খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে এক মঞ্চে হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথি নেতারা
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি প্রতিনিধিরা। শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে অনুষ্ঠিত বিশাল এই শোক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুথি আন্দোলনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এসব গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করলেও তেহরান তাদের মিত্র এই শক্তিগুলোকে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষ হিসেবে অভিহিত করে থাকে।
শনিবারের এই শোক অনুষ্ঠানে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ ফনেইশ। অন্যদিকে হামাসের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ দারবিশ এবং তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হামাসের অপর শীর্ষ নেতা বাসেম নাইম। এছাড়াও ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর নেতা জিয়াদ আল-নাখালা এবং হুথি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ধাইফ আল্লাহ আল-শামিও খামেনির জানাজায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তেহরানেই এক হামলায় নিহত হয়েছিলেন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া। সেই ঘটনার পর খামেনির জানাজায় হামাস নেতাদের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ তেহরান থেকে প্রথমে ইরানের কুম শহরে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালা প্রদক্ষিণ শেষে তাকে ইরানের মাশহাদে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে। খামেনির মৃত্যুতে আগামী কয়েকদিন ধরে পুরো ইরানজুড়ে বড় ধরনের শোক মিছিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreচীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী ঝোং জুয়ানজুয়ান এখন ই-স্পোর্টস ও অনলাইন গেমিং জগতের এক পরিচিত নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'আন্টি জুয়ান' নামে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই নারী প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শকের সামনে লাইভ-স্ট্রিমে গেম খেলেন। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র চার বছর আগে ভিডিও গেমের দুনিয়ায় পা রাখা এই প্রবীণ নারী এখন তরুণ গেমারদের কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা। প্রাথমিক গণ্ডি পেরোনো ঝোং জীবনের বেশির ভাগ সময় সেলস ও শিশু পরিচর্যার মতো খণ্ডকালীন কাজ করে প্রায় এক দশক আগে অবসর নেন। তবে তাঁর গেমিংয়ে আসার পেছনের গল্পটা বেশ চমকপ্রদ। প্রায় দুই দশক আগে তাঁর ছেলে যখন মাধ্যমিকের ছাত্র, তখন সে ভিডিও গেমসে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। পড়াশোনায় অবনতি হওয়ায় সে সময় ছেলেকে খুঁজতে স্থানীয় ইন্টারনেট ক্যাফেগুলোতে ছুটে বেড়াতেন তিনি। কিন্তু ২০২০ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তাঁর ছেলে 'সোদে' যখন আবারও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়িতে গেম খেলতে শুরু করে, তখন ঝোং এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। তরুণ প্রজন্মের গেমের প্রতি এই তীব্র আকর্ষণের কারণ বুঝতে তিনি নিজেই ভার্চুয়াল গেমিংয়ের জগতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে অবাক হলেও ছেলে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে মাকে গেমের নিয়মকানুন শেখাতে শুরু করেন। ৬০ বছর বয়সে এসে গেমের কলাকৌশল আয়ত্ত করা ঝোংয়ের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বয়সজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে আসা এবং রিফ্লেক্স ধীর হওয়ায় শুরুতে তিনি গেমের চরিত্রকে সোজা হাঁটাতেও পারতেন না। দেয়ালে ধাক্কা খাওয়া বা ডিজিটাল সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো প্রাথমিক কাজগুলোতেও তাকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হতো। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি হাল ছাড়েননি। নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে ২০২২ সাল থেকে তিনি নিজের গেম খেলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। অত্যন্ত সাধারণ মানের কম্পিউটার ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তাঁর চমৎকার দক্ষতা দ্রুতই দর্শকদের নজর কাড়ে। ইতিমধ্যে অনলাইন গেমসে ৮ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়ে ফেলা এই প্রবীণ নারীর সবচেয়ে পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন কৌশলগত 'শুটিং গেম'। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সে সময় জনপ্রিয় শুটিং গেম 'কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ' (CS: GO)-এর একটি বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিদিন তাঁর স্ট্রিম দেখতে আসা হাজার হাজার তরুণের কাছে 'আন্টি জুয়ান' আজ কেবল একজন গেমার নন, বরং ধৈর্য, একাগ্রতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
গাজায় ইসরায়েলি হা মলায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের অধিকার, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব রাশিয়ার
ক্ষমা চাইতে বলায় ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে জবাব দিলেন কিম জং উন
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া ভারতীয় দম্পতি ভেঙ্কটরাম অন্নামদেবরা ও অনঘা অন্নামদেবরা। তাঁদের মেয়ে তানভি এখনো বাবা-মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এতদিনেও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পাওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর একটাই প্রশ্ন, ‘কেন তাঁদেরই?’ ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। তীব্র স্রোত, ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ওই সময় ভেঙ্কটরাম ও অনঘা ৬৭ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় ছিলেন। দুর্যোগের পর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাবা-মা নিখোঁজ হওয়ার পর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি পরিবার। তানভি তাঁর সাম্প্রতিক ভিডিওতে জানিয়েছেন, গত এক মাসে তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বাবা-মায়ের জন্য অপেক্ষা, তাঁদের নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নিজের জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলটির সর্বশেষ জানা অবস্থান ছিল নেপালের অভিবাসন কেন্দ্র ও ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজের আশপাশে। আকস্মিক বন্যায় ওই এলাকাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ভেঙ্কটরাম ও অনঘা ঠিক কোথায় রয়েছেন কিংবা তাঁদের কী ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বাবা-মায়ের নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তানভির সামনে ছিল নিজের চিকিৎসাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ৩০ আগস্ট তাঁর এনইইটি-পিজি পরীক্ষা ছিল। বাবা-মায়ের কোনো সন্ধান না পেলেও তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে যান। পরে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, তিন ঘণ্টার পরীক্ষার প্রায় দেড় ঘণ্টা তিনি কেঁদেছেন। চোখের পানির কারণে প্রশ্নপত্র পড়তেও তাঁর সমস্যা হচ্ছিল। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা শেষ করেন তানভি। কারণ তাঁর বাবা চাইতেন তিনি পরীক্ষাটি দিন। বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও বাবার সেই ইচ্ছার কথা মনে রেখেই তিনি পরীক্ষায় বসেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষার দিন পরিবারের ছোট একটি অভ্যাসও তাঁকে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি আরও গভীরভাবে অনুভব করায়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরীক্ষার আগে তাঁর মা সাধারণত তাঁকে দই ও চিনি খাওয়াতেন। বাবা তাঁকে শুভকামনা জানাতেন। কিন্তু ওই দিন দুজনের কেউই তাঁর পাশে ছিলেন না। পরিচিত সেই মুহূর্তের অনুপস্থিতি তাঁর কাছে বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলার অনিশ্চয়তাকে আরও কঠিন করে তোলে। নেপালের ওই দুর্যোগে শুধু তানভির পরিবার নয়, আরও বহু পরিবার প্রিয়জনের সন্ধানে অপেক্ষা করছে। কাঠমান্ডু পোস্টের ২৭ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোটেকোশি বন্যার পর তখন ৮২৬ জনের অবস্থান অজানা ছিল। তাঁদের মধ্যে ৫৯০ জন ছিলেন পর্যটক। ওই পর্যটকদের মধ্যে ৪৭৬ জন বিদেশি এবং ১১৪ জন নেপালি নাগরিক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। রয়টার্সের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে নেপালের অংশে ৫ হাজার ১৩০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং ১ হাজার ৩৮৬ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত করার কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্যোগের পর বহু পরিবার হাসপাতাল, উদ্ধারকেন্দ্র এবং বিভিন্ন স্থানে নিজেদের স্বজনের সন্ধান চালিয়ে যেতে থাকে। পরিচয় শনাক্ত করার জন্য কিছু পরিবার ডিএনএ নমুনাও জমা দেয়। দিনের পর দিন কোনো নতুন তথ্য না পাওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হতে থাকে। তানভির পরিবারও একই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বাবা-মা কোথায় আছেন, তাঁরা বেঁচে আছেন কি না কিংবা তাঁদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো পরিবারের হাতে নেই। এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পরিবার তাঁদের নিখোঁজ হিসেবেই খুঁজে যাচ্ছে। নিজের বক্তব্যে তানভি বারবার বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিতে ফিরে গেছেন। জীবনের দীর্ঘ সময় পরিবারের দায়িত্ব পালন করার পর তাঁর বাবা-মা নিজেদের জন্য এই ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দের যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের পরিবারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাবা-মায়ের কোনো খবর না পাওয়ার যন্ত্রণার মধ্যেই তানভির মনে বারবার ফিরে আসছে একটি প্রশ্ন, ‘কেন তাঁদেরই?’ একদিকে বাবা-মায়ের সন্ধানের অপেক্ষা, অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা ও জীবনের দায়িত্ব চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সবকিছুর মধ্যেই গত এক মাস কাটিয়েছেন তিনি। এখনো ভেঙ্কটরাম অন্নামদেবরা ও অনঘা অন্নামদেবরার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো পরিণতির তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাঁদের সন্ধান পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছে পরিবার। তানভিও বাবা-মায়ের ফিরে আসার আশা ধরে রেখেছেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো নিশ্চিত খবর না পেলেও সেই অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।
আর্জেন্টিনার নাগরিকত্বের নতুন পথ, ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারেই আবেদনের সুযোগ
ইংল্যান্ডে ছয় মাস বাড়ি খালি থাকলে দখল নিতে পারবে কাউন্সিল
কিয়েভে বড় হামলার হুমকি পুতিনের, কূটনীতিকদের শহর ছাড়তে বলল রাশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ায় গাড়ি কেনার সময় সাশ্রয়ী মডেলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রেতারা। এতে হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বাড়ছে এবং সুবিধা পাচ্ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতারা। ২ অক্টোবর প্রকাশিত সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গ্যাসোলিনের মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের পছন্দে এই পরিবর্তন এনেছে। হাইব্রিড গাড়িতে গ্যাসোলিনচালিত ইঞ্জিনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়। এই সমন্বয় জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করে। সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জ্বালানিসাশ্রয়ী গাড়ি খুঁজতে গিয়ে ক্রেতারা এশীয় ব্র্যান্ডগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বড় মার্কিন নির্মাতাদের হাইব্রিড মডেলের বিকল্প সীমিত। নির্মাতাদের প্রকাশিত বিক্রির হিসাবেও হাইব্রিডের প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। হুন্দাই জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। ওই মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রির ২৮ শতাংশ ছিল হাইব্রিড। কিয়াও সেপ্টেম্বর ও তৃতীয় প্রান্তিকে হাইব্রিড বিক্রিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কথা জানিয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে টয়োটার হাইব্রিড বিক্রি ২৯ শতাংশ এবং হোন্ডার ২১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে হুন্দাই ও কিয়ার সম্মিলিত গাড়ি বিক্রি ফোর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে মার্কিন নির্মাতাদের হাইব্রিড গাড়ি নেই, এমন নয়। ফোর্ডের ২০২৬ সালের এফ-১৫০ পিকআপে পাওয়ারবুস্ট ফুল হাইব্রিড ইঞ্জিনের বিকল্প রয়েছে। ফলে বাজারের পার্থক্যটি মূলত ক্রেতাদের সামনে কত ধরনের হাইব্রিড মডেল রয়েছে, তা নিয়ে। সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বড় মার্কিন নির্মাতারা দীর্ঘদিন বেশি লাভের বড় এসইউভি ও ট্রাককে গুরুত্ব দিয়েছে। এখন জ্বালানি খরচ কমানোর আগ্রহ বাড়ায় তাদের সীমিত হাইব্রিড বিকল্প প্রতিযোগিতায় চাপ তৈরি করছে। ক্রেতাদের এই চাহিদা ধরে রাখতে জ্বালানিসাশ্রয়ী মডেলের পরিসর বাড়ানো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রুশ সেনাদের যু দ্ধ পরিচালনায় কোনো নিয়মকানুন না মানার নির্দেশ পুতিনের
কোটিপতি ভিক্ষুক মঙ্গিলাল! ভিক্ষার টাকা দিয়ে হয়েছেন তিন বাড়ি ও গাড়ির মালিক