দুর্ঘটনা

মৃত্যুর খবর শুনেই ছুটে গেলেন ডিউটিরত পুলিশ, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলেন নিথর দেহটি নিজের সন্তানের I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মৃত্যুর খবর শুনেই ছুটে গেলেন ডিউটিরত পুলিশ, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলেন নিথর দেহটি নিজের সন্তানের

কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে হতবাক হয়ে গেছেন দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি আবিষ্কার করেন, রাস্তায় পড়ে থাকা নিথর দেহটি তারই দশ বছর বয়সী আদরের সন্তান তুহিন আবদুল ওয়াহেদের। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে শহরের গাইটাল এলাকায় অবস্থিত আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত তুহিন ওই বিদ্যালয়েরই চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কনস্টেবল সামসুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্কুলের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক শিশু তুহিনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সদর মডেল থানা থেকে কনস্টেবল সামসুল পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে, সেখানে তার নিজের ছেলেরই লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলের নিথর দেহ দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় সেখানে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে উপস্থিত সহকর্মী পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা শোকাহত এই পিতাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।   কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কনস্টেবল সামসুল তাদের থানার একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল সদস্য। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজেই সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন এবং গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহ দেখতে পান। ওসি আরও জানান, প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকটিকে ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ছবি
জাপানে ১২ তলা থেকে পথচারী নারীর ওপর পড়লেন যুবক: নারীর মৃত্যু, জীবিত যুবক

