ওবামার চিজকেক ফ্যাক্টরি মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ,বানালেন পছন্দমত এ আই ভিডিও
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যে নতুন করে বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ নিয়ে ওবামার একটি রসিকতার জবাবে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা পাল্টা মন্তব্য করেছেন। একই সময়ে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা, এআইনির্ভর কনটেন্ট এবং ওবামার সঙ্গে চলমান বাক্বিতণ্ডার বিষয়টি তুলে ধরেছেন লেখক হলি ব্যাক্সটার। প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাছে নিয়মিত তাঁর পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ এবং এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও পৌঁছে দেওয়া হয়। এসব কনটেন্ট তৈরিতে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক বিল পুল্টের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। তবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এসব কনটেন্টের সরাসরি প্রভাব কতটা, তা স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
ট্রাম্প ও ওবামার সাম্প্রতিক বিরোধের সূত্রপাত ওহাইওর একটি নির্বাচনি সমাবেশে। সেখানে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কার নিয়ে ব্যঙ্গ করেন ওবামা। অতিরিক্ত সোনালি সাজসজ্জার সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, হোয়াইট হাউসকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন সাদ্দাম হোসেন একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন। চিজকেক ফ্যাক্টরি যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত রেস্টুরেন্ট চেইন। ওবামার মন্তব্যটি মূলত হোয়াইট হাউসের নতুন সাজসজ্জার ধরনকে ব্যঙ্গ করে করা হয়েছিল।
তবে ওবামার এই রসিকতার সমালোচনা করেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, চিজকেক ফ্যাক্টরির প্রসঙ্গ টেনে ওবামা সাধারণ মানুষের পছন্দের রেস্টুরেন্টকে ছোট করেছেন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, চিজকেক ফ্যাক্টরিতে গেলে তাঁর পছন্দের খাবারের একটি হলো ফ্রেঞ্চ ডিপ চিজবার্গার। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সমর্থকও ওবামার বক্তব্যকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে তাঁর নেতিবাচক মনোভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
এরপর মিসিসিপির একটি নির্বাচনি সমাবেশে ওবামার বক্তব্যের জবাব দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের ভবন, স্তম্ভ ও পাথরের কাঠামো সুন্দর এবং পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। নিজের সংস্কারকাজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ওবামা পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বোঝেন না। তবে হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা নিয়ে দুই নেতার এই মতবিরোধের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার আলোচনা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের বিশ্লেষণে মন্তব্য করা হয়েছে।
পরে আরেক নির্বাচনি সমাবেশে চিজকেক ফ্যাক্টরি নিয়ে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ওবামা। তিনি জানান, দুই মেয়েকে বড় করার সময় প্রায়ই চিজকেক ফ্যাক্টরি এবং চাক ই চিজের মতো রেস্টুরেন্টে যেতেন। প্রায় এক দশক ধরে এসব রেস্টুরেন্ট তাঁর পারিবারিক জীবনের অংশ ছিল বলে মন্তব্য করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের রসিকতাটি রেস্টুরেন্টের খাবার কিংবা সেখানে যাওয়া সাধারণ মানুষকে নিয়ে ছিল না; বরং হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা নিয়ে ছিল।
এদিকে ট্রাম্পের এআই কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় এমন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে বাস্তবে ঘটেনি এমন পরিস্থিতিতে দেখানো হয়েছে। এসবের মধ্যে বাঘের সঙ্গে নাচের মতো কল্পিত দৃশ্যও রয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিও রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বাস্তব ঘটনা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি দৃশ্যের মধ্যে পার্থক্য অনেক সময় সাধারণ দর্শকের কাছে স্পষ্ট নাও হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ ও ইপসোসের একটি জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৭ শতাংশ এআইকে সমাজের জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। একই জরিপে ৬৭ শতাংশ ট্রাম্পের এআই প্রযুক্তি পরিচালনাসংক্রান্ত নীতির প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। অন্যদিকে এপি-এনওআরসির জরিপে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেছেন, এআই প্রযুক্তি খুব দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। তবে এসব জরিপের ফল নির্দিষ্ট সময়ের জনমতের প্রতিফলন; তা দিয়ে সব মার্কিন নাগরিকের অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না।
প্রযুক্তিবিষয়ক এই উদ্বেগের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। এআই ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠ, চেহারা কিংবা বক্তব্য বাস্তবের মতো করে তৈরি করা সম্ভব। ফলে রাজনীতিবিদদের নামে এমন ভিডিও ছড়ানো হতে পারে, যেখানে তাঁরা বাস্তবে বলেননি এমন কথাও শোনা যায়। এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার রাজনৈতিক প্রচারণায় স্বচ্ছতা এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। তবে সব এআইনির্ভর রাজনৈতিক কনটেন্টই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি হয়, এমন নয়। কিছু কনটেন্ট ব্যঙ্গ বা বিনোদনের উদ্দেশ্যেও প্রকাশ করা হয়।
