২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে ৬৯ সন্তানের মা, ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া নারী তিনি
রাশিয়ার ১৮ শতকের এক কৃষক পরিবারের নারী ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভাকে ঘিরে এমন এক রেকর্ডের দাবি রয়েছে, যা আজও অবিশ্বাস্য মনে হয়। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, তিনি ২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে মোট ৬৯ সন্তানের মা হয়েছিলেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও এটিকে এক মায়ের সর্বোচ্চ সন্তান জন্মদানের রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে কয়েক শতাব্দী পুরোনো হওয়ায় ঘটনাটির সব তথ্য আধুনিক মানদণ্ডে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভ্যালেন্টিনা ছিলেন রুশ কৃষক ফিওদর ভাসিলিয়েভের প্রথম স্ত্রী। গিনেসের তথ্য অনুযায়ী, ১৭২৫ থেকে ১৭৬৫ সালের মধ্যে ২৭টি প্রসবে তিনি ১৬ জোড়া যমজ, ৭ সেট ট্রিপলেট এবং ৪ সেট কোয়াড্রুপলেটের জন্ম দেন। সব মিলিয়ে সন্তানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৯।
এই হিসাব অনুযায়ী, ১৬ জোড়া যমজে সন্তান ৩২ জন, ৭ সেট ট্রিপলেটে ২১ জন এবং ৪ সেট কোয়াড্রুপলেটে ১৬ জন। তিন ধরনের সন্তান মিলিয়েই ৬৯ জন।
ঘটনাটির তথ্য প্রথমদিকে রাশিয়ার নিকোলস্ক মঠের নথিতে পাওয়া যায়। ১৭৮২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মস্কোয় পাঠানো একটি প্রতিবেদনে ভাসিলিয়েভ পরিবারের সন্তানসংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে ১৭৮২ সালে দ্য জেন্টলম্যানস ম্যাগাজিনেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়।
তবে ভ্যালেন্টিনার গল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নিজেও বলছে, ঘটনাটি পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মনে হলেও সেই সময়ের একাধিক নথি এর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ভ্যালেন্টিনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়, এমনকি তার নাম নিয়েও ঐতিহাসিক সূত্রে নিশ্চিততা নেই।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ফিওদর ভাসিলিয়েভ পরে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তার আরও ১৮ সন্তান ছিল, যার মধ্যে ছিল ৬ জোড়া যমজ ও ২ সেট ট্রিপলেট। ফলে দুই স্ত্রী মিলিয়ে তার মোট সন্তানের সংখ্যা ৮৭ বলে দাবি করা হয়েছে।
এত বেশি যমজ ও একাধিক সন্তান একসঙ্গে জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কিছু আধুনিক বিশ্লেষণে জেনেটিকভাবে একাধিক ডিম্বাণু নিঃসরণের প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। তবে ভ্যালেন্টিনার ক্ষেত্রে এমন কোনো কারণ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
চার শতাব্দী আগের এই ঘটনাটির সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ৬৯ সন্তান জন্ম দেওয়ার দাবিটি এখনো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের রেকর্ড তালিকায় রয়েছে। তাই ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভার নাম ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েদের তালিকায় এক অনন্য রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreমুখে কোনো মেকআপ না দিয়েই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন মেলিসা রউফ। ২০ বছর বয়সী এই তরুণী প্রতিযোগিতার ৯৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে পুরো প্রতিযোগিতায় মেকআপ ছাড়া অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত সেরা ১৬ জনের তালিকায় জায়গা করে নেন। রউফের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল নিজের স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেকআপ করতেন। নিজের স্বাভাবিক চেহারায় বাইরে যেতে স্বস্তি বোধ করতেন না তিনি। তবে ২০২২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে সেই অভ্যাস বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন রউফ। মিস লন্ডন প্রতিযোগিতায় কোনো মেকআপ ছাড়াই অংশ নেন তিনি। সেখানে ‘বের ফেস টপ মডেল’ পর্বে জয় পান, যা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এরপর মিস ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে আরও বড় সিদ্ধান্ত নেন রউফ। পুরোপুরি মেকআপ ছাড়া মঞ্চে হাজির হন তিনি। প্রতিযোগিতার দীর্ঘ ৯৪ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রতিযোগী, যিনি মেকআপ ছাড়াই পুরো প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে স্বাভাবিক চেহারায় মঞ্চে ওঠার কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েননি রউফ। বরং ৪০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা ১৬ জনের একজন হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি। রউফ জানান, এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে সুন্দর দেখাতে মেকআপ বা ফিল্টারের প্রয়োজন নেই। নিজের স্বাভাবিক চেহারা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী হওয়া সম্ভব। তার এই বার্তা বিশেষ করে তরুণীদের নিজেদের মতো করে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে উৎসাহিত করেছে। পরবর্তীতে মেকআপ ছাড়া সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ধারণাটিও আরও জনপ্রিয় হয়। রউফ নিজেও পরে এমন একটি প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি সম্পাদনা, ফিল্টার এবং নিখুঁত দেখানোর চাপ যখন মানুষের স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে, তখন রউফের সিদ্ধান্ত ছিল নিজের চেহারাকে লুকিয়ে না রেখে স্বাভাবিকভাবেই মঞ্চে দাঁড়ানোর এক ব্যতিক্রমী বার্তা।
২৬ বছরের সাবেক গাড়ি বিক্রেতা এখন বেলজিয়ামের রাজপুত্র! বাবার স্বীকৃতিতে পেলেন উত্তরাধিকার অধিকার
২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে ৬৯ সন্তানের মা, ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া নারী তিনি
চুরির অভিযোগে আত্মহত্যা করা ক্যামব্রিজ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা একাডেমিক সাসপেন্ড
২০১৩ সালে চীনের ২৪ বছর বয়সী ওয়াং শিয়াও জানতে পারেন, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে তার হাতে হয়তো আর এক বছরের মতো সময় আছে। পরিবারের কারও কিডনি তার সঙ্গে মেলেনি। জীবন বাঁচানোর আর কোনো পথ না দেখে তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন, যা শুনলে অবাক হতে হয়। ক্যানসার রোগীদের একটি অনলাইন সহায়তা গ্রুপে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন এমন এক অসুস্থ পুরুষকে, যিনি মৃত্যুর পর তার একটি কিডনি দান করতে পারবেন। ওয়াং সেখানে লিখেছিলেন, বিয়ের পর তিনি স্বামীকে যথাসাধ্য যত্ন নেবেন। তার এই পোস্টের জবাব দেন ২৭ বছর বয়সী ইউ জিয়ানপিং। তিনি মায়েলোমা নামের এক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং এরই মধ্যে কয়েকবার রোগটি ফিরে এসেছিল। ওয়াংয়ের সঙ্গে তার রক্তের গ্রুপও মিলে যায়। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে দুজন বিয়ে নিবন্ধন করেন। শুরুতে এটি ছিল মূলত বেঁচে থাকার একটি সমঝোতা। ওয়াং ইউয়ের চিকিৎসার সময় তার পাশে থাকবেন এবং পরে তার বাবার দেখাশোনা করবেন। বিনিময়ে ইউ মৃত্যুর পর নিজের একটি কিডনি ওয়াংকে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। দুজন নিজেদের আর্থিক বিষয়ও আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের কক্ষ, চিকিৎসার দীর্ঘ দিন আর অসুস্থতার মাঝেও একসঙ্গে কাটানো সময় ধীরে ধীরে সেই চুক্তির চরিত্র বদলে দেয়। দুজন একে অন্যের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতেন, অসুস্থতা নিয়েও হাসি-ঠাট্টা করতেন এবং কঠিন সময় পার করতে পরস্পরকে মানসিকভাবে সাহস দিতেন। একসময় তারা বুঝতে পারেন, সম্পর্কটি আর শুধু কিডনির বিনিময়ে করা বিয়ে নেই। এরপর ইউয়ের আবার বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে ওয়াং রাস্তায় ছোট একটি ফুলের স্টল দেন। প্রতিটি ফুলের সঙ্গে তিনি হাতে লেখা কার্ডে তাদের গল্প তুলে ধরতেন। দুই অসুস্থ মানুষের একে অপরকে বাঁচানোর এই গল্প দ্রুত মানুষের নজরে আসে। অনেকেই তাদের ফুল কিনে সহযোগিতা করতে শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ থেকে প্রায় ৫ লাখ ইউয়ান সংগ্রহ হয়েছিল, যা ইউয়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে বড় ভূমিকা রাখে। চিকিৎসার পর ইউয়ের শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হতে থাকে। একই সময়ে ওয়াংয়ের নিজের কিডনি সমস্যাও কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে আসে। তার ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয়তা কমে যায় এবং চিকিৎসকেরা একপর্যায়ে জানান, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়তো আর নাও হতে পারে। অর্থাৎ যে কিডনির আশায় তাদের বিয়ের শুরু, শেষ পর্যন্ত সেই কিডনির প্রয়োজনই আর রইল না। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুজন আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান করেন। এবার তাদের বিয়ের পেছনে কোনো চুক্তি ছিল না, ছিল দীর্ঘ অসুস্থতার সময় একে অপরের পাশে থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্ক। চীনের শানসি প্রদেশের শিয়ান শহরে পরবর্তীতে তারা একসঙ্গে ফুলের ব্যবসা শুরু করেন। তাদের অসাধারণ জীবনকাহিনি ২০২৪ সালের চীনা সিনেমা ‘ভিভা লা ভিদা’-র অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। যে দুজন একসময় জীবন বাঁচানোর জন্য একটি চুক্তিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তির প্রয়োজনই পড়েনি। বরং কঠিন অসুস্থতার মধ্য দিয়ে একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে তারা খুঁজে পেয়েছিলেন এমন এক সম্পর্ক, যা আজও তাদের একসঙ্গে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার মাঝেই উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষে পণাস্ত্র পরীক্ষা
বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে মাঝরাতে উধাও ১৬ ও ১৪ বছরের ভাই-বোন, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান
সামাজিক মাধ্যমে আত্মহ ত্যার ভিডিও দেখতে দেখতে, ১৩ বছরের কিশোরী নিজেই আত্মহ ত্যা করল
নিউজিল্যান্ড থেকে অ্যান্টার্কটিকা যাওয়ার পথে ‘মহাকাশ সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রম’-এর সতর্কবার্তা পেয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান। গত মঙ্গলবার সকালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ থেকে উড্ডয়নের তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার’ মডেলের মার্কিন বিমানটি আবার সেখানে ফিরে আসে। আইসিই২৮ (ICE28) কল সাইনযুক্ত এই ফ্লাইটটি নিউজিল্যান্ডের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএ) জারি করা পাইলটদের জন্য একটি বিশেষ নোটিশ বা 'নোটাম' (NOTAM)-এর কারণেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়। সিএএ-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন তাদেরকে ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রমের বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছিল। পরবর্তীতে জানানো হয় যে, এটি ছিল মূলত রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সতর্কতা। এর ফলে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় সিএএ পাইলটদের জন্য এই নোটাম জারি করে। এই বিপদের আশঙ্কাটি তৈরি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড নিয়ন্ত্রিত ‘ওশেনিক ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর)’ এলাকার মধ্যে, যা মূলত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার চুক্তির অধীনে নিউজিল্যান্ড পরিচালনা করে থাকে। নিউজিল্যান্ডের এয়ার ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের মতে, এফআইআর অঞ্চলটি প্রায় তিন কোটি বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর বেশিরভাগ অংশই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর এবং তাসমান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্গত। তবে সিএএ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা ওই এলাকাটিকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করলেও, তা বিমান চলাচলে কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ছিল না; বরং ফ্লাইটের অপারেটরদের সতর্ক করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, মার্কিন বিমানবাহিনীর এই ফ্লাইটটি তাদের বার্ষিক শীতকালীন ফ্লাইটের একটি অংশ ছিল। অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকালীন গবেষণা মৌসুম শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও গবেষকদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই প্রতি বছর ক্রাইস্টচার্চ থেকে এই রুটিন ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা হয়।
ইরান যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনা নি হত, আহত ৭৫০-এর বেশি; প্রকাশ্যে পেন্টাগনের তথ্য
বিমানবন্দরে ট্যাক্সি যাত্রা থেকে প্রেম-বিয়ে, ভিসা জটিলতায় এখন দুই দেশে আলাদা অস্ট্রেলিয়ান-ভারতীয় দম্পতি