সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#ক্যানসারগবেষণা

মেলানোমার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার টিকা
ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে নতুন টিকার সাফল্য, রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা কমেছে ৪২ শতাংশ

প্রাণঘাতী ত্বকের ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছে ব্যক্তিভিত্তিক একটি পরীক্ষামূলক টিকা। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্ক যৌথভাবে তৈরি এই টিকা ব্যবহারে ক্যানসার ফিরে আসা বা রোগীর মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় পর্যায়ের клиনিক্যাল পরীক্ষায় প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে টিকাটি ব্যবহার করে এ ফল পাওয়া গেছে। তবে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সামগ্রিক আয়ু কতটা বাড়ে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।   টিকাটির নাম ইনটিসমেরান অটোজিন। এটি মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। এ প্রযুক্তিতে প্রত্যেক রোগীর টিকা তাঁর ক্যানসার টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে আলাদাভাবে প্রস্তুত করা হয়। ফলে একই টিকা সবার জন্য একইভাবে তৈরি না করে, রোগীর টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট পরিবর্তন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মডার্না ও মার্ক ২২ অক্টোবর পরীক্ষার বিস্তারিত ফল প্রকাশ করে। এর আগে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছিল, পরীক্ষায় টিকাটি নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ করেছে। নতুন ফলাফলে দেখা গেছে, প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে ইনটিসমেরান ব্যবহার করলে শুধু ইমিউনোথেরাপি গ্রহণকারীদের তুলনায় ক্যানসার ফিরে আসা বা যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ক্যানসার শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৩৮ শতাংশ। গবেষণায় মোট ১ হাজার ১৩৭ জন রোগী অংশ নেন। তাঁদের সবার মেলানোমা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছিল। এরপর একদল রোগী ইনটিসমেরান ও পেমব্রোলিজুমাব নামের ইমিউনোথেরাপির ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করেন। অন্য দলটি পেমব্রোলিজুমাবের সঙ্গে প্লাসিবো বা ওষুধবিহীন বিকল্প চিকিৎসা পায়। পেমব্রোলিজুমাব মার্কের তৈরি কিট্রুডা নামের ওষুধের মূল উপাদান। পরীক্ষায় দুই বছর পর টিকা ও ইমিউনোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ৮২ দশমিক ২ শতাংশের ক্যানসার ফিরে আসেনি। অন্যদিকে শুধু ইমিউনোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, দুই চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। তবে ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমার অর্থ এই নয় যে টিকা নেওয়া প্রত্যেক রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ বেড়ে গেছে। এটি দুই চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে রোগ ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকির তুলনামূলক হ্রাস। ব্যক্তিভেদে চিকিৎসার ফল আলাদা হতে পারে। গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, টিকাটি ব্যবহারের পর ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকিও কমেছে। তবে রোগীর সামগ্রিক আয়ু বাড়ানোর ক্ষেত্রে টিকাটির প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও, এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।   এই টিকাটির বিশেষত্ব হলো, এটি রোগীর শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে সাহায্য করার জন্য তৈরি। প্রথমে রোগীর টিউমারের টিস্যু নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন চিহ্নিত করে টিকা প্রস্তুত করা হয়। টিকার মাধ্যমে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়, যাতে সেটি ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এ ক্ষেত্রে এমআরএনএ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোভিড-১৯-এর কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত টিকা তৈরিতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ক্যানসারের এই টিকার উদ্দেশ্য সংক্রমণ প্রতিরোধ করা নয়; বরং আগে থেকেই ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা করা, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমানো। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ল্যাঙ্গোন হেলথের পার্লমাটার ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল গবেষণাবিষয়ক সহযোগী পরিচালক ও পরীক্ষাটির অন্যতম প্রধান গবেষক জেনিস মেনার্ট এই চিকিৎসাকে প্রথম সারির নতুন প্রযুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, রোগীর ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিকিৎসা তৈরির ধারণাটি অত্যন্ত সৃজনশীল বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি। ক্যানসার চিকিৎসা ও গবেষণায় কাজ করা পার্কার ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কারেন নাডসনও ফলাফলকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, পরীক্ষার ফলাফল সুপরিকল্পিত ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার আরও প্রমাণ দিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) নতুন ধরনের এই ক্যানসার টিকার অনুমোদন কীভাবে এবং কত দ্রুত বিবেচনা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। টিকাটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্লান্তি, কাঁপুনি এবং ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথার কথা জানানো হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব প্রতিক্রিয়া আগের পরীক্ষাগুলোতে দেখা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন কোনো বড় নিরাপত্তা-সংকেত পাওয়া যায়নি