সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আমেরিকার ২৫০ বছর

ক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি নতুন ১ ডলারের মুদ্রার এক পাশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, অন্য পাশে প্রেসিডেন্সিয়াল সিল। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের মুখযুক্ত ১ ডলারের মুদ্রা বিক্রি শুরু, ২৫টির রোলের দাম ৬১ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত নতুন ১ ডলারের মুদ্রা বিক্রি শুরু করেছে দেশটির টাকশাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল বা ইউএস মিন্টের মাধ্যমে সংগ্রাহকদের জন্য মুদ্রাটির রোল ও ব্যাগ বিক্রি শুরু হয়।   নতুন এই মুদ্রার এক পাশে রয়েছে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি। অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি প্রতীক, প্রেসিডেন্সিয়াল সিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিশেষ মাইলফলক উদযাপনের অংশ হিসেবে মুদ্রাটি তৈরি করা হলেও জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় ব্যবহারের বিষয়টি এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম ৬১ ডলার। অর্থাৎ প্রতিটি মুদ্রার অভিহিত মূল্য ১ ডলার হলেও সংগ্রাহকদের জন্য বিক্রি করা রোলে প্রতি মুদ্রার দাম পড়ছে ২ ডলার ৪৪ সেন্ট। এ ছাড়া ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট।   মুদ্রাটির সামনের অংশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির সঙ্গে ‘লিবার্টি’, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ এবং ‘১৭৭৬-২০২৬’ লেখা রয়েছে। নকশাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টাকশালের প্রধান খোদাইশিল্পী জোসেফ মেনা। এর জন্য ট্রাম্পের একটি সরকারি ছবি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। মুদ্রার অপর পাশে রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল সিল। সেখানে ডানা মেলা ঈগলের এক পায়ে জলপাইয়ের শাখা এবং অন্য পায়ে তীরের গুচ্ছ রয়েছে। ঈগলের ঠোঁটে থাকা ফিতায় লেখা রয়েছে ‘ই প্লুরিবাস উনুম’, যার অর্থ ‘অনেকের মধ্য থেকে এক’। ঢালের অংশে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি বোঝাতে ‘২৫০’ সংখ্যাটিও রাখা হয়েছে।   বিশেষভাবে সংগ্রাহকদের নজর কাড়তে পারে এমন আরও একটি বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে মুদ্রাগুলোতে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া টাকশালে ২ লাখ ৫০ হাজার মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল, যেগুলোতে বিশেষ ‘জুলাই ৪’ চিহ্ন রয়েছে। এসব মুদ্রা আলাদাভাবে বিক্রি না করে ২৫টি মুদ্রার রোল ও ১০০টি মুদ্রার ব্যাগের মধ্যে এলোমেলোভাবে রাখা হয়েছে। ফলে কোনো রোল বা ব্যাগে এমন বিশেষ মুদ্রা পাওয়া যেতে পারে। নতুন মুদ্রাগুলো ফিলাডেলফিয়া টাকশালে তৈরি হয়েছে। এগুলো দেখতে স্বাভাবিক প্রচলিত মুদ্রার মতো হলেও এখনো সাধারণ বাজারে প্রচলনের জন্য ছাড়া হয়নি। তবে ইউএস মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, এগুলো বৈধ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। মুদ্রাটির ধাতব গঠনে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ তামা, ৬ শতাংশ দস্তা, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ এবং ২ শতাংশ নিকেল রয়েছে। ওজন ৮ দশমিক ১০ গ্রাম এবং ব্যাস ২৬ দশমিক ৪৯ মিলিমিটার।   প্রথম ২৪ ঘণ্টায় একজন ক্রেতা বা একটি পরিবার সর্বোচ্চ দুটি অর্ডার দিতে পারবে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, এই সীমা বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পূর্বাঞ্চলীয় সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর সীমাটি তুলে নেওয়া হবে। মুদ্রাটিকে ঘিরে বিতর্কের মূল কারণ এর নকশায় একজন জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি সাধারণ মুদ্রায় ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিশেষ ধরনের স্মারক বা বিশেষ মুদ্রা তৈরির ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনুমোদন দিতে পারেন। নতুন মুদ্রাটি সেই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় তৈরি হয়েছে।   মুদ্রাটির নকশা চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের চারুকলা কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। কমিশনের সদস্যদের ট্রাম্প নিয়োগ করেছিলেন। এর আগে ট্রাম্প নিজেই মুদ্রায় নিজের ছবি ব্যবহারের ধারণাটিকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করলেও একই সঙ্গে এ নিয়ে সম্মানিত বোধ করার কথা জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় তাঁর নাম বা পরিচিতি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন ১ ডলারের মুদ্রাটিও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের মধ্যে এসেছে। তবে ইউএস মিন্ট মুদ্রাটিকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি বা সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল উদযাপনের অংশ হিসেবেই তুলে ধরছে।   ইউএস মিন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই বিশেষ মুদ্রা আমেরিকার আড়াই শতকের ইতিহাসকে স্মরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি একই সঙ্গে সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ সংস্করণ এবং ভবিষ্যতে প্রচলিত মুদ্রা হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।   সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টাম্পার রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তিতে টাম্পায় ২৫০ টি গাছ লাগাল ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আতশবাজি কিংবা শোভাযাত্রার বদলে পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে ফ্লোরিডার টাম্পার ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়। শহরের রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগিয়ে ‘আমেরিকা ২৫০ স্মারক বৃক্ষবাগান’ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।   শনিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে টাম্পার মেয়র জেন ক্যাস্টরও অংশ নেন। প্রায় ৫০ জন কমিউনিটি সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। টাম্পা শহরের তথ্য ও ইসমাইলি কাউন্সিল ফর ফ্লোরিডার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ নিউজ এ খবর জানিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে ৪ জুলাই বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আতশবাজি ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে টাম্পার ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায় সেই উদযাপনকে একটু ভিন্নভাবে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া, যার সুফল শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতের টাম্পাবাসীরাও ভোগ করতে পারবেন। রওলেট পার্কে নতুন করে লাগানো ২৫০টি গাছকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে এই স্মারক বৃক্ষবাগান। পার্কটি বুশ গার্ডেনসের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত।   ইসমাইলি কাউন্সিল ফর ফ্লোরিডার যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততা বিভাগের প্রতিনিধি ফাহিম হেমানি বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সেবা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ। একই সঙ্গে পরিবেশের যত্ন নেওয়াকেও তারা গুরুত্ব দেন। তাদের বিশ্বাস, মানুষ যে পৃথিবী পেয়েছে, তার চেয়ে আরও ভালো অবস্থায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেটি রেখে যাওয়া উচিত।   তিনি বলেন, টাম্পায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভবিষ্যতের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতীক। অনুষ্ঠানে স্মারক ফলক উন্মোচন করা হয়। সেখানে উপস্থিত কমিউনিটির সদস্যরা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিই উদযাপন করেননি, বরং স্থানীয় পরিবেশ ও নগর জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজেদের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। আয়োজকদের মতে, এখন গাছগুলোর অনেকগুলোই ছোট। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়বে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হলে পার্কের পরিবেশে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   হেমানি বলেন, ভবিষ্যতে এসব গাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের ছায়া দেবে, পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করবে এবং পানির মান উন্নত রাখতেও ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের জন্য খেলাধুলা ও সময় কাটানোর আরও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের এই উদ্যোগে জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক দায়িত্বের বিষয়টিও সামনে এসেছে। একটি জাতীয় মাইলফলককে কেন্দ্র করে এমন দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা টাম্পা শহরের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছে।   টাম্পা শহরে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। শহরটির সরকারি নথিতেও মুসলিম সম্প্রদায়ের অবদান ও বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৫ সালে টাম্পা সিটি কাউন্সিল মুসলিম হেরিটেজ মাস পালনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল, যেখানে শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে মুসলিম-আমেরিকানদের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।   ‘আমেরিকা ২৫০ স্মারক বৃক্ষবাগান’ সেই বৃহত্তর স্থানীয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আতশবাজি বা একদিনের আয়োজনের পরিবর্তে এমন একটি সম্পদ তৈরি করা হয়েছে, যা বছরের পর বছর ধরে টাম্পার বাসিন্দাদের কাজে আসবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
আমেরিকার ২৫০ বছর উদযাপনের সূচনায় ট্রাম্পের ভাষণ, ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সাউথ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি স্বাধীনতার ইতিহাস, জাতীয় ঐক্য, আমেরিকার ভবিষ্যৎ এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।   ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের স্মরণ করেন এবং বলেন, আড়াই শতকের পথচলায় দেশটি বহু সংকট অতিক্রম করে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা ও সংবিধানের মূল্যবোধ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।   ভাষণের একপর্যায়ে ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকার সামনে নতুন ধরনের আদর্শিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, দেশে আবারও একটি ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা স্বাধীনতা, জাতীয় পরিচয় এবং আমেরিকার ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।   ট্রাম্প তার বক্তব্যে সরাসরি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করলেও বামপন্থী রাজনৈতিক ধারা ও নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন নেতৃত্বের ওপর, যারা দেশের সংবিধান, স্বাধীনতা এবং জাতীয় মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।   তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ জানিয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এজন্য আগামী এক বছরজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো মানুষের সামনে ট্রাম্প আমেরিকার সামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাবেক যোদ্ধা এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় তাদের ভূমিকা জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।   মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বর্ণিল আতশবাজির আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী এক বছর দেশজুড়ে ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষামূলক কর্মসূচি, স্মারক প্রকাশ এবং নাগরিক অংশগ্রহণমূলক নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও জাতীয় ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা।   ট্রাম্পের ভাষণের পর তা দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সমর্থকেরা তার বক্তব্যকে আমেরিকার স্বাধীনতা, জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, জাতীয় উদযাপনের মতো একটি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত।   এদিকে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ধারাবাহিক অনুষ্ঠান চলবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক আয়োজন, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং স্মারক অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   মাউন্ট রাশমোরের এই ভাষণের মধ্য দিয়েই আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতা উদযাপনের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, জাতীয় পরিচয় এবং আদর্শিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Unknown জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০