- প্রচ্ছদ
- Topic
জার্মানি
জার্মানির রাউডারফেনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছয় বছরের কিলিয়ানের ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন ১৫ হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল আরোহী। মোটরসাইকেলের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা কিলিয়ান জানালা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই বিশাল বহর দেখেছিল, শুনেছিল প্রিয় বাইকের গর্জন। কিলিয়ানের ইচ্ছা ছিল খুব সাধারণ। সে চেয়েছিল, অনেকগুলো মোটরসাইকেল তার বাড়ির সামনে দিয়ে যাবে এবং সে সেগুলো দেখতে ও ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পারবে। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ইচ্ছার কথা জানালে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জার্মানির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইকাররা রাউডারফেনে ছুটে আসেন। ২৪ জুলাই ২০২১-এ শুরু হয় ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ নামে ওই বিশেষ আয়োজন। পুলিশ জানিয়েছিল, এতে প্রায় ১৫ হাজার বাইকার অংশ নেন। কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ হাজারের মতো অংশগ্রহণকারীর হিসাবও দিয়েছিলেন। বিশাল বহরটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একের পর এক মোটরসাইকেল কিলিয়ানের বাড়ির সামনে দিয়ে যায়। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি সেখানে ছিল কোয়াড, ট্রাইক, স্কুটার ও অন্যান্য দুই চাকার যান। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাততালি দিয়ে বাইকারদের স্বাগত জানান। কিলিয়ানও বাড়ির জানালা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সেই দৃশ্য দেখেছিল। তার বাবা এই বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। কিলিয়ান তখন দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। মোটরসাইকেল ছিল তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসাগুলোর একটি। তাই হাজার হাজার অপরিচিত মানুষের এই উদ্যোগ তার জন্য ছিল জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তবে সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৭ আগস্ট ২০২১, আয়োজনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ছয় বছর বয়সী কিলিয়ান ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যায়। তার চলে যাওয়ার পরও ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ আয়োজনটি মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। একটি শিশুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে রাস্তায় নেমে আসার সেই ঘটনা আজও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।
ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন স্থাপনায় সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় রাশিয়া হামলা চালাতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বিষয়টি ‘সামরিক গোপনীয়তা’। জার্মানি গত মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, গত মাসে লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশি তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এর পরই মেদভেদেভ জার্মানির বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলো সরাসরি হামলার লক্ষ্য হতে পারে। বার্লিনের আরও কিছু স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। গত ৪ আগস্ট লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এলাকায় একটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন পাওয়া যায়। জার্মান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমানের কাছে ছিল এবং এতে বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর ছিল। পরে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। জার্মান সরকার ঘটনাটিকে রাশিয়ার বৃহত্তর ‘হাইব্রিড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে দেখছে। অভিযোগের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জার্মানি। পাশাপাশি বন শহরে রাশিয়ার কনস্যুলেট বন্ধ এবং বার্লিনে রাশিয়ান হাউসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রুশ নাগরিকদের প্রবেশে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। তবে মস্কো জার্মানির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, বার্লিনের অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। পুতিনও জার্মানির পদক্ষেপকে গুরুতর ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে যুক্তরাজ্যকে নিয়েও রাশিয়ার হুঁশিয়ারি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি দীর্ঘপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে আরও সক্ষম করে তুলতে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর মস্কো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে। কিরগিজস্তানে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিনকে প্রশ্ন করা হয়, রাশিয়া ব্রিটিশ ভূখণ্ডে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা বিবেচনা করছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এটি ‘সামরিক গোপনীয়তা’। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইউক্রেনকে ব্রিটিশ অস্ত্র সরবরাহের কারণে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জার্মানির পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপে রাশিয়ার কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা জোরদারের আলোচনা চলছে।
জার্মানিতে এবারের গ্রীষ্মে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এবারের গ্রীষ্ম দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার দিনে জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর (DWD) জানায়, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০০৩ সালে গড় তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ। এবার জার্মানিতে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। প্রায় পাঁচ দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। জুনের শেষ দিকে দেশটির কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উঠেছিল। রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (RKI) হিসাব অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুনের শেষের তীব্র তাপপ্রবাহেই মারা গেছেন প্রায় ৯ হাজার ৬০০ জন। জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহ ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। সংস্থাটি বলছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তীব্র গরমের পাশাপাশি দীর্ঘ খরায়ও বিপর্যস্ত হয়েছে জার্মানি। পানির স্তর কমে যাওয়ায় রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় ফেরি চলাচলও বন্ধ রাখতে হয়েছে। পশ্চিম জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের দাবানল। এদিকে প্রতিবেশী অস্ট্রিয়াতেও এবারের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ড উষ্ণ। দেশটির ২৬০ বছরের আবহাওয়া রেকর্ড অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্ম ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। প্রথমবারের মতো সেখানে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
