সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আইনশৃঙ্খলা

ওসি মাহবুবকে ঘিরে বিয়ে ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক
যে জেলায় পোস্টিং, সেখানেই বিয়ে! ওসি মাহবুবকে নিয়ে বিতর্ক

রাজশাহীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারীকে শুক্রবার সকালে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাঁদের বের করে আনা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী ওই ফ্ল্যাটে অন্য এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। তবে আন্নির করা অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।   মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলাও চলমান রয়েছে। প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমতি বা ছুটি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে গিয়েছিলেন।   শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্নি আক্তার নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে যান। তাঁর দাবি, তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম সেখানে অবস্থান করছেন এবং তাঁর সঙ্গে সানজিদা মৌ নামের আরেক নারী রয়েছেন। দীর্ঘ সময় দরজায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দরজা না খোলায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর মাহবুব ও সানজিদাকে থানায় নেওয়া হয়।   নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সাধারণত তাঁর পালিত মেয়ে ও জামাই থাকেন বলে জানা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেন আন্নি। সানজিদা সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি।   থানায় নেওয়ার পর মাহবুব আলম সানজিদা মৌকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর দাবি, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি মাহবুবের ব্যক্তিগত জীবন ও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   আন্নির অভিযোগ, মাহবুব আলম বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকার সময় একাধিক নারীকে বিয়ে করেছেন বা তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে তাঁর সঙ্গে দেখেছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   অন্যদিকে মাহবুব আলম দাবি করেছেন, তিনি আন্নি আক্তারকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। পুলিশকে তিনি তালাকের একটি কাগজ দিয়েছেন বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি এবং তালাকের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন না। ফলে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের বর্তমান আইনি অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   ঘটনার পর আন্নি আক্তার মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন। চন্দ্রিমা থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানায় নেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।   এদিকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল থেকে রাজশাহীতে যাওয়ার অভিযোগটিও আলাদাভাবে আলোচনায় এসেছে। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট জানিয়েছেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি ছিল না এবং তিনি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই রাজশাহীতে যান। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
এফবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা সান দিয়েগোর শিক্ষার্থীদের
সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফবিআইয়ের ক্যারিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা

সান দিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সান দিয়েগো শাখা সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির (এসডিএসইউ) ক্রিমিনাল জাস্টিস স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিশেষ কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এই আয়োজনে শুধু মতবিনিময় নয়, বরং ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ তদন্ত ও ফেডারেল সার্ভিসে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়েগোর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। ব্যুরোতে কী ধরনের কাজ করা হয়, বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে কী ধরনের ক্যারিয়ারের সুযোগ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করতে পারে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা এফবিআইয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং ব্যুরোর বিভিন্ন পেশাগত ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে এফবিআই বা একই ধরনের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা ও তদন্ত সংস্থায় কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে এফবিআইয়ের এভিডেন্স রেসপন্স টিমের কাজ সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। অপরাধস্থলে কীভাবে আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং একটি অপরাধ তদন্তে এসব প্রমাণ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যুরোর কাজের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়োর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গঠন, ব্যুরোর কাজের ধরন এবং অপরাধ তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে চান। কর্মকর্তারা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পেশাজীবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও কৌতূহলকে উৎসাহিত করেন। এফবিআই সান দিয়ো এক পোস্টে জানায়, তরুণ ও আগ্রহী ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরে তারা আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল প্রশ্ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণেরও প্রশংসা করা হয়। এ ধরনের কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও একটি ফেডারেল তদন্ত সংস্থার কাজ, পেশাগত পরিবেশ এবং সম্ভাব্য ক্যারিয়ার সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাত্রীকে ঘিরে গোলযোগের অভিযোগ
সম্পূর্ণ পোশাক খুলে আশপাশের যাত্রীদের সঙ্গে অশা লী ন আচরণ, নারী আ ট ক

