মিনেসোটায় সরকারের পক্ষ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত মামলায় একসময় সরকারের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেওয়া সোমালি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সালাহ ওসমান আহমেদ নামের ওই ব্যক্তি ২০০৯ সালে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তার অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। পরে তদন্তকারীদের সহযোগিতা ও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাঁর সাজা কমানোর সুপারিশ করেছিল সরকারই। কিন্তু প্রায় ১৩ বছর পর এবার তাঁর সেই পুরোনো অপরাধের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে বিচার বিভাগ। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই মামলার বিস্তারিত এবং এর সম্ভাব্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সালাহ ওসমান আহমেদ ২০০৭ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়ার মাত্র চার মাস পর তিনি সোমালিয়ায় যান এবং সশস্ত্র সংগঠন আল শাবাবের কার্যক্রমে যুক্ত হন। সে সময় ইথিওপীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছিল সংগঠনটি। পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আল শাবাবকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে আহমেদ সন্ত্রাসীদের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সংগঠনটির জন্য অর্থ ও লোকবল সংগ্রহের পাশাপাশি সোমালিয়ায় গিয়ে সশস্ত্র কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন।
তবে আহমেদের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মার্কিন তদন্তকারীদের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা। গ্রেপ্তারের পর তিনি সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত তদন্তে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সহায়তা করেন এবং একটি আলোচিত মামলায় সরকারের সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হন। ২০১৩ সালের মে মাসে তাঁর সাজা ঘোষণার সময় প্রসিকিউটররা বিচারককে জানান, তদন্তে আহমেদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্য এবং আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কম সাজা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কিন্তু ২০২৬ সালের ৭ মে মিনেসোটার ফেডারেল আদালতে আহমেদের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য নতুন দেওয়ানি মামলা দায়ের করে মার্কিন বিচার বিভাগ। সরকারের যুক্তি, নাগরিকত্ব পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আল শাবাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের নীতিমালার প্রতি প্রয়োজনীয় আনুগত্য পোষণ করতেন না। প্রসিকিউটরদের দাবি, নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তাঁর দেওয়া অঙ্গীকার প্রকৃতপক্ষে সঠিক ছিল না। এ কারণে তাঁর ন্যাচারালাইজেশন বাতিল এবং নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক হলো, নাগরিকত্ব পাওয়ার পরের কর্মকাণ্ডকে ভিত্তি করে বহু বছর আগের নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা। সাধারণত ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের মামলায় নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয়গুলো সামনে আসে। কিন্তু আহমেদের ক্ষেত্রে সরকার একটি পুরোনো এবং খুব কম ব্যবহৃত আইনি বিধানের ওপর নির্ভর করছে। এই বিধান অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হওয়া বা সংশ্লিষ্টতা তৈরি হওয়ার ঘটনা নাগরিকত্ব গ্রহণের সময়কার আনুগত্যের অভাবের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুক্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য হলে ভবিষ্যতের অন্য নাগরিকত্ব বাতিলের মামলাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ভিলানোভা ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ভিজিটিং অধ্যাপক ইরিনা মান্তা সিএনএনকে বলেন, মামলাটির গুরুত্ব শুধু একজন ব্যক্তির নাগরিকত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, সরকার এখানে আইনের এমন একটি বিধান প্রয়োগের চেষ্টা করছে, যার ব্যবহার অত্যন্ত বিরল এবং যার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ড দিয়ে অতীতে তাঁর আনুগত্যের অবস্থান নির্ধারণ করার চেষ্টা ভবিষ্যতে জটিল আইনি বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
আহমেদের আইনজীবী ড্যানিয়েল গার্ডস সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যে ব্যক্তি একসময় নিজের বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও সরকারের তদন্তে সহযোগিতা করেছিলেন, এখন সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইনজীবীর মতে, এতে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকা ব্যক্তিরা তদন্তকারীদের সহযোগিতা করতে অনাগ্রহী হতে পারেন। কারণ সরকারের হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার পরও নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকি থাকলে অনেকেই সামনে এগিয়ে আসতে চাইবেন না। আহমেদ নিজে আইনজীবীর মাধ্যমে সিএনএনের কাছে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