জার্মানি লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও দেশটি কাজ করছে বলে জার্মান সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ভেল্ট আম সনটাগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তুত করা নতুন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনায় জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার সরকারকে দায়ী করবে, নাকি রুশ কোনো ব্যক্তিকে বা অপারেটিভকে দায়ী করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নির্ধারণ করা হবে। ভেল্ট আম সনটাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানি এর আগে রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার বা বার্লিনে রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধের মতো যেসব পদক্ষেপ বিবেচনা করেছিল, নতুন পরিকল্পনা তার চেয়ে কঠোর হতে পারে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে আরও নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ও থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ গত সপ্তাহে লিপজিগের ঘটনার পেছনে যারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। মের্জ বলেছিলেন, জার্মান সরকার বিভিন্ন ধরনের গোপন হামলার জন্য দায়ীদের মূল্য দিতে বাধ্য করবে এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং শিগগিরই সরকার এর ফলাফল প্রকাশ করবে। এদিকে জার্মান সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে লিপজিগ বিমানবন্দরের ড্রোন হামলার চেষ্টাকে প্রথম দিকের ধারণার চেয়ে বেশি গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের একটি আন্তোনভ কার্গো বিমানে হামলার চেষ্টায় ব্যবহৃত ড্রোনে বিস্ফোরক সংযুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনডিআর ও ডব্লিউডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে একটি নয়, একাধিক ড্রোন জড়িত থাকার ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। লিপজিগের ঘটনার পাশাপাশি বার্লিনের কাছে একটি অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনাও জার্মান সরকারের অবস্থান আরও কঠোর করেছে বলে ভেল্ট আম সনটাগ জানিয়েছে। চলতি মাসে দেশটির কর্তৃপক্ষ রাজধানীর কাছের একটি জঙ্গলে মাটির নিচে পেশাদারভাবে তৈরি একটি গোপন স্থাপনা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে বিষয়টি তদন্ত করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে, এসব অস্ত্র রুশ গুপ্তচরদের জন্য মজুত করা হয়েছিল এবং মস্কোর নির্দেশে তাদের দিয়ে হত্যাকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা থাকতে পারে। লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ নিয়ে বার্লিনের অবস্থান কঠোর হলেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড, নাশকতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রুশবিরোধী আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
জার্মানির একটি আদালত ১৯৯৪ সালে মার্কিন পর্যটক অ্যামি লোপেজকে (২৪) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে শুক্রবার ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। দীর্ঘ ৩২ বছর পর ডিএনএ প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলেই চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব হয়েছে। জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোবলেঞ্জের রাইন নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এহরেনব্রেইটস্টাইন দুর্গের কাছে ওই মার্কিন পর্যটকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল স্থানীয় কয়েকজন শিশু। চলতি বছরের শুরুতে কোবলেঞ্জ পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ভুক্তভোগীকে শ্বাসরোধ করার পাশাপাশি পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত এবং একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যার পর দীর্ঘ তিন দশক পুলিশ অপরাধীকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলেও, অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি বৃদ্ধাশ্রম থেকে 'হ্যান্স এস' নামের ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৯৯ সালে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার ডিএনএ পুলিশের কাছে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে সেই জিনগত তথ্য মুছে ফেলা হলেও, পুলিশ সন্দেহভাজন বৃদ্ধের নতুন লালার নমুনা সংগ্রহ করে। প্রসিকিউটররা জানান, এই নমুনার সাথে নিহত লোপেজের পোশাকে পাওয়া ডিএনএ-র হুবহু মিল পাওয়া যায়। কোবলেঞ্জের আঞ্চলিক আদালত প্রমাণ পেয়েছে যে, অভিযুক্ত হ্যান্স এস ইয়ুথ হোস্টেলের রাস্তা দেখানোর অজুহাতে লোপেজকে একটি নির্জন পথে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে। আদালত জানিয়েছে, অপরাধের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে অপরাধীর আগাম মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। বিচারকের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মূলত ধর্ষণের জন্য কোনো শিকার খুঁজছিল এবং দুর্ভাগ্যবশত টেক্সাস থেকে ঘুরতে আসা লোপেজ ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউটর অফিস জানায়, কয়েক দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এই কোল্ড কেসের সুরাহা করতে তদন্তকারীরা লোপেজের পোশাক এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০টি নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করেন। পরবর্তীতে একটি পুরুষ ডিএনএ পাওয়ার পর ২০২৪ সালে পুলিশ অপরাধীকে ধরতে আড়াই হাজার ইউরো পুরস্কার ঘোষণা করে। এছাড়া 'আকতেনজাইচেন এক্সওয়াই' নামের একটি ট্রু-ক্রাইম প্রোগ্রামে মামলাটি প্রচারের পর স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই ঐতিহাসিক মামলায় নিহতের পরিবার সহ-বাদী হিসেবে যুক্ত ছিল।
জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে চার শ্রেণির বিদেশি নাগরিক বিশেষ সুবিধায় সেটেলমেন্ট পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। দেশটির সরকারি অভিবাসন নির্দেশনায় এসব শ্রেণির জন্য তুলনামূলক সহজ শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন ইইউ ব্লু কার্ডধারী, জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং স্বনিযুক্ত বা ব্যবসায়ী ব্যক্তিরা। সাধারণ নিয়মে জার্মানিতে স্থায়ী সেটেলমেন্ট পারমিটের জন্য কয়েক বছর বৈধভাবে বসবাস, নিজের খরচ চালানোর মতো আয়, পেনশন ব্যবস্থায় অবদান, জার্মান ভাষাজ্ঞান এবং দেশটির আইন ও সমাজ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞানসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে সাধারণ সময়ের তুলনায় দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। দক্ষ কর্মীদের জন্য সাধারণত যোগ্য রেসিডেন্স পারমিটে তিন বছর থাকার পাশাপাশি পেনশন ব্যবস্থায় অন্তত ৩৬ মাসের অবদান, নির্দিষ্ট চাকরি, আর্থিকভাবে স্বনির্ভরতা এবং জার্মান ভাষায় অন্তত B1 পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন। জার্মানিতে পড়াশোনা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ শেষ করা ব্যক্তিদের জন্যও কিছু ক্ষেত্রে শর্ত সহজ করা হয়েছে। একইভাবে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং স্বনিযুক্ত ব্যক্তিরাও বিশেষ বিধানের আওতায় দ্রুত স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য যোগ্য হতে পারেন। সেটেলমেন্ট পারমিট পেলে জার্মানিতে অনির্দিষ্টকাল বসবাস ও কাজ করার অধিকার পাওয়া যায়। ফলে অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের তুলনায় এটি বিদেশিদের জন্য অনেক বেশি স্থিতিশীল অভিবাসন মর্যাদা তৈরি করে। তবে চার শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমিট পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত, আর্থিক সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান ও অন্যান্য যোগ্যতা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ, জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করতে আগ্রহী বিদেশিদের জন্য দক্ষতা, শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসার ভিত্তিতে স্থায়ী হওয়ার একাধিক পথ রয়েছে।