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে এক নারী যাত্রীর পোশাক খুলে অশা লী ন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিমানটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই নারীকে আ ট ক করে। ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯-এ, যা বাল্টিমোর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রকাশিত এয়ারক্রাফট কমিউনিকেশনস অ্যাড্রেসিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম, সংক্ষেপে একার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় কেবিন ক্রুরা ককপিটে যাত্রীর আচরণ সম্পর্কে জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ নম্বর সারির ৯ডি আসনে থাকা ওই নারী সম্পূর্ণ পোশাক খুলে ফেলেন এবং আশপাশের যাত্রীদের সামনে অশা লী ন আচরণ করেন বলে ক্রুরা রিপোর্ট করেন। কেবিন ক্রুর বার্তার পর বিষয়টি আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনস সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। তবে ফ্লাইটটি মাঝপথে অন্য কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ না করে নির্ধারিত গন্তব্য মিয়ামির দিকেই এগিয়ে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট ১৭৭৯ বাল্টিমোর-ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ৯টা ৯ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং রাত প্রায় ১১টা ২৩ মিনিটে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিমানটি প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছায়। বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন। পরে ওই নারীকে বিমান থেকে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়। মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিস জানিয়েছে, উড়োজাহাজে একটি গোলযোগের ঘটনায় তাদের সদস্যরা সাড়া দেন এবং ঘটনাটি বিমানের ভেতরে সংঘটিত হয়েছে জানতে পেরে বিষয়টি এফবিআইকে জানানো হয়। ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, বয়স এবং কেন তিনি এমন আচরণ করেছিলেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে ঘটনাটিকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা হলেও, প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হলো—ফ্লাইটে ওই নারীকে ঘিরে একটি গুরুতর আচরণগত গোলযোগের অভিযোগ ওঠে, বিমানটি মিয়ামিতে অবতরণ করে এবং পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কেন এমন আচরণ করেছিলেন বা তার পরবর্তী আইনি অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দাবি করা যাচ্ছে না।   সোর্স: ইউএসএ টুডে, মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিসের বক্তব্য এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
চট্টগ্রামের খুলশী-জালালাবাদে যৌথ অভিযানে আটক বিদেশি নাগরিকরা
চট্টগ্রামে গোপন আস্তানায় অভিযান, চীনা-পাকিস্তানিসহ ৬৩ বিদেশি আটক

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে চীনা ও পাকিস্তানিসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে ৭০টি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস বিশ্লেষণ করে আটক ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন ও অনলাইন কার্যক্রমের তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, ভবনটিতে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ বা জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রম চলার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। জব্দ করা ডিভাইস ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কথিত জুয়া কার্যক্রমের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব ও অনলাইন মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য
শিকাগোতে নতুন নিয়ম, সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে সরকারি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিগুলোকে এখন তাদের নেতৃত্বে ডাইভারসিটির তথ্য এবং আইসিইসহ বিভিন্ন সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ২৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশে এসব নিয়ম চালু করেন।   নতুন নীতির আওতায় সিটি কন্ট্রাক্টর ও সাবকন্ট্রাক্টরদের নিজেদের কর্মী ও নেতৃত্বের ডাইভারসিটি সম্পর্কিত তথ্য জানাতে হবে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোকে তাদের করপোরেট নেতৃত্ব ও পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং ডাইভারসিটি বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।   একই সঙ্গে কোনো কোম্পানি গত পাঁচ বছরে আইসিই বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যবসা করেছে কি না, সেটিও প্রকাশ করতে হবে। সরকারি কন্ট্রাক্টের সঙ্গে সম্পর্কিত নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক বা বৈষম্যের অভিযোগের তথ্যও প্রকাশের আওতায় থাকবে।   মেয়র জনসন বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বৈষম্য শনাক্ত করা সহজ হবে। তার ভাষায়, শিকাগোর সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইলে কোম্পানির নেতৃত্ব শহরের যেসব মানুষের করের অর্থে ওই কন্ট্রাক্ট দেওয়া হচ্ছে, তাদের ডাইভারসিটিকে কতটা প্রতিফলিত করে তা জানা প্রয়োজন।   নতুন নির্বাহী আদেশে শুধু ডাইভারসিটির তথ্য নয়, কোম্পানির ব্যবসায়িক আচরণ নিয়েও কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, মজুরি চুরি বা নির্দিষ্ট ধরনের ‘পাবলিক ইন্টিগ্রিটি ভায়োলেশন’-এ জড়িত থাকলে সেটি সিটি কন্ট্রাক্টের জন্য অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।   এ জন্য ১২ সদস্যের একটি Ethical Procurement Standards Task Force গঠনের কথাও বলা হয়েছে। শহরের প্রধান procurement কর্মকর্তা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়মগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করবেন।   শিকাগোর এই পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জনসন প্রশাসন এমন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারি অর্থের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে চাইছে, যেগুলো ফেডারেল সরকারের অভিবাসন অভিযান বা ডিপোর্টেশন কার্যক্রমে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত।   তবে নতুন নিয়মের অর্থ এই নয় যে কোনো কোম্পানির আইসিইর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট থাকলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিকাগোর ব্যবসা থেকে বাদ পড়বে। বরং কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড প্রকাশের পর সিটি কর্তৃপক্ষ সেগুলো মূল্যায়ন করবে।   শিকাগো সিটি ক্লার্কের রেকর্ড অনুযায়ী, জনসনের এই নির্বাহী আদেশের নাম Executive Order 2026-6 এবং এটি ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষর করা হয়। আদেশটির লক্ষ্য হিসেবে করদাতা ও স্থানীয় কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষা এবং সিটি কন্ট্রাক্টে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে শিকাগোর সরকারি অর্থ কোন কোম্পানির কাছে যাচ্ছে এবং সেই কোম্পানিগুলো অন্য সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কী ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি
ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন, ৩০ জুন পর্যন্ত মাঠে থাকার নির্দেশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তীসহ ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   মোতায়েনের আওতায় থাকা জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রাম। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এসব এলাকায় সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। আইএসপিআর সূত্রে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেনাবাহিনীকে মাঠে রাখা হয়েছে।   এদিকে ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশ সূত্র জানায়, নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।   নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে ২০০টির বেশি বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি রাজধানীর সব প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হবে।   ডিএমপির নিয়মিত ইউনিটগুলোর পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখা, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট এবং অন্যান্য বিশেষ ইউনিট মাঠে সক্রিয় থাকবে। সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি চালাবেন।   জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি কন্ট্রোল রুমে রিজার্ভ ফোর্স স্ট্যান্ডবাই থাকবে। ডিএমপি জানিয়েছে, নিরাপত্তা কার্যক্রমে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
অনলাইনে শিশুদের প্রলুব্ধের অভিযোগে বিশেষ অভিযানে ২৯ জন গ্রেপ্তার  l ছবি: সংগৃহীত
অনলাইনে কিশোরী ভেবে ফাঁদে পা, ফ্লোরিডায় ৫ দিনের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৯ জন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিলে শিশুদের অনলাইনে প্রলুব্ধ করার অভিযোগে বিশেষ অভিযানে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা অনলাইনে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন, তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরী বলে মনে করলেও বাস্তবে অপর প্রান্তে ছিলেন আন্ডারকভার গোয়েন্দারা।   জ্যাকসনভিল শেরিফ অফিস (জেএসও) পরিচালিত ‘অপারেশন চেকমেট’ নামের এই অভিযান গত এপ্রিলের শেষ দিকে পাঁচ দিনব্যাপী পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় ইন্টারনেটভিত্তিক শিশু সুরক্ষা ইউনিটের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছদ্মবেশে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত স্থানে দেখা করতে এলে একে একে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে মাদকবিরোধী ইউনিট এবং বিশেষ অস্ত্র ও কৌশলগত ইউনিটও অংশ নেয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বয়স, পেশা ও সামাজিক অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে একজন শহরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থল, স্টেডিয়াম ও এরিনার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরেকজন ছিলেন যুব ক্রীড়া কার্যক্রমের প্রশিক্ষক। এছাড়া বিভিন্ন পেশা ও পারিবারিক পরিচয়ের ব্যক্তিরাও এই অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন।   জ্যাকসনভিল শেরিফ অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের অভিযান শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অনলাইন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়।   কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং তাদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত এখনো চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।   শিশু অধিকার ও অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের লক্ষ্য করে অনলাইনে প্রতারণা, প্রলোভন এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা বাড়ছে। এ কারণে অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তারা কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে সে বিষয়ে নিয়মিত নজর রাখা।   যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে যে, শিশুদের জন্য উপযোগী হিসেবে প্রচারিত কোনো প্ল্যাটফর্মও শতভাগ নিরাপদ নয়। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।   জ্যাকসনভিল শেরিফ অফিস শিশুদের অনলাইনে প্রলুব্ধ করার কোনো ঘটনা বা সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ডাটা না পেয়ে ক্ষিপ্ত ছেলে, মায়ের ওপর হামলা
ডাটা না পেয়ে ক্ষিপ্ত ছেলে, মায়ের ওপর হামলা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মোবাইল ডাটা কেনার টাকা না পেয়ে নিজের মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মো. জাবেদ (১৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   জানা যায়, বুধবার বিকেলে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে ঘটনার একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হতে থাকে।   ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে ধারালো বটি হাতে নিয়ে জাবেদ তার মায়ের কাছে টাকা দাবি করছেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখাতে দেখাতে তিনি মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। এ সময় মাকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করতে শোনা যায়, কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।   স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জাবেদ ওই এলাকার কালা গাজীর বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে তিনি মা ও দুই বোনের সঙ্গে বসবাস করেন।   গ্রাম পুলিশের এক সদস্য জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল গেমে আসক্ত এবং প্রায়ই পরিবারের কাছ থেকে টাকা চাইতেন। টাকা না পেলে এর আগেও তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, প্রাথমিকভাবে গেমে আসক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদুল ইসলাম খানকে আদালতে তোলা হয়। তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।   মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, টহলরত পুলিশ সদস্যরা জিহাদুল ইসলাম খানকে একটি মোটরসাইকেলসহ সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের মালিককে ডাকা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার বদরপুর এলাকায় একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা ছিল। গভীর রাতে সেটি নিয়ে পালানোর সময় পুলিশের সন্দেহ হয় এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় রোববার সকালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।   মোটরসাইকেলের মালিক তানভির ইসলাম বলেন, ধারদেনা করে কেনা মোটরসাইকেলটি দিয়ে তার সংসার চলে। এটি হারিয়ে গেলে তিনি বড় ধরনের সমস্যায় পড়তেন। দ্রুত উদ্ধারের জন্য তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন।   এদিকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মুক্তা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রদলের পদে থাকলেও তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