জাপানের নাগোয়া শহরে একটি ১২ তলা আবাসিক ভবন থেকে এক যুবক নিচে পড়ে এক নারী পথচারীর ওপর আছড়ে পড়ার ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ওপর থেকে পড়া ২৯ বছর বয়সী যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে ওই যুবক ভবন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা—উভয় দিক থেকেই তদন্ত চলছে।   জাপানি গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জুলাই) রাত প্রায় ১টার দিকে নাগোয়া শহরের সাকায়ে এলাকার ইয়াবাচো স্টেশনের কাছে ঘটনাটি ঘটে। নিহত তরুণী হৌরা ইনাবা (২৩) এক বন্ধুর সঙ্গে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় শিনসেই তাগুচি (২৯) নামের এক ব্যক্তি ১২ তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে সরাসরি তাঁর ওপর আছড়ে পড়েন।   ঘটনার পর ইনাবার সঙ্গে থাকা বন্ধু জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, একজন ব্যক্তি ওপর থেকে পড়ে তাঁর বন্ধুকে গুরুতর আহত করেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত শকে (হেমোরেজিক শক) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইনাবার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে তাগুচি এখনো অচেতন এবং তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   আইচি প্রিফেকচার পুলিশ জানিয়েছে, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি তাগুচি দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তিনি ভবনের ঠিক কোন তলা থেকে পড়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি।   দুর্ঘটনাস্থলটি নাগোয়া শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা, যেখানে অফিস, আবাসিক ভবন, দোকানপাট এবং বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। গভীর রাত হলেও এলাকায় পথচারীদের চলাচল ছিল। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।   জাপানে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ইয়োকোহামায় একটি ভবন থেকে পড়ে এক স্কুলছাত্রী নিচে থাকা এক নারী পথচারীর ওপর পড়লে ওই পথচারীর মৃত্যু হয়। এর আগে ২০২০ সালে ওসাকায়ও বহুতল ভবন থেকে ঝাঁপ দেওয়া এক কিশোরের সঙ্গে নিচে থাকা এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাসাচুসেটসের ডেভিস স্টেশনে এসকেলেটর দুর্ঘটনায় নিহত স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এসকেলেটরে আটকে দুই সন্তানের বাবার মৃত্যু, পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও কেউ সাহায্য করেনি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরের শুরুতে একটি সাবওয়ে স্টেশনের এসকেলেটরে আটকে দুই সন্তানের এক বাবার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল পরীক্ষকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসকেলেটরে পড়ে যাওয়ার পর তার পোশাক গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ হয়। দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের অভাবে তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই আঘাতই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   ম্যাসাচুসেটস অফিস অব দ্য মেডিকেল এক্সামিনারের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি ৪০ বছর বয়সী স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ম্যাসাচুসেটস বে ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির (এমবিটিএ) ডেভিস স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসকেলেটরে নিচে নামার সময় ম্যাকক্লাসকি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। পরে তার পোশাক এসকেলেটরের যন্ত্রাংশে আটকে গিয়ে গলায় চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে শ্বাসরোধ হয় এবং মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে 'হাইপক্সিক ইস্কেমিক এনসেফালোপ্যাথি' বলা হয়। পাশাপাশি শরীরে ভোঁতা আঘাতও তার মৃত্যুর একটি সহায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে তিনি এসকেলেটর দিয়ে প্ল্যাটফর্মে নামছিলেন। নিচে পৌঁছানোর পর হঠাৎ পড়ে গিয়ে এসকেলেটরের নিচের অংশে আটকে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি সেখানেই আটকে থাকলেও আশপাশ দিয়ে চলাচলকারী বহু মানুষ তাকে উপেক্ষা করে চলে যান। কেউ কেউ অল্প সময়ের জন্য থামলেও কার্যকর কোনো সহায়তা করেননি।   ভিডিও অনুযায়ী, প্রায় ২২ মিনিট পর এমবিটিএর এক কর্মী ঘটনাটি দেখতে পেয়ে জরুরি 'স্টপ' বোতাম চাপ দিয়ে এসকেলেটর বন্ধ করেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। তখন তার শরীরে কোনো স্পন্দন ছিল না। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ দিন পর তার মৃত্যু হয়।   ঘটনার পর নিহতের বোন শ্যানন ফ্ল্যাহার্টি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, এই ঘটনা মানুষের প্রতি তার বিশ্বাসকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তার ভাষায়, এত মানুষ একজন অসহায় মানুষকে এভাবে উপেক্ষা করে চলে যেতে পারেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ যাই হোক না কেন, একজন মানুষ এত দীর্ঘ সময় অচেতন অবস্থায় সাহায্য না পেয়ে পড়ে থাকবেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   ঘটনার পর এমবিটিএ একে একটি 'মর্মান্তিক দুর্ঘটনা' হিসেবে উল্লেখ করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতিটি এসকেলেটরের ওপর ও নিচে লাল রঙের 'স্টপ' বোতাম থাকে। জরুরি পরিস্থিতিতে যে কেউ ওই বোতাম চাপ দিয়ে এসকেলেটর বন্ধ করতে পারেন। এরপর দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করে জরুরি সেবা ডাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   পরিবারের সদস্যরা জানান, স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি একজন দক্ষ কাঠমিস্ত্রি ছিলেন এবং দুই ছেলের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছেও গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাগমস্থলে জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভূমিকা এবং দ্রুত সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে দুই কিশোরের হাত গুরুতর জখম, তদন্তের দাবি পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের একজনের হাতের একাধিক আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং চিকিৎসকেরা তার হাত রক্ষার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটির পর অবৈধ আতশবাজির উৎস খুঁজে বের করতে পুলিশের প্রতি তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।   দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট ও সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ জুলাই অরেঞ্জ কাউন্টির অ্যানাহাইমে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের একজনের মা মারিয়া এসকালান্তে জানান, তার যমজ ছেলেদের একজন এবং তার এক বন্ধু রাস্তা থেকে পাওয়া একটি অবৈধ আতশবাজিতে আগুন দিলে সেটি মুহূর্তেই তাদের হাতে বিস্ফোরিত হয়।   বিস্ফোরণে তার ছেলের ডান হাতের কয়েকটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তার দুই হাতেই ব্যান্ডেজ করা রয়েছে। মারিয়া এসকালান্তে বলেন, তার ছেলে অন্তত দুই মাস হাসপাতালে থাকতে পারে। চিকিৎসকেরা পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাত বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তবে অবশিষ্ট আঙুলগুলোতে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন না থাকলে কিছু আঙুল কেটে ফেলতে হতে পারে বলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনই কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। প্রথমে তারা দেখবেন অবশিষ্ট আঙুলে পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন রয়েছে কি না। সেটির ওপরই পরবর্তী চিকিৎসা নির্ভর করবে। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা আহত কিশোরের যমজ ভাই পুরো বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখেছেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।   ঘটনার পর মারিয়া এসকালান্তে অ্যানাহাইমের সাউথ মাউন্টেন ভিউ অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাস্থলে ফিরে যান। সেখানে তিনি অবৈধ আতশবাজির বিভিন্ন অংশ খুঁজে পান। এরপর তিনি অ্যানাহাইম পুলিশ বিভাগের প্রতি এই অবৈধ আতশবাজি কোথা থেকে বিক্রি হচ্ছে, তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তার দাবি, অন্য আহত কিশোরের মা তাকে জানিয়েছেন যে প্রতি বছর ওই এলাকায় অবৈধ আতশবাজি বিক্রি হয়। তাই এ বিষয়ে পুলিশকে আরও কঠোর তদন্ত চালানো উচিত।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে আহত অপর কিশোরের দুই হাতও গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির কারণে প্রতিবছরই বহু দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ-এর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, আতশবাজি-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় ওই বছর অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৭১৮ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন এবং আরও ২০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।   এছাড়া সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ায় নিষিদ্ধ আতশবাজির বড় একটি অংশ পাশের নেভাডা অঙ্গরাজ্য থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত বছরও স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে অবৈধ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আতশবাজি বিস্ফোরণে আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পরও ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
বজ্রপাতে প্রাণ হারানো ৮ বছরের শিশু কিন্সলি চিডা। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় হঠাৎ বজ্রপাত, আট বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু!

