ঘুরতে গিয়ে প্রেম, বিয়ে-সন্তানের পরও স্বামীকে যুক্তরাজ্যে নিতে পারছেন না ব্রিটিশ নারী
তুরস্কে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়ে হোটেলের এক গায়কের সঙ্গে পরিচয়। সেখান থেকে প্রেম, এরপর সন্তান এবং বিয়ে। কিন্তু সংসার গড়ার পরও স্বামীকে নিজের দেশ যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে পারছেন না ব্রিটিশ নারী র্যাচেল ম্যাকে। একাধিক ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আট মাসের মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে একাই থাকতে হচ্ছে তাকে।
২৯ বছর বয়সী র্যাচেলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ৩৪ বছর বয়সী কিয়ামুদ্দিন ম্যাকের পরিচয় হয় ২০২৪ সালের আগস্টে। তুরস্কে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় যে হোটেলে র্যাচেল ছিলেন, সেখানে গায়ক হিসেবে কাজ করতেন কিয়ামুদ্দিন।
ছুটি শেষে র্যাচেল যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলেও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। পরিচয়ের প্রায় ছয় মাসের মাথায় অন্তঃসত্ত্বা হন র্যাচেল। পরে তাদের মেয়ে এমারসিনের জন্ম হয়।
২০২৬ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে কিয়ামুদ্দিনকে বিয়ে করেন র্যাচেল। কিন্তু বিয়ের পরও স্বামীকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে সংসার করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।
দ্য সানকে র্যাচেল জানিয়েছেন, তার স্বামীর জন্য তিনবার ভিজিট ভিসা এবং এর আগে একবার ফিয়ঁসে ভিসার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সব আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস সন্তুষ্ট হতে পারেনি যে সফর শেষে কিয়ামুদ্দিন যুক্তরাজ্য ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যাবেন। তার আর্থিক অবস্থা ও কাজের ধরনও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় এসেছে।
অন্যদিকে ফিয়ঁসে ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণ ছিল স্পনসর হিসেবে র্যাচেলের প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বার্ষিক আয় না থাকা। র্যাচেল স্বনির্ভর নেইল টেকনিশিয়ান হিসেবে বছরে প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড আয় করেন। কিন্তু ওই আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আয়ের সীমা ছিল বছরে ২৯ হাজার পাউন্ড।
র্যাচেলের দাবি, ভিসা আবেদন, আইনি পরামর্শ, ভ্রমণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পেছনে এখন পর্যন্ত তাদের সাত হাজার পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছে। একটি ভিসা প্রক্রিয়াতেই ছয় হাজার পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। নতুন করে আবেদন করার জন্য তাকে ঋণও নিতে হয়েছে।
সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত আসে মেয়ের জন্মের সময়। র্যাচেল চেয়েছিলেন কিয়ামুদ্দিন যুক্তরাজ্যে এসে সন্তানের জন্মের সময় পাশে থাকবেন। সেই উদ্দেশ্যে করা ভিজিট ভিসার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে মেয়ের জন্ম সরাসরি দেখার বদলে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখতে হয়েছিল বাবাকে।
এখন মেয়ের বেড়ে ওঠার অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তও ফোনের পর্দাতেই দেখতে হচ্ছে কিয়ামুদ্দিনকে। মেয়ের প্রথম হাসি, প্রথম খাবার খাওয়া এবং হামাগুড়ি দেওয়ার মতো মুহূর্তগুলো তিনি ভিডিও ও ফেসটাইমে দেখেছেন।
র্যাচেলের আগের সম্পর্কের আরও দুই সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স ১১ ও ছয় বছর। তাদের বাবা যুক্তরাজ্যে থাকায় সন্তানদের নিয়ে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার বিষয়টিও বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। সন্তানদের স্কুল, পরিবার এবং পরিচিত জীবনও যুক্তরাজ্যেই।
এদিকে তাদের দ্রুত গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কিয়ামুদ্দিন হয়তো শুধু যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়ার জন্যই র্যাচেলের সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। র্যাচেল সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তার ভাষ্য, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছেন না। নিয়ম মেনেই প্রতিটি আবেদন করেছেন এবং প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তও মেনে নিয়েছেন। তবে একটি ব্রিটিশ শিশুকে বাবা থেকে আলাদা হয়ে বড় হতে হচ্ছে, এটিই তার সবচেয়ে বড় কষ্ট।
কিয়ামুদ্দিন বর্তমানে মৌসুমি কাজের জন্য স্পেনে অবস্থান করছেন, যাতে স্ত্রী ও মেয়ের তুলনামূলক কাছাকাছি থাকতে পারেন। সুযোগ পেলে র্যাচেল মেয়েকে নিয়ে সেখানে যান। তবে নতুন ভিসা আবেদনের অর্থ জোগাড় করতে বর্তমানে তাদের ভ্রমণও সীমিত করতে হয়েছে।
