সাঈদী আল্লাহর ওলি ছিলেন, ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছেন জানেন না মানিকের বোন
জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বলে মন্তব্য করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারীর ছোট বোন হেনা পশারী। তিনি বলেছেন, তাঁর বড় ভাই কেন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। রোববার (২৫ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর দাফনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই বোনের এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
সাঈদী সম্পর্কে নিজের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে হেনা পশারী বলেন, ‘সাঈদী সাহেব একজন আল্লাহর ওলি ছিলেন। আমার বড় ভাই কেন এই কাজগুলো করেছেন, তা তিনি নিজেই জানেন।’ ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার কারণ সম্পর্কে পরিবারের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানান তিনি।হেনার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরে এ বিষয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে তাঁদের কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি কেন তিনি সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষী হয়েছিলেন, সেটিও কখনো জানতে চাননি তাঁরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ৮৭ বছর বয়সে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মারা যান মানিক পশারী। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নিজ এলাকায় বসবাস করছিলেন না। মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসেন। তবে সেখানে তাঁর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য ও দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কারণে পুলিশ মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনে নিয়ে যায়।
ভাইয়ের দাফনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হেনা পশারী জানান, পরিবারের সদস্যরা কবর খোঁড়ার পর সন্ধ্যায় সেটি মাটি দিয়ে ভরাট করে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, পরে দুই বোন মিলে গভীর রাতে আবার কবর খুঁড়তে হয়। রাত দুইটার দিকে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে আনা হলে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের সময় এলাকার সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, মরদেহ পিরোজপুরে আনার পর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান ও দাফন নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। তবে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দলের কোনো নেতাকর্মী দাফনে বাধা দেননি, বরং পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে এবং দাফনের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
মানিক পশারী ছিলেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ২০০৯ সালে সাঈদীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পিরোজপুরে মামলা করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিচার হয়। ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে আপিলের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট সেই সাজা পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাঈদী।
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে মানিক পশারীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্নমত সামনে এসেছে। কেউ সাঈদীর পক্ষে মতামত দিয়েছেন, আবার কেউ মানিক পশারীর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব ব্যক্তিগত বক্তব্য বা অভিযোগ আদালতের রায় পরিবর্তন করে না। মানিকের বোন হেনা পশারীও স্পষ্ট করেছেন, তাঁর ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর নিজের কোনো প্রত্যক্ষ তথ্য নেই। ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর এই বক্তব্য এবং দাফন ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: যুগান্তর
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreমানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবাউর গ্রামের এক পরিবারে আট ভাই-বোনের মধ্যে চারজনই খর্বাকৃতির। তাঁদের মধ্যে দুই ভাই কিছুটা হাঁটাচলা করতে পারলেও দুই বোন দাঁড়াতে পারেন না। খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজ—সবকিছুর জন্যই অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয় তাঁদের। এর ওপর বাড়িতে যাতায়াতের উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় তাঁদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি চলাচলের এই সংকট পরিবারটির স্বাভাবিক জীবনযাপনকে কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে দুই বোনকে বাড়ির বাইরে নেওয়া কিংবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের পড়তে হয় বিপাকে। এই চার ভাই-বোন হলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দীঘি ইউনিয়নের ভাটবাউর গ্রামের মৃত হযরত আলী ও জহুরা বেগমের সন্তান মোছা. হাবিয়া (৬৪), মোছা. মেহেরজান (৫৮), ইজ্জত আলী (৫২) ও সিরাজ আলী (৪৮)। তাঁদের বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে পাঁচ মেয়ে ও তিন ছেলে। বাকি চার ভাই-বোন ছবিয়া বেগম (৬১), আফেলা বেগম (৫৫), লিটন মিয়া (৪৬) ও দাপালি বেগম (৪২)। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, চার ভাই-বোন জন্মগতভাবে খর্বাকৃতির ছিলেন না। শৈশবে অসুস্থ হওয়ার পর তাঁদের শারীরিক সমস্যার সূত্রপাত হয়। মা জহুরা বেগম জানান, প্রথম সন্তান হাবিয়ার বয়স যখন সাত বছর, তখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বর সেরে যাওয়ার কয়েক দিন পর হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। পরে কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করিয়েও কোনো উন্নতি হয়নি। অন্য তিন সন্তানের ক্ষেত্রেও সাত থেকে আট বছর বয়সে হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার পর হাঁটাচলায় সমস্যা দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে তাঁদের দুজনের চলাফেরার সক্ষমতা এতটাই সীমিত হয়ে পড়ে যে তাঁরা এখন দাঁড়াতেও পারেন না। সন্তানদের শারীরিক অবস্থার কারণে গ্রামের মানুষের নানা কটূক্তিও সহ্য করতে হয়েছে জহুরা বেগমকে। তাঁর কথায়, বাড়ির বাইরে বের হলে মানুষ তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করত, এখনো করে। পরিবারটির দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে মেহেরজান বলেন, তাঁদের কষ্টের খোঁজ কেউ নেন না। প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের বোঝা হয়ে আছেন বলে তাঁর মনে হয়। হুইলচেয়ারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার মতো রাস্তাও নেই। নানা দিক থেকে তাঁদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। পরিবারটির বসবাসের জায়গায় পৌঁছাতে ভাটবাউর বাজারের পাকা সড়কের পাশের কয়েকটি বাড়ির ওপর দিয়ে যেতে হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, হাবিয়া ও মেহেরজানকে ঘর থেকে বাইরে আনতে তাঁদের মা ও ভাই লিটন মিয়াকে কোলে তুলে নিতে হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁদের খাওয়ান। এমনকি প্রাকৃতিক কাজ সারতেও তাঁদের অন্যের সহায়তা নিতে হয়। অন্যদিকে, খর্বাকৃতির হলেও ইজ্জত আলী ও সিরাজ আলী কিছুটা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন। তাঁরা ভাটবাউর বাজারে সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে পান-সিগারেটের দোকান চালান। তবে সেখান থেকে তাঁদের আয় খুবই সামান্য। পরিবারের প্রধান উপার্জনের উৎসের মধ্যে রয়েছে এই দোকানের আয়, জমির ফসল এবং সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা। প্রায় দুই বছর ধরে চার ভাই-বোন সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। তবে এই সহায়তায় সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া আক্তার জানান, চার ভাই-বোনের প্রত্যেককে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়। প্রতি তিন মাসে তাঁরা ৩ হাজার টাকা করে পান। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী দুই ভাইকে একটি ট্রাইসাইকেলও দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র ব্যবসা করার জন্য তাঁদের ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পরিবারটির আর্থিক সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ। ইজ্জত আলীর দুই ছেলে ইয়াসির আরাফাত (২২) ও আলিফ আহম্মেদ (২০) উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। তাঁরা সুস্থ ও স্বাভাবিক। তবে অভাবের সংসারে বড় ছেলে আরাফাত সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। ইজ্জত আলীর আশা, ছেলের সরকারি চাকরি হলে পরিবারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। ইজ্জত আলী বিয়ে করলেও অন্য তিন ভাই-বোনের বিয়ে হয়নি। তাঁরা একই বাড়িতে থাকেন। সুস্থ চার ভাই-বোনের মধ্যে তিন মেয়ে ও এক ছেলের বিয়ে দিয়েছেন জহুরা বেগম। বর্তমানে প্রতিবন্ধী চার সন্তান, এক ছেলে, দুই পুত্রবধূ ও দুই নাতিকে নিয়ে তাঁর সংসার। পরিবারটির সদস্যরা জানান, বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় তাঁদের দুর্ভোগের শেষ নেই। দুই বোনকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও সহজে বের করা যায় না। প্রায় দুই বছর আগে প্রতিবেশীদের সহায়তায় রাস্তায় কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে পরে আর কাজ এগোয়নি। সরকারি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাটি নির্মাণ করা গেলে অন্তত হুইলচেয়ারে করে দুই বোনকে বাড়ির বাইরে আনা-নেওয়া সম্ভব হতো। স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবক আমজাদ হোসেন বলেন, পরিবারটির চার সদস্যের শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন এমনিতেই কঠিন। তার ওপর বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা না থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে। শুধু এই পরিবার নয়, আশপাশের অন্তত আরও ১০টি পরিবার চলাচলের রাস্তা না থাকায় অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন জানান, পরিবারটির পরিস্থিতি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। প্রতিবন্ধী এই পরিবারসহ আশপাশের অন্য পরিবারগুলোর চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সম্প্রতি প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে পরিবারটিকে একটি সেলাই মেশিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বন্ধুসভার সদস্যরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে এসব উপহার তুলে দেন।
সাঈদী আল্লাহর ওলি ছিলেন, ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছেন জানেন না মানিকের বোন
ময়মনসিংহ মেডিকেল থেকে অক্সফোর্ড! লন্ডনে চিকিৎসা ও গবেষণায় ডা. ফারাহ দিভা খান
জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন নোয়াখালীর রুবেল
টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ৮০ হাজার টাকা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন দুই কলেজছাত্র। টাকা পাওয়ার পর নিজেরা রেখে না দিয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মালিককে খুঁজে বের করেন তাঁরা। পরে যথাযথ প্রমাণ যাচাই করে পুরো অর্থ তাঁর হাতে তুলে দেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটে। দুই তরুণের এমন সততায় মুগ্ধ এলাকার মানুষ। ওই দুই কলেজছাত্র হলেন আবু রাহাত ও আবু সোহান। তাঁরা দুজনই সখীপুর উপজেলার মহানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পলাশতলী এলাকায় ঘুরতে যাওয়ার সময় বড়চওনা-কালিহাতী সড়কে পড়ে থাকা টাকাগুলো দেখতে পান তাঁরা। টাকা পাওয়ার পর দুজন সিদ্ধান্ত নেন, যেভাবেই হোক প্রকৃত মালিকের কাছে তা ফিরিয়ে দেবেন। এরপর স্থানীয় মসজিদের মাইকে টাকা পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে মালিকের সন্ধান শুরু করেন। এদিকে হারানো ৮০ হাজার টাকার মালিক আজিজুল কালিহাতী উপজেলার সরিষাআটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ বা বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। টাকা হারিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও টাকা না পেয়ে কালিহাতী ও সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং শুরু করেন। একদিকে দুই বন্ধু টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজছিলেন, অন্যদিকে নিজের হারানো অর্থের সন্ধানে ছিলেন আজিজুল। একপর্যায়ে দুই বন্ধুর কাছে টাকা পাওয়ার খবর পৌঁছায় আজিজুলের কাছে। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, টাকাগুলোর প্রকৃত মালিক তিনিই। রোববার দুপুরে মহানন্দপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আজিজুলের হাতে পুরো ৮০ হাজার টাকা তুলে দেন রাহাত ও সোহান। টাকা ফেরত দেওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও উপস্থিত ছিলেন। হারানো অর্থ ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন আজিজুল। তিনি জানান, টাকা হারিয়ে তিনি এতটাই দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন যে একপর্যায়ে ফেরত পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই কলেজছাত্রের উদ্যোগে পুরো টাকা ফেরত পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। রাহাত ও সোহানের সততায় মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে দুই বন্ধুর এমন উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁদের মতে, বিপুল পরিমাণ টাকা কুড়িয়ে পেয়েও নিজেরা রেখে না দিয়ে মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রকৃত মালিক শনাক্ত করার পর তাঁর হাতে সম্পূর্ণ অর্থ তুলে দেওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই কলেজছাত্রের এই সততা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সূত্র: রাইজিং বিডি. কম
৩ বছরের ব্যবধানে পুকুরের ডুবে একে একে ৩ সন্তানের মৃ'ত্যু দিশেহারা বাবা-মা
পিএসসির সদস্য হলেন জুলাইয়ে শেখ হাসিনার ছবি সরানো জাবি অধ্যাপক শামীমা
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন! গোপনে গার্ড অফ অনার
বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে কোনো পলাতক বা ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি দেশে অস্থিরতা তৈরি করে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সরকার কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করবে না। রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শক্তিগুলো এখনো বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা তাঁর নজরে এসেছে। তবে সরকার ইতিমধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফেরত চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের কাছে একাধিকবার অনুরোধপত্র পাঠিয়েছে। শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, পাহাড়ে কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার পর সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতা এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। পাহাড়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি পুলিশের এক কর্মকর্তার বাসায় অভিযান চালিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে কারও পদবি বা পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। আইনের চোখে সবাই সমান এবং আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, একটি চক্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টায় সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তির তৎপরতা, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ, পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আসন্ন নির্বাচনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তবে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে নির্দিষ্ট কোনো নতুন মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এই বক্তব্যে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তাঁর অভিযোগগুলোকে সরকারের অবস্থান হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর, ছয় প্রশ্নের জবাব চেয়ে চিঠি ঢাকার
ফেসবুক পোস্টের বিরোধে প্রাণ গেল বৃদ্ধের! কমলনগরে যুবকের ঘুষিতে মৃ ত্যুর অভিযোগ