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সেরেনা এলাকায় বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে আট বছর বয়সী এক শিশু। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঝড় শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল কিন্সলি চিডা (Kinslee Tschida)। দোলনা থেকে নামার ঠিক সেই মুহূর্তেই বজ্রপাত হয়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম People, WGN এবং ABC7 Chicago (WLS)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ইলিনয়ের লাসাল কাউন্টির সেরেনা এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সেদিন সন্ধ্যায় কিন্সলি তার চাচাতো বোনদের সঙ্গে বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলছিল। এ সময় আকাশে ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা দিলে পরিবারের বড়রা শিশুদের ঘরের ভেতরে চলে আসতে বলেন। দূরে বজ্রধ্বনিও শোনা যাচ্ছিল।   কিন্সলির দাদা ক্রিস শেইব স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল WGN-কে বলেন, তার ছেলে কিন্সলি এবং নিজের মেয়েকে দোলনা থেকে নেমে আসতে বলেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা কার্যকর হওয়ার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তার ভাষায়, "কিন্সলি দোলনা থেকে নামছিল। হঠাৎ এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ঘটে গেল। কোনো আগাম সংকেত ছিল না। চোখে পড়ার মতো বজ্রপাতও দেখা যায়নি। মুহূর্তেই বজ্রপাত এসে গাছের মাঝখানে আঘাত হানে।"   ঘটনার সময় কিন্সলির পাশে থাকা আরেকটি শিশু অক্ষত থাকে। তবে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় কিন্সলি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তার কাছে ছুটে যান। কিন্সলির মা, যিনি পেশায় একজন নার্স, ঘটনাস্থলেই অন্য স্বজনদের সহায়তায় শিশুটিকে সিপিআর দিতে শুরু করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   নাতনির মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন দাদা ক্রিস শেইব। তিনি বলেন, "জীবনে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হইনি। এই ঘটনা আমাকে বদলে দিয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি।" এদিকে, People জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে লাসাল কাউন্টির করোনার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে লাসাল কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও এ ঘটনায় নতুন কোনো তথ্য দেয়নি।   শিশুটির মৃত্যুর পর পরিবারকে সহায়তা করতে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তহবিল সংগ্রহের আয়োজক সামান্থা ওয়ালেস কিন্সলিকে প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও সবার প্রিয় একটি শিশু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, কিন্সলি গান গাইতে, নাচতে এবং অন্যদের হাসিখুশি রাখতে ভালোবাসত। তার প্রাণখোলা হাসি যে কোনো ঘরকে আনন্দে ভরিয়ে দিতে পারত। ছোট্ট শরীর হলেও তার হৃদয় ছিল অনেক বড়, আর তাকে যারা চিনতেন, তারা সবাই তার ভালোবাসা, উদারতা ও প্রাণচাঞ্চল্যে মুগ্ধ ছিলেন।   বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই খোলা জায়গা, মাঠ, গাছের নিচে কিংবা ধাতব খেলাধুলার সরঞ্জামের কাছ থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। কারণ বজ্রপাত অনেক সময় দৃশ্যমান বিদ্যুৎ চমক দেখা দেওয়ার আগেই আঘাত হানতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি পাথরখাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই বিহার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ তালুকের মাদাপাটনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই প্রায় ৪০ ফুট ওপর থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক পাথরের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অন্য কেউ আটকা পড়ে আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।   ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শ্রমিক জানান, দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আচমকা ওপর থেকে বড় পাথর ভেঙে পড়ায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন চাপা পড়ে যান। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকরা সবাই বিহারের বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিকার সন্ধানে কর্ণাটকে এসেছিলেন এবং ওই পাথরখাদানে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকেরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন।   দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাথরখাদানে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা, অথবা কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্মাণকাজ, খনি ও পাথরখাদানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। বেঙ্গালুরুর এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
রাজস্থানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আগুন
রাজস্থানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আগুন, নিহত অন্তত ৭; আহত ২২

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের দৌসা জেলার কাছে দিল্লি-মুম্বাই মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয়নবাসে আগুন লেগে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।   মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে চলা বাসটি একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পরপরই উভয় যানবাহনে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করলে বাসের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাসটি উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দৌসার কাছে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   দুর্ঘটনার পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতায় কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলের দৃশ্য থেকে দেখা গেছে, আগুনে বাস ও ট্রাক—দুটি যানই প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।   স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। বাকি দুজনের মৃত্যু হয়েছে মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে। দুর্ঘটনার সময় বাসের ওপরের শয্যায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নিচে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নিহতদের অনেকেই তখন ঘুমিয়ে ছিলেন।   আহতদের দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসচালক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন অথবা বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। এই দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি বাসটির কারিগরি অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দুর্ঘটনার পর দমকল ও উদ্ধারকারী দলের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলে আরও প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারত। অনেকের ভাষ্য, আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসে আটকে থাকা যাত্রীদের বের করা হয়।   স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও জানিয়েছেন, বাসটির মালামাল রাখার অংশে বিপুল পরিমাণ সিগারেটের প্যাকেট ছিল, যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।   রাজস্থান প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ চলছে। আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বড় সড়ক দুর্ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত গতি, চালকদের দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালানো এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দৌসার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোর সৈকতে কুমিরের হামলায় যুবকের মৃত্যু, সামনে এলো নতুন ভিডিও

