সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ডিসঅ্যাবিলিটি সুবিধার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে নতুন ১৪ রোগ যুক্ত করল সোশ্যাল সিকিউরিটি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৯:০
পুরনো মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড। ছবি:সংগৃহীত
পুরনো মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গুরুতর ও বিরল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির তালিকায় আরও ১৪টি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যুক্ত করেছে। এর ফলে কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস বা সিএএল তালিকায় মোট রোগ ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪টিতে।

 

সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ১১ আগস্ট নতুন তালিকা ঘোষণা করে। এই কর্মসূচির আওতায় এমন গুরুতর রোগ ও মেডিক্যাল কন্ডিশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যেগুলো সাধারণত সোশ্যাল সিকিউরিটির ডিসঅ্যাবিলিটি সংজ্ঞা পূরণ করে। ফলে আবেদনকারীর কেস সাধারণ প্রক্রিয়ার তুলনায় দ্রুত পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়।

 

নতুন যোগ হওয়া ১৪টি কন্ডিশনের মধ্যে রয়েছে অ্যাডেনাইলোসাক্সিনেট লাইয়েজ ডেফিসিয়েন্সির নিওনেটাল ফর্ম ও টাইপ ১, আইকার্ডি সিনড্রোম, বারাইতসার উইন্টার সিনড্রোম, বেয়ার স্টিভেনসন কিউটিস জাইরাটা সিনড্রোম, বোরিং ওপিটজ সিনড্রোম, সিএএসকে সম্পর্কিত জিন ডিসঅর্ডার, হেপাটোস্প্লেনিক টি সেল লিম্ফোমা, লাফোরা ডিজিজ, ম্যালিগন্যান্ট মাইগ্রেটিং পারশিয়াল সিজারস অব ইনফ্যান্সি, ওপিএইচএন১ সিনড্রোম, প্রাইমারি কার্ডিয়াক সারকোমা, প্রাইমারি ইন্ট্রাক্রানিয়াল ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা, মেটাস্টেসিসসহ ইউভিয়াল মেলানোমা এবং ওয়ারবার্গ মাইক্রো সিনড্রোম।

 

এসবের মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত বিরল জেনেটিক ও নিউরোলজিক্যাল রোগ, আবার কয়েকটি গুরুতর ক্যানসার। অনেক ক্ষেত্রে রোগগুলো শিশু বয়সেই দেখা দেয় এবং রোগীর দৈনন্দিন জীবন, শারীরিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।

 

সোশ্যাল সিকিউরিটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো জানিয়েছেন, ডিসঅ্যাবিলিটি প্রোগ্রামের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও মানসম্মত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কর্মসূচি গুরুতর রোগে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা কমিয়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে তৈরি করা হয়েছে।

 

সিএএল তালিকায় কোনো রোগের নাম থাকার অর্থ এই নয় যে আবেদন না করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসিক ডিসঅ্যাবিলিটি পেমেন্ট শুরু হয়ে যাবে। আবেদনকারীকে সোশ্যাল সিকিউরিটি ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের জন্য আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল রেকর্ড জমা দিতে হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আবেদনকারীর রোগ নির্ণয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।

 

তবে সাধারণ ডিসঅ্যাবিলিটি কেসের তুলনায় সিএএল কেসগুলো দ্রুত শনাক্ত ও প্রসেস করার ব্যবস্থা রয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, কেস দ্রুত প্রসেস হলেও আবেদনকারীকে সোশ্যাল সিকিউরিটি আইনের ডিসঅ্যাবিলিটি সংজ্ঞা পূরণ করতে হয় এবং আবেদন মূল্যায়নের মূল আইনি মানদণ্ড অপরিবর্তিত থাকে।

 

এক্ষেত্রে প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে সোশ্যাল সিকিউরিটি। আবেদন জমা পড়ার পর সিস্টেম সম্ভাব্য কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কেস শনাক্ত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হেলথ আইটি ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড সরাসরি পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে।

 

২০০৮ সালে কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কর্মসূচি চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এই দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

 

এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণ ডিসঅ্যাবিলিটি আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মেডিক্যাল রেকর্ড সংগ্রহ, রোগের প্রভাব মূল্যায়ন এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে সময় লাগে। কিন্তু অত্যন্ত গুরুতর ও সুস্পষ্ট কিছু রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা রোগী ও পরিবারের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। সিএএল সেই অপেক্ষা কমানোর একটি বিশেষ ব্যবস্থা।

 

নতুন তালিকা প্রকাশের ফলে যাদের এসব ১৪টি রোগের কোনো একটি রয়েছে, তাদের জন্য আবেদন দ্রুত প্রসেস হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুধুমাত্র রোগের নাম মিললেই বেনিফিট নিশ্চিত, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। আবেদনকারীর মেডিক্যাল ডায়াগনোসিস, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির যোগ্যতার অন্যান্য শর্তও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

 

সোশ্যাল সিকিউরিটির সম্পূর্ণ কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস তালিকায় এখন ৩১৪টি কন্ডিশন রয়েছে। তালিকায় বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, বিরল জেনেটিক রোগ, শিশুদের গুরুতর রোগ এবং স্নায়ুবিক সমস্যাসহ এমন বহু কন্ডিশন রয়েছে, যেগুলো গুরুতর ডিসঅ্যাবিলিটির সঙ্গে সম্পর্কিত।

 

যারা ইতিমধ্যে ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের আবেদন করার কথা ভাবছেন এবং নতুন যোগ হওয়া কোনো কন্ডিশনে আক্রান্ত, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মেডিক্যাল ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসার রেকর্ড প্রস্তুত রাখা এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অফিসিয়াল আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেস জমা দেওয়া। নতুন পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো, যোগ্য আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের জন্য স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হওয়ার সম্ভাবনা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হা মলা,  আ গুনে পুড়ল বিজ্ঞান একাডেমির ঐতিহাসিক ভবন; নি হত ৭
কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হা মলা, আ গুনে পুড়ল বিজ্ঞান একাডেমির ঐতিহাসিক ভবন; নি হত ৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে দিনের বেলায় নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সোমবার চালানো এই হামলায় ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসের একটি ঐতিহ্যবাহী ভবনে আগুন ধরে যায় এবং দেশজুড়ে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। কিয়েভ শহরের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, একাডেমি ভবনে হামলায় এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।   এদিন কিয়েভের বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, অফিস, ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এবং গ্যাস স্টেশনেও আঘাত হেনেছে রুশ বাহিনী।   রাজধানী ছাড়াও ইউক্রেনের অন্যান্য শহরেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোর একটি অফিসে ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।   অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের মেয়র ইহর তেরেখভ জানিয়েছেন, সেখানে একটি ৯ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনে রুশ হামলায় ১১ শিশুসহ অন্তত ৪৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।   বেসামরিক স্থাপনায় এই ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি রাশিয়াকে সাধারণ মানুষের ওপর 'সন্ত্রাস' চালানোর দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।   সাম্প্রতিক হামলায় বাজার ও স্কুলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলেনস্কি বলেন, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় এ ধরনের লক্ষ্যবস্তু বেছে নেওয়াকে এককথায় সন্ত্রাসবাদ বলা হয়।   এসব হামলায় রাশিয়ার কোনো সামরিক উদ্দেশ্য নেই; এটি কেবলই ইউক্রেনের জনগণের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং সমাজের সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধনের একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৯:৩৪
গাজায় ই সরায়েলের কার্যক্রম ‘বিশ্ববিবেকের কলঙ্ক’, বললেন ব্রিটিশ মন্ত্রী মিলিব্যান্ড

গাজায় ই সরায়েলের কার্যক্রম ‘বিশ্ববিবেকের কলঙ্ক’, বললেন ব্রিটিশ মন্ত্রী মিলিব্যান্ড

কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী

কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য করা হবে: মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য করা হবে: মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি

মাত্র ১১ বছরেই দাবায় বিশ্বরেকর্ড, সর্বকনিষ্ঠ নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ব্রিটিশ-ভারতীয় বোধনা
মাত্র ১১ বছরেই দাবায় বিশ্বরেকর্ড, সর্বকনিষ্ঠ নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ব্রিটিশ-ভারতীয় বোধনা

দাবার জগতে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে ১১ বছর বয়সী ব্রিটিশ-ভারতীয় কিশোরী বোধনা শিবনন্দন। সম্প্রতি উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অনুষ্ঠিত ৪৬তম দাবা অলিম্পিয়াডে ইংল্যান্ডের হয়ে অংশ নিয়ে সে 'ওমেন গ্র্যান্ডমাস্টার' (ডব্লিউজিএম) খেতাব অর্জন করেছে। ইন্টারন্যাশনাল চেস ফেডারেশন (ফিদে) নিশ্চিত করেছে যে, এই সম্মানজনক খেতাব অর্জনকারী বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী দাবাড়ু এখন বোধনা। দাবা অলিম্পিয়াডে বিশ্বের বাঘা বাঘা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ১১টি গেমের মধ্যে ৮ পয়েন্ট অর্জন করে সে তার তৃতীয় ও চূড়ান্ত ‘নর্ম’ পূরণ করেছে।   এই বিশ্বরেকর্ড গড়ার পথে বোধনা ভেঙে দিয়েছে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি রেকর্ড। এর আগে ২০০২ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে এই খেতাব জিতে সর্বকনিষ্ঠ নারী গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছিলেন ইউক্রেন ও রাশিয়ার হয়ে খেলা ক্যাটেরিনা লাগনো। পরবর্তীতে চীনের হাউ ইয়েফানও ১২ বছর বয়সে এই খেতাব জিতেছিলেন।   তবে সবাইকে ছাড়িয়ে মাত্র ১১ বছর বয়সেই শীর্ষ বোর্ডের খেলায় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে বোধনা। পড়াশোনার পাশাপাশি দাবায় এমন নজরকাড়া সাফল্যের পর লিচেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কিশোরী জানায়, শনিবার নর্ম অর্জনের বিষয়টি বুঝতে পারলেও সে যে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে এই রেকর্ড গড়েছে, তা সে জানত না। তবে খবরটি শোনার পর সে দারুণ আনন্দিত।   বোধনার দাবা খেলার শুরুটা হয়েছিল বেশ চমকপ্রদভাবে। করোনা মহামারির সময় তার বাবার এক বন্ধু ভারতে যাওয়ার আগে নিজেদের বাড়িতে একটি দাবা বোর্ডসহ কিছু জিনিসপত্র রেখে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই দাবার ঘুঁটিগুলোর প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় পাঁচ বছর বয়সী বোধনার।   এখন দাবা খেলাকে সে এতটাই উপভোগ করে যে, এটি তার গণিত ও হিসাব-নিকাশের মতো স্কুলের পড়াশোনাতেও সাহায্য করছে বলে জানায় সে। ব্রিটিশ রাজনীতিক র‍্যাচেল রিভস এক্সে (সাবেক টুইটার) এই খুদে সুপারস্টারের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে এখানেই থেমে থাকতে রাজি নয় বোধনা; ফিদে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সে খেলা চালিয়ে যেতে এবং আরও নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চায়।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:২৯
যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে  হা মলার ছক বানচাল, জামিনে মুক্ত ৫ ব্রিটিশ সন্দেহভাজন

যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হা মলার ছক বানচাল, জামিনে মুক্ত ৫ ব্রিটিশ সন্দেহভাজন

ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ক্যানসারে আক্রান্ত মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্যানসারে মা ও মেয়ের মৃত্যু, একসঙ্গে হলো শেষ বিদায়

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

তামিলনাড়ুতে সরকারি হাসপাতালে জন্মালেই নবজাতক পাবে সোনার আংটি

বিদেশি কর্মীরা
জার্মানিতে সাড়ে ৬ লাখের বেশি চাকরি, বিদেশি কর্মীদের জন্যও বাড়ছে সুযোগ

