সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

কস্টকো

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্ক ফেরত পেল কস্টকো, গ্রাহকদের জন্য কমছে দাম
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্ক ফেরত পেল কস্টকো, গ্রাহকদের জন্য কমছে দাম

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রিটেইল জায়ান্ট কস্টকো বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ প্রান্তিকে তারা ১৮ কোটি ৪০ লাখ (১৮৪ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার শুল্ক ফেরত পেয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজেদের মুনাফা হিসেবে রেখে না দিয়ে, এর বড় একটি অংশ গ্রাহকদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম কমানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।   কস্টকো নিশ্চিত করেছে যে, তাদের ওয়্যারহাউসগুলোতে কেনাকাটা করা সদস্যদের জন্য খাদ্যপণ্য ও পানীয়সহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যের দাম ইতোমধ্যে কমানো হয়েছে।   সম্প্রতি এক আর্নিংস কলে কস্টকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রন ভ্যাচরিস জানান, চতুর্থ প্রান্তিকে তারা প্রাথমিকভাবে কিছু শুল্ক ফেরত পেয়েছেন এবং গ্রাহকদের সেরা ভ্যালু বা সুবিধা নিশ্চিত করতে এই অর্থের একাংশ পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।   তিনি আরও জানান, প্রান্তিকের দ্বিতীয়ার্ধে শাকসবজি-ফলমূল, মাংস, পানীয় থেকে শুরু করে ঘরের আসবাবপত্র ও হার্ডওয়্যারের মতো বেশ কিছু খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।   কস্টকোর চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) গ্যারি মিলারচিপ এই উদ্যোগকে সদস্যদের জন্য 'শুল্ক ফেরতের সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   তাঁর মতে, যে পণ্যগুলোর দাম কমালে গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন, মূলত সেগুলোর ক্ষেত্রেই এই অর্থ ব্যবহার করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।   মিলারচিপ জানান, কস্টকোর প্রাপ্ত ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের মধ্যে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার হলো মূল শুল্ক ফেরত এবং বাকি ১ কোটি ডলার এসেছে সুদ হিসেবে।   তিনি আরও জানান, আগামী দিনে যে পরিমাণ শুল্ক ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা কস্টকো করছে, এটি তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এবং প্রথম প্রান্তিকেও তারা সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পেয়েছিল।   প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো, ভবিষ্যতেও প্রাপ্ত শুল্কের বড় অংশ একইভাবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে বিনিয়োগ করা।   গত বছর কস্টকোর পণ্যের ওপর শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সিইও ভ্যাচরিস জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকলেও তৃতীয় প্রান্তিক থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন গ্রোসারি ব্র্যান্ডের লড়াই: কস্টকো নাকি অ্যালডি, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে কে?
মার্কিন গ্রোসারি ব্র্যান্ডের লড়াই: কস্টকো নাকি অ্যালডি, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে কে?

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রোসারি বা মুদি পণ্যের বাজারে গ্রাহকদের সেরা ভ্যালু প্রদানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি কৌশল অনুসরণ করে কস্টকো (Costco) এবং অ্যালডি (Aldi)। কস্টকো যেখানে মেম্বারশিপ-ভিত্তিক ওয়্যারহাউস মডেলের মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে, অ্যালডি সেখানে ডিসকাউন্ট সুপারমার্কেট ফরম্যাটের সুবিধা দিয়ে থাকে।   