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের নবজাতক বিভাগ থেকে ১০ শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে আলোচনায় আসা শিশু বিশেষজ্ঞ জার্মানিতে আরও উচ্চতর চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেড দে মেডিকোস হিস্পানোহাবলান্তেস এন আলেমানিয়া বা রেমা চিকিৎসক জার্মান আন্দ্রেস সোমোয়ারকে পেশাগতভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের সময়। অ্যান্টিওকিয়া বিভাগের আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকানার ষষ্ঠ তলায় তখন নবজাতক বিভাগে ১০টি শিশু ছিল। ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর চিকিৎসক সোমোয়ার অন্য চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে নিয়ে শিশুদের ভবন থেকে নিরাপদে বের করে আনেন। সোমোয়ারের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রথমে রোগী ও স্বজনদের বের হওয়ার পথ দেখান। এরপর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা নবজাতকদের কাছে ফিরে যান। দুই চিকিৎসক ও তিন নার্সের সহায়তায় তারা একে একে শিশুদের কোলে নিয়ে ভবন থেকে বের করে আনেন। উদ্ধার করা শিশুদের মধ্যে একজন ওই দিনই জন্মেছিল বলে সোমোয়ার জানিয়েছেন। নবজাতকদের মধ্যে যাদের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল, তাদের সবাইকে একইভাবে বের করা সম্ভব হয়নি। সোমোয়ার জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা কিছু শিশুর দায়িত্ব একজন সহকর্মী সামলাচ্ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় ওই সহকর্মী অন্য এক রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করছিলেন। অন্যদিকে, যারা নিজেরা নিরাপদে বের হতে পারছিল না, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার করা হয়। ভূমিকম্পের পর সোমোয়ারের দুই নবজাতককে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দ্রুত কলম্বিয়ায় সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে আলোচনায় আসে। অ্যান্টিওকিয়ার গভর্নর আন্দ্রেস হুলিয়ান রেনদোনও তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সাহসিকতার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান। সোমোয়ার মূলত কলম্বিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যা ও শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত পরিচয়ও অনলাইনে যাচাই করা যায়, যেখানে তার শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং ওই হাসপাতালের সঙ্গে কাজের তথ্য রয়েছে। ভূমিকম্পের সময় তার ভূমিকার খবর জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেমার কাছেও পৌঁছে যায়। এরপর সংগঠনটি সোমোয়ারকে জার্মানিতে তার পেশাগত ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা সনদ জার্মানিতে স্বীকৃত করার প্রক্রিয়া, শিশু চিকিৎসায় তার বিশেষায়িত যোগ্যতা যাচাই এবং ভবিষ্যতে শিশু হৃদরোগ বিষয়ে আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণের পথে সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেমা এখন পর্যন্ত তাকে সহায়তা করার উদ্যোগ ও আগ্রহের কথা জানিয়েছে এবং সোমোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছে। সংগঠনটি বিদেশি চিকিৎসকদের জার্মানিতে সনদ স্বীকৃতি, ভাষা শিক্ষা, নথিপত্রের অনুবাদ এবং বিশেষায়ন বা চাকরির প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তাই মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সব খরচ ইতোমধ্যে নিশ্চিতভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে, এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। রেমার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে চিকিৎসকদের পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সনদ স্বীকৃতি, চিকিৎসকদের জন্য জার্মান ভাষা শেখা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং হাসপাতাল খোঁজার মতো বিভিন্ন ধাপে সহায়তা দেওয়া হয়। সংগঠনটির সঙ্গে জার্মানিতে বসবাস ও কর্মরত ৪৫ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত রয়েছেন এবং ৯০০ জনের বেশি মানুষকে তারা প্রাথমিকভাবে পরামর্শ দিয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। সোমোয়ারের জন্য জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগটি তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত পেশাগত অর্জন নয়, বরং ভূমিকম্পের মুহূর্তে তার নেওয়া সিদ্ধান্তের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের সেই উদ্ধার অভিযানে তিনি নিজের নিরাপত্তার চেয়ে হাসপাতালের সবচেয়ে অসহায় রোগীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। কলম্বিয়ায় ১০ আগস্টের ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রেও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় সোমোয়ার ও তার সহকর্মীদের নবজাতক উদ্ধারের ঘটনা সেই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত মানবিক ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে। সোমোয়ারের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, দুর্যোগের সময় চিকিৎসকদের দায়িত্ব শুধু রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো কখনো কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই রোগীর জীবন রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই সিদ্ধান্তই এবার কলম্বিয়ার এই শিশু বিশেষজ্ঞের সামনে জার্মানিতে নতুন পেশাগত সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
জার্মানির পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট শহর হালবারস্টাডে একটি মধ্যযুগীয় গির্জার ভেতরে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির এবং দীর্ঘতম সংগীত পরিবেশনা। প্রায় ২৫ বছর ধরে একটি অর্গানে বাজছে একই সংগীত, যার সমাপ্তি হবে ২৬৪০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ পুরো পরিবেশনাটি চলবে মোট ৬৩৯ বছর। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সম্প্রতি এই দীর্ঘ সংগীত পরিবেশনায় বিরল একটি পরিবর্তন এসেছে। বুধবার অর্গানটিতে সাতটি স্বরের সঙ্গে আরও একটি নতুন স্বর যুক্ত করা হয়। এই পরিবর্তন ছিল পুরো ৬৩৯ বছরের প্রকল্পের মাত্র ১৭তম ‘কর্ড পরিবর্তন’, যা প্রকল্পটির প্রায় ৪ শতাংশ অগ্রগতির প্রতীক। এই সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে জার্মানির হালবারস্টাড শহরের ঐতিহাসিক বুরখার্ডি গির্জায়। জন কেজ অর্গান প্রকল্পের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যানেলি বর্গম্যান বলেন, দ্রুতগতির এই পৃথিবীতে এই প্রকল্প মানুষকে ধীর হওয়া, থেমে ভাবা এবং বর্তমান মুহূর্তকে অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ করে দেয়। এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২০০০ সালে। তবে সংগীত পরিবেশনা শুরু হয় ২০০১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, মার্কিন সংগীতকার জন কেজের ৮৯তম জন্মদিনে। শুরুতেই প্রায় ১৭ মাস কোনো শব্দ শোনা যায়নি। নীরবতার সেই পর্ব শেষ হয় ২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, যখন প্রথমবারের মতো অর্গান থেকে সুর ভেসে আসে। পরিবেশিত সংগীতটির নাম "ORGAN²/ASLSP (As SLow aS Possible)"। জন কেজ ১৯৮৫ সালে এটি পিয়ানোর জন্য রচনা করেন এবং ১৯৮৭ সালে অর্গানের উপযোগী করে সংশোধন করেন। তাঁর নির্দেশনা ছিল মাত্র একটি, সংগীতটি "যত ধীরে সম্ভব" বাজাতে হবে। প্রকল্পে ব্যবহৃত অর্গানটি বৈদ্যুতিক বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে শব্দ সৃষ্টি করে। নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বর পরিবর্তনের জন্য হাতে নতুন পাইপ যুক্ত করা হয় অথবা কোনো পাইপ সরিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে অর্গানের সুরে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসে। সাম্প্রতিক কর্ড পরিবর্তন দেখতে বুরখার্ডি গির্জায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ উপস্থিত হন। আরও অনেকে বাইরে বসে সরাসরি সম্প্রচার দেখেন। প্রথমে কয়েক মিনিট পুরোনো সুর শোনার পর অষ্টম পাইপটি যুক্ত করা হয়। এরপর নতুন সুরের সূক্ষ্ম পরিবর্তন মনোযোগ দিয়ে শোনেন উপস্থিত দর্শনার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে গির্জাজুড়ে করতালি ও "ব্রাভো" ধ্বনি ওঠে। জন কেজ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক জেফ্রি লেপেনডর্ফ বলেন, পরিবর্তনটি খুবই সূক্ষ্ম হলেও নতুন একটি উচ্চ স্বর পুরো সংগীতের আবহে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর ভাষায়, "এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যা একই জায়গায় দাঁড়িয়েও কয়েক ইঞ্চি নড়লেই ভিন্নভাবে অনুভূত হয়।" জন কেজ ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক পরীক্ষাধর্মী সংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ, পাশাপাশি সংগীততত্ত্ববিদ, শিল্পী ও দার্শনিক হিসেবেও পরিচিত। ৬৩৯ বছরের সময়সীমা নির্ধারণের পেছনেও রয়েছে একটি ঐতিহাসিক কারণ। হালবারস্টাড শহরে ১৩৬১ সালে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক অর্গানের স্মরণে ২০০০ সালে এই প্রকল্প শুরু করা হয়। দুই বছরের ব্যবধান হিসাব করলে দাঁড়ায় ঠিক ৬৩৯ বছর। প্রকল্পটির উদ্যোক্তাদের মতে, এটি শুধু একটি সংগীত পরিবেশনা নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতীক। কারণ এই পরিবেশনা শেষ হওয়ার আগেই বহু প্রজন্ম বদলে যাবে। নতুন স্বেচ্ছাসেবক, সংগীতজ্ঞ ও কারিগরদের হাতেই প্রকল্পটির দায়িত্ব ক্রমান্বয়ে হস্তান্তর হবে। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে আসা সংগীতপ্রেমী মাইকেল বার্নেট বলেন, জীবনে অন্তত একবার এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, "পৃথিবীতে এমন সংগীতানুষ্ঠান আর নেই। একই সঙ্গে ভাবতে অবাক লাগে, ২৬৪০ সালে পৃথিবী কেমন হবে, গির্জাটি থাকবে কি না, অর্গানটি তখনও বাজবে কি না।" অর্গান নির্মাতা জোহানেস হুফকেন জানান, এই প্রকল্পের জন্য তৈরি করা পাইপগুলো অন্তত আরও ৫০০ বছর টিকে থাকার মতো করেই নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে পরিকল্পনা করার এক অসাধারণ উদাহরণ। প্রকল্পের পরবর্তী কর্ড পরিবর্তনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ৫ অক্টোবর। আর ২৬৪০ সালের চূড়ান্ত পরিবেশনার জন্য উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তরযোগ্য বিশেষ টিকিট ইতোমধ্যে ২ হাজার ৬৪০ ইউরো মূল্যে বিক্রি শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসি শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা কোনো অপরাধ নয় বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে জার্মানির একটি উচ্চতর আদালত। নাগরিকের বাকস্বাধীনতার অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে এক নারীকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং জার্মানির আইন বিষয়ক খবরের ওয়েবসাইট বেক অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। অভিযুক্ত নারী তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে নাৎসি শাসনামলের অপরাধের তুলনা করে একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে নাৎসিদের ব্যবহৃত স্বস্তিকা চিহ্ন এবং নাৎসি পার্টির পতাকার ছবি যুক্ত কিছু গ্রাফিক্স ব্যবহার করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া অন্য একটি পোস্টে একটি দেয়ালচিত্রের ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ডেভিড তারকার মাঝে স্বস্তিকা চিহ্ন আঁকা ছিল। চিত্রে দেয়ালের ওপর থেকে সৈন্যদের গুলি ছোঁড়ার দৃশ্য এবং নিচ দিয়ে রক্ত বয়ে যাওয়ার ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। পোস্টগুলোতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং গাজায় সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছিল। জার্মানির সংবিধানে নিষিদ্ধ বা অসাংবিধানিক সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগে দেশটির লুদভিগসহাফেন শহরের একটি নিম্ন আদালত ওই নারীকে ২ হাজার ৪০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড দেয়। নিম্ন আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাইব্রুকেনের একটি উচ্চতর আঞ্চলিক আদালতে মামলাটির শুনানি হয়। আপিল শুনানির পর জাইব্রুকেনের উচ্চতর আঞ্চলিক আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া ওই দণ্ড আদেশ পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অসাংবিধানিক সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের যে আইনি বাধা রয়েছে, এই ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। কারণ সংশ্লিষ্ট নারী কোনো নিষিদ্ধ আদর্শের প্রচার বা উসকানি দিতে এটি করেননি; বরং ইসরায়েল রাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে বাকস্বাধীনতার অংশ হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানদের হাতে যাওয়ার পর এই প্রথম কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও এক আফগান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠিয়েছে জার্মানি। মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, মঙ্গলবারের ওই ফ্লাইটে মোট ৩১ জন আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়, যাদের মধ্যে কেবল ওই একজনের কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। বাকি ৩০ জনেরই অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডোব্রিন্ডট জানান, ওই আফগান নাগরিক জার্মানিতে তার আশ্রয়ের আবেদন (অ্যাসাইলাম ক্লেইম) নাকচ হওয়ার পর আইনগতভাবে ডিপোর্টেশনের আওতাভুক্ত হয়ে পড়েন। আশ্রয়ের সুযোগ হারিয়ে তিনি ইউরোপের অন্য একটি দেশে অবৈধভাবে বসবাসের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেখানে ধরা পড়ার পর তাকে পুনরায় জার্মানিতে পাঠানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানি থেকে তাকে সরাসরি আফগানিস্তানে ডিপোর্ট করা হয়। ২০২১ সালে তালেবানদের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে আফগানিস্তানে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত বিতর্কিত একটি বিষয়। ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের মানবাধিকার ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ রয়েছে। তারপরও ২০২৪ সালে নতুন করে আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানো শুরু করে জার্মানি এবং এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে ডিপোর্ট করেছে বার্লিন। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, জার্মানি থেকে ফেরত পাঠানো এসব আফগান নাগরিকের মধ্যে অন্তত একজনকে এরই মধ্যে হত্যার শিকার হতে হয়েছে, যা এই ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ দিকটিকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব চলাকালে ভিড়ের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি আবদুল বি. পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে ইসলামি চরমপন্থার সম্ভাব্য যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩২ শিকাগোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্লিনের প্রাইড অনুষ্ঠান চলাকালে একটি ভ্যান মানুষের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ার ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থামাতে গুলি চালায় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনের কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য চরমপন্থী সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে বার্লিনের বড় এলজিবিটি+ উৎসব প্রাইড উদযাপনের সময়। গাড়িটি ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ার পর উৎসবস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। জার্মানিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসমাগমস্থলে যানবাহন ব্যবহার করে হামলার ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। এর আগে দেশটিতে বিভিন্ন হামলার পর বড় অনুষ্ঠান ও উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বার্লিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর উৎসবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব ঘিরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার একদিন পর শহরের স্পানডাউ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থায় ওই সন্দেহভাজনকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সন্দেহভাজনের নাম আবদুল বাল্লুত। ২১ বছর বয়সী এই জার্মান নাগরিকের লেবানিজ বংশোদ্ভূত পরিবার রয়েছে। হামলার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক তল্লাশির পর রোববার সন্ধ্যায় বার্লিনের একটি বাগান-এলাকায় তাকে খুঁজে পায় পুলিশ। বার্লিন পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এরপর পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি মারা যান। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে ইসলামপন্থি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং ২০২৫ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেওয়ার চেষ্টা ও রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। শনিবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১০টার দিকে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কের কাছে, ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) বা প্রাইড আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানের নিকটে হামলাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সাদা মিনিভ্যান পথচারীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে হামলাকারী গাড়ি থেকে নেমে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কয়েকজনের ওপর হামলা চালান। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। ঘটনার পরপরই প্রাইড উৎসবের বাকি কর্মসূচি বাতিল করা হয় এবং বার্লিনজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হামলার আগে থেকেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। হামলার পর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু প্রাইড অংশগ্রহণকারীদের ওপর নয়, বরং স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য ও উন্মুক্ত সমাজের মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। বার্লিনজুড়ে নিহতের স্মরণে শোকসভা ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং অন্য কেউ এতে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে জার্মানির ফেডারেল ও বার্লিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রাইড উৎসব ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি)’ উদযাপনের সময় জনতার ওপর একটি ভ্যান তুলে দেওয়ার ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই আয়োজকরা পুরো অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করেন এবং পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করে। শনিবার সন্ধ্যায় বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্ক এলাকায়, প্রাইড শোভাযাত্রার নির্ধারিত পথের কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সাদা ভ্যান হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে সেটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং জনগণকে ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়। হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রোববার বার্লিন পুলিশ জানায়, তারা এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করেছে। পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তি ইসলামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পূর্ব থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তবে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এবং তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার এ ঘটনাকে শহরের স্বাধীনতা ও সহনশীলতার ওপর ‘নৃশংস হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে উপলক্ষে বার্লিনে কয়েক লাখ মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের স্টোনওয়াল আন্দোলনের স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ইউরোপের অন্যতম বড় এলজিবিটিকিউ+ অধিকারভিত্তিক জনসমাবেশ হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের হামলায় উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়।
জার্মানির থুরিঙ্গিয়া অঙ্গরাজ্যের কামসডর্ফ এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের সমপরিমাণ মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে ১৫টি বাড়িসহ পুরো একটি গ্রাম। সম্প্রতি প্রকাশিত ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সম্পত্তিটির বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো। বিক্রির জন্য নির্ধারিত এই বিশাল সম্পত্তিতে ১০০ বর্গমিটার আয়তনের ১৫টি একতলা ভবনের পাশাপাশি ৩০০ বর্গমিটারের একটি বড় প্রাক্তন ক্যান্টিন ভবন রয়েছে। সম্পত্তিটির বর্তমান মালিক ফ্রানৎস এবারিশ কেবল জমি বিক্রি করতে চান না, বরং এমন একজন ক্রেতা খুঁজছেন যিনি জায়গাটিকে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবেন। প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তদানীন্তন পূর্ব জার্মানির শিক্ষানবিশদের আবাসন ও পরবর্তীতে অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো এই গ্রামটি। দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর ২০১৪ সালে প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটি অনন্য আবাসিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এবারিশ সম্পত্তিটি কিনে নেন। তবে বর্তমানে এই পুরো প্রকল্পটি একটি বড় প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় জার্মান কর্তৃপক্ষের নিয়মানুসারে, দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত থাকার কারণে জায়গাটির পূর্বের আবাসিক