সন্ত্রাসবাদবিরোধী তদন্তে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন সাবেক এক ফেডারেল কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, এই ধরনের মামলা ভবিষ্যতে তদন্তকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব সংগঠন এখনো সক্রিয় রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়ার পর সাক্ষীর নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি হলে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারেন। তবে বিচার বিভাগ বলছে, প্রতিটি মামলায় তথ্যপ্রমাণ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত ইমিগ্রেশন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত ৫ অক্টোবর বিভাগটি আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার ঘোষণা দেয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করা, হত্যা, যৌন অপরাধসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে ১৭০টির বেশি দেওয়ানি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের হয়েছে বলে গবেষকদের হিসাবে উঠে এসেছে। তবে মামলার সংখ্যা বাড়লেও প্রত্যেকটি আবেদনের বিষয়ে আদালতকে পৃথকভাবে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
আহমেদের মামলায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে বিচারক পরিবর্তনের আবেদন ঘিরেও। মামলাটি মিনেসোটার ফেডারেল বিচারক প্যাট্রিক শিল্টজের আদালতে রয়েছে। গত ২০ অক্টোবর বিচার বিভাগ তাঁকে মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। সরকারের দাবি, মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিচারকের দেওয়া মন্তব্য তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিয়ে মন্তব্য করা বিচারকদের নৈতিক বিধিমালার আওতায় অনুমোদিত। আহমেদের আইনজীবীও বিচারককে সরানোর আবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।
আদালতের হালনাগাদ নথি অনুযায়ী, বিচারককে সরানোর আবেদন নিয়ে আগামী ২৩ নভেম্বর শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নাগরিকত্ব বাতিলের মূল মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে আরও কয়েক মাস কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এই পর্যায়ে আহমেদের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়নি। আদালত সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিলেও তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করার জন্য আলাদা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীদের জন্য মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর সংঘটিত অপরাধ কিংবা নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে কত বছর পরও নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া যায়, সেই প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে। তবে এই মামলার অর্থ এই নয় যে সাধারণ কোনো অপরাধ বা রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সালাহ ওসমান আহমেদের মামলায় সেই আইনের প্রয়োগ কতদূর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে, তা এখন ফেডারেল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে বসবাসের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভাড়াটিয়া ও বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখা পরিবারগুলো। শহরটিতে বাসাভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, একটি মধ্যম দামের বাড়ি কিনতে মাসে যে অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা ভাড়া থাকার খরচের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। ফলে কর্মজীবী মানুষ, নতুন অভিবাসী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আবাসন ব্যয় বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত Realtor.com-এর ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে বিজ্ঞাপিত বাসাভাড়ার মধ্যম মূল্য মাসে ৩ হাজার ৭৮৫ ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভাড়া বেড়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এই ভাড়া ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, কয়েক বছর আগের তুলনায় একই ধরনের বাসায় থাকার জন্য এখন পরিবারগুলোকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরটিতে মধ্যম দামের একটি বাড়ি কেনার আনুমানিক মাসিক ব্যয় ১০ হাজার ৭৩৭ ডলার। ভাড়া থাকার মধ্যম ব্যয়ের তুলনায় এটি মাসে ৬ হাজার ৯৫২ ডলার বেশি। বাড়ি কেনার এই হিসাবের মধ্যে বন্ধকী ঋণের কিস্তি, সম্পত্তির কর, বিমা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হিসাবটি করা হয়েছে বাড়ির দামের ১০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ এবং ৩০ বছরের ঋণের অনুমান ধরে। প্রকৃত ব্যয় বাড়ির ধরন, ঋণের সুদের হার ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ার পরিমাণেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ম্যানহাটনে মাসিক মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার, ব্রুকলিনে ৪ হাজার ১৯৭ ডলার, কুইন্সে ৩ হাজার ৭৪৪ ডলার এবং ব্রঙ্কসে ৩ হাজার ২৩৩ ডলার। ম্যানহাটনে আগের বছরের তুলনায় ভাড়া বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যান দেখায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসের ব্যয় নির্ধারণে অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভাড়ার