মেক্সিকোর জনপ্রিয় পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভালার্তার একটি সমুদ্রসৈকতে কুমিরের হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে হামলার পর একটি বিশাল কুমিরকে সৈকতের কাছে মুখ হা করে থাকতে দেখা যায়।   জালিসকো অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি মেক্সিকোর নাগরিক। কাজের সূত্রে তিনি পুয়ের্তো ভালার্তায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেরিনা ভালার্তা সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ঘটনার সময় কাছের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা পর্যটক জেমি ইয়েটার, তার বাগদত্তা ক্রিস বুরি এবং ইয়েটারের কিশোরী মেয়ে।   জেমি ইয়েটার জানান, হোটেলের সুইমিংপুলের পাশে বসে থাকার সময় তারা সৈকতের দিক থেকে চিৎকার শুনতে পান। প্রথমে তাদের ধারণা হয়েছিল, একজন ব্যক্তি সমুদ্রের প্রবল স্রোতে আটকা পড়েছেন।   তিনি বলেন, তার বাগদত্তা ক্রিস বুরি দ্রুত সৈকতের দিকে ছুটে গিয়ে বৈঠাবিহীন একটি কায়াকে উঠে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।   ক্রিস বুরি বলেন, সৈকতে উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম ছিল না। তারা যা সম্ভব হয়েছে, তা দিয়েই সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি কায়াকে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুমিরটি ওই ব্যক্তিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।তাদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও ওই যুবককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   ঘটনার পর জেমি ইয়েটার অভিযোগ করেন, সৈকতে কুমিরের ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যটকদের যথাযথভাবে সতর্ক করা হয়নি। তিনি বলেন, সৈকতের পাশে জেলিফিশ, স্টিংরে মাছ ও কুমিরের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতামূলক চিহ্ন ছিল। তবে তারা কুমিরের প্রতীকটিকে প্রথমে ইগুয়ানার ছবি বলে ভুল করেছিলেন।   তার দাবি, কেউ তাদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করেননি। এমনকি পরদিন সকালেও সৈকতটি খোলা ছিল এবং সেখানে সাঁতার কাটতে মানুষকে দেখা গেছে। সৈকত বন্ধ ছিল না, কিংবা কোথাও সাঁতার নিষিদ্ধের কোনো সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি।   ঘটনার পরও শনিবার সকালে একই সৈকতে বহু মানুষকে সমুদ্রে নামতে দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই সেখানে সাঁতার কাটছিলেন।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রেস্তোরাঁয় গাছ ভেঙে বাবার মৃত্যু, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে পরিবারের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে একটি বারবিকিউ রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় গাছ ভেঙে চাপা পড়ে চার সন্তানের জনক কার্ক ফয়েলের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছে তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গাছটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।   মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে অস্টিনের গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ রেস্তোরাঁর খোলা প্যাটিওতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী কার্ক ফয়েল। এ সময় এলাকায় ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ একটি বড় পেকান গাছ গোড়া থেকে ভেঙে তার ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   মামলায় গাছটিকে ‘উইডো মেকার’ বা প্রাণঘাতী গাছ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও গাছটি পাশের একটি সম্পত্তিতে ছিল, এর বড় অংশ গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর খোলা বসার জায়গার ওপর বিস্তৃত ছিল।   পরিবারের অভিযোগ, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এবং পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অ্যাসপেন হ্যাটারের মালিকরা গাছটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে জানতেন অথবা যথাযথ তদারকি করলে জানতে পারতেন। কিন্তু তারা গাছটি পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ বা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেননি। একই সঙ্গে ক্রেতাদের জন্যও কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।   মামলায় গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকদের বিবাদী করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গাছটি দীর্ঘদিন ধরে পচন, রোগ এবং কাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগছিল। সাধারণ পরিদর্শনেই এর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। তবুও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি।   ট্রাভিস কাউন্টির ডেপুটি মেডিকেল এক্সামিনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাছের বড় ডালের আঘাতে সৃষ্ট গুরুতর আঘাতেই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর দাবি, দুর্ঘটনার রাতে গাছটিতে বজ্রপাত হয়েছিল এবং সেটিই গাছ ভেঙে পড়ার কারণ।   তবে ফয়েলের পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, বজ্রপাত নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই দুর্ঘটনার মূল কারণ। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফয়েলের মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর গাছটি যে সম্পত্তিতে ছিল, সেই সম্পত্তির মালিকরা ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের একটি ডিড অব ট্রাস্টের মাধ্যমে পুনঃঅর্থায়ন সম্পন্ন করেন।   পরিবারের দাবি, বিবাদীরা চরম অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। তাই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু, পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা এবং আইনি ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা ১০ লাখ ডলার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ ও অ্যাসপেন হ্যাটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রসৈকতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্রুজ কাউন্টির একটি সমুদ্রসৈকতে ঢেউয়ের কবলে পড়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   নিহতরা হলেন ২০ বছর বয়সী মাহিয়াল স্রান, যিনি সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন, এবং হর্ষিতা নায়ার, যিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে অধ্যয়ন করতেন। দুজনই সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেজিও-টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে সান্তা ক্রুজ কাউন্টির উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যান তারা। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।   সান্তা ক্রুজ কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ক্যাপ্টেন কাইল ব্রেটন জানান, উদ্ধার অভিযানে আটজন প্রশিক্ষিত সাঁতারু অংশ নেন। এছাড়া তীরবর্তী এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন এবং নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করেন।   উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত দুই শিক্ষার্থীকে সমুদ্র থেকে তীরে নিয়ে আসতে সক্ষম হলেও তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।   ঘটনার পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, তারা হয়তো সৈকতে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং জোয়ারের পানিতে ভেসে যান। তবে পরে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সেই ধারণা ভুল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।   মাহিয়াল স্রানের বাবা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তার মেয়ের ব্যাগ ও মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ শুকনো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ থেকে তার ধারণা, তারা পানির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং হঠাৎ একটি শক্তিশালী ঢেউ এসে তাদের আঘাত করে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যায়।   ক্যাপ্টেন ব্রেটনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার পরিবর্তনশীল জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, পান্থার বিচ ও ইয়েলো ব্যাংক বিচের মাঝখানে একটি সরু পথ রয়েছে, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘কিহোল’ বলা হয়। জোয়ারের পানি বাড়তে শুরু করলে এই পথ দ্রুত অচল হয়ে যায় এবং অনেক দর্শনার্থী বুঝে ওঠার আগেই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে যান।   তিনি জানান, অনেকেই সুন্দর একটি দিন কাটানোর আশায় ওই পথে সৈকতে প্রবেশ করেন। কিন্তু জোয়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ে যান।   কর্তৃপক্ষের ধারণা, তথাকথিত ‘স্নিকার ওয়েভ’ বা হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে তীরে আছড়ে পড়া বড় ঢেউও এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের ঢেউ অনেক সময় কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই আসে এবং মানুষকে সমুদ্রে টেনে নিতে সক্ষম হয়।   হর্ষিতা নায়ারের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের শিক্ষার্থী সমাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদের সভাপতি অ্যাবিগেইল ভেরিনো বলেন, হর্ষিতা ছিলেন অত্যন্ত মানবিক ও সমাজসেবামূলক মানসিকতার একজন মানুষ।   তিনি বলেন, “অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি সবসময় এগিয়ে থাকতেন। বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার বিষয়ে তার গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের চেয়ে বৃহত্তর একটি সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অর্থ সত্যিকারভাবে ধারণ করতেন।”   এদিকে দুর্ঘটনার পর উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি রেখেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সমুদ্রের অস্বাভাবিক ঢেউ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে ‘বিচ হ্যাজার্ড স্টেটমেন্ট’ এখনও কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।   ক্যাপ্টেন ব্রেটন জানান, মাত্র এক মাইল দীর্ঘ এই উপকূলীয় এলাকায় গত এক মাসেই পাঁচটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। অথচ সাধারণত পুরো বছরে এই অঞ্চলে ছয় থেকে আটটি সমুদ্র উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।   কর্তৃপক্ষ সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিশেষ করে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি, আবহাওয়ার অবস্থা এবং হঠাৎ সৃষ্ট বড় ঢেউয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সামান্য অসতর্কতাও কখনো কখনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কের পার্কে গাছ ভেঙে পড়ে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার ফরেস্ট পার্কে গাছ ভেঙে পড়ে ৮৫ বছর বয়সী এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতের এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক শোকের ছায়া ফেলেছে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার পরপরই ৯১১ নম্বরে একটি জরুরি কল পেয়ে পুলিশ ফরেস্ট পার্কে ছুটে যায়। সেখানে তারা ওই বৃদ্ধকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরবর্তীতে জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।   শনিবার রাতে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে পার্কের বেশ কয়েকটি গাছ শিকড়সহ উপড়ে যায়। তবে এই দুর্ভাগ্যজনক প্রাণহানির ঘটনাটি সরাসরি সেই ঝড়ের কারণেই ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে বর্তমানে পুলিশের একটি তদন্ত চলমান রয়েছে।   নিউইয়র্কে বৈরী আবহাওয়ায় গাছ উপড়ে পড়ে হতাহতের এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মেমোরিয়াল ডে-তে ব্রঙ্কসের মাউন্ট হোপ এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে ৪৯ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছিলেন, যার জন্য ভেজা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে দায়ী করেছিল পুলিশ। গত ফেব্রুয়ারিতে উইন্টার স্টর্ম হারনান্ডোর তাণ্ডবের সময় ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় একটি গাছ উপড়ে পড়লে অল্পের জন্য রক্ষা পান এক শিশু ও এক সন্ন্যাসিনী।   এছাড়া গত বছর আপস্টেট নিউইয়র্কের ক্লার্ক মিলস এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ইএফ-১ মাত্রার টর্নেডোর সময় ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এমিলি ও কেনি বিসন নামের ছয় বছর বয়সী দুই যমজ বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি
দুর্ঘটনা ও সংঘর্ষে ইসরাইলি সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি, আহত ১০