জার্মানিতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির (BA) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ ৬ লাখ ৫৩ হাজার চাকরি সংস্থাটিতে নিবন্ধিত ছিল। তবে এটিকে সরাসরি বিদেশিদের জন্য ৬ লাখ ৫৩ হাজার চাকরি বলা ঠিক হবে না, কারণ এসব পদে নিয়োগের যোগ্যতা, পেশা ও নিয়োগকর্তাভেদে শর্ত আলাদা।   জার্মানির শ্রমবাজারে বিশেষ করে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সালের সরকারি বিশ্লেষণে ১৫৭টি পেশায় দক্ষ কর্মীর সংকট চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও কারিগরি পেশা, রাঁধুনি, পেশাদার চালক এবং শিশুদের শিক্ষাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশা রয়েছে।   বিদেশি কর্মীদের গুরুত্বও জার্মানির শ্রমবাজারে বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের তুলনায় দক্ষ কর্মীর ঘাটতি থাকা পেশাগুলোতে বিদেশি কর্মীদের অংশ প্রায় ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।    কোন পেশায় সুযোগ বেশি?   বর্তমানে জার্মানিতে তুলনামূলকভাবে বেশি চাহিদা দেখা যাচ্ছে— নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা নির্মাণ ও কারিগরি কাজ পেশাদার ড্রাইভিং রাঁধুনি শিশু শিক্ষা ও পরিচর্যা সামাজিক কাজ জরিপ ও কারিগরি পেশা বিভিন্ন বিশেষায়িত দক্ষ পেশা তবে সব ধরনের চাকরিতে সমান সুযোগ নেই। জার্মানির সরকারি বিশ্লেষণ বলছে, কিছু পেশায় কর্মীর সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি। তাই শুধু চাকরির সংখ্যা দেখে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও জার্মান ভাষার জ্ঞান বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।    বিদেশিদের জন্য ভিসার সুযোগ   জার্মানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষ বিদেশি কর্মী আনার নিয়ম সহজ করেছে। নতুন Skilled Immigration Act-এর আওতায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে বিদেশি দক্ষ কর্মীরা জার্মানিতে কাজের সুযোগ পেতে পারেন।   ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট shortage occupation-এর ক্ষেত্রে EU Blue Card-এর জন্য বার্ষিক ন্যূনতম বেতনসীমা ৪৫,৯৩৪.২০ ইউরো। IT ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে অন্তত তিন বছরের সমমানের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে EU Blue Card-এর সুযোগ রয়েছে।   তবে ৬ লাখ ৫৩ হাজার চাকরি মানেই বিদেশিরা সরাসরি ৬ লাখ ৫৩ হাজার পদে আবেদন করতে পারবেন—এমন নয়। এটি জার্মানির Federal Employment Agency-তে নিবন্ধিত মোট চাকরির চাহিদার সংখ্যা। বিদেশি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে চাকরির যোগ্যতা, স্বীকৃত শিক্ষাগত সনদ, অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং প্রযোজ্য ভিসা বা আবাসন আইনের শর্ত পূরণ করতে হবে।   জার্মানির শ্রমবাজারে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। দেশটির সরকারি সংস্থাগুলোও জানিয়েছে, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে শ্রমবাজারে অভিবাসী কর্মীদের প্রয়োজন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১১:৫০
কানাডার ব্র্যাম্পটনে সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে প্রায় ২০ হাজার কানাডীয় ডলার মূল্যের স্বর্ণালংকার হারিয়েছেন এক প্রবীণ নারী। ছবি: সংগৃহীত

পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম-আলিঙ্গন, কানাডায় ভারতীয় বৃদ্ধার ২০ হাজার ডলারের স্বর্ণালংকার চুরি

শামিমা বেগমের সাবেক সহপাঠী শারমিনা বেগমকে সিরিয়ায় আটক করা হয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বার্লিনে সমকামী হামলার সূত্রে সিরিয়ায় আইএস এ যোগ দেওয়া শারমিনা বেগম আটক

স্কটল্যান্ডে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রিয়ানা ম্যাকে। ছবি: সংগৃহীত

ফোন স্ক্রল করার সময় হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় তরুণীর, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন ২১ বছরের তরুণী

0 Comments