ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ধাক্কায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করলেন জয়শঙ্কর
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধাবস্থা ও ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, চলমান এসব ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে সার ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা অচিরেই চরম খাদ্যসংকটের দিকে বিশ্বকে ঠেলে দেবে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে জয়শঙ্কর মূলত ‘ফোর-এফ’ (4F: ফুড, ফুয়েল, ফার্টিলাইজার এবং ফাইন্যান্স) বা খাদ্য, জ্বালানি, সার ও মূলধনের সমন্বিত সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে খেলা হলে তা বাজার পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল ও জটিল করে তুলবে। এর পাশাপাশি ‘সুপার এল নিনো’র মতো জলবায়ুর বিরূপ আচরণ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষির অপরিহার্য উপাদান খাদ্যশস্য ও সার পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে জয়শঙ্কর জানান, কৃষ্ণসাগর অঞ্চল দিয়ে সমুদ্রপথে রপ্তানি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক দেশগুলো তাদের পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার মতো মূল সার উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী সারের চরম ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার কারণে বিনিয়োগের অর্থ ‘গ্লোবাল সাউথ’ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যাওয়ায় দরিদ্র দেশগুলো তীব্র মূলধন সংকটেও ধুঁকছে।
শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থপর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রভাবশালী দেশগুলোর এমন আচরণ করা উচিত নয় যেখানে তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ভাবে এবং বাকি বিশ্বের প্রতি দায়িত্ব এড়ায়। দরিদ্র দেশগুলোর মৌলিক চাহিদার প্রতি ন্যূনতম সংবেদনশীল হওয়ার জন্য তিনি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
জ্বালানিসংকটের জেরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ইতোমধ্যে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, চলমান ইরান ও উপসাগরীয় সংঘাত তাকে আরও উসকে দেবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই বহুমুখী সংকট থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কৌশলগতভাবে আরও বেশি স্বনির্ভর হয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreজনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা তাঁর কর্মজীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। দীর্ঘ দুই দশক ব্র্যাকে কাজ করার পর প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে তিনি এবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ‘অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মিথিলা নিজেই এই আনন্দের খবরটি সবার সঙ্গে শেয়ার করেছেন। ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে ১৫ বছরসহ মোট ২০ বছর তিনি ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চে মিথিলা 'আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব'-এর নকশা প্রণয়ন ও মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেবেন। নিউইয়র্কভিত্তিক এই উদ্যোগটি মূলত প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যের ওপর কাজ করে। এটি জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু এবং তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মতো বৈশ্বিক পরিসরে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত বলে জানিয়েছেন। গবেষণার পাশাপাশি মিথিলা দ্য সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে (কুনি) 'অ্যাডজাংকট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর' হিসেবে শিক্ষকতাও শুরু করেছেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নন-প্রফিট ম্যানেজমেন্ট বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে বাস্তবধর্মী ধারণা লাভ করতে পারে। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ব্র্যাক ছাড়ার বিষয়ে আবেগাপ্লুত মিথিলা জানান, তার পেশাগত জীবনকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে ব্র্যাকের অবদান অনস্বীকার্য। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষণাধর্মী পরিবেশে কাজ করার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জানিয়ে নতুন এই পথচলায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ধাক্কায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করলেন জয়শঙ্কর
বিমানে হামলা ঠেকানো চার যাত্রীকে সম্মাননার সুপারিশ ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের, ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ইফতেখার সাফিন
বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হাইতির সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গিলবার্ট বিজিও ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ব্যবসায়িক জীবনে তিনি দেশটির সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতে একক আধিপত্যের এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তবে কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল সম্পদ লুকিয়ে রাখা এবং নিজ দেশের মারাত্মক সহিংসতায় লিপ্ত সশস্ত্র বাহিনীকে অর্থায়নের আন্তর্জাতিক অভিযোগে তাঁর সুদীর্ঘ বাণিজ্যিক সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন ও বিতর্কিত হয়ে পড়ে। গিলবার্ট বিজিও ১৯৭২ সালে জিবি গ্রুপ নামের এক বিশাল বহুভাষিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে বিজিও নামে পুনর্নামকরণ করা হয়েছিল। দেশের প্রথম ইস্পাত কারখানা আসিরি দ্য হাইতি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে পুরো দেশের অর্থনীতিকে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। আধুনিক সময়ে এসে এটি মোট ১৩টি বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ৬টি প্রধান খাত জুড়ে পরিচালিত