সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

জার্মানি

ইহুদিদের সহ্য করতে পারিনা, তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধের নোটিশ
ইহুদিদের সহ্য করতে পারিনা, তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধের নোটিশ, জার্মান দোকানমালিকের  কারাদণ্ড স্থগিত

জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় ফ্লেন্সবুর্গ শহরে দোকানের জানালায় ইহুদিদের প্রবেশ নিষিদ্ধের নোটিশ টাঙানোর দায়ে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে শর্তসাপেক্ষে সাজা কার্যকর স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রবেশনের শর্ত হিসেবে তাঁকে লাডেলুন্ড কনসেনট্রেশন ক্যাম্প স্মৃতিসৌধে এক হাজার ২০০ ইউরো দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ফ্লেন্সবুর্গের স্থানীয় আদালত ১ জুন ২০২৬ এই রায় দেন।    জার্মান সংবাদমাধ্যম এনডিআর এবং আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম বেক আকটুয়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫। ওই দিন ব্যবসায়ী তাঁর দোকানের জানালায় প্রায় চার ঘণ্টা নোটিশটি দৃশ্যমান অবস্থায় রাখেন। পুলিশ আসার পর সেটি জানালা থেকে সরিয়ে নেন তিনি।  আদালত তাঁকে বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই নোটিশ জার্মানিতে বসবাসরত ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দিয়েছে এবং তাঁদের মানবিক মর্যাদায় আঘাত করেছে। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা পায় না বলেও আদালত জানান।    বিচারপ্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী স্বীকার করেন, নোটিশটি তিনিই টাঙিয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে পড়ে শোনানো বিবৃতিতে তিনি অনুতাপ প্রকাশ করেন এবং জানান, ইহুদি সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। ভবিষ্যতে একই ধরনের কাজ করবেন না বলেও জানান।  পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গাজা যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁর পরিচিত ইহুদিদের সবাই ওই যুদ্ধের বিরোধিতা করেন না। পরে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত ছিল। আদালতে একজন তদন্তকারী জানান, ইসরায়েল বিষয়ে জার্মান সরকারের নীতিকে ওই ব্যবসায়ী দ্বিচারিতা হিসেবে দেখতেন।    আদালত ঘটনাটিকে হঠাৎ আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গ্রহণ করেননি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নোটিশটি কম্পিউটারে তৈরি করে প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং এর ভাষা সচেতনভাবে নাৎসি আমলে ইহুদিদের বিরুদ্ধে বয়কটের আহ্বানকে স্মরণ করিয়ে দেয়।  রাষ্ট্রপক্ষ সাত মাসের স্থগিত কারাদণ্ড চেয়েছিল। আদালত ছয় মাসের সাজা দেন। ফলে রায়টিকে সরাসরি ছয় মাস কারাগারে পাঠানোর আদেশ বলা সঠিক নয়। কারাদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত রেখে প্রবেশনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে।   

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানির বিমানবন্দরে যাত্রীর স্যুটকেসে মিলল ৩৭টি বিষধর সাপ ও ৫৫টি টিকটিকি, হতবাক কর্মকর্তারা
জার্মানির বিমানবন্দরে যাত্রীর স্যুটকেসে মিলল ৩৭টি বিষধর সাপ ও ৫৫টি টিকটিকি, হতবাক কর্মকর্তারা

জার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে এক মেক্সিকান যাত্রীর স্যুটকেস থেকে অত্যন্ত অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৯২টি জীবন্ত সরীসৃপ উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। আপনার দেওয়া তথ্যে ৯২টি সাপ ও ৫৫টি টিকটিকির কথা বলা হলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন যাচাই করে দেখা গেছে স্যুটকেসটিতে মূলত ৩৭টি বিষধর সাপ এবং ৫৫টি টিকটিকিসহ সর্বমোট ৯২টি সরীসৃপ ছিল।   ৪৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পেশায় একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং তিনি মেক্সিকো থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে জার্মানিতে পৌঁছেছিলেন। বিমানবন্দরে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি চালান কর্মকর্তারা। এ সময় মাদক পরীক্ষায় তার শরীরে কোকেনের উপস্থিতিও পাওয়া যায়।   মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার পর শুল্ক কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর স্যুটকেস তল্লাশি করে রীতিমতো চমকে যান। সেখানে প্লাস্টিকের পাত্র, শ্যাম্পুর খালি বোতল, প্রসাধনীর কৌটা এবং মোজার ভাঁজে অত্যন্ত সুকৌশলে প্রাণীগুলোকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিমানবন্দরের শুল্ক কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন অভিনব পন্থায় ভয়ংকর বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি।   ছোট পাত্রে অক্সিজেনের অভাবে এবং দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে বেশ কয়েকটি প্রাণী মারা যায়। তবে জীবিত প্রাণীগুলোকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   জিজ্ঞাসাবাদে আটক ওই মেক্সিকান নাগরিক জানান, পরিচিত এক ব্রাজিলীয় ব্যক্তির অনুরোধে তিনি প্রাণীগুলোকে ইউরোপে নিয়ে আসছিলেন। তবে এমন গুরুতর অপরাধের কারণে জার্মান কর্তৃপক্ষ তাকে সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। বন্যপ্রাণী চোরাচালান ও মাদক সেবনের দায়ে তাকে সরাসরি ‘নিরাপত্তাঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইস্তাম্বুলগামী একটি ফিরতি ফ্লাইটে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানির কোলন শহরে কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে তদন্তের অংশ হিসেবে মানবসদৃশ রোবট জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জার্মানিতে রোবট দিয়ে কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, জব্দ মানবসদৃশ রোবট

