সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

সম্পূর্ণ পোশাক খুলে আশপাশের যাত্রীদের সঙ্গে অশা লী ন আচরণ, নারী আ ট ক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ২০:৪০
মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাত্রীকে ঘিরে গোলযোগের অভিযোগ
মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাত্রীকে ঘিরে গোলযোগের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে এক নারী যাত্রীর পোশাক খুলে অশা লী ন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিমানটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই নারীকে আ ট ক করে। ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯-এ, যা বাল্টিমোর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাচ্ছিল।


প্রকাশিত এয়ারক্রাফট কমিউনিকেশনস অ্যাড্রেসিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম, সংক্ষেপে একার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় কেবিন ক্রুরা ককপিটে যাত্রীর আচরণ সম্পর্কে জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ নম্বর সারির ৯ডি আসনে থাকা ওই নারী সম্পূর্ণ পোশাক খুলে ফেলেন এবং আশপাশের যাত্রীদের সামনে অশা লী ন আচরণ করেন বলে ক্রুরা রিপোর্ট করেন।


কেবিন ক্রুর বার্তার পর বিষয়টি আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনস সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। তবে ফ্লাইটটি মাঝপথে অন্য কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ না করে নির্ধারিত গন্তব্য মিয়ামির দিকেই এগিয়ে যায়।


ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট ১৭৭৯ বাল্টিমোর-ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ৯টা ৯ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং রাত প্রায় ১১টা ২৩ মিনিটে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিমানটি প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছায়।


বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন। পরে ওই নারীকে বিমান থেকে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়। মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিস জানিয়েছে, উড়োজাহাজে একটি গোলযোগের ঘটনায় তাদের সদস্যরা সাড়া দেন এবং ঘটনাটি বিমানের ভেতরে সংঘটিত হয়েছে জানতে পেরে বিষয়টি এফবিআইকে জানানো হয়। ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে ওই নারীর নাম, বয়স এবং কেন তিনি এমন আচরণ করেছিলেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে ঘটনাটিকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা হলেও, প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হলো—ফ্লাইটে ওই নারীকে ঘিরে একটি গুরুতর আচরণগত গোলযোগের অভিযোগ ওঠে, বিমানটি মিয়ামিতে অবতরণ করে এবং পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কেন এমন আচরণ করেছিলেন বা তার পরবর্তী আইনি অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দাবি করা যাচ্ছে না।
 

সোর্স: ইউএসএ টুডে, মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিসের বক্তব্য এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
জেমস ওয়েহর ও অ্যালেক্সিস ‘লেক্সি’ ক্র্যামার ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনে ম্যাকলারেন দুর্ঘটনায় নিহত হন। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম দেখা করতে ফ্লোরিডা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, পরদিনই গাড়ি দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু

ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত গাড়িপ্রেমী জেমস ওয়েহর ও ফ্লোরিডার তরুণী অ্যালেক্সিস ‘লেক্সি’ ক্র্যামার দুর্ঘটনার আগে দিনটি একসঙ্গেই কাটিয়েছিলেন। পরিবার সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় এক মাস কথা বলার পর প্রথমবারের মতো দেখা করতে ফ্লোরিডা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী ক্র্যামার।   ২৭ বছর বয়সী ওয়েহর ছিলেন দক্ষিণ অরেঞ্জ কাউন্টির জনপ্রিয় গাড়ি প্রদর্শনী ‘সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা। ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৮ মিনিটের দিকে আরভাইনের কালভার ড্রাইভ ও ডিয়ারফিল্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে ২০১৯ সালের একটি ম্যাকলারেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা দিলে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। গাড়িটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা দুজনই মারা যান।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ম্যাকলারেনটি একটি লাল বাতিতে থেমে ছিল। সংকেত সবুজ হওয়ার পর গাড়িটি উত্তর দিকে দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করে। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রাস্তার পাশের কার্বে ধাক্কা খেয়ে একটি গাছে গিয়ে আঘাত করে। পরে গাড়িটি দুই ভাগে ভেঙে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি ঠিক কত গতিতে চলছিল এবং কে গাড়ি চালাচ্ছিল, তা পুলিশ এখনো জানায়নি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে আরভাইন পুলিশের মেজর অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম।   দুর্ঘটনার পর ওয়েহরের পরিবার ও তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। ওয়েহর সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফির সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে অরেঞ্জ কাউন্টির গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে পরিচিত ছিলেন। সান ক্লেমেন্টেতে আয়োজিত এই সাপ্তাহিক গাড়ি প্রদর্শনীতে প্রায়ই হাজারো গাড়িপ্রেমী ও বিভিন্ন ধরনের উচ্চক্ষমতার গাড়ি অংশ নিত।   এদিকে ক্র্যামারের পরিবারের এক সদস্য নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, ওয়েহর তার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথা বলতেন এবং প্রথমবার দেখা করার জন্য তাকে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় উড়িয়ে আনেন। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছানোর পর শনিবার দুজন পুরো দিন একসঙ্গে কাটান বলে পরিবারের সদস্যটি জানিয়েছেন।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়েহর ক্র্যামারকে বলেছিলেন যে তিনি তার স্ত্রী থেকে আলাদা হয়ে আছেন এবং তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে অরেঞ্জ কাউন্টির আদালতে তখনও বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েনি। পরিবারের একজন সদস্য ক্র্যামারকে বিষয়টি নিয়ে সতর্কও করেছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।   শনিবার সকালে ওয়েহর ও ক্র্যামার একসঙ্গে নাশতা করেন। পরে তারা নোবু রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান এবং এরপর পেনড্রি হোটেলে যান। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ক্র্যামার পরিবারের এক সদস্যকে নাশতার সময়ের একটি ছবি পাঠিয়ে লিখেছিলেন, ‘At cute breakfast place’ বা সুন্দর একটি নাশতার জায়গায় আছি।   পরিবারের সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিতে একজন পুরুষের পাশের অবয়ব দেখা যাচ্ছিল এবং তার হাতে থাকা ট্যাটুর সঙ্গে ওয়েহরের ট্যাটোর মিল ছিল। ক্র্যামার এর আগে কখনো ওয়েহরের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি। ইনস্টাগ্রামের বার্তার মাধ্যমে তাদের পরিচয় এবং প্রায় এক মাস ধরে যোগাযোগের পর এই প্রথম সাক্ষাৎ হয়।   ওয়েহরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু তথ্য সামনে এসেছে। পরিবারের একজন সদস্য দাবি করেছেন, ক্র্যামার জানতেন ওয়েহর বিবাহিত, তবে ওয়েহরের দেওয়া আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস করেছিলেন যে তার বিবাহিত সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি ওয়েহরের বক্তব্যকে বিশ্বাস করতে চেয়েছিলেন বলে ওই সদস্য জানিয়েছেন।   দুর্ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। আরভাইন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি একক গাড়ির দুর্ঘটনা এবং এ বিষয়ে যেকোনো তথ্য থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা দুজনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে পুলিশ প্রকাশ করেনি। পরে ওয়েহরের পরিবার ও তার গাড়ি সংগঠনের পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ক্র্যামারের পরিচয় তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও তা জানিয়েছে।   ওয়েহরের মৃত্যুতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার গাড়িপ্রেমী মহলে শোক নেমে এসেছে। গাড়ি প্রদর্শনী আয়োজনের পাশাপাশি তিনি গাড়ি সংস্কৃতি ও উচ্চক্ষমতার গাড়িকে ঘিরে একটি বড় সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিলেন। তার মৃত্যুর পর সহকর্মী ও পরিচিতদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ২১:২৫
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার সংখ্যা বাড়ছে

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আদালতে গেছে নিউইয়র্ক সিটি। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাত্রীকে ঘিরে গোলযোগের অভিযোগ

সম্পূর্ণ পোশাক খুলে আশপাশের যাত্রীদের সঙ্গে অশা লী ন আচরণ, নারী আ ট ক

চীনে সফরকালে পরিবারের সঙ্গে মার্কিন গবেষক মিন জিনের একটি পুরোনো ছবি
চীনে আমন্ত্রণ পেয়ে গেলেন মার্কিন গবেষক, এরপরই আ ট ক