তবে উভয়েরই উদ্দেশ্য একটাই—সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা পণ্য পেতে আগ্রহী গ্রাহকদের মন জয় করা। ইউগভ ব্র্যান্ডইনডেক্সের (YouGov BrandIndex) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, সামগ্রিক ভ্যালু পারসেপশনের দিক থেকে মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩৮ নিট স্কোর নিয়ে অ্যালডিকে (৩৫) পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে কস্টকো। তবে বিভিন্ন প্রজন্মের ক্রেতাদের মনোভাব বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানে বেশ কিছু চমকপ্রদ পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।   বাজেট-সচেতন এই দুটি ব্র্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানটি দেখা যায় জেন-জি (Gen Z) বা তরুণ প্রজন্মের ক্রেতাদের ক্ষেত্রে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, জেন-জি ক্রেতাদের কাছে কস্টকোর ভ্যালু স্কোর ছিল ৪৪, যেখানে অ্যালডির স্কোর ছিল ৩২—অর্থাৎ ১২ পয়েন্টের স্পষ্ট ব্যবধান।   মিলেনিয়ালদের (Millennials) মধ্যেও ৯ পয়েন্টের ব্যবধান (৪৩ বনাম ৩৪) নিয়ে কস্টকো এগিয়ে থাকলেও, জেনারেশন এক্স (Gen X) ক্রেতাদের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো; সেখানে ৩৩ স্কোর পাওয়া কস্টকোর চেয়ে ৩৫ স্কোর নিয়ে এগিয়ে আছে অ্যালডি।   অন্যদিকে, বেবি বুমারস+ (Baby Boomers+) প্রজন্মের কাছে ব্র্যান্ড দুটির অবস্থান সমান (উভয়েরই স্কোর ৩৭)। তবে সামগ্রিক হিসাবের বাইরে ২০২৬ সালজুড়ে জেন-জি প্রজন্মের পছন্দের ক্ষেত্রে বেশ উত্থান-পতন দেখা গেছে।   উভয় রিটেইলারের জন্যই জেন-জি ক্রেতারা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউগভ প্রোফাইলসের তথ্যমতে, বর্তমানে কস্টকোর মোট গ্রাহকের ১৮ শতাংশ এবং অ্যালডির ১৩ শতাংশই হলেন প্রাপ্তবয়স্ক জেন-জি মার্কিনি। বছর শুরুতে এই প্রজন্মের মাঝে কস্টকোর ব্যাপক আধিপত্য (৪৬ বনাম ২৭ স্কোর) থাকলেও, বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই লড়াই আরও তীব্র হয়।   জানুয়ারির শেষে অ্যালডি তাদের স্কোর ৪০-এ উন্নীত করে কস্টকোর (৪৯) সঙ্গে ব্যবধান ৯ পয়েন্টে নামিয়ে আনে। গ্রীষ্মের শুরুতে (৭ জুন) কস্টকো আবারও ৫১ স্কোর নিয়ে অ্যালডির (৩৩) চেয়ে অনেক এগিয়ে যায়, কিন্তু জুন থেকে আগস্টের মধ্যে কস্টকোর স্কোর ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে (আগস্টের শেষে তা ৩৮-এ দাঁড়ায়)।   একই সময়ে অ্যালডির স্কোর তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল (আগস্ট শেষে ৩৩)। ফলে বছরের শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানে জেন-জি ক্রেতাদের কাছে ব্র্যান্ড দুটির ভ্যালু পারসেপশনের ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে কস্টকোর ধারাবাহিক অবনমন এবং অ্যালডির ধীরগতির উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন ছুটির মৌসুমে জেন-জি ক্রেতাদের সেরা ভ্যালু ব্র্যান্ডের মুকুট নতুন কারও মাথায় উঠতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। ছবি: সংগৃহীত
শুল্কের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেল কস্টকো, কমাচ্ছে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে। কস্টকোর ভাষ্য, ফেরত পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে ইতিমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানো হয়েছে।   কস্টকোর কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানান, ফেরত পাওয়া অর্থের মধ্যে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্কের টাকা এবং ১ কোটি ডলার সুদ। প্রতিষ্ঠানটি আরও অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করছে। ভবিষ্যতে পাওয়া অর্থের বেশির ভাগও সদস্য ক্রেতাদের জন্য পণ্যের দাম কমানোসহ অন্যান্য সুবিধায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান।   কস্টকোর প্রধান নির্বাহী রন ভ্যাকরিস বলেন, গত প্রান্তিকের শেষ ভাগে ফলমূল ও শাকসবজি, মাংস এবং পানীয়সহ দৈনন্দিন কেনাকাটার বেশ কিছু পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। ঘরের আসবাব ও হার্ডওয়্যারের কিছু পণ্যের দামও কমেছে। তবে শুল্ক ফেরতের অর্থ থেকে কোনো ক্রেতাকে সরাসরি টাকা দেওয়ার ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটি দেয়নি।   ২০২৫ সালে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ওই আইনে প্রেসিডেন্টকে এভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এরপর আদায় করা শুল্কের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়।   কস্টকোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট শেষ হওয়া ১৬ সপ্তাহের প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুল্ক ফেরতের অর্থের একটি অংশ ক্রেতাদের সুবিধায় ব্যয় করার পরও তা প্রান্তিকের মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   কস্টকোর সদস্যদের জন্য এর বাস্তব অর্থ হলো নির্বাচিত পণ্যে কম দাম। কোন পণ্যের দাম কতটা কমবে, তা পণ্যভেদে নির্ভর করবে; সব কেনাকাটায় সমান ছাড় বা আগের কেনাকাটার বিপরীতে নগদ ফেরত দেওয়ার কথা প্রতিষ্ঠানটি জানায়নি।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
চাহিদা ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে কস্টকোতে মোটর অয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কস্টকোতে মোটর অয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ, ক্রেতা কতটুকু তেল কিনবেন, তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খুচরা বিক্রেতা কস্টকো কির্কল্যান্ড সিগনেচার পূর্ণ সিনথেটিক মোটর অয়েলের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের কেনার পরিমাণও সীমিত করেছে। ৫ কোয়ার্টের দুটি বোতলের প্যাকেট এখন প্রায় ৫৮ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে গত বছর একই পণ্যের দাম ছিল প্রায় ৩০ ডলার।    কস্টকোর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, কির্কল্যান্ড সিগনেচারের ৫ কোয়ার্টের দুই বোতলের প্যাক এখন প্রতি সদস্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুটি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। অর্থাৎ একবারে ১০ কোয়ার্ট মোটর অয়েল কেনা গেলেও একই সদস্য প্রতি সাত দিনে এর বেশি কিনতে পারবেন না।    শুধু কির্কল্যান্ড নয়, কস্টকোতে মোবিল ১-এর পূর্ণ সিনথেটিক মোটর অয়েলও কেনার সীমার আওতায় এসেছে। ১ কোয়ার্টের ছয় বোতলের প্যাকেটের দাম প্রায় ৪৪ ডলার এবং একজন সদস্য সর্বোচ্চ পাঁচটি প্যাক কিনতে পারবেন।    মোটর অয়েলের দাম বাড়ার পেছনে বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। সিনথেটিক মোটর অয়েল তৈরিতে ব্যবহৃত গ্রুপ থ্রি বেস অয়েল মূলত অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের বেস অয়েলের ৪০ শতাংশের বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সরবরাহ বিঘ্নের কারণে ওই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় মোটর অয়েলের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির জ্বালানি ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের দামও বেড়েছে।    মোটর অয়েলের বাড়তি দাম বিশেষ করে যেসব গাড়ির মালিক নিজেরাই তেল পরিবর্তন করেন, তাঁদের খরচ বাড়াতে পারে। কস্টকোর তুলনামূলক কম দামের পণ্য হিসেবে পরিচিত কির্কল্যান্ড মোটর অয়েলের দাম বাড়ায় নিয়মিত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণেও অতিরিক্ত খরচ গুনতে হতে পারে।   কস্টকো কেন দাম বাড়িয়েছে এবং কেনার সীমা নির্ধারণের বিষয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ফক্স বিজনেসের মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
কসকো মেম্বারশিপ নিয়ে পরে আফসোস করতে না চাইলে জেনে নিন ৫টি অসুবিধা
কসকোর মেম্বারশিপ নিয়ে পরে আফসোস করতে না চাইলে জেনে নিন ৫টি অসুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় চেইন সুপারশপ ‘কস্টকো’ তাদের মেম্বারশিপ ও বিশাল ছাড়ে একসঙ্গে অনেক পণ্য বিক্রির জন্য বেশ পরিচিত। তবে এই মেম্বারশিপ নেওয়ার আগে এর কিছু ব্যবহারিক ও আর্থিক অসুবিধার দিকগুলো মাথায় রাখা জরুরি।   অনেকেই সস্তায় পণ্য কেনার আশায় মেম্বারশিপ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা সবার জন্য সমানভাবে লাভজনক হয় না। প্রথমত, কস্টকোতে কেনাকাটা করতে হলে শুরুতেই একটি বার্ষিক ফি দিতে হয়, যা সাধারণ গোল্ড স্টার মেম্বারশিপের জন্য ৬৫ ডলার এবং এক্সিকিউটিভ মেম্বারশিপের জন্য ১৩০ ডলার।   যারা নিয়মিত কেনাকাটা করেন তাদের জন্য এটি লাভজনক হলেও, মাঝেমধ্যে শপিং করা গ্রাহকদের জন্য এই ফি উসুল করা বেশ কঠিন। এই ফির কারণে অনেক সময় গ্রাহকদের মধ্যে অপ্রয়োজনে কেনাকাটা করার একটি মানসিক চাপ তৈরি হয়।   দ্বিতীয়ত, কস্টকোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো পাইকারি বা বড় আকারে পণ্য কেনা। কিন্তু ছোট পরিবার বা একা থাকা মানুষদের জন্য এটি অনেক সময় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একসঙ্গে অনেক কাঁচাবাজার কিনলে তা পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেই সঙ্গে এসব বিশাল সাইজের পণ্য বা প্যাকেজ রাখার জন্য বাড়িতে পর্যাপ্ত স্টোরেজ বা জায়গারও অভাব দেখা দেয়।   তৃতীয়ত, গ্রাহকদের মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদে ফেলে অতিরিক্ত কেনাকাটা করানো কস্টকোর একটি অন্যতম কৌশল। অনেক সময় ‘অপূর্ব সুযোগ’ বা ডিকয় ইফেক্টের (Decoy effect) ফাঁদে পড়ে গ্রাহকরা তালিকা ছাড়াই এমন সব অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বসেন, যা তাদের বাজেটকে মুহূর্তেই ছাড়িয়ে যায়।   চতুর্থত, কস্টকোতে শপিং করা বেশ সময়সাপেক্ষ ও শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর একটি অভিজ্ঞতা। বিশাল পার্কিং লট, উপচে পড়া ভিড়, বিল দেওয়ার লম্বা লাইন এবং বড় কার্টে করে ভারী জিনিসপত্র গাড়িতে তোলা সবার জন্য সহজ নয়।   বিশেষ করে যাদের ছোট গাড়ি আছে, তাদের জন্য এই ভারী ও বড় আকারের পণ্যগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়া বেশ ঝামেলার। সর্বশেষ অসুবিধাটি হলো, কস্টকোর বিশাল স্টোরগুলো এমনভাবে সাজানো থাকে যে, নির্দিষ্ট কোনো পণ্য খুঁজে বের করা রীতিমতো এক গোলকধাঁধার মতো।   তা ছাড়া, এখানে সব ক্যাটাগরির বা সব ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যায় না। ফলে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা ভিন্ন স্বাদের কোনো কিছু খুঁজতে অনেক সময় গ্রাহকদের অন্য সুপারশপেরও দ্বারস্থ হতে হয়। তাই কস্টকো মেম্বারশিপ নেওয়ার আগে নিজের কেনাকাটার ধরন, স্টোরেজ সুবিধা এবং পরিবারের প্রকৃত প্রয়োজনগুলো ভালোভাবে হিসাব করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ওয়াশিংটনে সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত কস্টকো কর্মী টাইলার সোরেনসেন। ছবি: সংগৃহীত
পছন্দের নারীকে জড়িয়ে ধরায় সহকর্মীকে গাড়ির ধাক্কায় হত্যা করলেন কস্টকো কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কস্টকোর এক কর্মীর বিরুদ্ধে ঈর্ষা থেকে সহকর্মীকে মোটরসাইকেলসহ গাড়ির ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ধূসর রঙের সেডান গাড়ি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দিলে চালক ছিটকে পাশের একটি ধাতব সাইনপোস্টে আঘাত করেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী টাইলার সোরেনসেন ও নিহত ২০ বছর বয়সী জনাথন ল্যাংডন দুজনেই ওয়াশিংটনের ইসাকুয়ায় অবস্থিত কস্টকোতে কর্মরত ছিলেন।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ঘটনার আগে সোরেনসেন তার সহকর্মী সামান্থা পিটারসনকে ল্যাংডনের সঙ্গে আলিঙ্গন করতে দেখেন। সামান্থার প্রতি তার একতরফা আকর্ষণ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই দৃশ্য দেখার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পার্কিং এলাকা থেকে ল্যাংডন মোটরসাইকেলে বের হলে নিজের গাড়ি নিয়ে তার পিছু নেন।   তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পার্কিং লটেই প্রথমে গাড়ি দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যান সোরেনসেন। পরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ল্যাংডন বের হলে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেন। এতে ল্যাংডন ছিটকে গিয়ে একটি সড়কচিহ্নের খুঁটিতে সজোরে আঘাত করেন। মোটরসাইকেলটি চালক ছাড়াই সামনের দিকে কিছু দূর এগিয়ে যায়।   আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, আঘাতের তীব্রতায় ল্যাংডনের শরীর ধাতব খুঁটির সঙ্গে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা তাকে উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার পরা হেলমেটের সামনের অংশও আঘাতে খুলে গিয়েছিল। শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন সাইনপোস্টের সঙ্গে মিলে যায় বলেও তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন।   