সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:২৫
ক্যালিফোর্নিয়ায় কমেছে নতুন চাকরির সুযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় কমেছে নতুন চাকরির সুযোগ

ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।


চাকরির সুযোগের হার বলতে মাসের শেষ কর্মদিবসে বিদ্যমান খালি পদকে মোট কর্মী ও খালি পদের সমষ্টির শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেওএলটিএস জরিপে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ এবং কর্মী ছাঁটাইসহ শ্রমবাজারের বিভিন্ন সূচক পরিমাপ করা হয়। 


ক্যালিফোর্নিয়ার এই হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২১ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ২০২৩ সালে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হারটি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। 


২০২৫ সালের অক্টোবরেও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৬ লাখ ৬৪ হাজার চাকরির সুযোগ ছিল। তবে ওই মাসে রাজ্যটির চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। 


তবে চাকরির সুযোগ কম থাকা মানেই নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট চাকরির সুযোগ ছিল প্রায় ৭২ লাখ ৭১ হাজার এবং জাতীয় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে নিয়োগের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ছাঁটাই ও চাকরিচ্যুতির হার ছিল ১ শতাংশ। 


সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের আরেকটি চিত্রও দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রম বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন সামান্য কমে ২ লাখ ৬ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগের গতি কিছুটা বাড়লেও রাজ্যভেদে চাকরির সুযোগের চিত্র এক নয়। 


ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন কর্মীদের জন্য তাই শুধু মোট চাকরির সংখ্যা নয়, কোন খাতে নিয়োগ বাড়ছে, কোন এলাকায় সুযোগ বেশি এবং নিয়োগের প্রবণতা কীভাবে বদলাচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাকরির সুযোগের হার কম থাকলে একটি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পেশা, দক্ষতা ও স্থানীয় শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর করে।


যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিকভাবে চাকরির সুযোগ এখনো কয়েক মিলিয়নের পর্যায়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মহামারির পরের উচ্চ চাকরির সুযোগের সময়ের তুলনায় নিয়োগের বাজার অনেক বেশি স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনামূলক কম চাকরির সুযোগের হার রাজ্যটির চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া ফার্মেসি খুলে কোটি ডলার হাতিয়ে দেশ ছাড়ল প্রতারকরা
যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া ফার্মেসি খুলে কোটি ডলার হাতিয়ে দেশ ছাড়ল প্রতারকরা

যুক্তরাষ্ট্রের নাসাউ কাউন্টিতে স্বাস্থ্য খাতের বড় ধরনের এক অভিনব প্রতারণা উন্মোচন করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে একাধিক ভুয়া বা ‘ঘোস্ট ফার্মেসি’র সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলোর মাধ্যমে ক্যানসার ও এইচআইভি’র মতো জটিল রোগের দামি ওষুধের ভুয়া বিল তৈরি করে মেডিকেড, মেডিকেয়ার এবং বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।   অবাক করা বিষয় হলো, বাস্তবে কোনো রোগীই এসব ওষুধ পাননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ফ্লোরাল পার্কের জেরিকো টার্নপাইক এবং ফ্রিপোর্টের গাই লম্বার্ডো অ্যাভিনিউতে এ ধরনের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পান তদন্তকারীরা।   নাসাউ কাউন্টির পুলিশ কমিশনার প্যাট্রিক রাইডার জানান, প্রতারকরা প্রথমে চিকিৎসকদের পরিচয় চুরি করত এবং পরে রোগীদের ভুয়া পরিচয়ে প্রেসক্রিপশন তৈরি করে এই জালিয়াতি চালাত। এই মেগা কেলেঙ্কারির মূল হোতা হিসেবে উজবেকিস্তানের বাখোদির মিরোদিমভ এবং কুর্দিস্তানের আবদিলাকিম বেরদিকুলভকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।   কর্তৃপক্ষ জানায়, নিউইয়র্ক রাজ্যের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে ভুয়া করপোরেট প্রতিষ্ঠান খুলেছিল তারা। মাত্র ৩১ দিনের ব্যবধানে মিরোদিমভ ৩০ লাখ ডলার এবং বেরদিকুলভ ৫০ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন এবং দুজনেই ইতিমধ্যে দেশ ত্যাগ করেছেন। এই দুই ব্যক্তির মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   তবে পুলিশের ধারণা, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত এবং ওই অঞ্চলে এমন আরও ডজনখানেক ভুয়া ফার্মেসি সক্রিয় থাকতে পারে। সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠান খুলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে দ্রুত সেটি বন্ধ করে দেওয়ার এই প্রবণতাকে মারাত্মক বলে আখ্যায়িত করেছেন কর্মকর্তারা।   নাসাউ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যান ডনেলি জানিয়েছেন, এই ধরনের জালিয়াতি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেই হুমকির মুখে ফেলছে। জড়িত ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যেহেতু অভিযুক্তরা দেশ ছেড়েছেন, তাই ঘটনার সার্বিক তদন্তে এখন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিচ্ছে নাসাউ কাউন্টি প্রশাসন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৩:৫
সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী যুবক নিহত

তিন বছরের মেয়েকে এতিম করে চলে গেলেন বাবা, সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী যুবক নিহত

অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়া এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত এক নারীর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেছেন ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত

২৪ বছর মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহারের পর জালিয়াতির দায়ে নারীর নাগরিকত্ব বাতিল