দক্ষিণ লেবাননে একটি সামরিক যান দুর্ঘটনায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর এক রিজার্ভ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে পৃথক সংঘর্ষে আরও ১০ জন ইসরাইলি সেনা আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আইডিএফ।   ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত সেনা সার্জেন্ট মেজর (রিজার্ভ) আয়াল ইউরিয়েল বিয়ানকো (৩০) ১৮৮তম সাঁজোয়া ব্রিগেডে দায়িত্ব পালন করতেন। রোববার রাতে দক্ষিণ লেবাননে একটি হামভি যান উল্টে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত তিনজনের মধ্যে একজনের অবস্থা মাঝারি এবং অন্য দুজন সামান্য আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   অন্যদিকে, লেবাননের বিন্ত জেবেইল এলাকায় হিজবুল্লাহর সশস্ত্র সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে আইডিএফের প্যারাট্রুপার ইউনিটের ১০ জন সেনা আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর, একজন মাঝারি এবং বাকিরা তুলনামূলক কম আহত বলে জানানো হয়েছে।   আইডিএফের দাবি, পাল্টা হামলায় হিজবুল্লাহর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া একই এলাকায় আরেক ঘটনায় সংগঠনটির একাধিক সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে বলেও জানানো হয়েছে।   এদিকে সামরিক অভিযানের সময় আইডিএফের একটি সাঁজোয়া ইউনিটের এক কমান্ডার গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   সংঘর্ষের মধ্যে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে, যদিও এতে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পাল্টা হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে আইডিএফ। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে অস্ত্রভাণ্ডার, রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে।   সামরিক তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনীও হাজারো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানায় আইডিএফ।   বর্তমানে বিন্ত জেবেইল অঞ্চল ঘিরে অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। অতীতে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় দখল নিতে ব্যর্থ হওয়ার ইতিহাস থাকলেও এবার তারা অগ্রগতি অর্জনের দাবি করছে।   একই সঙ্গে আঞ্চলিক কূটনীতিতেও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত থাকলেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সমঝোতা হয়নি।   লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে আইডিএফ দাবি করছে, তাদের অভিযানে বিপুল সংখ্যক হিজবুল্লাহ সদস্য নিহত হয়েছে।   সামগ্রিকভাবে, চলমান সংঘাত দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরাইলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হাইতির ঐতিহাসিক দুর্গে পদদলিত হয়ে নিহত অন্তত ৩০

