কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি, নিউইয়র্কে সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী
নিউইয়র্কে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের ১৩০টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভর্তি আবেদনের ফি মওকুফ করছে। ফলে যোগ্য শিক্ষার্থীরা আবেদন ফি ছাড়াই পছন্দের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ সালের ‘কলেজ অ্যাপ্লিকেশন ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এ উদ্যোগের আওতায় এবার অক্টোবর ও নভেম্বর—দুই মাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে কর্মসূচিটি মূলত এক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আর্থিক বাধা কমানোই সময় বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উচ্চশিক্ষা সেবা করপোরেশনের নেতৃত্বে সানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক, অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে। এ বছর নিউইয়র্কের ৭০০টিরও বেশি উচ্চবিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি এসেছে সানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা থেকে। ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিনা আবেদন ফিতে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম চলবে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত।
এই সময়ের মধ্যে একজন যোগ্য শিক্ষার্থী সানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পাঁচটি ক্যাম্পাসে বিনা আবেদন ফিতে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদন করার জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমটি হলো সানির নিজস্ব আবেদন পদ্ধতি এবং দ্বিতীয়টি হলো কমন অ্যাপ। সানির নিজস্ব পদ্ধতিতে আবেদন করলে প্রথম পাঁচটি ক্যাম্পাসের আবেদন ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ হবে। কমন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রতিটি ক্যাম্পাসের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে এবং ফি মওকুফের প্রশ্নে সম্মতিসূচক উত্তর দিতে হবে।
নিউইয়র্কের আরেকটি বড় সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কেও আবেদন ফি ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।নিউইয়র্ক সিটির সরকারি বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ অক্টোবর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত।
অর্থাৎ সানি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সিটি ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করার সুযোগ আরও দুই সপ্তাহ থাকবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে একাধিক কলেজে আবেদন করতে দ্বিধায় থাকেন, তাঁদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—
নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের।পরিবারের মধ্যে প্রথমবার কলেজে পড়তে যাচ্ছেন এমন শিক্ষার্থীদের।
উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী নিউইয়র্কের উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের।
আর্থিক বাধার কারণে কলেজে আবেদন করতে পিছিয়ে থাকা তরুণদের।
তবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী কিংবা নিউইয়র্কের বাইরে বসবাসকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। তাঁদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক ভর্তি ও আবেদন ফি মওকুফের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreনিউইয়র্কে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের ১৩০টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভর্তি আবেদনের ফি মওকুফ করছে। ফলে যোগ্য শিক্ষার্থীরা আবেদন ফি ছাড়াই পছন্দের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ সালের ‘কলেজ অ্যাপ্লিকেশন ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এ উদ্যোগের আওতায় এবার অক্টোবর ও নভেম্বর—দুই মাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে কর্মসূচিটি মূলত এক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আর্থিক বাধা কমানোই সময় বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উচ্চশিক্ষা সেবা করপোরেশনের নেতৃত্বে সানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক, অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে। এ বছর নিউইয়র্কের ৭০০টিরও বেশি উচ্চবিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি এসেছে সানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা থেকে। ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিনা আবেদন ফিতে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম চলবে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে একজন যোগ্য শিক্ষার্থী সানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পাঁচটি ক্যাম্পাসে বিনা আবেদন ফিতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমটি হলো সানির নিজস্ব আবেদন পদ্ধতি এবং দ্বিতীয়টি হলো কমন অ্যাপ। সানির নিজস্ব পদ্ধতিতে আবেদন করলে প্রথম পাঁচটি ক্যাম্পাসের আবেদন ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ হবে। কমন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রতিটি ক্যাম্পাসের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে এবং ফি মওকুফের প্রশ্নে সম্মতিসূচক উত্তর দিতে হবে। নিউইয়র্কের আরেকটি বড় সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কেও আবেদন ফি ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।নিউইয়র্ক সিটির সরকারি বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ অক্টোবর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ সানি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সিটি ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করার সুযোগ আরও দুই সপ্তাহ থাকবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে একাধিক কলেজে আবেদন করতে দ্বিধায় থাকেন, তাঁদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে— নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের।পরিবারের মধ্যে প্রথমবার কলেজে পড়তে যাচ্ছেন এমন শিক্ষার্থীদের। উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী নিউইয়র্কের উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের। আর্থিক বাধার কারণে কলেজে আবেদন করতে পিছিয়ে থাকা তরুণদের। তবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী কিংবা নিউইয়র্কের বাইরে বসবাসকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। তাঁদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক ভর্তি ও আবেদন ফি মওকুফের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েট ভিসায় বড় পরিবর্তন, নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন দুই বছর থাকার সুযোগ
পিএইচডি ও দুই মাস্টার্স ডিগ্রির পরও ৪১ বছর বয়সে এমবিএ করছেন ইন্টেলের কর্মকর্তা! লক্ষ্য এআইে দক্ষতা
