- প্রচ্ছদ
- Topic
কলেজ
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়ার খরচ জোগাড় করতে শিক্ষাঋণ না নিয়ে এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী মাইক হেইস। ১৯৮৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ে পড়াশোনা শুরু করার সময় চার বছরের খরচ মেটাতে তার প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ডলার। সেই অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি লাখ লাখ মানুষের কাছে মাত্র এক সেন্ট করে সাহায্য চাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ছে, মাইক নিজে ২৮ লাখ মানুষের কাছে আলাদাভাবে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এমনটি নয়। তিনি যোগাযোগ করেছিলেন শিকাগো ট্রিবিউনের জনপ্রিয় কলামিস্ট বব গ্রিনের সঙ্গে। গ্রিনের লেখা তখন যুক্তরাষ্ট্রের বহু সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতো এবং তার পাঠকসংখ্যা ছিল কয়েক মিলিয়ন। মাইক বব গ্রিনকে জানান, যদি ২৮ লাখ মানুষ তাকে মাত্র এক সেন্ট করে পাঠান, তাহলে তার চার বছরের কলেজ খরচ উঠে যাবে। অভিনব পরিকল্পনাটি গ্রিনের পছন্দ হয় এবং তিনি ১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিজের কলামে মাইকের আবেদন প্রকাশ করেন। এরপরই শুরু হয় অভাবনীয় সাড়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিঠির সঙ্গে আসতে থাকে এক সেন্টের কয়েন। অনেকে শুধু এক সেন্টেই থামেননি। কেউ পাঁচ সেন্ট, কেউ দশ বা ২৫ সেন্ট, আবার কেউ ডলার কিংবা চেক পাঠিয়েছেন। কানাডা ও মেক্সিকো থেকেও অনুদান আসে। অল্প সময়ের মধ্যেই এত চিঠি আসতে শুরু করে যে স্থানীয় পোস্ট অফিসেও চাপ তৈরি হয়। মাইকের ছোট্ট আবেদন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও তার গল্প প্রচার হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মাইক প্রায় ২৯ হাজার ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তার প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ডলার। ওই অর্থ দিয়েই ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ে চার বছরের পড়াশোনার খরচ মেটান তিনি। পরে ১৯৯১ সালে ফুড সায়েন্সে ডিগ্রি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট করেন মাইক। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার ডলার আরেকজন আর্থিকভাবে অসচ্ছল নবীন শিক্ষার্থীকে দেওয়ার কথাও পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসে। ঘটনাটি প্রায় চার দশক আগের হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারনেট ও অনলাইন ক্রাউডফান্ডিংয়ের যুগ শুরু হওয়ারও আগে একজন শিক্ষার্থী কীভাবে সংবাদপত্রের পাঠকদের ছোট ছোট অনুদান একত্র করে নিজের উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে পেরেছিলেন, সেই কারণেই গল্পটি এখনো মানুষের আগ্রহ কাড়ে। মাইকের পরিকল্পনার মূল হিসাব ছিল খুবই সহজ। একজনের কাছে এক সেন্ট প্রায় মূল্যহীন মনে হতে পারে, কিন্তু লাখ লাখ মানুষ সামান্য করে সহযোগিতা করলে সেটিই বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে। তার ক্ষেত্রে সেই এক সেন্টের ধারণাই শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার ডলারের কলেজ ফান্ডে পরিণত হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে ভর্তির দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া সহজ করতে জনপ্রিয় শিক্ষা প্ল্যাটফর্মগুলো এখন “ডাইরেক্ট অ্যাডমিশন” পদ্ধতি চালু করছে। এই ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীকে আলাদা করে আবেদন করার আগেই কলেজ থেকে ভর্তি ও স্কলারশিপের প্রাথমিক অফার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে আবেদন ফি, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং জটিল আবেদন প্রক্রিয়ার চাপ কমতে পারে। বর্তমানে এনআইচি এবং কমন অ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীরা নিজেদের একাডেমিক তথ্য, গ্রেড পয়েন্ট গড় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করলে অংশগ্রহণকারী কলেজগুলো সেই তথ্য মূল্যায়ন করে সরাসরি ভর্তি ও স্কলারশিপের অফার পাঠাতে পারে। তবে এসব অফার চূড়ান্ত ভর্তি নয়। শিক্ষার্থীকে পরে অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্টসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে কলেজের শর্ত পূরণ করতে হয়। শিক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অনেক শিক্ষার্থী আগে থেকেই জানতে পারেন কোন কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ এবং কী পরিমাণ স্কলারশিপ পেতে পারেন। ফলে অপ্রয়োজনীয় আবেদন কমে আসে এবং কলেজ বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডাইরেক্ট অ্যাডমিশনের অফার পেলেই সেটি গ্রহণ করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শিক্ষার্থীরা চাইলে একাধিক কলেজের অফার তুলনা করে নিজেদের জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে স্কলারশিপের পরিমাণও শিক্ষার্থীর ফলাফল, বিষয় নির্বাচন, আবাসন পরিকল্পনা বা অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পর পরিবর্তিত হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে ভর্তির খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর ডাইরেক্ট অ্যাডমিশন ব্যবস্থা দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে প্রথম প্রজন্মের কলেজগামী এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হতে আরও উৎসাহিত হবেন।
আমেরিকায় কলেজে পড়ার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিবাসী পরিবারগুলোর অনেকেই জানেন না, মার্কিন নাগরিক না হলেও নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদায় থাকা শিক্ষার্থীরা ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যোগ্য শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ পেল গ্রান্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার। এটি কোনো শিক্ষাঋণ নয়, বরং ফেডারেল সরকারের দেওয়া শিক্ষা অনুদান, যা সাধারণত ফেরত দিতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর ২০২৬-২৭ সালের হালনাগাদ ফাফসা নির্দেশনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফেডারেল শিক্ষাসহায়তা পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে মার্কিন নাগরিক অথবা সরকারের সংজ্ঞা অনুযায়ী যোগ্য অ-নাগরিক হতে হবে। অর্থাৎ শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্যই পেল গ্রান্ট সীমাবদ্ধ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা কিংবা বৈধ কোনো ভিসা থাকলেই পেল গ্রান্ট পাওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। শিক্ষার্থীর অভিবাসন মর্যাদা, আর্থিক প্রয়োজন এবং ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত বিবেচনা করা হয়। কারা যোগ্য অ-নাগরিক - ২০২৬-২৭ ফাফসা ফরমের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড বা গ্রিন কার্ড থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। শর্তযুক্ত গ্রিন কার্ড থাকা শর্তযুক্ত স্থায়ী বাসিন্দারাও এই শ্রেণিতে পড়তে পারেন। এ ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নথিতে শরণার্থী বা আশ্রয়প্রাপ্ত মর্যাদা থাকা ব্যক্তিরাও যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। কিছু প্যারোলপ্রাপ্ত ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। ২০২৬-২৭ ফাফসা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আই-৯৪ নথিতে অন্তত এক বছরের জন্য প্যারোল করার বিষয়টি নিশ্চিত থাকতে হবে এবং সেই মর্যাদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া চলবে না। কিউবান-হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং নির্দিষ্ট টি-ভিসাধারীরাও যোগ্য অ-নাগরিক শ্রেণির মধ্যে থাকতে পারেন। মানবপাচারের শিকার কোনো ব্যক্তির কাছে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বৈধ সনদ বা যোগ্যতার চিঠি থাকলেও তিনি নির্ধারিত শর্তে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর যোগ্য হতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বড় সুযোগ - যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থী যদি বৈধ গ্রিন কার্ডধারী হন, তাহলে শুধু মার্কিন নাগরিক না হওয়ার কারণে তিনি পেল গ্রান্ট থেকে বাদ পড়বেন না। তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার পাওয়া নিশ্চিত নয়। পেল গ্রান্ট মূলত আর্থিক প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা। শিক্ষার্থীর ফাফসা তে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার যোগ্যতা ও সম্ভাব্য অনুদানের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড জানিয়েছে, শুধু পরিবারের আয় দেখেই পেল গ্রান্ট-এর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় না। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কর দাখিলের অবস্থা, ফেডারেল দারিদ্র্য নির্দেশিকা-সহ একাধিক বিষয় হিসাবের মধ্যে আসে। এফ-১ শিক্ষার্থীরা কি পেল গ্রান্ট পাবেন? যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আসা বাংলাদেশিদের জন্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০২৬-২৭ ফাফসা নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এফ-১ বা এফ-২ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ বা জে-২ বিনিময় দর্শনার্থী ভিসা থাকা ব্যক্তিদের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর ক্ষেত্রে যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে শুধু এসব ভিসার ভিত্তিতে তারা ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাবেন না। তবে এর অর্থ এই নয় যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের আর্থিক সহায়তার দরজা বন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের নিজস্ব বৃত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কিংবা বেসরকারি বৃত্তির নিয়ম আলাদা হতে পারে। ডাকা থাকলেও পেল গ্রান্ট নয় - শৈশবে আগতদের জন্য স্থগিত ব্যবস্থা বা ডাকা পাওয়া শিক্ষার্থীরাও বর্তমানে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর জন্য যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন না। তবে ডাকা (DACA) প্রাপ্ত কোনো শিক্ষার্থীর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলে তিনি ফাফসা পূরণ করতে পারেন। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী কোনো অঙ্গরাজ্য বা কলেজের নিজস্ব আর্থিক সহায়তার জন্য যোগ্য কি না, তা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু ফাফসা পূরণ করতে পারা মানেই ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য হওয়া নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলেই পেল গ্রান্ট নয় - অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে। কারও সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকলেই তিনি পেল গ্রান্ট পাবেন, এমন কোনো নিয়ম নেই। ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা যোগ্য অ-নাগরিক মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়তা কর্মসূচির অন্য শর্তও পূরণ করতে হয়। পেল গ্রান্ট আসলে কী? পেল গ্রান্ট এবং শিক্ষাঋণ এক বিষয় নয়। ফেডারেল পেল গ্রান্ট মূলত আর্থিক প্রয়োজন থাকা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফেডারেল অনুদান। সাধারণ পরিস্থিতিতে এই অর্থ ফেরত দিতে হয় না। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেলে, অনুদানের কিছু অংশ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ পুরস্কার বছরে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার পেল গ্রান্ট পেতে পারেন। তবে সবাই সর্বোচ্চ পরিমাণ পাবেন না। ব্যক্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা দুই বছরের কমিউনিটি কলেজ, পেশাগত বিদ্যালয়, কারিগরি বিদ্যালয়, যোগ্য অনলাইন বিদ্যালয় এবং চার বছরের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সংশ্লিষ্ট খরচে পেল গ্রান্ট ব্যবহার করতে পারেন। একজন যোগ্য শিক্ষার্থী সাধারণভাবে প্রায় ছয় বছর বা ১২টি শিক্ষামেয়াদের সমপরিমাণ সময় পর্যন্ত পেল গ্রান্ট পাওয়ার সুযোগ পান। বছরগুলো একটানা হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। কীভাবে আবেদন করবেন? পেল গ্রান্ট-এর জন্য সাধারণত আলাদা কোনো আবেদন করতে হয় না। শিক্ষার্থীকে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড এর জন্য বিনামূল্যের আবেদন বা ফাফসা পূরণ করতে হয়। ফাফসা জমা দেওয়ার পর ফাফসা জমা সারসংক্ষেপে শিক্ষার্থী তার সম্ভাব্য পেল গ্রান্ট-এর একটি আনুমানিক হিসাব দেখতে পারেন। তবে সেটিই চূড়ান্ত অর্থের নিশ্চয়তা নয়। শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তা দপ্তর চূড়ান্তভাবে কত ধরনের এবং কত পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে নিজেরা অনুমান না করে ফাফসা পূরণের পরামর্শ দিয়েছে। কারণ অনেক পরিবার শুধু আয় বা অভিবাসন পরিস্থিতি দেখে আগেই ধরে নেয় যে তারা কোনো সহায়তা পাবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য মূল বিষয়টি হলো, সন্তান মার্কিন নাগরিক না হলেও পেল গ্রান্ট-এর সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী, শরণার্থী, আশ্রয় মঞ্জুর হওয়া ব্যক্তি এবং সরকারের নির্ধারিত আরও কিছু যোগ্য অ-নাগরিক এই সহায়তার আওতায় আসতে পারেন। অন্যদিকে এফ-১, এফ-২, জে-১, জে-২ বা ডাকা অবস্থানকে বর্তমানে ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য অভিবাসন মর্যাদা হিসেবে গণ্য করা হয় না। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি আলাদা। তাই নিজের অভিবাসন মর্যাদা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে অনুমান করার পরিবর্তে ফাফসা পূরণ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের আর্থিক সহায়তা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করাই যোগ্যতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে জীবনের সব স্মৃতি, স্বপ্ন আর প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে দুটি স্যুটকেস হাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এক দক্ষিণ এশীয় তরুণী। দুবাইয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে। এখন তার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী কাজে যুক্ত হওয়া এবং একদিন ইউনাইটেড নেশন এ কাজ করা। তরুণীর পারিবারিক জীবন সহজ ছিল না। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তার মা একাই তিন সন্তানকে বড় করেছেন। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে যেখানে অল্প বয়সী মেয়েদের একা বিদেশে পড়তে পাঠানো খুব সাধারণ নয়, সেখানে তার মা সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে স্বাধীন ও শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। তরুণী জানান, তার মা অল্প বয়সেই বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাই তিনি চেয়েছিলেন মেয়ের জীবনে সেই চক্র ভাঙতে। মায়ের সেই সাহস এবং আত্মত্যাগই তাকে নতুন জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত এক পৃথিবী। কোনো বন্ধু বা আত্মীয় ছাড়াই তাকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, নিজে রান্না করা, পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনযাপনের প্রতিটি বিষয় তাকে নতুন করে শিখতে হয়েছে। প্রথমে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডে আনজা কলেজে ভর্তি হন। সেখানে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একাডেমিক সাফল্য অর্জনের পর ২০২৫ সালের বসন্তে ট্রান্সফার হওয়ার সুযোগ পান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে, যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। বার্কলিতে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার মুহূর্তটি তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতিগুলোর একটি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে দুবাইয়ে থাকা মাকে ফোন করেন। তখন ভোর ৪টা হলেও মা আনন্দে সেই খবর উদযাপন করেছিলেন। তরুণীর ভাষায়, “বার্কলিতে ভর্তি হওয়া শুধু আমার নয়, আমার মা ও আমার যৌথ সংগ্রামের ফল।” শুধু পড়াশোনাতেই নয়, নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেছেন তিনি। বার্কলিতে “মুসলিম টেক কোলাবরেটিভ ”–এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক অর্থনীতি (পলিটিকাল ইকোনোমি) বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি কীভাবে মানুষের জীবন ও সমাজকে প্রভাবিত করে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতেই তার আগ্রহ বেশি। স্নাতক শেষ করার পর তিনি সান ফ্রান্সিসকোর কোনো স্টার্টআপে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে বিশ্বের বিভিন্ন কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখছেন। আর সেই লক্ষ্য থেকেই একদিন জাতিসংঘে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন এই তরুণী। অনেকের কাছে এটি শুধুই একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প। কিন্তু বাস্তবে এটি একজন মায়ের সাহস, একটি মেয়ের আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।