সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিবাসন

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ায় অভিবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, অনুমোদন কমে যাওয়ায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের খবর সামনে এসেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ায় বহু আবেদনকারী দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়েছেন। এর ফলে নাগরিকত্বের যোগ্যতা পূরণ করেও আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই বড় ধরনের পতনের কারণে কয়েক লাখ আবেদনকারী অপেক্ষায় রয়েছেন। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য আবেদনকারীরাও নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে পারেন না। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্বের অপেক্ষা রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে যোগ্যতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি ও আবেদনপ্রক্রিয়া আগেই যাচাই করা উচিত। আবেদন জমা দেওয়া থাকলে ইউএসসিআইএসের সরকারি ওয়েবসাইটে নিজের আবেদন নম্বর দিয়ে সর্বশেষ অবস্থা দেখা যায়। দীর্ঘ বিলম্ব বা আইনি জটিলতা দেখা দিলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমে যাওয়ার খবর মানেই সব আবেদনকারীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে—এমন নয়। আবেদন অনুমোদন, আবেদন নিষ্পত্তি এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা আলাদা বিষয়। নিজের আবেদনের অবস্থা জানতে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
উরোপের তিন দেশ থেকে দেশে ফিরলেন ৩৫ বাংলাদেশি
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হলো ৩৫ বাংলাদেশিকে, বিমানবন্দরে মিলল সহায়তা

ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন। একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন দেশে ফেরেন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফ্লাইটটি।   ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দেশে ফেরার পর বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় এই সহায়তা দিচ্ছে। এ কাজে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সহযোগিতা করেছে। এ সময় বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে ফেরত আসা ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হবে। অনিয়মিতভাবে ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ২০১৭ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি সই করে বাংলাদেশ সরকার। এই চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, গত কয়েক বছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি, গ্রিস ও জার্মানি থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি। তিনি বলেন, দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অর্থনৈতিক সহায়তাও করা হয়, যাতে তাঁরা নতুন করে জীবন গুছিয়ে নিতে পারেন। শরিফুল হাসান আরও জানান, ঝুঁকি নিয়ে যেন বাংলাদেশিরা ইউরোপে পাড়ি না জমান, সে জন্য সারা দেশে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলো বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের ২৪৩টি ভিসা আবেদনে জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিবিএসএ। ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশির ভিসা আবেদনে জালিয়াতি, অভিযুক্ত পাঁচজন

কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে। একই দিন অভিযুক্ত চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা পঞ্চম ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।    সিবিএসএর বিবৃতি অনুযায়ী, আদালতে হাজির হওয়া চারজন হলেন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। অপর অভিযুক্তের নাম মো. রাকিবুল হাসান। তদন্তে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্টের আওতায় তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।    তদন্তকারীদের অভিযোগ, কানাডীয় নাগরিকদের আতিথেয়তাকারী হিসেবে দেখিয়ে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসব ভিসার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। জাল নথি ও মিথ্যা বক্তব্যের মাধ্যমে আবেদনকারীদের টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা পাইয়ে দিতে একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। তদন্তে মোট ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের নামে ২৪৩টি আবেদন শনাক্ত করা হয়েছে।    ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৩ জুলাই। সেদিন কুইবেকের মেরসিয়েতে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি ও নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে সিবিএসএ। সেখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের একাধিক ইঙ্গিত পাওয়ার পর ওই বছরের আগস্টে তদন্ত শুরু হয়।    পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি সার্চ ওয়ারেন্ট কার্যকর করেন তদন্তকারীরা। জব্দ করা নথি ও কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামত থেকে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ঘটনার ব্যাপ্তি ও জটিলতা বিবেচনায় সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণসংবলিত ৭৯টি ভিসা আবেদনকে তদন্তে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।    অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে আইনবিরুদ্ধভাবে কানাডায় প্রবেশের ব্যবস্থা বা সহায়তা করার ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপনে জেনেশুনে সহায়তা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে প্ররোচনা বা সহযোগিতা। এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির পর ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
অভিবাসন জালিয়াতির তদন্তে বাড়িতে তল্লাশি, ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন ইলহান ওমর

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তার বাড়িতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি চালানো হয়। তবে ওমর কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তটিকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার প্রচেষ্টা বলে সমালোচনা করেছেন।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তল্লাশির বিষয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত কথা বলেন ওমর। তিনি জানান, ভোরে প্রায় ছয়টার দিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারীরা আদালতের অনুমতিপত্র নিয়ে তার দরজায় হাজির হন। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মোবাইল ফোন, নোটবুক, সোমালি ভাষায় লেখা শিশুদের একটি বই এবং একটি পুরোনো ক্যামেরাসহ মোট ১৭টি সামগ্রী নিয়ে যান তদন্তকারীরা।   ওমরের বাড়িতে তল্লাশির বিষয়টি গত ১২ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, আদালতের অনুমোদন নিয়ে জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে এবং এটি চলমান একটি ফেডারেল ফৌজদারি তদন্তের অংশ। তবে তদন্তের সবিস্তার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তটি ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে এগোচ্ছে। এ বিষয়ে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কাছে গ্র্যান্ড জুরির সমনও পাঠানো হয়েছে বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন।   সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে ২০০০ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। নিজের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে কোনো অনিয়ম করেননি বলে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ কীভাবে তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। তার মতে, এমন অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   ওমর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেস সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির একজন পরিচিত সমালোচক। তার বিরুদ্ধে তদন্তের সময় নিয়েও ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বাড়িতে এমন তল্লাশি চালানোকে তারা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাধারণত নির্বাচনের ঠিক আগে প্রার্থীকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার রীতি অনুসরণ করে, যদিও এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা সর্বক্ষেত্রে এক নয়।   তল্লাশির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ওমর বলেন, তদন্তকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তল্লাশিতে নেওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করেন এবং অন্য জিনিসপত্র আগের জায়গায় রেখে যান। তিনি তাদের আচরণকে অনধিকারচর্চামূলক হলেও ভদ্র বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এই ঘটনা তার বাড়িতে নিরাপদ বোধ করার অনুভূতিকে নষ্ট করেছে বলে জানান তিনি।   ওমরের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের অভিযোগগুলোও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বললেও তিনি কংগ্রেসের দায়িত্ব ও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের কথা জানাননি।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের জয়ের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো মার্কিন নাগরিকদের নতুন অভিজ্ঞতা
