ভারতীয়

কানাডায় প্রেমিকের হাতে খু ন ২৩ বছরের ভারতীয় তরুণী
কানাডায় প্রেমিকের হাতে খু ন ২৩ বছরের ভারতীয় তরুণী, শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রেমিক

কানাডার এডমন্টনে নিজ বাড়িতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণী। নিহত ওই তরুণীর নাম দমনপ্রীত কৌর, যিনি ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লুধিয়ানা জেলার সামরালা এলাকার বাসিন্দা। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত তরুণীর ২২ বছর বয়সী প্রেমিক রিতিশ কুমারকে ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার’-এর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে কানাডার পুলিশ।   এডমন্টন পুলিশ সার্ভিসের (ইপিএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই (২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে সিলভারবেরি এলাকার একটি বাড়ি থেকে সন্দেহজনকভাবে আহত ও অচেতন অবস্থায় দমনপ্রীতকে উদ্ধার করা হয়। এরপর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জুলাই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হেফাজতে নেয়। গত ১৪ জুলাই এডমন্টন মেডিকেল এক্সামিনার অফিসের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এই মৃত্যুকে সুস্পষ্ট ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রথমে গোপন রাখা হলেও, গত ২৩ জুলাই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে, শ্বাসরোধ করার কারণেই দমনপ্রীতের মৃত্যু হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি ‘ইন্টিমেট পার্টনার হোমিসাইড’ বা সঙ্গীর দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং তারা আপাতত এই ঘটনায় অন্য কোনো সন্দেহভাজনকে খুঁজছে না। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গত ২২ জুলাই প্রেমিক রিতিশ কুমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদিকে, নিহত তরুণীর মরদেহ নিজ দেশ ভারতে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নিতে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আন্তর্জাতিক পরিবহন, আইনি নথিপত্র এবং শেষকৃত্যের বিপুল খরচ মেটাতে সাধারণ মানুষের কাছে অনুদানের আবেদন জানানো হয়েছে সেখানে। ইতোমধ্যে ২০ হাজার ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৯ হাজার ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ভিসা নীতিতে পরিবর্তন, সুবিধা হারাল ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা
ইরানের ভিসা নীতিতে পরিবর্তন, সুবিধা হারাল ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা

চলতি বছরে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা বাতিল করেছে বিশ্বের চারটি দেশ। দেশগুলো হলো—ইরান, বলিভিয়া, কেপ ভার্দে এবং নিকারাগুয়া। সম্প্রতি তারা নিজেদের অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এনে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন এই কঠোর ভিসা বিধি কার্যকর করেছে। এর ফলে এসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন থেকে ভারতীয়দের আগে থেকেই ভিসার আবেদন ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।   এই আকস্মিক পরিবর্তনের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভারতের পাসপোর্টের বৈশ্বিক অবস্থানের ওপর। সর্বশেষ প্রকাশিত ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পাসপোর্টের অবস্থান ৭৫তম থেকে কয়েক ধাপ পিছিয়ে ৮১তম স্থানে গিয়ে ঠেকেছে। বর্তমানে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের মাত্র ৫৫টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছেন, যা গত বছরেও ছিল ৫৭টি।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান আগেই সাধারণ ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য তাদের ভিসা অব্যাহতি কর্মসূচি স্থগিত করেছে। এর ফলে ভিসা ছাড়াই ইরানে প্রবেশের যে সহজ সুযোগ ছিল, তা হারিয়েছেন ভারতীয় পর্যটকরা। একইভাবে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়াও অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা বাতিল করে দেশটিতে ভ্রমণের জন্য আগে থেকেই অনলাইনে ই-ভিসার আবেদন ও অনুমোদনের অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক করেছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে এবং মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়া ২০২৬ সালের শুরু থেকে তাদের নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর করেছে। নিকারাগুয়া ভারতীয় নাগরিকদের ‘সি’ বা কনসালটেড ভিসা ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করায় সেখানে ভ্রমণের আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নেওয়া এখন সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিভিন্ন দেশের এমন অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের কারণে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর ফলে সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে যেমন দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে, তেমনি তাদের ভ্রমণ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরি
ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যে আটক ভারতীয় গবেষককে ফের বন্দি করতে চেয়েও ব্যর্থ ট্রাম্প প্রশাসন

ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের কারণে গত বছর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরিকে ফের হেফাজতে নেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বৃহস্পতিবার ২-১ ভোটে দেওয়া রায়ে ফোর্থ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস সুরিকে মুক্ত রাখার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে মামলাটি ভার্জিনিয়া থেকে টেক্সাসে স্থানান্তরের সরকারের দাবিও নাকচ করেছে আদালত।   এই রায় শুধু সুরির ব্যক্তিগত মামলার জন্য নয়, ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আটকাদেশের বৈধতা সরাসরি ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন কি না, সেই বৃহত্তর আইনি প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের মামলায় অন্য দুটি ফেডারেল আপিল আদালত বিপরীত সিদ্ধান্ত দেওয়ায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ইউএস সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।   ভারতীয় নাগরিক বদর খান সুরি ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির পোস্টডক্টরাল ফেলো। তিনি একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন। ২০২৫ সালের মার্চে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা ICE তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর প্রায় ছয় সপ্তাহ তাকে টেক্সাসের একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।   সুরির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তার গ্রেপ্তারের সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে তার যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি বিরূপ পরিণতি তৈরি করতে পারে বলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্ধারণ করেছিলেন। সরকার তার সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম এবং ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের বিষয়টিও সামনে এনেছিল।   সুরি ও তার আইনজীবীরা সরকারের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার মতামত প্রকাশ এবং তার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক স্ত্রীর পারিবারিক যোগাযোগের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সরকার অবশ্য তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বৈধতা দাবি করে আসছে।   ২০২৫ সালের মে মাসে ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সুরিকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। বিচারক তার হেফাজত নিয়ে গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং মামলাটি ভার্জিনিয়ার পরিবর্তে টেক্সাসে পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নেয়।   ২৩ জুলাই ফোর্থ সার্কিটের তিন বিচারকের প্যানেল ২-১ সিদ্ধান্তে সরকারের আপিল প্রত্যাখ্যান করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেন, সুরির মতো কোনো ননসিটিজেন তার চলমান ইমিগ্রেশন মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষা না করেই হেফাজতের বৈধতা নিয়ে ফেডারেল আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।   এখানেই মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে, হেবিয়াস কর্পাস। শতাব্দীপ্রাচীন এই আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে সরকারি হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তি আদালতের কাছে জানতে চাইতে পারেন, তাকে আটকে রাখার বৈধ আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না।   ফোর্থ সার্কিটের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেছেন, ইমিগ্রেশন মামলা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে সেই আইনি সুরক্ষা কার্যত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। কারণ ইমিগ্রেশন মামলা নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় তরুণী কিরণদীপ কৌর
যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় অবস্থানরত তরুণীকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরিকাঘাতে মৃ ত্যু!