এদিকে নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের কারণে তেল খাতের আয় নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে সাধারণ মানুষের জ্বালানির খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে চাপ রয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনায় এই বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের বাণিজ্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ভোট হবে। প্রেসিডেন্ট নিজে এ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ওবামা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। উভয় পক্ষই অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনের জবাবদিহি ও অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের শেষ সময়ে ট্রাম্প ও ওবামার মধ্যে হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা এবং রেস্টুরেন্ট নিয়ে শুরু হওয়া বাক্বিতণ্ডা এখন বড় রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের এআইনির্ভর রাজনৈতিক কনটেন্ট এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে জনমতের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব বিতর্ক আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলেই কংগ্রেসে দুই দলের প্রতিনিধিত্বের নতুন চিত্র স্পষ্ট হবে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, হলি ব্যাক্সটারের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, রয়টার্স,দ্য গার্ডিয়ান
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ব্লুমিংটনে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির (আইইউ) ক্যাম্পাসের কাছে হোমকামিং উইকএন্ডের এক পার্টিতে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। রোববার রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের মাত্র তিন ব্লক দূরে শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় পার্টি স্পট কার্কউড অ্যাভিনিউতে এই ঘটনা ঘটে। ব্লুমিংটন পুলিশের ডেপুটি চিফ রায়ান পেডিগো জানান, টহলরত পুলিশ সদস্যরা বিপুল ভিড়ের মধ্যে একাধিক গুলির শব্দ পান এবং এক ব্যক্তিকে হাতে বন্দুক নিয়ে দৌড়াতে দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে, গোলাগুলির ঠিক আগেই সেখানে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আকারের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে, যা থেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি একটি বন্দুক উদ্ধার করেছে, তবে তিনিই মূল হামলাকারী কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই মিনেসোটাকে হারিয়ে ইন্ডিয়ানা হুজিয়ার্সের ঐতিহাসিক ফুটবল জয়ের আনন্দ উদযাপনের মাঝেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটল।
ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বামীর হাতে খু ন ভারতীয় তরুণী, আট মাসের শিশুকে বুকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি
টেক্সাসে ভাঙা হাতের থেরাপি দিতে গিয়ে ১৪ বছরের ছাত্রীকে যৌ ন নির্যাতন, স্কুল ট্রেনারের ৫ বছরের কারাদণ্ড
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঘানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, নিউইয়র্কে গুলিতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের জ্যাভিটসের
হ্যালোইন মানেই যেন সুপারমডেল হেইডি ক্লামের নতুন কোনো চমক। প্রতি বছরের মতো এবারও নিউইয়র্কে আয়োজিত নিজের সিগনেচার হ্যালোইন পার্টিতে অবিশ্বাস্য এক রূপ নিয়ে হাজির হয়েছেন 'হ্যালোইনের রানি' খ্যাত এই তারকা। নিজের ২৫তম বার্ষিক হ্যালোইন পার্টিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবার তিনি সেজেছিলেন একটি বিশালাকার 'রক্তাক্ত কাটা হাত'। শনিবার রাতের এই আয়োজনে তার ভয়াবহ অথচ নিখুঁত এই সাজ উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে দেয়। অনুষ্ঠানস্থলে হেইডি ক্লামের আগমনও ছিল বেশ নাটকীয়। লাল রঙের 'বিপজ্জনক' সংকেতযুক্ত একটি ট্রাকে করে তিনি সেখানে পৌঁছান, আর তাকে নামতে সাহায্য করেন হলুদ রঙের হ্যাজমাট স্যুট পরা কয়েকজন অভিনয়শিল্পী। তার এই জটিল পোশাকটিতে একটি রক্তাক্ত কবজি ছিল এবং বিশাল হাতের ঠিক কেন্দ্রস্থলে ছিল তার নিজের মাথা। হাতের আঙুলগুলোতে ছিল আংটি এবং সতেজ ম্যানিকিউর। রেড কার্পেটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লাম জানান, এটি মূলত তার নিজেরই হাতের একটি নিখুঁত প্রতিরূপ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বামী টম কাউলিটজকে সঙ্গে নিয়ে অদ্ভুত সব সাজে হাজির হলেও, এবার তাকে একাই দেখা গেছে। স্পেশাল ইফেক্ট মেকআপ ডিজাইনার এবং 'দ্য পেঙ্গুইন'-এর জন্য এমি জয়ী মাইক মারিনোর সঙ্গে যৌথভাবে এই পোশাকটির নকশা করেছেন তিনি। নিউইয়র্কের মক্সি ইস্ট ভিলেজের ক্যাথেড্রাল রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এবারের আইকনিক অনুষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল অ্যাপোথিক এবং বাটারফিঙ্গার। আগে থেকেই ইনস্টাগ্রামে নিজের এই লুক নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিলেন ক্লাম। এর আগে মেদুসা, ই.টি., ময়ূর, শ্রেকের ফিয়োনা এবং বিখ্যাত সেই 'কেঁচো' সেজে সাড়া জাগানো এই তারকা এবারও প্রমাণ করলেন কেন হ্যালোইনের সাজে তিনিই অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পোশাকটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অ্যাপোথিক ওয়াইনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে 'ব্লাড ব্যাগ' বা রক্তের ব্যাগের আদলে তৈরি বিশেষ পানীয়ও পরিবেশন করা হয় এই পার্টিতে।
বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করল এফবিআই
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিকি মিনাজকে নিয়োগের প্রস্তাবে সায় ট্রাম্পের