দম্পতি এখন একজন ইমিগ্রেশন সলিসিটরের সহায়তায় নতুন করে স্পাউস ভিসার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। র্যাচেলও প্রয়োজনীয় আয়ের সীমায় পৌঁছাতে যতটা সম্ভব বেশি কাজ করার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিস ব্যক্তিগত এই ভিসা আবেদন নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে জানিয়েছে, প্রতিটি ভিসা আবেদন সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন রুলস এবং আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হয়।
তুরস্কের একটি ছুটির সফরে শুরু হওয়া সম্পর্ক এখন বিয়ে ও সন্তানে গড়ালেও র্যাচেল ও কিয়ামুদ্দিনের সংসার চলছে দুই দেশে। তাদের অপেক্ষা এখন নতুন একটি ভিসা আবেদনের, যা সফল হলে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে একই ছাদের নিচে পরিবার হিসেবে বসবাসের সুযোগ পাবেন তারা।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreসম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক প্রেমিকাকে ভয়াবহভাবে হয়রানির ঘটনায় যুক্তরাজ্যে আসাদ হুসেইন নামে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাবেক প্রেমিকার ছবি ব্যবহার করে ভুয়া টিন্ডার প্রোফাইল খুলে অপরিচিত পুরুষদের তার বাড়িতে পাঠানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চেস্টার ক্রাউন কোর্ট এই সাজা দেন। একই সঙ্গে ওই নারী ও তার মেয়েদের সুরক্ষায় হুসেইনের বিরুদ্ধে ১৫ বছরের রেস্ট্রেইনিং অর্ডার জারি করা হয়েছে। চেশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিক রেনি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন হুসেইন। এরপর তাদের কয়েকবার দেখা হয় এবং অল্প সময়ের জন্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সম্পর্কের শুরু থেকেই হুসেইনের আচরণ ক্রমশ নিয়ন্ত্রণমূলক হয়ে উঠেছিল। একপর্যায়ে ওই নারীর বাড়িতে একজন পুরুষ বন্ধু আসায় সেখানে হাজির হন হুসেইন। তিনি টানা প্রায় দুই ঘণ্টা দরজার বেল বাজাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশী পুলিশ ডাকলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ২০২৪ সালের ৬ মে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। আদালতে জানানো হয়, হুসেইন ওই নারীর ফোন নিয়ে তার পুরুষ বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথন দেখতে শুরু করেন। এ নিয়ে বিরোধের সময় তিনি ওই নারীর সঙ্গে শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। এরপরই তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বিচ্ছেদের পর শুরু হয় আরও ভয়ংকর হয়রানি। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সাবেক প্রেমিকার পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া টিন্ডার অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন হুসেইন। ওই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি নিজেকে ওই নারী হিসেবে উপস্থাপন করতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কথোপকথনে হুসেইন এমন বার্তা পাঠাতেন যাতে পুরুষদের বিশ্বাস করানো হতো, ওই নারী সহিংস যৌন আচরণে আগ্রহী এবং তাদের সরাসরি তার বাড়িতে যেতে বলেছেন। এমনকি দরজা বন্ধ থাকলেও ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে উৎসাহিত করার তথ্যও আদালতে উঠে আসে। এরপর একের পর এক অপরিচিত পুরুষ ওই নারীর বাড়িতে হাজির হতে শুরু করেন। চেশায়ার পুলিশ বলেছে, অন্তত ১৮ জনকে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে তার ঠিকানায় পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পরবর্তী আদালত শুনানিতে বলা হয়, এই হয়রানির পরিধি আরও বিস্তৃত ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আদালতের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মোট ৩৫ জন পর্যন্ত পুরুষকে ওই নারীর বাড়িতে যেতে প্ররোচিত করা হয়েছিল। এক রাতে চারজন পর্যন্ত সেখানে হাজির হন। এক ঘটনায় একজন পুরুষ বাড়ির দরজায় এত জোরে ধাক্কা দেন যে কাচের অংশ ভেঙে যায়। আরেক ঘটনায় ওই নারী বাড়িতে না থাকার সময় একজন ভেতরে ঢুকে পড়েন, তখন তার কিশোরী মেয়ে ওপরতলায় একা ছিল। নিজের পরিচয় গোপন রাখতেও একাধিক কৌশল নিয়েছিলেন হুসেইন। পুলিশ জানায়, ভুয়া পরিচয় ও টিন্ডার অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য আলাদা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন তিনি। গাড়ির রেজিস্ট্রেশনও পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি নিজের ব্যবসার সরকারি রেকর্ড থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সরানোর চেষ্টাও করেছিলেন। তবে ভুক্তভোগীর ভিডিও ডোরবেলের ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়। ‘মিক রেনি’ নামে পরিচিত ব্যক্তির ব্যবহৃত গাড়িটি পরীক্ষা করে পুলিশ সেটির সঙ্গে আসাদ হুসেইনের যোগসূত্র খুঁজে পায়। এরপর সিসিটিভি, গাড়ির নম্বর শনাক্তকারী ক্যামেরা, টেলিযোগাযোগ ও মোবাইল লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করেন। ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর এম৬ মোটরওয়েতে হুসেইনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ‘মিক রেনি’ হওয়ার কথা অস্বীকার করেন এবং ওই নারী ও ভুয়া টিন্ডার অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। নয় দিনের বিচার শেষে হুসেইনকে গুরুতর ভয় ও মানসিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে স্টকিং, মারধর এবং তদন্তে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য দিতে আইনি নির্দেশনা না মানার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২৬ সালের ২৯ জুন চেস্টার ক্রাউন কোর্ট তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন। চেশায়ার পুলিশ ঘটনাটিকে তাদের তদন্ত করা সবচেয়ে উদ্বেগজনক স্টকিং মামলাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে ভুক্তভোগী জানান, সম্পর্ক চালিয়ে যেতে না চাওয়ার কারণে কারও তার নিজের বাড়িতেই তাকে অনিরাপদ করে তোলার অধিকার নেই। যে বাড়িকে তিনি নিজের ও সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয় মনে করতেন, হুসেইনের তৈরি মিথ্যা গল্প সেই নিরাপত্তাবোধই কেড়ে নিয়েছিল।
ঘুরতে গিয়ে প্রেম, বিয়ে-সন্তানের পরও স্বামীকে যুক্তরাজ্যে নিতে পারছেন না ব্রিটিশ নারী
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের পর স্বামীর নির্যাতনে খুন তরুণী, অভিযুক্ত স্বামী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে
‘তোমার আর ক্যারিয়ার হবে না’, সেই মেয়েটিই এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে মধ্যপ্রাচ্যে দুই দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েও কোনো বড় অগ্রগতি ছাড়াই ফিরেছেন তার বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। হামাস ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করলেও মূল বিরোধের সমাধান হয়নি। এর একদিন পরই গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। গাজার পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্রবন্দর এলাকায় মঙ্গলবার এই বিমান হামলা চালানো হয়। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ এলাকাটিকে অস্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছেন। স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তাদের হিসাবে, হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের কয়েকজন কমান্ডার। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নতুন হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি ইসরায়েলি বাহিনী। হামাসও তাদের কোনো কমান্ডার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এই হামলার মাত্র একদিন আগেই গাজা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষ করেন জ্যারেড কুশনার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে প্রথমে মিসরে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বিরল সরাসরি বৈঠক করেন তিনি। এরপর জেরুজালেমে গিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা করেন। কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে হামাস নেতারা গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে। মার্কিন পরিকল্পনার মূল কাঠামো অনুযায়ী, হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র ত্যাগ করবে এবং এর সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করবে। হামাস পরিকল্পনাটি গ্রহণ করলেও বাস্তবায়নের ক্রম নিয়েই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় বাধা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান হচ্ছে, হামাস পুরোপুরি অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে না। তার সরকার একই সঙ্গে বলছে, গাজা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের আগে পুনর্গঠনের কাজও শুরু হতে দেওয়া হবে না। কুশনারের সঙ্গে বৈঠকেও এই অবস্থান থেকে সরে আসেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে হামাসের অবস্থান হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অর্থাৎ দুই পক্ষই নিরস্ত্রীকরণ ও সেনা প্রত্যাহাপনের কথা বললেও কোনটি আগে হবে - মূল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে সেই প্রশ্নে। হামাস চায় প্রত্যাহারের সঙ্গে সমন্বয় করে অস্ত্র ত্যাগের প্রক্রিয়া এগোক, আর ইসরায়েল চাইছে পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের পরই সেনা সরানো হোক। কুশনার নিজেও জানিয়েছেন, গাজার পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত সেই পুনর্গঠন শুরু করতে দেওয়া হবে না। দীর্ঘ যুদ্ধ ও হামলায় গাজার বিশাল অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর পুনর্গঠনের বিষয়টি তাই এখন শান্তি আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির জায়গায় পরিণত হয়েছে। তবে দুই দিনের আলোচনা পুরোপুরি ফলহীনও ছিল না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিরস্ত্রীকরণ এবং জনস্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবা নিয়ে কাজ করতে পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু মূল রাজনৈতিক প্রশ্নে কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসরায়েলও এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা পুরোপুরি গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এই অচলাবস্থার