অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের পর স্বামীর নির্যাতনে খুন তরুণী, অভিযুক্ত স্বামী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে
নিজেকে পরিবারের ‘রাজা’ হিসেবে দেখতেন পঙ্কজ লাম্বা। স্ত্রী হর্ষিতা ব্রেল্লার কাছ থেকে চাইতেন সম্পূর্ণ আনুগত্য। এর কিছুদিন পরই ২৪ বছর বয়সী হর্ষিতাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। হর্ষিতার মরদেহ পরে পূর্ব লন্ডনের একটি গাড়ির বুট থেকে উদ্ধার করা হয়। হত্যার ঘটনায় পঙ্কজের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে অভিযোগ গঠন করা হলেও তিনি এখনো পলাতক।
হর্ষিতা ভারতের দিল্লির বাসিন্দা ছিলেন। পঙ্কজ লাম্বার সঙ্গে বিয়ের পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। তারা নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের করবিতে বসবাস শুরু করেন। নতুন দেশে নতুন সংসার নিয়ে হর্ষিতা শুরুতে উচ্ছ্বসিত থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কের পরিস্থিতি বদলে যায়।
হর্ষিতার পরিবারের ভাষ্য ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, পঙ্কজ স্ত্রীর ওপর ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন। মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে তিনি নিজেকে পরিবারের ‘রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করতেন এবং হর্ষিতার কাছ থেকে সম্পূর্ণ আনুগত্য দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ২০২৪ সালের আগস্টে স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশের কাছে যান হর্ষিতা। পুলিশের কাছে তিনি শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত তথ্যও দিয়েছিলেন।
এরপর ৩ সেপ্টেম্বর পঙ্কজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং হর্ষিতার সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আদালতের মাধ্যমে ২৮ দিনের জন্য একটি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স প্রোটেকশন অর্ডারও কার্যকর হয়েছিল।
কিন্তু সেই সুরক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পঙ্কজ আবার হর্ষিতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান।
পুলিশের ধারণা, ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর করবিতে হর্ষিতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেদিন হর্ষিতা তাদের বলেছিলেন পঙ্কজ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। ওই রাতের পর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
চার দিন পর, ১৪ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডে ব্রিসবেন রোডে রাখা একটি সিলভার ভক্সহল করসা গাড়ির বুট থেকে হর্ষিতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। করবি থেকে ইলফোর্ডের দূরত্ব প্রায় ১০০ মাইল।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, হত্যার পর হর্ষিতার মরদেহ গাড়িতে করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই পঙ্কজ যুক্তরাজ্য ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে মনে করছে ব্রিটিশ পুলিশ।
২০২৫ সালের মার্চে পঙ্কজ লাম্বার অনুপস্থিতিতেই তার বিরুদ্ধে হর্ষিতাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং নিয়ন্ত্রণমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনার প্রায় দেড় বছর পরও পঙ্কজকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের মে মাসে হর্ষিতার বাবা-মা ও বোন ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়ে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। মেয়েকে হারানোর আগে তার নির্যাতনের অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর চান তারা।
হর্ষিতার মৃত্যুর আগে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তার করা পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ সামলানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যর্থতা নিয়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়।
নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, পঙ্কজকে খুঁজে বের করে হর্ষিতার পরিবারের জন্য বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে।
