সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ক্ষুধার্তকে সাহায্য করতে গিয়ে পরিচয় জেনে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ভারতীয় লেখিকা

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১৩:১৫
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আয়ারল্যান্ড প্রবাসী ভারতীয় লেখিকা নিবেদিতা শুক্লা। প্রবাসে ভারতীয়দের বৈষম্যের শিকার হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্ষেপ করে একটি লম্বা পোস্ট লিখতে গিয়ে তিনি নিজেই এক পাকিস্তানি নাগরিকের প্রতি যে বর্ণবাদী আচরণ করেছেন, তা এখন নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিজের অমানবিক আচরণের বয়ান নিজেই দিয়ে নেটিজেনদের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন ‘দ্য মোমেন্টোস অব রুনঝ’ বইয়ের এই লেখিকা।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের ১০ ঘণ্টার ট্রানজিটের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে নিবেদিতা জানান, বিমানবন্দরে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও ক্ষুধার্ত মনে হওয়া এক ব্যক্তিকে দেখে সহানুভূতিশীল হয়ে তিনি নিজের সঙ্গে থাকা খাবার নিয়ে ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান। হিন্দিতে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি জানান যে তিনি ডাবলিন থেকে এসেছেন এবং তার গন্তব্য পাকিস্তানের করাচি। লেখিকার দাবি, গন্তব্য ‘পাকিস্তান’ শোনার পরই তিনি ওই ব্যক্তিকে খাবার না দিয়েই মুখ ফিরিয়ে নিজের আসনে ফিরে আসেন। এখানেই শেষ নয়, চরম অমানবিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি নিজের পোস্টে ‘যা মর’ (যাও, গিয়ে মরো) শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে পোস্টটির ইতি টানেন।

 

নিবেদিতা শুক্লার এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইন্টারনেটে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আশ্চর্যজনকভাবে, প্রবাসে নিজের পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের কারণে বৈষম্যের আক্ষেপ করা এই লেখিকা খোদ ভারতীয় নেটিজেনদেরই তোপের মুখে পড়েন। এক ভারতীয় ব্যবহারকারী কড়া সমালোচনা করে লেখেন যে, তিন প্যারাগ্রাফ ধরে পাসপোর্টের কারণে বৈষম্যের আক্ষেপ করে পরের মুহূর্তেই একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে তার পাসপোর্ট দিয়ে বিচার করেছেন লেখিকা; যা বৈষম্যের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। অনেকেই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণকে দায়ী করে মন্তব্য করেছেন যে, এ ধরনের ঘৃণ্য মানসিকতার কারণেই বিশ্বজুড়ে ভারতীয়দের অবহেলা ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে মনস্তাত্ত্বিক ‘প্রোজেকশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, লেখিকার অভিযোগগুলো মূলত তার নিজের চরিত্রের অন্ধকার দিকেরই স্বীকারোক্তি।

 

অন্যদিকে, পাকিস্তানি নেটিজেনরাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কোনো পাকিস্তানির তরফ থেকে এমন আচরণ তারা কখনো দেখেননি বা শোনেননি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমন সংকীর্ণ মানসিকতা পরিহার করার পরামর্শ দিয়ে অনেকেই বলেছেন, পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের ঊর্ধ্বে উঠে বিমানবন্দরে সবাই সমমানের যাত্রী এবং মানবিকতাই হওয়া উচিত প্রথম পরিচয়। তবে নিজের দেশের মানুষই এমন বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। সব মিলিয়ে নিবেদিতার এই পোস্টটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয়তাবাদী সংকীর্ণতা, বৈষম্য ও মানবিকতা নিয়ে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
প্রতীকী ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
মাদুরোকে ধরার আগে এআইয়ের সহযোগীতা নিলেন ট্রাম্প, ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ফাঁস!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করলে দেশটির জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রককে প্রশ্ন করেছিলেন বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে মাদুরোকে আটক করার প্রায় এক মাস আগে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে তিনি গ্রকের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তর করেন। এর মধ্যে ছিল তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি।   একপর্যায়ে ট্রাম্প জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র যদি মাদুরোকে আটক করে, তাহলে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ কীভাবে বিষয়টি গ্রহণ করবে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রক মাদুরোকে অত্যন্ত অজনপ্রিয় ও দমনমূলক শাসক হিসেবে বর্ণনা করে এবং ধারণা দেয় যে অনেক ভেনেজুয়েলান তাঁর পতনকে স্বাগত জানাতে পারেন।   এর প্রায় এক মাস পর, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। মার্কিন কর্মকর্তারা ওই অভিযানের আগে কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি ও মহড়া চালানোর কথা জানিয়েছিলেন।   অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গায় মাদুরোবিরোধী মানুষের আনন্দ প্রকাশের খবরও আসে। টাইমের সূত্রের দাবি, এ ঘটনা ট্রাম্পকে গ্রকের পূর্বাভাস সম্পর্কে আরও মুগ্ধ করে এবং তিনি চ্যাটবটটির সক্ষমতাকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করেন।   তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গ্রক সরাসরি ট্রাম্পকে মাদুরোকে আটক করার পরামর্শ দিয়েছিল—এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মূলত জানতে চেয়েছিলেন সম্ভাব্য আটকের পর ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে।   অর্থাৎ, “এআইয়ের পরামর্শ নিয়ে ট্রাম্প মাদুরোকে আটক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন”—এমন সরল দাবি এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। মাদুরোকে আটক করার অভিযানটি যে কয়েক মাসের সামরিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ফল ছিল, তা ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামরিক পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্রনীতিতে বাণিজ্যিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রশ্ন। বিশেষ করে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানের আগে সম্ভাব্য জনমত সম্পর্কে একটি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা করেছেন—এমন তথ্য এআইয়ের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ১১:২৭
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাংলাদেশের মোবাইলের গ্রাহক ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা। ছবি

চীনের বাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা, ছয় মাসে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার

ভারতীয় ব্যবসায়ী

চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ ডাকছেন ৭৭ বছরের ভারতীয় ব্যবসায়ী, মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল তাঁর কাণ্ড

চলন্ত গাড়ি হঠাৎ নদীতে পড়ে তিন কিশোর কিশোরীর মৃত্যু

চলন্ত গাড়ি হঠাৎ নদীতে পড়ে তিন কিশোর কিশোরীর মৃত্যু, চলছে তদন্ত

তথ্য গোপন ও পেশাগত দক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের ঘটনায় বৃটেনে ডা. নাজিবের নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশ
পেশাগত অসদাচরণ, চিকিৎসাসেবায় ঘাটতি ও তথ্য গোপনের দায়ে বৃটেনে ডা. নাজিবের নিবন্ধন বাতিল

পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি, চিকিৎসাসেবায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থতা এবং নতুন নিয়োগদাতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের ঘটনায় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসক ডা. সুরাইয়া কামাল নাজিবের চিকিৎসক নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনালের এক শুনানিতে তার বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ ও চিকিৎসাসেবায় ঘাটতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত আসে।   ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী, ডা. নাজিব ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ধ মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় যোগ্যতা অর্জন করেন। তিনি ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্ল্যাকপুল টিচিং হসপিটালসে অস্থায়ী কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   কনসালট্যান্ট পর্যায়ে তার কাজের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ২০২২ সালের অক্টোবরে তাকে রেজিস্ট্রার পর্যায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু পরে কিংস লিনের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে কনসালট্যান্ট পদে আবেদন করার সময় তিনি দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি এবং নিজের দক্ষতা নিয়ে ওঠা উদ্বেগ নতুন নিয়োগদাতাকে জানাননি। ট্রাইব্যুনাল এই তথ্য গোপন করাকে অসততা হিসেবে বিবেচনা করে।   ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার একটি প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন ডা. নাজিব। ফলে তিনি পরবর্তী পরীক্ষার ধাপে যেতে পারেননি। এর মাত্র দুই দিন পর চাকরির ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হলেও সেখানেও তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি। পরে ২০২৩ সালের মার্চে তিনি নতুন হাসপাতালে যোগ দেন।   ট্রাইব্যুনালের মূল্যায়নে, তার পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি এবং তথ্য গোপনের ঘটনায় রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ব্ল্যাকপুল কর্তৃপক্ষ তাকে তত্ত্বাবধানে পুনঃপ্রশিক্ষণের সুযোগ দিলেও তিনি সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি।   শুনানি শেষে মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনাল ডা. নাজিবের নাম যুক্তরাজ্যের চিকিৎসক নিবন্ধন থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে তার ওপর তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশও দেওয়া হয়েছে।   নোটিশ আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছানোর ২৮ দিন পর নিবন্ধন বাতিলের মূল নির্দেশ কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এর মধ্যে তিনি আপিল করলে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৯:১১
কাশ্মীরে অভিযানে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ভারতের দাবি চ্যালেঞ্জ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নিহতের দাবি চ্যালেঞ্জ, সাবেক সেনাকে সংবাদ সম্মেলনে আনল পাকিস্তান

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে সরকারি শিক্ষায় সম্ভাব্য ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থীর বিশাল বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে চিলিতে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে ড্রোন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রে ড্রোন হামলা

যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরীর সঙ্গে অনলাইন প্রেম, আসল বয়স-পরিচয় লুকিয়ে ভারত থেকে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবক
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরীর সঙ্গে অনলাইন প্রেম, আসল বয়স-পরিচয় লুকিয়ে ভারত থেকে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আসল বয়স ও পরিচয় লুকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক কিশোরীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে প্রীত পঙ্কজ জৈন নামের এক ভারতীয় যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন পুলিশ। ৩১ বছর বয়সী ওই যুবকের বাড়ি ভারতের মুম্বাইয়ে। সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার পর ওই কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে ভারত থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিডসন কাউন্টিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।   ডেভিডসন কাউন্টি শেরিফ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর নর্দান ডেভিডসন কাউন্টির মেডোল্যান্ডস এলাকায় এক উবার চালক পুলিশকে জানান যে তার এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ যাত্রী এক কিশোরীকে অনুসরণ বা স্টকিং করছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায় এবং ওই ব্যক্তিকে আটক করে।   পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রীত পঙ্কজ জৈন নামের ওই যুবক দাবি করেন, তিনি তার অনলাইন প্রেমিকার জন্য কিছু উপহার রেখে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে যে ওই প্রেমিকা আসলে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী।   শেরিফ অফিসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস ডিভিশনের গোয়েন্দারা জৈনকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তার ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠান। তদন্তে জানা যায়, জৈন সামাজিক মাধ্যমে নিজের আসল বয়স ও পরিচয় গোপন করে নিজেকে কম বয়সী হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।   কিন্তু যখন কিশোরীটি তার আসল পরিচয় জানতে পারে, তখন সে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাকে ব্লক করে দেয়। আর এর পরপরই সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্দেশ্যে জৈন মুম্বাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটে যান।   গ্রেপ্তারের পর জৈনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কের যৌন শোষণের চার মাত্রার প্রথম ডিগ্রি, চার মাত্রার তৃতীয় ডিগ্রি এবং একবার যৌন চাঁদাবাজির (extortion) অভিযোগ আনা হয়েছে। ডেভিডসন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে জামিন ছাড়াই তাকে আটক রাখা হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। আগামী ৬ অক্টোবর ডেভিডসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে পুনরায় হাজির করার কথা রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৯:৮
মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচয়, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিলেন মিথিলা

অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচয়, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিলেন মিথিলা

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ধাক্কায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করলেন জয়শঙ্কর

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ধাক্কায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করলেন জয়শঙ্কর

0 Comments