যুক্তরাজ্যের পশ্চিম লন্ডনের হেইস এলাকায় স্বামী ও তিন মাসের শিশুর পাশে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণী কিরণদীপ কৌর। বিদেশে উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়া এই তরুণীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে তাঁর পরিবার ও প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং কিরণদীপের মরদেহ নিজ জন্মভূমি ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই সকালে পশ্চিম লন্ডনের হেইস এলাকার আক্সব্রিজ রোডের একটি বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় কিরণদীপ তাঁর স্বামী ও তিন মাস বয়সী সন্তানের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন।   অভিযোগ, হঠাৎ এক ব্যক্তি ওই বাড়িতে ঢুকে কিরণদীপের ওপর হামলা চালায়। তাঁকে বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার শব্দ শুনে তাঁর স্বামী ঘুম থেকে জেগে উঠলেও ততক্ষণে হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।   জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে কিরণদীপকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।   ঘটনার পর পুলিশ ৪৪ বছর বয়সী ড্যানিয়েল শন জেমস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, একজনকে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের প্রাথমিক শুনানিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিহত পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন না এবং কিরণদীপের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   কিরণদীপ ২০২৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। তিনি ভারতের পাঞ্জাবের তারন তারান জেলার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, বিদেশে পড়াশোনা করে তিনি একটি ভালো ভবিষ্যৎ তৈরি করবেন। তাঁকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর জন্য দরিদ্র পরিবারটি প্রায় ২৫ লাখ রুপি খরচ করেছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।   কিরণদীপের মা ও ভাই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁরা মেয়েকে নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এমন মর্মান্তিক ঘটনার কথা তাঁরা কখনো কল্পনাও করেননি। তারা শুধু ন্যায়বিচার এবং কিরণদীপের মরদেহ দ্রুত গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ চান।   এদিকে মরদেহ ভারতে পাঠানো এবং শেষকৃত্যের খরচ বহনের জন্য যুক্তরাজ্যের সাউথহল এলাকার একটি গুরদ্বারা ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   কিরণদীপের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ভারতীয় ও পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয়-বংশোদ্ভূত চালকের ৫ বছরের সাজা I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, ভারতীয়-বংশোদ্ভূত চালকের ৫ বছরের সাজা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ব্যস্ত মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মাধ্যমে তিনজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় এক অবৈধ অভিবাসী ট্রাক চালককে মাত্র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   জশনপ্রীত সিং নামের ২১ বছর বয়সী ওই তরুণ চালকের এই লঘু সাজা নিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন সমাজে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি সত্ত্বেও আদালত থেকে এমন নামমাত্র শাস্তি আসায় বিচারব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বংশোদ্ভূত অবৈধ অভিবাসী জশনপ্রীত সিং বর্তমান বাইডেন প্রশাসনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার অন্টারিওতে ১০ নম্বর ফ্রিওয়েতে তিনি তার ট্রাক নিয়ে বেপরোয়াভাবে অন্তত সাতটি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেন। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয় এবং চারপাশ এক ভয়াবহ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়।   এমন একটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত চালককে কেবল পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় দেশটির অভিবাসন নীতি ও আইনি কাঠামোর ফাঁকফোকর নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মানি চন্দ্র তেজা গাদ্দাম I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্কাইডাইভিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ২৮ বছরের ভারতীয়-বংশোদ্ভূত তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে স্কাইডাইভিং করার সময় আকস্মিক এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মানি চন্দ্র তেজা গাদ্দাম বোস্টনের বাসিন্দা এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত। নর্থওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে অরেঞ্জ শহরের ‘জাম্পটাউন স্কাইডাইভিং’-এ এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্কাইডাইভিংয়ের একপর্যায়ে হঠাৎ প্রবল দমকা হাওয়া তাকে প্রায় ৩০ ফুট নিচে সজোরে আছড়ে ফেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত তাকে পার্শ্ববর্তী আথল শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   নিহতের পরিবার জানিয়েছে, মৃত্যুর সময় গাদ্দামের কাছে ইউনাইটেড স্টেটস প্যারাসুট অ্যাসোসিয়েশনের ‘এ লাইসেন্স’ ছিল, যার মাধ্যমে কোনো প্রশিক্ষকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই এককভাবে স্কাইডাইভিং করার অনুমতি পাওয়া যায়। সম্ভাবনাময় এই তরুণের এমন অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও স্তব্ধ।   শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে খোলা একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাদ্দাম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, দয়ালু ও পরিশ্রমী এক তরুণ, যার নতুন কিছু শেখার ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার প্রবল আগ্রহ ছিল। জাম্পটাউন স্কাইডাইভিং কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূলত আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত বিরূপ আবহাওয়ার কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে।   তারা নিহত স্কাইডাইভারের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।   তরুণ এই সফটওয়্যার ডেভেলপারের লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি এক বছরের কিছু বেশি সময় ধরে বোস্টনের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টসে কর্মরত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে তিনি ভারতের হায়দ্রাবাদে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।   পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে বর্তমানে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের পাশাপাশি ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
রিদ্ধি চৌহান I  ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ নৌ ক্যাডেটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১৭ বছরের ভারতীয়-বংশোদ্ভূত কিশোরী

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০০ জন নেভি বা নৌ ক্যাডেটের নেতৃত্ব দিয়ে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছেন ১৭ বছর বয়সী এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোরী। নিউইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত বেঞ্জামিন এন. কার্ডোজো হাইস্কুলের শিক্ষার্থী রিদ্ধি চৌহান তার স্কুলের 'নেভি জুনিয়র রিজার্ভ অফিসার্স ট্রেনিং কর্পস' (এনজেআরওটিসি) ইউনিটের ব্যাটালিয়ন কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি এই কর্মসূচির সর্বোচ্চ স্টুডেন্ট র‍্যাঙ্ক। বয়সের তুলনায় তার এই বিশাল দায়িত্ব এবং অর্জন প্রবাসী কমিউনিটিসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।   বয়সে কিশোরী হলেও রিদ্ধির দৈনন্দিন রুটিন যেকোনো পেশাদার কর্মকর্তার মতোই কঠিন। সপ্তাহে চার দিন সকাল ৭টার আগেই তাকে স্কুলে উপস্থিত হয়ে ড্রিল বা কুচকাওয়াজ অনুশীলনের নেতৃত্ব দিতে হয়। এরপর ব্যাটালিয়ন পরিচালনা, প্রশিক্ষণ এবং ক্যাডেটদের কল্যাণমূলক কাজ তদারকির মাধ্যমে তার সারাদিন কাটে।   মার্কিন নৌবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট এনজেআরওটিসি মূলত শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা ও দলবদ্ধভাবে কাজ করার নেতৃত্ব শেখায়। এর আগে রিদ্ধি এই ইউনিটের একাডেমিক কমান্ডার, স্টেম (STEM) কমান্ডার, প্লাটুন লিডার এবং ইন্সপেকশন কমান্ডার হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্টেম কমান্ডার থাকা অবস্থায় তিনি ইউনিটের প্রথম 'সি-পার্চ' (SeaPerch) আন্ডারওয়াটার রোবট তৈরিতে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া একাডেমিক কমান্ডার হিসেবে জাতীয় একাডেমিক পরীক্ষায় তার দলকে তিনি প্রথম স্থান অর্জনে সহায়তা করেছেন।   নিউইয়র্কে বসবাসরত রিদ্ধির পারিবারিক শেকড় ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে। তার বাবা-মা রুচিকা ও দিলীপ চৌহান এবং চিকিৎসাপেশায় যুক্ত বোন কাহিনী গুপ্তা চৌহানের দেওয়া পারিবারিক মূল্যবোধ তার এই সাফল্যের অন্যতম প্রেরণা। পাশাপাশি, তিনি জানিয়েছেন যে বাপস (BAPS) স্বামীনারায়ণ আধ্যাত্মিক নেতা মহন্ত স্বামী মহারাজের শিক্ষা তার এই নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।   নিজের এই অসাধারণ যাত্রাকে সামনে এগিয়ে নিতে রিদ্ধি এখন 'নেভাল একাডেমি প্রিপারেটরি স্কুল'-এ প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা তাকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল একাডেমির একজন পূর্ণাঙ্গ নৌ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের দিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
চিকিৎসক I ছবি: সংগৃহীত
১৩ বছরের কিশোরীর হার্টের ভালভ উল্টো বসানোর অভিযোগ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি (ওএইচএসইউ) হাসপাতালের এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত হৃদরোগ সার্জনের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলার গুরুতর অভিযোগ এনে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাবা-মা। তাদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় কিশোরীর হার্টের কৃত্রিম ভালভ উল্টোভাবে বসানো হয়েছিল, যার ফলে সে কয়েক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে লাইফ সাপোর্টে ছিল।   আদালতে দাখিল করা মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে কিশোরীর জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য ওএইচএসইউ হাসপাতালে ওপেন-হার্ট সার্জারি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। পরে চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।   পরবর্তীতে কিশোরীকে সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন, পূর্ববর্তী অস্ত্রোপচারের সময় হার্টের কৃত্রিম ভালভটি উল্টোভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালভটি সঠিকভাবে প্রতিস্থাপন করা হলে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে।   মামলায় বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের ওই ভুলের কারণে কিশোরীকে দীর্ঘ সময় লাইফ সাপোর্টে থাকতে হয়েছে এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এ কারণে চিকিৎসা ব্যয়, ভবিষ্যৎ চিকিৎসা, শারীরিক ক্ষতি এবং মানসিক যন্ত্রণার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার দাবি করেছেন তার বাবা-মা।   মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. অশোক মুরলিধরন ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে ওএইচএসইউতে হৃদরোগ সার্জন হিসেবে কর্মরত।   তবে ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না। হাসপাতাল এখন পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেনি এবং আদালতেও অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি।   উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি সম্প্রতি ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও অভিযোগের ঘটনাটি ২০২৫ সালের আগস্টে ঘটে। পরে ২০২৬ সালের মে মাসের শেষ দিকে কিশোরীর পরিবার মামলা দায়ের করলে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ক্ষুধার্তকে সাহায্য করতে গিয়ে পরিচয় জেনে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ভারতীয় লেখিকা

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আয়ারল্যান্ড প্রবাসী ভারতীয় লেখিকা নিবেদিতা শুক্লা। প্রবাসে ভারতীয়দের বৈষম্যের শিকার হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্ষেপ করে একটি লম্বা পোস্ট লিখতে গিয়ে তিনি নিজেই এক পাকিস্তানি নাগরিকের প্রতি যে বর্ণবাদী আচরণ করেছেন, তা এখন নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিজের অমানবিক আচরণের বয়ান নিজেই দিয়ে নেটিজেনদের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন ‘দ্য মোমেন্টোস অব রুনঝ’ বইয়ের এই লেখিকা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের ১০ ঘণ্টার ট্রানজিটের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে নিবেদিতা জানান, বিমানবন্দরে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও ক্ষুধার্ত মনে হওয়া এক ব্যক্তিকে দেখে সহানুভূতিশীল হয়ে তিনি নিজের সঙ্গে থাকা খাবার নিয়ে ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান। হিন্দিতে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি জানান যে তিনি ডাবলিন থেকে এসেছেন এবং তার গন্তব্য পাকিস্তানের করাচি। লেখিকার দাবি, গন্তব্য ‘পাকিস্তান’ শোনার পরই তিনি ওই ব্যক্তিকে খাবার না দিয়েই মুখ ফিরিয়ে নিজের আসনে ফিরে আসেন। এখানেই শেষ নয়, চরম অমানবিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি নিজের পোস্টে ‘যা মর’ (যাও, গিয়ে মরো) শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে পোস্টটির ইতি টানেন।   