মর্যাদা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে সেখানে নতুন করে কোনো স্থায়ী আবাসিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিশেষ অনুমোদন কিংবা সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রয়োজন পড়বে। মূলত অর্থসংকটের কারণে স্বাস্থ্যগ্রাম, ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরির নিজস্ব পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে না পেরে এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন এবারিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুকচ্ছলে ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ককেও এই প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য ও সতর্কবার্তা বেড়ে যাওয়ায় জার্মানির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ‘উচ্চ হুমকির পর্যায়ে’ উন্নীত করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেছেন, এখন জার্মানিতে যেকোনো সময় হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। শনিবার জার্মান সংবাদপত্র ভেল্ট আম জোনটাগে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ডোব্রিন্ট বলেন, আগে নিরাপত্তা ঝুঁকিকে ‘বিমূর্ত’ বা সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখা হলেও নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি এখন আরও গুরুতর বলে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে।” সম্ভাব্য হুমকির লক্ষ্য হতে পারে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তি। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে আসন্ন হামলার তথ্য রয়েছে কি না, কিংবা সতর্কতার মাত্রা বাড়ানোর পর সাধারণ মানুষের চলাচল ও জনসমাগমে কী ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্সের অনুরোধের পরও জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে কোনো মন্তব্য দেয়নি। ডোব্রিন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় ও বিদেশি গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য, সম্ভাব্য নাশকতা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত বিবেচনা করেই নিরাপত্তা পরিস্থিতির নতুন মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে এই ঘোষণা দেশে জরুরি অবস্থা জারি বা কোনো নির্দিষ্ট হামলা অনিবার্য—এমন অর্থ বহন করে না। বরং কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি ও বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পূর্বাঞ্চলীয় মাগডেবুর্গ শহরের একটি ঐতিহাসিক বড়দিনের বাজারে ভাড়া করা বিএমডব্লিউ গাড়ি নিয়ে মানুষের ভিড়ে উঠে পড়েন সৌদি আরবের এক চিকিৎসক। ওই ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন। গত মাসে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন জার্মানির একটি আদালত। এর আগে ২০২৪ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় সোলিঙ্গেন শহরের একটি উৎসবে ছুরি হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হন। ইসলামিক স্টেটের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হামলাটি চালানোর অভিযোগে এক সিরীয় নাগরিককে গত বছর দোষী সাব্যস্ত করেন জার্মান আদালত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন সতর্কবার্তার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনসমাগম এবং নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন কোনো বিধিনিষেধ বা বিশেষ নির্দেশনা শনিবার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।
জানালা ভেঙে কেবিনের বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়ায় রায়ানএয়ারের ফ্লাইটে। গুরুতর আহত যাত্রী হাসপাতালে, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল। গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে জানালা ভেঙে এক যাত্রী প্রায় বাইরে ছিটকে পড়ছিলেন। শেষ মুহূর্তে তাঁর পা শক্ত করে ধরে এবং অন্য দুই যাত্রীর সহায়তায় তাঁকে ভেতরে টেনে এনে প্রাণে বাঁচান তাঁর স্ত্রী। ঘটনাটি গত শুক্রবার ঘটে। ভুক্তভোগী ৬১ বছর বয়সী লিউবিসা কারোভিচ স্ত্রী স্বেতলানা গ্রকোভিচের সঙ্গে গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনে যাচ্ছিলেন। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইআরটির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গ্রকোভিচ জানান, তাঁর স্বামী প্রায় দুই মিনিট বুক পর্যন্ত উড়োজাহাজের বাইরে ঝুলে ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পা শক্ত করে ধরে ফেলি। তখন শুধু মনে হচ্ছিল, যদি মরতে হয়, আমরা একসঙ্গেই মরব।” স্বেতলানার ভাষ্য, তাঁর স্বামীর পাশের আসনে বসা এক নারী যাত্রীর সহায়তায় এবং আরও একজনের সহযোগিতায় তাঁরা তিনজন মিলে কারোভিচকে কেবিনের ভেতরে টেনে আনেন। এ সময় উড়োজাহাজে অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে এবং যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাটির সময় বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর কেবিনের ভেতরের বায়ুচাপ দ্রুত কমে যায় এবং উড়োজাহাজটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কারোভিচের সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় তিনি পুরোপুরি উড়োজাহাজের বাইরে ছিটকে পড়েননি। তাঁর মাথা ও কাঁধ কেবিনের বাইরে চলে গেলেও সিটবেল্ট এবং অন্য যাত্রীদের সহায়তায় তাঁকে ধরে রাখা সম্ভব হয়। স্বেতলানা জানান, তাঁর স্বামীর হাত গুরুতর জখম হয়েছে, শরীরে ঘর্ষণ ও পোড়ার মতো ক্ষত রয়েছে এবং ঘটনার ধাক্কায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি বেঁচে আছেন। এখন তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না, এমনকি পুরো ঘটনাটিও তাঁর মনে নেই।” রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, থেসালোনিকি থেকে মেমিংগেনগামী তাদের একটি ফ্লাইটে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উড়োজাহাজটি নিরাপদে ফিরে আসে। পরে এটি স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করে এবং এক আহত যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিয়োগ করা এক বিশেষজ্ঞের দাবি, ডান দিকের ইঞ্জিনের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে জানালায় আঘাত করায় এটি ভেঙে যায়। তবে তদন্তকারীরা এখনো এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ছিল বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের এবং এর বয়স প্রায় ১৮ বছর। ঘটনাটি উত্তর মেসিডোনিয়ার আকাশসীমায় ঘটায় সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। লিউবিসা কারোভিচ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে ইতালিতে স্বপ্নের ছুটি কাটাতে গিয়ে ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হয়েছেন ৩৬ বছর বয়সি স্টেফানি নামের এক নারী। গত অক্টোবরে বন্ধুদের সঙ্গে ইউরোপ ভ্রমণে যান পেশায় করপোরেট এক্সিকিউটিভ এই পর্যটক। বন্ধুরা দেশে ফিরে গেলেও ইতালির 'এক ইউরোতে বাড়ি' বিক্রির প্রকল্প এবং সিসিলির মার্সালার কাছে লো স্তাগনোন শহরে কাইটবোর্ডিংয়ের আকর্ষণে সেখানে থেকে যান তিনি। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই তাকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেয়, যখন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভিন্ন দুই ব্যক্তির হাতে দুবার অপহরণের শিকার হন তিনি। স্থানীয় একদল কাইটবোর্ডারদের সঙ্গে একটি আড্ডায় যোগ দিয়েছিলেন স্টেফানি, যা প্রাথমিকভাবে বেশ স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। আড্ডা শেষে অন্য একটি বারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক বিদেশি প্রবাসীর গাড়িতে ওঠেন তিনি। কিন্তু গাড়িতে ওঠার পরপরই চালক তীব্র গতিতে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। স্টেফানি জানান, চালক সরু সিসিলিয়ান রাস্তায় ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি ভয় পেয়ে চালককে থামাতে অনুনয়-বিনয় ও চিৎকার করলেও চালক গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দেন। এমনকি গাড়ির সামনের সিটে বসা ওই চালকের বন্ধুও পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে হতবাক হয়ে যান। উপায় না দেখে স্টেফানি চুপচাপ নিজের কাইটবোর্ড প্রশিক্ষককে নিজের লোকেশন পাঠিয়ে দেন। প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর গাড়িটি একটি দেয়ালঘেরা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে। চালকের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে এবং সামনের সিটে বসা বন্ধুটির কোনো প্রতিবাদ না দেখে স্টেফানি নিজেই বাঁচার পথ খুঁজতে থাকেন। গাড়ির দরজা আনলক করা আছে বুঝতে পেরেই তিনি গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। কেউ তাকে অনুসরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত একটি নিরাপদ জায়গায় লুকিয়ে থাকেন তিনি। কয়েক কিলোমিটার হাঁটার পর একটি শান্ত শহরে পৌঁছান স্টেফানি। সেখানে সতর্কবাতি জ্বালানো একটি গাড়িতে এক নিরাপত্তাকর্মীকে দেখতে পেয়ে ফোনের ট্রান্সলেশন অ্যাপ ব্যবহার করে তাকে সব ঘটনা খুলে বলেন। ওই নিরাপত্তাকর্মী তাকে হোটেলে পৌঁছে দিতে রাজি হন এবং নিজের বসকেও বিষয়টি ফোনে জানান। স্টেফানি ভেবেছিলেন তিনি এবার নিরাপদ। কিন্তু মাঝপথে ওই রক্ষী একটি গলিতে গাড়ি থামিয়ে ট্রান্সলেশন অ্যাপে লিখে স্টেফানিকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমাকে যে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি, এর বিনিময়ে তুমি আমাকে কী দেবে?' বিপদের আভাস পেয়ে আবারও গাড়ির দরজা খুলে সোজা একটি আঙুরবাগানে দৌড়ে পালিয়ে যান স্টেফানি। এরপর আর কোনো পথচারীর ওপর ভরসা না করে তিনি নিজেই হোটেলের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। পথে দূর থেকে কোনো গাড়ির হেডলাইট দেখলেই তিনি লুকিয়ে পড়তেন। এমনকি নিজের গতিপথের প্রমাণ রাখতে রাস্তার ধারের ভেন্ডিং মেশিন থেকে পানীয়ও কেনেন তিনি। অবশেষে নিরাপদে হোটেলে ফিরে পরদিন সারা দিন কেঁদে কাটান তিনি। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অন্যান্য পর্যটকদের সতর্ক করলেও স্টেফানি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রথম অপহরণকারী ইতালীয় ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন ইউরোপীয় প্রবাসী।
চলতি গ্রীষ্মের শুরু থেকে গত জুন মাসের শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে তীব্র দাবদাহ বা হিট ওয়েভে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৫ হাজার ১২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বার্লিনভিত্তিক দেশটির শীর্ষ জনস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের জুনের এই মৃত্যুর সংখ্যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত জার্মানিতে প্রতি বছর গরমে গড়ে ২ হাজার ৯০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু এবার মাত্র এক মাসের ব্যবধানেই সেই গড় সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস এবং জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের (ডিডব্লিউডি) মৃত্যু ও আবহাওয়ার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে আরকেআই। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যবর্তী সপ্তাহে জার্মানির ওপর দিয়ে সবচেয়ে তীব্র দাবদাহ বয়ে যায় এবং ঠিক এই এক সপ্তাহেই রেকর্ড ৪ হাজার ৩১০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। ওই সময়ে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর আগে এপ্রিল থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ৮১০ জনের মৃত্যুর হিসাব পাওয়া গিয়েছিল, যার প্রায় সবই জুনের ১৫ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে ঘটে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই তীব্র গরমে বয়স্ক মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন। গত ২৮ জুন পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৯৫০ জনের বয়স ছিল ৮৫ বছর বা তার বেশি। এছাড়া ৭৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ১ হাজার ৩২০ জন, ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫৫০ জন এবং ৬৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া রেকর্ড বা ইতিহাস পর্যালোচনায় ২০২৬ সালের জুন মাসটি ছিল দেশটির ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ জুন মাস। এর আগে কেবল ২০১৯ সালে এর চেয়ে বেশি গরম পড়েছিল। জুনের শেষের দিকে এই তাপদাহের কারণে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল এবং গত ২৭ জুন দেশের ৪৬টি আবহাওয়া স্টেশনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল।
জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বতন্ত্র ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব (Islamic Theology) অনুষদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর লক্ষ্যে বর্তমানে নির্মাণাধীন ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এ ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের অনুষদগুলোকে একই ক্যাম্পাসে একত্রিত করা হবে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (DW)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার শহরে ২০২১ সাল থেকে ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এর নির্মাণকাজ চলছে। নতুন এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা, গবেষণা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করা। নবগঠিত ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন মোহানাদ খোরশিদে বলেন, এই উদ্যোগের অংশ হতে পারা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের। মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এই অনুষদের প্রতিষ্ঠা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তার মতে, নতুন অনুষদে ইসলামের উদার, গবেষণাভিত্তিক এবং মুক্তচিন্তার ব্যাখ্যা নিয়ে কাজ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর প্রভাব শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। খোরশিদে এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজি-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠার ফলে ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব বিভাগ এখন নিজস্বভাবে পিএইচডি এবং অন্যান্য উচ্চতর গবেষণা ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান ও বিভিন্ন তহবিল পাওয়ার সুযোগও আরও বাড়বে। ২০১২ সালে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী এবং তিনজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজি। বর্তমানে সেখানে আটজন অধ্যাপক এবং ৫০ জনের বেশি শিক্ষক-কর্মকর্তা কাজ করছেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জার্মানির সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে দক্ষ শিক্ষকের চাহিদাও দ্রুত বেড়েছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া-তে প্রায় তিন হাজার ইসলাম ধর্মের