Unknown মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটে পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে পুলিশ পরিচয়ে এক কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমির হামজা (২৩) শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি খুলনার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও কর্মরত ছিলেন।   নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল চারটার দিকে বাড়ির উঠানে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন হামজা। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক সেখানে এসে পৌঁছায়। তাদের সবার মাথায় হেলমেট ছিল। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে হামজাকে ধাওয়া দেয়।   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হামজা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পাশের একটি খালের পাড়ে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়।   বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই এবং গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।   এর আগে চলতি মাসেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে হত্যার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ১৪ মার্চ মোল্লাহাট উপজেলা সদরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন এক ব্যবসায়ী। তারও আগে একই এলাকায় আরেক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কূটনীতির আড়ালে সামরিক তৎপরতা, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং তাদের দেওয়া ১৫ দফার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। ইরান মনে করছে, একদিকে কূটনীতির কথা বলা আর অন্যদিকে রণসজ্জা বাড়ানো—যুক্তরাষ্ট্রের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান আসলে একটি "চরমপন্থী ও অযৌক্তিক" কৌশল। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবগুলো ইরানের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তেহরানের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি এই পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ দিয়েছেন। আসলানির মতে, ওয়াশিংটন মুখে কূটনীতি এবং উত্তেজনা প্রশমনের কথা বললেও তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন এবং সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, তারা আসলে আন্তরিকভাবে কোনো যুদ্ধবিরতি বা দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে ইচ্ছুক নয়। ইরানি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র "দ্বিমুখী নীতি" অনুসরণ করছে—কাগজে-কলমে আলোচনার টেবিল সাজানো হলেও বাস্তবে সামরিক শক্তি দিয়ে চাপ প্রয়োগ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ওয়াশিংটনের এই অতি-চরমপন্থী অবস্থানকে ইরান কূটনৈতিক সদিচ্ছার অভাব হিসেবেই দেখছে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহে ফেসবুক পোস্টের জেরে কৃষক দল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আবুল কাশেম নামের এক কৃষক দল নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার কুল্লাগাছা-ভাতুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।   নিহত আবুল কাশেম কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সন্ধ্যায় একটি চায়ের দোকানে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।   একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আবুল কাশেম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাহ হোসেন জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এলাকায় নতুন করে সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হাদি হত্যা: জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার ফয়সাল করিমের, দেশে ফেরাতে উদ্যোগ সরকারের

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ভারতের আদালতে হাজিরার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি এ কাজ করি নাই”—এভাবে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন। ভারতের West Bengal-এর বিধাননগর আদালতে গত রোববার ফয়সাল করিম ও আরেক আসামি আলমগীরকে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠান। এর আগে, ৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাঁদের গ্রেপ্তার করে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরে তাঁদের National Investigation Agency (এনআইএ)-এর কর্মকর্তারা দিল্লিতে নিয়ে গেছেন। আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন ফয়সাল করিম। “কার নির্দেশে হত্যা?”, “আপনাকে ফাঁসানো হয়েছে কি না?”—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রথমে নীরব থাকলেও পরে তিনি বলেন, “আমি এ ধরনের কাজে ছিলাম না।”   তবে পালিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের এক পর্যায়ে তিনি নিহত হাদি সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন, যা নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এদিকে, হাদি হত্যার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন Shama Obaid। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “হত্যার আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং যথাযথ সাজা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”   তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার আশাও ব্যক্ত করেন তিনি। সরকার বলছে, নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় আসামিরা ভারতে অবস্থান করলেও তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

Unknown মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা খোরশেদ নিহত

Cox's Bazar শহরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সমুদ্র সৈকতের কবিতাচত্বর পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ আলম শহরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।   এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারিন নামের এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

Unknown মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ফসলের মাঠে অর্ধশতাধিক মানুষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৭

কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে কোমল পানীয়ের বোতলের ক্যাপ ছোড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মো. শফিউদ্দিন (৬৫), মো. রাব্বি (২২), মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), জনি শেখ (২০), শারুফ শেখ (২০) ও ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫)।   আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বেড় কালোয়া মোড়ে এক ব্যক্তি কোমল পানীয় পান শেষে বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারলে তা আরেকজনের মাথায় লাগে। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মিটিয়ে দেন। তবে বিকেলে পূর্বের ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হন।   ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে অনেকেই লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছুটাছুটি করছেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা: কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ভুয়া প্রজ্ঞাপন, প্রধানমন্ত্রীর ছবিসংবলিত ভিজিটিং কার্ড এবং দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।   শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চকরিয়া এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ-এর যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।   রোববার রাজধানীর মিন্টো রোড-এ অবস্থিত ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।   সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আরিফ মাঈনুদ্দিন বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নামে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করে দাবি করেন, সরকার তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেই প্রজ্ঞাপনে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়।   পুলিশ জানায়, এসব ভুয়া নথি তিনি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে ব্যবহার করছিলেন। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) পরিচয়ে তৈরি করা একটি জাল সিলও উদ্ধার করা হয়েছে।   ডিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের নকল লোগো ও প্যাড ব্যবহার করে আরিফ একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করেন। সেখানে তিনি নিজেকে ‘গুমের ভিকটিম পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।   এ ছাড়া ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর সদস্যসচিব পরিচয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০