হাইতির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিটাডেল লাফেরিয়েরে মর্মান্তিক পদদলিতের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইস্টার উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে শনিবার (১১ এপ্রিল) এই দুর্ঘটনা ঘটে।   হাইতির নর্ড বিভাগের সিভিল প্রোটেকশনের প্রধান জেন হেনরি পিটিট জানান, বার্ষিক এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ায় হঠাৎ করে পদদলিতের ঘটনা ঘটে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-অ্যামি গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, মিলো শহরের ওই স্থানে বহু তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে একটি পর্যটন অনুষ্ঠানের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে মোতায়েন করা হয়েছে।   স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গটির প্রতিষ্ঠা স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী উপস্থিত হয়। প্রবেশপথের কাছে হঠাৎ ভিড়ের চাপ তৈরি হলে পদদলিতের ঘটনা শুরু হয়। এ সময় আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।   স্থানীয় একটি পত্রিকার বরাতে সিভিল প্রোটেকশন জানায়, ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। তবে সরকারি বিবৃতিতে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।   ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পরপরই নির্মিত এই ঐতিহাসিক দুর্গটি দেশটির স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বিপ্লবী নেতা অঁরি ক্রিস্তফ এটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
নিউইয়র্কের সড়কে ঝরল চার প্রাণ: বাবা-ছেলের মৃত্যুতে স্তব্ধ প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটি

এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল একটি সাজানো গোছানো পরিবার। সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৭টা; কলাম্বিয়া কাউন্টির ক্ল্যাভারাক এলাকায় স্টেট রুট ৯এইচ-এ যখন টয়োটা প্রিয়াস ও টয়োটা ক্রাউনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এই যাত্রাটিই হবে তাদের শেষ যাত্রা। ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি থেকে আলবানির দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক নাজমুল রুবেল, তার ৬০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী পারিবারিক বন্ধু ফাহিম হালিম। অন্য গাড়ির আরোহী জুলিয়া রিচি (৬২) নামের এক নারীও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গাড়িতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তার বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল থাকলেও, সবার চোখ এখন মাত্র এক বছর বয়সী শিশু ইকরা আয়াতের দিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আইসিইউতে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে নিষ্পাপ এই শিশুটির। পরিবারের ছোট ছেলে মোহাম্মদ আজমুল রাব্বি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, একটি ফোন কলেই তাদের পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেছে। এই শোক সহ্য করার মতো শক্তি তাদের নেই। কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। নিহতদের জানাজা আগামী ৮ এপ্রিল বুধবার জোহরের নামাজের পর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
কেরাণীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, পাঁচ মরদেহ উদ্ধার

ঢাকার কেরাণীগঞ্জে একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও কারখানাটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শনিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে কেরাণীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকার একটি টিনশেড কারখানায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।  ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর কারখানার ভেতর থেকে একে একে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে নিহদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।  ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কারখানার ভেতরে আর কেউ আটকে আছে কি না তা দেখতে এখনো তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০
শাহ আলম ভুঁইয়া
আমিরাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কুমিল্লার প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত কুমিল্লার সন্তান শাহ আলম ভুঁইয়া (৫০)। বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় দেশটির দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় আকাশ থেকে পড়া একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত শাহ আলম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের হানিফ ভুঁইয়ার মেজো ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় যখন বিপদসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছিলেন। শাহ আলম সে সময় নিজের কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন।  দুর্ভাগ্যবশত, একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা ড্রোনের অংশবিশেষ সরাসরি তার ওপর এসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। স্থানীয়দের ধারণা, ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট বা ধ্বংস করার পর এর অবশিষ্টাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসে পড়েছিল। বর্তমানে নিহতের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া পরিবার ও গ্রামবাসী সরকারের কাছে দ্রুত মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্রাইমিয়ায় রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ২৯ আরোহীর মৃত্যু

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর একটি পরিবহন বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ক্রাইমিয়ার রাজধানী সিমফেরোপোলের নিকটবর্তী পাহাড়ি বনাঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে এতে থাকা ২৯ জন আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত এএন-২৬ (An-26) মডেলের বিমানটিতে ৬ জন ক্রু এবং ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউকেই জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রের বাখচিসারাই জেলার কুইবিশেভো গ্রামের কাছে বিমানটি উড্ডয়নরত অবস্থায় বিধ্বস্ত হয়।  যদিও তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি ভূপাতিত হলো সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে এবং ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পটিয়ায় ওয়েল্ডিংয়ের স্ফুলিঙ্গে তুলার গুদামে ভয়াবহ আগুন

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় ওয়েল্ডিংয়ের স্ফুলিঙ্গ থেকে তুলার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খরনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মসজিদের পাশেই অবস্থিত তুলার গুদামের নিকটে একটি ওয়েল্ডিং কারখানায় কাজ চলছিল। এ সময় ওয়েল্ডিংয়ের আগুনের স্ফুলিঙ্গ উড়ে গিয়ে গুদামে মজুত রাখা তুলার ওপর পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। তুলা অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত পুরো গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী মো. কামাল উদ্দিন জানান, “হঠাৎ গুদামের ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আমরা পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করি, কিন্তু আগুন এত দ্রুত বাড়ছিল যে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।”   স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, গুদামে বিপুল পরিমাণ তুলা মজুত ছিল। আগুন লাগার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা পুরোপুরি পুড়ে যায়, ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।   ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রাজেশ বড়ুয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাশের ওয়েল্ডিং কাজের সময় সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তুলা দাহ্য হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।   এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শিল্প ও গুদাম এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দাহ্য পদার্থের গুদামের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ পরিচালনার বিষয়ে সচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
বিহারে মন্দিরে হুড়োহুড়িতে প্রাণ হারালেন ৮ পুণ্যার্থী

ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে রূপ নিল বিষাদে। বিহারের নালন্দা জেলার মাঘরা গ্রামে অবস্থিত শীতলা দেবীর মন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত আটজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১২ জন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৈত্র মাসের শেষ মঙ্গলবার হওয়ায় অত্যন্ত পুণ্যলগ্ন মনে করে শীতলা দেবীর মন্দিরে উপচে পড়া ভিড় ছিল। নালন্দার স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পাটনা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ভক্ত দেবী দর্শনের জন্য মন্দিরে ভিড় জমান।  প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পূজা দেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হলে ভিড়ের চাপে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এবং পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় মঙ্গলবার মন্দিরে ভক্তদের চাপ বেশি থাকে, তবে চৈত্র সংক্রান্তির প্রাক্কালে এই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।  বিহার সরকারও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ছবি: সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
দু-একটি দুর্ঘটনা ছাড়া এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী

এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।   রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেড় কোটি মানুষ তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়লেও বড় ধরনের যানজট বা দুর্ভোগ হয়নি। অতীতের তুলনায় এবারের যাত্রা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ছিল।”   মন্ত্রী আরও বলেন, “দুই-তিনটি বড় দুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে। একটি প্রাণহানিও আমরা চাই না। তবুও সামগ্রিকভাবে মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পেরেছে বলে আমরা মনে করি।”   দুর্ঘটনার দায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউকে সরাসরি দায়ী না করলেও তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।   তিনি জানান, রেল দুর্ঘটনার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট গার্ডদের বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন কর্মকর্তাকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।   রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে ওই কোম্পানির সব বাসের রুট পারমিট বাতিলের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হিসেবে সড়ক, নৌ ও রেলপথ মিলিয়ে ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মহাসড়কে ৪৭ জন, নৌপথে ২৮ জন এবং রেলপথে ১৭ জন নিহত হয়েছেন।   তিনি বলেন, “কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। তবে আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা আরও কমাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

Unknown মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের দুটি বড় স্টিল কারখানায় ইসরায়েলের হামলার অভিযোগ
ইরানের দুটি বড় স্টিল কারখানায় ইসরায়েলের হামলার অভিযোগ

ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টিল কারখানায় বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। হামলাগুলো শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে সংঘটিত হয়।   ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, আহভাজের কাছের খুজেস্তান স্টিল এবং ইস্ফাহানের মোবারাখে স্টিল কারখানায় ইসরায়েলের বিমানবাহিনী হামলা চালিয়েছে। উভয় কারখানার আংশিক মালিক ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। হামলার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তারা ইরানে হামলার তীব্রতা আরও বাড়াবেন।   সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০