জেলেনস্কির বদলে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার তাগিদ
ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশটিতে নতুন একজন নেতা নির্বাচন করার সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে জেলেনস্কি বারবার ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
শনিবার এক বক্তব্যে ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখন এমন একজন নেতা দরকার যিনি মস্কোর সঙ্গে সমঝোতা বা চুক্তি করতে সক্ষম। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ থামানোর বহু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জেলেনস্কি কোনো এক অজানা কারণে কখনোই সেই পথে হাঁটেননি; তাই ইউক্রেনের জন্য এখন নতুন প্রেসিডেন্ট খোঁজার উপযুক্ত সময় এসেছে।
ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি আগে ক্ষমতায় থাকলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এই বিধ্বংসী যুদ্ধ কখনোই শুরু হতো না। সংঘাতের শুরু থেকেই জেলেনস্কি বারবার আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প।
তিনি সতর্ক করে বলেন, রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে, যা আমেরিকান কৃষক ও খামারিদের সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউক্রেনকে ডিজেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল এবং তাদের অবিলম্বে এই হামলা থামাতে হবে।
এদিকে, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কমাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির ফলে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই জ্বালানি চুক্তিকে কিয়েভ এবং ইউরোপীয় মিত্ররা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে একটি "দুর্বল সিদ্ধান্ত" বলে আখ্যায়িত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন যে, পুতিনের সঙ্গে এমন সমঝোতা মূলত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসী যুদ্ধে নতুন করে অর্থ বিনিয়োগ করারই শামিল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreআরব উপসাগরে তেলবাহী একটি জাহাজে আ গু ন লাগার পর ২২ জন এশীয় নাবিককে উদ্ধার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ড। শনিবার (১০ অক্টোবর) এ উদ্ধার অভিযানের তথ্য জানানো হয়। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের সবার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। জাহাজটিতে আ গু ন লাগার পর এর নাবিকেরা জরুরি সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান। সেই খবর পাওয়ার পর কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বিশেষায়িত দল জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। এরপর জাহাজে থাকা ২২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর নাবিকদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কারও শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়নি। বরং তাঁদের সবার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে তেলবাহী জাহাজটির নাম, মালিকানা কিংবা কোন দেশের পতাকা নিয়ে সেটি চলাচল করছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজটিতে ঠিক কী কারণে আ গু ন লেগেছিল, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। আ গু নের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল বা এতে জাহাজটির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার বিষয়টি সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে নাবিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে আগুনের কারণ ও বিস্তারের পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এ অভিযান মানুষের জীবন রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ। তবে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের জাতীয়তা সম্পর্কে এশীয় নাগরিক হওয়ার বাইরে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে জাহাজটি কোন রুটে চলছিল বা কোথায় যাচ্ছিল, সে তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে থাকা ২২ জনকেই উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। জাহাজটির পরিচয় ও আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র জানা যাবে।
জেলেনস্কির বদলে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার তাগিদ
৯/১১ হা মলার আদলে তেল আবিব বিমানবন্দরে বিমান আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট
ইরাকে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ৭ জনকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন মার্কিন সেনা আলউইন ক্যাশ
ফুটবল মাঠে চলছিল টানটান উত্তেজনার এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। খেলার মাঝপথেই গোলরক্ষকের সজোরে লাথি মারা বল আচমকা আঘাত করে বসে উড়ন্ত একটি সিগাল পাখিকে। প্রচণ্ড আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই মাঠে আছড়ে পড়ে পাখিটি, নিস্তেজ হয়ে যায় তার শরীর। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি ইস্তাম্বুল ইয়ুরদুম স্পোরের অধিনায়ক গানি চাতান। খেলা থামিয়ে সরাসরি ছুটে যান আহত পাখিটির কাছে। মুমূর্ষু পাখিটিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টায় তিনি মাঠের মধ্যেই তার বুকের ওপর বারবার চাপ দিয়ে সিপিআর বা জরুরি পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া শুরু করেন। অধিনায়কের এই নিরলস প্রচেষ্টার ফলও মেলে হাতেনাতে। কিছুক্ষণ সিপিআর দেওয়ার পর নিস্তেজ পাখিটির পা নড়তে শুরু করে এবং সেটি ধীরে ধীরে সাড়া দিতে থাকে। প্রাণ ফিরে পাওয়া আহত পাখিটিকে এরপর মাঠের পাশে নিয়ে গিয়ে দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের হাতে তুলে দেন গানি চাতান। পরীক্ষা করে দেখা যায়, বলের আঘাতে পাখিটি তার ডানায় বেশ চোট পেয়েছে। পেশায় একজন হিসাবরক্ষক এবং ফুটবল দলের অধিনায়ক গানি চাতান কোনো চিকিৎসাকর্মী নন। তা সত্ত্বেও বিপদে পড়া একটি অসহায় প্রাণকে বাঁচাতে তিনি যেভাবে সাহসিকতা ও মমতার পরিচয় দিয়েছেন, তা রীতিমতো প্রশংসায় ভাসছে। সেদিন তার দল ফুটবল ম্যাচে পরাজিত হলেও, একটি নিরীহ প্রাণ বাঁচিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষের হৃদয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। প্রাণীর প্রতি তার এই অসামান্য ভালোবাসা ও সহমর্মিতার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘পেটা’ (PETA) তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘হিরো টু অ্যানিম্যালস’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে।
