ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব ভোটারদের ঢল, ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহুর জরুরি বার্তা
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে আরব অধ্যুষিত এলাকায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতির দাবি তুলে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ চলাকালে নিজের দল লিকুদের সমর্থকদের উদ্দেশে জরুরি বার্তা দেন তিনি। নেতানিয়াহুর দাবি, আরব সম্প্রদায়ের ভোটাররা ব্যাপকভাবে ভোটকেন্দ্রে গেলেও ডানপন্থীদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কম। এই পরিস্থিতিতে সমর্থকদের দ্রুত ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, পর্যাপ্ত ভোট না পেলে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনপুষ্ট একটি বামপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, এসব এলাকায় ভোটকেন্দ্রের দিকে বাস যাচ্ছে এবং ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ডানপন্থী সমর্থকদের এলাকায় ভোটারদের প্রত্যাশিত উপস্থিতি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর এই দাবির সমর্থনে আরব ও ডানপন্থী অধ্যুষিত এলাকার তুলনামূলক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, লিকুদ সমর্থকেরা ভোট দিতে না গেলে এমন একটি সরকার গঠিত হতে পারে, যা আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদীয় সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। তিনি প্রত্যেক ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে সমর্থকদের ঘরে বসে না থাকার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের ফলাফলকে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সরকার ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর নির্বাচনি সতর্কবার্তা, নিশ্চিত কোনো ফলাফল নয়।
পৃথক আরেকটি বার্তায় লিকুদ পার্টির ভোটারদের উদ্দেশে জরুরি আহ্বান জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি শুধু নিজে ভোট দেওয়ার পরিবর্তে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদেরও ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করার কথা বলেন। নির্বাচনের দিন সমুদ্রসৈকতে যাওয়া কিংবা বাইরে বিনোদনমূলক আয়োজনের পরিবর্তে ভোট দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় থাকবে, নাকি আরব দলগুলোর সমর্থনপুষ্ট বামপন্থী সরকার গঠিত হবে, তা নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোট। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে জোট গঠন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। কোনো দল এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে হয়। এবারের নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট কিংবা বিরোধী শিবিরের কারও নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখা যায়নি। তবে জনমত জরিপের ফলাফল চূড়ান্ত ভোটের ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব নাগরিক। তাঁদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি আরব রাজনৈতিক দল গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে সম্ভাব্য সরকার গঠিত হলে সংসদে সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাসীন জোটে যোগ না দিয়েও বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
আরব রাজনৈতিক দলগুলোর এই সম্ভাব্য সমর্থনের সঙ্গে কয়েকটি শর্ত যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরব নাগরিকদের বাড়িঘর ভাঙার কার্যক্রম বন্ধ করা, অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরির উদ্যোগ। দলগুলো এসব বিষয়কে আরব নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে এসব শর্তে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোট এখনো আরব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব গ্রহণের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি দেননি। এর আগে তিনি আরব দলগুলোকে সরাসরি নিজের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। ফলে নির্বাচনের পর আরব দলগুলো বিরোধী শিবিরকে সমর্থন দেবে কি না এবং সেই সমর্থনের ভিত্তিতে সরকার গঠন সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আরব ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য নির্বাচনের দিন নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ডানপন্থী সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করতে তিনি আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটার উপস্থিতির দাবি সামনে এনেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লিখিত বিপুল উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে কতটা নিশ্চিত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা এবং পরবর্তী জোট গঠনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও বিরোধী শিবির উভয় পক্ষের জন্যই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য সংসদীয় সমর্থন নিয়ে আলোচনা থাকলেও তাদের অবস্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ভোটগ্রহণ চলাকালে নেতানিয়াহুর জরুরি বার্তা মূলত তাঁর দলের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান হিসেবে সামনে এসেছে। আরব অধ্যুষিত এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতির দাবি তুলে তিনি সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া এবং আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের আগে কোনো পক্ষের জয়, পরাজয় কিংবা সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে আরব অধ্যুষিত এলাকায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতির দাবি তুলে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ চলাকালে নিজের দল লিকুদের সমর্থকদের উদ্দেশে জরুরি বার্তা দেন তিনি। নেতানিয়াহুর দাবি, আরব সম্প্রদায়ের ভোটাররা ব্যাপকভাবে ভোটকেন্দ্রে গেলেও ডানপন্থীদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কম। এই পরিস্থিতিতে সমর্থকদের দ্রুত ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, পর্যাপ্ত ভোট না পেলে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনপুষ্ট একটি বামপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, এসব এলাকায় ভোটকেন্দ্রের দিকে বাস যাচ্ছে এবং ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ডানপন্থী সমর্থকদের এলাকায় ভোটারদের প্রত্যাশিত উপস্থিতি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর এই দাবির সমর্থনে আরব ও ডানপন্থী অধ্যুষিত এলাকার তুলনামূলক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, লিকুদ সমর্থকেরা ভোট দিতে না গেলে এমন একটি সরকার গঠিত হতে পারে, যা আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদীয় সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। তিনি প্রত্যেক ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে সমর্থকদের ঘরে বসে না থাকার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের ফলাফলকে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সরকার ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর নির্বাচনি সতর্কবার্তা, নিশ্চিত কোনো ফলাফল নয়। পৃথক আরেকটি বার্তায় লিকুদ পার্টির ভোটারদের উদ্দেশে জরুরি আহ্বান জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি শুধু নিজে ভোট দেওয়ার পরিবর্তে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদেরও ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করার কথা বলেন। নির্বাচনের দিন সমুদ্রসৈকতে যাওয়া কিংবা বাইরে বিনোদনমূলক আয়োজনের পরিবর্তে ভোট দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় থাকবে, নাকি আরব দলগুলোর সমর্থনপুষ্ট বামপন্থী সরকার গঠিত হবে, তা নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোট। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে জোট গঠন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। কোনো দল এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে হয়। এবারের নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট কিংবা বিরোধী শিবিরের কারও নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখা যায়নি। তবে জনমত জরিপের ফলাফল চূড়ান্ত ভোটের ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব নাগরিক। তাঁদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি আরব রাজনৈতিক দল গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে সম্ভাব্য সরকার গঠিত হলে সংসদে সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাসীন জোটে যোগ না দিয়েও বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। আরব রাজনৈতিক দলগুলোর এই সম্ভাব্য সমর্থনের সঙ্গে কয়েকটি শর্ত যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরব নাগরিকদের বাড়িঘর ভাঙার কার্যক্রম বন্ধ করা, অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরির উদ্যোগ। দলগুলো এসব বিষয়কে আরব নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে এসব শর্তে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোট এখনো আরব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব গ্রহণের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি দেননি। এর আগে তিনি আরব দলগুলোকে সরাসরি নিজের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। ফলে নির্বাচনের পর আরব দলগুলো বিরোধী শিবিরকে সমর্থন দেবে কি না এবং সেই সমর্থনের ভিত্তিতে সরকার গঠন সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরব ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য নির্বাচনের দিন নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ডানপন্থী সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করতে তিনি আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটার উপস্থিতির দাবি সামনে এনেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লিখিত বিপুল উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে কতটা নিশ্চিত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা এবং পরবর্তী জোট গঠনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও বিরোধী শিবির উভয় পক্ষের জন্যই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য সংসদীয় সমর্থন নিয়ে আলোচনা থাকলেও তাদের অবস্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভোটগ্রহণ চলাকালে নেতানিয়াহুর জরুরি বার্তা মূলত তাঁর দলের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান হিসেবে সামনে এসেছে। আরব অধ্যুষিত এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতির দাবি তুলে তিনি সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া এবং আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের আগে কোনো পক্ষের জয়, পরাজয় কিংবা সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা
হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির
দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে ২৪ ক্যারেট সোনার রাস্তা! হাঁটার সুযোগ পাবেন সাধারণ পর্যটকেরাও
মায়ের জন্মমাসের সঙ্গে মিলিয়ে লটারির একটি সংখ্যা বেছে নিয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী ভারতীয় তরুণ অনিলকুমার বোল্লা। সেই সংখ্যাই মিলে যায় বিজয়ী টিকিটের সঙ্গে। ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর দেশটির ইউএই লটারিতে ১০ কোটি দিরহাম জেতেন তিনি, যা তৎকালীন হিসাবে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৪০ কোটি রুপি। ২৯ বছর বয়সী এই তরুণের জীবনে রাতারাতি আসে বড় পরিবর্তন। ঘটনার এক বছর পর তিনি জানিয়েছেন, বিপুল অর্থ জেতার পর কীভাবে বদলে গেছে তাঁর জীবন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইউএই লটারির ২৩তম লাকি ডে ড্রতে বিজয়ী হন অনিলকুমার। সে সময় তিনি আবুধাবিতে বসবাস করছিলেন। লটারির ইতিহাসে তিনিই প্রথম ১০ কোটি দিরহামের জ্যাকপট বিজয়ী। ওই বছরের ২৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করে লটারি কর্তৃপক্ষ। অনিলকুমার জানান, লটারির জন্য তিনি মোট ১২টি টিকিট কিনেছিলেন। বেশির ভাগ সংখ্যা বেছে নেন ইজি পিক পদ্ধতিতে, যেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বর নির্বাচন করা হয়। তবে একটি সংখ্যা তিনি নিজেই ঠিক করেন। সেটি ছিল ১১, কারণ নভেম্বর তাঁর মায়ের জন্মমাস। বিজয়ী টিকিটের সাতটি সংখ্যার মধ্যে এই ১১ নম্বরটিও মিলে যায়। প্রায় ৮৮ লাখের বেশি সম্ভাব্য সমন্বয়ের মধ্যে তাঁর টিকিটটি জ্যাকপট জিতে নেয়। লটারি জেতার খবর পাওয়ার মুহূর্তটিও ছিল অবিশ্বাস্য। অনিলকুমার জানান, তিনি তখন বাড়িতে সোফায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। লটারি কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি এত বিপুল অর্থ জিতেছেন। খবরটি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে এক সহকর্মীকে জানান তিনি। পরে ভারতে থাকা ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিজয়ী হওয়ার পর অনিলকুমার জানিয়েছিলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় ইচ্ছা বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো এবং তাঁদের ভালো রাখাই তাঁর অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নিজের জন্য একটি দামি স্পোর্টস কার কেনা, বিলাসবহুল হোটেলে ছুটি কাটানো এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনাও করেছিলেন। অসহায় মানুষের সহায়তায় অর্থ দান করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি। এক বছর পর সেই স্বপ্নের অনেকটাই বাস্তব হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর গালফ নিউজে প্রকাশিত নতুন এক সাক্ষাৎকারে অনিলকুমার জানান, মায়ের জন্য সোনার হার, আংটি ও চুড়ি কিনেছেন তিনি। বাবার জৈব চাষের স্বপ্ন পূরণ করতে উপহার দিয়েছেন কৃষিজমি। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতে সম্পত্তি কিনেছেন এবং ভবিষ্যতে নিজের ব্যবসা শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন। ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের কৃষক পরিবারের সন্তান অনিলকুমার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। লটারি জেতার সময় তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে আবুধাবিতে বসবাস করছিলেন। বিপুল অর্থ পাওয়ার পর তাঁর জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও পরিবারের গুরুত্ব কমেনি। নতুন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অর্থ জেতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ। অনিলকুমারের ভাষায়, জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলো এখন পরিবারের জন্য কিছু করতে পারার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এক বছর আগে মায়ের জন্মমাসের প্রতি ভালোবাসা থেকে বেছে নেওয়া ১১ সংখ্যাটি তাঁর জীবনে যে পরিবর্তন এনেছিল, সেই অর্থ দিয়ে এখন পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্নগুলো পূরণ করছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যে ঝাড়ফুঁকের নামে তরুণীকে ধর্ষণ, বাংলাদেশি ইমাম কমর উদ্দিনের কারাদণ্ড
খুনের মামলা এড়াতে নিজের মৃত্যুর নাটক, এআই দিয়ে বানালেন শেষকৃত্যের ছবি
প্রেমিকার কাছে প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
মাত্র ৫০ দশমিক ২ সেন্টিমিটার চওড়া একটি গাড়ি তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন ইতালির মেকানিক আন্দ্রেয়া মারাজ্জি। অবাক করার বিষয় হলো, গাড়িটি শুধু প্রদর্শনীর জন্য তৈরি কোনো মডেল নয়, এটি সত্যিকার অর্থেই চালানো যায়। ১৯৯৩ সালের একটি পুরোনো ফিয়াট পাণ্ডা গাড়ি কেটে নতুনভাবে তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর উদ্ভাবনকে বিশ্বের সবচেয়ে সরু চালানো যায় এমন গাড়ি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। ২০২৫ সালের ২১ জুন ইতালির বাগনোলো ক্রেমাস্কোতে গাড়িটির মাপ যাচাই করা হয়। পরে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ২০২৭ সংস্করণেও জায়গা পায় গাড়িটি। গাড়িটি তৈরির গল্প শুরু হয় ২০২৪ সালে। সে সময় ১৯৯৩ সালের একটি ফিয়াট পাণ্ডা আসে মারাজ্জির পরিবারের পুরোনো গাড়ি ভাঙা ও যন্ত্রাংশ পুনর্ব্যবহারের প্রতিষ্ঠানে। গাড়িটি ভেঙে ফেলার কথা থাকলেও মারাজ্জি ভিন্ন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। ছোটবেলা থেকেই ফিয়াট পাণ্ডা গাড়ির প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। তাই গাড়িটিকে নতুন জীবন দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে সরু গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেন তিনি। নিজের এই প্রকল্পের নাম দেন ‘পাণ্ডা পের উনো’, যার অর্থ একজনের জন্য পাণ্ডা। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রথমে গাড়িটির দরজা ও পাশের বিভিন্ন অংশ খুলে ফেলেন মারাজ্জি। এরপর গাড়ির মাঝখান বরাবর একটি বড় অংশ কেটে বাদ দেন। দুই পাশের অবশিষ্ট কাঠামো আবার জোড়া লাগিয়ে তৈরি করেন সরু একটি গাড়ি। এ জন্য নতুনভাবে তৈরি করতে হয় গাড়ির ছাদ, সামনের বনেট, পেছনের দরজা ও জানালার কিছু অংশ। পুরো কাজের সবচেয়ে কঠিন ধাপ ছিল গাড়ির দুই পাশের কাঠামো এমনভাবে জোড়া লাগানো, যাতে সেটি ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে পারে। প্রায় এক বছরের পরিশ্রমে শেষ হয় এই ব্যতিক্রমী প্রকল্প। এত পরিবর্তনের পরও গাড়িটির প্রায় ৯০ শতাংশ যন্ত্রাংশ নেওয়া হয়েছে পুরোনো ফিয়াট পাণ্ডা থেকেই। তবে আগের পেট্রোল ইঞ্জিন সরিয়ে বসানো হয়েছে ছোট একটি ইলেকট্রিক মোটর ও ব্যাটারি। গাড়ির ভেতরে রয়েছে ছোট স্টিয়ারিং হুইল এবং চালকের বসার জায়গা। সামনে হেডলাইট, পেছনে লাইট এবং টার্ন সিগন্যালও সচল রাখা হয়েছে। দেখতে অস্বাভাবিক সরু হলেও গাড়িটি নিজের শক্তিতেই চলতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার। সাধারণ একটি ফিয়াট পাণ্ডার প্রস্থ প্রায় ১ দশমিক ৪৬ মিটার। সেখানে মারাজ্জির তৈরি গাড়িটির প্রস্থ মাত্র ৫০ দশমিক ২ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ মূল গাড়ির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এত সরু হওয়ার কারণে গাড়িটি চালানোর সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে বাঁক নেওয়ার সময় এর স্থিতিশীলতা সাধারণ গাড়ির মতো নয়। তবে মারাজ্জির উদ্দেশ্য ছিল না দ্রুতগতির কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের গাড়ি তৈরি করা। পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ কাজে লাগিয়ে ব্যতিক্রমী একটি সচল গাড়ি তৈরি করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। গাড়িটি প্রথমে ইতালির ফিয়াট পাণ্ডাপ্রেমীদের বিভিন্ন আয়োজনে প্রদর্শন করা হয়। পরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়িটির প্রস্থ পরিমাপ করে। ২০২৫ সালের ২১ জুন অর্জিত এই রেকর্ডের বিস্তারিত ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংস্থাটি। সেখানে নিশ্চিত করা হয়, মারাজ্জির তৈরি গাড়িটি বিশ্বের সবচেয়ে সরু চালানো যায় এমন গাড়ি। গিনেসের ২০২৭ সংস্করণে জায়গা পাওয়ার পর গাড়িটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে গাড়িটি চালানো সম্ভব হলেও সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন নেই। এটি মূলত গাড়ি প্রদর্শনী, বিশেষ আয়োজন এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চালানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। মারাজ্জি নিজেও তাঁর এই উদ্ভাবনকে সৃজনশীল প্রকৌশলচর্চার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, রেকর্ডের বইয়ে জায়গা পাওয়া তাঁর জন্য সম্মানের। ভাঙার জন্য ফেলে রাখা একটি পুরোনো গাড়িকে নতুনভাবে তৈরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়ার এই ঘটনা দেখিয়েছে, প্রচলিত যন্ত্রাংশ দিয়েও ব্যতিক্রমী কিছু উদ্ভাবন করা সম্ভব।
পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ১০ বছরের শিশু, পরীক্ষায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা! চলছে তদন্ত
যু দ্ধের সাফল্য নাকি ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা, ইসরায়েলের নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষায় নেতানিয়াহু