যেখানে সেবাই নেই, সেখানেও টিপের দাবি; যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্রেতাদের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে টিপ দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রেস্তোরাঁর মতো প্রচলিত সেবার জায়গা ছাড়িয়ে এখন স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক, কাউন্টার এবং এমনকি কিছু স্বয়ংক্রিয় লেনদেনেও টিপ চাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে অস্বস্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিপ মূলত সেবার স্বীকৃতি, তাই যেখানে কোনো কর্মী সরাসরি সেবা দিচ্ছেন না, সেখানে টিপ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
সম্প্রতি একটি ভাইরাল ঘটনায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। সল্টলেক সিটি বিমানবন্দরের শেক শ্যাকের একটি কিয়স্কে এক ক্রেতা অভিযোগ করেন, তিনি টিপ না দেওয়ার বিকল্প বেছে নেওয়ার পর তার খাবারের মোট দাম বেড়ে যায়। শেক শ্যাক অবশ্য পরে জানায়, দাম পরিবর্তনের ঘটনাটি ছিল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং টিপ না দেওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না।
তবু ঘটনাটি মার্কিন ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। যদি ক্রেতা নিজেই কিয়স্কে অর্ডার করেন, পেমেন্ট করেন এবং খাবার সংগ্রহ করেন, তাহলে অতিরিক্ত টিপটি আসলে কিসের জন্য?
টিপিং ও ভোক্তা আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম মাইকেল লিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে টিপ দেওয়ার বিষয়ে মানুষের বিরক্তি বাড়ছে। তার গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ৩২ শতাংশ মানুষ টিপিং ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পক্ষে ছিলেন। ২০২২ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ শতাংশে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টিপের পরিমাণ বাড়ার প্রবণতাও। একসময় রেস্তোরাঁয় ১৫ শতাংশ টিপকে সাধারণ হিসেবে ধরা হলেও এখন অনেক ডিজিটাল পেমেন্ট স্ক্রিনে ২০ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত টিপের বিকল্প দেখা যায়।টিপ চাওয়ার ক্ষেত্র বাড়ার পাশাপাশি চাওয়া টাকার পরিমাণও বাড়তে থাকায় মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে তথাকথিত টিপিং ক্লান্তি।
শিষ্টাচার বিশেষজ্ঞ জ্যাকুলিন হুইটমোরের মতে, যেখানে কোনো কর্মী সরাসরি সেবা দিচ্ছেন না, সেখানে টিপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কে অর্ডার করার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের টিপ দিতে বাধ্য বোধ করার কোনো কারণ নেই। তবে খাবার প্যাক করে দেওয়া, বিশেষ অনুরোধ পূরণ করা বা ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত সেবা দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে টিপ দেওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিলে আগে থেকেই সার্ভিস চার্জ বা স্বয়ংক্রিয় গ্র্যাচুইটি যুক্ত থাকলে আলাদা করে টিপ দেওয়ার আগে সেটি যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে কর্মীকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা যায়, বিলে কোনো সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত আছে কি না।
টিপ দেওয়ার বিষয়ে ডিজিটাল স্ক্রিন কেন মানুষের ওপর বেশি মানসিক চাপ তৈরি করে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষকেরা। পুরোনো দিনের টিপ জারে টাকা না দিলেও সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু ডিজিটাল স্ক্রিনে টিপ না দিতে হলে সক্রিয়ভাবে ‘নো টিপ’ নির্বাচন করতে হয়। ফলে অন্যরা দেখছে এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা অস্বস্তি বোধ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে টিপিং সংস্কৃতির সঙ্গে শ্রমবাজারের কাঠামোরও সম্পর্ক রয়েছে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ যেখানে রেস্তোরাঁর মতো কিছু খাতে কর্মীদের মজুরি ব্যবস্থায় টিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় কম মূল্যে খাবার বা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি টিপের ওপর কর্মীদের আয়ের একটি অংশ নির্ভর করে রাখে।
তবে অতিরিক্ত টিপ চাওয়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত ব্যবসার জন্যও সমস্যার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। টিপের পরিমাণ বাড়লে কর্মীদের আয় বাড়তে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাবারের প্রকৃত খরচও ভোক্তার কাছে বেশি মনে হতে পারে। পাশাপাশি টেবিলের সামনে কাজ করা কর্মী এবং রান্নাঘরের কর্মীদের আয়ের পার্থক্যও বাড়তে পারে।
