- প্রচ্ছদ
- Topic
মর্টগেজ
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের জন্য জীবনের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সঠিক পরামর্শের অভাবে অনেক ক্রেতাই এমন কিছু ভুল করেন, যা মর্টগেজ অনুমোদন থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের আর্থিক স্থিতিশীলতা পর্যন্ত নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও, মর্টগেজ লোন কর্মকর্তা এবং আটলান্টার কমিউনিটি নেতা মাহবুবুর ভূঁইয়া মনে করেন, এসব ভুলের বেশিরভাগই এড়ানো সম্ভব, যদি শুরু থেকেই সঠিক পরিকল্পনা ও পেশাদার পরামর্শ নেওয়া হয়। ভিডিওতে দেখুনঃ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে যেসব ভুল এড়াতে বলছেন মাহবুবুর ভূঁইয়া মাহবুবুর ভূঁইয়া বলেন, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব কিংবা আত্মীয়স্বজনের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তার ভাষায়, অনেকেই এমন ব্যক্তির পরামর্শ অনুসরণ করেন, যিনি হয়তো কয়েক বছর আগে বাড়ি কিনেছেন। কিন্তু সেই সময়ের মর্টগেজ নীতিমালা, সুদের হার এবং আবাসন বাজারের বাস্তবতা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে। তিনি বলেন, একজন অভিজ্ঞ লোন অফিসার বা মর্টগেজ কনসালট্যান্টের সঙ্গে শুরুতেই পরামর্শ করলে একজন ক্রেতা তার আর্থিক অবস্থা, ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে পারেন। এতে পরবর্তী সময়ে অপ্রয়োজনীয় জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও সতর্ক করেছেন মাহবুবুর ভূঁইয়া। তিনি বলেন, অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার উদ্দেশ্যে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেন। কিন্তু মর্টগেজ প্রক্রিয়ায় অর্থের উৎস যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই কখন, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে আগে থেকেই লোন অফিসারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ হয় এবং অপ্রত্যাশিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। বাড়ি কেনার সময় দরকষাকষি বা নেগোশিয়েশনের ক্ষেত্রেও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, অনেক ক্রেতা পছন্দের বাড়ি দেখে বাজেটের সীমা ভুলে যান এবং সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের মাসিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা। মাহবুবুর ভূঁইয়া বলেন, একজন ক্রেতাকে আগে থেকেই হিসাব করতে হবে তিনি প্রতি মাসে কত ডলার মর্টগেজ পরিশোধ করতে পারবেন। শুধুমাত্র পছন্দের বাড়ি পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ নেওয়া ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যে যদি মাসিক কিস্তি পরিশোধ কঠিন হয়ে যায়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাড়ি কেনা শুধু একটি সম্পত্তি কেনা নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতা। তাই পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে অভিজ্ঞ লোন অফিসার, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের পরামর্শ নিয়ে এগোনোই সবচেয়ে নিরাপদ ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সুদের হার, ঋণের শর্ত এবং নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। ফলে অতীতের অভিজ্ঞতার চেয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন হোমবায়ারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও মাহবুবুর ভূঁইয়া।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও সুদের হার বাড়তে থাকায় নতুন বাড়ি কেনার আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—মাসিক মর্টগেজের কিস্তি কত হলে একজন ক্রেতার আর্থিকভাবে নিরাপদ থাকা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাড়ির দাম নয়, আয়, ঋণ, সুদের হার এবং অন্যান্য খরচ বিবেচনা করেই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্রেতাই বাড়ির মোট দামের দিকে বেশি মনোযোগ দেন, কিন্তু প্রকৃত চাপ আসে মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট, সম্পত্তি কর, বাড়ির বীমা এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ থেকে। সাধারণভাবে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, একজন ব্যক্তির মাসিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশের বেশি আবাসন খাতে ব্যয় করা উচিত নয়। আয় ও ঋণের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে বাড়ি কেনার পর আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। মর্টগেজ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতারা বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হার এবং ঋণের মেয়াদ অনুযায়ী প্রতি মাসে কত টাকা দিতে হবে তা আগে থেকেই হিসাব করতে পারেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সুদের হার বাড়লে একই দামের বাড়ির জন্যও মাসিক কিস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফলে অনেক ক্রেতাকে আগের তুলনায় বেশি আয় বা বড় ডাউন পেমেন্টের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি কেনার আগে শুধু ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ পাওয়া যাবে তা দেখা উচিত নয়। বরং নিজের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা, জরুরি সঞ্চয় এবং ভবিষ্যৎ খরচ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ বাড়ির দাম ও মর্টগেজ সুদের হার ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া মানুষদের জন্য সঠিক বাজেট পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বাড়ি শুধু বিনিয়োগ নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়িত্ব। তাই বাড়ি কেনার আগে মাসিক কিস্তি নিজের আয় ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট বা গৃহঋণের সুদহার আবারও বৃদ্ধি পেয়ে গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার মর্টগেজ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক-এর প্রকাশিত সর্বশেষ 'প্রাইমারি মর্টগেজ মার্কেট সার্ভে' থেকে জানা যায়, ৩০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদহার গত সপ্তাহের ৬.৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ আগস্টের পর এটিই মর্টগেজের সর্বোচ্চ হার। অন্যদিকে, ১৫ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হারও গত সপ্তাহের ৫.৯৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.৯৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫.৮৭ শতাংশ। ফ্রেডি ম্যাক-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটার ঋণগ্রহীতাদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, বাজারের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে, তাই ঋণ নেওয়ার আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রেট যাচাই-বাছাই করলে দীর্ঘমেয়াদে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব। মূলত ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক নানা বিষয়ের ওপর মর্টগেজ রেট নির্ভরশীল। লোনডিপো-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ জেফ ডারগুরাহিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন সংঘাত এবং মূল্যস্ফীতির কারণে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সুদের হার কমার অপেক্ষায় না থেকে ক্রেতাদের বাড়ির সামগ্রিক খরচের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এই বর্ধিত মর্টগেজ রেটের মধ্যেও ক্রেতাদের জন্য আবাসন বাজারের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সরবরাহের কারণে যারা বাড়ি কেনা থেকে বিরত ছিলেন, তারা এখন বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। রিয়েলটর ডটকমের (Realtor.com) ২০২৬ সালের আবাসন বাজারের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বাড়ির দাম বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১.২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এই হার বর্তমান মূল্যস্ফীতির চেয়েও কম হওয়ার অর্থ হলো, মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয় করলে প্রকৃতপক্ষে বাড়ির দাম কমতির দিকেই রয়েছে, যা সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর।
আমেরিকায় ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষের জন্য প্রতি মাসে গাড়ির কিস্তি বা লোন পরিশোধ করা যেন দ্বিতীয় একটি বাড়ি কেনার ঋণের (মর্টগেজ) মতোই ভারী এক বোঝায় পরিণত হয়েছে। আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'লেন্ডিংট্রি'-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে গাড়ি ঋণের আওতায় থাকা প্রতি ১০ জন মার্কিনির মধ্যে অন্তত একজনের মাসিক কিস্তি এক হাজার ডলার বা তারও বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এই উচ্চ কিস্তির হার আরও বেশি। প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বেনামি ক্রেডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা লেন্ডিংট্রির ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, জর্জিয়ায় সক্রিয় অটো লোন বা গাড়ি ঋণ থাকা ১২ শতাংশ ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি অন্তত এক হাজার ডলার। টেক্সাস, আলাস্কা এবং ওয়াইওমিংয়ের পর এই হার সারা দেশে চতুর্থ সর্বোচ্চ। জর্জিয়ার মতো একটি রাজ্যে গাড়ি চালানো যেখানে বিলাসের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয়, সেখানে এমন পরিসংখ্যান সেখানকার জীবনযাত্রার কঠিন আর্থিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে। চেরোকি, পলডিং বা হেনরি কাউন্টি থেকে মেট্রো আটলান্টায় যাতায়াত হোক কিংবা গ্রামীণ জর্জিয়ায় নিত্যদিনের কাজ মেটানো হোক—অধিকাংশ পরিবারের জন্যই নিজস্ব যানবাহন থাকাটা একরকম বাধ্যতামূলক। লেন্ডিংট্রির প্রধান কনজ্যুমার ফাইন্যান্স বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ জানান, মূলত যেসব অঙ্গরাজ্য আয়তনে বড় এবং যেখানে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, সেখানেই মাসিক হাজার ডলার কিস্তির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। জর্জিয়ার আটলান্টার মতো একটি বড় শহুরে কেন্দ্র থাকলেও, রাজ্যের বাকি অংশে চলাচলের জন্য নিজস্ব গাড়ির ওপরই নির্ভর করতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, তরুণরা নয়, বরং ‘জেনারেশন এক্স’ অর্থাৎ ৪০ বা ৫০-এর কোঠায় থাকা মানুষেরাই এই বিশাল অঙ্কের কিস্তি বেশি দিচ্ছেন। এই বয়সীদের সাধারণত ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকে, যা তাদের বড় অঙ্কের ঋণ পেতে সাহায্য করে। শুলজের মতে, বিলাসবহুল এসইউভি বা বড় ট্রাক কেনার ঝোঁক থেকেই মূলত এমন উচ্চ কিস্তির ঋণ নেওয়া হচ্ছে। তবে কিস্তির বাইরেও বিমা, জ্বালানি, টায়ার পরিবর্তন ও অপ্রত্যাশিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মিলিয়ে গাড়ির পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা মানুষের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় বা বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জর্জিয়ার লরেন্সভিলের ‘মিলিয়ন মাইল মোটরস’-এর মালিক আমির বাজলি গাড়ি ক্রেতাদের একটি বড় ভুলের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ক্রেতারা প্রায়ই গাড়ির মোট দামের দিকে লক্ষ্য না করে শুধু মাসিক কিস্তির হিসাব করেন। তার পরামর্শ হলো, শুধু কিস্তি নয়, বরং মোট দামকে ঋণের মাস দিয়ে গুণ করে প্রকৃত খরচটা বের করা উচিত। এছাড়া ডিলারশিপে যাওয়ার আগেই ঋণের ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন লোন অফার তুলনা করে দেখা এবং ছয় বা সাত বছরের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাড়াহুড়ো করে একদিনেই গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিলে ক্রেতারা প্রায়ই আর্থিকভাবে ক্ষতিকর চুক্তিতে জড়িয়ে পড়েন বলেও সতর্ক করেছেন এই গাড়ি ব্যবসায়ী।
টানা দুই মাসের মন্দা কাটিয়ে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক-পরিবারভিত্তিক বাড়ি বিক্রি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চড়া মর্টগেজ সুদের হার এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা এখনো নতুন বাড়ি কেনা থেকে পিছিয়ে থাকছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেন্সাস ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে দেশটিতে নতুন বাড়ি বিক্রি ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বার্ষিক ৬ লাখ ২৮ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রির এই হার এখনো প্রায় ৫.৬ শতাংশ কম। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে জুন মাসে নতুন বাড়ি বিক্রির সংখ্যা ৬ লাখ ২৮ হাজারে পৌঁছালেও, বাড়তি সুদের চাপ বর্তমানে দেশটির আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া নতুন বাড়ির মধ্যবর্তী মূল্য (মিডিয়ান প্রাইস) ছিল ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৭ শতাংশ কম। তবে এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় '৩০ বছর মেয়াদী ফিক্সড মর্টগেজ'-এর গড় সুদের হার গত সপ্তাহে বেড়ে ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বন্ধকি ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘ফ্রেডি ম্যাক’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গড়ে এই ঋণের সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৬.৫৮ শতাংশে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ফেডারেল রিজার্ভ' মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় বন্ড মার্কেট ও মর্টগেজ বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকে সুদের হার ফের বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। সুদের হার কমার তাৎক্ষণিক কোনো সম্ভাবনা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি বিক্রির বাজার এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ প্রচলিত ব্যাংক বা মর্টগেজ লেন্ডারের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পর্যাপ্ত ক্রেডিট স্কোর না থাকা, স্বনিয়োজিত হওয়া, ডব্লিউ-২ আয়ের নথি না থাকা বা ট্যাক্স রিটার্নে আয় তুলনামূলক কম দেখানোর কারণে অনেক আবেদনকারী ব্যাংকের প্রচলিত হোম লোনের জন্য অনুমোদন পান না। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে সামনে আসে নন -কোয়ালিফাইড মর্টগেজ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট লোন বা প্রাইভেটে/পোর্টফলিও মর্টগেজ এর মতো বিশেষ ধরনের মর্টগেজ। মর্টগেজ নিয়ে কাজ করেন তাদের মতে, এসব ঋণ মূলত তাদের জন্য, যাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা রয়েছে কিন্তু প্রচলিত ব্যাংকের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করা কঠিন। বিশেষ করে স্বনিয়োজিত ব্যবসায়ী, ১০৯৯ ভিত্তিক কর্মী, ফ্রিল্যান্সার, গিগ ইকোনমিতে কাজ করা ব্যক্তি, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী এবং নতুন ব্যবসা শুরু করা অনেকেই এ ধরনের ঋণের সুবিধা নিয়ে থাকেন। প্রচলিত ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত ডব্লিউ-২, ট্যাক্স রিটার্ন এবং নির্দিষ্ট আয়ের নথির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে অনেক নন -কোয়ালিফাইড মর্টগেজ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট লোন বা প্রাইভেটে/পোর্টফলিও কর্মসূচিতে আবেদনকারীর গত ১২ থেকে ২৪ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যবসার নগদ প্রবাহ, সম্পদ এবং নিয়মিত আয়ের উৎস মূল্যায়ন করা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ক্রেডিট স্কোরের কোনো গুরুত্ব নেই। ঋণদাতারা এখনো ক্রেডিট ইতিহাস বিবেচনা করেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। যুক্তরাষ্ট্রের মর্টগেজ শিল্পবিষয়ক প্রকাশনা হাউজিংওয়্যারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নন -কোয়ালিফাইড মর্টগেজ কোনো “সাবপ্রাইম” মর্টগেজ নয় বরং এটি এমন একটি ঋণব্যবস্থা, যেখানে প্রচলিত আয়ের নথির পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে আবেদনকারীর পরিশোধ সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটিমাল ব্লুর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে নন -কোয়ালিফাইড মর্টগেজের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে নতুন মর্টগেজের উল্লেখযোগ্য অংশই ছিল এই ক্যাটাগরির ঋণ, যা দেখায় প্রচলিত ব্যাংক ঋণের বাইরে বিকল্প অর্থায়নের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে মর্টগেজ লোন স্পেশালিস্টরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ঋণের সুদের হার সব সময় এক রকম হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রচলিত ব্যাংক মর্টগেজের তুলনায় বেশি হতে পারে, আবার শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান, বড় ডাউন পেমেন্ট বা ভালো আয়ের প্রমাণ থাকলে প্রতিযোগিতামূলক সুদেও ঋণ পাওয়া সম্ভব। তাই একাধিক ঋণদাতার অফার তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এ ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যবসার আয়ের তথ্য, সম্পদের প্রমাণ, ডাউন পেমেন্টের উৎস এবং অন্যান্য আর্থিক নথি চাওয়া হতে পারে। ঋণদাতা ও ঋণের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। মর্টগেজ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ার কারণে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে বিকল্প মর্টগেজ নেওয়ার আগে সুদের হার, ঋণের মেয়াদ, ক্লোজিং কস্ট, সম্ভাব্য অতিরিক্ত ফি এবং প্রিপেমেন্ট পেনাল্টির মতো শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মর্টগেজ লোন অরিজিনেটর বা আর্থিক পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করে নিজের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সবচেয়ে উপযোগী ঋণ নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, চলতি বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গত সাত বছরের মধ্যে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৯টি মেট্রো এলাকা প্রকৃত 'বায়ারস মার্কেট' বা ক্রেতাদের বাজারে পরিণত হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ৯টি শহর। আগামী গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ আটলান্টা, বেকারসফিল্ড, বার্মিংহাম, হনুলুলু, হিউস্টন, মেমফিস, রিভারসাইড, সান আন্তোনিও এবং সিরাকিউজ—এই ৯টি মেট্রো এলাকা পুরোপুরি ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘রিয়েল্টর ডটকম (Realtor.com) ২০২৬ কিউ২ মার্কেট ক্লক’ (Q2 Market Clock) রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাজারে বাড়ির সরবরাহ, বিক্রির জন্য অপেক্ষমাণ সময়, দামের ওঠানামা এবং তালিকা-থেকে-বিক্রির অনুপাতের মতো মূল সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এবারের রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০টি মেট্রো এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। ১২ ঘণ্টার একটি কাল্পনিক ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তুলনা করে এই 'মার্কেট ক্লক' তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ১২টা মানে 'পিক সেলারস মার্কেট' (বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ) এবং ৬টা মানে 'পিক বায়ারস মার্কেট' (ক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ)। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে এই ঘড়ির কাঁটা ৩টায় অবস্থান করছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজার নির্দেশ করে। তবে রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল জানিয়েছেন, জাতীয় গড়ের আড়ালে স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। রিপোর্টের তথ্যমতে, বর্তমানে নজরদারিতে থাকা আবাসন বাজারগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই ক্রেতাদের পক্ষে বা সেই দিকে এগোচ্ছে, যা গত বছর ছিল মাত্র অর্ধেক। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বাজারগুলোতে ক্রেতারা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। জেক ক্রিমেল জানান, বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির মজুত বেড়ে যাওয়াই মূলত এই ৯টি মেট্রো এলাকাকে ক্রেতাদের বাজারে পরিণত করছে। নতুন তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, বিক্রির হার তার চেয়ে অনেক ধীর। এর ফলে বাজারে বাড়িগুলো বেশিদিন পড়ে থাকছে এবং বিক্রেতারা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি স্পষ্টভাবে বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ক্রেতাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। সান আন্তোনিও-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ট্র্যাভিস আমারো জানান, কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের পর বর্তমানে সান আন্তোনিওতে হাউজিং ইনভেন্টরি বা অবিক্রীত বাড়ির সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ক্রেতারা বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বেশি বিকল্প পাচ্ছেন এবং দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, বিক্রেতাদের গত বছরের বাজার পরিস্থিতির কথা ভুলে গিয়ে বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী যৌক্তিক দাম হাঁকানো উচিত। অন্যদিকে, দেশের ২৫টি মেট্রো এলাকা এখনো বিক্রেতাদের বাজারে (সেলারস মার্কেট) রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড। বিক্রেতাদের এই বাজারগুলোর বেশিরভাগই মধ্যপশ্চিম, উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পর অধিকাংশ ক্রেতাই ১৫ বা ৩০ বছরের মর্টগেজ বা হোম লোনের পথ বেছে নেন। দীর্ঘমেয়াদি এই ঋণের ফলে মাসিক কিস্তির চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও বছরের পর বছর সুদ পরিশোধ করতে হয়। তবে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অতিরিক্ত ঋণ পরিশোধ এবং সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই ৩০ বছরের হোম লোন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পরিশোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ মর্টগেজ ল্যান্ডেররা। ব্যাংক অফ আমেরিকার মর্টগেজ ঋণ কর্মকর্তা রবার্ট মুলার জানিয়েছেন, দ্রুত ঋণমুক্ত হওয়ার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো মাসিক কিস্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি ঋণের মূল অংশ বা প্রিন্সিপাল ব্যালেন্সে পরিশোধ করা। মূল ঋণের পরিমাণ দ্রুত কমে গেলে ভবিষ্যতে সেই অর্থের ওপর সুদও কম ধার্য হয়। ফলে মোট সুদের খরচ কমার পাশাপাশি ঋণের মেয়াদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তিনি আরও জানান বছরে এক বা একাধিকবার অতিরিক্ত অর্থ প্রিন্সিপাল হিসেবে জমা দেওয়া যেতে পারে। বোনাস, ট্যাক্স রিফান্ড বা অন্য কোনো অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ এ কাজে ব্যবহার করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ‘বাই-উইকলি পেমেন্ট’। এতে মাসে একবার পুরো কিস্তি পরিশোধের পরিবর্তে প্রতি দুই সপ্তাহে অর্ধেক কিস্তি দেওয়া হয়। এর ফলে বছরে মোট ২৬টি অর্ধেক কিস্তি বা ১৩টি পূর্ণ মাসিক কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ হয়। এতে প্রতি বছর একটি অতিরিক্ত কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ ঋণের মূল অংশে চলে যায়, যা মর্টগেজের মেয়াদ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এই সুবিধা সব ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বা মর্টগেজ সার্ভিসার একইভাবে পরিচালনা করে না। তাই এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা জেনে নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের সময় আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই অর্থ যেন ‘প্রিন্সিপাল অনলি পেমেন্ট’ হিসেবে প্রয়োগ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যতের মাসিক কিস্তি হিসেবে সমন্বয় করা হতে পারে, ফলে ঋণের মূল পরিমাণ প্রত্যাশিত হারে কমবে না। একই সঙ্গে মর্টগেজ চুক্তিতে আগাম ঋণ পরিশোধের জন্য কোনো ‘প্রিপেমেন্ট পেনাল্টি’ বা অতিরিক্ত ফি রয়েছে কি না, সেটিও আগে যাচাই করা উচিত। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ প্রচলিত আবাসিক মর্টগেজে এ ধরনের জরিমানা থাকে না, তবুও ঋণের ধরনভেদে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। রবার্ট মুলার আরও জানান আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একক কোনো কৌশল সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যাদের মর্টগেজের সুদের হার তুলনামূলক কম, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ঋণ পরিশোধের পরিবর্তে অবসরকালীন সঞ্চয়, বিনিয়োগ বা উচ্চ সুদের অন্যান্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য বিবেচনা করে প্রয়োজনে একজন আর্থিক পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি। পরিকল্পিত অর্থ ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত অতিরিক্ত প্রিন্সিপাল পরিশোধ এবং সঠিক আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই ৩০ বছরের হোম লোন ১০ বছর বা তার কাছাকাছি সময়ের মধ্যেও পরিশোধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, ধারাবাহিকতা এবং সুপরিকল্পিত বাজেট ব্যবস্থাপনা।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মার্কিন আর্থিক বাজারে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ঋণ বা মর্টগেজের সুদের হার এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের গড় সুদের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশে। আগের সপ্তাহে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। আবাসন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক জানিয়েছে, এক বছর আগে একই সময়ে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। একই সঙ্গে ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হারও কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৮১ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের সপ্তাহে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা কমার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য কাঠামোগত চুক্তির অগ্রগতি বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বন্ড মার্কেটে, যা মর্টগেজ সুদের হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটার বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে ভোক্তাদের ব্যয় স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি খুচরা বিক্রয় ও বাড়ি কেনার আগ্রহেও কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এসব কারণে আবাসন বাজারে ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মর্টগেজের সুদের হার সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী সুদের হারের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এর ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে সুদের হার কমার সম্ভাবনার দিকেও নজর রাখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ইস্যুকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে আর্থিক বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির কারণে তা কিছুটা কমেছে। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে আগামী মাসগুলোতে মর্টগেজ হারের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। তাদের মতে, সুদের হার কিছুটা কমলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক শান্তি সমঝোতা স্বাক্ষরের পর দেশটির আবাসন বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার প্রত্যাশা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের (মর্টগেজ) সুদহার সামান্য কমেছে। ফলে বাড়ি কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন আবাসন ঋণ সংস্থা ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুন সমাপ্ত সপ্তাহে ৩০ বছরের মেয়াদি স্থায়ী সুদের গৃহঋণের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশে। আগের সপ্তাহে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুদহার ৫ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। তুলনামূলকভাবে গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা বর্তমান অবস্থানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাতের বলেন, ভোক্তা ব্যয়, খুচরা বিক্রি এবং অপেক্ষমাণ আবাসন বিক্রির তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ক্রেতাদের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। সুদহার কিছুটা কমায় বাজারে ক্রয়চাহিদাও ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে। সুদহার কমার এই প্রবণতার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা। বুধবার দুই দেশ একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সই করেছে, যার লক্ষ্য পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পথ তৈরি করা। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার কমাতে সহায়ক হতে পারে। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অ্যান্থনি স্মিথ বলেন, সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হলে মর্টগেজ হার আরও কমতে পারে, ভোক্তাদের আস্থা বাড়বে এবং গ্রীষ্মকালীন আবাসন বাজারে নতুন গতি আসবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পথ পুরোপুরি মসৃণ হবে না এবং ভবিষ্যতে নানা ধরনের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তাদের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে মূল সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে ফেডের ১২ সদস্যই সর্বসম্মতভাবে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে সুদহার ধরে রাখার পক্ষে ভোট দেন। যদিও বাজার আগে থেকেই এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রস্তুত ছিল, তবুও ফেডের নতুন বার্তা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ফেড স্পষ্ট করেছে যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এর প্রভাব পড়ে মার্কিন বন্ড বাজারেও। ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়েছে এবং বছরের শেষ নাগাদ সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও কিছুটা জোরালো হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে ফেড ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার বাড়াতে পারে, এমন সম্ভাবনা প্রায় ৩৯ শতাংশ। তবে আবাসন বাজারে এখনো আশাবাদের কিছু কারণ রয়েছে। মে মাসে বাড়ি কেনাবেচার চুক্তি আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। অনেক বিক্রেতা দাম কমিয়ে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করছেন, আর ক্রেতারাও সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন। একই সঙ্গে টানা সাত মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত বাড়ির গড় মূল্য আগের বছরের তুলনায় কমেছে। বাজারে বাড়ির সরবরাহও গত বছরের তুলনায় বেশি রয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে মর্টগেজ সুদহার আরও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মর্টগেজ সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ফলনকে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ঋণগ্রহীতার আয়, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা, ডাউন পেমেন্ট, সম্পত্তির ধরন এবং বিশেষ করে ক্রেডিট স্কোরও সুদের হার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ক্রেডিট স্কোর ৭৪০ বা তার বেশি, তারা সাধারণত কম সুদে গৃহঋণ পাওয়ার সুযোগ পান। অন্যদিকে কম স্কোরধারীদের জন্য ঋণের খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদহার সামান্য কমলেও এটি মার্কিন আবাসন বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন উচ্চ সুদের চাপে থাকা গৃহক্রেতাদের জন্য এটি নতুন করে পরিকল্পনা করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।