. ট্রাম্পের জয়ের পর দেশ ছেড়ে ইউরোপে, এবার কেন ফিরতে চাইছেন অনেক মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন অনেক মার্কিন নাগরিক। তাঁদের কেউ চেয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বাইরে থাকতে, কেউ আবার ইউরোপের উন্নত জীবনযাত্রা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু নতুন দেশে বসবাস করতে গিয়ে তাঁদের কয়েকজনের সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। চাকরি পাওয়া, উচ্চ কর, স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জের কারণে কেউ কেউ এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ওয়্যার্ডের এক প্রতিবেদনে ইউরোপে চলে যাওয়া কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘তারা ট্রাম্পের আমেরিকা ছেড়েছিলেন, এখন অনুতপ্ত’। এতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপের জীবনযাত্রা নিয়ে যে আকর্ষণীয় ছবি তুলে ধরা হয়, বাস্তবে তার সঙ্গে অনেকের অভিজ্ঞতা মেলেনি। ‘অ্যানি’ ছদ্মনামে পরিচিত এক নারী জানান, যুক্তরাজ্যে জীবনযাপন নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির যে ছবি দেখেছিলেন, বাস্তবতা তার চেয়ে আলাদা। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, জীবনযাত্রার মান এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ যুক্তরাজ্যে কম বলে মনে হয়েছে তাঁর। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের মাধ্যমে বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা নিয়েই দেশটিতে গিয়েছিলেন অ্যানি। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতায়, কর ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বিষয়টি হিসাবের বাইরে ছিল। ফলে স্বাস্থ্যসেবাকে পুরোপুরি বিনা খরচের বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অ্যানির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে ব্যবহৃত কিছু গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি যুক্তরাজ্যে অনেকের কাছে বিলাসী পণ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। ডিশওয়াশার ও কাপড় শুকানোর যন্ত্রের মতো পণ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি দুই দেশের জীবনযাত্রার পার্থক্য তুলে ধরেন। শুধু আর্থিক বিষয় নয়, যুক্তরাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়েও হতাশার কথা জানিয়েছেন অ্যানি। তাঁর অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে কয়েকজন তাঁর মার্কিন উচ্চারণ ও সংস্কৃতি নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। তাঁর ধারণা ছিল, ব্রিটিশ সমাজে ভদ্রতা ও সৌজন্যের যে চিত্র চলচ্চিত্রে দেখা যায়, বাস্তবেও তা একই রকম হবে। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। অন্যদিকে, সাংবাদিক ও পরামর্শক সারাহ উড গনজালেজ জানিয়েছেন, ভিন্ন পরিবেশে বসবাস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতির কিছু দিক নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, মার্কিন কর্মক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিতে চায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় কম লাগে। জার্মানিতে চলে যাওয়া জশ নামের এক মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। তিনি জানান, সেখানে চাকরি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা তাঁর হতাশা বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে দৈনন্দিন জীবনযাপনের সহজতা, মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যে অভিজ্ঞতা ছিল, তা তিনি মিস করতে শুরু করেন। জশের মতে, স্থানীয় সমাজে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠাও বিদেশিদের জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি স্থানীয়দের মতো দেখতে না হন বা সেখানকার সংস্কৃতিতে জন্ম থেকে বেড়ে না ওঠেন, তাহলে নিজেকে সমাজের অংশ মনে করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শেষ পর্যন্ত জশ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন। প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে এখন অনেক বেশি ভালো আছেন। ইউরোপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়তো তিনি পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন। তবে ইউরোপে গিয়ে হতাশ হওয়ার কথা প্রকাশ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ছেন কেউ কেউ। ওয়্যার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা জানালে তাঁদের একাংশকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষণশীল বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। কেউ কেউ আবার মনে করেন, নতুন দেশে মানিয়ে নিতে না পারার দায় তাঁদের নিজেদেরই। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থী শহর ও অঙ্গরাজ্যে থাকা বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁদের সামাজিক সম্পর্কের অভাবও অনেকের মধ্যে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। নতুন দেশে জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষ, সামাজিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের গুরুত্ব তাঁরা নতুন করে উপলব্ধি করছেন। ভেনেজুয়েলায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ডি মার্টিনোও ইউরোপে বসবাসের প্রত্যাশা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, ইউরোপের সব দেশকে একইভাবে বিচার করা যায় না। গ্রিসের গড় আয়ের জীবনযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ডেনমার্কের মতো দেশে জীবনযাত্রার মান ভালো হলেও গড় আয় অনেক ক্ষেত্রে মার্কিনদের তুলনায় কম। তিনি বলেন, ইউরোপের কিছু দেশে অপরাধের হার কম এবং খাবারের মান ভালো হওয়ার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে আয়, চাকরি পাওয়ার সুযোগ এবং করের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর মতে, অনেক ইউরোপীয় দেশে কর্মী ছাঁটাইয়ের নিয়ম কঠোর হওয়ায় নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন ব্যবস্থার ব্যয় মেটাতে করের বোঝাও বেশি হতে পারে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে কাজ করা থিও ওল্ডও ইউরোপের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন উদারপন্থীদের প্রত্যাশার সমালোচনা করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন; এটি ইউরোপে বসবাসকারী সব মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করে না। এখানে উল্লেখযোগ্য, ইউরোপে চলে যাওয়া সব মার্কিন নাগরিক যে হতাশ বা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন নয়। প্রতিবেদনে কয়েকজনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও নতুন দেশে চাকরি, আয়, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো কিছু মার্কিন নাগরিকের কাছে এখন সেই সিদ্ধান্তের সুবিধা ও অসুবিধা নতুন করে সামনে এসেছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে, দূর থেকে কোনো দেশকে আকর্ষণীয় মনে হলেও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। আর সেই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না, সেটিই শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার চিন্তাকে প্রভাবিত করছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির পর তদন্ত জোরদার
ইলহান ওমর ও তাঁর প্রয়াত বাবাকে ঘিরে অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদে বোন

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বোন সাহরা নূরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির পর তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি স্বেচ্ছায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সোমবার, ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালান যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) কর্মকর্তারা। এর পরই তাঁর বোন সাহরা নূর তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে নূরের সাক্ষাৎকারের পর তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফেডারেল তদন্তকারীরা ইলহান ওমর এবং তাঁর প্রয়াত বাবাকে ঘিরে সম্ভাব্য অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের মূল বিষয়, অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্রে কোনো ধরনের ভুল তথ্য বা অনিয়ম ছিল কি না। তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং তদন্তকারীদের হাতে থাকা প্রমাণ সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি। তিনি ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তাঁর বাড়িতে তল্লাশির ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। ওমর অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাড়িতে তল্লাশি চালানোর ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টার অংশ। তিনি তদন্তের উদ্দেশ্য ও সময় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এর আগে ১২ অক্টোবরের তল্লাশির পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীরা ওমরের অভিবাসন-সংক্রান্ত পুরোনো নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে তদন্তের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সাহরা নূরকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাটি তদন্তের পরিধি সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আনলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, তাঁর দেওয়া বক্তব্য তদন্তের গতিপথে কী প্রভাব ফেলেছে, সেটিও জানা যায়নি। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, তদন্তকারীরা ইলহান ওমরের অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং তাঁর পরিবারের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরীক্ষা করছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ওমর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বাড়িতে তল্লাশিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার মা ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে আরানজা
নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে এসেও আইসিইর হাতে আটক ভেনেজুয়েলার মা, বিচ্ছিন্ন মেয়ে

ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার নাগরিক ডিকারলা আন্তোনেলা সুয়ারেজ ভার্গাস ও তাঁর ছোট মেয়ে আরানজা সোফিয়া কাস্তিয়ো সুয়ারেজ। সমুদ্রে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সেই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নতুন জীবন শুরু করলেও এখন আরেক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মা। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আ ট ক হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর মেয়ে রয়েছে এক আত্মীয়ের কাছে।   ৩৪ বছর বয়সী ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নিকারাগুয়ার কর্ন আইল্যান্ডসের কাছে একটি নৌডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। কলম্বিয়ার সান আন্দ্রেস থেকে কর্ন আইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল নৌযানটি। দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিকারাগুয়ার নৌবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় জেলেদের নৌকাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। সব মিলিয়ে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্ঘটনায় ভেনেজুয়েলার দুই যাত্রীর মৃ ত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল। ডিকারলার বোন কিসি সুয়ারেজের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় তাঁর বোন ও ভাগনি প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সমুদ্রে আটকে ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, হয়তো আর বেঁচে ফেরা হবে না। ওই ঘটনায় অন্য যাত্রীদের প্রাণহানিও ঘটে। পরিবারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আশায় তাঁরা ওই নৌযানে যাত্রা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মা-মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে টেক্সাসের ডালাসে বসবাস শুরু করেন। ডিকারলা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন, আর তাঁর মেয়ে আরানজা স্কুলে যেত। পরিবারের ভাষ্য, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের হাজির করেছিলেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম চলতে থাকে। তবে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারের দাবি, সেদিন ডিকারলা নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সাক্ষাৎ বা চেক-ইনের জন্য গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে আ ট ক করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিই। এরপর থেকে তিনি অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ডিকারলা ২০২৪ সালের মে মাসে মেয়েকে নিয়ে এল পাসোর কাছে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। বিভাগের এক মুখপাত্রের দাবি, সে সময় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অবৈধ মাদক ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে বিভাগটির বিবৃতিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কথা বলা হয়নি। পরিবারের দাবি, ডিকারলার কোনো অপরাধের রেকর্ড, ফৌজদারি অভিযোগ বা আগের গ্রেপ্তারের ঘটনা নেই। তবে তাঁর অভিবাসন মামলার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি একজন অভিবাসন বিচারক তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এরপর তাঁর আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করেন। ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দাখিল করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিকারলাকে লারেডো প্রসেসিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মা-মেয়ের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবার। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বলেছেন, আইসিইর নীতি অনুযায়ী আরানজাকে একজন আত্মীয়ের কাছে রাখা হয়েছে। বিভাগের বক্তব্য, অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁরা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বহিষ্কৃত হতে চান কি না। তা না হলে অভিভাবকের মনোনীত নিরাপদ ব্যক্তির কাছে শিশুকে রাখা হয়। বিভাগটির দাবি, এটি আগের প্রশাসনগুলোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডিকারলার বোন কিসি জানিয়েছেন, তাঁর বোন মেয়েকে ঘিরেই জীবন সাজিয়েছিলেন। তিনি মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন, দেখাশোনা করতেন এবং সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করতেন। হোটেল ও খাবার পরিবেশনসহ ডালাস এলাকার বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাক্সেল রোহাস ডিকারলার আইনি খরচ মেটাতে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, ডিকারলার সঙ্গে যা ঘটছে, তা গভীরভাবে অন্যায্য। তিনি আশা করছেন, ডিকারলা ন্যায়সংগত আচরণ পাবেন এবং মা-মেয়ে আবার একসঙ্গে থাকতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কঠোরতার মধ্যে মা-বাবাকে আ ট ক বা বহিষ্কারের কারণে সন্তানদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু সম্ভবত তাদের কোনো অভিভাবকের আ ট ক হওয়ার অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে। ডিকারলা ও আরানজার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আরও গভীর, কারণ তাঁরা ইতোমধ্যে প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা থেকে বেঁচে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মা কাজ করেছেন, মেয়ে স্কুলে পড়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে জীবন গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন বহিষ্কারের আদেশ ও দীর্ঘ আটকাবস্থার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পরিবারের আশঙ্কা, আইনি প্রক্রিয়ার পরিণতি তাঁদের আবারও আলাদা করে দিতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের খতিয়ান, প্রায় ৫০০ মানুষের ঘটনা নিয়ে নতুন ওয়েবসাইট
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের খতিয়ান, প্রায় ৫০০ মানুষের ঘটনা নিয়ে নতুন ওয়েবসাইট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে অভিবাসন নীতির নামে পরিচালিত গণ-নির্বাসন ও ধরপাকড়ের শিকার হওয়া মানুষদের তথ্য সংরক্ষণে একটি নতুন অনলাইন প্রজেক্ট চালু হয়েছে। 'ডিজঅ্যাপিয়ার্ড ইন আমেরিকা' নামের এই ওয়েবসাইটটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর বিতর্কিত অভিযানে আটক, নির্বাসিত বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রায় ৫০০ জনের ঘটনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।   ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জে.বি. প্রিজকারের প্রশাসনের সমর্থনপুষ্ট 'ইলিনয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি কমিশন'-এর উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক রেকর্ড সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে।   শিকাগোতে পরিচালিত আইসিই-এর বহুল সমালোচিত 'অপারেশন মিডওয়ে ব্লিটজ'-সহ দেশজুড়ে চলা নানা অভিযানের শিকার অভিবাসী এবং মার্কিন নাগরিকদের গল্প স্থান পেয়েছে এই আর্কাইভে। হোয়াইট হাউস যখন গ্যাং সদস্য ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সাফাই গাইছে, তখন সমালোচকরা দাবি করছেন, এই ধরনের বড় মাপের অভিযানে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছাড়াই অসংখ্য নিরীহ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।   ডেমোক্রেসি পাওয়ার প্রজেক্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিয়েত্রিজ লোপেজ নিউজউইক-কে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জবাবদিহি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।   গভর্নর জে.বি. প্রিজকার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে মার্কিন সম্প্রদায়ের ওপর একটি "নজিরবিহীন সামরিক ধাঁচের হামলা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ফেডারেল এজেন্টদের জবাবদিহিতার আওতার বাইরে রাখার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, ইলিনয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।   ওয়েবসাইটটিতে বেশ কয়েকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাস ও মেইনে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত লরেঞ্জা সালগাদো আরাউজো এবং জোহান সেবাস্তিয়ান ডুরান গুয়েরেরো এবং মিনিয়াপলিসে নিহত দুই মার্কিন নাগরিক রেনি নিকোল গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ক্যানসার আক্রান্ত এক কিশোরী ওফেলিয়ার তার বাবার গ্রেপ্তারের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার মর্মান্তিক কাহিনিও এখানে তুলে ধরা হয়েছে।   ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৬ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষকে নির্বাসিত করা হয়েছে, ৪ লাখ মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকারি পরিসংখ্যানে এই মানুষগুলো শুধুই কিছু সংখ্যা, কিন্তু এই ডাটাবেস তাদের হারিয়ে যাওয়া গল্পগুলোকে চিরস্থায়ী করবে।   ইলিনয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি কমিশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপে আগামীতে আরও বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তাদের প্রত্যাশা, এই সম্মিলিত উদ্যোগ কংগ্রেস ও ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিতে একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল চূড়ান্ত করেছে ডিএইচএস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে বাতিল হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিটের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদন চলাকালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বিধিতে রূপ দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। ব্লুমবার্গ ল-এর ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধিটি ১৪ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গত বছর চালু করা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকে স্থায়ী করা হচ্ছে।    এটি সব অভিবাসীর বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়। পরিবর্তনটি মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার পর পুরোনো কার্ডের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বয়ংক্রিয় সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত।    আগের ব্যবস্থায় যোগ্য আবেদনকারীরা সময়মতো নবায়নের আবেদন করলে নির্ধারিত শর্তে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতেন। আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলেও তাঁদের কাজের অনুমতি বহাল রাখাই ছিল এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।    তবে সুবিধাটি বাতিলের মূল পরিবর্তন শুরু হয় ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর। ওই দিনের অন্তর্বর্তীকালীন বিধি অনুযায়ী, সেদিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট নবায়ন আবেদন সাধারণভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পায় না। ফলে অক্টোবরের নতুন চূড়ান্ত বিধিকে প্রথমবার সুবিধা বন্ধের ঘোষণা হিসেবে দেখলে কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।    ডিএইচএসের বক্তব্য, নতুন করে কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে আবেদনকারীর যোগ্যতা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই নিশ্চিত করতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ দিয়ে কাজের অনুমতি বহাল আছে ধরে নেওয়া যাবে না।    বিধিতে ব্যতিক্রমও রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের আগে পাওয়া স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা এবং আইন বা পৃথক ফেডারেল রেজিস্টার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাড়ানো মেয়াদ এই সিদ্ধান্তে সরাসরি বাতিল করা হয়নি। তাই কারও কাজের অনুমতি বহাল আছে কি না, তা নির্ধারণে তাঁর ইএডির ক্যাটাগরি, নবায়নের আবেদনের তারিখ এবং প্রযোজ্য বিশেষ নির্দেশনা বিবেচনা করতে হবে।    এই পরিবর্তনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি তাঁদের জন্য, যাঁদের বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের সিদ্ধান্ত আসে না। প্রযোজ্য অন্য কোনো অনুমতি বা ব্যতিক্রম না থাকলে তাঁদের কাজে বিরতি পড়তে পারে। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ, নবায়নের আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিবাসনগত স্ট্যাটাস পৃথক বিষয়, তাই একটি নথির পরিবর্তন দিয়ে অন্যটির অবস্থান নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ইউএসসিআইএসের অনলাইন সেবায় রিসিট নম্বর ব্যবহার করে গ্রিন কার্ডের আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা যায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, রিসিট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যেভাবে জানবেন

গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে এখন অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন আবেদনকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (USCIS) ‘কেস স্ট্যাটাস অনলাইন’ সেবায় আবেদন জমা পড়েছে কি না, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এসেছে কি না এবং সিদ্ধান্ত বা কার্ড পাঠানোর বিষয়ে কী আপডেট রয়েছে, তা দেখা যায়। এ জন্য সাধারণত আবেদন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে থাকা ১৩ অক্ষর ও সংখ্যার রিসিট নম্বর প্রয়োজন হয়। সরকারি এই সেবা ব্যবহার করতে আলাদা কোনো ফি লাগে না।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিসিট নম্বরটি তিনটি ইংরেজি অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে থাকে ১০টি সংখ্যা। IOE, SRC, LIN, EAC, WAC, NBC ও MSC এরকম বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে নম্বর শুরু হতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে নম্বরটি পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে। আবেদনকারীর উচিত নম্বরটি সঠিকভাবে লিখে সরকারি ওয়েবসাইটেই কেসের অবস্থা যাচাই করা।   কেসের অবস্থা দেখতে ইউএসসিআইএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://egov.uscis.gov/casestatus/CaseStatus/Search-এ যেতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘Check Status’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, ‘Case Was Received’ দেখালে বোঝায় আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Biometrics Appointment Was Scheduled’ দেখালে বায়োমেট্রিকসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়। আর ‘Case Was Approved’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিটি আবেদনের ধাপ এক নয়, তাই প্রদর্শিত বার্তাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি।   আরও বিস্তারিত তথ্য ও অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা পেতে আবেদনকারীরা MyUSCIS অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। https://my.uscis.gov/ ঠিকানায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা প্রবেশ করে নিজের আবেদনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেসের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ বা বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে কোন নোটিশ অনলাইনে পাওয়া যাবে, কী ধরনের আপডেট আসবে এবং কোন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে, তা আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে কেস স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়ার কথা। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের (USPS) ওয়েবসাইটে কার্ডের সরবরাহের অগ্রগতি দেখা যায়। কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা গেলেও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে ইউএসসিআইএসের ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় ডাকযোগে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে।   অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ইউএসসিআইএসের যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যায়। শ্রবণ বা বাক্‌সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময়সীমা আলাদা এবং সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ইউএসসিআইএস ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও উল্লেখ করেছে।   কেসের অবস্থা দেখা আর আবেদন কত দিনে শেষ হবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ফরম ও আবেদনশ্রেণির ভিত্তিতে ইউএসসিআইএসের ‘প্রসেসিং টাইমস’ সেবায় আনুমানিক প্রক্রিয়াকরণ সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে কেসসংক্রান্ত অনুসন্ধানও জমা দিতে পারেন। শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না বা কবে কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।   আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রিসিট নম্বর ব্যক্তিগত কেসের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নম্বরটি প্রকাশ না করে কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করাই নিরাপদ। ইউএসসিআইএসের নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে স্ট্যাটাস দেখানোর প্রস্তাব এড়িয়ে চলা উচিত। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS), Case Status Online ও Contact Center; যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আদালতের নির্দেশে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন ইয়াদের কোর্তেস আন্দিনো নামে এক অভিবাসী। গত ২ অক্টোবরের এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ অক্টোবর মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোর্তেসের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকে বেআইনি ঘোষণা করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ফেডারেল বিচারক জেরি ব্ল্যাকওয়েল। ২ অক্টোবর মিনেসোটার বিশপ হেনরি হুইপল ফেডারেল বিল্ডিংয়ে তাঁর মুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তাঁকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ফেরত দেওয়া হয়। তবে আইনজীবীর জন্য অপেক্ষমাণ প্রধান ফটক দিয়ে বের না করে তাঁকে ভবনের পেছনের একটি দরজা দিয়ে বাইরে পাঠানো হয়। সেখানে সাধারণ পোশাকে অপেক্ষা করছিলেন আইসিইর কর্মকর্তারা। এরপর তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।   কোর্তেসের আইনজীবীর বক্তব্য এবং সরকারের আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, মুক্তির মাত্র তিন মিনিট পর তাঁকে পুনরায় আটক করা হয়। তাঁর আইনজীবী জানতে চাইলে আইসিইর এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া গত মে মাস থেকেই চলছে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্থাটির একটি আইনি দল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তির নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মামলা পর্যালোচনা করে পুনরায় গ্রেপ্তারের উপযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করছে।   মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর অনুসন্ধানে একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর এক নাগরিককে আটককেন্দ্রের বাইরে কয়েক পা এগোনোর পর পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ১ অক্টোবর গুয়াতেমালার এক নাগরিক ভবনের দরজা পেরোনোর আগেই আবার আটক হন। আদালতের নথিতে সেপ্টেম্বরের আরও দুটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ওই ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে ফেডারেল বিচারক জেফরি ব্রায়ান বলেন, ভবন থেকে বের হওয়ার সময় আইসিইর কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেছিলেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পরোয়ানা যথাযথভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। বরং হাতকড়া পরানোর আগে ভাঁজ করা একটি কাগজ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর সামনে দেখানো হয়েছিল। বিচারক সতর্ক করেন, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারকে বৈধ বলে মেনে নিলে আটকাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে।   কোর্তেসের ঘটনায় বিচারক ব্ল্যাকওয়েলও সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান। আদালত তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির সময়, তারিখ ও স্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকার নির্ধারিত সময়ে সেই তথ্য জমা না দেওয়ায় ৫ অক্টোবর বিচারক কেন আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। তবে আদালত অবমাননার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   কোর্তেসের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনও এ ঘটনার সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর স্ত্রী জেনিফারের সঙ্গে সংসার করছেন তিনি এবং ২০২৫ সালের জুনে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। মিনেসোটা পাবলিক রেডিও জানায়, পুনরায় গ্রেপ্তারের পরদিন, ৩ অক্টোবর তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদিত হয়। পরে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে আবার মুক্তি দেওয়া হয়।   আইসিইর এই পদক্ষেপের বিষয়ে মিনেসোটা পাবলিক রেডিও হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং আইসিইর কাছে জানতে চেয়েছিল, কবে থেকে এ প্রক্রিয়া চলছে, কার নির্দেশে তা করা হচ্ছে এবং কতজন অভিবাসী এর আওতায় পড়েছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও আইসিই এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। ফলে মিনেসোটার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর কাউকে নতুন করে গ্রেপ্তার করতে হলে তার আইনি ভিত্তি কী, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নতুন ও বৈধ ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও আগের আটকাদেশ বেআইনি ঘোষণার পরপরই একই ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   মিনেসোটার এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, বিচার বিভাগের নির্দেশ এবং সরকারি সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পরপরই আবার আটক করার এই প্রক্রিয়া কতটা আইনসম্মত, তা নির্ধারণে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে আট হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাস সীমান্তে আট হাজারের বেশি সেনা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে আট হাজারের বেশি সেনা মোতায়েনের পর রিও গ্র্যান্ডে নদীসংলগ্ন কিছু এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের তৎপরতা কমেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতি, সামরিক উপস্থিতি এবং অভিযানটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। টেক্সাসের রোমা এলাকায় সেনাসদস্য, সীমান্তরক্ষী এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। অভিযানে নজরদারি প্রযুক্তি, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক ও মানব পাচার ঠেকানো এই অভিযানের অন্যতম ঘোষিত উদ্দেশ্য। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো এবং মেক্সিকোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার ফলে অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেক্সিকো সীমান্তসংলগ্ন তামাউলিপাস এলাকায় ৫০০ সেনা পাঠিয়েছে। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের একাংশ মনে করছেন, অবৈধ পারাপার কমার পেছনে আগের প্রশাসনের আশ্রয়প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতিও ভূমিকা রেখেছে। ফলে সেনা মোতায়েনের কারণে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।   মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সীমান্ত নিরাপত্তা রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকান প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে তাদের নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, সমালোচকেরা সামরিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা, মানবিক প্রভাব এবং অভিযানের প্রকৃত ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও অভিবাসননীতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের এই খবরকে সরাসরি বৈধ ভিসাধারী বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। নির্দিষ্ট অভিবাসন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার নিয়মে নতুন পরিবর্তন
অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চান! শিক্ষার্থী ভিসা ও পরিবারের আবেদন নিয়ে জেনে নিন নতুন নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শর্তে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন, অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে নতুন ভিসার আবেদন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন বিধি শিক্ষার্থী ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) এবং শিক্ষার্থীর অভিভাবক ভিসা (সাবক্লাস ৫৯০)—দুই ধরনের ভিসার আবেদনকারীদের জন্য প্রাসঙ্গিক। নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সেখানে থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি এবং আবেদনকারীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নেওয়ার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ওপর। তাই অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা, ভ্রমণ কিংবা বসবাসের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন বিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, এখন থেকে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে করতে হবে। আগে থেকেই দেশটিতে শিক্ষার্থী ভিসায় অবস্থান করছেন—এমন ব্যক্তিরাও চাইলেই অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড়ের আওতায় পড়তে হবে। আবেদনকারীর বর্তমান ভিসার ধরন এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে তিনি দেশটির ভেতরে থেকে আবেদন করতে পারবেন কি না। যাঁরা নতুন শর্ত অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করতে বাধ্য, তাঁদের ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ও অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া চলার সময় অন্য কোনো বৈধ ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময় দেশের বাইরে থাকার শর্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে, নতুন নিয়ম না মেনে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে আবেদন করলে সেটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে আবেদনকারীর বর্তমান ভিসার অবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আগের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী ভিসার আবেদন করার সুযোগও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা ও ছাড়ের শর্ত যাচাই করা জরুরি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নতুন নিয়মে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাঁদের সঙ্গী বা নির্ভরশীল সন্তানকে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। একই বিধি পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আবার শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হওয়ার পর আলাদা আবেদনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগও সাধারণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সীমিত কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। পিএইচডি বা ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থী, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর কিংবা প্রতিরক্ষা বিভাগের অর্থায়নে পড়াশোনা করা ব্যক্তি, বিদেশি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট দেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা কিছু শর্তে পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া বর্তমান ভিসায় আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত পরিবারের সদস্যদের পরবর্তী আবেদনে রাখার সুযোগও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে থাকতে পারে। যেমন, মূল কোর্স শেষ করতে আরও সর্বোচ্চ ১২ মাস প্রয়োজন হলে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোর্স পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় নতুন আবেদন করতে হলে বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আবেদন জমা দেওয়ার সময় একই স্থানে থাকার শর্তও রয়েছে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পরিবারের কাউকে আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করলে তাঁর আবেদন অবৈধ হতে পারে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২ অক্টোবর ২০২৬-এর আগে জমা দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনগুলো আগের বিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল—এমন পুরোনো আবেদনও এর আওতায় পড়বে। অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার আগে ভিসার যোগ্যতা, পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এবং অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে না বাইরে থেকে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভর্তি, ভিসা, ভ্রমণ বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করলে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি পদক্ষেপ জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন
নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনেও তথ্য গোপনের অভিযোগ, ১৫ বছর পর আইনি চ্যালেঞ্জে মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানোর আইনি ঝুঁকিতে পড়েছেন শিকাগোর এক অভিবাসী। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় নিজের আগের পরিচয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের পাশাপাশি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। গত ৭ অক্টোবর ইলিনয়ের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় মার্কিন সরকার দাবি করেছে, আকিনকুনমি আইনসম্মতভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেননি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং কিছু তথ্য গোপন করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। মামলার নথি অনুযায়ী, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন মার্কিন নাগরিক হিসেবে শপথ নেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব লাভ করেন। কিন্তু তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ইতিহাস নিয়ে সরকারের অভিযোগ আরও পুরোনো। মামলায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে তিনি ভিন্ন একটি পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। সেই পরিচয় ছিল ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো। সরকারের অভিযোগ, ১৯৯৩ সালে ওই পরিচয়ে তিনি নিজের গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে মার্কিন অভিবাসন আপিল বোর্ডও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এর পর আকিনকুনমি নতুন পরিচয়ে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি দাবি করেছিলেন, অন্য কোনো নাম ব্যবহার করেননি এবং এর আগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। সরকারের দাবি, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ২০০০ সালে তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি নাকি আগের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তাঁকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল কিংবা বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন তথ্যও তিনি অস্বীকার করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের বক্তব্য, আকিনকুনমি কখনোই আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করেননি। বরং প্রতারণা অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি অভিবাসন সুবিধা ও নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অক্টোবরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ ৪০ জন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। সরকারের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি অবৈধভাবে অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ভুয়া বিয়ে, অভিবাসনসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং পরিচয় গোপনের মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের বয়স ২৬ থেকে ৭৬ বছরের মধ্যে এবং তাঁরা ২০টি দেশের নাগরিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। অতীতে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার বছরে গড়ে প্রায় ১১টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা শুরু করেছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, এই সংখ্যা বেড়ে বছরে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও সরকারের ক্ষমতার ওপর সীমা আরোপ করেছেন। ২০১৭ সালের মাসলেনিয়াক বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলায় আদালত বলেন, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ, আবেদনে কোনো ভুল বা বেআইনি আচরণ পাওয়া গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না; নাগরিকত্ব অর্জনে সেই আচরণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আকিনকুনমির মামলাতেও অভিযোগের সত্যতা, তথ্য গোপনের গুরুত্ব এবং নাগরিকত্ব অর্জনের সঙ্গে সেসব তথ্যের সম্পর্ক আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম তালিকাভুক্ত ছিল না। মামলায় মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীর কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
ইলহান ওমরের বাড়িতে ট্রাম্পের ফেডারেল তল্লাশি, অভিবাসন নথি নিয়ে তদন্তের খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। সোমবার ১২ অক্টোবর ভোরে চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে তদন্তের বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করেনি বিচার বিভাগ।    বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের অনুমোদিত সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। বিভাগটি একে চলমান ফেডারেল ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে প্রকাশিত ওই বক্তব্যে ওমরের নাম বা তদন্তের নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি।    ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্রে সম্ভাব্য জালিয়াতি নিয়ে তদন্তের সূত্র ধরে এই তল্লাশি চালানো হয়। ওই কাগজপত্র তিনি শিশু থাকাকালে তাঁর প্রয়াত বাবা পূরণ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিবাসন নথি নিয়ে তদন্তের এই তথ্য সংবাদমাধ্যমের সূত্রভিত্তিক দাবি; বিচার বিভাগের প্রকাশিত বক্তব্যে তা বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।    দ্য ইনডিপেনডেন্টও ফক্স নিউজ ডিজিটালের বরাতে ওমরের বাড়িতে তল্লাশির খবর প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অভিযানের বিষয়ে আরও তথ্য জানতে বিচার বিভাগ ও ওমরের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।   ওমর মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি। তাঁর নির্বাচনী এলাকার মধ্যে মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের শহরতলি রয়েছে। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি কংগ্রেসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন তিনি।    সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর আট বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে যান। কেনিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে চার বছর থাকার পর তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ১৯৯৭ সালে পরিবারসহ মিনিয়াপোলিসে বসবাস শুরু করেন তিনি। তাঁর কংগ্রেশনাল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান।    অভিবাসন নীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমর। এর আগে ১০ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি মিনেসোটার রিচফিল্ডে তাঁর একটি জনসভাস্থলের বাইরে ছদ্মবেশী এইচএসআই কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। ওই ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নজরদারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে সেই ঘটনার সঙ্গে সোমবারের তল্লাশির কোনো সম্পর্ক প্রকাশিত তথ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী অস্কার বার্গালকে গুলি করার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার, ১০ অক্টোবর, ম্যানহাটনের হেরাল্ড স্কয়ারে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর কার্যক্রম বন্ধ এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।   সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের মার্বেল হিল এলাকায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের সময় গুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় বার্গালের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। শিশুটি গুলিতে আহত হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, কর্মকর্তারা বার্গালকে আটক করার চেষ্টা করছিলেন। বিভাগের দাবি, গাড়িটিকে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গুলি চালান। তবে গুলি চালানোর পরিস্থিতি, কর্মকর্তাদের কৌশল এবং ঘটনার আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   বার্গালের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর শরীরে একটি গুলি আটকে রয়েছে। ঘটনাটির পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা ভিডিওতে গুলির মুহূর্ত দেখা যায়নি। তবে ভিডিওতে কর্মকর্তাদের গাড়ির কাছে যেতে এবং গাড়িচালককে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   এ ঘটনায় শুক্রবার ও শনিবার নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়। ফেডারেল অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিবাসী অধিকারকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করার নামে যেন অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ না হয় এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বার্গালের অভিবাসন অবস্থান এবং অতীতের গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছে। বিভাগটির আরও দাবি, তাঁর একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন বিচারিক নিষ্পত্তি এবং ঘটনার তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   সিবিএস নিউইয়র্ক জানিয়েছে, শুক্রবার একজন ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে বার্গালকে দেশ থেকে বহিষ্কারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তাঁর মুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সের শিক্ষার্থী বিক্ষোভে ইসলাম ও অভিবাসনকে দায়ী করে  ট্রাম্প
ফ্রান্সের শিক্ষার্থী বিক্ষোভে ইসলাম ও অভিবাসনকে দায়ী করে আলোচনাকে ভিন্ন খাতে নিলেন ট্রাম্প

ফ্রান্সে স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ইসলাম ও অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, ফ্রান্সের পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ‘নিয়ন্ত্রণহীন গণ-অভিবাসন’। তবে বিক্ষোভকারীদের প্রকাশিত দাবিতে ধর্ম বা অভিবাসনের বিষয়টি নেই।    পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বিক্ষোভটি স্কুল নিয়ে নয়; তাঁর ভাষায়, ইসলাম ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে শিক্ষকসংকট, শ্রেণিকক্ষের দুরবস্থা, দীর্ঘ স্কুলসময় এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব।    প্যারিসের একটি স্কুল ঘিরে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া আন্দোলন পরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের সমর্থনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও রাস্তায় নামেন। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সেদিন দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন; তাঁদের মধ্যে প্যারিসে ছিলেন প্রায় ৫৬ হাজার।   অধিকাংশ জায়গায় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। মঙ্গলবার প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন ৮৯১টি স্কুলে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ ছিল।    ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা, স্কুলের দীর্ঘ সময়সূচি পর্যালোচনা এবং পুরোনো ভবন মেরামতের বিষয়গুলো দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতেই ফ্রান্সের আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্য দিলেন।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
মন্টিনেগ্রোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন সুযোগ
পর্যটন, নির্মাণ ও চিকিৎসা খাতে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কর্মী নেবে মন্টিনেগ্রো

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   ৫ অক্টোবর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বৈঠকে দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার, সংসদীয় কূটনীতি বাড়ানো, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-মন্টিনেগ্রো পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।   দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জগুলো দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   মন্টিনেগ্রো একটি আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে তার দেশ।   বাংলাদেশে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।   এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান গোরদান স্তোয়োভিচ। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নেও যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।   বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে সরকার কাজ করছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তার দেশে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। শ্রমবাজারের এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো খাতে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব জানান।   বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে মন্টিনেগ্রোর অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার ওপরও দুই পক্ষ গুরুত্ব দেয়।   এ ছাড়া বাল্টিক অঞ্চলসহ ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টিনেগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও জনশক্তি সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু
ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু, দগ্ধ দুই নারী

ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় বের্ক উপকূল থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় একটি নৌকায় দুই পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়েছেন আরও দুইজন। রোববার ৪ অক্টোবর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের হিসাবে নৌকাটিতে প্রায় ৯০ জন ছিলেন।   উদ্ধারকারীরা দুই পুরুষকে হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ অবস্থায় পান। পরে তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়। ফরাসি কর্তৃপক্ষ এএফপিকে জানিয়েছে, একজনের বয়স ত্রিশের কোঠায়, অন্যজনের চল্লিশের কোঠায়। তাঁদের জাতীয়তা তখনো জানা যায়নি।   বুলোন-সুর-মেরের প্রসিকিউটর সেসিল গ্রেসিয়ে এএফপিকে বলেন, তাঁরা একজন নারী ও প্রায় ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে। শিশুটিকে লিলের বিশেষায়িত বার্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।    ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকায় থাকা পেট্রলের দীর্ঘ সংস্পর্শে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, নৌকার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও দুই পুরুষের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছে। আহতদের বিষয়ে প্রাথমিক ও পরবর্তী বিবরণে পার্থক্য থাকায় তদন্তের ফলের আগে ঘটনার সব দিক নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।    প্রসিকিউটরের তথ্য অনুযায়ী, হতাহতদের উদ্ধার করার পরও নৌকাটি যাত্রা চালিয়ে যায়। পরে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিলে বাকি যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক যে প্রতিবেদনে নৌকার ইঞ্জিনে আগুন লাগার কথা বলা হয়েছিল, সেটি ফরাসি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বিবরণে নিশ্চিত করা হয়নি।    এর আগের দিন, রোববার, আরেকটি নৌকার প্রায় ১৪৯ জন যাত্রীকে ইংল্যান্ডের গসপোর্টে তীরে আনা হয়। সেটি বের্কের প্রাণহানির ঘটনা থেকে আলাদা। গসপোর্টে তাঁদের পৌঁছানো ঘিরে বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।    সূত্র: ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে এএফপি ও রয়টার্স; গসপোর্টের ঘটনায় হ্যাম্পশায়ার পুলিশ।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ম্যানহাটনে অফ-ডিউটি পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মিগুয়েল ফ্রান্সিসকো মোরা নুনেজ, ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সীমান্তরক্ষীকে গুলির ঘটনায় অবৈধ অভিবাসীর ১৫ বছরের কারাদণ্ড

