কাউন্সিলম্যান

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক মাফিয়া কাউন্সিলম্যান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির এক কাউন্সিলম্যানকে চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জন অ্যালাইট (৬৩) নামের এই ব্যক্তি একসময় কুখ্যাত মাফিয়া চক্রের হয়ে কাজ করতেন এবং নিজের মুখে একাধিক খুনের কথা স্বীকারও করেছিলেন। শুক্রবার নিউজার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ইংলিশটাউনের কাউন্সিলম্যান অ্যালাইটের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি, কর্পোরেট অসদাচরণসহ আরও বেশ কিছু আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অ্যালাইট আইনি সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে বেশি সুদে লোকজনকে ঋণ দিতেন। কেউ টাকা বা সম্পদ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর পাশবিক সহিংসতার হুমকি দেওয়া হতো। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অবৈধ চাঁদাবাজির স্কিম বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে অ্যালাইট তাঁর 'স্ট্রেইটেন্ড-আউট এন্টারটেইনমেন্ট ইনকর্পোরেটেড' নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও ব্যবহার করেছিলেন।   নিউজার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে বলেন, অপরাধ বিচার বিভাগ এবং নিউজার্সি স্টেট পুলিশের কঠোর তদন্ত ও আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে এবং চুরি করে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।   নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে উঠে আসা আলবেনিয়ান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত অ্যালাইট দীর্ঘদিন ধরেই সংঘবদ্ধ অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কুখ্যাত 'গোট্টি' এবং 'গাম্বিনো' ক্রাইম ফ্যামিলির শীর্ষ এনফোর্সার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাফিয়া জীবন ছাড়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন অ্যালাইট। সেখানে তিনি ১৫টি খুন, ৩০-৪০ জনকে গুলি করা এবং শতাধিক মানুষকে পাইপ ও বেসবল ব্যাট দিয়ে পেটানোর রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন।   একটি সংঘবদ্ধ খুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, কথাবার্তা চলার মাঝেই তিনি ওই ব্যক্তির মাথায় দুই-তিনটি গুলি করেন এবং তারপর তার ওপর থুথু ফেলেন। এটি তার কাছে বেসবল খেলা দেখতে যাওয়ার মতোই সাধারণ বিষয় ছিল এবং খুন করার পর তিনি বাইরে গিয়ে ডাবল চিজবার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও কোক খেয়েছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের কারাগারে ১৪ বছরেরও বেশি সময় বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে অ্যালাইট মাফিয়া চক্রের সঙ্গে তাঁর অতীতের সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। এরপর তিনি 'ক্যাচ মি অন দ্য রান' নামে একটি জনপ্রিয় পডকাস্টও চালু করেন, যেখানে তিনি মাফিয়া জীবনের নানান অজানা গল্প এবং পুলিশের হাত থেকে পালানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন।   এছাড়াও একাধিক বই ও তথ্যচিত্রে তাঁর জীবনের গল্প উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ইংলিশটাউনের মেয়র ড্যানিয়েল ফ্রান্সিসকো তাঁকে কাউন্সিলম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। সে সময় অ্যালাইট গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ফেন্টানাইলের ওভারডোজে মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে চান। তিনি আরও বলেছিলেন, তিনি তো আর এখন অপরাধী নন, বরং সবকিছু সঠিক পথে পরিচালনার এক মিশনে নেমেছেন। তবে সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর সেই দাবির সত্যতা নিয়ে ফের বড় ধরনের প্রশ্ন উঠল।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে কাউন্সিলম্যান গ্রেপ্তার, একসময় ছিলেন কুখ্যাত মাফিয়া সদস্য

একসময় নিউইয়র্কের কুখ্যাত অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরে কারাভোগ শেষে নিজেকে বদলে ফেলার দাবি করে জনসেবায় যুক্ত হন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্বও পান। তবে সেই অতীত আবারও যেন ফিরে এসেছে জন অ্যালাইটের জীবনে। চাঁদাবাজি, অবৈধ ঋণ ব্যবসা এবং সহিংসতার হুমকির অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইংলিশটাউন বরোর কাউন্সিলম্যান জন অ্যালাইট।   শুক্রবার নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ৬৩ বছর বয়সী অ্যালাইটের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সুদে ঋণ দেওয়া, অর্থ ও সম্পত্তি আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রেইটেনড-আউট এন্টারটেইনমেন্ট ইনকরপোরেটেড’-এর মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।   একই মামলায় ব্রিজওয়াটারের বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী স্টিফেন লোক্রোটন্ডোকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি অ্যালাইটের সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং আইনসিদ্ধ সীমার চেয়ে বেশি সুদ আদায়ে অংশ নিতেন।   নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট বলেন, দীর্ঘ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “সব ব্যবসা যেন আইন মেনে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মামলায় যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”   তবে অভিযোগের বিষয়ে অ্যালাইটের আইনজীবীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জন অ্যালাইট নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ জগতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। তিনি একসময় নিউইয়র্কের গ্যাম্বিনো অপরাধচক্রের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা জন গট্টি জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান।   ২০২৫ সালে এনজে ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যালাইট নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে অপরাধ জগতে সক্রিয় থাকার সময় তিনি ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০টি গুলিবর্ষণের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে তিনি জানান। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে তিনি মাদক পাচারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার আয় করতেন। সেই সময় তার মালিকানায় নাইটক্লাব, কাচের ব্যবসা, সুপারমার্কেট, ভ্যালেট পার্কিং প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যবসাও ছিল।   ২০০৮ সালে তিনি ফেডারেল র্যাকেটিয়ারিং বা সংঘবদ্ধ অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। পরে গ্যাম্বিনো অপরাধচক্রের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিনিময়ে তুলনামূলক কম সাজা পান। ২০১১ সালে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও ২০১২ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন। কারামুক্তির পর নিজের জীবন পরিবর্তনের দাবি করেন অ্যালাইট। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতেন, পডকাস্ট পরিচালনা করতেন এবং তরুণদের মাদক ও অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার কাজ করতেন। তিনি নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক হিসেবেও পরিচয় দিতেন।   ২০২৫ সালের মার্চে ইংলিশটাউন বরো কাউন্সিলের একটি শূন্য পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি জনসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন একই কাউন্সিলের সদস্য জ্যানেট লিওনার্ডিস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই হতবাক। তিনি একজন ভালো নাগরিক এবং দায়িত্বশীল কাউন্সিলম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন।”   তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যালাইটের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি, করপোরেট অসদাচরণ, সহিংসতার হুমকি এবং অবৈধ সুদে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে লোক্রোটন্ডোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ সুদ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্টিফেন লোক্রোটন্ডোর অতীতও বিতর্কমুক্ত নয়। ২০১৩ সালে একটি ভুয়া চেকের মাধ্যমে এক বন্ধুর ১ লাখ ডলারের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করার ঘটনায় তাকে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।   অপরাধ জগত থেকে জনসেবার মঞ্চে আসা জন অ্যালাইট নিজেকে একসময় ‘নতুন মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি লজ্জিত এবং সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে চান। তবে সর্বশেষ অভিযোগের পর তার সেই পরিবর্তনের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০