মধ্যেই গাজায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি এবং সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাটিতে সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সব মিলিয়ে জ্যারেড কুশনারের সফর গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে আনলেও সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটির উত্তর এখনো মেলেনি - আগে হামাস অস্ত্র ছাড়বে, নাকি একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। সেই সমাধান না আসা পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা কাগজ থেকে বাস্তবে নামানো কঠিন হয়ে থাকছে। আর কূটনৈতিক টেবিলে যখন সেই অচলাবস্থা চলছে, তখন গাজায় নতুন হামলা ও প্রাণহানি শান্তির পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
তেলের দাম ও বৈশ্বিক বন্ডের চাপে ভারতের শেয়ারবাজারে টানা সপ্তম দিনের পতন
শেষ মুহূর্তে কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, ‘চুক্তি হয়েছে’ দাবি
কানাডার নতুন নিয়মে ওয়ার্ক পারমিট বাতিল, ঋণের ভারে দিশেহারা ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
ইউরোপে সাম্প্রতিক ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মাত্র এক সপ্তাহে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেলজিয়ামের একটি অঞ্চলে একদিনে এত বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যা করোনা মহামারির চূড়ান্ত পর্যায়ের রেকর্ডকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তীব্র এই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা ও বিপুল মৃত্যুর পরও স্থানীয় বাসিন্দারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি (AC) ব্যবহারে চরম অনীহা প্রকাশ করছেন। তাদের সোজা কথা, আরামের জন্য তারা কোনোভাবেই 'আমেরিকানদের মতো' হতে চান না! নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুনের শেষদিকে বেলজিয়ামের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা ওয়ালোনিয়াতে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। সেখানে গত ২৮ জুন মাত্র একদিনেই ৩১৩ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যেখানে ২০২০ সালের নভেম্বরে কোভিডের সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময়ও দৈনিক মৃত্যু ছিল ২৪৫ জন। জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথম দিক পর্যন্ত এই অঞ্চলে প্রত্যাশিত মৃত্যুর চেয়ে ৭৭ শতাংশ বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে, অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। স্বাস্থ্যসেবা ফেডারেশনের মহাপরিচালক ডা. ফিলিপ ডেভোস জানান, ওয়ালোনিয়ার প্রায় অর্ধেক জরুরি বিভাগে কোনো এসি নেই। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে জরুরি সেবার হটলাইনে কল করলেও তা সংযোগ হতে ১০ মিনিটের বেশি সময় লেগেছে। এমনকি মৃতদেহগুলোর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় অনেক অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় সারিবদ্ধভাবে শুইয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অতিরিক্ত এই মৃত্যুর ৮৫ শতাংশেরই বয়স ছিল ৬৫ বছরের বেশি। বিশেষ করে যারা একা বসবাস করতেন, এমন নিম্ন আয়ের বয়স্করাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এত বিপুল প্রাণহানি ও চিকিৎসকদের সতর্কবার্তার পরও এসি ব্যবহারের প্রতি ইউরোপীয়দের নেতিবাচক মনোভাব বদলায়নি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে এসি রয়েছে, সেখানে ইউরোপে এই হার গড়ে মাত্র ২০ শতাংশ। এমনকি ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোতে এসি ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যা মাত্র ৪ থেকে ৬ শতাংশ। বেলজিয়ামের চিকিৎসক টুন সিসেন্সের মতে, সেখানকার অনেকেই মনে করেন এসি ব্যবহার করলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়বেন, জীবাণু ছড়াবে এবং পরিবেশের চরম ক্ষতি হবে। বেলজিয়াম গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিলস ভ্যানভোলসেম জানান, সাংস্কৃতিকভাবে এটি একটি শীতপ্রধান দেশ হওয়ায় মানুষ ঘর ঠান্ডা করার চেয়ে গরম রাখার বিষয়েই বেশি অভ্যস্ত। ওয়ালোনিয়ার আবাসন ও জ্বালানি মন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঢালাওভাবে এসি ব্যবহার করা তাদের দীর্ঘমেয়াদী কোনো কৌশল নয়। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ব্যাপকভাবে এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ পড়বে এবং যন্ত্রের নির্গত গরম বাতাসে শহরগুলো উল্টো আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। তাই এসির বিকল্প হিসেবে তারা বিশেষ ‘কুলিং স্পেস’ তৈরি ও পরিবেশবান্ধব আবাসন সংস্কারের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার হামলা, ৩১ টেরাবাইট গবেষণা তথ্য চুরিতে অভিযুক্ত ১৭ ইরানি হ্যাকার
এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় ভারতীয় মেজর সিং, ‘‘জাগ্গু ভগবানপুরিয়া’ অপরাধী চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