জার্মানির কোলন শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মানবসদৃশ রোবটের মাধ্যমে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাতে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে কিশোরীটির কাছে গিয়ে রোবটটি তার নিতম্বে স্পর্শ করে এবং অশালীন ভঙ্গিতে শরীরের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার মতো নড়াচড়া করে। এ ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী রোবটটির মালিক এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী এক সহযোগীর বিরুদ্ধে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের অভিযোগও উঠেছে।   নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশের কোলন শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে মধ্যরাতের মধ্যে পামস্ট্রাসে ও হোহেনজোলার্নরিং সড়কের সংযোগস্থলে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে ওই কিশোরী তাঁর ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। এ সময় প্রায় চার ফুট উচ্চতার রোবটটি পেছন দিক থেকে তাঁর কাছে আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোবটটির আচরণকে সম্ভাব্য যৌন হয়রানির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চলছে।   ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ ম্যাগনুসস্ট্রাসে ও হোহেনজোলার্নরিংয়ের সংযোগস্থলের কাছে সন্দেহভাজন দুজনকে খুঁজে পায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক সেটিকে একটি ভক্সওয়াগেন গাড়ির পেছনের মালপত্র রাখার জায়গায় রেখেছিলেন। সেখান থেকে রোবটটি উদ্ধার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রোবটটি এবং সন্দেহভাজনদের দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে।   পুলিশের দেওয়া ছবিতে রোবটটিকে লাল ও সোনালি রঙের পোশাকে দেখা যায়। এর সাজসজ্জায় জনপ্রিয় কমিক চরিত্র আয়রন ম্যানের পোশাকের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে রোবটটিকে চীনে তৈরি ইউনিট্রি আর১ এয়ার মডেল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশি তদন্তে মডেলটির পরিচয় এবং ঘটনার সময় এটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি।   তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন, ঘটনার সময় রোবটটি কীভাবে কাজ করছিল এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দূর থেকে এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না। রোবটটির আচরণ পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনার মাধ্যমে ঘটেছে, নাকি কেউ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে এমন নড়াচড়া করিয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগ সম্ভাব্য যৌন হয়রানির অভিযোগটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী সঙ্গী ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার চালানোর সময় তাঁরা ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ভিডিওটির বিষয়বস্তু, সেটি কোথায় প্রচার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী এবং সন্দেহভাজনদের পরিচয়ও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।   মানবসদৃশ রোবট এখন শিল্পকারখানা, গবেষণাগার, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব রোবটের কিছু মডেল পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী চলে, আবার কিছু মডেল দূরনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও পরিচালনা করা যায়। ফলে কোনো রোবটের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠলে সেটি যান্ত্রিক ত্রুটি, সফটওয়্যারের নির্দেশনা নাকি মানুষের ইচ্ছাকৃত নিয়ন্ত্রণের ফল, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোলনের ঘটনাতেও পুলিশ ঠিক এই বিষয়গুলো যাচাই করছে।   এ ঘটনায় রোবটের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট মডেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল বা রোবটটি নিজে থেকে এমন আচরণ করেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। একইভাবে, কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণ করতে হলে যন্ত্রটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে।   পুলিশ জানিয়েছে, রোবট ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আরও মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী পিপল জার্মান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশের কোলন শাখা, পিপল ও দ্য টাইমস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
কিশোরীকে হয়রানির অভিযোগে তদন্তের আওতায় রোবট
রোবট দিয়ে কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, জার্মানিতে দুইজনের বিরুদ্ধে তদন্ত

জার্মানির কোলন শহরে রোবট ব্যবহার করে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌ ন হয় রা নির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী সঙ্গী ঘটনাটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আলামত হিসেবে রোবট ও সন্দেহভাজনদের দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। কোলন পুলিশের ১২ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে মধ্যরাতের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় কিশোরী তাঁর দুই বান্ধবীর সঙ্গে শহরের একটি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁর বাইরে ছিলেন। প্রায় ১ দশমিক ২০ মিটার উঁচু রোবটটি পেছন থেকে এগিয়ে এসে তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে এবং যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। পরে একটি ফক্সওয়াগন গাড়ির ট্রাংক থেকে লাল ও সোনালি রঙের রোবটটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, রোবটের মালিক সেটি গাড়িতে রেখেছিলেন। তদন্তের মূল বিষয় হলো, ঘটনার সময় রোবটটি কীভাবে কাজ করছিল এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না। আগে থেকে প্রোগ্রাম করা নির্দেশনা নাকি তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে এসব আচরণ ঘটেছে, তা পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। কোলন পুলিশের মুখপাত্র ক্রিস্টফ বেরমেল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। এমন ঘটনা তদন্তের অভিজ্ঞতা তাঁদের আগে ছিল না বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুপযুক্ত মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা তা নিয়ে ঠাট্টা করা ভুক্তভোগীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়াতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশি কর্মীরা
জার্মানিতে সাড়ে ৬ লাখের বেশি চাকরি, বিদেশি কর্মীদের জন্যও বাড়ছে সুযোগ

জার্মানিতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির (BA) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ ৬ লাখ ৫৩ হাজার চাকরি সংস্থাটিতে নিবন্ধিত ছিল। তবে এটিকে সরাসরি বিদেশিদের জন্য ৬ লাখ ৫৩ হাজার চাকরি বলা ঠিক হবে না, কারণ এসব পদে নিয়োগের যোগ্যতা, পেশা ও নিয়োগকর্তাভেদে শর্ত আলাদা।   জার্মানির শ্রমবাজারে বিশেষ করে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সালের সরকারি বিশ্লেষণে ১৫৭টি পেশায় দক্ষ কর্মীর সংকট চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও কারিগরি পেশা, রাঁধুনি, পেশাদার চালক এবং শিশুদের শিক্ষাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশা রয়েছে।   বিদেশি কর্মীদের গুরুত্বও জার্মানির শ্রমবাজারে বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের তুলনায় দক্ষ কর্মীর ঘাটতি থাকা পেশাগুলোতে বিদেশি কর্মীদের অংশ প্রায় ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।    কোন পেশায় সুযোগ বেশি?   বর্তমানে জার্মানিতে তুলনামূলকভাবে বেশি চাহিদা দেখা যাচ্ছে— নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা নির্মাণ ও কারিগরি কাজ পেশাদার ড্রাইভিং রাঁধুনি শিশু শিক্ষা ও পরিচর্যা সামাজিক কাজ জরিপ ও কারিগরি পেশা বিভিন্ন বিশেষায়িত দক্ষ পেশা তবে সব ধরনের চাকরিতে সমান সুযোগ নেই। জার্মানির সরকারি বিশ্লেষণ বলছে, কিছু পেশায় কর্মীর সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি। তাই শুধু চাকরির সংখ্যা দেখে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও জার্মান ভাষার জ্ঞান বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।    বিদেশিদের জন্য ভিসার সুযোগ   জার্মানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষ বিদেশি কর্মী আনার নিয়ম সহজ করেছে। নতুন Skilled Immigration Act-এর আওতায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে বিদেশি দক্ষ কর্মীরা জার্মানিতে কাজের সুযোগ পেতে পারেন।   ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট shortage occupation-এর ক্ষেত্রে EU Blue Card-এর জন্য বার্ষিক ন্যূনতম বেতনসীমা ৪৫,৯৩৪.২০ ইউরো। IT ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে অন্তত তিন বছরের সমমানের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে EU Blue Card-এর সুযোগ রয়েছে।   তবে ৬ লাখ ৫৩ হাজার চাকরি মানেই বিদেশিরা সরাসরি ৬ লাখ ৫৩ হাজার পদে আবেদন করতে পারবেন—এমন নয়। এটি জার্মানির Federal Employment Agency-তে নিবন্ধিত মোট চাকরির চাহিদার সংখ্যা। বিদেশি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে চাকরির যোগ্যতা, স্বীকৃত শিক্ষাগত সনদ, অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং প্রযোজ্য ভিসা বা আবাসন আইনের শর্ত পূরণ করতে হবে।   জার্মানির শ্রমবাজারে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। দেশটির সরকারি সংস্থাগুলোও জানিয়েছে, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে শ্রমবাজারে অভিবাসী কর্মীদের প্রয়োজন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানিতে ডানপন্থি দল এএফডির উত্থানে অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে এএফডির উত্থান, দেশটিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় অভিবাসীরা