যে তরুণী বিয়ের পর নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন, তার সেই জীবন শেষ হয় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে। আর হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামী এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় হর্ষিতার পরিবার অপেক্ষা করছে সেই একটি দিনের জন্য, যেদিন তাকে আদালতের মুখোমুখি করা যাবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreতুরস্কে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়ে হোটেলের এক গায়কের সঙ্গে পরিচয়। সেখান থেকে প্রেম, এরপর সন্তান এবং বিয়ে। কিন্তু সংসার গড়ার পরও স্বামীকে নিজের দেশ যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে পারছেন না ব্রিটিশ নারী র্যাচেল ম্যাকে। একাধিক ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আট মাসের মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে একাই থাকতে হচ্ছে তাকে। ২৯ বছর বয়সী র্যাচেলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ৩৪ বছর বয়সী কিয়ামুদ্দিন ম্যাকের পরিচয় হয় ২০২৪ সালের আগস্টে। তুরস্কে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় যে হোটেলে র্যাচেল ছিলেন, সেখানে গায়ক হিসেবে কাজ করতেন কিয়ামুদ্দিন। ছুটি শেষে র্যাচেল যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলেও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। পরিচয়ের প্রায় ছয় মাসের মাথায় অন্তঃসত্ত্বা হন র্যাচেল। পরে তাদের মেয়ে এমারসিনের জন্ম হয়। ২০২৬ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে কিয়ামুদ্দিনকে বিয়ে করেন র্যাচেল। কিন্তু বিয়ের পরও স্বামীকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে সংসার করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি। দ্য সানকে র্যাচেল জানিয়েছেন, তার স্বামীর জন্য তিনবার ভিজিট ভিসা এবং এর আগে একবার ফিয়ঁসে ভিসার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সব আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস সন্তুষ্ট হতে পারেনি যে সফর শেষে কিয়ামুদ্দিন যুক্তরাজ্য ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যাবেন। তার আর্থিক অবস্থা ও কাজের ধরনও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় এসেছে। অন্যদিকে ফিয়ঁসে ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণ ছিল স্পনসর হিসেবে র্যাচেলের প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বার্ষিক আয় না থাকা। র্যাচেল স্বনির্ভর নেইল টেকনিশিয়ান হিসেবে বছরে প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড আয় করেন। কিন্তু ওই আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আয়ের সীমা ছিল বছরে ২৯ হাজার পাউন্ড। র্যাচেলের দাবি, ভিসা আবেদন, আইনি পরামর্শ, ভ্রমণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পেছনে এখন পর্যন্ত তাদের সাত হাজার পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছে। একটি ভিসা প্রক্রিয়াতেই ছয় হাজার পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। নতুন করে আবেদন করার জন্য তাকে ঋণও নিতে হয়েছে। সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত আসে মেয়ের জন্মের সময়। র্যাচেল চেয়েছিলেন কিয়ামুদ্দিন যুক্তরাজ্যে এসে সন্তানের জন্মের সময় পাশে থাকবেন। সেই উদ্দেশ্যে করা ভিজিট ভিসার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে মেয়ের জন্ম সরাসরি দেখার বদলে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখতে হয়েছিল বাবাকে। এখন মেয়ের বেড়ে ওঠার অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তও ফোনের পর্দাতেই দেখতে হচ্ছে কিয়ামুদ্দিনকে। মেয়ের প্রথম হাসি, প্রথম খাবার খাওয়া এবং হামাগুড়ি দেওয়ার মতো মুহূর্তগুলো তিনি ভিডিও ও ফেসটাইমে দেখেছেন। র্যাচেলের আগের সম্পর্কের আরও দুই সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স ১১ ও ছয় বছর। তাদের বাবা যুক্তরাজ্যে থাকায় সন্তানদের নিয়ে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার বিষয়টিও বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। সন্তানদের স্কুল, পরিবার এবং পরিচিত জীবনও যুক্তরাজ্যেই। এদিকে তাদের দ্রুত গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কিয়ামুদ্দিন হয়তো শুধু যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়ার জন্যই র্যাচেলের সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। র্যাচেল সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষ্য, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছেন না। নিয়ম মেনেই প্রতিটি আবেদন করেছেন এবং প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তও মেনে নিয়েছেন। তবে একটি ব্রিটিশ শিশুকে বাবা থেকে আলাদা হয়ে বড় হতে হচ্ছে, এটিই তার সবচেয়ে বড় কষ্ট। কিয়ামুদ্দিন বর্তমানে মৌসুমি কাজের জন্য স্পেনে অবস্থান করছেন, যাতে স্ত্রী ও মেয়ের তুলনামূলক কাছাকাছি থাকতে পারেন। সুযোগ পেলে র্যাচেল মেয়েকে নিয়ে সেখানে যান। তবে নতুন ভিসা আবেদনের অর্থ জোগাড় করতে বর্তমানে তাদের ভ্রমণও সীমিত করতে হয়েছে। দম্পতি এখন একজন ইমিগ্রেশন সলিসিটরের সহায়তায় নতুন করে স্পাউস ভিসার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। র্যাচেলও প্রয়োজনীয় আয়ের সীমায় পৌঁছাতে যতটা সম্ভব বেশি কাজ করার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাজ্যের হোম অফিস ব্যক্তিগত এই ভিসা আবেদন নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে জানিয়েছে, প্রতিটি ভিসা আবেদন সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন রুলস এবং আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হয়। তুরস্কের একটি ছুটির সফরে শুরু হওয়া সম্পর্ক এখন বিয়ে ও সন্তানে গড়ালেও র্যাচেল ও কিয়ামুদ্দিনের সংসার চলছে দুই দেশে। তাদের অপেক্ষা এখন নতুন একটি ভিসা আবেদনের, যা সফল হলে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে একই ছাদের নিচে পরিবার হিসেবে বসবাসের সুযোগ পাবেন তারা।
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের পর স্বামীর নির্যাতনে খুন তরুণী, অভিযুক্ত স্বামী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে
‘তোমার আর ক্যারিয়ার হবে না’, সেই মেয়েটিই এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব
গাজায় সমঝোতা ছাড়াই ফিরলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা, পরদিন ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬ ফিলিস্তিনি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সরকারি বন্ডের উচ্চ সুদের চাপ ভারতের শেয়ারবাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বুধবার ভারতের প্রধান দুই সূচক সেনসেক্স ও নিফটি আবারও নিচে নেমেছে। বিশেষ করে নিফটি টানা সপ্তম দিনের মতো পতনের মুখে পড়েছে। বুধবারের লেনদেনে নিফটি ৫০ সূচক ০ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ২৪ হাজার ৭০ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে বিএসই সেনসেক্স ০ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে। টানা সাত সেশনে নিফটির মোট পতন হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বাজারে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারে উঠেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড ৯১ দশমিক ৬২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায় এবং টানা চতুর্থ দিনের মতো দাম বাড়ে। ভারতের জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক এবং নিজেদের প্রয়োজনের বড় অংশই বিদেশ থেকে কিনতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে এবং রুপির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর সঙ্গে নতুন উদ্বেগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক বন্ডবাজার। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত অর্থনীতিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদ প্রায় ২০ বছরের উচ্চতার আশপাশে অবস্থান করছে। উচ্চ বন্ড সুদ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারের তুলনায় বন্ডকে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, যা ভারতের মতো উদীয়মান বাজার থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। বুধবার ভারতের বাজারে পতনও ছিল বেশ বিস্তৃত। রয়টার্সের হিসাবে, প্রধান ১৬টি খাতের মধ্যে ১৩টিই নিচে নেমেছে। মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ সূচকও প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করে কমেছে। ফলে শুধু কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতন নয় - বাজারের বড় অংশেই বিক্রির চাপ দেখা গেছে। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাতও চাপের বাইরে থাকতে পারেনি। ফাইন্যান্সিয়াল স্টকগুলোর সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে টানা দরপতনের পর তথ্যপ্রযুক্তি খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং আইটি সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে নেতিবাচক বাজারেও কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে বড় উত্থান হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ চুক্তি পাওয়ার পর প্রিজম জনসনের শেয়ার প্রায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। সরকারি প্রণোদনার খবরে ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস ও মহানগর গ্যাসের শেয়ারও বেড়েছে। দিনের সবচেয়ে নজরকাড়া ঘটনা ছিল লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান শিপরকেটের শেয়ারবাজারে অভিষেক। প্রায় ১৭ কোটি ডলারের আইপিওর পর প্রথম দিনের লেনদেনেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রায় ৩৫ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে। সামগ্রিক বাজারে চাপ থাকলেও নতুন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের শক্তিশালী আগ্রহ দেখা গেছে। এদিকে ভারতের বন্ডবাজারেও তেলের দাম ও আন্তর্জাতিক সুদের প্রভাব রয়েছে। বুধবার ভারতের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ কিছুটা কমে প্রায় ৬ দশমিক ৮২ শতাংশে এলেও উচ্চ তেলের দাম এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবেই রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ভারতের শেয়ারবাজারে বর্তমান চাপের পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ করপোরেট পরিস্থিতির চেয়ে আন্তর্জাতিক কারণই বড় হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কত দ্রুত কমে, হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কতটা স্বাভাবিক হয় এবং বিশ্ববাজারে বন্ডের সুদ কোন দিকে যায় - আগামী কয়েক দিনে ভারতের শেয়ারবাজারের গতিপথ নির্ধারণে এই তিন বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
শেষ মুহূর্তে কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, ‘চুক্তি হয়েছে’ দাবি
কানাডার নতুন নিয়মে ওয়ার্ক পারমিট বাতিল, ঋণের ভারে দিশেহারা ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
ইউরোপে তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১৬ হাজার মৃ ত্যু, তবু এসি ব্যবহারে রাজি নন অনেক ইউরোপীয়
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে শত শত বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সাইবার হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরির দায়ে ১৭ জন ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন প্রশাসন। 'মাবনা ইনস্টিটিউট' নামের একটি ইরানি হ্যাকিং গ্রুপের সদস্য এই অভিযুক্তরা অন্তত ২০১৩ সাল থেকে এই সুসংগঠিত সাইবার অপরাধের সাথে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের মার্কিন অ্যাটর্নি, বিচার বিভাগ এবং ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কর্মকর্তারা সম্প্রতি ১৪-দফার এই সংশোধিত অভিযোগপত্র বা ইনডিক্টমেন্ট প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অভিযুক্তরা মূলত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার হয়ে এই বৈশ্বিক গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য চুরির মিশন পরিচালনা করেছিল। হ্যাকারদের এই সংঘবদ্ধ চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি এবং অন্যান্য দেশের ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম হ্যাক করে বিশ্বজুড়ে এক লাখেরও বেশি অধ্যাপকের অ্যাকাউন্ট টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা সক্ষম হয়। এর পাশাপাশি অন্তত ৪২টি মার্কিন বেসরকারি কোম্পানি, ইউরোপের বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক এনজিও এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বেশ কয়েকটি সংস্থাও তাদের হামলার শিকার হয়। হ্যাকাররা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন গবেষণার অন্তত ৩১.৫ টেরাবাইট অ্যাকাডেমিক ডেটা ও মহামূল্যবান ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (মেধাস্বত্ব) চুরি করে। এই চুরি করা তথ্যগুলো তারা কেবল আইআরজিসি-র হাতেই তুলে দেয়নি, বরং 'মেগাপেপার' ও 'গিগাপেপার' নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তা ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এই সাইবার অপরাধের ভয়াবহতা কেবল তথ্য চুরিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; অভিযুক্তরা বিখ্যাত মার্কিন মিডিয়া ও এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি এইচবিও (HBO)-এর সার্ভারেও বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল। বেহজাদ মেসরি এবং তার সহযোগীরা এইচবিও-র গোপন ও সংবেদনশীল ডেটা চুরি করে তা ফাঁসের হুমকি দিয়ে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে। সামগ্রিকভাবে এই হ্যাকিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্পোরেট ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিস্টেম পুনরুদ্ধারে দুই কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের 'রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস' (RFJ) প্রোগ্রাম ইতোমধ্যেই পাঁচজন শীর্ষ হ্যাকারের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য ১ কোটি ডলার (১০ মিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় ভারতীয় মেজর সিং, ‘‘জাগ্গু ভগবানপুরিয়া’ অপরাধী চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ
‘আমরা অধৈর্য’, পরিবর্তনের দাবিতে ভয়কে জয় করে ভারতের রাজপথে নারীদের নতুন লড়াই