এই চাপের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশি প্রবাসী পরিবারগুলোর ওপরও। অনেক পরিবারকে বাসাভাড়ার পাশাপাশি খাবার, যাতায়াত, শিশুদের দেখাশোনা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলাতে হয়। মাসিক আয়ের বড় অংশ বাসাভাড়ায় চলে গেলে সঞ্চয় করা, দেশে স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠানো কিংবা ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য অর্থ জমা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও একক আয়ের পরিবারগুলোকে বাসা নির্বাচনের সময় আয়, কর্মস্থলের দূরত্ব এবং যাতায়াত ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। তুলনামূলক কম ভাড়ার এলাকায় বাসা পাওয়া গেলেও কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ ও সময় বেড়ে যেতে পারে। আবার কর্মস্থল বা সন্তানের বিদ্যালয়ের কাছাকাছি থাকতে চাইলে বেশি ভাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনে নিউইয়র্কে বাড়ির বিজ্ঞাপিত মধ্যম দাম প্রায় ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭৯২ ডলার বলা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কম। তবে বাড়ির দাম কিছুটা কমলেও ঋণের সুদ, কর ও বিমার ব্যয়ের কারণে বাড়ির মালিক হওয়া সহজ হয়ে যায়নি। ঋণের সুদের হার ৭ শতাংশের ওপরে গেলে একই বাড়ির আনুমানিক মাসিক ব্যয় প্রায় ১১ হাজার ৮ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবাসন ব্যয় সামলাতে সম্ভাব্য ভাড়াটিয়াদের জন্য চুক্তির আগে মাসিক ভাড়া, জামানত, বিদ্যুৎ-গ্যাসের খরচ এবং যাতায়াত ব্যয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে অগ্রিম অর্থের পাশাপাশি ঋণের কিস্তি, সম্পত্তির কর, বিমা এবং জরুরি মেরামতের খরচও হিসাব করা প্রয়োজন।
নিউইয়র্কে বাসযাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরালের পর স্থগিত ভাড়া পরিদর্শকদের কার্যক্রম
রোবট নিয়োগ দাও, মানুষকে চাকরি থেকে বাদ দাও, তারপর আর পেছনে তাকানোর প্রয়োজন নেই: বিল গেটস
মিনেসোটায় সরকারের পক্ষ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ও আটলান্টার সাবেক মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমসকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে চারটি মুসলিম সংগঠন এবং ১৪ জন মুসলিম কমিউনিটি নেতা। সোমবার, ২৬ অক্টোবর, এক যৌথ ঘোষণায় তাঁরা এই সমর্থনের কথা জানান। স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি, নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বটমসের অবস্থানকে সমর্থনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। আগামী ৩ নভেম্বর জর্জিয়ায় গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফক্স ফাইভ আটলান্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমর্থন জানানো চারটি সংগঠন হলো পিচ স্টেট মুসলিম কোয়ালিশন, পিচ স্টেট মুসলিম অ্যাকশন, ভয়েসেস অব কব মুসলিমস এবং ভয়েসেস অব মুসলিমস। সংগঠনগুলোর পাশাপাশি ১৪ জন মুসলিম কমিউনিটি নেতা ব্যক্তিগতভাবে বটমসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম নাদিম আলী, ইমাম প্লেমন টি. এল আমিন, ইমাম ফুরকান মুহাম্মদ, বাসেম ফাখুরি, নওশাদ গিলজাই, মুনির মেঘজানি, এডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল এবং আয়েশা ইয়াকুব মাহমুদ। এই সমর্থন মূলত সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও নেতাদের অবস্থান, জর্জিয়ার পুরো মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নয়। সমর্থন ঘোষণার আগে চলতি বছরের গ্রীষ্মে কেইশা ল্যান্স বটমসের সঙ্গে মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জর্জিয়া মুসলিম সিভিক টেবিলের উদ্যোগে ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বটমস জর্জিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা, আটলান্টার মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে পূর্ববর্তী যোগাযোগ এবং মুসলিম বাসিন্দাদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। সংগঠনগুলোর দাবি, বৈঠকে তাঁদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বটমস। পরবর্তী সময়ে এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই তাঁরা আনুষ্ঠানিক সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন। মুসলিম সংগঠনগুলোর যৌথ ঘোষণায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ, বিভিন্ন এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলা এবং মুসলিমবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা। পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং অঙ্গরাজ্য সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে বটমসের ঘোষিত অবস্থান তাঁদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফল এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। ঘোষণায় মুসলিম কমিউনিটির নাগরিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সংগঠনগুলো জর্জিয়ার মুসলিম বাসিন্দাদের স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য এবং জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ন্যায্যতা, স্বাস্থ্যসেবা, নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দেন, এমন