- প্রচ্ছদ
- Topic
অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মানুষের কর্মঘণ্টা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ালেটহাব। তালিকায় দক্ষিণ ডাকোটা শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে উত্তর ডাকোটা, আলাস্কা, হাওয়াই ও ওয়াইওমিং। ওয়ালেটহাব ১০টি সূচকের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোকে তুলনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা, কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি করা মানুষের সংখ্যা, অব্যবহৃত ছুটির দিন এবং প্রতিদিনের অবসর সময়। সূচকগুলোকে মূলত ‘প্রত্যক্ষ কর্ম-সূচক’ ও ‘পরোক্ষ কর্ম-সূচক’—এই দুই ভাগে বিবেচনা করা হয়েছে। শীর্ষে দক্ষিণ ডাকোটা দক্ষিণ ডাকোটা সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্য হিসেবে প্রথম স্থান পেয়েছে। রাজ্যটির প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মী একাধিক চাকরি করেন, যা সারা দেশের মধ্যে ১১তম সর্বোচ্চ হার। একাধিক চাকরি করার পেছনে আর্থিক প্রয়োজন যেমন থাকতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত সময় কাজ করার আগ্রহও এর কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়ালেটহাব। দক্ষিণ ডাকোটা ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী এমন তরুণদের অনুপাতের দিক থেকেও শীর্ষস্থানীয়, যারা কাজ করেন না, পড়াশোনাও করেন না এবং উচ্চমাধ্যমিকের পর আর কোনো শিক্ষা নেননি। তবে রাজ্যটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কর্মসংস্থানের হার। দক্ষিণ ডাকোটায় কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় উত্তর ডাকোটা, তৃতীয় আলাস্কা কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় উত্তর ডাকোটা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, সেখানে কর্মসংস্থানের হার ৯৭ শতাংশের বেশি, যা দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ। ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মীরা উত্তর ডাকোটায় গড়ে সপ্তাহে ৩৯ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করেন। এই হিসাবে অঙ্গরাজ্যটি সারা দেশে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে আলাস্কা সামগ্রিক তালিকায় তৃতীয় হলেও কর্মঘণ্টার দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে ৪১ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করেন, যা দেশের সর্বোচ্চ। আলাস্কাই একমাত্র অঙ্গরাজ্য যেখানে গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪০ ঘণ্টার বেশি। তুলনায় ওয়াশিংটন ডিসিতে গড় কর্মঘণ্টা ৪০ ঘণ্টা। অর্থাৎ আলাস্কার কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে আরও ১ দশমিক ৪ ঘণ্টা বেশি কাজ করেন। শীর্ষ পাঁচে হাওয়াই ও ওয়াইওমিং ওয়ালেটহাবের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে হাওয়াই এবং পঞ্চম অবস্থানে ওয়াইওমিং। কর্মঘণ্টা, কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি এবং অবসর সময়সহ বিভিন্ন সূচকে তাদের অবস্থান বিবেচনা করেই সামগ্রিক র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতি কতটা কঠোর? ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন কর্মী বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ঘণ্টা কাজ করেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য উদ্ধৃত করে ওয়ালেটহাব জানিয়েছে, এই সময় জার্মানির কর্মীদের তুলনায় বছরে প্রায় ৪৬৮ ঘণ্টা বেশি, তবে মেক্সিকোর কর্মীদের তুলনায় ৪০৫ ঘণ্টা কম। শুধু কর্মঘণ্টাই নয়, ছুটির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রবণতা দেখা যায়। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, দেশটির প্রায় অর্ধেক কর্মীই তাদের জন্য বরাদ্দ সব ছুটির দিন ব্যবহার করতে পারবেন বলে মনে করেন না। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, কঠোর পরিশ্রম করা প্রশংসনীয় হলেও সবচেয়ে বেশি কাজ করা অঙ্গরাজ্যগুলোর মানুষের মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত অবসর না থাকলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী ৫ অঙ্গরাজ্য ১. দক্ষিণ ডাকোটা ২. উত্তর ডাকোটা ৩. আলাস্কা ৪. হাওয়াই ৫. ওয়াইওমিং অর্থাৎ, শুধু বেশি ঘণ্টা কাজ করাই নয়—উচ্চ কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি করার প্রবণতা, কম অবসর সময়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আর সেই সামগ্রিক বিচারে দক্ষিণ ডাকোটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে।
নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি ঘিরে অঙ্গরাজ্য সরকার, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কতটা থাকবে, তা নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নতুন নীতিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগে সহযোগিতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় কারাগারগুলোর বিশেষ সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুলের প্রশাসন বলছে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে নিউইয়র্কের কিছু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা এই নীতির বিরোধিতা করেছেন। ক্যাটারগাস কাউন্টির শেরিফ এরিক বাটলার প্রকাশ্যে গভর্নর হোকুলের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করা জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়। এ নিয়ে অঙ্গরাজ্য সরকার ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কে আইসিইর কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্যাপিটাল অঞ্চলের অভিবাসী অধিকারকর্মীরা গত কয়েক সপ্তাহে আটক ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অনেক অভিযান হচ্ছে হঠাৎ করে এবং প্রকাশ্য এলাকায়। এই পরিস্থিতিতে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের সদস্যদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা রয়েছে, তারা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।আইনি পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্কের অভিবাসন-সংক্রান্ত কিছু বিধান নিয়ে ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ফলে অঙ্গরাজ্যের আইন এবং ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগের মধ্যে সীমারেখা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগ জোরদার হলে গ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে এই সংঘাত শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; এটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির মালিকদের জন্য আবাসন ব্যয়ের নতুন চাপ হিসেবে সামনে এসেছে বাড়ির বীমার ক্রমবর্ধমান খরচ। রিয়েলটর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির ১৫টি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির বীমার মাসিক খরচ সম্পত্তি করের মাসিক ব্যয়ের চেয়েও বেশি। ফলে বাড়ির মালিকদের জন্য শুধু বন্ধকী ঋণের কিস্তিই নয়, বীমা ও করও বড় আর্থিক বোঝা হয়ে উঠছে। রিয়েলটর ডটকমের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাধারণ বাড়ির মালিক মাসে গড়ে প্রায় ৩১১ ডলার সম্পত্তি কর দেন। বিপরীতে বাড়ির বীমায় গড়ে খরচ হয় প্রায় ২০০ ডলার। তবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, নির্মাণ ব্যয় এবং বীমা দাবির চাপের কারণে বাড়ির বীমার খরচ দ্রুত বেড়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে নেব্রাস্কা। সেখানে একজন বাড়ির মালিকের মাসিক বীমা ব্যয় গড়ে প্রায় ৪১৩ ডলার, যা একটি পরিবারের মোট মাসিক আবাসন ব্যয়ের ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ওকলাহোমায় মাসিক বীমা ব্যয় প্রায় ২৭৮ ডলার এবং এটি মোট আবাসন ব্যয়ের ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। টেক্সাসেও বাড়ির মালিকদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে মাসিক বাড়ির বীমা খরচ গড়ে প্রায় ৩৩১ ডলার, যা মোট মাসিক আবাসন ব্যয়ের প্রায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অঙ্গরাজ্যটির অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে বীমার এই ব্যয় বাড়ি মালিকানার সামগ্রিক খরচকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় মাসিক বীমা খরচ প্রায় ২৫৯ ডলার, যা মোট আবাসন ব্যয়ের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আরকানসাসে মাসিক ব্যয় প্রায় ২০০ ডলার এবং মোট আবাসন ব্যয়ের ১৪ শতাংশের কাছাকাছি। এসব পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, কিছু এলাকায় বীমা এখন বাড়ির মালিকদের নিয়মিত আবাসন ব্যয়ের একটি বড় অংশ দখল করছে। কেন বাড়ছে বীমার খরচ? প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বীমা কোম্পানিগুলোর ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এর অন্যতম কারণ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, দাবানল, শিলাবৃষ্টি ও তীব্র ঝড়ের মতো দুর্যোগে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বীমা দাবির পরিমাণও বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি বীমার আওতায় মেরামত করতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে বাড়ির বীমার খরচ বৃদ্ধি এবং বীমা পাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। টেক্সাসের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টেক্সাসে বাড়ির বীমার প্রিমিয়াম ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পরিবারের মধ্যম আয় বেড়েছে মাত্র ১১ শতাংশ। গত পাঁচ বছরেই বীমা প্রিমিয়াম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে আয় বৃদ্ধির হার ছিল আনুমানিক ৩ শতাংশ। বীমার প্রিমিয়াম বাড়লে এর প্রভাব শুধু আলাদা একটি বিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যেসব বাড়ির মালিকের বন্ধকী ঋণের সঙ্গে কর ও বীমার অর্থ জমা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের মাসিক মোট অর্থপ্রদানও বেড়ে যেতে পারে। ফলে একই বাড়িতে বসবাস করলেও বীমার খরচ বাড়ার কারণে পরিবারের মাসিক আবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পরিস্থিতি বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে। একজন ক্রেতা বাড়ির মূল্য ও বন্ধকী ঋণের সুদ বিবেচনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বীমা প্রিমিয়াম, সম্পত্তি কর এবং অন্যান্য আবাসন ব্যয়ও হিসাব করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় কম দামের বাড়িও উচ্চ বীমা ব্যয়ের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, কিছু বাড়ির মালিকের সামনে বীমা কোম্পানি পরিবর্তন বা নতুন পলিসি খোঁজার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বীমা কোম্পানিগুলো বেশি প্রিমিয়াম নিতে পারে, কভারেজের শর্ত