ফ্লোরিডায় পুকুরের পানিতে একা চার বছরের শিশু, অবহেলার অভিযোগে মা-বাবা গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মাকে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিতে সম্মত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থী জাভিটস ফ্রিমপংয়ের মা বর্তমানে আফ্রিকার দেশ ঘানায় অবস্থান করছেন। ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে এবং বিদায় জানাতে তাঁকে নিউইয়র্কে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে স্কুলে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয় জাভিটস ফ্রিমপং। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার কিছু আগে এ ঘটনা ঘটে। গুলি তার পেটে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মেয়র জোহরান মামদানি জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তাঁর অনুরোধের পর ট্রাম্প নিহত শিক্ষার্থীর মাকে দ্রুত ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। মামদানি বলেন, সন্তান হত্যার বেদনা কোনো মা-বাবারই সহ্য করার কথা নয়। বিশেষ করে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে এমন খবর পাওয়া আরও কঠিন। জাভিটসের মায়ের নিজের ছেলেকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগ পাওয়া উচিত। মেয়র আরও জানান, এই ঘটনায় পুরো নিউইয়র্ক সিটি শোকাহত। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁর মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ফলে ট্রাম্পের সম্মতির বিষয়টি মেয়র মামদানির বক্তব্যের ভিত্তিতেই জানা গেছে। নিহত জাভিটস ফ্রিমপংয়ের পরিবার মূলত ঘানার বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে বাবার সঙ্গে বসবাস এবং নতুন জীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে সে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। তার বাবা থমাস ফ্রিমপং নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে থাকেন। অন্যদিকে মা ডরিস আদু গিয়ামফি ঘানাতেই অবস্থান করছেন। ছেলের মৃত্যুর পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য ভিসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ব্রঙ্কসের ক্রোটোনা পার্কের কাছে গুলিবিদ্ধ হয় জাভিটস। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। আহত অবস্থায় তাকে সেন্ট বার্নাবাস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। জাভিটসের বাবা থমাস ফ্রিমপং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তাঁর ছেলে স্কুলে অন্য শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হচ্ছিল। স্কুলের প্রিন্সিপাল তাঁকে জানিয়েছিলেন, দুই শিক্ষার্থী জাভিটসকে বিরক্ত করায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ছেলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। তখন জাভিটস বাবাকে জানিয়েছিল, সে ভালো আছে। তবে স্কুলে হয়রানির অভিযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারীরা এখনো হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। ফলে স্কুলে হয়রানির ঘটনাকে হত্যাকাণ্ডের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রঙ্কসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রিচি টরেস। তিনি জানান, জাভিটসের সামনে পুরো জীবন পড়ে ছিল। একটি শিশুর স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ব্রঙ্কসের প্রতিটি শিশুর নিরাপদে স্কুলে যাওয়া এবং বাড়ি ফেরার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। টরেস নিহত শিক্ষার্থীর বাবা থমাস ফ্রিমপংয়ের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে নিউইয়র্কের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ হত্যাকাণ্ডের পর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ব্রঙ্কসে নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশে পরিবারের সদস্য, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। সেখানে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। এদিকে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যাম ওকুদজেতো আবলাকওয়া জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে অবস্থানরত ঘানার কর্মকর্তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নিহত শিক্ষার্থীর মায়ের ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়ায়ও সহায়তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে ঘানা সরকার। ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেয়র মামদানি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে নিহত শিক্ষার্থীর মা ঠিক কবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণব্যবস্থার ওপর তাঁর যাত্রার সময় নির্ভর করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও ভিসা নীতিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের মধ্যেই এই মানবিক উদ্যোগের খবর সামনে এসেছে। তবে মেয়র মামদানির ঘোষণা অনুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থীর মায়ের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এদিকে জাভিটস ফ্রিমপং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ এখনো হামলাকারীদের গ্রেপ্তার কিংবা হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। পরিবারের সদস্যরা একদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রত্যাশা করছেন, অন্যদিকে ছেলেকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে ঘানা থেকে মায়ের নিউইয়র্কে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
জর্জিয়ায় ওয়ালমার্টের নতুন ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে ১ হাজার চাকরির সুযোগ
খেলনা ডাইনোসরের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহে বদলে গেল শিশুর আচরণ, খেলনা ছুড়ে আহত করল দাদাকে