হতো। প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি কর্মীর এই বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক পুরো দেশের নির্মাণ সামগ্রী, আন্তর্জাতিক কনটেইনার বন্দর ব্যবস্থাপনা, পেট্রোলিয়াম পদার্থ এবং রান্নার তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করত। ২০২১ সালে প্রকাশ পাওয়া বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী প্যান্ডোরা পেপার্স নামের আন্তর্জাতিক গোপন নথিপত্রে এই ধনকুবেরের নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে আসে। সেখানে উদঘাটন করা হয় যে নিজ দেশের চরম political ও অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে বিজিও পরিবার করমুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দ্বীপে শত শত গোপন অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের বিপুল অর্থ গোপন করে আসছিলেন। দেশের এই শীর্ষ ধনী পরিবার অত্যন্ত চতুরতার সাথে শত শত কোটি ডলার পাচার করে আমেরিকার মিয়ামি ও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক এবং ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে স্থানান্তর করেন, যার ফলে হাইতির রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডার বিশাল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ গবেষকরা সরাসরি প্রমাণ করেছেন যে হাইতির এই চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক দারিদ্র্যের পেছনে বিজিওর মতো প্রভাবশালী ধনী শ্রেণীর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার নীতি প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। কর আদায়ে সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং বিজিওদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অক্ষমতার কারণে দেশের জনকল্যাণমূলক খাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পূর্ণ থমকে যায়। এরপর ২০২২ সালে হাইতির পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীকে মদদ দেওয়া ও সহিংসতায় অর্থায়নের অভিযোগে কানাডা সরকার বিজিওর ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবনের শেষ কয়েক দশকে গিলবার্ট বিজিও প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে আমেরিকার মিয়ামির অতি ধনী এলাকা এবং ডমিনিকান রিপাবলিকের বিলাসবহুল আবাসে বসবাস করতেন। বিতর্কিত ধনকুবের এবং আন্তর্জাতিক যৌন অপরাধী জেফ্রি এপেস্টাইনের বাজেয়াপ্ত করা বিলাসবহুল গাড়ি চড়া দামে কিনে নিয়েও তিনি বিভিন্ন সময়ে বৈশ্বিক গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে, ফ্লোরিডার নিজস্ব আবাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি এবং স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র: মিয়ামি হেরাল্ড
ধর্মীয় চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা, অপুষ্টি ও চিকিৎসায় দেরি: মধ্যপ্রদেশে ৩২ শিশুর মৃত্যু
গিটারকে যাত্রী ভেবে হেলমেটের মামলা, এআই ক্যামেরার কাণ্ডে হাসির রোল
বাংলাদেশিদের জন্য সুইডেনের শেনজেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আসছে বড় পরিবর্তন
নয়াদিল্লি: নারীদের নিরাপত্তা জোরদারে দিল্লি পুলিশে বিশেষায়িত ‘পিংক ফোর্স’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এই বিশেষ টহল ইউনিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু। প্রস্তাবিত এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হবে স্কুল, কলেজ, মেট্রো স্টেশনসহ নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো। বিশেষ করে যেসব সময় ও স্থানে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তাঝুঁকি বেশি থাকে, সেসব এলাকায় নিয়মিত টহল ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। দিল্লির এই উদ্যোগের মডেল হিসেবে নেওয়া হচ্ছে গোয়া পুলিশের ‘পিংক ফোর্স’। গোয়ায় ২০২১ সালে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং দ্রুত পুলিশি সহায়তার জন্য বিশেষায়িত এই ইউনিট চালু করা হয়েছিল। দিল্লিতে নতুন ইউনিটটি আসলে একেবারে নতুন ধরনের নারী পুলিশিং নয়। এর আগে থেকেই দিল্লি পুলিশ নারী সদস্যদের স্কুটার ও বিট প্যাট্রোলে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বাজার ও মেট্রো স্টেশনের আশপাশে মোতায়েন করে আসছে। নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য এসব কার্যক্রমকে একটি আলাদা ও সমন্বিত ‘পিংক ফোর্স’-এর আওতায় আনা। এই উদ্যোগের পেছনে দিল্লিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১০ দিনের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর যৌন নির্যাতনের চারটি ঘটনা সামনে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর জননিরাপত্তা ও পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর নতুন করে জোর দেওয়া হয়। পিংক ফোর্সের পাশাপাশি দিল্লি পুলিশকে ‘অপারেশন শিষ্টাচার’-এর আওতায় প্রকাশ্য স্থানে নারীদের উত্ত্যক্ত ও হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বাজার ও পরিবহনকেন্দ্রিক এলাকায় পায়ে হাঁটা ও মোটরসাইকেল টহলও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘জন শুনানি’ কার্যক্রমের অভিযোগগুলো ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলোতে শিশু সুরক্ষা, POCSO আইন, সাইবার অপরাধ, মাদক ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে নারী নিরাপত্তায় এরই মধ্যে ১১৬টি ‘পিংক বুথ’, সর্ব-মহিলা PCR ভ্যান এবং অন্যান্য নারী-কেন্দ্রিক পুলিশি উদ্যোগ চালু রয়েছে। জুন ২০২৬-এ উত্তর দিল্লির সবজি মান্ডি এলাকায় রাজধানীর প্রথম সর্ব-মহিলা থানাও চালু করা হয়। তবে ‘পিংক ফোর্স’ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—এটি এখনো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। বাহিনীতে কতজন সদস্য থাকবেন, কোন কোন জেলায় কতজন মোতায়েন হবেন এবং ঠিক কবে থেকে নিয়মিত টহল শুরু হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
আফগানিস্তানে ফিরলে নারী সাংবাদিকের গলা কা টার ইঙ্গিত খাজা আসিফের
দিল্লিতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন, ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হলেন রুবিও