নিবেদিতা শুক্লার এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইন্টারনেটে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আশ্চর্যজনকভাবে, প্রবাসে নিজের পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের কারণে বৈষম্যের আক্ষেপ করা এই লেখিকা খোদ ভারতীয় নেটিজেনদেরই তোপের মুখে পড়েন। এক ভারতীয় ব্যবহারকারী কড়া সমালোচনা করে লেখেন যে, তিন প্যারাগ্রাফ ধরে পাসপোর্টের কারণে বৈষম্যের আক্ষেপ করে পরের মুহূর্তেই একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে তার পাসপোর্ট দিয়ে বিচার করেছেন লেখিকা; যা বৈষম্যের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। অনেকেই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণকে দায়ী করে মন্তব্য করেছেন যে, এ ধরনের ঘৃণ্য মানসিকতার কারণেই বিশ্বজুড়ে ভারতীয়দের অবহেলা ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে মনস্তাত্ত্বিক ‘প্রোজেকশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, লেখিকার অভিযোগগুলো মূলত তার নিজের চরিত্রের অন্ধকার দিকেরই স্বীকারোক্তি।   অন্যদিকে, পাকিস্তানি নেটিজেনরাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কোনো পাকিস্তানির তরফ থেকে এমন আচরণ তারা কখনো দেখেননি বা শোনেননি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমন সংকীর্ণ মানসিকতা পরিহার করার পরামর্শ দিয়ে অনেকেই বলেছেন, পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের ঊর্ধ্বে উঠে বিমানবন্দরে সবাই সমমানের যাত্রী এবং মানবিকতাই হওয়া উচিত প্রথম পরিচয়। তবে নিজের দেশের মানুষই এমন বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। সব মিলিয়ে নিবেদিতার এই পোস্টটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয়তাবাদী সংকীর্ণতা, বৈষম্য ও মানবিকতা নিয়ে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ভুল হার্ট সার্জারির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ডা. অশোক মুরালিধরনের বিরুদ্ধে মামলা, ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর ওপেন-হার্ট সার্জারির সময় কৃত্রিম হার্ট ভালভ উল্টোভাবে বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং অস্ত্রোপচারকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিশু হৃদরোগ সার্জন ডা. অশোক মুরালিধরনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন শিশুটির বাবা-মা।   মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিশোরীর বাবা-মা স্টিভেন স্টোকস ও লরি স্টোকস ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি (ওএইচএসইউ) এবং চিকিৎসক ডা. অশোক মুরালিধরনের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট ওএইচএসইউ হাসপাতালে কিশোরীর ওপেন-হার্ট সার্জারি করা হয়। জন্মগতভাবে বিকল হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় হৃদ্‌যন্ত্র সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে হার্ট-লাং বাইপাস মেশিনের সহায়তায় রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখা হয়।   অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা কিশোরীর হৃদ্‌যন্ত্র স্বাভাবিকভাবে চালু করতে ব্যর্থ হন। পরে তাকে এক্সট্রাকরপোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন (ইসিএমও) সাপোর্টে রাখা হয়, যা কৃত্রিমভাবে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে শরীরে প্রবাহিত রাখে।   পরিবারের দাবি, অপারেশনের পর চিকিৎসকেরা তাদের জানিয়েছিলেন যে অস্ত্রোপচার “খুব ভালোভাবে” সম্পন্ন হয়েছে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা সাময়িক শকের কারণে হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে তা ঠিক হয়ে যাবে।   তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিশোরীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একাধিক পরীক্ষা ও অনুসন্ধানমূলক অস্ত্রোপচার করেও চিকিৎসকেরা কোনো স্পষ্ট কারণ খুঁজে পাননি বলে পরিবারকে জানানো হয়।   মামলায় বলা হয়েছে, তিন দিন ধরে কিশোরীকে বুকের অস্ত্রোপচারের স্থান খোলা রেখেই আইসিইউতে রাখা হয় এবং ইসিএমও সাপোর্টের মাধ্যমে জীবিত রাখা হয়। পরে চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানান, মেয়েটির বেঁচে থাকার জন্য স্থায়ী কৃত্রিম হৃদযন্ত্র অথবা হার্ট প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হতে পারে, তবে তাদের হাসপাতালে এ ধরনের চিকিৎসার সুযোগ নেই।   এ অবস্থায় চিকিৎসকেরা সতর্ক করেন, কিশোরীর অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পথে তার মৃত্যু হতে পারে। তবুও বাবা-মা ঝুঁকি নিয়ে কিশোরীকে ওয়াশিংটনের সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।   সেখানে চিকিৎসকেরা প্রথমে একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জমে থাকা রক্ত ও তরল অপসারণ করেন। পরবর্তীতে স্ক্যান ও পরীক্ষায় দেখা যায়, ওএইচএসইউতে প্রতিস্থাপিত কৃত্রিম হার্ট ভালভটি উল্টোভাবে বসানো হয়েছিল, যার কারণে সেটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি।   পরে সেই ভুলভাবে বসানো ভালভ অপসারণ করে সঠিকভাবে নতুন ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়। নতুন ভালভ বসানোর পরপরই কিশোরীর হৃদ্‌যন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করে এবং তাকে ইসিএমও সাপোর্ট থেকেও সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।   প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর কিশোরী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ওএইচএসইউতে ছয় দিনের চিকিৎসার খরচ  ছিল প্রায় ১০ লাখ ডলার, আর সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালে ৩৫ দিনের চিকিৎসা ও সংশোধনী অস্ত্রোপচারের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এতে পরবর্তী চিকিৎসা ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়।   পরিবার মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ ডলার চিকিৎসাগত অবহেলা এবং প্রায় ৩০ লাখ ডলার আর্থিক ক্ষতির জন্য ধরা হয়েছে।   তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা কোনো মন্তব্য করবে না।

বায়জিদ হাসান জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্টি-বুলিং এআই চ্যাটবট তৈরি করে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার জিতলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থীরা

সাইবার বুলিং বা হয়রানি রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন একদল ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত প্রথম 'প্রেসিডেনশিয়াল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ'-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।    ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক সমস্যা সমাধানের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।   জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এ সময় তিনি এই তরুণ প্রতিযোগীদের জাতির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।    পাশাপাশি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি তার বক্তব্যে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। মেধা ও প্রযুক্তির যুগলবন্দিতে এই শিক্ষার্থীদের তৈরি অ্যান্টি-বুলিং চ্যাটবটটি আগামী দিনে হয়রানি রোধে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
দুই দশক ধরে দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন আদালতে; সেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারীই এখন ডিটেনশন সেন্টারে

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আদালতগুলোতে দোভাষী হিসেবে দীর্ঘ দুই দশক ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী মিনু বাতরা। হিন্দি, পাঞ্জাবি ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী মিনু সেখানকার আইনি ব্যবস্থায় দক্ষিণ এশীয়দের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, ৩৫ বছর ধরে আমেরিকায় বৈধভাবে বসবাসের দাবি করা এই নারীকেই এখন আটক থাকতে হচ্ছে আইসিই (ICE) ডিটেনশন সেন্টারে। ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ মার্চ, যখন মিনু বাতরা একটি আইনি কাজের উদ্দেশ্যে টেক্সাসের হার্লিনজেন বিমানবন্দর হয়ে উইসকনসিনের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টরা। এজেন্টদের দাবি, মিনু একজন 'অবৈধ অভিবাসী' এবং ২০০০ সাল থেকেই তার নামে একটি চূড়ান্ত বহিষ্কারের (final removal order) আদেশ রয়েছে। তবে মিনু এবং তার আইনজীবীর দাবি ভিন্ন। ১৯৯১ সালে ভারত থেকে শিখ নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন মিনু। ২০০০ সালে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাকে 'উইথহোল্ডিং অফ রিমুভাল' (Withholding of Removal) মর্যাদা প্রদান করেন, যার অর্থ হলো— তাকে তার দেশে ফেরত পাঠানো নিরাপদ নয় বলে গণ্য করা হয়েছিল। এই স্ট্যাটাস অনুযায়ী মিনু দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত কর্মসংস্থানের অনুমতি (Work Authorization) নবায়ন করে বৈধভাবে কাজ করে আসছিলেন। মিনুর আইনজীবী দীপক আহলুওয়ালিয়া বলেন, "এটি আইনের চরম লঙ্ঘন। একজন নারী যিনি ৩৫ বছর ধরে এখানে আছেন, যার চার সন্তানই মার্কিন নাগরিক এবং যার কনিষ্ঠ পুত্র বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত, তাকে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এভাবে আটক করা অমানবিক।"বর্তমানে মিনু বাতরা টেক্সাসের এল ভ্যালে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। মিনুর পক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের আদালতে 'হেবিয়াস কর্পাস' পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির কাছে মিনু বাতরা এক পরিচিত মুখ। আদালত কক্ষের সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর আজ নিজেই বিচারের অপেক্ষায় বন্দিশালায় দিন গুনছেন। তার এই আটকাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন নীতির কঠোরতা নিয়ে আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০