জার্মানির পূর্বাঞ্চলে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় দেশটিতে বসবাসরত অনেক অভিবাসী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে বসবাস, কাজ এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের প্রতি বিরূপ আচরণ বেড়েছে।   জার্মানির বাল্টিক উপকূলীয় শহর রস্টকে বসবাসকারী শাহদ নাজিব এমনই একজন। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের হাত থেকে পালিয়ে এক দশকেরও বেশি আগে জার্মানিতে আশ্রয় নেন তিনি। স্বামী মাহমুদ হমুয়েশ ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানে নতুন জীবন গড়ে তুলেছেন। স্বামী একটি নাপিতের দোকানে কাজ করেন এবং নাজিব স্থানীয় স্কুলগুলোতে খাবার পরিবেশন করেন।   রয়টার্সকে নাজিব বলেন, সিরিয়া ছাড়ার সময়কার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনো তার মনে রয়েছে। কিন্তু জার্মানিতে এক দশকের বেশি সময় কাটানোর পরও বর্তমানে তিনি ভাবছেন, এই দেশটিতে তিনি ও তার পরিবার আগের মতো স্বাগত কি না।   রয়টার্স রস্টক ও কাছের শহর শভেরিনে অভিবাসী পরিবারের ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের বেশির ভাগই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের নিয়ে কটূক্তি ও বিরূপ আচরণের ঘটনা বেড়েছে। এসব আচরণের মধ্যে প্রকাশ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলা থেকে শুরু করে অপমানজনক মন্তব্য পর্যন্ত রয়েছে। এক নারী জানিয়েছেন, তার প্রতিবেশী বারান্দা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি তার ওপর ঢেলে দিয়েছিলেন।   নাজিবের নিজের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে ফেরার পথে একটি দোকানের কাছে এক বয়স্ক ব্যক্তি তাকে জার্মানিতে থাকার অধিকার নিয়ে কটূক্তি করেন বলে তিনি জানান। ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘এই দেশ জার্মানদের জন্য।’   নাজিব বলেন, রস্টকে যে ধরনের কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, সেটি তার জীবনে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, নিজের জীবন গড়ে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পরও কেউ তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখলে সেটি অন্যায়ের অনুভূতি তৈরি করে।   এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আসছে এমন এক সময়ে, যখন জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন রাজ্যে ২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে দলটিকে সবচেয়ে বড় দল হওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে দেখা হয়েছিল। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় আরেক রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে এএফডি প্রথমবারের মতো কোনো রাজ্য নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পায়।   ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী অবস্থান নিয়ে এএফডির যাত্রা শুরু হলেও ২০১৫ সালে তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলের সরকারের অভিবাসন নীতির পর দলটির অভিবাসনবিরোধী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। ওই সময়ে প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী ও শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করেন, যাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন সিরীয়।   এএফডির প্রধান প্রার্থী লাইফ-এরিক হোম অবশ্য বলেছেন, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অভিবাসনের ব্যাপারে তার দলের আপত্তি নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের জার্মানিতে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাদেরই দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। তবে সমালোচকদের মতে, অভিবাসন ও ‘রিমিগ্রেশন’ নিয়ে দলের বক্তব্যের কারণে বিদেশিদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।   মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নের সামাজিক গণতন্ত্রী রাজ্যপ্রধান মানুয়েলা শভেসিগ এক টেলিভিশন বিতর্কে এএফডির বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, যারা জার্মানিতে কাজ করছেন, কর ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন, তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক।   একই বিতর্কে মরক্কোর এক নকশাবিদকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই কর্মী নিয়মিত বর্ণবাদী কটূক্তির শিকার হচ্ছেন এবং এ কারণে তাকে হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে একজন প্রকৌশলী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হোম বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করলেও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও যাদের থাকার অধিকার নেই তাদের ফেরত পাঠাতে সরকারের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।   অভিবাসন নিয়ে এই রাজনৈতিক বিতর্কের অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী পটভূমির মানুষ কর্মরত। দেশটির পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের মতো এই অঞ্চলও কম জন্মহার ও বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতির মুখে পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।   জার্মানির শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জার্মান নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি এমন প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার সিরীয় নাগরিক দেশটিতে কাজ করছেন। তাদের বেশির ভাগই পূর্ণকালীন চাকরিতে নিয়োজিত এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন। সিরীয় নাগরিকদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলেও জার্মানিতে দীর্ঘদিন অবস্থানকারীদের কর্মসংস্থানের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, সাত বছর বা তার বেশি সময় ধরে জার্মানিতে থাকা সিরীয়দের ৬০ শতাংশের বেশি কর্মরত ছিলেন।   জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির উত্থানের পেছনে অভিবাসন ছাড়াও অর্থনৈতিক বৈষম্য, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিনের পূর্ব-পশ্চিম বিভাজনের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে দুই জার্মানি এক হওয়ার পর পূর্বাঞ্চলে কর্মসংস্থান ও আয় পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হলেও সম্পদের ব্যবধান এখনো উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালে পূর্বাঞ্চলে, বার্লিনসহ, গড় নিট সম্পদের পরিমাণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪৯ শতাংশ ছিল।   এদিকে অনেক সিরীয় নাগরিক নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফিরে যাওয়ার আশা করছেন। আবার নাজিব ও হমুয়েশের মতো কেউ কেউ জার্মানিকেই ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন। তবে রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন সেই সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   হমুয়েশ বলেন, তিনি চান না তার সন্তানরা যে সমাজকে নিজেদের ঘর মনে করে, সেখানে বড় হয়ে নিজেদের প্রত্যাখ্যাত মনে করুক। তার কাছে পরিবারের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ঘাঁটিতে সেনা পাঠাচ্ছে জার্মানি
রাশিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ঘাঁটিতে সেনা পাঠাচ্ছে জার্মানি, বাড়ছে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা!

রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করতে লিথুয়ানিয়ায় জার্মান সেনা মোতায়েন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াসের নির্দেশে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম দফায় কয়েক শ সেনাকে বাধ্যতামূলকভাবে এই দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।   লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির প্যানজারব্রিগেড ৪৫ ‘লিটাউয়েন’ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিগেডটির প্রয়োজনীয় পদগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এখনও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও লজিস্টিকস কর্মীর মতো দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে।   এই ঘাটতি পূরণে আগে স্বেচ্ছাসেবার ওপর জোর দেওয়া হলেও এখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্রিগেডটির প্রায় ২০ শতাংশ পদ এমন বাধ্যতামূলক নিয়োগের আওতায় পড়তে পারে। তবে জার্মান সেনাবাহিনী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে।   লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির এই সামরিক উপস্থিতি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জার্মানি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ লিথুয়ানিয়ায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ সেনা এবং প্রায় ২০০ বেসামরিক কর্মী নিয়ে একটি স্থায়ী সামরিক ব্রিগেড গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। পুরো ব্রিগেডের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের পর ন্যাটো পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া ও পোল্যান্ডকে ঘিরে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির নেতৃত্বে ন্যাটোর বহুজাতিক সামরিক উপস্থিতি ২০১৭ সাল থেকেই রয়েছে। ২০২৩ সালের ন্যাটো ভিলনিয়াস সম্মেলনের পর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জার্মানি সেখানে পূর্ণাঙ্গ একটি ব্রিগেড মোতায়েনের উদ্যোগ নেয়।   ন্যাটো জানিয়েছে, জার্মান ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এতে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, আর্টিলারি ও এয়ার ডিফেন্স সক্ষমতা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ায় বড় পরিসরের সামরিক মহড়াতেও অংশ নেয়।   সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত রোববার লিথুয়ানিয়ার আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন দেখা যাওয়ার পর ভিলনিয়াস বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। পরে সেটি ড্রোন নয়, পাখির ঝাঁক বলে নিশ্চিত করা হয়। এর কয়েক দিন আগে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনাও ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করে।   জার্মান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়ায় পূর্ণাঙ্গ জার্মান ব্রিগেড ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণভাবে কার্যক্ষম হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে রাশিয়ার কাছাকাছি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে জার্মানির স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি আরও বড় আকার নেবে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের চাকরি খোঁজার সুযোগ দিচ্ছে অপরচুনিটি কার্ড। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির অপরচুনিটি কার্ডে নতুন সুবিধা, ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন ৮ দেশের নাগরিক