‘ক্যানসার ধরা পড়ার পর বন্ধু হারিয়েছি, মানুষ আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে’
‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত
বাংলাদেশ থেকে প্রথম আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক অরুণ
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ছুটির দিনেও মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারে হাজির হয়ে প্রশংসিত হয়েছেন সংবাদ উপস্থাপিকা সায়াকা ইনাই। কোনো মেকআপ, চুলের সাজসজ্জা কিংবা প্রচলিত প্রস্তুতি ছাড়াই জরুরি সংবাদ নিয়ে দর্শকদের সামনে আসেন তিনি। দুর্যোগের মুহূর্তে নিজের সাজসজ্জার চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন এই সাংবাদিক। ঘটনাটি গত ১৮ এপ্রিলের। ওই দিন স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে জাপানের নাগানো প্রিফেকচারের উত্তরাঞ্চলে ৫ দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৮ কিলোমিটার গভীরে। নাগানোর ওমাচি শহরে জাপানের ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের স্কেলে সর্বোচ্চ ৫ প্লাস মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের সময় জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের নাগানো কেন্দ্রের সংবাদ উপস্থাপিকা সায়াকা ইনাই ছুটিতে ছিলেন। কিন্তু ভূমিকম্পের খবর পাওয়ার পর দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে আসেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্র ১১ মিনিট পর দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে তাঁকে টেলিভিশনের পর্দায় ভূমিকম্পসংক্রান্ত তথ্য জানাতে দেখা যায়। এত অল্প সময়ের মধ্যে সম্প্রচারে অংশ নেওয়ায় স্বাভাবিক প্রস্তুতির সুযোগ পাননি সায়াকা। সাধারণত টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপনার আগে মেকআপ, চুলের সাজসজ্জা ও পোশাকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু সেদিন তিনি এসবের অপেক্ষা করেননি। সাধারণ পোশাকের ওপর স্যুটের জ্যাকেট পরে, চুল বেঁধে এবং কালো ফ্রেমের চশমা পরেই সংবাদ উপস্থাপন করেন। তাঁর এই উপস্থিতি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। নিয়মিত সম্প্রচারে যে সাজসজ্জায় তাঁকে দেখা যায়, সেদিনের উপস্থিতি ছিল তার থেকে আলাদা। তবে দর্শকদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এইচকে০১-এর ২২ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছুটির দিনে জরুরি সংবাদ সম্প্রচারে ফিরে আসার ঘটনায় সায়াকার পেশাদারত্বের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্বাভাবিক উপস্থিতির পাশাপাশি দুর্যোগের সময় সংবাদ পরিবেশনের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও আলোচিত হয়। এদিকে ভূমিকম্পের পর জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে তাদের নিয়মিত অনুষ্ঠানের সূচিতে পরিবর্তন আনে। চলমান অনুষ্ঠান বন্ধ করে ভূমিকম্পের খবর, পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা সম্প্রচার করা হয়। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছিল, ১৮ এপ্রিলের প্রথম ভূমিকম্পটির পর একই দিন দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে নাগানোর উত্তরাঞ্চলে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। ওই ভূমিকম্পেও বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। প্রথম ভূমিকম্পের পর জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানায়, কম্পন অনুভূত এলাকাগুলোতে ভূমিধস ও পাথরধসের ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী কয়েক দিন আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে প্রথম ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সংবাদ সম্প্রচারের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া দুর্যোগ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোথায় কম্পন অনুভূত হয়েছে, নতুন কোনো সতর্কতা জারি হয়েছে কি না এবং বাসিন্দাদের কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, এসব তথ্য জানাতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সায়াকা ইনাইয়ের ঘটনাটি সেই দায়িত্ব পালনের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ছুটির দিনে কর্মস্থলে ফিরে এসে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছাড়াই সংবাদ উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে একজন সাংবাদিকের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের কয়েক মাস পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সেই সম্প্রচারের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় আসছে। সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদাহরণ হিসেবে অনেকেই তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করছেন।
তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের
কানাডায় পাসপোর্ট ও আইডির ছবিতে হিজাব পরার অনুমতি, মানতে হবে যেসব নিয়ম