প্রার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কথা বলেছে তারা। সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার জন্য সংগঠিত নাগরিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কেইশা ল্যান্স বটমস এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আটলান্টা শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মেয়াদকালে করোনা মহামারি, জননিরাপত্তা, আবাসন এবং নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নগর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ছিল। মেয়রের দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনেও কাজ করেছেন। এবার তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে জর্জিয়ার গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী রিক জ্যাকসন, যিনি একজন স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যবসায়ী। জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই প্রধান দলের প্রার্থীরা জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি, জননিরাপত্তা এবং অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। বটমসের নির্বাচনী প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের খরচ কমানোর প্রস্তাবও উঠে এসেছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসনও নিজস্ব নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবার নতুন গভর্নর নির্বাচিত হবেন। অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী টানা দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করা কেম্প এবার পুনর্নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে জর্জিয়ায় ইতিমধ্যে আর্লি ভোটিং শুরু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্বাচনী সময়সূচি অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর শুরু হওয়া আর্লি ভোটিং চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলো সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ভোট দিতে হলে নিবন্ধিত ভোটারদের নির্ধারিত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। আর্লি ভোটিংয়ের সময় নিজ কাউন্টির অনুমোদিত যেকোনো আর্লি ভোটিং সেন্টারে ভোট দেওয়া যায়। তবে নির্বাচনের দিন প্রত্যেক ভোটারকে তাঁর নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, ব্যবসা ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন রাজ্যনীতির প্রভাব স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে পড়তে পারে। তবে মুসলিম সংগঠনগুলোর এই সমর্থন নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটেই জর্জিয়ার বাসিন্দারা তাঁদের পরবর্তী গভর্নর নির্বাচনের সুযোগ পাবেন। তথ্য যাচাই: ফক্স ফাইভ আটলান্টার ২৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন এবং জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্বাচনী সময়সূচি।
দোকান থেকে নয়, বাগদানের আংটি বানাতে কয়েক মাস ধরে নদীতে সোনা খুঁজলেন যুবক!
নিউইয়র্কে ৩৫.৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প, বন্যার ঝুঁকি কমাতে বড় উদ্যোগ নগর কর্তৃপক্ষের
৫০ হাজারের বেশি করদাতাকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার ফেরত দিচ্ছে আইআরএস, জেনে নিন বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া সক,য়াঅঙ্গরাজ্যের পিটসবার্গে বন্ধুর ছয় সপ্তাহের শিশুকে হত্যার অভিযোগে পিএইচডি গবেষক নিকোল এলিজাবেথ ভারজির বিরুদ্ধে চলমান মামলায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে শিশু লিওন কাটজের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, গুরুতর শারীরিক নির্যাতন এবং শিশুদের নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের সময় পুলিশের কাছে দেওয়া ভারজির ভিডিও রেকর্ড করা বক্তব্য আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন বিচারক। তবে আসামিপক্ষের দাবি, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ওই বক্তব্য আদায় করা হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৫ জুন পিটসবার্গের শেডিসাইড এলাকায়। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাভানাহ রবার্টস এবং তাঁর স্বামী ইথান কাটজের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন ভারজি। দম্পতির ছয় সপ্তাহ বয়সী যমজ সন্তান লিওন ও আরির সঙ্গে দেখা করাই ছিল তাঁর সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই সফরেই দুই শিশুর গুরুতর আহত হওয়া এবং একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরদিন ১৬ জুন লিওনের মৃত্যুর পর ভারজিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতের নথি ও তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন যমজ শিশু আরির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান ভারজি। বিষয়টি তিনি শিশুটির মা-বাবাকে জানান। পরে তাঁরা আরিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় অপর শিশু লিওনকে ভারজির কাছে রেখে যান দম্পতি। অভিযোগ অনুযায়ী, মা-বাবার অনুপস্থিতিতেই লিওন গুরুতর মাথার আঘাত পায়। রাত ১১টার কিছু পরে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হলে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ভারজি পুলিশকে জানান, শিশুটির জন্য দুধ আনতে তিনি কিছুক্ষণের জন্য অন্য কক্ষে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, লিওন তার বেবি বাউন্সার থেকে মেঝেতে পড়ে গেছে। তবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে মেলেনি বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। শিশুটির মাথার খুলিতে গুরুতর ফাটল এবং মস্তিষ্কে একাধিক স্থানে রক্তক্ষরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। অ্যালেগেনি কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার মাথায় শক্ত আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নির্ধারণ করেন এবং মৃত্যুটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেন। তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ভারজির পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও সামনে আসার পর। আদালতে উপস্থাপিত ওই রেকর্ডিং অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় অভিযোগ অস্বীকার করার পর তিনি শিশুটিকে জোরে ঝাঁকানো এবং একাধিকবার মেঝেতে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত বক্তব্যে আরও উঠে আসে, বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে এসে বারবার শিশুদের দেখাশোনা করতে হওয়ায় তাঁর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে এসব বক্তব্য পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের অংশ এবং ভারজি আদালতে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে রেকর্ড করা বক্তব্যকে চূড়ান্ত অপরাধ স্বীকার বা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। ভারজির আইনজীবীরা দাবি করেন, প্রায় ১৩ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ তাঁর ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করেছিল। তাঁদের যুক্তি ছিল, এমন পরিস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্য স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। এ কারণে তাঁরা বক্তব্যটি বিচারপ্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অ্যালেগেনি কাউন্টি কোর্ট অব কমন প্লিজের বিচারক জিল ই. র্যাঙ্গোস আবেদনটি নাকচ করেন। বিচারকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্য মামলার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত ইতিমধ্যে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। মামলায় শুধু লিওনের মৃত্যুই নয়, তার যমজ ভাই আরির শরীরে পাওয়া আঘাতের ঘটনাও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, আরির শরীরে আঁচড়, কালশিটে দাগ ও ফোলাভাব পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব আঘাতও ভারজির তত্ত্বাবধানে থাকার সময় ঘটে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন দাবি করেছে, দুই শিশুর আঘাতই স্বাভাবিক দুর্ঘটনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তবে আরির আঘাতের জন্যও নিজেকে দায়ী মনে করেন না ভারজি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণের বিষয়। ঘটনার সময় ভারজি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগোর যৌথ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি ডক্টরাল প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে মানসিক চাপ, বিষণ্নতা, ট্রমা এবং মানুষের শারীরিক ও আচরণগত স্বাস্থ্যের সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল। উচ্চশিক্ষায় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একজনের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর শিশুকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পায়। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বা গবেষণার বিষয়কে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিশুটির মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারজি তাঁদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু ছিলেন। এমন একজনের তত্ত্বাবধানে সন্তানকে রেখে যাওয়ার পর এই ঘটনা ঘটবে, তা তাঁদের কল্পনার বাইরে ছিল। অন্যদিকে ভারজির আইনজীবীরা শুরু থেকেই তাঁর নির্দোষ থাকার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, শিশুটির মৃত্যু একটি দুর্ঘটনা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ভারজিকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রসিকিউটররা ভারজির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য সাজা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মামলাটির বিচার ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত দিনে তা শুরু হয়নি। পরবর্তী শুনানি ও বিচারের সময়সূচি নিয়ে পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে, তবে নতুন বিচার শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা যায়নি। বর্তমানে মামলার মূল প্রশ্ন হলো, লিওনের মৃত্যুর জন্য ভারজির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয় কি না। চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
নিউইয়র্কে বাসাভাড়া রেকর্ড উচ্চতায়, বাড়ি কিনতে মাসে গুনতে হবে প্রায় ১১ হাজার ডলার
নিউ জার্সিতে স্মরণসভায় গুলিবর্ষণ, নিহত ১, আহত ৩, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা