মার্কিন নাগরিক না হলেও মিলতে পারে ৭,৩৯৫ ডলার পর্যন্ত পেল গ্রান্ট, কোন অভিবাসীরা পান এই সহায়তা
আমেরিকায় কলেজে পড়ার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিবাসী পরিবারগুলোর অনেকেই জানেন না, মার্কিন নাগরিক না হলেও নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদায় থাকা শিক্ষার্থীরা ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যোগ্য শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ পেল গ্রান্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার। এটি কোনো শিক্ষাঋণ নয়, বরং ফেডারেল সরকারের দেওয়া শিক্ষা অনুদান, যা সাধারণত ফেরত দিতে হয় না।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর ২০২৬-২৭ সালের হালনাগাদ ফাফসা নির্দেশনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফেডারেল শিক্ষাসহায়তা পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে মার্কিন নাগরিক অথবা সরকারের সংজ্ঞা অনুযায়ী যোগ্য অ-নাগরিক হতে হবে। অর্থাৎ শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্যই পেল গ্রান্ট সীমাবদ্ধ নয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা কিংবা বৈধ কোনো ভিসা থাকলেই পেল গ্রান্ট পাওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। শিক্ষার্থীর অভিবাসন মর্যাদা, আর্থিক প্রয়োজন এবং ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত বিবেচনা করা হয়।
কারা যোগ্য অ-নাগরিক - ২০২৬-২৭ ফাফসা ফরমের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড বা গ্রিন কার্ড থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। শর্তযুক্ত গ্রিন কার্ড থাকা শর্তযুক্ত স্থায়ী বাসিন্দারাও এই শ্রেণিতে পড়তে পারেন।
এ ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নথিতে শরণার্থী বা আশ্রয়প্রাপ্ত মর্যাদা থাকা ব্যক্তিরাও যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
কিছু প্যারোলপ্রাপ্ত ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। ২০২৬-২৭ ফাফসা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আই-৯৪ নথিতে অন্তত এক বছরের জন্য প্যারোল করার বিষয়টি নিশ্চিত থাকতে হবে এবং সেই মর্যাদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া চলবে না।
কিউবান-হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং নির্দিষ্ট টি-ভিসাধারীরাও যোগ্য অ-নাগরিক শ্রেণির মধ্যে থাকতে পারেন। মানবপাচারের শিকার কোনো ব্যক্তির কাছে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বৈধ সনদ বা যোগ্যতার চিঠি থাকলেও তিনি নির্ধারিত শর্তে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর যোগ্য হতে পারেন।
গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বড় সুযোগ - যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থী যদি বৈধ গ্রিন কার্ডধারী হন, তাহলে শুধু মার্কিন নাগরিক না হওয়ার কারণে তিনি পেল গ্রান্ট থেকে বাদ পড়বেন না।
তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার পাওয়া নিশ্চিত নয়। পেল গ্রান্ট মূলত আর্থিক প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা। শিক্ষার্থীর ফাফসা তে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার যোগ্যতা ও সম্ভাব্য অনুদানের পরিমাণ নির্ধারিত হয়।
ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড জানিয়েছে, শুধু পরিবারের আয় দেখেই পেল গ্রান্ট-এর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় না। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কর দাখিলের অবস্থা, ফেডারেল দারিদ্র্য নির্দেশিকা-সহ একাধিক বিষয় হিসাবের মধ্যে আসে।
এফ-১ শিক্ষার্থীরা কি পেল গ্রান্ট পাবেন? যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আসা বাংলাদেশিদের জন্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
২০২৬-২৭ ফাফসা নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এফ-১ বা এফ-২ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ বা জে-২ বিনিময় দর্শনার্থী ভিসা থাকা ব্যক্তিদের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর ক্ষেত্রে যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে শুধু এসব ভিসার ভিত্তিতে তারা ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাবেন না।
তবে এর অর্থ এই নয় যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের আর্থিক সহায়তার দরজা বন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের নিজস্ব বৃত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কিংবা বেসরকারি বৃত্তির নিয়ম আলাদা হতে পারে।
ডাকা থাকলেও পেল গ্রান্ট নয় - শৈশবে আগতদের জন্য স্থগিত ব্যবস্থা বা ডাকা পাওয়া শিক্ষার্থীরাও বর্তমানে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর জন্য যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন না।
তবে ডাকা (DACA) প্রাপ্ত কোনো শিক্ষার্থীর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলে তিনি ফাফসা পূরণ করতে পারেন। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী কোনো অঙ্গরাজ্য বা কলেজের নিজস্ব আর্থিক সহায়তার জন্য যোগ্য কি না, তা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু ফাফসা পূরণ করতে পারা মানেই ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য হওয়া নয়।
সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলেই পেল গ্রান্ট নয় - অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে। কারও সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকলেই তিনি পেল গ্রান্ট পাবেন, এমন কোনো নিয়ম নেই।
ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা যোগ্য অ-নাগরিক মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়তা কর্মসূচির অন্য শর্তও পূরণ করতে হয়।
পেল গ্রান্ট আসলে কী? পেল গ্রান্ট এবং শিক্ষাঋণ এক বিষয় নয়।
ফেডারেল পেল গ্রান্ট মূলত আর্থিক প্রয়োজন থাকা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফেডারেল অনুদান। সাধারণ পরিস্থিতিতে এই অর্থ ফেরত দিতে হয় না। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেলে, অনুদানের কিছু অংশ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ পুরস্কার বছরে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার পেল গ্রান্ট পেতে পারেন। তবে সবাই সর্বোচ্চ পরিমাণ পাবেন না। ব্যক্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে।
যোগ্য শিক্ষার্থীরা দুই বছরের কমিউনিটি কলেজ, পেশাগত বিদ্যালয়, কারিগরি বিদ্যালয়, যোগ্য অনলাইন বিদ্যালয় এবং চার বছরের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সংশ্লিষ্ট খরচে পেল গ্রান্ট ব্যবহার করতে পারেন।
একজন যোগ্য শিক্ষার্থী সাধারণভাবে প্রায় ছয় বছর বা ১২টি শিক্ষামেয়াদের সমপরিমাণ সময় পর্যন্ত পেল গ্রান্ট পাওয়ার সুযোগ পান। বছরগুলো একটানা হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়।
কীভাবে আবেদন করবেন? পেল গ্রান্ট-এর জন্য সাধারণত আলাদা কোনো আবেদন করতে হয় না। শিক্ষার্থীকে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড এর জন্য বিনামূল্যের আবেদন বা ফাফসা পূরণ করতে হয়।
ফাফসা জমা দেওয়ার পর ফাফসা জমা সারসংক্ষেপে শিক্ষার্থী তার সম্ভাব্য পেল গ্রান্ট-এর একটি আনুমানিক হিসাব দেখতে পারেন। তবে সেটিই চূড়ান্ত অর্থের নিশ্চয়তা নয়। শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তা দপ্তর চূড়ান্তভাবে কত ধরনের এবং কত পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করে।
ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে নিজেরা অনুমান না করে ফাফসা পূরণের পরামর্শ দিয়েছে। কারণ অনেক পরিবার শুধু আয় বা অভিবাসন পরিস্থিতি দেখে আগেই ধরে নেয় যে তারা কোনো সহায়তা পাবে না।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য মূল বিষয়টি হলো, সন্তান মার্কিন নাগরিক না হলেও পেল গ্রান্ট-এর সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী, শরণার্থী, আশ্রয় মঞ্জুর হওয়া ব্যক্তি এবং সরকারের নির্ধারিত আরও কিছু যোগ্য অ-নাগরিক এই সহায়তার আওতায় আসতে পারেন। অন্যদিকে এফ-১, এফ-২, জে-১, জে-২ বা ডাকা অবস্থানকে বর্তমানে ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য অভিবাসন মর্যাদা হিসেবে গণ্য করা হয় না।
শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি আলাদা। তাই নিজের অভিবাসন মর্যাদা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে অনুমান করার পরিবর্তে ফাফসা পূরণ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের আর্থিক সহায়তা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করাই যোগ্যতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে কাজের জন্য সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে কর্মক্ষেত্রবিষয়ক পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠান গ্লাসডোর। তালিকার শীর্ষে জায়গা পেয়েছে ইন্ডিয়ানাভিত্তিক পারিবারিক মালিকানাধীন গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠান ক্রু কারওয়াশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান ইন-এন-আউট বার্গার এবং তৃতীয় স্থানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। গ্লাসডোরের ১৮তম বার্ষিক ‘বেস্ট প্লেসেস টু ওয়ার্ক’ প্রতিবেদনে কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন খাতের মোট ১০০টি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। গ্লাসডোরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক হাজার কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের দেওয়া পর্যালোচনা বিশ্লেষণ করে তালিকাটি তৈরি করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জমা পড়া মতামত এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের কাছে তাঁদের সামগ্রিক কর্মসন্তুষ্টির পাশাপাশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা, পেশাগত উন্নতির সুযোগ, প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ, বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনার ভূমিকা এবং কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এসব বিষয়ে কর্মীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকার প্রথম স্থানে থাকা ক্রু কারওয়াশ ২০২৪ সালের তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিল। কর্মীদের প্রতি ব্যবস্থাপনার সহযোগিতামূলক মনোভাব, পেশাগত উন্নতির সুযোগ এবং দলগত কাজের পরিবেশ প্রতিষ্ঠানটির ভালো অবস্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে গ্লাসডোর উল্লেখ করেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন-এন-আউট বার্গারের রেটিং ৫-এর মধ্যে ৪ দশমিক ৫। একই রেটিং পেয়েছে তৃতীয় স্থানে থাকা এনভিডিয়া, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার চিপ প্রযুক্তির জন্য পরিচিত। তালিকার শীর্ষ তিনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গাড়ি ধোয়া ও খাদ্যসেবা খাতের প্রতিষ্ঠান থাকায় কর্মক্ষেত্রের মান যে শুধু প্রযুক্তি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা উঠে এসেছে। শীর্ষ ১০-এর চতুর্থ স্থানে রয়েছে অর্থ ও করসংক্রান্ত সেবা প্রতিষ্ঠান রায়ান, পঞ্চম স্থানে আবাসন ব্যবসার প্রতিষ্ঠান কেলার উইলিয়ামস এবং ষষ্ঠ স্থানে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মার্স। সপ্তম স্থানে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সার্ভিসনাউ, অষ্টম স্থানে ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কোম্পানি, নবম স্থানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিউস্টন মেথডিস্ট এবং দশম স্থানে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইপাম সিস্টেমস। তালিকার প্রথম ছয় প্রতিষ্ঠানের রেটিং ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৬-এর মধ্যে। সার্ভিসনাউ, বেইন অ্যান্ড কোম্পানি, হিউস্টন মেথডিস্ট ও ইপাম সিস্টেমসের রেটিং ৫-এর মধ্যে ৪ দশমিক ৪। প্রতিবেদনে প্রযুক্তি খাতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে আসার প্রবণতাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেরা ১০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি রয়েছে ২৪টি। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৬, আর ২০২৪ সালে ছিল ৩১। গ্লাসডোরের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ঝাওয়ের মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই এবং দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে খাতটির কর্মক্ষেত্রের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। তবে প্রযুক্তি খাতে উচ্চ বেতন ও পেশাগত উন্নতির সুযোগ এখনো রয়েছে। অন্যদিকে, কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তাকে ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে অফিসে ফিরে কাজ করার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিয়ে কঠোর নীতির কারণে কর্মীদের পছন্দে পরিবর্তন আসছে। এ বছরের তালিকায় খুচরা বিক্রয় খাতের ১০টি এবং উৎপাদন খাতের ৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্লাসডোরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কর্মীদের জন্য সহায়ক নেতৃত্ব, উন্নতির সুযোগ, ভালো কর্মপরিবেশ এবং কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন খাত থেকেই সেরা কর্মক্ষেত্রের স্বীকৃতি পাচ্ছে। সূত্র: সিএনবিসি ও গ্লাসডোর।
মেয়েকে হত্যার অভিযোগে প্রায় ৩০ বছর পর মেক্সিকোয় আটক পলাতক মা
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় থাকতে নিট সম্পদ হতে হবে ১৮ লাখ ডলার
নিউ ইয়র্কের কুইন্স পার্কে গর্ত থেকে নারীর পচনশীল মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় অজানা
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ উদ্যোগে রাস্তায় চারটি স্পিডব্রেকার বসিয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী এক বাসিন্দা। এলাকার সড়কে দ্রুতগতির গাড়ি চলাচল নিয়ে উদ্বিগ্ন বরিস মেসেস নামের ওই ব্যক্তি শহর কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে এ পদক্ষেপ নেন। গত সপ্তাহে সাইপ্রেস হিলস এলাকার মিলার অ্যাভিনিউ ও আরলিংটন অ্যাভিনিউয়ের আশপাশে স্পিডব্রেকারগুলো বসান তিনি। নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য পাওয়া এসব স্পিডব্রেকার নিজেই রাস্তায় স্থাপন করেন মেসেস। তাঁর ভাষ্য, সড়কটি শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে এবং গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসেসের অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসানোর জন্য নগর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাঁদের আবেদনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর। গত মার্চে একটি গাড়ি তাঁর পার্ক করে রাখা গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাও সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। এসব কারণে নিজেই উদ্যোগ নিয়ে স্পিডব্রেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর মতে, এতে এলাকার শিশুদের পাশাপাশি অন্য পথচারী ও বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন। নিজের উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মেসেস বলেন, এই রাস্তায় প্রতিদিন দ্রুতগতিতে গাড়ি চলাচল করে, যা সবার জন্যই বিপজ্জনক। তাঁর ভাষায়, ‘এটি সবার জন্যই ভালো। এই রাস্তাটি বিপজ্জনক।’ জরিমানা করা হলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান। স্পিডব্রেকারগুলো যেন সহজে সরে না যায়, সে জন্য বিশেষ ধরনের স্ক্রু ব্যবহার করে সেগুলো রাস্তার সঙ্গে আটকে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এভাবে সড়কে স্থাপনা বসানোর বিষয়টি আইনগতভাবে কীভাবে বিবেচিত হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেসেসের বসানো স্পিডব্রেকারগুলো পরীক্ষা করেনি বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি হল ও নগরীর পরিবহন বিভাগের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর উদ্যোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হয়নি। নিজে স্পিডব্রেকার বসিয়েই অবশ্য সন্তুষ্ট নন মেসেস। তাঁর মতে, সড়কটির বাকি অংশেও একই ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাতে গাড়ির গতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সড়কের বাকি অংশের দিকে ইঙ্গিত করে নগর কর্তৃপক্ষের প্রতি আরও স্পিডব্রেকার বসানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মেসেস বলেন, সেখানে আরও দুটি বা তিনটি স্পিডব্রেকার বসানো উচিত। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ সাইপ্রেস হিলস এলাকার সড়ক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবিকে আবারও সামনে এনেছে। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ।
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘নরওয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না’
বাবা-মাকে হারানোর ভয়ে স্কুল ছাড়ল শিক্ষার্থীরা, অভিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাস্তায় কিশোররা
ফ্লোরিডায় ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেও স্কুলছাত্রীর জন্য বেঞ্চ বানালেন দম্পতি, ভিডিও ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই সেবা পরিচালনার জন্য নতুন অবকাঠামো তৈরি করছে। কিন্তু এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় জনগণের ওপর সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্সের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেটা সেন্টার নির্মাণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, স্থানীয় বিরোধিতা এবং নতুন নিয়ন্ত্রণের কারণে কিছু প্রকল্পের অনুমোদন ও নির্মাণের সময়সূচি প্রভাবিত হতে পারে। ডেটা সেন্টার হলো এমন একটি স্থাপনা যেখানে হাজার হাজার সার্ভার ও কম্পিউটার ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং অনলাইন সেবা পরিচালিত হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণ ও চালানোর জন্য এসব স্থাপনার গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে। তবে বড় ডেটা সেন্টার চালাতে বিপুল বিদ্যুৎ লাগে এবং শীতলীকরণের জন্য প্রকল্পভেদে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানিও প্রয়োজন হতে পারে। বাসিন্দাদের অন্যতম উদ্বেগ বিদ্যুতের বিল। নতুন ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামো সম্প্রসারণ করতে হলে সেই খরচ কীভাবে ভাগ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নতুন গ্রিড অবকাঠামোর ব্যয় সাধারণ গ্রাহকের ওপর পড়বে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে ডেটা সেন্টার নির্মাণ হলেই কোনো এলাকায় বিদ্যুতের বিল বাড়বে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না; স্থানীয় বিদ্যুৎব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত এবং বড় গ্রাহকদের কাছ থেকে খরচ আদায়ের নিয়মের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে। রয়টার্স ও ইপসসের জুন ২০২৬-এর জরিপে ৭৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে এআই ডেটা সেন্টারের বিস্তার বিদ্যুতের খরচ বাড়াতে পারে। একই জরিপে ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী নিজেদের এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করেন। এগুলো জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের মতামত; যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি এলাকার পরিস্থিতি একই নয়। অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তি, ডেটা সেন্টার নির্মাণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ, নির্মাণকাজের চাকরি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্থানীয় সরকারও কর-আয় ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করে এসব প্রকল্পের অনুমোদন দিতে পারে। তবে প্রকৃত সুবিধা কতটা হবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের ধরন, স্থানীয় নিয়োগ এবং পরিবেশ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপর। এই বিতর্কের মধ্যে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় কমিউনিটিকে আরও তথ্য দেওয়া, অবকাঠামোগত ব্যয়ে অংশ নেওয়া এবং পরিবেশগত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, শুধু আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; বাসিন্দাদের মতামত, স্বচ্ছতা এবং বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসায়ীদের জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। কোনো এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব এলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের শুনানি, বিদ্যুৎ সরবরাহকারীর ঘোষণা এবং পরিবেশগত পর্যালোচনার তথ্য দেখা যেতে পারে। এতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য চাকরি, অবকাঠামো এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। ডেটা সেন্টার নিয়ে বিতর্কের মূল প্রশ্ন এখন শুধু এআই প্রযুক্তি কত দ্রুত এগোবে তা নয়; বরং সেই অগ্রগতির ব্যয় কে বহন করবে এবং স্থানীয় জনগণ কীভাবে এর সুবিধা পাবে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রকল্পের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চলতে থাকায় প্রযুক্তি খাত, স্থানীয় সরকার এবং বাসিন্দাদের মধ্যে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্বস্তি পেলেন লাখো অভিবাসী, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না ইউক্রেনীয়দের
নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন নিষ্পত্তিতে বাড়ছে দীর্ঘসূত্রতা