এ কারণে টিপিং বিশেষজ্ঞদের একটি পরামর্শ হলো, প্রচলিত সেবার ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মতো একটি যুক্তিসংগত সীমা বজায় রাখা। আর স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক বা সম্পূর্ণ স্ব-সেবার ক্ষেত্রে টিপ না দিলেও ক্রেতার অপরাধবোধ করার প্রয়োজন নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে পলিনা পোবি নামের এক ৮৪ বছর বয়সি বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবারের এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর মঙ্গলবার তাকে উদ্ধার করা হয়। টানা তিন দিন পানাহার ছাড়া আটকে থাকলেও তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা এই অভাবনীয় বেঁচে ফেরার ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। গত শনিবার সকালে ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দা। ভূমিকম্পের পরপরই সৃষ্ট প্রবল ভূমিধসে নিতুংলিয়া গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। সেখানেই নিজের বাঁশের তৈরি ঘরের নিচে আটকা পড়েছিলেন পলিনা। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তিনি নড়াচড়া করতে বা কাউকে ডাকতেও পারেননি। শেষ পর্যন্ত ঘটনার চতুর্থ দিনে স্বজনরা তাকে ওই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুর্বল অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে উদ্ধারকাজ চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও চারপাশের ধ্বংসস্তূপের কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ইতিমধ্যে দুর্গম এলাকাগুলোতে সামরিক বিমান ও জাহাজের মাধ্যমে প্রায় ৩৯৮ টন খাদ্য, তাঁবু এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শনিবারের মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি আফটারশক বা অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়াকে নিয়মিতভাবেই এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হয়।
অস্ত্র উৎপাদনে শক্তিশালী হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে সামরিক চাহিদা ও বিনিয়োগ
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বড় হুমকি, সহায়তা করলে দেশগুলোকেও কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির সতর্কতা
যেখানে সেবাই নেই, সেখানেও টিপের দাবি; যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্রেতাদের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে ছয় বছর বসবাসের পর সন্তানদের নিয়ে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের শেষ দিকে তারা যুক্তরাজ্যে গিয়ে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে বসবাস শুরু করতে পারেন। তাদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট আগামী সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের স্কুলে পড়াশোনা শুরু করবে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ তারা আবার কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। ২০২০ সালে রাজপরিবারের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার পর হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এবার তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার পেছনে সবচেয়ে স্পষ্ট কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সন্তানদের শিক্ষা। আর্চি ও লিলিবেটকে ইতোমধ্যে ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর থেকেই তাদের নতুন শিক্ষাজীবন শুরু হওয়ার কথা। হ্যারি ও মেগান যুক্তরাজ্যে কোনো রাজকীয় সম্পত্তিতে উঠবেন না। বরং লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত, রাজপরিবারের সম্পত্তির বাইরে থাকা বাড়িতে বসবাস করবেন বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোর বাড়ির সঙ্গে সম্পর্কও পুরোপুরি ছিন্ন হচ্ছে না। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সম্পূর্ণ বিদায় নাকি দুই দেশের মধ্যে বসবাসের নতুন ব্যবস্থা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এই প্রত্যাবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজপরিবারের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর সাম্প্রতিক সময়ে তার বাবা কিং চার্লসের সঙ্গে যোগাযোগ কিছুটা বেড়েছে। গত জুলাইয়ে হ্যারি, মেগান ও তাদের দুই সন্তান হাইগ্রোভে কিং চার্লস ও কুইন ক্যামিলার সঙ্গে দেখা করেন। ২০২২ সালের পর সেটিই ছিল চার্লসের সঙ্গে আর্চি ও লিলিবেটের প্রথম সাক্ষাৎ। কিং চার্লসকে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে গত রোববার জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে হ্যারি-মেগান গত মাসে যুক্তরাজ্য সফরের সময় তাকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানাননি বলেও খবর এসেছে। হ্যারির জন্য যুক্তরাজ্যে থাকা শুধু পারিবারিক বিষয় নয়। তার গুরুত্বপূর্ণ দাতব্য উদ্যোগ ইনভিক্টাস গেমসের সঙ্গেও ব্রিটেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৭ সালের ইনভিক্টাস গেমস বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে যুক্তরাজ্যে তার ব্যক্তিগত ও দাতব্য কর্মকাণ্ডও আগের তুলনায় বেশি সময় দাবি করতে পারে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে হ্যারির দীর্ঘদিনের উদ্বেগও এই প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্যে তার সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি আইনি লড়াই করেছেন। চলতি বছরের শুরুতেও পরিবারকে নিয়ে ব্রিটেনে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছিল। হ্যারি ও মেগান ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়। ২০২১ সালের অপরাহ উইনফ্রে সাক্ষাৎকার, হ্যারির স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’ এবং নিরাপত্তা নিয়ে আইনি লড়াই সেই সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে অন্তত কিং চার্লসের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্যে ফিরলেও হ্যারি ও মেগান আগের রাজকীয় দায়িত্বে ফিরছেন না। ২০২০ সালের চুক্তি অনুযায়ী তারা নন-ওয়ার্কিং রয়্যাল হিসেবেই থাকবেন। অর্থাৎ রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তন হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে রাজকীয় দায়িত্ব পালনের কোনো নতুন ঘোষণা নেই। সব মিলিয়ে সন্তানদের শিক্ষা, যুক্তরাজ্যে পারিবারিক যোগাযোগ এবং হ্যারির দাতব্য কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই এই প্রত্যাবর্তন সবচেয়ে বেশি ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ছয় বছর পর তাদের এই সিদ্ধান্ত রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি, অন্যদিকে বন্দি ইরানিদের ফেরত, ফাঁস নথিতে ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি
রাশিয়ায় ‘চরমপন্থী’ তকমা পেয়ে ট্রান্সজেন্ডারসহ এলজিবিটিকিউ অধিকার গোষ্ঠীর কার্যক্রম বন্ধ
ক্যানসারকে হারিয়ে জীবন ফিরে পেয়েছেন, এবার মা হতে চান তরুণী, প্রয়োজন ১০ হাজার ডলার
কেনিয়ায় সাফারি ভ্রমণের সময় পর্যটকবাহী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ আরোহী সাতজনের সবাই নিহত হয়েছেন। বুধবার উত্তর কেনিয়ার প্রত্যন্ত সামবুরু কাউন্টির মাউন্ট ওলোলোকওয়ের পাদদেশে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে লইসাবা কনজারভেন্সি থেকে ইওয়াসো নায়িরো এলাকায় যাওয়ার পথে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটিতে ছয়জন যাত্রী ও একজন পাইলট ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আমেরিকান নাগরিক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এনবিসিইউনিভার্সাল জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠান টেলেমুন্ডো ৩১, টেলেমুন্ডো ৪৯ এবং টেলেমুন্ডো ফোর্ট মায়ার্স-নেপলসের প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার হোসে আলবার্তো সুয়ারেজ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাঁকে একজন শ্রদ্ধেয় নেতা ও অভিভাবক হিসেবে স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইকুয়েডরের পরিবহনমন্ত্রী রবার্তো লুকে নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনায় তাদের দেশের জাতীয় গোয়েন্দাপ্রধান মিশেল সেন্সি-কন্তুগি এবং তাঁর স্ত্রী স্তেফানিও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ট্রাভেল কোম্পানি '&বিয়ন্ড'-এর অতিথিদের নিয়ে লেডি লরি হেলিকপ্টারস কোম্পানির ইউরোকপ্টার ইসি১৩০ বি৪ মডেলের চার্টার্ড বিমানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং দুর্ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলে ওঠার কারণে উদ্ধার তৎপরতা বেশ ব্যাহত হয়। স্থানীয় সাফারি অপারেটর ট্রপিক এয়ারের দুটি হেলিকপ্টার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহায়তা প্রদান করে। বিমান দুর্ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে পর্যটক পরিবহনে অভ্যন্তরীণ বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এমন দুর্ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
‘সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না’, ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে পাকিস্তান
‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’, ইসলাম গ্রহণের খবরে রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমাম