- প্রচ্ছদ
- Topic
এআই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করলে দেশটির জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রককে প্রশ্ন করেছিলেন বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে মাদুরোকে আটক করার প্রায় এক মাস আগে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে তিনি গ্রকের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তর করেন। এর মধ্যে ছিল তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি। একপর্যায়ে ট্রাম্প জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র যদি মাদুরোকে আটক করে, তাহলে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ কীভাবে বিষয়টি গ্রহণ করবে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রক মাদুরোকে অত্যন্ত অজনপ্রিয় ও দমনমূলক শাসক হিসেবে বর্ণনা করে এবং ধারণা দেয় যে অনেক ভেনেজুয়েলান তাঁর পতনকে স্বাগত জানাতে পারেন। এর প্রায় এক মাস পর, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। মার্কিন কর্মকর্তারা ওই অভিযানের আগে কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি ও মহড়া চালানোর কথা জানিয়েছিলেন। অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গায় মাদুরোবিরোধী মানুষের আনন্দ প্রকাশের খবরও আসে। টাইমের সূত্রের দাবি, এ ঘটনা ট্রাম্পকে গ্রকের পূর্বাভাস সম্পর্কে আরও মুগ্ধ করে এবং তিনি চ্যাটবটটির সক্ষমতাকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করেন। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গ্রক সরাসরি ট্রাম্পকে মাদুরোকে আটক করার পরামর্শ দিয়েছিল—এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মূলত জানতে চেয়েছিলেন সম্ভাব্য আটকের পর ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে। অর্থাৎ, “এআইয়ের পরামর্শ নিয়ে ট্রাম্প মাদুরোকে আটক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন”—এমন সরল দাবি এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। মাদুরোকে আটক করার অভিযানটি যে কয়েক মাসের সামরিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ফল ছিল, তা ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামরিক পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্রনীতিতে বাণিজ্যিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রশ্ন। বিশেষ করে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানের আগে সম্ভাব্য জনমত সম্পর্কে একটি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা করেছেন—এমন তথ্য এআইয়ের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসছে। ২০২৭ সাল থেকে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ঘরে বসেই প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এ জন্য অনলাইনভিত্তিক নতুন একটি এআই সেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন সরকারি ওয়েবসাইট America.gov উদ্বোধনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাসপোর্ট সেবাকে আরও সহজ ও আধুনিক করার এই পরিকল্পনার কথা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের বর্তমান আবেদন প্রক্রিয়ার তুলনায় আরও সুবিধাজনকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নতুন ব্যবস্থাটির একটি প্রদর্শনীও দেখানো হয়। সেখানে একজন ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটের সার্চ বক্সে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম জানতে চাইলে প্ল্যাটফর্মটি প্রয়োজনীয় ধাপ, কী কী নথি লাগবে এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়। পরিকল্পিত পাসপোর্ট সেবায় আবেদনকারীদের জন্য আরও কিছু ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে নিজের ছবি তোলার প্রক্রিয়া এবং পাসপোর্টে ছবিটি কেমন দেখাবে, তার নমুনা দেখার সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি অনলাইনে পাসপোর্টের ফি পরিশোধের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে America.gov উদ্বোধন করেন। সরকারি এই প্ল্যাটফর্মটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি তথ্য ও সেবা সম্পর্কে সাধারণ ভাষায় প্রশ্নের উত্তর এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটিতে সরকারি ফরম পূরণ, বিভিন্ন সেবার জন্য আবেদন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণের মতো সুবিধাও যুক্ত করা হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্ক পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অনুমোদিত পাসপোর্ট গ্রহণকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে হয়। সেখানে নাগরিকত্বের প্রমাণ, পরিচয়পত্র, ছবি এবং নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী নাগরিকদের জন্য অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের সুবিধা ইতোমধ্যেই রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার বিশেষত্ব হলো, প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদনকারীদেরও অনলাইন প্রক্রিয়ার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনকারীদের বর্তমান সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে আসতে পারে। তবে পুরো সেবাটি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং কারা এর আওতায় থাকবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত চূড়ান্ত নির্দেশনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরার ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ আলোচিত এক ঘটনা। এবার কোনো মানুষ নয়, মোটরসাইকেলে বহন করা গিটারকেই হেলমেটবিহীন যাত্রী ভেবে ট্রাফিক মামলা করেছে ক্যামেরা। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বেঙ্গালুরুর হেব্বাল এলাকার বাসিন্দা সৌভিক দত্ত তাঁর স্ত্রীর বৈদ্যুতিক স্কুটার নিয়ে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল এবং তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। তবে পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। পরে স্কুটারের নিবন্ধিত মালিক তাঁর স্ত্রী একটি ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালান পান। অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, স্কুটারে থাকা পিলিয়ন যাত্রী হেলমেট পরেননি। কিন্তু চালানের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। পিঠে বাঁধা গিটারকেই ক্যামেরা সম্ভবত দ্বিতীয় আরোহী হিসেবে শনাক্ত করেছিল। সৌভিক দত্ত বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন। তিনি বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে চালানটি বাতিল করার অনুরোধ জানান। তাঁর পোস্টে চালানের নোটিশ নম্বর 86202541 উল্লেখ ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে ভুল শনাক্তকরণ সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট ই-মেইলে যোগাযোগ করতে বলে। পরবর্তী এক আপডেটে দত্ত জানান, চালানটি বাতিল করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের Intelligent Traffic Enforcement Management System (ITEMS)-এ স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ এবং ট্রাফিক-ভায়োলেশন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাটিতে ২৫০টি ANPR ক্যামেরা এবং ৮০টি ভায়োলেশন-এভিডেন্স ক্যামেরা রয়েছে, যা শহরের ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক জংশনে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি হেলমেট না পরা, অতিরিক্ত আরোহী, লাল বাতি অমান্য, স্টপলাইন অতিক্রম, অতিরিক্ত গতি, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক লঙ্ঘন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তবে গিটারকে যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করার ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম সব পরিস্থিতি শতভাগ নির্ভুলভাবে বুঝতে পারে না। একটি প্রতিবেদনে বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এ ধরনের ভুল শনাক্তকরণ মাঝে মাঝে হতে পারে এবং অভিযোগ করা হলে তা যাচাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থায় মানবিক যাচাই ও ভুল শনাক্তকরণ সংশোধনের ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
হেলমেট পরে একাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ভারতের বেঙ্গালুরুর এক যুবক। কিন্তু পরদিন তার স্ত্রীর মোবাইলে আসে ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালানের বার্তা। অভিযোগ, মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা যাত্রী হেলমেট পরেননি। চালানের ছবি দেখেই চমকে ওঠেন যুবকটি। কারণ, তার মোটরসাইকেলে কোনো যাত্রীই ছিলেন না—পেছনে বাঁধা ছিল একটি গিটার। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর। সৌভিক দত্ত নামে ওই যুবক গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার স্ত্রীর ই-স্কুটার নিয়ে হেব্বাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল এবং তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। তবে পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীর মোবাইলে একটি ই-চালানের বার্তা আসে। সেখানে ‘হেলমেট ছাড়া পিলিয়ন রাইডিং’-এর অভিযোগে ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়। চালানের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারের পেছনে কোনো মানুষ নেই। বরং সৌভিকের পিঠে থাকা গিটারটিই ক্যামেরার নজরে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা গিটারটিকে পেছনে থাকা একজন যাত্রী হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করেছে। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন সৌভিক। বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং তার পিঠে ছিল একটি গিটার। একই সঙ্গে তিনি ভুল চালানটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পোস্টে তিনি চালানের নোটিশ নম্বর ৮৬২০২৫৪১ উল্লেখ করেন। সৌভিকের পোস্ট নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ তাকে বিষয়টি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলে। পাশাপাশি ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর এবং নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘটনাটি এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থার ভুল শনাক্তকরণের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, প্রযুক্তির এমন ভুলের সম্ভাবনাও রয়েছে। একটি গিটারকে যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করার এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জরিমানা বা চালানের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রযুক্তির শনাক্তকরণ সঠিক কি না, তা যাচাই করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই প্রযুক্তি কোনো এলাকায় গ্রাহকরা একটি খাবারের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেস্টুরেন্টের জন্য দামের সুপারিশ দিচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকডোনাল্ডসের এই প্রাইসিং ইঞ্জিন প্রতিদিনের লাখ লাখ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেস্টুরেন্ট ও মেনু আইটেমের জন্য একটি ‘সেরা’ বা উপযুক্ত দাম নির্ধারণের সুপারিশ তৈরি করে। এর মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ, স্থানীয় বাজার এবং আশপাশের প্রতিদ্বন্দ্বী রেস্টুরেন্টের দামও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর ফলে একই খাবারের দাম কাছাকাছি দুটি রেস্টুরেন্টেও আলাদা হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে রয়টার্সের যাচাইয়ে দেখা গেছে, একটি ম্যাকডোনাল্ডসের অ্যাপে বিগ ম্যাকের দাম ছিল ৫ দশমিক ৬৯ ডলার। মাত্র দুই মাইল দূরের আরেকটি রেস্টুরেন্টে একই বার্গারের দাম ছিল ৬ দশমিক ৮৯ ডলার। তবে ওই নির্দিষ্ট দামের পার্থ্যকটি এআইয়ের সুপারিশের কারণেই হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, এআই কোনো খাবারের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করে না। প্রাইসিং টুল মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য সুপারিশ দেয় এবং শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদেরই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নয়; বরং রেস্টুরেন্ট মালিকদের তথ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি। তবে রয়টার্সকে পাঁচজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক জানিয়েছেন, তারা এসব এআইভিত্তিক প্রাইসিং টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানির চাপ অনুভব করেছেন। কোম্পানির নথিতে এমন ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে, যেখানে সুপারিশ করা দামের সঙ্গে কোনো রেস্টুরেন্টের প্রকৃত দামের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা আইন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাকডোনাল্ডসের প্রাইসিং পোর্টালের আইনি শর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে যে তারা একে অপরের প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ফলে একই প্রযুক্তির মাধ্যমে দামের বিষয়ে সমন্বয় হলে অ্যান্টিট্রাস্ট বা প্রতিযোগিতা আইনের বিষয় সামনে আসতে পারে। এদিকে বিগ ম্যাকের দাম ১৮ ডলার পর্যন্ত ওঠার একটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। কানেকটিকাটের এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের মামলায় দাবি করা হয়, ২০২৩ সালে প্রাইসিং টুল তার রেস্টুরেন্টে বিগ ম্যাক মিলের দাম প্রায় ১৮ ডলার রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। ম্যাকডোনাল্ডস ওই মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ম্যাকডোনাল্ডসের দাবি, তাদের লক্ষ্য শুধু দাম বাড়ানো নয়। বরং মূল্যস্ফীতির সময়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে তুলনামূলক কম দামের খাবার ও অফার চালুর বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নির্দেশনা দিচ্ছে। তবে বাড়তে থাকা শ্রম, ভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের কারণে কিছু রেস্টুরেন্ট মালিক এসব দামের সুপারিশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এআইভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—একই খাবারের দাম কাছাকাছি দুটি রেস্টুরেন্টে কেন এতটা আলাদা হবে? ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত এখনো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের হাতেই রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কোনো ‘ভুয়া খবর’ বা ‘ফেক নিউজ’ নয়; বরং এসব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও। সোমবার চার দিনের ফ্রান্স সফর শেষে রোমে ফেরার পথে বিমানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কীভাবে এআইয়ের বিপর্যয়কর ঝুঁকি থেকে মানবতাকে রক্ষা করা যায় এবং এ বিষয়ে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে পোপ লিও এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময়ে এই সতর্কবার্তা দিলেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের বিপদকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত ইতিহাসের প্রথম পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিও তাঁর ১৬ মাসের মেয়াদে শুরু থেকেই এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করে আসছেন। এমনকি তিনি তাঁর প্রথম ‘এনসাইক্লিকাল’ বা পোপের আনুষ্ঠানিক পত্রটিও এআই এবং এর প্রভাব থেকে মানবতাকে রক্ষার ওপর উৎসর্গ করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে পোপ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদেরও তীব্র সমালোচনা করেন, যারা এআই প্রযুক্তির ওপর কোনো ধরনের সুরক্ষাবলয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধী। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের উদাহরণ টেনে পোপ লিও সংশয় প্রকাশ করেন। কারণ তিনি একদিকে এআই মডেলে নিরাপত্তা বেষ্টনী যুক্ত করার কথা বললেও, অন্যদিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন এবং এআই নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত বলে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। পোপ নির্বাচিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এআই প্রযুক্তিকে মানবতার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন পোপ লিও। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে ভ্যাটিকানের সেতুবন্ধন তৈরির অংশ হিসেবে, গত মে মাসে ভ্যাটিকানে অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এআই বিষয়ক তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পত্র প্রকাশ করেন। বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সোমবার পোপ লিও বলেন, রাজনৈতিক নেতা, এআই বিশেষজ্ঞ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এআই যাতে মানবতা ধ্বংসের মতো কোনো বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সংলাপ ও গবেষণার ওপর জোর দেন তিনি। পরিশেষে পোপ সতর্ক করে বলেন, “আমরা শুধু হাত গুটিয়ে বসে থেকে এমন ভান করতে পারি না যে, কিছুই ঘটবে না। আমাদের এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির দৃশ্য এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বে এরিয়ায় এবার রোবট দিয়ে ঘর পরিষ্কারের সেবা চালু হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং স্টার্টআপ টাউ রোবোটিকস ঘণ্টায় ৩০ ডলারে এই সেবা দিচ্ছে। এই সেবায় হিউম্যানয়েড রোবট ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ভ্যাকুয়াম করা, জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা, ময়লা পরিষ্কার ও বিভিন্ন জায়গা মুছে দেওয়ার মতো কাজ করে। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি রোবটগুলো গভীর পরিষ্কারের কাজও করতে পারে। এর মধ্যে বেসবোর্ডের জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার, টাইলসের ফাঁকের ময়লা ঘষে তোলা এবং রান্নাঘরের যন্ত্রপাতির নিচে ও পেছনে পরিষ্কার করার মতো কাজ রয়েছে। হাত, পা ও মাথায় রোবোটিক ক্যামেরা থাকা এসব মেশিনকে গ্রাহকের ঘরের পরিবেশ ও পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স কখ জানিয়েছেন, সেবাটি চালুর পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বেশ শক্তিশালী। তবে আপাতত এই সেবা শুধু সান ফ্রান্সিসকোর বাড়িগুলোতে দেওয়া হচ্ছে। তাও আবার আমন্ত্রণের ভিত্তিতে। বর্তমানে প্রতিটি ক্লিনিং সেশন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত। কোম্পানির ভাষ্য, সীমিত সক্ষমতার কারণে চাহিদা ও গ্রাহকের অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত ইনভাইট কোড ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোবটগুলো এখনো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। প্রতিটি রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি দূরে থাকা একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর নিয়ন্ত্রণ করেন। ভ্যাকুয়াম করা, ময়লা ফেলা, ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা কিংবা মেঝের বাইরের কোনো জায়গায় পড়ে থাকা তরল পরিষ্কারের মতো কাজও তারা করতে পারে। টাউ রোবোটিকসের কাছে বর্তমানে মোট আটটি হিউম্যানয়েড রোবট রয়েছে। তবে এর বেশির ভাগই এখনো উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে সান ফ্রান্সিসকোর কয়েকটি রোবট ক্লিনারের আলাদা বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ‘চেলসি’ রান্নাঘর ও বাথরুম পরিষ্কারে দক্ষ। ‘ইলন’ নিয়মিতভাবে মিশন ও নোয়ে ভ্যালি এলাকায় সাপ্তাহিক পরিষেবায় যায়। আর ‘টনি’ মূলত গভীর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এই সেবার সঙ্গে বড় একটি গোপনীয়তার বিষয়ও জড়িত। রোবটগুলোর মাথা ও দুই কবজিতে একাধিক ক্যামেরা রয়েছে। পরিষ্কার করার সময় একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সরাসরি ক্যামেরার ভিডিও দেখতে পারেন। কোম্পানি জানিয়েছে, এসব ভিডিও শুধু পরিষ্কার করার কাজের জন্য নয়, ভবিষ্যতে রোবটকে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করানোর জন্য এআই মডেল প্রশিক্ষণেও ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ গ্রাহকের ঘরের ভিডিওই তাদের প্রশিক্ষণ ডেটার অংশ। কোম্পানির দাবি, ভিডিওতে থাকা মানুষের মুখও আনব্লার অবস্থায় থাকতে পারে। তবে টাউ রোবোটিকস বলেছে, তারা কখনো এসব ছবি ব্যবহার করে ফেসিয়াল রিকগনিশন করবে না, ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে না এবং বিভিন্ন ভিজিটের মধ্যে মুখ মিলিয়ে দেখার জন্য কোনো ফেস টেমপ্লেট তৈরি করবে না। রোবটগুলোর মাইক্রোফোন বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে কোনো অডিও রেকর্ড হয় না। রোবটের স্পিকারের মাধ্যমে দূরের অপারেটর গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, তবে অপারেটর গ্রাহকের কথা শুনতে পারেন না। পরিষ্কার করার কাজের ভিডিও ব্যবহার করে কোম্পানি প্রতিটি কাজের রেকর্ডও তৈরি করে। সেখানে কী পরিষ্কার করা হয়েছে, কত সময় লেগেছে এবং কাজের সময় কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না—এসব তথ্য রাখা হয়। এসব সার্ভিস রেকর্ড সাত বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। গোপনীয়তা রক্ষায় কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া রোবট বেডরুম বা বাথরুমে যায় না। চাইলে গ্রাহক ঘরের অন্য কোনো কক্ষ, জায়গা বা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুতেও রোবটের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারেন। গ্রাহক পরিষ্কার করার পর ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধও করতে পারেন। তবে ভিডিও যদি এরই মধ্যে এআই মডেল প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ায় চলে যায়, তখন নির্দিষ্ট কোনো ভিজিটের ভিডিও মডেল থেকে আলাদা করে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কোম্পানি। টাউ রোবোটিকস এখনো জানায়নি, কবে আমন্ত্রণভিত্তিক সেবা তুলে দেওয়া হবে। সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দারা কোম্পানির ওয়েটলিস্টে ই-মেইল ও নিজেদের এলাকার তথ্য দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে পারেন। ভবিষ্যতে শুধু ঘর পরিষ্কার নয়, বাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজেও এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর বে এরিয়ার আরও এলাকায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতেও এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। শুক্রবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ২৫৭.৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৭৪৯.২৬ ডলারে নেমে আসে। এই পতনের ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় জাকারবার্গ চতুর্থ অবস্থান থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যান। তার ওপরে উঠে আসেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন ও ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল। শুক্রবার জাকারবার্গের ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ কমার পরিমাণ ছিল ওই দিনের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন। মেটার শেয়ারে এই পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে নতুন উদ্বেগ। গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করেছে, মেটাসহ এআই অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিপুল মূলধনী ব্যয় পুষিয়ে নিতে এআইভিত্তিক সেবা থেকে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হতে পারে। শুধু বিনিয়োগের খরচ পুষিয়ে নেওয়া নয়, উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত এআই সেবা থেকে বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার আয় প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস। এআই চিপ কেনা, ডেটা সেন্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে এ বছর এআই হাইপারস্কেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনী ব্যয় প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আগামী বছর তা ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে। তবে এর আগে সেপ্টেম্বরজুড়ে মেটার শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গিয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ার মাসটিতে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছিল। মেটার নতুন ব্যক্তিগত এআই সহকারী ‘Muse’ বাজারে আসার পর এ উত্থান আরও জোরালো হয়। Sensor Tower-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই সপ্তাহেই Muse প্রায় ২৮ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে। বৃহস্পতিবার মেটার বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তবে শুক্রবারের পতনে সেই গতি কিছুটা থেমে যায়। এদিকে একই দিনে ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেলের সম্পদ ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়ে যায়, ফলে তিনি জাকারবার্গ ও সের্গেই ব্রিনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ওপরে উঠে আসেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণের পর কূটনৈতিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের পাঠানো এক ইমেইলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা ওই ইমেইলে ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাইকেল ড্রেগার কর্মকর্তাদের সরকারি ডকুমেন্ট, অবস্থানপত্র ও প্রেস স্টেটমেন্টে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ইমেইলটির বিষয় ছিল—‘এআই থেকে এসআই নাম পরিবর্তন’। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানান। তার বক্তব্য ছিল, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বা নকল কিছু হিসেবে উপস্থাপন করে। এ কারণে তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি ব্যবহারের কথা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যরাও এই শব্দ ব্যবহার করবে। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি বৈঠকেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করেন বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই নির্দেশ পুরো মার্কিন সরকার বা পররাষ্ট্র দপ্তারের সব শাখার জন্য প্রযোজ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশটি মূলত পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নীতিমালা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগে শব্দ পরিবর্তনের এই নির্দেশ সামনে এলো। তবে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের নামকরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাজ্যে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চাকরির বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং অনেক পেশায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে শুধু চাকরি নয়, তরুণদের নিজস্ব চিন্তা, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার চর্চাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গত মাসে যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৯ লাখ ৮১ হাজার তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। জানুয়ারি থেকে মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১২ হাজার। সংখ্যা কিছুটা কমলেও তরুণদের বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকার হার এখনো উদ্বেগজনক। এর মধ্যেই এআইয়ের দ্রুত বিস্তার চাকরির বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের (আইপিপিআর) ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকলে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের, খণ্ডকালীন ও প্রশাসনিক চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। লন্ডন সিটি হলের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর অন্তত ১০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে ‘উচ্চ বা উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে। চাকরির পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতাতেও চাপ অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের এআই ও কর্মসংস্থানবিষয়ক অর্থনীতিবিদ কার্ল-বেনেডিক্ট ফ্রের মতে, এআইয়ের প্রভাব শুধু অফিসের চাকরি বা প্রযুক্তিনির্ভর পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন কারিগরি পেশাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি মানুষ এআই ব্যবহার করে আগে যেসব কাজের জন্য পেশাদারের ওপর নির্ভর করত, সেসব কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাড়ির কোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে আগে যেখানে মিস্ত্রিকে ডাকা হতো, এখন কেউ এআইয়ের সাহায্যে সমস্যার ছবি তুলে সেটি নিজেই ঠিক করার চেষ্টা করতে পারেন। এতে সরাসরি ব্যাপক বেকারত্ব না হলেও কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। একইভাবে তরুণ শিক্ষানবিশদের জন্যও সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যেসব তুলনামূলক সহজ কাজ তারা করত, সেগুলোও যদি এআইয়ের সহায়তায় মানুষ নিজেই করতে শুরু করে, তাহলে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কমে যেতে পারে। তরুণদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ কিংস কলেজ লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন এআই ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি করতে পারে। প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আশঙ্কা আরও বেশি। তাদের ৩৪ শতাংশ মনে করেন, এআই-নির্ভর বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক এলেনা সিম্পারল বলেন, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও এখন জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থান—সব মিলিয়ে তরুণরা একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এআইকে শুধু ভয় পাওয়ার বদলে এর সঙ্গে কীভাবে খাপ খাওয়ানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে করণীয় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে পুরোপুরি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বরং তরুণদের এমন দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে, যা এআই সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। সৃষ্টিশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু প্রচলিত জ্ঞান মুখস্থ করানোর বদলে শিক্ষার্থীদের কীভাবে এআইকে একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানো জরুরি। অর্থাৎ এআই যেন তরুণদের হয়ে চিন্তা না করে; বরং তরুণরা যেন এআইকে ব্যবহার করে নিজেদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও একইভাবে পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। যারা এআইয়ের কারণে কাজের ধরন বদলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের নতুন দক্ষতা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মী ও নিয়োগদাতাদের এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অধ্যাপক সিম্পারলের মতে, এআইয়ের পরিবর্তনকে নিজেদের ওপর ঘটতে দেওয়ার বদলে সমাজ ও সরকারকে সক্রিয়ভাবে এর দিকনির্দেশনা দিতে হবে। এজন্য চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সৃষ্টিশীলতা কি তাহলে হারিয়ে যাবে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারলেও মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং বড় পরিবর্তনটি হতে পারে মানুষের কাজের ধরনে। তরুণরা যদি এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নিজেরা চিন্তা করা, নতুন ধারণা তৈরি করা কিংবা কোনো সমস্যার নিজস্ব সমাধান খোঁজার অভ্যাস দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে এআইকে সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যদি মানুষ নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও বিকশিত করতে পারে, তাহলে প্রযুক্তিটি প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে সহযোগীও হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রশ্ন শুধু এআই কতগুলো চাকরি নিয়ে নেবে—তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, এআইয়ের যুগে তরুণরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা, দক্ষতা ও চিন্তার স্বাধীনতা কীভাবে ধরে রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম মেয়াদে গঠিত স্পেস ফোর্সের আদলে কাজ করবে। একই সঙ্গে এআই কার্যক্রমের জন্য একজন নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নতুন এআই ফোর্সের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশের ওপর নজর রাখা হবে। তবে নতুন বাহিনীটি ঠিক কোন দপ্তরের অধীনে থাকবে, এর বাজেট কত হবে বা এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। ট্রাম্প নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাক্স ট্রাম্প প্রশাসনের এআই ও ক্রিপ্টো ‘জার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন। নতুন উদ্যোগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। ট্রাম্প কয়েক দিন আগে এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগকে ‘হোক্স’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু নেতা উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। ট্রাম্পের ঘোষণায় এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এআইকে বাধাগ্রস্ত না করে এর বিকাশে সহায়তা করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে চীন ও বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রাখতে চান। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। জুনে হোয়াইট হাউস জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উন্নত এআই দ্রুত ব্যবহারের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ‘এআই ফোর্স’ ঘোষণার পরও এর বাস্তব কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। এটি স্পেস ফোর্সের মতো একটি স্বতন্ত্র সামরিক শাখা হবে, নাকি প্রশাসনের অধীনে একটি নতুন সমন্বয়কারী বা তদারকি কাঠামো হবে—এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো বিস্তারিত জানাননি। ফলে ঘোষণাটি আপাতত একটি নতুন ফেডারেল উদ্যোগের পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে। এদিকে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ট্রাম্প বলেছেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা তার প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন ‘এআই ফোর্স’ ও এআই ‘জার’ নিয়োগের মাধ্যমে সেই নীতিকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এটিকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনার মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (Nvidia)-এর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ঘোষণাও দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এআই খাতে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে নতুন প্রজন্ম বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে পড়বে। গবেষকদের পক্ষ থেকে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কতা দেওয়া হলেও, মেলানিয়া ট্রাম্প এই বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে এআই-কে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক এই এআই টুলগুলো ব্যবহার করে এমন কিছু তৈরি করতে হবে যা আগে কখনও উদ্ভাবিত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই হয়তো কেউ ভবিষ্যতের সেরা রোবটটি তৈরি করবে এবং সেটি হোয়াইট হাউজে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসবে। শ্রেণিকক্ষে এআই প্রযুক্তির প্রসার বাড়াতে এনভিডিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ‘বি বেস্ট’ (Be Best) কর্মসূচির এই অংশীদারিত্ব এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় এনভিডিয়া অ্যাশ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ১,৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ‘স্টাডিফেচ’ (StudyFetch)-এর চার বছর মেয়াদি সাবস্ক্রিপশন লাইসেন্স প্রদান করবে। একইসঙ্গে রোবোটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের ১০০টি ‘জেটসন ন্যানো ডেভেলপার কিট’ (Jetson Nano Developer Kits) দেওয়া হবে, যা তাদের হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির চর্চা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কক্সন, যিনি নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে বিশেষজ্ঞ এবং এর আগে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন, দাবি করেন—এআই খাতের অনেকেই বিশ্বাস করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন এআই সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ইভান হুবিঙ্গার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে সব মানুষের বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এআই নিয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনও বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটা, তা জানা নেই। তবে ১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন না। এমন পরিস্থিতিতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানতে চেয়েছে, এআই নিজেই তার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কী বলে। এ জন্য তারা নোয়া প্রেডিক্ট নামের একটি এআই সিস্টেমের সহায়তা নেয়। এই সিস্টেম লাখ লাখ সংবাদ ও তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকি ও সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেয়। মানবজাতির বিলুপ্তির সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সম্পর্ক যাচাই করতে সিস্টেমটি ৪১টি আলাদা অনুসন্ধান এবং ১০৮টি গবেষণাভিত্তিক যাচাই চালায়। এতে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ তথ্যের পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। ফলাফল অবশ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এআই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশ নয়, মাত্র ০.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী, এমন ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় ১১৮টির মধ্যে ১টি। সম্ভাবনা ১ শতাংশের কম হলেও এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ এ ধরনের ঝুঁকি বাস্তবে ঘটলে এর পরিণতি হতে পারে অপরিবর্তনীয়। এআই বিশ্লেষণে মানবজাতির জন্য তিনটি বড় ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ঝুঁকি হলো, কোনো মানুষ এআইকে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করতে পারে। এআই নিজে থেকে মানবজাতির ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে, কিন্তু কোনো অসৎ ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক কাজ আরও দ্রুত, সহজ বা কার্যকরভাবে করতে পারে। সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আক্রমণ কিংবা জীবাণু অস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে যে কোনো বড় ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা, সাইবার হামলা বা ভুল সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও সেগুলো সরাসরি মানবজাতির বিলুপ্তির পর্যায়ের হুমকি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা হারিয়ে ফেলে, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঝুঁকি হলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাওয়া। এমন কোনো এআই সিস্টেম তৈরি হতে পারে, যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণকে এত বেশি গুরুত্ব দেবে যে মানুষের হস্তক্ষেপকেই বাধা হিসেবে বিবেচনা করবে। তখন সেটিকে থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে এআই বিশ্লেষণ এটাও বলেছে, কোনো পরীক্ষাগারে একটি সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা গেলেই তা বাস্তব পৃথিবীতে স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করছে, তার কী ধরনের প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজনে মানুষ সেটিকে বন্ধ করতে পারছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থাগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এআইয়ের ক্ষমতা ও প্রবেশাধিকার সীমিত করা, স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিস্টেম বন্ধ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এআই উন্নয়নের গতি নিয়েও এরই মধ্যে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ কয়েকজন মনে করেন, এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও তত দ্রুত শক্তিশালী করতে হবে। সব মিলিয়ে, এআই আগামী এক দশকে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দেবে—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তবে এআইয়ের নিজের বিশ্লেষণেও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। তাই প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হতে পারে, সেই সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে প্রকাশিত একটি ক্রীড়া প্রতিবেদনের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্পাদনা প্রম্পট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূল ক্রীড়া সংবাদের আগে এমন একটি প্রম্পট দেখা যায়, যা সাধারণত এআইকে কোনো লেখা সম্পাদনা বা পুনর্লিখনের জন্য দেওয়া হয়। ফলে পাঠকের সামনে সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ অংশ সরাসরি চলে আসে। ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ, এআই এখন সংবাদ সংগ্রহ, গবেষণা, কপি এডিটিং ও প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এআইয়ের তৈরি বা সম্পাদিত কোনো লেখা সরাসরি প্রকাশের আগে মানবসম্পাদনা ও তথ্য যাচাই জরুরি বলে সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আগেও আলোচনা হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসান বলেছেন, ফাইনাল স্পেনেই হওয়ার কথা। অন্যদিকে মরক্কোও নতুন গ্র্যান্ড স্টাদে হাসান-২ স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফাইনালের চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণের ক্ষমতা ফিফার হাতে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিতেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করা হলেও তথ্য যাচাই, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদ তৈরিতে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তির তৈরি কনটেন্ট যথাযথভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা। কোনো এআই প্রম্পট, অসম্পূর্ণ খসড়া বা অভ্যন্তরীণ নোট ভুল করে প্রকাশিত হলে তা সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের ঘটনাটি তাই শুধু একটি প্রতিবেদনে এআই প্রম্পট প্রকাশ পাওয়ার বিষয় নয়। এটি সংবাদকক্ষে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবসম্পাদনা, তথ্য যাচাই এবং প্রকাশের আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
মেটা যুক্তরাষ্ট্রে চালু করেছে নতুন ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ‘মিউজ’, যা ব্যবহারকারীর হয়ে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, বাস্তব ডিজিটাল কাজও সম্পন্ন করতে পারে। ই-মেইল পাঠানো, ভ্রমণ বুক করা, অনলাইন কেনাকাটা, ফর্ম পূরণ এবং পেমেন্ট করার মতো কাজ করতে পারবে এই এআই এজেন্ট। বর্তমানে মিউজের সেবা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হয়েছে। মিউজকে ই-মেইল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, শপিং, স্মার্ট হোম এবং অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ব্যবহারকারী কোন অ্যাপের সঙ্গে মিউজকে সংযুক্ত করবেন এবং তাকে কী ধরনের অনুমতি দেবেন, তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সেই অনুমতি বাতিলও করা যাবে। প্রচলিত চ্যাটবটের সঙ্গে মিউজের বড় পার্থক্য হলো - ব্যবহারকারী কোনো কাজের লক্ষ্য জানালে মিউজ নিজেই পরিকল্পনা তৈরি করে সেটি এগিয়ে নিতে পারে। যেমন, ভ্রমণের পরিকল্পনা করা, ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করা, পণ্য খোঁজা কিংবা ব্যবহারকারীর হয়ে কোনো কাজের জন্য দর-কষাকষি করা। দীর্ঘ সময়ের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও মিউজ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। মিউজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অনলাইন কেনাকাটা সম্পন্ন করার সক্ষমতা। মেটা এ জন্য স্ট্রাইপের লিংক পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা তাদের লিংক অ্যাকাউন্ট মিউজের সঙ্গে সংযুক্ত করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করতে পারবেন। যেসব ব্যবসায় লিংক সরাসরি গ্রহণ করা হয় না, সেখানে অনুমোদিত কেনাকাটার জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য ভার্চুয়াল কার্ড তৈরি করতে পারে লিংক। এতে প্রকৃত কার্ডের তথ্য ব্যবসায়ীর কাছে প্রকাশ না করার ব্যবস্থা থাকে। মেটার দাবি, ই-মেইল পাঠানো বা কেনাকাটার মতো সংবেদনশীল কাজের আগে মিউজ ব্যবহারকারীর অনুমোদন চাইবে। প্রতিটি কাজের একটি অডিট ট্রেইলও থাকবে, যাতে ব্যবহারকারী দেখতে পারেন এআই কী করেছে এবং কী করতে যাচ্ছে। মেটা মিউজের জন্য সিকিউর ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি করেছে। এতে এআই এজেন্ট ও ব্যবহারকারীর সংযুক্ত ডেটা আলাদা পরিবেশে রাখা হয়। ‘সেন্টিনেল’ নামে আলাদা একটি সিস্টেম মিউজের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীর অনুমোদন চায়। মেটা বলছে, মিউজ সরাসরি ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা পেমেন্ট তথ্য দেখতে পারে না। তবে এখানেই নতুন প্রযুক্তিটি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের দেখা মেটার অভ্যন্তরীণ পোস্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় কিছু কর্মী মিউজের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একটি পরীক্ষায় মিউজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে ব্যক্তিগত আইক্লাউড ছবি প্রকাশ করার মতো আচরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অন্য পরীক্ষায় ব্যবহারকারীরা এজেন্টের বারবার লগ-আউট হওয়া এবং নির্দিষ্ট কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কথা জানিয়েছেন। মেটা অবশ্য বলছে, নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য মিউজের আগের পরিকল্পিত উদ্বোধন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে সিস্টেমটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম নিরাপত্তা মান পূরণ করেছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় পাওয়া নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে মেটা বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। মিউজের মৌলিক সংস্করণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। বেশি ব্যবহারের জন্য মেটা মাসে ২০ ডলার এবং ১০০ ডলারের দুটি সাবস্ক্রিপশন স্তরও চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে মিউজ অ্যাপ, আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মেটার স্মার্ট গ্লাসেও মিউজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গের বৃহত্তর ‘পার্সোনাল সুপারইন্টেলিজেন্স’ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মিউজকে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ এআইকে শুধু তথ্য দেওয়ার প্রযুক্তি হিসেবে নয়, মানুষের হয়ে বাস্তব কাজ সম্পন্ন করার ডিজিটাল সহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে মেটা।
এআই চ্যাটবটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ওপর গুলি চালানোর পরিকল্পনার কথা লেখার অভিযোগে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথনে সার্না এলিমেন্টারি স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকির কথা উঠে আসে। স্কুলটি তার বাসার পাশেই অবস্থিত। আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ১১ আগস্ট কারাসকো অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লডে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা লেখেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দ্রুত একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে স্কুলে ঢুকে শিশুদের ওপর হামলা চালানোর কথা বলেন। এমনকি স্কুলে আহত বা মৃত শিশুদের ছবি খুঁজে দিতে চাওয়ার কথাও ওই কথোপকথনে ছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কারাসকোর কথোপকথন নিয়ে ২৮ আগস্ট এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশনস সেকশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। এরপর তদন্তকারীরা টি-মোবাইল, চার্টার কমিউনিকেশনস ও গুগলের কাছ থেকে জরুরি তথ্য সংগ্রহ করে ওই এআই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কারাসকোর ফোন নম্বর, আইপি তথ্য ও বাসার ঠিকানা মিলিয়ে দেখেন। এরপর ২৯ আগস্ট রাত ১১টার পর সান অ্যান্টোনিও পুলিশ কারাসকোকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার তৃতীয়-শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে বেক্সার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ঘটনায় কোনো হামলা হয়নি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। পুলিশও কারাসকোর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেছে বা তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন - এমন তথ্য প্রকাশ করেনি। তিনি এখনো অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত নন। ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সার্না এলিমেন্টারি স্কুলের অধ্যক্ষ জেনিফার লোমাস জানিয়েছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ শুরুতে হুমকিটির পূর্ণ বিবরণ জানতে পারেনি। সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশের পর ৩১ আগস্ট তিনি অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি জানান। এদিকে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব নীতিমালায় গুরুতর সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং জীবনহানির আশঙ্কা থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি তথ্য-অনুরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনের সাংহাইয়ের ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ঝু শুহান কোনো প্রোগ্রামিং অভিজ্ঞতা ছাড়াই এআইয়ের সহায়তায় একটি অ্যাপ তৈরি করে মাত্র তিন দিনে ১৮ হাজার ইউয়ান আয় করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। হাংজৌতে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের একটি এআই পণ্য বিপণন প্রতিযোগিতায় অ্যাপটি প্রায় ৯০টি অর্ডার পায় এবং শুহান তৃতীয় স্থান অর্জন করে। শুহান সাংহাইয়ের একটি জুনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় এক বছর আগে সে এআই ব্যবহার শুরু করে। গত ২১ থেকে ২৩ আগস্ট হাংজৌতে অনুষ্ঠিত মার্কেটিং হ্যাকাথনে ৫০টির বেশি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটির বিশেষত্ব ছিল, প্রচলিত অর্থে কোনো প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের বিচার বা স্কোরিংয়ের বদলে বাস্তব গ্রাহকরা পণ্য কিনছেন কি না, সেটিকেই সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি ধরা হয়। শুহানের তৈরি অ্যাপটির নাম ‘জাইচ্যাং’। ইংরেজিতে যার অর্থ ‘অন সাইট’। এটি মূলত শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করার জন্য তৈরি একটি ভার্চুয়াল স্টাডি কম্প্যানিয়ন। অ্যাপটিতে কোনো অভিভাবক নিজের ছবি আপলোড করলে সেটি ব্যবহার করে একটি ভার্চুয়াল অভিভাবক তৈরি করা যায়। এরপর শিশু বাড়ির কাজ করার সময় ক্যামেরার মাধ্যমে তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে অ্যাপটি। শিশু পড়াশোনার বদলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে কিংবা পড়ার জায়গা ছেড়ে উঠে গেলে ভার্চুয়াল অভিভাবক কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে তাকে সতর্ক করে। পড়াশোনার সময় শেষ হলে অ্যাপটি শিশুর মনোযোগের মাত্রা নিয়ে একটি রিপোর্টও তৈরি করে। অ্যাপটির ধারণা শুহান পেয়েছে নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই। তার বাবা-মা কাজে ব্যস্ত থাকায় পড়ার সময় সবসময় তার পাশে থাকতে পারতেন না। ফলে বাড়ির কাজ করার সময় তার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যেত, এমনকি কখনো কখনো লুকিয়ে মোবাইল ফোনও ব্যবহার করত সে। একই ধরনের সমস্যায় তার অনেক সহপাঠীও পড়ে বলে জানিয়েছে শুহান। এই অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে পড়াশোনার সময় পাশে থাকার মতো একটি ডিজিটাল অভিভাবক তৈরির চিন্তা আসে তার মাথায়। শুহানের প্রোগ্রামিং জ্ঞান খুবই সীমিত। অ্যাপ তৈরির সময় সে নিজের ভাষায় এআইকে তার ধারণা ও প্রয়োজন বোঝায়। এরপর এআইয়ের সহায়তায় প্রয়োজনীয় কোড তৈরি করে সে। ধারণা থেকে অ্যাপটির মূল কার্যক্রম দাঁড় করাতে তার তিন থেকে চার দিন সময় লাগে। শুহান শুরুতে অ্যাপটিতে ‘মা রেগে যাচ্ছে’ ধরনের একটি ফিচার রাখার পরিকল্পনা করেছিল। কোনো শিশু বারবার পড়াশোনায় মনোযোগ হারালে অভিভাবককে বিষয়টি জানানোর কথা ছিল এই ফিচারের মাধ্যমে। পরে সেটি বাদ দেয় শুহান। তার ভাষ্য, শিশুদের নিয়ে নালিশ করার মতো কোনো ব্যবস্থা সে চায়নি। বরং অ্যাপটি যেন কোমলভাবে শিশুদের মনে করিয়ে দেয় এবং নিজেদের ভুল বুঝে সংশোধনের সুযোগ দেয়, সেটিই ছিল তার লক্ষ্য। শুহানের ছোট ভাইও অ্যাপটির প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের একজন। তার দাবি, অ্যাপটি ব্যবহার শুরু করার পর ভাই পড়াশোনায় আগের চেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেছে। এই অভিজ্ঞতা তাকে অ্যাপটি আরও উন্নত করার উৎসাহ দিয়েছে। প্রতিযোগিতায় শুহানের অ্যাপটি প্রায় ৯০টি অর্ডার পায় এবং ১৮ হাজার ইউয়ান আয় করে। এর ফলে সে তৃতীয় স্থান অর্জন করে এবং পুরস্কার হিসেবে আরও ৫ হাজার ইউয়ান পায়। এখন অ্যাপটির আরও উন্নয়ন এবং কম দামে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে শুহান। তার লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া নয়, বাস্তবে অভিভাবকদের কাজে লাগে এমন একটি পণ্য তৈরি করা। শুহানের এই ঘটনা চীনে এআইয়ের মাধ্যমে তরুণদের প্রযুক্তি পণ্য তৈরির নতুন সম্ভাবনার দিকটি সামনে এনেছে। প্রোগ্রামিংয়ের প্রচলিত দক্ষতা ছাড়াই নিজের ধারণাকে এআইয়ের সাহায্যে একটি ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপ দেওয়ার এই উদাহরণ প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে প্রবেশের বাধা কতটা কমে আসছে, সেটিও দেখাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে ফেডারেল আপিল আদালত। আদালত বলেছে, প্রায় ২৫ বছর আগের মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কারণে এ ধরনের উপাদান ব্যক্তিগতভাবে রাখাকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ তাদের নেই। সপ্তম সার্কিট আপিল আদালত স্টিভেন অ্যান্ডেরেগ নামে এক ব্যক্তির মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তদন্তকারীদের দাবি, উইসকনসিনের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে জব্দ করা ডিভাইসে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক শত শত এআই-নির্মিত ছবি পাওয়া যায়। অ্যান্ডেরেগের বিরুদ্ধে এআই-নির্মিত যৌন নিপীড়নমূলক উপাদান তৈরি ও বিতরণ, ১৬ বছরের কম বয়সী এক শিশুর কাছে তা পাঠানো এবং এসব উপাদান নিজের কাছে রাখার অভিযোগ আনা হয়। তবে ফেডারেল জেলা আদালত শুধু ব্যক্তিগতভাবে উপাদান রাখার অভিযোগটি বাতিল করে। এরপর বিচার বিভাগ সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিল আদালতও ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালতের যুক্তি, ২০০২ সালে সুপ্রিম কোর্টের ‘ফ্রি স্পিচ কোয়ালিশন’ মামলার রায় অনুযায়ী, বাস্তব কোনো শিশুকে ব্যবহার না করে তৈরি কাল্পনিক শিশুদের যৌন ছবি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রথম সংশোধনীর সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে বর্তমান এআই প্রযুক্তি সেই পুরোনো আইনি সীমারেখাকে জটিল করে তুলেছে বলে সতর্ক করেছেন আপিল আদালতের দুই বিচারক। বিচারক জন লি লিখেছেন, ২৫ বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট যে সময়ে রায় দিয়েছিল, তখন আজকের মতো বাস্তবসম্মত ছবি তৈরির এআই প্রযুক্তি কল্পনাও করা কঠিন ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আদালতের সামনে নতুন কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আগের সিদ্ধান্তের অধীনে থাকার কারণে আপিল আদালত নিজেরাই সেই আইনি সীমারেখা নতুন করে নির্ধারণ করতে পারেন না। বিচারক লি ও বিচারক জোশুয়া কোলার আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি এখন বাস্তব শিশুকে নিয়ে তৈরি যৌন নিপীড়নের উপাদান থেকে প্রায় আলাদা করা যায় না। এমনকি এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত কিছু বড় তথ্যভান্ডারে বাস্তব শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান থাকার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেছেন। তবে বিচারকরা স্পষ্ট করেছেন, এই নির্দিষ্ট মামলায় সরকার বিষয়টি আদালতের সামনে উপস্থাপন করেনি এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্যও মামলার নথিতে নেই। অন্যদিকে মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এআই-নির্মিত উপাদানের বিস্তার তদন্তকারীদের জন্য বাস্তব ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। দুই দশকের বেশি আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্লারেন্স থমাসও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তার মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে বাস্তব শিশুদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে তৈরি অবৈধ উপাদান এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি উপাদানের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। ফলে নতুন এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে পুরোনো আইন ও সাংবিধানিক নজিরের সংঘাত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অ্যামাজনের একটি বিশেষায়িত স্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বই স্ক্যান করে পরে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ মিডিয়ার অনুসন্ধানে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। অনুসন্ধানটি শুরু হয় বিরল ও পুরোনো বইয়ের বড় পরিমাণে অস্বাভাবিক কেনাকাটা নিয়ে সন্দেহ থেকে। ৪০৪ মিডিয়ার সাংবাদিকেরা এক স্বাধীন বই বিক্রেতার সহায়তায় প্রায় ১ হাজার বইয়ের একটি চালানের একটি বইয়ের ভেতরে অ্যাপলের এয়ারট্যাগ বসান। এরপর বইটির গতিপথ অনুসরণ করে দেখা যায়, চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লাস ভেগাসের একটি অ্যামাজন স্থাপনায় পৌঁছেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, লাস ভেগাসের ওই অ্যামাজন স্থাপনায় ভিজিটি৩ নামে একটি বিশেষায়িত কার্যক্রমে বই স্ক্যান করা হয়। সেখানে কর্মীরা বইয়ের বাঁধাই কেটে পৃষ্ঠাগুলো আলাদা করেন, এরপর সেগুলো দ্রুত স্ক্যান করে ডিজিটাল তথ্য হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। বাঁধাই কাটার ফলে মূল বইটি আর অক্ষত থাকে না। ৪০৪ মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুসরণ করা বইটি প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিমানবন্দরে যায়। সেখান থেকে উইসকনসিনের মিলওয়াকি, পরে কেনোশার একটি বিতরণকেন্দ্র এবং এরপর ট্রাকে করে কলোরাডো হয়ে লাস ভেগাসে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত বইটি অ্যামাজনের এলএএস৮ নামের একটি বড় স্থাপনায় যায়, যার একটি অংশে ভিজিটি৩ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। অ্যামাজনের ওই কার্যক্রমে কর্মরত ব্যক্তিদের অনলাইন আলোচনার তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। সেখানে কর্মীরা বইয়ের বারকোড বা আইএসবিএন স্ক্যান এবং বই কাটার কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। আইএসবিএন হলো প্রকাশিত বই শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি অনন্য নম্বর। এআই কোম্পানিগুলোর জন্য পুরোনো বই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ উপাদান হয়ে উঠেছে। কারণ এসব বইয়ের অনেক লেখা ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ২০২২ সালের আগে প্রকাশিত বইগুলো এআই-নির্মিত লেখা থেকে মুক্ত থাকার সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় প্রশিক্ষণ ডেটা হিসেবে এগুলোর আলাদা মূল্য রয়েছে। এর আগে লেখকদের করা একটি মামলায় অ্যানথ্রপিকের বই সংগ্রহ ও স্ক্যান করার একটি প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ওই প্রকল্পেও বইয়ের বাঁধাই কেটে দ্রুত স্ক্যান করার পদ্ধতি ব্যবহারের কথা উঠে এসেছিল। আদালতের রায়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বই স্ক্যান করে প্রশিক্ষণ ডেটা তৈরির বিষয়টিকে ন্যায্য ব্যবহারের আওতায় বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে বই কেটে ধ্বংস করার এই প্রক্রিয়া নিয়ে কপিরাইট, নৈতিকতা এবং মানবিক জ্ঞান সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে বিরল বইয়ের ক্ষেত্রে একটি মুদ্রিত কপি ধ্বংস হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ সীমিত হতে পারে। অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রাহকদের ব্যবহৃত পণ্য ও সেবা উন্নয়নে তারা বাণিজ্যিক চ্যানেলের মাধ্যমে বই কেনে। তবে ৪০৪ মিডিয়ার পক্ষ থেকে বই কাটার কারণ, এ ধরনের আরও কতটি স্থাপনা রয়েছে এবং বই ধ্বংস নিয়ে ওঠা সমালোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও অ্যামাজন সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। এ অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, এআই মডেলকে আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় মানব-লিখিত ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষিত করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন শুধু অনলাইন কনটেন্টের ওপর নির্ভর করছে না। মুদ্রিত বই সংগ্রহ, ডিজিটাইজ করা এবং প্রয়োজনে মূল কপি ধ্বংস করার মতো প্রক্রিয়াও সেই প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ২০২৬ সালে চাকরি ছাঁটাইয়ের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ক্রাঞ্চবেস নিউজের সর্বশেষ হিসাবে, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে অন্তত ১,১১৬ প্রযুক্তিকর্মী চাকরি হারিয়েছেন অথবা ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছেন। একই সপ্তাহে গুগল, সেলসফোর্স, টিকটক, এটসি ও র্যাপিড৭সহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ছাঁটাইয়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের বিনিয়োগ এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই অবকাঠামো ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানে ব্যয় কমানো, কর্মী কাঠামো পুনর্গঠন এবং নির্দিষ্ট কাজ স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে চলমান সব ছাঁটাইকে শুধু এআইয়ের ফল হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, ব্যয় কমানো, বাজার পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক কৌশলের পরিবর্তনও বড় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এআই কিছু পুরোনো কাজের চাহিদা কমালেও নতুন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর চাকরির সুযোগ তৈরি করছে। এদিকে ওরাকল এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানোর মধ্যেই চলতি মাসে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে এর আগে প্রায় ২১ হাজার কর্মী কমিয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব এখন মূলত চাকরির ধরন ও দক্ষতার চাহিদা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যতে এআই দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি কিছু প্রচলিত প্রযুক্তি পদে নিয়োগ কমতে পারে।
কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে আইটি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণকে অনেকেই দ্রুত চাকরিতে প্রবেশের একটি কার্যকর পথ হিসেবে দেখতেন। ডেভেলপমেন্ট, কিউএ, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারী মূলধারার চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতা সেই পথকে আগের তুলনায় অনেক কঠিন করে তুলেছে। তবে এই অর্থে আইটি খাতে চাকরির সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, কিউএ অ্যানালিস্ট ও সফটওয়্যার টেস্টারদের চাকরি সম্মিলিতভাবে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে আইটি সিকিউরিটি এনালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রযুক্তি খাতের চাহিদা থাকছে, কিন্তু কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা থাকবে এবং একজন নতুন কর্মী সেই চাহিদার সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। প্রায় পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যটি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরেছেন ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইটি পেশাজীবী। তিনি জানান, তখন তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই ডেভেলপার, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডেটাবেস সংশ্লিষ্ট কাজে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। অনেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইটি খাতে মূলধারার চাকরিতে ঢুকে পরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার মতে, সেই সময়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ অনেকের জন্য আইটি ক্যারিয়ারে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতায় সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন শুধু নতুনদের জন্য নয়, আগে থেকেই কয়েক বছর অভিজ্ঞতা থাকা এবং ছাঁটাইয়ের কারণে চাকরি হারানো অনেক পেশাজীবীর জন্যও নতুন চাকরিতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভার্জিনিয়ার ওই পেশাজীবী মনে করেন, নতুনদের জন্য এখন শুধু একটি প্রশিক্ষণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। যে ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া হচ্ছে, সেই পদের বর্তমান চাহিদা, এআইয়ের প্রভাব এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তবে কী ধরনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো আগে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নিউইয়র্কের জিসান নামের এক ব্যক্তি এই পরিবর্তনের আরেকটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসার পর তিনি অন্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন, মাত্র কয়েক মাসের আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে নিয়মিত চাকরিতে ঢুকেছেন। কেউ ডেভেলপার, কেউ সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট কাজে গেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনিও আইটি পেশায় প্রবেশের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষ করেও অবশ্য তিনি চাকরি পাননি। জিসান জানান, প্রায় এক বছর ধরে চাকরির চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত আইটি চাকরি পাননি। ফলে প্রশিক্ষণ শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। জিসানের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখন আর চাকরিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। বিশেষ করে কোনো বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়েছে। জর্জিয়ার আতিকের অভিজ্ঞতাও একই পরিবর্তনের আরেকটি দিক তুলে ধরে। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণের পর তিনি আইটি খাতে চাকরিতে ঢুকেছিলেন। কিছুদিন কাজ করার পর প্রায় এক বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও আর আইটি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন। তিনটি অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। আগে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণকে আইটিতে প্রবেশের দরজা হিসেবে দেখা গেলেও এখন প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং চাকরি ধরে রাখার বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে। এর পেছনে এআইয়ের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এআই অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ দ্রুত করতে পারছে। ফলে নিয়োগদাতারা শুধু নির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তি জানেন এমন কর্মীর বদলে এমন প্রার্থী খুঁজছেন, যিনি প্রযুক্তির পাশাপাশি সমস্যা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয়করণ, এআই ব্যবহার এবং বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সক্ষম। তবে প্রযুক্তি খাত নিয়ে পুরোপুরি হতাশ হওয়ার কারণও নেই। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার কিছু পেশায় কর্মসংস্থান কমাতে পারে, আবার অন্য অনেক পেশায় নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা তৈরি করতে পারে। তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আগামী দশকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।