আন্তর্জাতিক

বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে মাঝরাতে উধাও ১৬ ও ১৪ বছরের ভাই-বোন, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৬:৫১
বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে মাঝরাতে উধাও ১৬ ও ১৪ বছরের ভাই-বোন, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান
বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে মাঝরাতে উধাও ১৬ ও ১৪ বছরের ভাই-বোন, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালানোর পর গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে এক কিশোর ভাই-বোন। চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এই দুই কিশোর-কিশোরীর সন্ধানে জরুরি তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

 

ধারণা করা হচ্ছে, ১৬ বছর বয়সী মুকর্মা এবং তার ১৪ বছর বয়সী ভাই মুহাম্মদ গত সোমবার ভোরের দিকে পরিবারের একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রিয়াস গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায়, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর কেআর১০ এনটিএফ (KR10 NTF)। সর্বশেষ তাদের গাড়িটি এ৪০ অক্সফোর্ড রোড হয়ে জেরার্ডস ক্রস থেকে বীকনসফিল্ডের দিকে যেতে দেখা গেছে। এরপর থেকে আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরায় গাড়িটির দেখা মেলেনি এবং পরিবারের সঙ্গেও তাদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

 

নিখোঁজ মুহাম্মদের বর্ণনায় বলা হয়েছে, তার উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি, হালকা গড়নের এই এশীয় কিশোরের কাঁধ পর্যন্ত লম্বা কালো চুল রয়েছে এবং সে নিয়মিত চশমা পরে। অন্যদিকে, তার বোন মুকর্মার উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। হালকা গড়নের এই কিশোরীর লম্বা, কালো ও কোঁকড়ানো চুল সাধারণত বেণীতে বাঁধা থাকে।

 

সে সম্ভবত হিজাব পরিহিত অবস্থায় আছে এবং তার এক গালে টোল রয়েছে। তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ সার্জেন্ট গ্যারি ওয়াকার জানিয়েছেন, নিখোঁজদের বয়স, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো এবং নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময়ের কারণে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

 

পুলিশ এই ঘটনাটিকে তদন্তের একটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে। গ্যারি ওয়াকার জানান, চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এই শিশুরা এখন দেশের যেকোনো স্থানে থাকতে পারে। তাই তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য বা দর্শন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণকে এগিয়ে আসার জন্য পুলিশ বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে।

 

বিশেষ করে কেউ যদি গত কয়েক দিনে তাদের কোনো প্রকার সাহায্য বা আশ্রয় দিয়ে থাকেন, তবে দ্রুত পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। মুকর্মা বা মুহাম্মদকে দেখতে পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ নম্বরে কল করে ‘CAD 2117/17AUG’ রেফারেন্স উল্লেখ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া কেউ চাইলে ক্রাইমস্টপার্সের ০৮০০ ৫৫৫ ১১১ নম্বরে কল করে সম্পূর্ণ বেনামেও তথ্য প্রদান করতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার মাঝেই উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষে পণাস্ত্র পরীক্ষা
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার মাঝেই উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষে পণাস্ত্র পরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার মাঝেই বৃহস্পতিবার পূর্ব দিকে একগুচ্ছ স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে পিয়ংইয়ং থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়।   অন্যদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) বাইরে সাগরে পতিত হয়েছে।   কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান বার্ষিক 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড' সামরিক মহড়া চলাকালেই পিয়ংইয়ং এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহড়ার পরিসর 'উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর' নির্দেশ দেওয়ায় শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের আগেই এই মহড়া শেষ হতে যাচ্ছে।   উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো’ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প মহড়া কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেন। গত বুধবার তিনি আরও জানান যে, চলতি বছরের শেষের দিকে কিমের সঙ্গে তার পুনরায় সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের জন্য 'উন্মুক্ত হুমকি' আখ্যা দিয়ে এর কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ং নিয়মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।   গত ১২ আগস্ট পূর্ব উপকূলে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় বৃহস্পতিবারের এই নিক্ষেপটি হলো চলতি আগস্ট মাসে উত্তর কোরিয়ার তৃতীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৭:৫২
বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে মাঝরাতে উধাও ১৬ ও ১৪ বছরের ভাই-বোন, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে মাঝরাতে উধাও ১৬ ও ১৪ বছরের ভাই-বোন, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

সামাজিক মাধ্যমে আত্মহ ত্যার ভিডিও দেখতে দেখতে, ১৩ বছরের কিশোরী নিজেই আত্মহ ত্যা করল

সামাজিক মাধ্যমে আত্মহ ত্যার ভিডিও দেখতে দেখতে, ১৩ বছরের কিশোরী নিজেই আত্মহ ত্যা করল

রুশ ক্ষে পণাস্ত্রের হু মকিতে অ্যান্টার্কটিকার মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেল মার্কিন সামরিক বিমান

রুশ ক্ষে পণাস্ত্রের হু মকিতে অ্যান্টার্কটিকার মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেল মার্কিন সামরিক বিমান

ইরান যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনা নি হত, আহত ৭৫০-এর বেশি; প্রকাশ্যে পেন্টাগনের তথ্য I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনা নি হত, আহত ৭৫০-এর বেশি; প্রকাশ্যে পেন্টাগনের তথ্য

ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়েছেন এবং ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের হতাহতের তথ্যভান্ডার ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (ডিক্যাস) হালনাগাদ করার পর এই চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।   গত বুধবার পেন্টাগন নতুন করে আরও ৫০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য এই তালিকায় যুক্ত করেছে। ডিক্যাসের ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বিভাগের সাথে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সর্বমোট ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন।   ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে যখন আলোচনা পুরোপুরি থমকে আছে, ঠিক তখনই মার্কিন বাহিনীর এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ্যে এল।   পেন্টাগনের এই তথ্য প্রকাশ নিয়ে বেশ বিতর্কও তৈরি হয়েছে। গত মাসে ডিক্যাসের তালিকা থেকে নিহত চারজন এবং বেশ কয়েকজন আহত সেনার নাম হঠাৎ করেই বাদ পড়ে যায়, যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতারা চরম সমালোচনা শুরু করেন। পরবর্তীতে পেন্টাগন দাবি করে যে ‘সাময়িক তথ্যগত বিঘ্নের’ কারণে এই ভুল হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় তালিকায় যুক্ত করা হয়।   পেন্টাগন গত মাসেই ডিক্যাসে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে, যেখানে ৭ জুলাই থেকে হতাহতদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে ৭ জুলাই তারিখেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আওতায় কংগ্রেসকে ইরানের সাথে নতুন সংঘাত শুরুর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। তবে কোন নির্দিষ্ট সংঘাতে এই সেনারা হতাহত হয়েছেন, সে ব্যাপারে পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পেন্টাগন শুরু থেকেই আহত সেনাদের তথ্য প্রকাশে বেশ ধীরগতি অবলম্বন করে আসছে। এতসব উদ্বেগ ও প্রাণহানির মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে পরিস্থিতি বর্তমানে ‘খুব ভালো’।   তবে তিনি তেহরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের আলোচনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে হরমুজ প্রণালি এখনও চরম উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৫:১৪
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক লোরেনা স্টেফানির সঙ্গে ভারতের রাবেক

বিমানবন্দরে ট্যাক্সি যাত্রা থেকে প্রেম-বিয়ে, ভিসা জটিলতায় এখন দুই দেশে আলাদা অস্ট্রেলিয়ান-ভারতীয় দম্পতি

গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান তুরস্ক, মিসর ও কাতারের। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা তুরস্ক-মিসর-কাতারের, যুদ্ধবিরতি মানার আহ্বান

নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর অস্ট্রেলিয়ার নাত্তাই জাতীয় উদ্যান থেকে লিলি হুপারের মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

আট দিন পর নিখোঁজ অস্ট্রেলীয় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, জীবিত থাকার ভুল খবরে পরিবারে শোক

নাগরিকত্বের মাধ্যমে পাসপোর্ট ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিকারের সুযোগ দেয় ফিনল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেলে যে ৬টি বিশেষ অধিকার পাওয়া যায়, সেগুলো কী?

ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব শুধু দেশটির পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগই তৈরি করে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। দেশটির সরকারি তথ্যসেবা ইনফোফিনল্যান্ডে নাগরিকত্বের সঙ্গে যুক্ত অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।   প্রথমত দেশটির পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার অর্জন করা। নাগরিকদের জন্য ফিনিশ পাসপোর্ট দেশের নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি নাগরিকদের সাধারণ বসবাসের অনুমতির তুলনায় নাগরিকত্বের এই অধিকার আলাদা।   দ্বিতীয়ত, ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের নিজের দেশে প্রবেশের অধিকার রয়েছে। বিদেশে অবস্থান করলেও নাগরিকরা ফিনল্যান্ডে ফিরে যেতে পারেন। নাগরিকত্বের সঙ্গে প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিশেষ সুরক্ষাও যুক্ত রয়েছে, যদিও কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।   তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ফিনিশ নাগরিকরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে অংশ নিতে পারেন। অর্থাৎ নাগরিকত্ব অর্জনের পর একজন বিদেশি শুধু দেশটিতে বসবাসকারী ব্যক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারেন।   চতুর্থত, ফিনল্যান্ডের নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। এর ফলে নাগরিকরা শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; তারা নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।   পঞ্চম অধিকার হলো নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজের সুযোগ। ফিনল্যান্ডের কিছু সরকারি দায়িত্ব ও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকত্ব প্রয়োজন হতে পারে। ফলে নাগরিকত্ব অর্জনের মাধ্যমে এমন কিছু সরকারি চাকরি ও দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয়, যেগুলো বিদেশি নাগরিকদের জন্য সীমিত।   ষষ্ঠ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব। ফিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় ফিনিশ নাগরিকরা একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন অধিকার পান। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোতে অবাধে চলাচল, বসবাস ও কাজের সুযোগ অন্যতম। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্তে অন্য সদস্যদেশে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকারও রয়েছে।তবে ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্বের সঙ্গে শুধু অধিকার নয়, কিছু দায়িত্বও রয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের দায়িত্ব রয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ ফিনিশ নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় পড়তে হতে পারে।   নারীদের জন্য সামরিক সেবা স্বেচ্ছামূলক। ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের দেশের আইন মেনে চলার দায়িত্বও রয়েছে।নাগরিকরা বিদেশে অবস্থান করলেও কিছু পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের আইনের আওতায় আসতে পারেন। একই সঙ্গে ফিনল্যান্ড একাধিক নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুমতি দিলেও সংশ্লিষ্ট অন্য দেশের আইন ও নাগরিকত্বের বিধান আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।   তবে নাগরিকত্ব এবং বসবাসের অনুমতি এক বিষয় নয়। ফিনল্যান্ডে দীর্ঘদিন বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না।নাগরিকত্বের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হয়।আবেদনকারীর পরিচয়, ফিনল্যান্ডে বসবাসের সময়কাল, ভাষাজ্ঞান এবং অন্যান্য আইনি শর্ত বিবেচনা করা হতে পারে।    ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব একজন বিদেশির জন্য শুধু একটি পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে চলাচল ও কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধিকার পাওয়া যায়। একই সঙ্গে নাগরিকদের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও আইন মেনে চলার মতো দায়িত্বও পালন করতে হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:২৩
যুক্তরাজ্যে অবিবাহিত দম্পতিদের অধিকার বাড়ানোর নতুন প্রস্তাব নিয়ে শঙ্কিত ক্লেয়ার লংহার্স্ট ও তাঁর পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে না করেও সংসার, নতুন আইনি প্রস্তাবে সঞ্চয় নিয়ে শঙ্কায় ব্রিটিশ নারী

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের খবর

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

0 Comments