কঠোর করতে পারে অথবা নির্দিষ্ট ঝুঁকির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করতে পারে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এখন শুধু বাড়ির দাম ও বন্ধকী সুদ নয়, বাড়ির বীমার খরচও বড় অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। রিয়েলটর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি অঙ্গরাজ্যে সম্পত্তি করের চেয়েও বেশি বীমা ব্যয় হওয়া সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুল ছুটি শেষে পুনরায় খুলতে শুরু করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনবিহীন শ্রেণিকক্ষের এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অন্তত ৩৯টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে স্কুলে ফোন ব্যবহারের ওপর নতুন নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসলেও, এই নীতি নির্ধারণী আলোচনাগুলোতে তরুণদের মতামত অনেকটাই উপেক্ষিত ছিল। তবে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুলে স্ক্রিন-টাইম কমানোর এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, এসব নীতিমালা প্রায়শই অপরিকল্পিতভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এটি স্ক্রিন আসক্তির মূল কারণগুলোকে সমাধান করতে পারে না। এর ফলে, শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের 'ডিজিটাল সুস্থতা' নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অফলাইন সহায়তা ও বিকল্প কর্মসূচির দাবি তুলছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনে স্কুলগুলোকে ক্যাম্পাসে ফোন ব্যবহার সীমিত করার নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি স্কুল অব দ্য আর্টসের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এলিস চোই মনে করেন, কেবল ডিভাইস আটকে রাখা খুব একটা কার্যকর হবে না, কারণ শিক্ষার্থীরা নিয়ম ভাঙার উপায় ঠিকই খুঁজে বের করবে। তার মতে, শিক্ষার্থীরা ডিভাইসে কতটা সময় কাটাচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সময়টা তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে। চোই এবং তার মতো অনেক শিক্ষার্থী এখন স্কুলগুলোতে 'ডিজিটাল ওয়েলনেস এডুকেশন' বা ডিজিটাল সুস্থতা বিষয়ক শিক্ষার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। তারা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে তরুণদের মধ্যে অনিদ্রা ও মনোযোগহীনতা বাড়ছে, যা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এদিকে, অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের স্কুলেই স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার নীতিমালা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার টাস্টিনের লিগ্যাসি ম্যাগনেট একাডেমির শিক্ষার্থী লিভ কংয়ের নেতৃত্বে একটি দল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা তৈরি করেছে। এক বছর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে ফোন নিষিদ্ধ করলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেবল ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ এবং বিরতির সময় ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নতুন নিয়ম চালু করা হয়। একইভাবে সান ডিয়েগোতে ফোন নিষেধাজ্ঞার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে কাজ করছেন ১৭ বছর বয়সী ভিহান ভরদ্বাজ। তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে মিলে এমনভাবে নীতিমালাগুলো প্রচারের চেষ্টা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে যে এসব নিয়ম তাদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নয়, বরং তাদের সহায়তার জন্যই করা হয়েছে। স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে অফলাইন সংযোগ ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতেও এগিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। নিউইয়র্কে গত বছর ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ করার পর 'হ্যাশট্যাগ হাফ দ্য স্টোরি' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহায়তায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রযুক্তিমুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি গ্রামীণ স্কুলে আর্ট প্রোগ্রাম চালুর জন্য 'ক্রাফটস কার্ট' স্থাপন করা হয়েছে। ব্রঙ্কসের ডেমোক্রেসি প্রেপ এন্ডুরেন্স হাইস্কুলের সাম্প্রতিক স্নাতক কেইডেন বোয়াহেন একটি অনুদানের সাহায্যে 'ওয়েলনেস ডে' আয়োজন করেন, যেখানে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ফোন ছাড়াই খেলাধুলা ও আড্ডার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি, লাজুক স্বভাবের বা ইন্ট্রোভার্ট শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণে সহায়তার জন্য লং আইল্যান্ডের ভ্যালি স্ট্রিম নর্থ হাইস্কুলে এই শরৎকাল থেকে একটি 'ডিটক্স রুম' চালু হতে যাচ্ছে। বই ও স্ট্রেস রিলিজের খেলনা দিয়ে সাজানো এই রুমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক প্রশান্তি খোঁজার সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক বিকাশে এমন অফলাইন উদ্যোগগুলোই হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের শিক্ষার অন্যতম অনুষঙ্গ।