কানাডার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে লাগে না ফি! জেনে নিন সম্পূর্ণ তালিকা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচিতে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আবারও যুক্ত হচ্ছে যুক্তরাজ্য। এ কর্মসূচির আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ ও কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেতে আগামী নভেম্বর থেকেই আবেদন শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার শিক্ষার্থী, শিক্ষানবিশ, স্কুলশিক্ষার্থী, প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এ সুযোগের আওতায় আসবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সরকারের পক্ষ থেকে ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্যের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার জানান, আবেদনপ্রক্রিয়া নভেম্বরেই শুরু হবে। এ সুযোগ কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এতে অংশ নিতে পারবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা বিদেশে কাজের প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। শিক্ষানবিশরা ইউরোপীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শেখার সুযোগ পাবেন। স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে আন্তর্জাতিক বিনিময় কার্যক্রমে। এ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া প্রশিক্ষকদের জন্যও থাকবে অংশগ্রহণের সুযোগ। শিক্ষা খাতের কর্মীরা বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের কাজের পদ্ধতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন। ব্রিটিশ সরকারের আগের হিসাব অনুযায়ী, কর্মসূচিটি পুনরায় চালু হলে প্রথম বছরেই যুক্তরাজ্যে এক লাখের বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারেন। বিশেষ করে আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ইরাসমাস প্লাসে অংশ নিতে শিক্ষার্থী বা ব্যক্তিকে সরাসরি অর্থায়নের আবেদন করতে হবে না। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল কিংবা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার খরচ, কোর্স ফি, ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত ব্যয় এবং ভাষা শেখার খরচে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে অর্থায়নের পরিমাণ ও যোগ্যতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়মের ওপর। ব্রেক্সিটের কারণে ২০২০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের চুক্তির অধীনে যুক্তরাজ্য ইরাসমাস প্লাস থেকে বেরিয়ে যায়। সে সময় সরকার কর্মসূচিটিকে অর্থের যথাযথ ব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করছে না বলে যুক্তি দিয়েছিল। পরে এর বিকল্প হিসেবে চালু করা হয় টুরিং স্কিম। ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইরাসমাস প্লাসে ফেরার বিষয়ে সমঝোতা করে। ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি চূড়ান্ত করে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত আর্থিক অবদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ৩০ শতাংশ ছাড়ও পেয়েছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় লেবার পার্টির এমপি রোজেনা অ্যালিন-খান বলেন, ব্রেক্সিটের পর তরুণেরা বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। সরকারের আশা, ইরাসমাস প্লাস পুনরায় চালুর ফলে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াতে পারবেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্যে এসে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ ও বিনিময় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও বাড়বে। আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়া সম্ভব। তবে ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি আবেদন করার পরিবর্তে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে যোগ্যতা, অর্থায়ন এবং আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।
কম খরচে ভালো শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ, আমেরিকার সেরা কলেজ শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ
৫ কোটি টাকার ফেলোশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশফাকুর
এইচএসসিতে জিপিএ ২.৯৩ পেয়েও ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির অফার পেলেন রায়হান
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেন মেডেল পেয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় পদার্থবিদ হিসেবে এই সম্মান পেলেন। বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেস বা আইসিটিএস ২২ অক্টোবর এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি আইসিটিএস ইনফোসিস মাধব চেয়ার অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। সুইডিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অস্কার ক্লেনের স্মরণে এই পদক দেওয়া হয়। স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় ও রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল কমিটি যৌথভাবে এই সম্মান প্রদান করে। ১৯৮৮ সালে শুরু হওয়া এই আয়োজনের প্রথম তিন বছরের পদকপ্রাপক ছিলেন চেন নিং ইয়াং, স্টিভেন ওয়াইনবার্গ ও হান্স বেথে। স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, স্টিফেন হকিং ২০০৩ সালে এবং পিটার হিগস ২০০৯ সালে এই সম্মান পেয়েছিলেন। আগের প্রাপকদের মধ্যে এডওয়ার্ড উইটেন, ডেভিড গ্রস, কিপ থর্ন ও রজার কারের নামও রয়েছে। প্রতি বছর একজন বিশিষ্ট গবেষককে অস্কার ক্লেন স্মারক বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তাঁকে ক্লেন মেডেল দেওয়া হয়। অশোক সেনের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র স্ট্রিং থিওরি। আইসিটিএস জানিয়েছে, এস ডুয়ালিটি, কৃষ্ণগহ্বরের এনট্রপির নির্ভুল গণনা এবং স্ট্রিং ফিল্ড থিওরিতে তাঁর গবেষণা আধুনিক স্ট্রিং থিওরির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই তত্ত্বের বিভিন্ন রূপের পেছনে একটি অভিন্ন কাঠামো রয়েছে, সেই ধারণা প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর কাজ উল্লেখযোগ্য। পদক প্রদান উপলক্ষে ২২ অক্টোবর স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবানোভা সেন্টারে স্মারক বক্তৃতা দেন অশোক সেন। বক্তৃতার বিষয় ছিল স্ট্রিং থেকে মহাকর্ষ এবং মহাকর্ষ থেকে স্ট্রিং। আয়োজকদের প্রকাশিত সারসংক্ষেপে বলা হয়, স্ট্রিং থিওরি কীভাবে মহাকর্ষের একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কোয়ান্টাম তত্ত্বের পথ দেখায় এবং কৃষ্ণগহ্বরের বৈশিষ্ট্য বোঝাতে কী ভূমিকা রাখে, তা ছিল আলোচনার বিষয়। একই সঙ্গে পরীক্ষায় যাচাইযোগ্য সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে তত্ত্বটির সীমাবদ্ধতাও আলোচনায় রাখা হয়। এর আগেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন অশোক সেন। ২০১২ সালে তিনি ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স এবং ২০১৪ সালে ডিরাক মেডেল পান। ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মশ্রী পান ২০০১ সালে, পদ্মভূষণ ২০১৩ সালে। ১৯৯৮ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
বিনা টিউশন ফিতে সুইডেনে মাস্টার্স, সঙ্গে মাসে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ভাতা!
বিদেশে উচ্চশিক্ষা: অধ্যাপককে ইমেইল পাঠানোর আগে জানতে ও যাচাই করতে হবে ১০ বিষয়