জার্মানিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য চালু থাকা ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘শান্সেনকার্টে’ নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে যাওয়ার আগে আলাদা করে এই ভিসা না নিয়েও দেশটিতে প্রবেশ করে সেখানে বসেই অপরচুনিটি কার্ডের জন্য বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন।   জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ মোট আট দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে এই আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ড পেয়ে যাবেন। তাঁদেরও কার্ড পাওয়ার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। জার্মানির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ড মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর যোগ্য ও দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেয়।   ভিসা ছাড়াই যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে। জার্মানিতে পৌঁছে বাসস্থানে ওঠার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। এরপর দেশটিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। জার্মান কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ বড় শহরগুলোর অভিবাসন দপ্তরে সাক্ষাতের সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে।   অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ তালিকায় থাকা আট দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। তাঁদের জার্মানিতে যাওয়ার আগেই অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিকরা এই ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার সুবিধার আওতায় পড়ছেন না।   অপরচুনিটি কার্ড কী জার্মানির দক্ষ কর্মী আকর্ষণের নীতির অংশ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। সাধারণত কার্ডটি সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়।   এই কার্ড পাওয়ার জন্য দুটি প্রধান পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় কমপক্ষে ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান, বয়স, পেশাগত অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।   আবেদনকারীকেও জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদনকারীর প্রতি মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরো সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা দেখাতে হতে পারে।   জার্মানিতে পৌঁছানোর পর অপরচুনিটি কার্ডধারীরা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজও করতে পারেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে এবং চাকরির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য কাজের পরীক্ষামূলক সুযোগ নিতে পারেন।   তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়া আট দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও স্থানীয় নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাস বিশেষভাবে জানিয়েছে, বার্লিনে আগে থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা না থাকলে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ডকে দেখা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও কার্ড পাওয়ার জন্য তাঁদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে হবে।   সূত্র: জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জার্মান নারীকে  ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর
“সুযোগ পেলে আবারও করতাম” জার্মান নারীকে ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর

জার্মানির বাডেন-ভুর্টেমবার্গের ভিসলখ শহরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মনোরোগ ক্লিনিক থেকে পালিয়ে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সোমালি নাগরিক আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে ওঠা মামলায় আদালত তাকে মানসিক অসুস্থতার কারণে অপরাধের জন্য দায়ী নয় বলে বিবেচনা করেছে। ঘটনার পর তাকে আবারও ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসার আওতায় রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখনো ভেইনসবের্গের ক্লিনিকাম আম ভেইসেনহফে চিকিৎসাধীন।   ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভিসলখের সাইকিয়াট্রিশেস জেন্ট্রুম নর্ডবাডেনের ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি ইউনিট থেকে বের হওয়ার সময় আহমাদ এন. পালিয়ে যান। এর আগে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে তার চিকিৎসায় অগ্রগতি হওয়ায় ধাপে ধাপে কিছুটা ছাড়ের আওতায় তিনি প্রতিষ্ঠানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।   পালানোর পর তিনি শহরের একটি TEDi দোকানে যান। সেখানে ৩০ বছর বয়সী লিসা এস.-কে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তাকে ৩৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।   আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। আদালতের নথি ও জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে যৌন হয়রানি, শারীরিক হামলা, হুমকি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার মতো অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে হাইডেলবার্গের একটি আদালত মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে অপরাধের জন্য দায়ী না বলে বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তামূলক মানসিক চিকিৎসার আওতায় রাখার নির্দেশ দেয়।   তার অভিবাসন অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাডেন-ভুর্টেমবার্গের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ ছিল। তবে মানসিক চিকিৎসা ও আদালতের নির্দেশে তাকে জার্মানিতে রাখা হয়েছিল।   হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে কীভাবে এমন একজন ব্যক্তিকে ক্লিনিকের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তার পালিয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব ছিল কি না। চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তখন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়।   ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইডেলবার্গের ল্যান্ড কোর্টে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রসিকিউশন পক্ষের বক্তব্য ছিল, আহমাদ এন. প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত থাকায় ঘটনার সময় নিজের কাজের বেআইনি চরিত্র বুঝতে সক্ষম ছিলেন না। পরে তাকে শাস্তিমূলক কারাদণ্ডের পরিবর্তে মানসিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়।   ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে জার্মানির অভিবাসন ব্যবস্থা, মানসিকভাবে অসুস্থ অপরাধীদের ব্যবস্থাপনা এবং ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে সমালোচনা করা হয়। তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগগুলো মতামতভিত্তিক; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় বা অবহেলা নিয়ে পৃথকভাবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তদন্তের বিষয় রয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক মার্কিন সেনার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক মার্কিন সেনার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জার্মানিতে সামরিক দায়িত্বে থাকাকালীন দুই শিশুর ওপর ভয়ংকর মাত্রায় শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের দায়ে আটলান্টার এক সাবেক মার্কিন সেনাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। ৩৭ বছর বয়সী অ্যাডাম শুয়েটার নামের ওই অপরাধী ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জার্মানির গ্রাফেনওয়ের ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন।   বৃহস্পতিবার একজন ফেডারেল বিচারক তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আজীবন নজরদারিতে (সুপারভাইসড রিলিজ) রাখার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ইউরোপে অবস্থানকালে শুয়েটার ১০ বছরের কম বয়সী দুই শিশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন চালান। বিচারের সময় এক ভুক্তভোগী সাক্ষ্য দিয়ে জানান, শুয়েটার তাকে দোতলার জানালা দিয়ে বাইরে ধাক্কা দিয়ে শূন্যে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।   এই জঘন্য অপরাধের কথা কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। গত এপ্রিলে জুরি বোর্ড শুয়েটারকে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর ওপর চরম মাত্রার যৌন নিপীড়ন ও গুরুতর শারীরিক আঘাতের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।   মার্কিন বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, শুয়েটার মার্কিন সেনাবাহিনীর পোশাকের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। সমাজের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের চরম সহিংসতা ও যৌন শোষণের শিকার বানানোর মধ্যে কোনো সম্মান নেই। মার্কিন অ্যাটর্নি থিওডোর এস. হার্টজবার্গও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই রায় প্রমাণ করে যে অপরাধ সংঘটনের বহু বছর পর এবং মহাসাগরের ওপারে হলেও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানির রাউডারফেনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছয় বছরের কিলিয়ানের শেষ ইচ্ছা পূরণে এক অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুর ইচ্ছা ছিল বাড়ির পাশ দিয়ে কয়েকটি বাইক যাবে, এলেন ১৫ হাজার বাইকার

জার্মানির রাউডারফেনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছয় বছরের কিলিয়ানের ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন ১৫ হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল আরোহী। মোটরসাইকেলের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা কিলিয়ান জানালা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই বিশাল বহর দেখেছিল, শুনেছিল প্রিয় বাইকের গর্জন।   কিলিয়ানের ইচ্ছা ছিল খুব সাধারণ। সে চেয়েছিল, অনেকগুলো মোটরসাইকেল তার বাড়ির সামনে দিয়ে যাবে এবং সে সেগুলো দেখতে ও ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পারবে। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ইচ্ছার কথা জানালে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জার্মানির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইকাররা রাউডারফেনে ছুটে আসেন।    ২৪ জুলাই ২০২১-এ শুরু হয় ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ নামে ওই বিশেষ আয়োজন। পুলিশ জানিয়েছিল, এতে প্রায় ১৫ হাজার বাইকার অংশ নেন। কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ হাজারের মতো অংশগ্রহণকারীর হিসাবও দিয়েছিলেন। বিশাল বহরটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একের পর এক মোটরসাইকেল কিলিয়ানের বাড়ির সামনে দিয়ে যায়।    মোটরসাইকেলের পাশাপাশি সেখানে ছিল কোয়াড, ট্রাইক, স্কুটার ও অন্যান্য দুই চাকার যান। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাততালি দিয়ে বাইকারদের স্বাগত জানান। কিলিয়ানও বাড়ির জানালা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সেই দৃশ্য দেখেছিল। তার বাবা এই বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন।    কিলিয়ান তখন দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। মোটরসাইকেল ছিল তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসাগুলোর একটি। তাই হাজার হাজার অপরিচিত মানুষের এই উদ্যোগ তার জন্য ছিল জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।   তবে সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৭ আগস্ট ২০২১, আয়োজনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ছয় বছর বয়সী কিলিয়ান ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যায়।    তার চলে যাওয়ার পরও ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ আয়োজনটি মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। একটি শিশুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে রাস্তায় নেমে আসার সেই ঘটনা আজও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে সরাসরি হামলার হুমকি রাশিয়ার, যুক্তরাজ্যকেও সতর্ক করলেন পুতিন

ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন স্থাপনায় সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় রাশিয়া হামলা চালাতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বিষয়টি ‘সামরিক গোপনীয়তা’।   জার্মানি গত মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, গত মাসে লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশি তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।   এর পরই মেদভেদেভ জার্মানির বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলো সরাসরি হামলার লক্ষ্য হতে পারে। বার্লিনের আরও কিছু স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   গত ৪ আগস্ট লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এলাকায় একটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন পাওয়া যায়। জার্মান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমানের কাছে ছিল এবং এতে বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর ছিল। পরে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। জার্মান সরকার ঘটনাটিকে রাশিয়ার বৃহত্তর ‘হাইব্রিড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে দেখছে।   অভিযোগের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জার্মানি। পাশাপাশি বন শহরে রাশিয়ার কনস্যুলেট বন্ধ এবং বার্লিনে রাশিয়ান হাউসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রুশ নাগরিকদের প্রবেশে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।   তবে মস্কো জার্মানির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, বার্লিনের অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। পুতিনও জার্মানির পদক্ষেপকে গুরুতর ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   এদিকে যুক্তরাজ্যকে নিয়েও রাশিয়ার হুঁশিয়ারি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি দীর্ঘপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে আরও সক্ষম করে তুলতে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর মস্কো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।   কিরগিজস্তানে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিনকে প্রশ্ন করা হয়, রাশিয়া ব্রিটিশ ভূখণ্ডে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা বিবেচনা করছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এটি ‘সামরিক গোপনীয়তা’। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইউক্রেনকে ব্রিটিশ অস্ত্র সরবরাহের কারণে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।   সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জার্মানির পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপে রাশিয়ার কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা জোরদারের আলোচনা চলছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
এবারের গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু
এবারের গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু

জার্মানিতে এবারের গ্রীষ্মে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এবারের গ্রীষ্ম দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।   সোমবার (৩১ আগস্ট) গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার দিনে জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর (DWD) জানায়, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০০৩ সালে গড় তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ।   এবার জার্মানিতে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। প্রায় পাঁচ দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। জুনের শেষ দিকে দেশটির কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উঠেছিল।   রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (RKI) হিসাব অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুনের শেষের তীব্র তাপপ্রবাহেই মারা গেছেন প্রায় ৯ হাজার ৬০০ জন।   জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহ ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। সংস্থাটি বলছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।   তীব্র গরমের পাশাপাশি দীর্ঘ খরায়ও বিপর্যস্ত হয়েছে জার্মানি। পানির স্তর কমে যাওয়ায় রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় ফেরি চলাচলও বন্ধ রাখতে হয়েছে। পশ্চিম জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের দাবানল।   এদিকে প্রতিবেশী অস্ট্রিয়াতেও এবারের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ড উষ্ণ। দেশটির ২৬০ বছরের আবহাওয়া রেকর্ড অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্ম ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। প্রথমবারের মতো সেখানে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার পর রানওয়েতে রোবটসহ তদন্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ কাজে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি জার্মানির

জার্মানি লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও দেশটি কাজ করছে বলে জার্মান সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ভেল্ট আম সনটাগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তুত করা নতুন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনায় জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার সরকারকে দায়ী করবে, নাকি রুশ কোনো ব্যক্তিকে বা অপারেটিভকে দায়ী করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নির্ধারণ করা হবে।   ভেল্ট আম সনটাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানি এর আগে রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার বা বার্লিনে রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধের মতো যেসব পদক্ষেপ বিবেচনা করেছিল, নতুন পরিকল্পনা তার চেয়ে কঠোর হতে পারে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে আরও নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ও থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ গত সপ্তাহে লিপজিগের ঘটনার পেছনে যারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। মের্জ বলেছিলেন, জার্মান সরকার বিভিন্ন ধরনের গোপন হামলার জন্য দায়ীদের মূল্য দিতে বাধ্য করবে এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং শিগগিরই সরকার এর ফলাফল প্রকাশ করবে।   এদিকে জার্মান সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে লিপজিগ বিমানবন্দরের ড্রোন হামলার চেষ্টাকে প্রথম দিকের ধারণার চেয়ে বেশি গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের একটি আন্তোনভ কার্গো বিমানে হামলার চেষ্টায় ব্যবহৃত ড্রোনে বিস্ফোরক সংযুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনডিআর ও ডব্লিউডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে একটি নয়, একাধিক ড্রোন জড়িত থাকার ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।   লিপজিগের ঘটনার পাশাপাশি বার্লিনের কাছে একটি অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনাও জার্মান সরকারের অবস্থান আরও কঠোর করেছে বলে ভেল্ট আম সনটাগ জানিয়েছে। চলতি মাসে দেশটির কর্তৃপক্ষ রাজধানীর কাছের একটি জঙ্গলে মাটির নিচে পেশাদারভাবে তৈরি একটি গোপন স্থাপনা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটররা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে বিষয়টি তদন্ত করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে, এসব অস্ত্র রুশ গুপ্তচরদের জন্য মজুত করা হয়েছিল এবং মস্কোর নির্দেশে তাদের দিয়ে হত্যাকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা থাকতে পারে।   লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ নিয়ে বার্লিনের অবস্থান কঠোর হলেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড, নাশকতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রুশবিরোধী আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানিতে মার্কিন পর্যটককে ধ র্ষণের পর হ ত্যা, ৩২ বছর পর ডিএনএ প্রমাণে ৮১ বছরের বৃদ্ধের যাবজ্জীবন
জার্মানিতে মার্কিন পর্যটককে ধ র্ষণের পর হ ত্যা, ৩২ বছর পর ডিএনএ প্রমাণে ৮১ বছরের বৃদ্ধের যাবজ্জীবন

জার্মানির একটি আদালত ১৯৯৪ সালে মার্কিন পর্যটক অ্যামি লোপেজকে (২৪) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে শুক্রবার ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। দীর্ঘ ৩২ বছর পর ডিএনএ প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলেই চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব হয়েছে।   জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোবলেঞ্জের রাইন নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এহরেনব্রেইটস্টাইন দুর্গের কাছে ওই মার্কিন পর্যটকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল স্থানীয় কয়েকজন শিশু।   চলতি বছরের শুরুতে কোবলেঞ্জ পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ভুক্তভোগীকে শ্বাসরোধ করার পাশাপাশি পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত এবং একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।   হত্যার পর দীর্ঘ তিন দশক পুলিশ অপরাধীকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলেও, অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি বৃদ্ধাশ্রম থেকে 'হ্যান্স এস' নামের ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৯৯ সালে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার ডিএনএ পুলিশের কাছে সংরক্ষিত ছিল।   পরবর্তীতে সেই জিনগত তথ্য মুছে ফেলা হলেও, পুলিশ সন্দেহভাজন বৃদ্ধের নতুন লালার নমুনা সংগ্রহ করে। প্রসিকিউটররা জানান, এই নমুনার সাথে নিহত লোপেজের পোশাকে পাওয়া ডিএনএ-র হুবহু মিল পাওয়া যায়।   কোবলেঞ্জের আঞ্চলিক আদালত প্রমাণ পেয়েছে যে, অভিযুক্ত হ্যান্স এস ইয়ুথ হোস্টেলের রাস্তা দেখানোর অজুহাতে লোপেজকে একটি নির্জন পথে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে।   আদালত জানিয়েছে, অপরাধের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে অপরাধীর আগাম মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। বিচারকের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মূলত ধর্ষণের জন্য কোনো শিকার খুঁজছিল এবং দুর্ভাগ্যবশত টেক্সাস থেকে ঘুরতে আসা লোপেজ ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত ছিলেন।   প্রসিকিউটর অফিস জানায়, কয়েক দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এই কোল্ড কেসের সুরাহা করতে তদন্তকারীরা লোপেজের পোশাক এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০টি নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করেন। পরবর্তীতে একটি পুরুষ ডিএনএ পাওয়ার পর ২০২৪ সালে পুলিশ অপরাধীকে ধরতে আড়াই হাজার ইউরো পুরস্কার ঘোষণা করে।   এছাড়া 'আকতেনজাইচেন এক্সওয়াই' নামের একটি ট্রু-ক্রাইম প্রোগ্রামে মামলাটি প্রচারের পর স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই ঐতিহাসিক মামলায় নিহতের পরিবার সহ-বাদী হিসেবে যুক্ত ছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, চার শ্রেণির বিদেশিদের জন্য সহজ শর্তে সেটেলমেন্ট পারমিট
জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, চার শ্রেণির বিদেশিদের জন্য সহজ শর্তে সেটেলমেন্ট পারমিট

জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে চার শ্রেণির বিদেশি নাগরিক বিশেষ সুবিধায় সেটেলমেন্ট পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। দেশটির সরকারি অভিবাসন নির্দেশনায় এসব শ্রেণির জন্য তুলনামূলক সহজ শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন ইইউ ব্লু কার্ডধারী, জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং স্বনিযুক্ত বা ব্যবসায়ী ব্যক্তিরা।   সাধারণ নিয়মে জার্মানিতে স্থায়ী সেটেলমেন্ট পারমিটের জন্য কয়েক বছর বৈধভাবে বসবাস, নিজের খরচ চালানোর মতো আয়, পেনশন ব্যবস্থায় অবদান, জার্মান ভাষাজ্ঞান এবং দেশটির আইন ও সমাজ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞানসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়।   তবে দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে সাধারণ সময়ের তুলনায় দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। দক্ষ কর্মীদের জন্য সাধারণত যোগ্য রেসিডেন্স পারমিটে তিন বছর থাকার পাশাপাশি পেনশন ব্যবস্থায় অন্তত ৩৬ মাসের অবদান, নির্দিষ্ট চাকরি, আর্থিকভাবে স্বনির্ভরতা এবং জার্মান ভাষায় অন্তত B1 পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন।   জার্মানিতে পড়াশোনা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ শেষ করা ব্যক্তিদের জন্যও কিছু ক্ষেত্রে শর্ত সহজ করা হয়েছে। একইভাবে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং স্বনিযুক্ত ব্যক্তিরাও বিশেষ বিধানের আওতায় দ্রুত স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য যোগ্য হতে পারেন।   সেটেলমেন্ট পারমিট পেলে জার্মানিতে অনির্দিষ্টকাল বসবাস ও কাজ করার অধিকার পাওয়া যায়। ফলে অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের তুলনায় এটি বিদেশিদের জন্য অনেক বেশি স্থিতিশীল অভিবাসন মর্যাদা তৈরি করে।   তবে চার শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমিট পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত, আর্থিক সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান ও অন্যান্য যোগ্যতা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।    অর্থাৎ, জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করতে আগ্রহী বিদেশিদের জন্য দক্ষতা, শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসার ভিত্তিতে স্থায়ী হওয়ার একাধিক পথ রয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ভূমিকম্পের সময় ১০ নবজাতককে উদ্ধারে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন কলম্বিয়ার চিকিৎসক জার্মান সোমোয়ার। ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পের সময় জীবন বাজি রেখে ১০ শিশুকে বাঁচালেন, সেই চিকিৎসক পেলেন জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের নবজাতক বিভাগ থেকে ১০ শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে আলোচনায় আসা শিশু বিশেষজ্ঞ জার্মানিতে আরও উচ্চতর চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেড দে মেডিকোস হিস্পানোহাবলান্তেস এন আলেমানিয়া বা রেমা চিকিৎসক জার্মান আন্দ্রেস সোমোয়ারকে পেশাগতভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের সময়। অ্যান্টিওকিয়া বিভাগের আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকানার ষষ্ঠ তলায় তখন নবজাতক বিভাগে ১০টি শিশু ছিল। ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর চিকিৎসক সোমোয়ার অন্য চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে নিয়ে শিশুদের ভবন থেকে নিরাপদে বের করে আনেন।   সোমোয়ারের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রথমে রোগী ও স্বজনদের বের হওয়ার পথ দেখান। এরপর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা নবজাতকদের কাছে ফিরে যান। দুই চিকিৎসক ও তিন নার্সের সহায়তায় তারা একে একে শিশুদের কোলে নিয়ে ভবন থেকে বের করে আনেন। উদ্ধার করা শিশুদের মধ্যে একজন ওই দিনই জন্মেছিল বলে সোমোয়ার জানিয়েছেন।   নবজাতকদের মধ্যে যাদের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল, তাদের সবাইকে একইভাবে বের করা সম্ভব হয়নি। সোমোয়ার জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা কিছু শিশুর দায়িত্ব একজন সহকর্মী সামলাচ্ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় ওই সহকর্মী অন্য এক রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করছিলেন। অন্যদিকে, যারা নিজেরা নিরাপদে বের হতে পারছিল না, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার করা হয়।   ভূমিকম্পের পর সোমোয়ারের দুই নবজাতককে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দ্রুত কলম্বিয়ায় সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে আলোচনায় আসে। অ্যান্টিওকিয়ার গভর্নর আন্দ্রেস হুলিয়ান রেনদোনও তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সাহসিকতার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান।   সোমোয়ার মূলত কলম্বিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যা ও শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত পরিচয়ও অনলাইনে যাচাই করা যায়, যেখানে তার শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং ওই হাসপাতালের সঙ্গে কাজের তথ্য রয়েছে।   ভূমিকম্পের সময় তার ভূমিকার খবর জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেমার কাছেও পৌঁছে যায়। এরপর সংগঠনটি সোমোয়ারকে জার্মানিতে তার পেশাগত ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা সনদ জার্মানিতে স্বীকৃত করার প্রক্রিয়া, শিশু চিকিৎসায় তার বিশেষায়িত যোগ্যতা যাচাই এবং ভবিষ্যতে শিশু হৃদরোগ বিষয়ে আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণের পথে সহায়তার কথা জানানো হয়েছে।   তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেমা এখন পর্যন্ত তাকে সহায়তা করার উদ্যোগ ও আগ্রহের কথা জানিয়েছে এবং সোমোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছে। সংগঠনটি বিদেশি চিকিৎসকদের জার্মানিতে সনদ স্বীকৃতি, ভাষা শিক্ষা, নথিপত্রের অনুবাদ এবং বিশেষায়ন বা চাকরির প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তাই মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সব খরচ ইতোমধ্যে নিশ্চিতভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে, এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   রেমার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে চিকিৎসকদের পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সনদ স্বীকৃতি, চিকিৎসকদের জন্য জার্মান ভাষা শেখা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং হাসপাতাল খোঁজার মতো বিভিন্ন ধাপে সহায়তা দেওয়া হয়। সংগঠনটির সঙ্গে জার্মানিতে বসবাস ও কর্মরত ৪৫ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত রয়েছেন এবং ৯০০ জনের বেশি মানুষকে তারা প্রাথমিকভাবে পরামর্শ দিয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।   সোমোয়ারের জন্য জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগটি তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত পেশাগত অর্জন নয়, বরং ভূমিকম্পের মুহূর্তে তার নেওয়া সিদ্ধান্তের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের সেই উদ্ধার অভিযানে তিনি নিজের নিরাপত্তার চেয়ে হাসপাতালের সবচেয়ে অসহায় রোগীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।   কলম্বিয়ায় ১০ আগস্টের ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রেও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় সোমোয়ার ও তার সহকর্মীদের নবজাতক উদ্ধারের ঘটনা সেই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত মানবিক ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে।   সোমোয়ারের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, দুর্যোগের সময় চিকিৎসকদের দায়িত্ব শুধু রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো কখনো কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই রোগীর জীবন রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই সিদ্ধান্তই এবার কলম্বিয়ার এই শিশু বিশেষজ্ঞের সামনে জার্মানিতে নতুন পেশাগত সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানির হালবারস্টাডের বুরখার্ডি গির্জায় চলছে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও ধীরগতির অর্গান সংগীত পরিবেশনা। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির গান বাজছে জার্মানির এক অর্গানে, শেষ হবে ২৬৪০ সালে

জার্মানির পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট শহর হালবারস্টাডে একটি মধ্যযুগীয় গির্জার ভেতরে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির এবং দীর্ঘতম সংগীত পরিবেশনা। প্রায় ২৫ বছর ধরে একটি অর্গানে বাজছে একই সংগীত, যার সমাপ্তি হবে ২৬৪০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ পুরো পরিবেশনাটি চলবে মোট ৬৩৯ বছর।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সম্প্রতি এই দীর্ঘ সংগীত পরিবেশনায় বিরল একটি পরিবর্তন এসেছে। বুধবার অর্গানটিতে সাতটি স্বরের সঙ্গে আরও একটি নতুন স্বর যুক্ত করা হয়। এই পরিবর্তন ছিল পুরো ৬৩৯ বছরের প্রকল্পের মাত্র ১৭তম ‘কর্ড পরিবর্তন’, যা প্রকল্পটির প্রায় ৪ শতাংশ অগ্রগতির প্রতীক।   এই সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে জার্মানির হালবারস্টাড শহরের ঐতিহাসিক বুরখার্ডি গির্জায়। জন কেজ অর্গান প্রকল্পের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যানেলি বর্গম্যান বলেন, দ্রুতগতির এই পৃথিবীতে এই প্রকল্প মানুষকে ধীর হওয়া, থেমে ভাবা এবং বর্তমান মুহূর্তকে অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ করে দেয়।   এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২০০০ সালে। তবে সংগীত পরিবেশনা শুরু হয় ২০০১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, মার্কিন সংগীতকার জন কেজের ৮৯তম জন্মদিনে। শুরুতেই প্রায় ১৭ মাস কোনো শব্দ শোনা যায়নি। নীরবতার সেই পর্ব শেষ হয় ২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, যখন প্রথমবারের মতো অর্গান থেকে সুর ভেসে আসে।   পরিবেশিত সংগীতটির নাম "ORGAN²/ASLSP (As SLow aS Possible)"। জন কেজ ১৯৮৫ সালে এটি পিয়ানোর জন্য রচনা করেন এবং ১৯৮৭ সালে অর্গানের উপযোগী করে সংশোধন করেন। তাঁর নির্দেশনা ছিল মাত্র একটি, সংগীতটি "যত ধীরে সম্ভব" বাজাতে হবে।   প্রকল্পে ব্যবহৃত অর্গানটি বৈদ্যুতিক বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে শব্দ সৃষ্টি করে। নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বর পরিবর্তনের জন্য হাতে নতুন পাইপ যুক্ত করা হয় অথবা কোনো পাইপ সরিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে অর্গানের সুরে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসে।   সাম্প্রতিক কর্ড পরিবর্তন দেখতে বুরখার্ডি গির্জায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ উপস্থিত হন। আরও অনেকে বাইরে বসে সরাসরি সম্প্রচার দেখেন। প্রথমে কয়েক মিনিট পুরোনো সুর শোনার পর অষ্টম পাইপটি যুক্ত করা হয়। এরপর নতুন সুরের সূক্ষ্ম পরিবর্তন মনোযোগ দিয়ে শোনেন উপস্থিত দর্শনার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে গির্জাজুড়ে করতালি ও "ব্রাভো" ধ্বনি ওঠে।   জন কেজ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক জেফ্রি লেপেনডর্ফ বলেন, পরিবর্তনটি খুবই সূক্ষ্ম হলেও নতুন একটি উচ্চ স্বর পুরো সংগীতের আবহে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর ভাষায়, "এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যা একই জায়গায় দাঁড়িয়েও কয়েক ইঞ্চি নড়লেই ভিন্নভাবে অনুভূত হয়।"   জন কেজ ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক পরীক্ষাধর্মী সংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ, পাশাপাশি সংগীততত্ত্ববিদ, শিল্পী ও দার্শনিক হিসেবেও পরিচিত।   ৬৩৯ বছরের সময়সীমা নির্ধারণের পেছনেও রয়েছে একটি ঐতিহাসিক কারণ। হালবারস্টাড শহরে ১৩৬১ সালে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক অর্গানের স্মরণে ২০০০ সালে এই প্রকল্প শুরু করা হয়। দুই বছরের ব্যবধান হিসাব করলে দাঁড়ায় ঠিক ৬৩৯ বছর।   প্রকল্পটির উদ্যোক্তাদের মতে, এটি শুধু একটি সংগীত পরিবেশনা নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতীক। কারণ এই পরিবেশনা শেষ হওয়ার আগেই বহু প্রজন্ম বদলে যাবে। নতুন স্বেচ্ছাসেবক, সংগীতজ্ঞ ও কারিগরদের হাতেই প্রকল্পটির দায়িত্ব ক্রমান্বয়ে হস্তান্তর হবে।   স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে আসা সংগীতপ্রেমী মাইকেল বার্নেট বলেন, জীবনে অন্তত একবার এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, "পৃথিবীতে এমন সংগীতানুষ্ঠান আর নেই। একই সঙ্গে ভাবতে অবাক লাগে, ২৬৪০ সালে পৃথিবী কেমন হবে, গির্জাটি থাকবে কি না, অর্গানটি তখনও বাজবে কি না।"   অর্গান নির্মাতা জোহানেস হুফকেন জানান, এই প্রকল্পের জন্য তৈরি করা পাইপগুলো অন্তত আরও ৫০০ বছর টিকে থাকার মতো করেই নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে পরিকল্পনা করার এক অসাধারণ উদাহরণ।   প্রকল্পের পরবর্তী কর্ড পরিবর্তনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ৫ অক্টোবর। আর ২৬৪০ সালের চূড়ান্ত পরিবেশনার জন্য উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তরযোগ্য বিশেষ টিকিট ইতোমধ্যে ২ হাজার ৬৪০ ইউরো মূল্যে বিক্রি শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
নিম্ন আদালতের জরিমানার রায় বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্ত দিয়েছে আপিল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলকে নাৎসিদের সঙ্গে তুলনা করা অপরাধ নয়: জার্মান আদালতের রায়

ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসি শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা কোনো অপরাধ নয় বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে জার্মানির একটি উচ্চতর আদালত। নাগরিকের বাকস্বাধীনতার অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে এক নারীকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং জার্মানির আইন বিষয়ক খবরের ওয়েবসাইট বেক অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। অভিযুক্ত নারী তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে নাৎসি শাসনামলের অপরাধের তুলনা করে একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে নাৎসিদের ব্যবহৃত স্বস্তিকা চিহ্ন এবং নাৎসি পার্টির পতাকার ছবি যুক্ত কিছু গ্রাফিক্স ব্যবহার করেছিলেন তিনি।   এ ছাড়া অন্য একটি পোস্টে একটি দেয়ালচিত্রের ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ডেভিড তারকার মাঝে স্বস্তিকা চিহ্ন আঁকা ছিল। চিত্রে দেয়ালের ওপর থেকে সৈন্যদের গুলি ছোঁড়ার দৃশ্য এবং নিচ দিয়ে রক্ত বয়ে যাওয়ার ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। পোস্টগুলোতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং গাজায় সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছিল।   জার্মানির সংবিধানে নিষিদ্ধ বা অসাংবিধানিক সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগে দেশটির লুদভিগসহাফেন শহরের একটি নিম্ন আদালত ওই নারীকে ২ হাজার ৪০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড দেয়। নিম্ন আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাইব্রুকেনের একটি উচ্চতর আঞ্চলিক আদালতে মামলাটির শুনানি হয়।   আপিল শুনানির পর জাইব্রুকেনের উচ্চতর আঞ্চলিক আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া ওই দণ্ড আদেশ পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অসাংবিধানিক সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের যে আইনি বাধা রয়েছে, এই ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। কারণ সংশ্লিষ্ট নারী কোনো নিষিদ্ধ আদর্শের প্রচার বা উসকানি দিতে এটি করেননি; বরং ইসরায়েল রাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে বাকস্বাধীনতার অংশ হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তবুও আফগান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল জার্মানি
কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তবুও আফগান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল জার্মানি

২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানদের হাতে যাওয়ার পর এই প্রথম কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও এক আফগান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠিয়েছে জার্মানি। মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, মঙ্গলবারের ওই ফ্লাইটে মোট ৩১ জন আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়, যাদের মধ্যে কেবল ওই একজনের কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। বাকি ৩০ জনেরই অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডোব্রিন্ডট জানান, ওই আফগান নাগরিক জার্মানিতে তার আশ্রয়ের আবেদন (অ্যাসাইলাম ক্লেইম) নাকচ হওয়ার পর আইনগতভাবে ডিপোর্টেশনের আওতাভুক্ত হয়ে পড়েন। আশ্রয়ের সুযোগ হারিয়ে তিনি ইউরোপের অন্য একটি দেশে অবৈধভাবে বসবাসের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেখানে ধরা পড়ার পর তাকে পুনরায় জার্মানিতে পাঠানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানি থেকে তাকে সরাসরি আফগানিস্তানে ডিপোর্ট করা হয়।   ২০২১ সালে তালেবানদের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে আফগানিস্তানে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত বিতর্কিত একটি বিষয়। ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের মানবাধিকার ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ রয়েছে। তারপরও ২০২৪ সালে নতুন করে আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানো শুরু করে জার্মানি এবং এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে ডিপোর্ট করেছে বার্লিন।   মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, জার্মানি থেকে ফেরত পাঠানো এসব আফগান নাগরিকের মধ্যে অন্তত একজনকে এরই মধ্যে হত্যার শিকার হতে হয়েছে, যা এই ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ দিকটিকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
প্রাইড উৎসবে গাড়ি হামলায় পুলিশের গুলিতে আবদুল বি. নিহত
প্রাইড উৎসবে গাড়ি হামলায় পুলিশের গুলিতে আবদুল বি. নিহত, ইসলামী চরমপন্থার যোগসূত্রের দাবি

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব চলাকালে ভিড়ের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি আবদুল বি. পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে ইসলামি চরমপন্থার সম্ভাব্য যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩২ শিকাগোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্লিনের প্রাইড অনুষ্ঠান চলাকালে একটি ভ্যান মানুষের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ার ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থামাতে গুলি চালায় এবং পরে তার মৃত্যু হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনের কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য চরমপন্থী সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   ঘটনাটি ঘটে বার্লিনের বড় এলজিবিটি+ উৎসব প্রাইড উদযাপনের সময়। গাড়িটি ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ার পর উৎসবস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।   পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   জার্মানিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসমাগমস্থলে যানবাহন ব্যবহার করে হামলার ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। এর আগে দেশটিতে বিভিন্ন হামলার পর বড় অনুষ্ঠান ও উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।   বার্লিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর উৎসবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০