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের গভীর খাদে পড়ে গেলে পাঁচ কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মেসা কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, নিহত পাঁচজনেরই বয়স ১৭ বছর এবং তারা সবাই গ্র্যান্ড জংশন এলাকার বাসিন্দা। শনিবার গভীর রাতে গ্র্যান্ড জংশনের একটি আবাসিক এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ বিভাগ জানায়, রোববার স্থানীয় সময় সকাল আটটার কিছু আগে লুকআউট লেনের ২০০০ ব্লকে একটি গাড়ি পাহাড়ের খাদে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তল্লাশি চালিয়ে তারা পাহাড়ের ঢালে বিধ্বস্ত গাড়িটির সন্ধান পান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলেই ওই পাঁচ কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাড়িটি লুকআউট লেন ধরে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ রাস্তা থেকে ছিটকে পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনার পেছনে গাড়ির অতিরিক্ত গতি অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। করোনার অফিস সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, গাড়ির চালক ও সামনের সিটের যাত্রীর পাশাপাশি অপর একজন সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন। তবে বাকি দুজনের সিটবেল্ট বাঁধা না থাকায় দুর্ঘটনার প্রচণ্ড ধাক্কায় তারা গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান। একাধিক সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। নিহতরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নীতিমালার কারণে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ বিভাগ গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বর্তমানে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা যৌনজীবনে তুলনামূলক বেশি খোলামেলা বা নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি আগ্রহী, তা নিয়ে একটি নতুন জরিপ প্রকাশ করেছে কনডম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘সে ইট উইথ এ কনডম’। জরিপে দেখা গেছে, এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিউ মেক্সিকো। এরপর রয়েছে ওরেগন ও আরকানসাস। জরিপে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের সাপ্তাহিক যৌনসম্পর্কের গড় হার, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত দোকানে যাওয়ার প্রবণতা এবং প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তু বা বিশেষ যৌন আচরণ সম্পর্কিত অনলাইন অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি ‘কিঙ্ক স্কোর’ নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকো ৯১ দশমিক ৬ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২ দশমিক ৬ বার যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হন। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তু নিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধানের হারও দেশটির অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওরেগনের স্কোর ৮৫ দশমিক ৯৩। জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত দোকানে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি এই অঙ্গরাজ্যে। তৃতীয় স্থানে থাকা আরকানসাসের স্কোর ৮৩ দশমিক ৬৭। শীর্ষ দশে থাকা অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো ভারমন্ট, নর্থ ডাকোটা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, কানেকটিকাট, ওয়াশিংটন, রোড আইল্যান্ড এবং আলাস্কা। জরিপে আরও দেখা গেছে, আলাস্কার বাসিন্দারা সপ্তাহে গড়ে ২ দশমিক ৮১ বার যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ভারমন্ট ও নর্থ ডাকোটার বাসিন্দাদের মধ্যে এ ধরনের বিষয় নিয়ে অনলাইন অনুসন্ধানের হার উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্ক এ তালিকায় রয়েছে ২১তম স্থানে। অঙ্গরাজ্যটির কিঙ্ক স্কোর ৫২ দশমিক ৫। জরিপ অনুযায়ী, নিউইয়র্কের বাসিন্দারা সপ্তাহে গড়ে ১ দশমিক ৩৯ বার যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হন, যা জাতীয় গড় ১ দশমিক ৮-এর চেয়ে কিছুটা বেশি। অন্যদিকে নিউ জার্সি রয়েছে ৪৩তম অবস্থানে। অঙ্গরাজ্যটির স্কোর ৩২ দশমিক ৭৪। সেখানে প্রতি সপ্তাহে যৌনসম্পর্কের গড় হার ১ দশমিক ২১ হলেও অনলাইন অনুসন্ধান এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত দোকানে যাওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে সবচেয়ে কম স্কোর পেয়েছে টেক্সাস। এর স্কোর ২২ দশমিক ৭৪। তালিকার নিচের দিকের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো ফ্লোরিডা, টেনেসি, জর্জিয়া এবং মিসিসিপি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় ও আলোচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করেছে। যেমন, ক্যালিফোর্নিয়া রয়েছে ৪০তম স্থানে এবং ফ্লোরিডা ৪৯তম স্থানে। ‘সে ইট উইথ এ কনডম’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেঞ্জামিন শারম্যান বলেন, যৌনতা এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকলেও অনেকেই খোলাখুলি আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এই জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যেই এ ধরনের বিষয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মতি, খোলামেলা যোগাযোগ এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নতুন কোনো অভিজ্ঞতা গ্রহণের আগে সঙ্গীর সঙ্গে স্পষ্টভাবে আলোচনা করা এবং নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।