তদন্তকারীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর সোরেনসেন থেমে আহত সহকর্মীকে সাহায্য করেননি কিংবা জরুরি সেবায় ফোনও করেননি। বরং তিনি কিছু দূরে গিয়ে নিজের গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করে সেখান থেকে চলে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে জরিমানা করেন। তখন ওই কর্মকর্তা জানতেন না, কয়েক মাইল দূরেই একটি প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটেছে।   পরে সোরেনসেনের বাবা ঘটনাটি জানতে পেরে তাকে আবার ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গ্রেপ্তারের পর সোরেনসেন তদন্তকারীদের কাছে বলেন, "এটি বোকামি ছিল, কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই করেছি।" তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের আলিঙ্গন করতে দেখে তিনি আতঙ্কিত ও প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন।   তবে সামান্থা পিটারসন তদন্তকারীদের জানান, তার সঙ্গে সোরেনসেনের কখনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং তিনি একাধিকবার সোরেনসেনকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করছেন এবং তার থেকে দূরে থাকতে হবে।   এদিকে সোরেনসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক তার জামিন ২০ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৭ আগস্ট মামলার প্রাক-বিচার শুনানির জন্য আবারও আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার।   প্রকাশিত ভিডিওটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্ট। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাজারের খরচ কমাতে চান?ওয়ালমার্ট, কস্টকো নাকি স্যামস ক্লাব- কোথায় সবচেয়ে বেশি সাশ্রয়!

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বসবাস শুরু করা অনেক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে মাসিক বাজারের খরচ কমানো বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ওয়ালমার্ট, কস্টকো এবং স্যামস ক্লাব—তিনটি জনপ্রিয় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনটি বেছে নিলে বেশি সাশ্রয় হবে, তা নির্ভর করে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কেনাকাটার ধরন এবং বাসস্থানের অবস্থানের ওপর।   মেম্বারশিপ ছাড়াই কেনাকাটার সুযোগ থাকায় ছোট পরিবার ও একা বসবাসকারীদের জন্য ওয়ালমার্ট এখনও সবচেয়ে সহজ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে বড় পরিবার বা যারা একবারে বেশি পরিমাণে বাজার করেন, তাদের জন্য কস্টকো ও স্যামস ক্লাবের বাল্ক কেনাকাটা দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে।   ওয়ালমার্টে চাল, ডাল, তেল, সবজি, গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনের প্রায় সবকিছুই পাওয়া যায়। যেহেতু এখানে কোনো সদস্যপদ লাগে না, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে কেনাকাটা করা সহজ। যারা সপ্তাহভিত্তিক বাজার করেন বা সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা নেই, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক।   অন্যদিকে কস্টকোতে কেনাকাটা করতে বার্ষিক সদস্যপদ নিতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্ট্যান্ডার্ড সদস্যপদের বার্ষিক ফি বর্তমানে ৬৫ ডলার থেকে শুরু। তবে বড় প্যাকেজে পণ্য বিক্রির কারণে চাল, রান্নার তেল, মাংস, দুধ, ডায়াপার, টয়লেট পেপারসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যে ইউনিটপ্রতি খরচ তুলনামূলক কম পড়ে। এছাড়া অনেক কস্টকো শাখায় সদস্যদের জন্য তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি কেনার সুযোগও রয়েছে, যা নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সাশ্রয় এনে দিতে পারে।   স্যামস ক্লাবও একইভাবে সদস্যপদভিত্তিক একটি বাল্ক রিটেইল চেইন। ওয়ালমার্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অনেক এলাকায় গ্রোসারি ও গৃহস্থালির পণ্যে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং নিয়মিত মূল্যছাড় পাওয়া যায়। বড় পরিবার, রেস্তোরাঁ বা ছোট ব্যবসা পরিচালনাকারীদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় বিকল্প।   অর্থনৈতিক দিক থেকে কোন প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে লাভজনক হবে, তার একক কোনো উত্তর নেই। যদি পরিবারের সদস্যসংখ্যা কম হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত বাজার করার অভ্যাস থাকে, তাহলে ওয়ালমার্টই অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথেষ্ট।   অন্যদিকে চার থেকে ছয় সদস্যের পরিবার, যাদের বাসায় পর্যাপ্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং যারা মাসে এক বা দুইবার বড় পরিমাণে কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য কস্টকো বা স্যামস ক্লাবের সদস্যপদ নেওয়া লাভজনক হতে পারে। বিশেষ করে যদি বাসার কাছেই এসব স্টোর থাকে এবং একই সঙ্গে সেখান থেকে জ্বালানিও নেওয়া যায়, তাহলে সদস্যপদের খরচ কয়েক মাসের মধ্যেই উঠে আসতে পারে।   শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের দাম নয়; স্থানীয় অফার, কুপন, মৌসুমি মূল্যছাড় এবং নিজের কেনাকাটার অভ্যাস বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই শহরের ভিন্ন শাখাতেও পণ্যের দাম ও অফারে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।   তাই বাজারের খরচ কমাতে চাইলে সদস্যপদ নেওয়ার আগে নিজের এলাকার স্টোরগুলোর মূল্য, অফার এবং সদস্যপদের সুবিধাগুলো যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত হতে পারে।

Unknown আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
কস্টকোর প্রচারমূলক ইমেইল সংক্রান্ত মামলার সমঝোতায় ক্ষতিপূরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে কিছু গ্রাহকের জন্য। ছবি: সংগৃহীত
কস্টকোর গ্রাহকদের জন্য সুখবর! ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেতে পারেন ৫০০ ডলারের ও বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকোর কিছু গ্রাহক একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। নির্দিষ্ট অভিযোগের আওতায় থাকা গ্রাহকদের জন্য এই অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   মামলাটি কস্টকোর কিছু নির্দিষ্ট পণ্য ও গ্রাহক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, প্রতিষ্ঠানটির কিছু কার্যক্রমের কারণে গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে কস্টকো অভিযোগগুলো স্বীকার করেনি এবং কোনো অনিয়ম করার কথা অস্বীকার করেছে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হচ্ছে।   আদালতের অনুমোদিত নিষ্পত্তি চুক্তি অনুযায়ী, যোগ্য গ্রাহকরা তাদের দাবির ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি জমা দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছেন, তারাই এই অর্থ পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। ক্লাস অ্যাকশন মামলা হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া যেখানে একই ধরনের অভিযোগ থাকা অনেক ব্যক্তি একসঙ্গে একটি মামলা করেন। এতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে আলাদাভাবে মামলা পরিচালনা করতে হয় না।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে এমন নিষ্পত্তি গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আগে গ্রাহকদের অবশ্যই নিজেদের যোগ্যতা, দাবির শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কস্টকো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সদস্যভিত্তিক খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান, যেখানে লাখ লাখ গ্রাহক নিয়মিত পণ্য কেনাকাটা করেন। এ ধরনের আইনি নিষ্পত্তি তাই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের নজরে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব খন্দকারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

আপনার সন্তানকে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০