পঞ্চম সন্তান নিতে চান জেডি ভ্যান্স, স্ত্রীর এক হু মকিতেই চুপ

পঞ্চম সন্তান নিতে চান জেডি ভ্যান্স, স্ত্রীর এক হু মকিতেই চুপ

হ্যালোইনে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নামছে ২ লাখ মানুষ
হ্যালোইনে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নামছে ২ লাখ মানুষ, নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে আজ ৩১ অক্টোবর হ্যালোইন উৎসব ঘিরে ব্যাপক আয়োজন চলছে। বিশেষ করে ম্যানহাটনের গ্রিনউইচ ভিলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হ্যালোইন প্যারেড। বর্ণিল পোশাক, মুখোশ, বিশাল পুতুল ও ব্যতিক্রমী সাজসজ্জা নিয়ে এতে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।   ফক্স ৫ নিউইয়র্কের ৩১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের উৎসব ঘিরে প্রায় দুই লাখ দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিপুল মানুষের উপস্থিতি বিবেচনায় প্যারেড এলাকায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।   প্রতিবছর এই আয়োজন নিউইয়র্কের অন্যতম আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকরাও এতে অংশ নেন। অনেকেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বিশেষ পোশাক পরে রাস্তায় বের হন।   তবে এত বড় জনসমাগমে নিরাপত্তা, যান চলাচল ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ। তাই দর্শনার্থীদের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ, শিশুদের কাছাকাছি রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এদিকে একই দিনে নিউইয়র্কের আপার ওয়েস্ট সাইডে একটি ভবনের পানির ট্যাংকের ওপর থাকা বার্ন আউলের বাসা ভেঙে ফেলার ঘটনায় বন্যপ্রাণী রক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ, নির্মাণকাজের কারণে পাখি ও তাদের বাচ্চারা বিপদে পড়তে পারে।হ্যালোইনের আনন্দের পাশাপাশি এসব ঘটনা নিউইয়র্কের জননিরাপত্তা ও নগরজীবনের নানা দিক সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১২:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির শ্রম বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের নিয়ম বদলাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, প্রস্তাবের পর্যালোচনা শেষ

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর এক ফোনেই বাঁচল প্রাণ

স্কুলবাসে চালকের শ্বাসকষ্ট, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর এক ফোনেই বাঁচল প্রাণ!

নিউইয়র্কে ই-বাইকের ব্যাটারি  বি স্ফোরণে একই পরিবারের চারজনের মৃ ত্যু

নিউইয়র্কে ই-বাইকের ব্যাটারি বি স্ফোরণে একই পরিবারের চারজনের মৃ ত্যু

বাড়ির আঙিনায় ভৌতিক জগৎ তৈরি
বাড়ির আঙিনায় ভৌতিক জগৎ তৈরি করে তাক লাগালেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বারব্যাঙ্ক শহরে হ্যালোইন উপলক্ষে এক অভিনব আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। নিজেদের বাড়ির সামনের আঙিনা, বাগান ও প্রবেশপথকে ভয়ংকর ভৌতিক জগতে রূপান্তরিত করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী সৃজনশীলতা দেখতে প্রতিবছর ভিড় করেন অসংখ্য দর্শনার্থী।   কোথাও বিশাল আকৃতির কঙ্কাল, কোথাও ভয়ংকর মুখোশ পরা চরিত্র, আবার কোথাও আলো, শব্দ ও আধুনিক যান্ত্রিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে জীবন্ত ভূতের মতো পরিবেশ। রাতের অন্ধকারে এসব সাজসজ্জা আরও বেশি আকর্ষণীয় ও রহস্যময় হয়ে ওঠে।   সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এসব আয়োজনের পেছনে বড় কোনো বিনোদন প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে রয়েছেন সাধারণ বাড়ির মালিকেরা। নিজেদের অর্থ, সময় ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা বাড়িগুলোকে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণে পরিণত করেছেন।   দ্য গার্ডিয়ানের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারব্যাঙ্কের জনপ্রিয় ‘বারব্যাঙ্ক ক্লাউন হাউস’ অতীতে হ্যালোইনের এক রাতে আনুমানিক ১৫ হাজার দর্শনার্থী আকর্ষণ করেছিল। বিপুল মানুষের সমাগম সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় আয়োজকেরা চলতি মৌসুমে আয়োজনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভৌতিক বাড়ির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বারব্যাঙ্কের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে। দূরদূরান্ত থেকে পরিবার, বন্ধু ও শিশুদের নিয়ে মানুষ এসব আয়োজন দেখতে আসেন।   তবে বিপুল দর্শনার্থীর উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। বিশেষ করে যানজট, গাড়ি পার্কিং, শব্দদূষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন একটি সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সৃজনশীলতা ও পরিকল্পনা কীভাবে একটি আবাসিক এলাকাকে মৌসুমি পর্যটন আকর্ষণে পরিণত করতে পারে, বারব্যাঙ্ক তার একটি দৃষ্টান্ত।   হ্যালোইনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর নানা আয়োজন হয়। তবে বারব্যাঙ্কের এই বাড়িভিত্তিক ভৌতিক প্রদর্শনী প্রমাণ করে, আকর্ষণীয় কিছু তৈরি করতে সব সময় বড় বিনিয়োগ বা বিশাল প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো একটি বাড়ির আঙিনাও হাজারো মানুষের আনন্দের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১১:৫৬
নিজের দেশেই পরবাসী! যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও ১০ মাস ধরে আইসিইর বন্দিশিবিরে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক

নিজের দেশেই পরবাসী! যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও ১০ মাস ধরে আইসিইর বন্দিশিবিরে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধ না করলে লেট ফি ছাড়াও ক্রেডিট স্কোর কমে যাওয়া ও আইনি ঝামেলার ঝুঁকি থাকে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল না দিলে কী হয়, জেনে নিন ২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, ৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ছবি: সংগৃহীত

৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments