সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ইউরোপে যাওয়ার পথে ৫ মাসে সাগরে প্রাণ গেল ১৩০০ মানুষের

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ০:১৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

উন্নত ও নিরাপদ জীবনের আশায় অবৈধভাবে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার সময় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলবর্তী সমুদ্রে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক পথ দিয়ে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে ইউরোপে পারাপারের বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারি করা মানবাধিকার সংস্থা 'কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস' (ওয়াকিং বর্ডারস) এক প্রতিবেদনে এই চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হলো যখন বিগত এক দশকে অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিওর একটি বিশেষ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

 

মানবাধিকার সংস্থাটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর আকুল চেষ্টায় ১ হাজার ৩১৭ জন মানুষ সাগরের বুকেই প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিপুলসংখ্যক মৃত মানুষের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন নিষ্পাপ শিশু রয়েছে, যা এই যাত্রাপথের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। এছাড়া চরম প্রতিকূল আবহাওয়া ও সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মুখে পড়ে অন্তত ২৭টি নৌকা আফ্রিকার উপকূল থেকে সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে আরোহীসহ মাঝসমুদ্রেই চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছে, যাদের আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

 

চলতি সপ্তাহে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ স্পেন সফরকালে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আচরণ ও নীতিমালার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কথা বলেছেন পোপ লিও। বিশ্বজুড়ে চলমান এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চরম দুর্দশা, সাগরে প্রতিনিয়ত মৃত্যু এবং মানবিক সংকটকে পোপ এমন এক বড় সমস্যা হিসেবে অবিহিত করেছেন যা বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। ইউরোপের দেশগুলোর এই সংকট মোকাবিলায় আরও বেশি মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য মানবাধিকার সংস্থা ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি থাকা মৌরিতানিয়ার মতো উপকূলীয় দেশ বা জায়গাগুলোতে সাগরে অবৈধ পারাপার বন্ধের কঠোর প্রচেষ্টা ও রাষ্ট্রীয় পাহারা জোরদার করা হয়েছে। ফলে কোস্ট গার্ড বা বিভিন্ন দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর এই কড়া নজরদারি এড়ানোর জন্য অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বিকল্প পথ খুঁজছেন। এই বিপজ্জনক চেষ্টার অংশ হিসেবে দালালেরা এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আটলান্টিক মহাসাগরজুড়ে আরও দীর্ঘ, অজানা এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট বা পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা মৃত্যুর হারকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

এই সংস্থাটি তাদের পূর্ববর্তী তথ্যে উল্লেখ করেছে যে, গত ২০২৫ সালে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় সর্বমোট ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন অথবা চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিম আফ্রিকা উপকূলের মধ্যকার সর্বনিম্ন দূরত্ব হচ্ছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বা ৬২ মাইল। এছাড়া অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রায় সময়ই মরক্কো থেকে স্পেনের মধ্যবর্তী মাত্র ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি ভিন্ন সমুদ্রপথ দিয়ে সাঁতরে পার হওয়ার মতো চরম আত্মঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টাও করে থাকেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
এআই দিয়ে বানালেন শেষকৃত্যের ছবি
খুনের মামলা এড়াতে নিজের মৃত্যুর নাটক, এআই দিয়ে বানালেন শেষকৃত্যের ছবি

ভারতের উত্তর প্রদেশের মৌ জেলায় রাজকুমার রাজভর নামে ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নিজের মৃত্যুর ঘটনা সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালের একটি হত্যা মামলায় বিচার চলাকালে আদালতকে নিজের মৃত্যুর ব্যাপারে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি—এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রোববার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ ঘটনাটি প্রকাশ করেছে।   পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজভর ২০১৬ সালে যোগেশ সিং নামে এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি হন। ওই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে সুদর্শন রাজভর নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল। যোগেশ সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিচার চলার সময় রাজভর নিজের মৃত্যু হয়েছে—এমন একটি মিথ্যা পরিস্থিতি তৈরি করার পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তকারীরা দাবি করছেন।   তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মে প্রতিবেশী গাজীপুর জেলায় নিজের মৃত্যুর নাটক সাজানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা। একটি চিতায় মৃতদেহ পড়ে থাকার মতো ছবি তৈরি করা হয়। পুলিশ বলছে, একটি ছাগলের মৃতদেহ দাহ করার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবিতে এমনভাবে পরিবর্তন আনা হয়, যাতে সেটিকে রাজভরের নিজের শেষকৃত্য বলে মনে হয়। শেষকৃত্যের শোভাযাত্রা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার ছবিও সাজানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।   এরপর নিজের মৃত্যুর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব নথির মধ্যে মৃত্যুসনদও ছিল, যা মৌ পৌর কর্তৃপক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই মৃত্যুসনদ ও সংশ্লিষ্ট নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়। এতে আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে হত্যা মামলার আসামি আর জীবিত নেই।   ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজভরের মৃত্যুর দাবিসংক্রান্ত নথি জমা পড়ার পর হত্যা মামলায় তাঁর বিচারপ্রক্রিয়া অন্য আসামির মামলা থেকে আলাদা হয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া যখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখনই এই নথি জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে কীভাবে মৃত্যুসনদটি ইস্যু করা হলো এবং এই পরিকল্পনায় অন্য কেউ সহায়তা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   প্রায় ১৮ মাস ধরে আত্মগোপনে থাকার পর রাজভর নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন—এমন তথ্য পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। ২৫ অক্টোবর মৌ জেলার খোয়াজাজাহানপুর এলাকার কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।   ঘটনাটির আরেকটি দিকও তদন্ত করছে পুলিশ। রাজভর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যা মামলার বিচার এড়ানোর পাশাপাশি পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার দায় এড়ানোও তাঁর পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে অর্থসংক্রান্ত অভিযোগ এবং মৃত্যুর নাটক সাজানোর পেছনে অন্য কারও ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়।   পুলিশের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরও জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে রাজভর দাবি করেছেন, তাঁর দুই পরিচিত চিকিৎসক তাঁকে এমন পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে এই বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে; চিকিৎসক দুজনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়।   নিজের মৃত্যু সম্পর্কে ভুয়া তথ্য ও নথি ব্যবহারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক জালিয়াতির মামলাও করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁকে আবার জীবিত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতকে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   এ ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং সরকারি নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এআই দিয়ে ছবি তৈরি বা পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও সেই ছবি বাস্তব ঘটনার প্রমাণ নয়। বিশেষ করে মৃত্যু, পরিচয় কিংবা আইনি দায়বদ্ধতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুধু ছবি বা জমা দেওয়া নথির ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কতটা জরুরি, ঘটনাটি তা সামনে এনেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৫:১৩
প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা বাবুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকার কাছে প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

মাত্র ৫০.২ সেন্টিমিটার চওড়া গাড়ি তৈরি করে বিশ্বের সবচেয়ে সরু চালানো যায় এমন গাড়ির রেকর্ড গড়েছেন ইতালির মেকানিক আন্দ্রেয়া মারাজ্জি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে সরু গাড়ি বানালেন ইতালির মেকানিক! প্রস্থ মাত্র ৫০ সেন্টিমিটার

আর্জেন্টিনার সান্তিয়াগো দেল এস্তেরোতে ১০ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ১০ বছরের শিশু, পরীক্ষায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা! চলছে তদন্ত

নির্বাচনের আগে প্রচার চালাচ্ছেন নেতানিয়াহু
যু দ্ধের সাফল্য নাকি ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা, ইসরায়েলের নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষায় নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হা মলা, চলমান আঞ্চলিক সং ঘাত এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন ইসরায়েলিরা। এই নির্বাচনে একদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা পরিচালনার অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে হা মলার আগে সরকারের ব্যর্থতার জবাবদিহি—দুই বিষয়ই ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।   দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের ওই আকস্মিক হা মলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নি হত হন এবং ২৫১ জনকে জি ম্মি করা হয়। ওই ঘটনার পর গাজায় যু দ্ধ শুরু হয়। পরে লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সং ঘাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী বি ক্ষোভ এবং ইহুদিবিদ্বেষ বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।   হা মলার সময় ক্ষমতায় থাকা ইসরায়েলের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতানিয়াহুই এখনো দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে হা মলা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার দায় তাঁর ওপর কতটা বর্তায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকেরা ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, কীভাবে এত বড় হা মলা আগাম শনাক্ত করা যায়নি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে নেতানিয়াহুর সমর্থকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের মতে, হা মলার আগের ব্যর্থতার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে আঞ্চলিক সং ঘাতে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ ও অর্জনও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাঁদের একাংশ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে   নেতানিয়াহুর লিকুদ জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকট। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ছিলেন। বর্তমানে তিনি মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আইজেনকটের সঙ্গে রয়েছে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন টুগেদার জোট, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু এবং ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ জোটের সঙ্গে রয়েছে আরও পাঁচটি ধর্মীয় রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী দল। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টিকে লিকুদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন। ফলে ছোট দলগুলোর অবস্থানও নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আইজেনকটের সঙ্গে নেতানিয়াহুর একটি গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে। আইজেনকটের বক্তব্য, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব ইসরায়েলিদেরই নিতে হবে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে নিজের নেতৃত্বের অন্যতম শক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সদেরোতের মেয়র আলোন দাভিদির মতো নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি। তাঁদের যুক্তি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিজ্ঞতার কারণে নেতানিয়াহু এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। ভোটারদের সামনে যেসব ইস্যু ৭ অক্টোবরের হা মলার তদন্ত ছাড়াও সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এবারের নির্বাচনে বড় বিষয়। ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনাদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সং ঘাতে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সময়ে অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের অনেক পুরুষ পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষার কারণে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পেয়ে আসছেন। নেতানিয়াহু তাঁর জোটের ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে এই সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। বিরোধীরা আবার সামরিক নিয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আনার পক্ষে। নতুন সরকার গঠিত হলে এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিচার বিভাগ সংস্কারও ভোটারদের বিবেচনায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা সীমিত করার জন্য নেতানিয়াহুর উদ্যোগের সমালোচকেরা মনে করেন, এতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে সব ভোটারের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। ৭ অক্টোবরের হা মলা থেকে বেঁচে যাওয়া ২৫ বছর বয়সী শাচার জাফরান জানিয়েছেন, আগের নির্বাচনে তিনি নেতানিয়াহুকে ভোট দিলেও এবার নাফতালি বেনেটকে সমর্থন করার কথা ভাবছেন। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে ইসরায়েলিদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দেশকে বিভক্ত করছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর সমালোচক ও সমর্থক—দুই পক্ষের ভোটারদের কাছেই ৭ অক্টোবরের ঘটনার জবাবদিহি এবং দেশের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নির্বাচনের ফল শুধু সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনাই নয়, বরং ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তানীতি, সামরিক নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের সংস্কারের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে। ফলাফল কখন জানা যাবে   মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রাথমিক এক্সিট পোল প্রকাশ করবে। তবে এগুলো চূড়ান্ত ফল নয়। প্রাথমিক ফল পরদিন প্রকাশিত হওয়ার কথা এবং আনুষ্ঠানিক ফল নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ৪ নভেম্বর। কোনো দল বা জোট ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এমন একজন দলীয় নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারেন, যাঁর নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ইসরায়েলের ভোটারদের সামনে তাই প্রশ্নটি শুধু কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নয়; বরং ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার জবাবদিহি, যু দ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং বিভক্ত সমাজকে একত্র করার দায়িত্ব কে নিতে পারবেন—সেই সিদ্ধান্তও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৭:৪২
তেহরানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় তিন দেশের প্রতিনিধিরা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানে যাচ্ছে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা

বিদ্যুৎহীন গাজায় সৌরবাতির আলোয় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন কারিম

বিদ্যুৎহীন গাজায় সৌরবাতির আলোয় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন কারিম

কানাডায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার

কানাডায় নারীকে পাচার ও ধর্ষণ, দুই বাংলাদেশির ১৪ ও ৪ বছরের কারাদণ্ড

ব্রিটিশ তরুণ ড্যানিয়েল জ্যাকসন
ইউরোপে নিজের নতুন দেশ প্রতিষ্ঠা করে ২১ বছরের তরুণ পেলেন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সম্মাননা

মাত্র ১৪ বছর বয়সে বন্ধুদের নিয়ে একটি নতুন দেশ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্রিটিশ তরুণ ড্যানিয়েল জ্যাকসন। নিজেকে সেই দেশের প্রেসিডেন্টও ঘোষণা করেন তিনি। সাত বছর পর ২১ বছর বয়সে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মানবিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পেয়েছেন এই তরুণ। গত ৯ অক্টোবর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ডেলিগেটস ডাইনিং রুমে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তবে এটি জাতিসংঘের নিজস্ব কোনো পুরস্কার নয়। সম্মাননাটি দিয়েছে ইনস্টিটিউট অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি রিসার্চ (আইপিপিডিআর) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।   ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলীয় নাগরিকত্বের অধিকারী ড্যানিয়েল জ্যাকসন ইংল্যান্ডের কেন্টের ডোভার শহরের বাসিন্দা। ইউরোপের বলকান অঞ্চলে ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার সীমান্তবর্তী একটি ভূখণ্ডকে নিজের দেশ হিসেবে ঘোষণা করে আলোচনায় আসেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দেশের নাম ‘ফ্রি রিপাবলিক অব ভারডিস’। দেশটির আয়তন মাত্র শূন্য দশমিক ৫০১ বর্গকিলোমিটার, যা প্রায় ১২৫ একর। জ্যাকসনের দাবি, পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হিসেবে ভারডিসকে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর লক্ষ্য। যদিও এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে কোনো স্বীকৃত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়নি ভারডিস।   ঘটনার শুরু ২০১৯ সালে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে মানচিত্র ঘাঁটতে গিয়ে ড্যানিয়েল জানতে পারেন, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যবর্তী দানিয়ুব নদীর তীরে কয়েকটি ছোট ভূখণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। এসব এলাকার একটি মানচিত্রে ‘পকেট থ্রি’ নামে পরিচিত। জ্যাকসনের দাবি, ওই জমির মালিকানা ক্রোয়েশিয়া কিংবা সার্বিয়া কেউই নিজেদের বলে স্বীকার করে না। এই যুক্তিতে ২০১৯ সালের ৩০ মে তিনি ভূখণ্ডটিকে স্বাধীন দেশ ঘোষণা করেন এবং নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।   প্রথমে বিষয়টি ছিল কয়েকজন কিশোরের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেটিকে একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন ড্যানিয়েল। ভারডিসের জন্য আলাদা জাতীয় পতাকা, সংবিধান, আইন, মন্ত্রিসভা, জাতীয় প্রতীক এবং পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ইংরেজি, ক্রোয়েশীয় ও সার্বীয় ভাষাকে দেশটির সরকারি ভাষা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ইউরো। ভারডিস কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের প্রায় ৪০০ জন নাগরিক রয়েছেন এবং প্রতি মাসে এক হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্বের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করেন। তবে নিজের ঘোষণা করা দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করাই এখন ড্যানিয়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৩ সালে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে বসতি স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার সীমান্ত পুলিশ তাঁদের আটক করে এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ড্যানিয়েলের ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ক্রোয়েশীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ওই এলাকায় বসতি স্থাপনের চেষ্টা সীমান্ত নিরাপত্তা বিধির পরিপন্থী। অন্যদিকে ড্যানিয়েল এই নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য দাবি করে আসছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের ডোভার ও সার্বিয়ার নোভি সাদে প্রতিষ্ঠিত প্রতিনিধি কার্যালয়ের মাধ্যমে ভারডিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এত বাধার মধ্যেও নিজের উদ্যোগ থেকে সরে আসেননি ড্যানিয়েল। সম্প্রতি আফ্রিকার আইভরি কোস্টে একটি প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভারডিস। সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের শৌচাগার ও পানির কূপ সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ সরবরাহে তারা সহযোগিতা করেছে। মানবিক এই কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ নিউইয়র্কে আয়োজিত হিউম্যানিটারিয়ান প্লাটিনাম লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে সম্মাননা পান ড্যানিয়েল।   অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসকে ড্যানিয়েল জানান, এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সম্মাননা গ্রহণ করা তাঁর জন্য একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে কিছুটা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা ছিল। মাত্র ২১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন আয়োজনে অংশ নেওয়ার সঙ্গে এখনো নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ভারডিস প্রতিষ্ঠার চিন্তাটি প্রথমে বন্ধুদের সঙ্গে ছোট একটি পরীক্ষা হিসেবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেটি যে এত মানুষের আগ্রহ তৈরি করবে, তা তখন কল্পনাও করেননি। একই সফরে ভারডিসের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক প্রতিনিধি জেফ্রি লি নিউইয়র্কে একটি যুবসমাবেশে বক্তব্য দেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। সেখানে মানবিক সহায়তা, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ড্যানিয়েলের মতে, এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে ভারডিসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পথেও এই যোগাযোগ কাজে লাগবে বলে আশা করছেন তিনি।   তবে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়ার অর্থ ভারডিসকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে, এমন নয়। পুরস্কার প্রদানকারী আইপিপিডিআর একটি স্বতন্ত্র বেসরকারি সংস্থা। জাতিসংঘের ভবনে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ভারডিসের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে ড্যানিয়েল নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করলেও তাঁর নেতৃত্বাধীন ভূখণ্ড এখনো একটি স্বঘোষিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র বা মাইক্রোনেশন হিসেবেই পরিচিত।   বর্তমানে ড্যানিয়েল জ্যাকসন নিজের পুরো সময় ভারডিসের কার্যক্রমে ব্যয় করছেন। আগে তিনি অনলাইন গেম রোবলক্সের জন্য ভার্চুয়াল জগৎ তৈরির কাজ করতেন। এখন আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, নাগরিকত্ব আবেদন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাই তাঁর প্রধান কাজ। মাত্র ১৪ বছর বয়সে শুরু হওয়া উদ্যোগকে বাস্তব রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ। তবে তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্ন।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ২:১৩
নতুন গাড়ি কেনার আনন্দ এক রাতেই পরিণত হলো হতাশায়

নতুন গাড়ি কিনে বাড়ির সামনে রাখলেন, সকালে দেখলেন আঁচড়ে ভরা! এক রাতেই আনন্দ পরিণত হতাশায়

১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

৩ তলা থেকে পানের পিক ফেলতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের ‘দ্য স্টারি নাইট’ বা ‘তারাভরা রাত’ চিত্রকর্মটি নিয়ে নতুন গবেষণা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাতের আকাশে লুকিয়ে কোন রহস্য, ভ্যান গঘের বিখ্যাত ছবিতে নতুন চমক

0 Comments