সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

ভুল বুঝতে পেরে ছেলে বললেন, ‘মাকে এক দিনের জন্যও দূরে থাকপ্যার দেব না’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৯:২৫
সাঁথিয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদলে মাকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
সাঁথিয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদলে মাকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

পাবনার সাঁথিয়ায় মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানানো গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আদালতের উদ্যোগে বিরোধ মেটার পর সোমবার ১২ অক্টোবর দুপুরে মাকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে মায়ের দেখাশোনা করার এবং সারাজীবন নিজের কাছে রাখার অঙ্গীকার করেন সাগর।

 

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মা মুন্নি খাতুনকে নিয়ে সাঁথিয়ার ইউএনও সেলিম আহমেদের কার্যালয়ে হাজির হন সাগর। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মামা জাকির হোসেন ও খালু মাসুদ রানা। সেখানে মা ও ছেলে একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান। সাগর জানান, আগের সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং মায়ের দায়িত্ব পালন করতে চান।

 

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর ৮ অক্টোবর ইউএনওর কার্যালয়ে শুনানির সময় মাকে মাসিক খরচ দিতে রাজি হলেও সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ইউএনও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং ১২ অক্টোবর আবার শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার সময় দেন। এর মধ্যেই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আদালতের নজরে আসে। 

 

রোববার ১১ অক্টোবর পাবনার আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনা হয়। আদালতের উদ্যোগে বিরোধ মেটানোর পর মায়ের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে রাজি হন সাগর। নিজের আচরণের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চান তিনি। ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না বলেও আশ্বাস দেন। এরপর মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিশ। 

 

ছেলের সিদ্ধান্ত বদলানোয় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মুন্নি খাতুন। তিনি জানিয়েছেন, ছেলের প্রতি তাঁর আর রাগ বা অভিমান নেই। ছেলেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং জীবনের বাকি সময় তাঁর কাছেই থাকতে চান। তাঁর ভাষ্য, তিনি ছেলের সান্নিধ্যই চেয়েছিলেন, এখন সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।

 

সাগরও জানিয়েছেন, আগের বক্তব্য আবেগের বশে দিয়েছিলেন। আদালতে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। এখন মাকে কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। মায়ের সঙ্গে আগের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন সাগর। 

 

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, বিরোধ মেটার পর মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে খোঁজখবরও নিচ্ছে পুলিশ। 


সূত্র: প্রথম আলো


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবির বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর আদায়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার, ১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পৃথক দুটি রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির অনাদায়ী কর আদায়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।    পাঁচ করবর্ষের আয়কর পুনর্নির্ধারণ করে অর্থ দাবি করার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ। প্রতিষ্ঠানটির করা পৃথক দুটি রিটের শুনানি শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল খারিজ করেন। সোমবার প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায় দুটি যথাক্রমে ৩২ ও ১৫ পৃষ্ঠার।    কর বিরোধটি ২০১২ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০১২ থেকে ২০১৩ করবর্ষ এবং পরবর্তী চার করবর্ষ মিলিয়ে ২০১৬ থেকে ২০১৭ করবর্ষ পর্যন্ত সময়ের। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে দাবিকৃত করের পরিমাণ ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই অর্থ প্রতিষ্ঠানটির করদায় হিসেবে দাবি করা হয়েছে।    দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, সংশ্লিষ্ট করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সময় প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী কর পরিশোধের আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল গ্রামীণ কল্যাণের। গ্রামীণ টেলিকমের পরিশোধ করা উৎসে করকে নিজেদের পরিশোধ করা কর হিসেবে গণ্য করার সুযোগ প্রতিষ্ঠানটির নেই বলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।    রায়ে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপের মতো আইনগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগের স্থগিতাদেশ বাতিল করে অনাদায়ী কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় দাবিনামা অবিলম্বে জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, আয়কর অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী কর কমিশনারের নিজের উদ্যোগে ভুল সংশোধনের ক্ষমতা রয়েছে বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।    পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি যত দ্রুত সম্ভব হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করবে। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, আপিল বিভাগ রায় স্থগিত করলে এনবিআরের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আপাতত কার্যকর থাকবে না।    এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেননি। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে জানিয়েছিলেন। ফলে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল ছিল।    মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে আগেও রায় প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ একই রিট দুটি খারিজ করেছিলেন। পরে ওই বেঞ্চের একজন বিচারপতি আগে মামলাগুলোতে সরকারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। সে কারণে ওই বছরের ২৯ আগস্ট রায় প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে নতুন বেঞ্চে আবার শুনানির মাধ্যমে গত ১০ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত আসে।    সূত্র: আরটিভি

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১১:১০
সাঁথিয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদলে মাকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ভুল বুঝতে পেরে ছেলে বললেন, ‘মাকে এক দিনের জন্যও দূরে থাকপ্যার দেব না’

তাজমিনের শেষ যাত্রা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে

তাজমিনের রাতের যাত্রা নিয়ে ছিল উদ্বেগ, সতর্ক করেননি কাউন্টারকর্মী আব্দুল্লাহ

হাফেজ ইহতেশামুল হক হীরা

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ১৪ বছরের হাফেজ হীরা

ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের নতুন লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া
নতুন করে অন্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে সরকার আবেদন যাচাইয়ের নির্দেশ

ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের নতুন লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। একাত্তর টেলিভিশনের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের কাছে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুরোনো লাইসেন্সের অস্ত্র জমা দেওয়া ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের উদ্বেগের মধ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী। একাত্তরকে তিনি বলেছেন, সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অল্প কয়েকজনকে ব্যক্তিগত অস্ত্র রাখার সুযোগ দিতে গিয়ে বৃহত্তর নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।   তাঁর মতে, শুধু রাজনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। লাইসেন্স দেওয়ার আগে প্রয়োজন নির্ধারণ এবং অনুমোদনের পর অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নতুন আবেদনের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা নিষ্পত্তির সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একাত্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।  অস্ত্র জমা না পড়ার যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়গত প্রেক্ষাপট রয়েছে। চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর প্রতিবেদনে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগত লাইসেন্সের বিপরীতে থাকা ৪৮ হাজার ২৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়েছিল ২৭ হাজার ৯৯৫টি। জমা পড়েনি ২০ হাজার ২৮৮টি, যা মোট ব্যক্তিগত অস্ত্রের প্রায় ৪২ শতাংশ।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ করার অংশ হিসেবে এসব অস্ত্র জমা দিতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নির্দেশ অমান্য করে জমা না দেওয়া অস্ত্র অবৈধ হিসেবে গণ্য করে মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল। ফলে ফেব্রুয়ারির এই হিসাবকে অক্টোবরের হালনাগাদ পরিস্থিতি হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।  একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশে ব্যক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৫৩ হাজার ৭০২টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তির নামে ৪৮ হাজার ২৮৩টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৪ হাজার ৮৫৪টি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৬৫টি। তখন অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশটি ব্যক্তিগত লাইসেন্সের অস্ত্রের জন্য প্রযোজ্য ছিল।   লাইসেন্সের অস্ত্র জমা না পড়া এবং গণ-অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র দুটি পৃথক বিষয়। প্রথম আলোর ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা ও কারাগার থেকে ৫ হাজার ৭৪৮টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এর মধ্যে ১ হাজার ৩৬২টি উদ্ধার হয়নি।    একাত্তর টেলিভিশন প্রতিবেদন

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১:৫৮
ট্রাম্পের স্যুটের পর চন্দ্রাভিযানে নভোচারীদের প্যান্টও বাংলাদেশে তৈরি

ট্রাম্পের স্যুটের পর চন্দ্রাভিযানে নভোচারীদের প্যান্টও বাংলাদেশে তৈরি দাবি অনন্ত গার্মেন্টসের

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃশ্য। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৪ জন

রূপালী জলপ্রপাতের পথে ছোট্ট গাইড মাহি

রূপালী জলপ্রপাতের পথে ছোট্ট গাইড মাহি, বান্দরবানের পর্যটনে নতুন এক মানবিক গল্প

মিরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মতিন উল্লাহর বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ছবি: প্রথম আলো
'প্রয়োজনে বেঁধে রাখেন, তবু অপমান করবেন না' ডাকাতদের বললেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুরের শেখেরতালুক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতেরা তাঁকে মারধর ও গালাগাল করলে তিনি অনুরোধ করেন, প্রয়োজনে বেঁধে রাখলেও যেন তাঁকে অপমান করা না হয়।    প্রথম আলোর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে দেশযোগ জানিয়েছে, বাড়িতে ঢুকে ডাকাত দলের সদস্যরা মতিন উল্লাহকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও কিলঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে একজন জানতে চায়, অবসর নেওয়ার সময় পাওয়া টাকা তিনি কোথায় রেখেছেন। তখন তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমাকে বেঁধে রাখুন, কিন্তু অপমান করবেন না।’   ওই প্রতিবেদনে মতিন উল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে ছিলেন। ডাকাতেরা তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে অন্য কক্ষগুলোতে তল্লাশি ও লুটপাট চালায়। তারা চলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে যান। পরে তাঁদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পুলিশকে খবর দেন।    ঢাকা পোস্টকে মতিন উল্লাহ জানিয়েছেন, মুখোশ পরা একদল ব্যক্তি খুন্তি ও শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢোকে। এরপর তাঁকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ওয়াইফাই রাউটার এবং সিসিটিভির যন্ত্রপাতি রয়েছে।   ভুক্তভোগী পরিবার ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, নগদ ৪০ হাজার টাকাসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে মনিটর ও হার্ডডিস্কও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে পরিবার। ক্ষয়ক্ষতির এই হিসাব পরিবারের দেওয়া।   মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শনিবার বিকেলে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখনো মামলা হয়নি। মতিন উল্লাহ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।  সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১১:৩৯
উড্ডয়নের পর বিমানের চাকা বিচ্ছিন্ন, শাহজালালে জরুরি অবতরণ

উড্ডয়নের পর বিমানের চাকা বিচ্ছিন্ন, শাহজালালে জরুরি অবতরণ

খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ

খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় পড়ে আল আমিন এবার যোগ দিলেন যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় পড়ে আল আমিন এবার যোগ দিলেন যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে

0 Comments