আতঙ্কে পাওয়া ব্যাগে জর্দার কৌটা ও পান ছিল: ডিএমপি
রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া দুটি সন্দেহজনক বস্তু ঘিরে সৃষ্টি হওয়া আতঙ্কের অবসান হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ব্যাগ ও বস্তায় কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি। মিরপুর-১০ স্টেশনের নিচে থাকা ব্যাগে ছিল একটি জর্দার কৌটা ও পান, আর ফার্মগেটে পাওয়া বস্তাটি ছিল সম্পূর্ণ খালি।
শনিবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুটি স্থানে পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকার খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে সন্দেহজনক ব্যাগটি প্রথমে এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। এতে কৌটাসদৃশ একটি বস্তু শনাক্ত হওয়ায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে সেটিকে নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরে ব্যাগ খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে একটি জর্দার কৌটা ও পান ছাড়া অন্য কোনো বিপজ্জনক বস্তু নেই।
অন্যদিকে, তেজগাঁও থানার আওতাধীন ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পড়ে থাকা একটি বস্তা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তার ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু ছিল না; সেটি খালি অবস্থায় দলা পাকিয়ে রাখা হয়েছিল।
ডিএমপি জানিয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক বস্তু বা কার্যকলাপ সম্পর্কে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreকুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে স্ত্রীর দাফনের জন্য কবর খননের সময় প্রায় ২৪ বছর আগে মারা যাওয়া রমজান আলীর মরদেহ কাফনের কাপড়সহ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কবর খননকারীরা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক মানুষ কবরস্থানে ভিড় করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রমজান আলীর স্ত্রী শুক্রবার মারা গেলে স্বামীর কবরের পাশেই নতুন কবর খননের কাজ শুরু হয়। এ সময় কবর খননকারীরা দাবি করেন, মাটির নিচে রমজান আলীর মরদেহ কাফনের কাপড়সহ প্রায় আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে রমজান আলীর মৃত্যু হয়েছিল। জীবদ্দশায় তিনি একজন ধার্মিক, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং হাটবাজারে চাল ও আটা ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। উলুপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরের ভেতরে কাফনে মোড়ানো মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহটি যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় রেখেই পাশের কবরটিতে তার স্ত্রীর দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। উত্তর হাওলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, কোনো মুসলমানের মরদেহ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেলে তার সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করা উচিত। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকলে সেটিও গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানান। এদিকে মরদেহ দীর্ঘ সময় অক্ষত থাকার দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে মরদেহের প্রকৃত অবস্থা বা এর পেছনের কারণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কবরের মাটি, আর্দ্রতা, অক্সিজেনের পরিমাণ, তাপমাত্রা, কফিন বা দাফনের পরিবেশসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মরদেহের পচনপ্রক্রিয়া ধীর হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। এ কারণে স্থানীয়দের দাবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থাকলেও ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক বা সরকারি সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে বোমা আতঙ্কে পাওয়া ব্যাগে জর্দার কৌটা ও পান ছিল: ডিএমপি
কেএনএফের আতঙ্ক কাটিয়ে বান্দরবানের পাহাড়ে ফিরেছে ২২১ বাস্তুচ্যুত পরিবার
শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেফতার
বাংলাদেশে পরিচয় হওয়া এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে এসে মারা যাওয়া ভারতীয় নাগরিক প্রবীর মণ্ডলের মরদেহ গত পাঁচ বছর ধরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। আইনি জটিলতা, স্বজনদের অনাগ্রহ এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের অভাবে মরদেহটি এখনও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে দেশে দাহ করার উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, মামলা-সংশ্লিষ্ট নথি এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নিমচা মৈত্রী স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন প্রবীর মণ্ডল। তার বাবার নাম মহাদেব মণ্ডল। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। একই বছরের নভেম্বর মাসে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে তিনি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে আসেন। সেখানে আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রবীর। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর একটি মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়। কিন্তু এরপর কেটে গেছে পাঁচ বছর, এখনও সেই মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরেই সংরক্ষিত রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রবীর মণ্ডলের পোশাক থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় পাসপোর্টে দেখা যায়, তিনি ২০১৭ সালের ৩ মার্চ তিন মাসের ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে যান। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি কীভাবে আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের হিমঘরের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন সংরক্ষণে থাকার কারণে এবং বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ নানা কারণে মরদেহটির অবস্থা মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে সেটি অনেকটাই বিকৃত হয়ে পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহটি ভারতের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, প্রবীর মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে তারা এখন পর্যন্ত মরদেহ গ্রহণে আগ্রহ দেখাননি। এদিকে হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মরদেহটি মর্গে পড়ে থাকলেও বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে ওঠেনি। ফলে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর কিংবা স্থানীয়ভাবে শেষকৃত্যের কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
রোহিঙ্গা শিবিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত, প্রত্যাবাসনে সহায়তা চাইলেন রোহিঙ্গারা
আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র
এআই ডেটা সেন্টার গড়তে বাংলাদেশে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব
ঢাকার ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী আড়াই মাস পর নিজের সাত মাসের শিশুসন্তানকে ফিরে পেয়েছে। ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের উদ্যোগ এবং চকবাজার থানার পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে লিগ্যাল এইডের বিচারক অন্তর্বর্তী আদেশে শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীটির দাবি, ১২ বছর বয়সে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর শাকিল ওরফে শাকিব মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তাদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর স্বামী ও শাশুড়ি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে দেন। একই সঙ্গে শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালতে মামলাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্তানকে ফিরে পেতে গত ১ জুলাই কিশোরীটি ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন। অভিযোগের পর উভয় পক্ষকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হননি। এরপর লিগ্যাল এইডের নির্দেশে চকবাজার থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারক শিশুটিকে মায়ের কাছে রাখার নির্দেশ দেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার শুনানিতে কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ে স্কুলে পড়াশোনা করছিল এবং তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, কিশোরীকে শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে নারীর বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। শিশু বিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী এমন বিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে অভিভাবকত্ব ও হেফাজত-সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশু বিবাহ, অপ্রাপ্তবয়স্ক মায়ের নিরাপত্তা এবং সন্তানের হেফাজত নিয়ে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এটা স্ত্রী-সতীনের ঝগড়া নয়, স্বার্থ যেখানে সেখানেই বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে ৮৪৪১ কোটি টাকার দুর্নীতি