শিক্ষকের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩০ জন। ফলে নতুন অনুষদটি শিক্ষক সংকট দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খোরশিদে জানান, ২০২৭ সাল থেকে ‘ইসলাম অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়ার্ক’ নামে একটি নতুন স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই কোর্সের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন, হাসপাতালভিত্তিক ধর্মীয় পরামর্শ, প্রবীণদের সেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক খাতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা হবে। নতুন অনুষদের নীতিমালায় ইসলাম ও গণতন্ত্রের সহাবস্থান, কোরআনের সমসাময়িক ও গবেষণাভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং আন্তধর্মীয় সংলাপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চরমপন্থা, ইসলামবাদ এবং ইহুদিবিদ্বেষের বিরোধিতার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। খোরশিদে বলেন, অনুষদ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রকাশের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তার মতে, বিশ্বের অনেক মানুষ ইসলামের উদার ও গবেষণানির্ভর ব্যাখ্যার প্রতি আগ্রহী। দীর্ঘমেয়াদে মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক ইসলামিক গবেষণা ও চিন্তাচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র নরবার্ট রবার্স বলেন, একই ক্যাম্পাসে খ্রিস্টান ও ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের অনুষদ প্রতিষ্ঠা আন্তধর্মীয় বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। অন্যদিকে জার্মানির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আনেত্তে শাভান এই উদ্যোগকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ইউরোপে একাডেমিক ধর্মতত্ত্ব চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
নিজেদের নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে জার্মানির একটি বিখ্যাত কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে ১২টি অত্যাধুনিক ও উচ্চপ্রযুক্তির সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই সামরিক চুক্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এই মেগা চুক্তিটি পাওয়ার জন্য জার্মানির থিসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হানভা ওশেন কোম্পানির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছিল। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে জার্মানির কোম্পানিটি এই বিলিয়ন ডলারের লাভজনক সরকারি চুক্তিটি হাতিয়ে নিয়েছে। কানাডার নৌবাহিনীতে বর্তমানে যে ৪টি ভিক্টোরিয়া-শ্রেণীর সাবমেরিন আছে, সেগুলো ১৯৯৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে পুরনো কেনা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের পুরনো এই ৪টি সাবমেরিনের মধ্যে ৩টিই বর্তমানে মেরামতের অধীনে রয়েছে। ফলে নিজেদের জলসীমার প্রতিরক্ষার জন্য এবারই প্রথম সম্পূর্ণ নতুন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাবমেরিন কিনতে যাচ্ছে কানাডা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আগামীতে ন্যাটোর সাথে দেশটির সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন কেনা এই সাবমেরিনগুলো মূলত আধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে শত্রুপক্ষ সহজে এদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারবে না। কানাডার উত্তর মেরু তথা আর্কটিক অঞ্চলের বিশাল জলসীমায় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা জোরদার করতে এগুলো ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে বরফে ঢাকা নর্থওয়েস্ট প্যাসেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত নৌপথে দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি মিশন পরিচালনা করতে এই জার্মান সাবমেরিনগুলো দারুণ কার্যকর। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি জাহাজগুলো আকারে বড় হলেও কানাডা শেষ পর্যন্ত জার্মানিকেই বেছে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ১২টি সাবমেরিন কেনার মূল খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি বা ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এই মেগা চুক্তির মধ্যে আগামী প্রায় অর্ধ শতাব্দীর রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই পুরো প্রজেক্টের মোট বাজেট শেষ পর্যন্ত ৭ হাজার কোটি বা ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করতে ফেডারেল সরকার ও জার্মান কোম্পানির মধ্যে আরও কয়েক বছর আলোচনা চলতে পারে। কানাডার ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট ব্যাপকভাবে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ করা। সম্প্রতি দেশটি ন্যাটোর দীর্ঘদিনের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপির ২ শতাংশ অর্জন করেছে। আমেরিকার ওপর সামরিক নির্ভরশীলতা কিছুটা কমিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক মজবুত করতেই কানাডা এই বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এর পাশাপাশি আমেরিকার কাছ থেকে ১৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার প্রতিশ্রুতিও বহাল রেখেছে ওটাওয়া।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের কোয়ালিশন সরকার তাদের দেশের সামরিক খাতের বাজেট বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধির একটি খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত নতুন বাজেট অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৭০ কোটি ইউরো, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার। বর্তমান বছরের তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। সোমবার দেশটির মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই খসড়া বাজেটে জার্মানির মোট ফেডারেল ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৪০ কোটি ইউরো। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশই ব্যয় করা হবে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং নতুন সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের পেছনে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মূলত ন্যাটোর প্রতিরক্ষা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমে আসার সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে দেশটির মূল সামরিক বাজেট যেখানে ৮ হাজার ২৭০ কোটি ইউরো ছিল, তা আগামী বছর এক লাফে অনেকখানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি ২০৩০ সালের মধ্যে এই ব্যয় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭০০ কোটি ইউরোতে নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। নতুন এই খসড়া বাজেটে কেবল ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা বাবদ ১ হাজার১৬০ কোটি ইউরো বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে এই বার্ষিক সহায়তার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে ৮৫০ কোটি ইউরো করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বড় অঙ্কের নতুন ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কেবল আগামী বছরের মূল ফেডারেল বাজেটেই ১১ হাজার ৮৭০ কোটি ইউরোর নতুন ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই খসড়া বাজেটটি চূড়ান্ত বাস্তবায়নের জন্য দেশটির পার্লামেন্টের অনুমোদন পেতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।