সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

বয়স্কদের মধ্যে কোলন ক্যানসার কমলেও তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৩:৫৬
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের উদ্বেগ
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের উদ্বেগ

aযুক্তরাষ্ট্রে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই রোগের হার বাড়ছে। একসময় বয়স্কদের রোগ হিসেবে বেশি পরিচিত থাকলেও এখন তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যেও কোলন ও মলদ্বারের ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আনুমানিক ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫০ জন আক্রান্ত হতে পারেন এবং ৫৫ হাজার ২৩০ জনের মৃত্যু হতে পারে। দেশটিতে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ এই রোগ।

 

কোলোরেক্টাল ক্যানসার বলতে বৃহদান্ত্রের অংশ কোলন এবং মলদ্বারে হওয়া ক্যানসারকে বোঝায়। এই রোগ সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের নিচের অংশে শুরু হয়। কোলন বা মলদ্বারের ভেতরে কখনো কখনো অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি ঘটে, যাকে পলিপ বলা হয়। সব পলিপ ক্যানসারে পরিণত হয় না। তবে কিছু পলিপ সময়ের সঙ্গে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষা করালে এগুলো ক্যানসারে পরিণত হওয়ার আগেই শনাক্ত করে অপসারণ করা সম্ভব।


চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোলোরেক্টাল ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে।


প্রিসমা হেলথ ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা স্কুল অব মেডিসিনের কোলোরেক্টাল সার্জন ডা. সেড্রেক ম্যাকফ্যাডেন বলেছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে কোলোরেক্টাল ক্যানসার।


রোগটির প্রবণতা বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বয়সভিত্তিক আক্রান্তের হার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০০০ সালে দেশটিতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্তের হার ছিল ৩০৪ দশমিক ৭। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৫৪ দশমিক ২-এ, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক। বিপরীতে, ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে একই সময়ে আক্রান্তের হার প্রতি এক লাখে ৬ দশমিক ১ থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ১ হয়েছে। অর্থাৎ, এই বয়সী জনগোষ্ঠীতে আক্রান্তের হার প্রায় ১ দশমিক ৮ গুণ বেড়েছে।


তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে তরুণদের মধ্যে বয়স্কদের চেয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। বরং বয়সভিত্তিক হারে তরুণদের মধ্যে রোগটি বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যখন বয়স্কদের মধ্যে আক্রান্তের হার কমেছে।

 

কেন তরুণদের মধ্যে এই রোগ বাড়ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ডা. ম্যাকফ্যাডেনের মতে, সম্ভাব্য পরিবেশগত কারণ নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা চলছে। খাবারের ধরন, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে ব্যবহৃত রাসায়নিক, খাবার সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করার পদ্ধতি এবং মাইক্রোপ্লাস্টিকের মতো উপাদান অন্ত্রের স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব বিষয়কে কোলোরেক্টাল ক্যানসার বৃদ্ধির নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি।


যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ঝুঁকির প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৫ বছর বয়স থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের স্ক্রিনিং শুরু করার সুপারিশ রয়েছে। ৪৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সীদের নিয়মিত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ৭৬ থেকে ৮৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বাস্থ্য, আগের পরীক্ষার ফলাফল ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।


স্ক্রিনিংয়ের জন্য কয়েক ধরনের পরীক্ষা রয়েছে। মলের নমুনা পরীক্ষা করে ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণ খোঁজা যায়। ফ্লেক্সিবল সিগময়ডোস্কোপির মাধ্যমে মলদ্বার ও কোলনের নিচের অংশ পরীক্ষা করা হয়। আর কোলনোস্কোপিতে একটি বিশেষ নমনীয় যন্ত্র দিয়ে কোলনের ভেতরের অংশ দেখা হয়। এই পরীক্ষায় পলিপ শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়ায় তা অপসারণ করা সম্ভব।

 

তবে সবার জন্য ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করা উপযুক্ত নয়। যাঁদের অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ রয়েছে, যেমন ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস, তাঁদের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। একইভাবে নিজের বা পরিবারের কারও কোলোরেক্টাল ক্যানসার কিংবা পলিপের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আগেই স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। ফ্যামিলিয়াল অ্যাডেনোম্যাটাস পলিপোসিস (এফএপি) ও লিঞ্চ সিনড্রোমের মতো বংশগত সমস্যাও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কখন পরীক্ষা শুরু করতে হবে, তা ব্যক্তির ঝুঁকি ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।


কোলোরেক্টাল ক্যানসারের কয়েকটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—

  • মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন।

  • মলের সঙ্গে বা মলের গায়ে র ক্ত দেখা যাওয়া।

  • দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য।

  • মলত্যাগের পরও পেট পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি বলে মনে হওয়া।

  • পেটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, মোচড় বা অস্বস্তি।

  • কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া।

  • র ক্তে আয়রনের মাত্রা কমে যাওয়া বা র ক্তস্বল্পতা।

এসব লক্ষণ থাকলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। অন্যান্য রোগেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে লক্ষণগুলো স্থায়ী হলে বা বারবার দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে মলের সঙ্গে র ক্ত গেলে কিংবা অকারণে ওজন কমতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।


ডা. ম্যাকফ্যাডেন সতর্ক করে বলেছেন, রোগটি দেরিতে শনাক্ত হলে ক্যানসার ফুসফুস বা যকৃতের মতো শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যায়। তাই শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর না করে বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো গুরুত্বপূর্ণ।


বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা হলো, কোলোরেক্টাল ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো, ঝুঁকির লক্ষণ চেনা এবং সময়মতো পরীক্ষা করানো জরুরি। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসারে পরিণত হওয়ার আগেই পলিপ শনাক্ত ও অপসারণ করা সম্ভব। তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের হার বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সচেতনতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
ভিটামিন ডি ও কোষের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণা
বার্ধক্যের গতি কমাতে পারে ভিটামিন ডি, হার্ভার্ডের গবেষণায় উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রতিদিন ভিটামিন ডি গ্রহণে শরীরের কোষে বার্ধক্যজনিত একটি পরিবর্তনের গতি কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত চার বছরব্যাপী এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি₃ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের শ্বেত রক্তকণিকার টেলোমিয়ার প্লাসিবো বা নিষ্ক্রিয় বড়ি গ্রহণকারীদের তুলনায় কম ছোট হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল জৈবিক বার্ধক্যের একটি প্রক্রিয়া ধীর করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে মানুষের সামগ্রিক বার্ধক্য থেমে যাবে কিংবা আয়ু নিশ্চিতভাবে বেড়ে যাবে।   ২০২৫ সালে দ্য আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩ নিয়ে পরিচালিত বৃহৎ ‘ভাইটাল’ (VITAL) গবেষণার একটি অংশ। এতে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী এক হাজারের বেশি নারী-পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল, দীর্ঘ সময় ধরে ভিটামিন ডি বা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণ করলে কোষের জিনগত উপাদানের প্রান্তে থাকা টেলোমিয়ারের ক্ষয় কমে কি না, তা পরীক্ষা করা।   গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একাংশ প্রতিদিন ২ হাজার আন্তর্জাতিক একক (আইইউ) ভিটামিন ডি₃ গ্রহণ করেন। অন্যদের দেওয়া হয় প্লাসিবো—দেখতে ওষুধের মতো হলেও যার মধ্যে পরীক্ষাধীন কার্যকর উপাদান থাকে না। গবেষণার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের রক্তের শ্বেত রক্তকণিকার টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্য শুরুতে, দুই বছর পর এবং চার বছর পর পরিমাপ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫৪ জনকে নিয়ে এই উপগবেষণা শুরু হলেও বিশ্লেষণে ১ হাজার ৩১ জনের পরিমাপযোগ্য তথ্য ব্যবহার করা হয়।   চার বছর পর দেখা যায়, প্লাসিবো গ্রহণকারীদের তুলনায় ভিটামিন ডি₃ গ্রহণকারীদের টেলোমিয়ার ক্ষয় গড়ে ১৪০ বেস পেয়ার কম হয়েছে। বেস পেয়ার হলো ডিএনএর গঠন তৈরির মৌলিক একক। সংখ্যাটি পরিমিত হলেও গবেষণায় পাওয়া পার্থক্যটি পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, টেলোমিয়ারের এই পার্থক্য আগের গবেষণার ভিত্তিতে জৈবিক বার্ধক্যের প্রায় তিন বছরের সমতুল্য হতে পারে। তবে এটিকে সরাসরি তিন বছর বেশি বেঁচে থাকা বা শরীরের বয়স তিন বছর কমে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   টেলোমিয়ার কী এবং বার্ধক্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ—সেটিও এই গবেষণার মূল বিষয়। মানুষের প্রতিটি ক্রোমোজোমের দুই প্রান্তে টেলোমিয়ার থাকে। জুতার ফিতার মাথায় থাকা ছোট প্লাস্টিকের আবরণের সঙ্গে এর তুলনা করা যায়। ওই আবরণ যেমন ফিতার প্রান্তকে ছিঁড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে, তেমনি টেলোমিয়ার ক্রোমোজোমের জিনগত উপাদানকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। কোষ বিভাজনের সময় সাধারণত টেলোমিয়ার ধীরে ধীরে ছোট হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই পরিবর্তন জমতে থাকে। টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়া কোষের বার্ধক্য এবং বিভিন্ন বয়সজনিত রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আগের গবেষণায় দেখা গেছে। তবে বার্ধক্য একটি জটিল প্রক্রিয়া; এর পেছনে শুধু টেলোমিয়ারের পরিবর্তন নয়, আরও অনেক জৈবিক ও জীবনযাপনসংক্রান্ত বিষয় কাজ করে। তাই টেলোমিয়ারের ক্ষয় কমানোকে বার্ধক্যের সব লক্ষণ ঠেকানোর সমান বলা যায় না।   গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রভাবও পরীক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু চার বছর পর ওমেগা-৩ গ্রহণকারীদের টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট গবেষণায় কোষের টেলোমিয়ার ক্ষয় কমানোর ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি₃-এর প্রভাব দেখা গেলেও ওমেগা-৩-এর ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায়নি।   গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক জোঅ্যান ম্যানসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীরের প্রদাহ টেলোমিয়ার ছোট হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। ভিটামিন ডি প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ আবার হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন বয়সজনিত অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই গবেষণা ভিটামিন ডি গ্রহণের মাধ্যমে এসব রোগ প্রতিরোধ করা যায়—এমন সিদ্ধান্ত দেয়নি। গবেষণার ফল মূলত টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্যে পরিবর্তন নিয়ে, রোগ প্রতিরোধ বা মানুষের আয়ু বাড়ানোর সরাসরি পরীক্ষা নয়।   ভিটামিন ডি কতটা প্রয়োজন, তা নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিনের সুপারিশ অনুযায়ী, ৭০ বছর পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ৬০০ আইইউ এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ৮০০ আইইউ ভিটামিন ডি প্রয়োজন। গবেষণায় ব্যবহৃত ২ হাজার আইইউ মাত্রা এই সাধারণ সুপারিশের চেয়ে বেশি। ফলে গবেষণায় ব্যবহৃত মাত্রাকেই সবার জন্য দৈনিক গ্রহণের আদর্শ মাত্রা ধরে নেওয়া উচিত নয়।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন পেশাগত চিকিৎসা সংগঠন সাধারণভাবে সবার রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করা কিংবা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেয় না। কারও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি আছে কি না, তা তার খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, বয়স এবং অন্যান্য ঝুঁকির ওপর নির্ভর করতে পারে। যাঁদের শরীরে পুষ্টি শোষণে সমস্যা রয়েছে, যাঁরা হাড়ের সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন অথবা যাঁদের খাদ্যতালিকায় উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   খাবার থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। স্যামন, সার্ডিন ও টুনার মতো চর্বিযুক্ত মাছ এবং কিছু বুনো মাশরুম এর উৎস। কিছু দেশে দুধজাত খাবার, সিরিয়াল ও কমলার রসেও ভিটামিন ডি যোগ করা হয়। তাই প্যাকেটজাত খাবারের পুষ্টিগুণের তথ্য দেখে নেওয়া সহায়ক হতে পারে। সূর্যের আলোতেও ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, যদিও এর পরিমাণ নির্ভর করে সময়, ঋতু, ত্বকের ধরন ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলেই যে বেশি উপকার হবে, এমন নয়। খুব বেশি মাত্রায় ভিটামিন ডি নিলে রক্ত বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং বাইরে সক্রিয় থাকা সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   সব মিলিয়ে, চার বছরের গবেষণাটি ভিটামিন ডি₃ এবং কোষের বার্ধক্যসংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দিয়েছে। তবে ফলাফলকে নিশ্চিতভাবে বার্ধক্য ঠেকানোর উপায় হিসেবে দেখার আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন। আপাতত ভিটামিন ডি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত চাহিদা, প্রয়োজনীয় মাত্রা এবং চিকিৎসকের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:৫০
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের উদ্বেগ

বয়স্কদের মধ্যে কোলন ক্যানসার কমলেও তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

ক্যানসারের নতুন এমআরএনএ টিকায় আশার আলো

ক্যানসারের নতুন এমআরএনএ টিকায় আশার আলো, রোগ ফেরার ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ থাবা, ঝুঁকিতে শিশুরা! মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২১৪ জন

মেলানোমার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার টিকা
ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে নতুন টিকার সাফল্য, রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা কমেছে ৪২ শতাংশ

প্রাণঘাতী ত্বকের ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছে ব্যক্তিভিত্তিক একটি পরীক্ষামূলক টিকা। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্ক যৌথভাবে তৈরি এই টিকা ব্যবহারে ক্যানসার ফিরে আসা বা রোগীর মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় পর্যায়ের клиনিক্যাল পরীক্ষায় প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে টিকাটি ব্যবহার করে এ ফল পাওয়া গেছে। তবে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সামগ্রিক আয়ু কতটা বাড়ে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।   টিকাটির নাম ইনটিসমেরান অটোজিন। এটি মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। এ প্রযুক্তিতে প্রত্যেক রোগীর টিকা তাঁর ক্যানসার টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে আলাদাভাবে প্রস্তুত করা হয়। ফলে একই টিকা সবার জন্য একইভাবে তৈরি না করে, রোগীর টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট পরিবর্তন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মডার্না ও মার্ক ২২ অক্টোবর পরীক্ষার বিস্তারিত ফল প্রকাশ করে। এর আগে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছিল, পরীক্ষায় টিকাটি নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ করেছে। নতুন ফলাফলে দেখা গেছে, প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে ইনটিসমেরান ব্যবহার করলে শুধু ইমিউনোথেরাপি গ্রহণকারীদের তুলনায় ক্যানসার ফিরে আসা বা যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ক্যানসার শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৩৮ শতাংশ। গবেষণায় মোট ১ হাজার ১৩৭ জন রোগী অংশ নেন। তাঁদের সবার মেলানোমা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছিল। এরপর একদল রোগী ইনটিসমেরান ও পেমব্রোলিজুমাব নামের ইমিউনোথেরাপির ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করেন। অন্য দলটি পেমব্রোলিজুমাবের সঙ্গে প্লাসিবো বা ওষুধবিহীন বিকল্প চিকিৎসা পায়। পেমব্রোলিজুমাব মার্কের তৈরি কিট্রুডা নামের ওষুধের মূল উপাদান। পরীক্ষায় দুই বছর পর টিকা ও ইমিউনোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ৮২ দশমিক ২ শতাংশের ক্যানসার ফিরে আসেনি। অন্যদিকে শুধু ইমিউনোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, দুই চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। তবে ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমার অর্থ এই নয় যে টিকা নেওয়া প্রত্যেক রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ বেড়ে গেছে। এটি দুই চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে রোগ ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকির তুলনামূলক হ্রাস। ব্যক্তিভেদে চিকিৎসার ফল আলাদা হতে পারে। গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, টিকাটি ব্যবহারের পর ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকিও কমেছে। তবে রোগীর সামগ্রিক আয়ু বাড়ানোর ক্ষেত্রে টিকাটির প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও, এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।   এই টিকাটির বিশেষত্ব হলো, এটি রোগীর শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে সাহায্য করার জন্য তৈরি। প্রথমে রোগীর টিউমারের টিস্যু নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন চিহ্নিত করে টিকা প্রস্তুত করা হয়। টিকার মাধ্যমে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়, যাতে সেটি ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এ ক্ষেত্রে এমআরএনএ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোভিড-১৯-এর কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত টিকা তৈরিতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ক্যানসারের এই টিকার উদ্দেশ্য সংক্রমণ প্রতিরোধ করা নয়; বরং আগে থেকেই ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা করা, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমানো। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ল্যাঙ্গোন হেলথের পার্লমাটার ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল গবেষণাবিষয়ক সহযোগী পরিচালক ও পরীক্ষাটির অন্যতম প্রধান গবেষক জেনিস মেনার্ট এই চিকিৎসাকে প্রথম সারির নতুন প্রযুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, রোগীর ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিকিৎসা তৈরির ধারণাটি অত্যন্ত সৃজনশীল বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি। ক্যানসার চিকিৎসা ও গবেষণায় কাজ করা পার্কার ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কারেন নাডসনও ফলাফলকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, পরীক্ষার ফলাফল সুপরিকল্পিত ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার আরও প্রমাণ দিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) নতুন ধরনের এই ক্যানসার টিকার অনুমোদন কীভাবে এবং কত দ্রুত বিবেচনা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। টিকাটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্লান্তি, কাঁপুনি এবং ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথার কথা জানানো হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব প্রতিক্রিয়া আগের পরীক্ষাগুলোতে দেখা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন কোনো বড় নিরাপত্তা-সংকেত পাওয়া যায়নি বলে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে। মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্তেফান ব্যানসেল বলেছেন, নতুন ফলাফল এমআরএনএ প্রযুক্তির সম্ভাবনার ওপর তাঁদের আস্থা আরও জোরদার করেছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে ক্যানসার চিকিৎসার ধরন বদলে দিতে পারে এই প্রযুক্তি। মেলানোমা ত্বকের ক্যানসারের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ধরনগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগের নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণের পরও অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসার আবার ফিরে আসতে পারে। নতুন টিকাটি মূলত এমন রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাঁদের টিউমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কিন্তু রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি রয়ে গেছে। এদিকে মেলানোমার বাইরে ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, স্তন এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে এমআরএনএভিত্তিক টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে একটি ক্যানসারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেই অন্য সব ক্যানসারের চিকিৎসায় একই সাফল্য আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের জন্য তৈরি আরেকটি এমআরএনএ টিকার পরীক্ষায় বেঁচে থাকার সময় বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে চলতি মাসে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। মডার্না ও মার্ক নতুন টিকাটির অনুমোদনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। অনুমোদন পেলে এটি ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যক্তিভিত্তিক পদ্ধতির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে পারে। তবে এখনই একে সব ধরনের ক্যানসারের নিরাময় বা নিশ্চিত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আরও গবেষণা, দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়নই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে চিকিৎসাটি কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৫:৩৪
উলাইলে অবস্থিত আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল

নাকের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে আর ফিরল না ১১ বছরের শিশু, সাভারের হাসপাতালে ভাঙচুর

গবাদিপশুতে ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ

গবাদিপশুতে ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাস প্রথমবার মানুষের শরীরে, ফ্রান্সে রোগীর মৃ ত্যু

নিয়মিত হাঁটাচলার সঙ্গে মস্তিষ্কের কিছু দক্ষতার ইতিবাচক সম্পর্ক পেয়েছেন গবেষকেরা

প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ হাজার পা হাঁটলেই মস্তিষ্কের কিছু দক্ষতায় মিলতে পারে উন্নতি

ডা. জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি এবং নেফ্রোলজিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন
আমেরিকার টপ ডাক্তার জিয়াউদ্দিনের সিলেটের ২০০ শয্যার কিডনি হাসপাতাল, অসচ্ছলদের ফ্রি চিকিৎসা

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় সিলেটে গড়ে উঠেছে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। অসচ্ছল রোগীদের স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটির নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০০ শয্যার একটি অলাভজনক বিশেষায়িত হাসপাতাল।    ফিলাডেলফিয়ায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিজ অঞ্চলের কিডনি রোগীদের জন্য চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন ডা. জিয়াউদ্দিন। কিডনি ফাউন্ডেশন সিলেটের বিবরণে তাঁকে এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার সঙ্গে প্রয়াত জাহিন আহমেদ এবং কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আবদুস সালামও যুক্ত ছিলেন।  এই উদ্যোগের শুরু অবশ্য নতুন হাসপাতাল চালুরও কয়েক বছর আগে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সিলেটের উপশহরে অস্থায়ী ডায়ালাইসিস কেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা শুরু হয়। সেখানে ভর্তুকি দিয়ে রোগীদের ডায়ালাইসিস করানো হতো। পরে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।    সিলেটের তেমুখী ও বাদাঘাট বাইপাসসংলগ্ন নাজিরেরগাঁওয়ে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বে হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। ভবন নির্মাণে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে অনুদান ব্যবহার করা হয়।  হাসপাতালের প্রকাশিত কার্যক্রমের বিবরণে বলা হয়েছে, সেখানে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিনে সেবা দেওয়া হচ্ছে। মোট ডায়ালাইসিস সেশনের ৫৫ শতাংশের বেশি বিনামূল্যে অথবা ভর্তুকিমূল্যে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে কিডনি রোগের চিকিৎসা, পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবার ব্যবস্থা রয়েছে।    ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি নেওয়া ডা. জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি এবং নেফ্রোলজিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন। টেম্পল হেলথের চিকিৎসক পরিচিতিতে তাঁর বিশেষায়িত ক্ষেত্র হিসেবে নেফ্রোলজি উল্লেখ রয়েছে। তাঁর চিকিৎসাসেবার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে ডায়ালাইসিস, নিয়ন্ত্রণে না আসা উচ্চ রক্তচাপ এবং সংকটাপন্ন রোগীর কিডনি চিকিৎসা।  ২০২৬ সালে ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের ‘টপ ডক্টরস’ তালিকাতেও জায়গা পেয়েছেন তিনি। টেম্পল হেলথের ২১ এপ্রিল প্রকাশিত ঘোষণায় নেফ্রোলজি বিভাগে তাঁর নাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সিলেটের হাসপাতাল উদ্যোগে যুক্ত থেকে দেশের রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছেন এই প্রবাসী চিকিৎসক।   

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১:৪৮
প্রোস্টেটের এমআরআই ছবিতে গ্রন্থির আকার বৃদ্ধি

প্রোস্টেট ক্যানসারের ওষুধ প্রতিরোধের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

বিজ্ঞানী স্যামুয়েল আচিলেফু ও তাঁর গবেষক দল

অস্ত্রোপচারের সময় ক্যানসার কোষ দেখতে সহায়ক, আশ্চর্যজনক চশমা উদ্ভাবন করেন নাইজেরীয় চিকিৎসক

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর কলেরা প্রতিরোধে অবদান

বাংলাদেশের ফিরদৌসী কাদরীকে নিয়ে বিল গেটসের ভিডিও, তুলে ধরলেন জীবন বাঁচানোর গবেষণা

0 Comments