আনোয়ার ইব্রাহিম

মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে ইসরায়েলের ওপর ৫২ বছরের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ঘোষণা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন হুমকিকে ‘বুড়ো আঙুল’, ৫২ বছরের নিষেধাজ্ঞা বহাল মালয়েশিয়ায়

প্রায় ৫২ বছর ধরে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে মালয়েশিয়া। ১৯৭৪ সাল থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির এবং ইসরায়েলি কোনও ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না দেশটিতে।     সম্প্রতি এই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে মালয়েশিয়া সরকারের ওপর চাপ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। আটজন মার্কিন আইনপ্রণেতা এজন্য এক হুমকিও দিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে কুয়ালালামপুর ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর তার দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে সামরিক প্রশিক্ষণ তহবিল স্থগিত করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র।   কিন্তু, মার্কিন সেই হুমকিকে ‘বুড়ো আঙুল’ দেখিয়ে দিয়েছেন মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেছেন, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নিজের সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করছে মালয়েশিয়া। ইসরায়েলি কোনও নাগরিককে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সেইসঙ্গে মালয়েশিয়ায় যেসব ইসরায়েলি নাগরিক বাস করছেন, তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খবর দ্য সাউথ চায়না পোস্টের।    মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দাবি, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ইসরায়েলি নাগরিক, যাদের মধ্যে দ্বৈত নাগরিকরাও রয়েছেন, তাদের নির্বাসিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকার।   বুধবার (২২ জুলাই) সেরেম্বানে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমাদের মতে, এই নীতি মালয়েশিয়া কয়েক দশক ধরে গ্রহণ করে আসছে। আমরা এখানে যেকোনও ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতির বিরুদ্ধে; ইহুদিদের বিরুদ্ধে নই। কারণ, ইসরায়েলি নাগরিকরা ফিলিস্তিন ও গাজায় হত্যা, অপরাধ এবং ক্রমাগত নিপীড়ন ও উপনিবেশায়নে জড়িত।

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মালয়েশিয়ায় ইসরায়েলি শনাক্ত হলেই দেশ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

মালয়েশিয়ার ভূখণ্ডে কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কঠোর অবস্থানের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার যে অনড় নীতি মালয়েশিয়ার রয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাতে কোনোভাবেই আপস করা হবে না।   সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে যে, দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট এবং নাগরিকত্বের নথি ব্যবহার করে কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক জোহর রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।   প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিশ্চিত করেছেন যে, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। যদি কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের অনুপ্রবেশের সত্যতা মেলে, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বহিষ্কার করা হবে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জামব্রি আবদুল কাদির শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।   এদিকে জোহর রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে অবস্থিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক আবাসিক কমিউনিটিকে ঘিরে সন্দেহ ঘনীভূত হওয়ায় সেখানেও ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। জোহরের মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজির আহ্বানে গত ১৪ জুলাই মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম), রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।   জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসনের প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। মাসিক দেড় হাজার ডলার ফি দিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি নাগরিকদের গোপন সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।   মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে বিদেশিদের কাছে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া গেলেও তারা ইমিগ্রেশন আইন (১৯৫৯/৬৩) পুরোপুরি মেনে চলছেন কি না, তা নিশ্চিতে নিবিড় তদন্ত চলছে। পরিচয় গোপন, ভ্রমণ নথির জালিয়াতি কিংবা অভিবাসন সুবিধার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভিবাসন আইনের যেকোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে সতর্ক করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তারেক রহমান। ছবি: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়
শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দিতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার এবং আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর বিষয়ও উত্থাপন করেছেন।   সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’য় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য কল্যাণকর। আমি মান্যবর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি যেন আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা হয়।”   তারেক রহমান বলেন, বৈঠকে অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলোও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং সাশ্রয়ী। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কর্মীদের ব্যয়ও হ্রাস পাবে। এ বিষয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।   বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগসংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এসব দলিল বিনিময় করেন।   পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।   তিনি বলেন, “আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দ্বিপাক্ষিক পরামর্শসহ বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছি।”   তারেক রহমান জানান, আলোচনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের খাত স্থান পেয়েছে।   দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে। বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।   রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি শক্তিশালী ম্যান্ডেট লাভ করেছে। তিনি বলেন, “জনগণের বিপুল সমর্থনে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি। আমাদের এখনকার অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।”   বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।   তারেক রহমান বলেন, বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ চায় এবং ‘আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আরসিইপিতে যোগ দিতে আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।   উভয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারেক রহমান বলেন, “আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় আমি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।”   দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী যে আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। আমরা আঞ্চলিক শান্তি এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করতে উন্মুখ।”   বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছিল এবং দুই দেশের শ্রম সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এ ছাড়া ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছিল এবং সহযোগিতার পরিধি বাড়িয়েছিল।   তারেক রহমান জানান, ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যে কয়েকটি ফোনকল তিনি পেয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ফোন।   তিনি বলেন, “তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে এখানে আসতে পেরে আমি ও আমার স্ত্রী অত্যন্ত আনন্দিত।”   প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশটির সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।   দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।   সংবাদ সম্মেলনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডা. জোবায়দা রহমান এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি বাসভবন ‘সেরি পারদানা কমপ্লেক্স’-এ রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। সেখানে মালয়েশিয়ার শিল্পীরা বাংলা ও মালয় ভাষায় গানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।   এর আগে সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ‘পারদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল তাকে স্বাগত জানান। মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।   পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ মন্ত্রিসভার সদস্য ও কর্মকর্তাদের একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রোববার রাতে কুয়ালালামপুর পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রধান কার্যালয় কমপ্লেক্স।
জ্বালানি সাশ্রয়ে মালয়েশিয়ায় কঠোর পদক্ষেপ: এসি ২৪ ডিগ্রির নিচে নয়, চালু হচ্ছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে মালয়েশিয়া সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি অফিসগুলোতে এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যাবে না। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং জ্বালানি ও পানি রূপান্তর মন্ত্রী দাতুক সেরি ফাদিল্লাহ ইউসুফ এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন। এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি কর্মচারীদের স্থানীয় আবহাওয়ার উপযোগী পোশাক যেমন বাটিক বা করপোরেট শার্ট পরার আহ্বান জানানো হয়েছে।   জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সরকারি খাত ও সরকার-সংযুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (বাসা থেকে কাজ) নীতি চালু করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো যানবাহনের জ্বালানি তেলের খরচ কমানো এবং অফিস ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত রাখা। বিশ্লেষকদের মতে, কর্মীদের যাতায়াত কমলে সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   উপ-প্রধানমন্ত্রী ফাদিল্লাহ ইউসুফ জানান, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উন্মুক্ত অর্থনীতির দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া এই বৈশ্বিক সংকটের বাইরে নয়। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় সরকার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে।   সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপগুলো হবে সুসমন্বিত ও বাস্তবমুখী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি দপ্তরের এই উদ্যোগ বেসরকারি খাতকেও অনুপ্রাণিত করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে মালয়েশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম/ফাইল ছবি
তেলের দাম নিয়ে রাজনীতি বন্ধের আহ্বান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কিছু রাজনৈতিক মহলের নেতিবাচক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শুক্রবার (২০ মার্চ) পারমাতাং পাও-এ এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং এটি সম্পূর্ণ বৈশ্বিক সংঘাতের ফল। অথচ অনেকে প্রকৃত কারণ না বুঝেই সরকারকে দোষারোপ করছেন, যা মোটেও দায়িত্বশীল আচরণ নয়।   প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উল্লেখ করেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান হামলা-পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আনোয়ার জানান, বিশ্বের অনেক দেশ দাম বাড়াতে বাধ্য হলেও মালয়েশিয়া সরকার জনগণের স্বার্থে এখনো তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি 'পেট্রোনাস'-এর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী মে মাস পর্যন্ত দেশে জ্বালানি মজুত স্থিতিশীল থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।   আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনে মালয়েশিয়া কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, মালয়েশিয়া একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে বিশ্বশান্তির পক্ষে কাজ করে যাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাবাস্সুম মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০