সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
তথ্যপ্রযুক্তি

মানুষের জন্য এআইয়ের সবচেয়ে বড় বিপদ কোথায়, জানাল এআইই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১০:৫
আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ০.৮৫ শতাংশ বলে পূর্বাভাস দিয়েছে একটি এআই সিস্টেম
আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ০.৮৫ শতাংশ বলে পূর্বাভাস দিয়েছে একটি এআই সিস্টেম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।


কক্সন, যিনি নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে বিশেষজ্ঞ এবং এর আগে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন, দাবি করেন—এআই খাতের অনেকেই বিশ্বাস করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


তার এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন এআই সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ইভান হুবিঙ্গার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে সব মানুষের বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে।


এআই নিয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনও বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটা, তা জানা নেই। তবে ১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন না।


এমন পরিস্থিতিতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানতে চেয়েছে, এআই নিজেই তার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কী বলে।


এ জন্য তারা নোয়া প্রেডিক্ট নামের একটি এআই সিস্টেমের সহায়তা নেয়। এই সিস্টেম লাখ লাখ সংবাদ ও তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকি ও সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেয়। মানবজাতির বিলুপ্তির সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সম্পর্ক যাচাই করতে সিস্টেমটি ৪১টি আলাদা অনুসন্ধান এবং ১০৮টি গবেষণাভিত্তিক যাচাই চালায়। এতে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ তথ্যের পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়।


ফলাফল অবশ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এআই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশ নয়, মাত্র ০.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী, এমন ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় ১১৮টির মধ্যে ১টি।


সম্ভাবনা ১ শতাংশের কম হলেও এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ এ ধরনের ঝুঁকি বাস্তবে ঘটলে এর পরিণতি হতে পারে অপরিবর্তনীয়।


এআই বিশ্লেষণে মানবজাতির জন্য তিনটি বড় ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে।


প্রথম ঝুঁকি হলো, কোনো মানুষ এআইকে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করতে পারে। এআই নিজে থেকে মানবজাতির ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে, কিন্তু কোনো অসৎ ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক কাজ আরও দ্রুত, সহজ বা কার্যকরভাবে করতে পারে। সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আক্রমণ কিংবা জীবাণু অস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।


দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে যে কোনো বড় ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা, সাইবার হামলা বা ভুল সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও সেগুলো সরাসরি মানবজাতির বিলুপ্তির পর্যায়ের হুমকি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা হারিয়ে ফেলে, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।


তৃতীয় এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঝুঁকি হলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাওয়া। এমন কোনো এআই সিস্টেম তৈরি হতে পারে, যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণকে এত বেশি গুরুত্ব দেবে যে মানুষের হস্তক্ষেপকেই বাধা হিসেবে বিবেচনা করবে। তখন সেটিকে থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


তবে এআই বিশ্লেষণ এটাও বলেছে, কোনো পরীক্ষাগারে একটি সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা গেলেই তা বাস্তব পৃথিবীতে স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করছে, তার কী ধরনের প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজনে মানুষ সেটিকে বন্ধ করতে পারছে কি না।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থাগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এআইয়ের ক্ষমতা ও প্রবেশাধিকার সীমিত করা, স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিস্টেম বন্ধ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।


এআই উন্নয়নের গতি নিয়েও এরই মধ্যে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ কয়েকজন মনে করেন, এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও তত দ্রুত শক্তিশালী করতে হবে।


সব মিলিয়ে, এআই আগামী এক দশকে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দেবে—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তবে এআইয়ের নিজের বিশ্লেষণেও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। তাই প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
মোড় নেওয়ার সময় পথচারীদের সতর্ক করার প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের বাসে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তা, চালু হচ্ছে সংঘর্ষ প্রতিরোধ প্রযুক্তি

নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে বাসে সংঘর্ষ শনাক্তকরণ এবং মোড় নেওয়ার সময় পথচারীদের সতর্ক করার প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) এ প্রযুক্তি সরবরাহ, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি একটি চুক্তির দরপত্র আহ্বান করেছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ডলার। তবে এটি সব বাসে প্রযুক্তি স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন বা কাজ সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা নয়।    প্রকল্পের আওতায় সংঘর্ষ প্রতিরোধব্যবস্থা এবং পথচারীদের সতর্ক করার প্রযুক্তি একসঙ্গে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সংঘর্ষ প্রতিরোধব্যবস্থাটি বাসের আশপাশে থাকা যানবাহন, সাইকেল আরোহী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, বাস মোড় নেওয়ার সময় পথচারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থা তাদের বাসের গতিপথ সম্পর্কে আগাম সংকেত দিতে পারে।   এমটিএর দরপত্রসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি বাসে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষায় বাসের সামনে ও পাশে থাকা সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত করে চালককে সতর্ক করার সক্ষমতা দেখা হয়েছে। এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রযুক্তি আরও বাসে যুক্ত করার জন্য সরবরাহ ও স্থাপনসংক্রান্ত চুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দরপত্রের নির্ধারিত শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২৬।    এই উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে নিউইয়র্কের ব্যস্ত সড়কব্যবস্থার কারণে। নগরীর বাসগুলোকে প্রতিদিন ঘন যানবাহন, সাইকেল চলাচল, পথচারীদের পারাপার এবং সংকীর্ণ মোড়ের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে বাস ডান বা বাঁ দিকে ঘোরার সময় চালকের দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা পথচারী বা সাইকেল আরোহী দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কব্যবস্থা এ ধরনের পরিস্থিতিতে চালককে দ্রুত সতর্ক করতে পারে।   নিউইয়র্ক নগর প্রশাসনের সড়কনিরাপত্তা কর্মসূচিতেও একই ধরনের প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগর প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বাসে চালকের দৃষ্টিসীমা উন্নত করা, ক্যামেরা ব্যবহার এবং বাস মোড় নেওয়ার সময় পথচারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থা যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।চালকদের প্রশিক্ষণেও সাইকেল আরোহী ও পথচারীদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   তবে প্রযুক্তি থাকলেই দুর্ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সতর্কসংকেত সঠিকভাবে শনাক্ত হচ্ছে কি না, চালক সময়মতো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন কি না এবং যন্ত্রপাতি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা বোঝার জন্য পরীক্ষার ফলাফল ও বাস্তব প্রয়োগের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে হবে।   নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী ও প্রবাসীদের জন্য এ উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মস্থলে যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজে অনেকেই নগর বাসের ওপর নির্ভর করেন। বাস ও সাইকেলের সংঘর্ষ কিংবা মোড়ে পথচারী আহত হওয়ার ঘটনা কমানো গেলে গণপরিবহন ব্যবহারের নিরাপত্তা উন্নত হতে পারে।   এদিকে বাসযাত্রীদের জন্য আরেকটি উদ্যোগ ঘোষণা করেছে নগরীর পরিবহন বিভাগ। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়েছে, বাসস্টপে বাস পৌঁছানোর তাৎক্ষণিক তথ্য দেখানো পর্দার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো যাত্রীরা যেন বাস কখন আসবে, তা আরও সহজে জানতে পারেন। নগর প্রশাসন চলতি বছর থেকেই সম্প্রসারণ শুরু করার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমানে থাকা ব্যবস্থার তুলনায় চার গুণের বেশি বাসস্টপে এ সুবিধা পৌঁছানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে।    দুটি উদ্যোগের উদ্দেশ্য আলাদা হলেও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে উভয়ের ভূমিকা রয়েছে। একদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা, অন্যদিকে বাসের আগমনের সময় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা—এগুলো বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কের বাসযাত্রায় নিরাপত্তা ও সুবিধা বাড়তে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১০:৪৭
৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

এআইয়ে বিপুল বিনিয়োগের চাপ, ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুওর পর্দায় ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

আইফোন ডুওর ডিসপ্লের ত্রুটি স্বীকার করল অ্যাপল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের নতুন ফোন দেওয়ার ঘোষণা

ইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান

মাইক্রোসফটের ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব, মিলবে আর্থিক সুবিধা

বাংলাদেশি প্রকৌশলী তারেক সরোয়ার
ইলন মাস্কের টেসলা রোডস্টারের গবেষণায়  বাংলাদেশের বুয়েটের তারেক সরোয়ার! জানালেন অভিজ্ঞতা

টেসলার গাড়ির নিচের কাঠামো বা আন্ডারবডির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব মূল্যায়নে কাজ করেছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী তারেক সরোয়ার। নিজের কাজের বিবরণে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে ইন্টার্নশিপের সময় প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই কাঠামোর কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই মূল্যায়নের ফল পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশের চূড়ান্ত নকশা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।   গাড়ির বাইরের নকশার আড়ালে থাকা এই কাঠামো নিয়েই ছিল তাঁর গবেষণা। তারেকের বর্ণনা অনুযায়ী, তীব্র গরম, প্রচণ্ড ঠান্ডা, বৃষ্টি ও লবণাক্ত পরিবেশে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর আন্ডারবডি কেমন অবস্থায় থাকবে, তা মূল্যায়ন করা ছিল তাঁর দায়িত্ব। কোনো যন্ত্রাংশ তৈরি করা সম্ভব হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেটির স্থায়িত্ব যাচাই করাও এই কাজের অংশ ছিল। তারেক তাঁর কাজকে টেসলার নতুন রোডস্টারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে রোডস্টারের নির্দিষ্ট কোন অংশে তাঁর গবেষণার ফল প্রয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে টেসলার প্রকাশ্য নথিতে স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে পুরো আন্ডারবডি এক খণ্ডে তৈরি এবং প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে এমন একটি অংশ উৎপাদনের দাবির পক্ষেও রোডস্টারসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব উৎপাদনসংক্রান্ত দাবিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।   তবে টেসলায় তাঁর ইন্টার্নশিপের বিষয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনায় তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির ইইই বিভাগের স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুকে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৫ মে টেসলায় চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে একটি ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন তারেক সরোয়ার। সেখানে তাঁকে ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ার ইন্টার্ন হিসেবে পরিচয় করানো হয়। ওয়েবিনারে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, চাকরির আবেদন ও ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।    তারেকের গবেষণার সঙ্গে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির সংযোগও প্রকাশিত গবেষণাপত্রে পাওয়া যায়। ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে ‘এমডি সরোয়ার তারেক’ নামের লেখকের প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির যন্ত্রকৌশল বিভাগের নাম রয়েছে। গবেষণাটি ছিল করোনাভাইরাস মহামারির সময় থ্রিডি প্রিন্টিংসহ অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে। এটি তাঁর গবেষণার পটভূমির তথ্য দেয়, তবে রোডস্টারের নকশায় অবদান রাখার দাবির স্বতন্ত্র প্রমাণ নয়।  সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৩:৪৯
আইফোন ডুও

বাজারে আসার কয়েক ঘণ্টায় আইফোন ডুওর মজুত শেষ, পুনর্বিক্রিতে দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ হাজার ডলার!

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন ‘ডুয়ো’

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন ‘ডুয়ো’ কিনতে বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের ভিড়

ডালাস ও ফোর্ট ওয়ার্থ, অস্টিন এবং হিউস্টনকে ঘিরে তিনটি এয়ার ট্যাক্সি নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা

ডালাসসহ টেক্সাসের তিন অঞ্চলে এয়ার ট্যাক্সি চালুর নতুন পরিকল্পনা আর্চার এভিয়েশনের

ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস
এক্সে ১৫ ভিডিওতে বোনাসের সুযোগ, নেই কোন ফলোয়ারের শর্ত

মৌলিক ভিডিও প্রকাশে নির্মাতাদের উৎসাহ দিতে ‘ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস’ নামে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করেছে এক্স। এতে আমন্ত্রণ পাওয়া নির্মাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলাদা ১৫ দিনে অন্তত ১৫টি যোগ্য ভিডিও পোস্ট করতে হবে। তবে শুধু ভিডিও প্রকাশ করলেই প্রত্যেক ব্যবহারকারী প্রায় চার লাখ টাকা পাবেন, এমন কোনো সর্বজনীন ঘোষণা দেয়নি প্ল্যাটফর্মটি।      এক্সের ক্রিয়েটর প্রোডাক্ট বিভাগের অ্যালেগ্রা জাকিয়ার ঘোষণার ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত বোনাসের কথা এসেছে। তবে এক্সের নিজস্ব নির্দেশিকা বলছে, নির্মাতার বোনাসের অঙ্ক তাঁর আমন্ত্রণপত্র ও ক্রিয়েটর স্টুডিওতে দেখানো হবে। আমন্ত্রণের সময় এক্সসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে মোট ফলোয়ারের ভিত্তিতে এই অঙ্ক নির্ধারিত হয়। তাই সবার বোনাস সমান নয়।  কর্মসূচির প্রথম পর্ব ১৫ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এই পর্বে যোগ দিতে আমন্ত্রিত নির্মাতাদের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। সব সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক সময় অনুযায়ী গণনা করা হবে। একই দিনে একাধিক ভিডিও দিলেও সেটি এক দিন হিসেবেই ধরা হবে। অতিরিক্ত ভিডিও প্রকাশে বোনাস বাড়বে না।      যোগ্য ভিডিও হতে হবে নিজের তৈরি, খাড়া বা ভার্টিক্যাল ফরম্যাটে ৯:১৬ অনুপাতের এবং তিন মিনিটের কম দৈর্ঘ্যের। নিজের ভিডিও আগে অন্য প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হলেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে অন্য প্ল্যাটফর্মের নাম, লোগো বা ওয়াটারমার্ক থাকা যাবে না। নিবন্ধনের পর প্রকাশিত ভিডিওই গণনায় আসবে। অন্যের ভিডিও কিংবা একই ভিডিও বারবার পোস্ট করে শর্ত পূরণ করা যাবে না।      অংশগ্রহণকারীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। ভালো অবস্থানে থাকা অ্যাকাউন্ট, ভেরিফাইড ইমেইল এবং যোগ্য এক্স প্রিমিয়াম সদস্যতা অথবা প্রিমিয়াম বিজনেসের অধিভুক্তি প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ গ্রহণের জন্য সক্রিয় এক্স মানি অ্যাকাউন্ট এবং অন্য দেশের ক্ষেত্রে সংযুক্ত ও যাচাইকৃত স্ট্রাইপ অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশে কর্মসূচি ও অর্থ গ্রহণের সুবিধাও থাকতে হবে।    আমন্ত্রণ পাওয়া নির্মাতারা ক্রিয়েটর স্টুডিওর ‘প্রোগ্রামস’ বিভাগে নিবন্ধন করতে পারবেন। সেখানে ভিডিও ও পোস্ট করার দিনের অগ্রগতি দেখা যাবে। তবে ট্র্যাকারে শর্ত পূরণ দেখালেও সেটি অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা নয়। পর্ব শেষে চূড়ান্ত পর্যালোচনা হবে। এক্সের শর্তাবলি অনুযায়ী, বোনাস নিশ্চিত মাসিক আয় নয়; অর্থ দেওয়া ও তার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষমতা প্ল্যাটফর্মটির হাতে রয়েছে। 

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১০:১৬
টেসলার এআই সফটওয়্যারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক এলুসওয়ামি

টেসলার এআই সফটওয়্যারের নেতৃত্বে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট অশোক

চু রি করা আইফোনে সতর্কবার্তা

ফ্রান্সে অ্যাপল স্টোরে লু ট পা টের পর চো রদের আইফোনেই ভেসে উঠল সতর্কবার্তা

সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বন্ধ, বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা আর ঝুঁকিই বা কী

0 Comments