চীনে তিন দিনের একটি কর্মশালায় অংশ নিতে গিয়ে আ ট ক হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক মিন জিন। চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলেছে। তবে তাঁর পরিবার ও মার্কিন সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ জুন চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মিয়ানমার থেকে চীনের কুনমিংয়ে পৌঁছান মিন জিন। বিমানবন্দরে নামার পরপরই তিনি পরিবারের সদস্যদের বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি কুনমিংয়ে পৌঁছেছেন। এরপরই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিন জিনকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এক চীনা অধ্যাপক। অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে একটি কর্মশালায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। পরিবারও এ সফর নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল না। কারণ এর আগেও তিনি একাধিকবার একাডেমিক কাজে চীন সফর করেছিলেন। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরেও চীনা সরকারের সমর্থনে আয়োজিত একটি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ৩ জুন দুপুরে কুনমিংয়ে পৌঁছানোর পর মিন জিন ওই অধ্যাপকসহ তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অধ্যাপককে পাঠানো এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘ল্যান্ডেড, ব্রো’। এরপর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে অধ্যাপক তাঁকে একাধিকবার ফোন করেন এবং বার্তা পাঠান। সন্ধ্যার দিকে মিন জিনের পরিবারও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তিনি যে হোটেল বুক করেছিলেন, সেখানেও তিনি ওঠেননি। তাঁর ফোনের অবস্থান পরে কুনমিং বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে আনিংয়ের লিয়ানরান এলাকায় দেখা যায়। এরপর ফোনটির অবস্থান শনাক্ত করার তথ্যও আর পাওয়া যায়নি। পরদিন মিন জিনের স্ত্রী সিলভিয়া জিন একটি চীনা নম্বর থেকে ফোন পান। ফোনে তিনি ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক তদন্ত’ এবং চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য উল্লেখ শুনতে পান। তিনি মিন জিন আ ট ক আছেন কি না জানতে চাইলে ফোনটি কেটে দেওয়া হয়। ৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াংঝু কনস্যুলেট থেকে পরিবারকে জানানো হয়, মিন জিনকে চীনের ইউনান প্রদেশে আ ট ক করা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, তিনি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছেন। বর্তমানে মিন জিনকে চীনের ‘নির্দিষ্ট স্থানে আবাসিক নজরদারি’ ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রে প্তার বা অভিযুক্ত করার আগেই গোপন কোনো স্থানে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। চীনের আইনে এমন ব্যবস্থায় একজনকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত আ ট ক রাখা সম্ভব। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মিন জিনকে একটি ছোট জানালাবিহীন কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা আলো জ্বলে এবং সব সময় এক বা দুজন প্রহরী তাঁকে নজরদারিতে রাখেন। তিনি বাইরে যেতে বা সূর্যের আলো পেতে পারেন না। প্রতিদিন প্রায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, কখনো এর চেয়েও বেশি সময় ধরে। গত তিন মাসে মিন জিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের কর্মকর্তার সঙ্গে তিনবার দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিবার প্রায় ৩০ মিনিট করে হোটেলের একটি কনফারেন্স রুমে তাঁদের দেখা হয়েছে এবং চীনা কর্মকর্তারা পুরো সময় উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিন জিনের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকলেও হাঁটুর ব্যথা রয়েছে। মিন জিন মিয়ানমারে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নাগরিকত্ব পান। তিনি মিয়ানমারের গণতন্ত্রায়ন ও জাতিগত সংঘাত নিয়ে গবেষণা করেছেন। ১৯৮৮ সালে মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুদানও ছিল বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। মার্কিন কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত নন, ঠিক কোন কারণে মিন জিনকে আ ট ক করা হয়েছে। তবে তাঁর সাবেক ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত একাডেমিক কাজ চীনা নিরাপত্তা সংস্থার নজরে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মিন জিনকে অন্যায়ভাবে আ ট ক করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে। এক মুখপাত্র বলেছেন, চীনা সরকারি সংস্থাগুলো মিন জিনকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়ে পরে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে তাঁকে ফাঁদে ফেলেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেছেন, মিন জিন ‘ফৌজদারি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা’র আওতায় রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাঁর ‘বৈধ অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়েছে’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। চীনে বর্তমানে মিন জিনসহ দুই মার্কিন নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অন্যায়ভাবে আ ট ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যজন হলেন মার্কিন ভূকম্পবিদ ইউলিন চেন, যিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চীনে আ ট ক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে, যা তাঁর পরিবার ও মার্কিন সরকার অস্বীকার করেছে। মিন জিনের পরিবার আশা করছে, চলতি মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে তাঁর মুক্তির বিষয়টি উঠে আসবে। এর আগে ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পর চীন যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্য থাকা চীনা যাজক এজরা জিনকে মুক্তি দিয়েছিল। মিন জিনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের আরেকটি স্পর্শকাতর দিক সামনে এনেছে। একদিকে চীন বিদেশি বিনিয়োগকারী, গবেষক ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশটির কঠোর ও অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট নিরাপত্তা আইন নিয়ে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের চীনে ভ্রমণ নিয়ে আরও কঠোর সতর্কতা জারি করা কিংবা চীনকে ‘অন্যায়ভাবে আ ট ক করার রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ওয়াশিংটনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা কঠোর অবস্থান নেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৯:৪৭
এআইয়ের ঝুঁকিকে ‘হোক্স’ বললেন ট্রাম্প