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ছুটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তাকে গুলি করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মিগেল ফ্রান্সিসকো মোরা নুনেজকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। সোমবার নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে বিচারক লোরেটা এ প্রেসকা সর্বোচ্চ অনুমোদিত সাজাটি দেন। একই ঘটনায় সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের ২৩ বছর বয়সী ক্রিসথিয়ান আইবার-বেরোয়াকেও পৃথকভাবে ১২ বছর ৭ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দুজনই অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন এবং সাজা শেষে তাদের বহিষ্কার করা হবে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে ম্যানহাটনের ফোর্ট ওয়াশিংটন পার্কে। বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, নুনেজ ও আইবার-বেরোয়া একটি মোটরবাইকে করে ওই এলাকায় ছিলেন। তারা প্রথমে এক নারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এর কয়েক মিনিট পর তারা একই এলাকায় নদীর ধারে বসে থাকা ছুটিতে থাকা সিবিপি কর্মকর্তা ও তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে যায়। সেখানে নুনেজ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে একটি গুলি তার মুখ ও ডান হাতে লাগে।   গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ওই কর্মকর্তা পাল্টা গুলি চালান এবং নুনেজকে দুবার আঘাত করেন। এরপর আইবার-বেরোয়া চালানো মোটরবাইকে করে নুনেজ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পালানোর পর আইবার-বেরোয়া তার রক্তমাখা পোশাক পরিবর্তন করেন এবং পোশাকগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য নুনেজের এক আত্মীয়ের সহায়তা নেন। মামলার নথিতে তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদন পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করেছেন।   মিগেল নুনেজ ২০২৩ সালের এপ্রিলে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এর আগে নিউইয়র্কে একাধিক গ্রেপ্তারের তথ্যও তদন্তে উঠে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে গর্ভবতী এক নারীকে হামলা এবং আরেক অভিবাসীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলা বা গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল। তবে এসব আগের অভিযোগের সবগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য সরকারি ফেডারেল রায়ে নেই।   ফেডারেল মামলায় নুনেজের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবস্থায় গোলাবারুদ রাখার অভিযোগ আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে তিনি এই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, এবং সোমবার বিচারক প্রেসকা তাকে সেই সর্বোচ্চ সাজাই দিয়েছেন। বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, নুনেজকে আরও তিন বছরের তত্ত্বাবধানে মুক্তির সাজা দেওয়া হয়েছে। তার সহযোগী আইবার-বেরোয়াকেও একই ধরনের ফেডারেল অভিযোগে ১৫১ মাসের কারাদণ্ড ও তিন বছরের তত্ত্বাবধানে মুক্তির সাজা দেওয়া হয়েছে।   আদালতে নুনেজ আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চান। স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি তার ছোট মেয়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং মেয়ের জন্য আরও ভালো মানুষ ও আদর্শ হতে চান। তিনি আরও বলেন, অতীতে ফিরে গিয়ে যা ঘটেছে তা এড়াতে পারলে ভালো হতো। তবে বিচারক প্রেসকা তার বক্তব্যের পরও তাকে আইনের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠেছেন বলে মনে করেননি এবং সেই কারণেই কঠোর সাজা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।   এদিকে গুলিতে আহত সিবিপি কর্মকর্তা জোশুয়া সিনক্লেয়ার এখনো পুরোপুরি কাজে ফিরতে পারেননি। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রায় ১৪ মাস পরও তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং মুখে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফেডারেল সাজা হলেও নুনেজ ও আইবার-বেরোয়ার বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আদালতে পৃথক অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ হামলা, ডাকাতি ও অস্ত্র রাখার অভিযোগ রয়েছে এবং ওই মামলার কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি।   সোমবারের রায়ে বিচারক প্রেসকা বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর সাজা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অন্যরা একই ধরনের অপরাধে জড়ানোর আগে পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক হয়। তবে নুনেজের ১৫ বছরের সাজাটি সরাসরি কর্মকর্তাকে গুলি করার অঙ্গরাজ্য মামলার চূড়ান্ত রায় নয়। ফেডারেল মামলায় গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতেই এই সাজা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অঙ্গরাজ্যের মামলাটি পৃথকভাবে চলবে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নুনেজ ও আইবার-বেরোয়া উভয়েরই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ অনুমতি ছিল না এবং তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ রয়েছে। ফলে কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কার্যকর হবে। ২০২৫ সালের এই হামলার পর সীমান্ত ও অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে তীব্র হয়েছিল।   তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, সিবিএস নিউইয়র্ক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন নীতিতে নতুন উত্তেজনা
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদার, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অভিবাসীরা

নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিছু পশ্চিম আফ্রিকান অভিবাসীকে আটকের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে এমন দেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।   সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কের ২৬ ফেডারেল প্লাজায় নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সাক্ষাৎ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য ডেকে কয়েকজনকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।   আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গৃহকর্মী, নার্সিং সহকারী, চুলের কাজের পেশাজীবী এবং বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কর্মীরাও রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   বিষয়টির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, আটক হওয়া কয়েকজনের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আগে থেকেই আইনি সুরক্ষা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে কোনো ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠালে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে তাকে সেখানে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।   কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয় দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আবারও জোরদার করার সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে এমন অভিবাসীরাও উদ্বেগে পড়েছেন, যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হলেও অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে।   নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের পশ্চিম আফ্রিকার ঘানা বা অন্য কোনো দেশে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে বলে তাদের পরিবার ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন।একটি ঘটনায় গাম্বিয়া থেকে আসা এক নারীকে আটকের পর ঘানায় পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী প্রায় দুই দশক আগে গাম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। নিজ দেশে ফিরে গেলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির আশঙ্কায় তিনি আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। পরে আদালতে আবেদন করার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।   এই ঘটনাগুলো ঘিরে নিউইয়র্কের অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো সতর্কতা জারি করেছে। তাদের পরামর্শ, যেসব অভিবাসীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট তারিখে ২৬ ফেডারেল প্লাজায় হাজির হতে বলেছে, তারা একা না গিয়ে আগে একজন অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন।তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও বিতর্ক চলছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে এমন ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে অভিবাসীদের পর্যাপ্ত সময় ও আইনি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, তৃতীয় দেশে পাঠানো একটি বৈধ অভিবাসন কার্যক্রম। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, যেসব অভিবাসী নিজ দেশে ফেরত যেতে পারেন না বা ফেরত যেতে অস্বীকার করেন, তাদের অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন নীতি নিয়েও শুনানি করতে যাচ্ছে। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কিছু অভিবাসীকে বহিষ্কার মামলার সময় জামিন শুনানির সুযোগ না দিয়েই আটক রাখা যাবে কি না।নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের জন্যও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান তৃতীয় দেশে পাঠানোর ঘটনাগুলো মূলত পশ্চিম আফ্রিকার অভিবাসীদের কেন্দ্র করে সামনে এসেছে। তাই কোনো বাংলাদেশি একই ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন—এমন সিদ্ধান্ত শুধু সাধারণ খবরের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০