এআই নিয়ে সতর্কবার্তাকে ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, ডেটা সেন্টার নিয়েও ক্ষোভ

আটলান্টায় ভাড়াটিয়াদের জন্য ৫০০ ডলারের সুদমুক্ত ঋণ কর্মসূচি

ভাড়া দিতে আটলান্টায় মিলবে ৫০০ ডলারের সুদমুক্ত ঋণ, নেই ক্রেডিট চেকও

আইসিই কর্মকর্তার পরিবারকে হু ম কি দাতা হোসে

আইসিই কর্মকর্তার পরিবারকে হু মকির অভিযোগে গুয়াতেমালার নাগরিক আ টক

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভিসা নীতির প্রতীকী চিত্র
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ চার বছরে সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার আগেই আটকে দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলার চতুর্থ এ বিষয়ে একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা নতুন নিয়মটি আপাতত বাস্তবায়ন করা যাবে না।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ ভিসা এবং নির্দিষ্ট বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের জে ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়সীমা চার বছরে সীমিত করার কথা ছিল। চার বছরের বেশি সময় পড়াশোনা বা গবেষণা চালিয়ে যেতে হলে তাদের আলাদাভাবে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে অনুমোদন নিতে হতো। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ‘স্ট্যাটাসের মেয়াদ’ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী বা গবেষক তাদের অনুমোদিত শিক্ষাগত বা গবেষণা কার্যক্রম চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন, যতক্ষণ তারা ভিসার শর্ত মেনে চলেন। এই নীতি কয়েক দশক ধরে চালু রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছে, এর সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে এবং এতে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধের বিষয়টিও নতুন নিয়মের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে প্রশাসন। তবে বিচারক সেলার প্রশাসনের যুক্তিকে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করেননি। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএইচএস নতুন নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ এবং অপেক্ষাকৃত কম কঠোর বিকল্পগুলো যথেষ্টভাবে বিবেচনা করেনি। এই মামলায় একাধিক উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংগঠন নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভিসার মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদি ডিগ্রি ও গবেষণা কার্যক্রমে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা ছিল। কারণ অনেক গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা কর্মসূচি চার বছরের বেশি সময় ধরে চলে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জীবনবিজ্ঞান খাতে আন্তর্জাতিক গবেষকদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য এবং অনেক জৈবচিকিৎসাবিষয়ক পিএইচডি সম্পন্ন করতে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগে। বিচারকের আদেশে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান ‘স্ট্যাটাসের মেয়াদ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষক যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের অবদান বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রযুক্তি এবং মার্কিন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন নিয়মকে স্থায়ীভাবে বাতিল করেনি। এটি একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়মটি কার্যকর করা বন্ধ থাকবে। পরবর্তী আদালতীয় কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে নতুন ভিসা নীতির চূড়ান্ত পরিণতি। এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য চার বছরের নতুন সীমা কার্যকর হচ্ছে না। নতুন নিয়ম শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৮:৪৭
বিদেশে সামরিক অভিযানে মার্কিন চার সেনা

ইরানসহ বিদেশে অভিযানে ৪০৬ মার্কিন সেনা আ হ ত, ৪ জন সেনা নি হ তের তথ্য প্রকাশ পেন্টাগনের

বাংলাদেশের ফ্লাইটে কম ভাড়া পেতে জেনে নিন বুকিংয়ের কৌশল

কম দামে বিমানের টিকিট পেতে কখন কাটবেন? যে কৌশলে সাশ্রয় হতে পারে অনেক টাকা

‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

গ্রিন কার্ড নিয়ে উদ্বেগ নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

0 Comments