বলে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে। মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্তেফান ব্যানসেল বলেছেন, নতুন ফলাফল এমআরএনএ প্রযুক্তির সম্ভাবনার ওপর তাঁদের আস্থা আরও জোরদার করেছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে ক্যানসার চিকিৎসার ধরন বদলে দিতে পারে এই প্রযুক্তি। মেলানোমা ত্বকের ক্যানসারের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ধরনগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগের নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণের পরও অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসার আবার ফিরে আসতে পারে। নতুন টিকাটি মূলত এমন রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাঁদের টিউমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কিন্তু রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি রয়ে গেছে। এদিকে মেলানোমার বাইরে ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, স্তন এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে এমআরএনএভিত্তিক টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে একটি ক্যানসারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেই অন্য সব ক্যানসারের চিকিৎসায় একই সাফল্য আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের জন্য তৈরি আরেকটি এমআরএনএ টিকার পরীক্ষায় বেঁচে থাকার সময় বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে চলতি মাসে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। মডার্না ও মার্ক নতুন টিকাটির অনুমোদনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। অনুমোদন পেলে এটি ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যক্তিভিত্তিক পদ্ধতির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে পারে। তবে এখনই একে সব ধরনের ক্যানসারের নিরাময় বা নিশ্চিত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আরও গবেষণা, দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়নই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে চিকিৎসাটি কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
প্রোস্টেটের এমআরআই ছবিতে গ্রন্থির আকার বৃদ্ধি
প্রোস্টেট ক্যানসারের ওষুধ প্রতিরোধের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

প্রোস্টেট ক্যানসারের কিছু ধরন কেন চিকিৎসায় সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ একটি আণবিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, আরএনএর বিশেষ একটি ধরন ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য এবং ওষুধের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। এই অণুর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে চিকিৎসায় প্রতিরোধী হয়ে ওঠা কিছু ক্যানসার কোষকে আবারও নির্দিষ্ট ওষুধের প্রতি সংবেদনশীল করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থিত ফ্রেড হাচ ক্যানসার সেন্টারের গবেষকেরা এ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটিতে ট্রান্সফার আরএনএ বা টিআরএনএ নামের একটি অণুর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই অণু প্রোস্টেট ক্যানসার কোষের ধরন পরিবর্তন এবং চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণাটির অন্যতম লেখক এবং ফ্রেড হাচ ক্যানসার সেন্টারের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু হসিয়েহের মতে, প্রোস্টেট ক্যানসার কেন ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা বোঝার জন্য আরও অনেক কিছু জানার বাকি রয়েছে। তবে নতুন গবেষণাটি চিকিৎসার জন্য একটি সম্ভাবনাময় লক্ষ্য চিহ্নিত করেছে। নির্দিষ্ট ধরনের টিআরএনএ আক্রমণাত্মক প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাব্য চিহ্ন হিসেবেও কাজে লাগতে পারে বলে তিনি মনে করেন। প্রোস্টেট হলো পুরুষের প্রজননতন্ত্রের একটি গ্রন্থি। এই গ্রন্থিতে ক্যানসার হলে তাকে প্রোস্টেট ক্যানসার বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এটি। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে প্রতি আটজন পুরুষের মধ্যে প্রায় একজনের এই রোগ শনাক্ত হতে পারে। মানবদেহের কোষে জিনগত তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রোটিন তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় আরএনএর একাধিক ধরন কাজ করে। মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ ডিএনএ থেকে পাওয়া নির্দেশনা বহন করে। অন্যদিকে, টিআরএনএ প্রোটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড কোষের প্রোটিন তৈরির স্থানে পৌঁছে দেয়। ফলে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে টিআরএনএ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্যানসার কোষে এই প্রক্রিয়া বদলে যেতে পারে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, টিআরএনএর নির্দিষ্ট একটি ধরন কমে গেলে প্রোস্টেট ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে কোষগুলো এমন অবস্থায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে প্রচলিত কিছু চিকিৎসা আর আগের মতো কার্যকর থাকে না। গবেষণায় বিশেষভাবে টিআরএনএ১-আর্জিনিন (ইউসিইউ) নামের একটি নির্দিষ্ট অণুকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, প্রোস্টেট ক্যানসার কোষ যখন তাদের আগের বৈশিষ্ট্য থেকে সরে গিয়ে আরও চিকিৎসা-প্রতিরোধী অবস্থায় যায়, তখন এই টিআরএনএর মাত্রা কমে যেতে পারে। পরীক্ষাগারে এর মাত্রা পরিবর্তন করে ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য এবং চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাও প্রভাবিত করা গেছে। প্রোস্টেট ক্যানসারের অনেক চিকিৎসা অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টর নামের একটি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। এই প্রোটিন পুরুষের যৌন হরমোনের সংকেত গ্রহণ করে এবং ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু কিছু ক্যানসার কোষ সময়ের সঙ্গে এমন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, যাতে তারা এই প্রোটিনের ওপর আগের মতো নির্ভরশীল থাকে না। তখন অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে দেওয়া চিকিৎসার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। নতুন গবেষণার ফল বলছে, নির্দিষ্ট টিআরএনএর মাত্রা পুনরুদ্ধার করলে কিছু ক্যানসার কোষকে আবার অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে দেওয়া চিকিৎসার প্রতি সংবেদনশীল করা সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ, ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে ওষুধের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, টিআরএনএর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কোন কোন প্রোটিন ভূমিকা রাখে, সেটিও অনুসন্ধান করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা টিএআরডিবিপি এবং জেডএসসিএএন২৯ নামের দুটি প্রোটিনকে চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো নির্দিষ্ট টিআরএনএর উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরির পথ খুলতে পারে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও ইউরোলজির অধ্যাপক ড্যানিয়েল পেট্রিলাকের মতে, গবেষণায় চিহ্নিত এই আণবিক বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে ক্যানসারের একটি আক্রমণাত্মক ধরনকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া প্রোস্টেট ক্যানসার বা মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসারকে হরমোনের কার্যক্রম দমনকারী চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে চিকিৎসা-প্রতিরোধী অবস্থা তৈরি হয়। তখন অন্যান্য হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা, কেমোথেরাপি এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করেও রোগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ক্যানসার এসব চিকিৎসার বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তবে নতুন গবেষণাকে এখনই রোগীদের জন্য প্রস্তুত চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। টিআরএনএর মাত্রা বাড়ানো বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করতে হবে। এরপর রোগীদের ওপর পরীক্ষা করে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষক হসিয়েহও বলেছেন, এ সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে রোগীদের ওপর আরও গবেষণা এবং উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরি জরুরি। সব মিলিয়ে, নতুন গবেষণাটি প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ভবিষ্যতে এই আণবিক প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করা গেলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত ওষুধের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তব চিকিৎসায় রূপ নিতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নিরূপণে নতুন এআই সফটওয়্যার
স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ণয়ে এআই প্রযুক্তির নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে এফডিএর অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে স্তন ক্যানসার চিকিৎসার পর রোগটি আবার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘টিউমারসাইট রিস্ক’ নামের এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে শিকাগোভিত্তিক চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিমবায়োসিস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রোগীর এমআরআই ছবি, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ও প্যাথলজি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে এটি পাঁচ ও ১০ বছরের মধ্যে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে চিকিৎসকদের সহায়তা করবে।   এফডিএর নথি অনুযায়ী, সফটওয়্যারটি রোগীর বয়স, জাতিগত পরিচয়, ক্যানসারের পর্যায়, লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না এবং টিউমারের গ্রেডের মতো তথ্য ব্যবহার করে। এসব তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় স্তনের এমআরআই থেকে পাওয়া উপাত্ত। সবকিছু বিশ্লেষণ করে সফটওয়্যারটি শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি স্কোর দেয়। সেই স্কোরের ভিত্তিতে রোগীর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—উচ্চ, মাঝারি ও কম। সিমবায়োসিসের ঘোষণা অনুযায়ী, এফডিএ ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সফটওয়্যারটির জন্য ছাড়পত্র দেয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ অক্টোবর বিষয়টি প্রকাশ্যে জানায়। তাদের দাবি, এমআরআইভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে এটিই বিশ্বের প্রথম এআইচালিত টুল। তবে এই দাবি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বক্তব্য। নতুন প্রযুক্তিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি চিকিৎসার নিয়মিত প্রক্রিয়ায় আগে থেকেই সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ফলে ঝুঁকি নিরূপণের জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি, টিস্যুর নমুনা অন্যত্র পাঠানো কিংবা বিশেষ হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে চিকিৎসকেরা রোগীর বিদ্যমান তথ্য থেকেই অতিরিক্ত বিশ্লেষণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সফটওয়্যারটি সব ধরনের স্তন ক্যানসার রোগীর জন্য তৈরি নয়। এফডিএর নথি অনুযায়ী, এটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নির্দিষ্ট ধরনের স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রোগীদের ক্ষেত্রে হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ (এইচআর-পজিটিভ) এবং এইচইআর২-নেগেটিভ ক্যানসার থাকতে হবে। ক্যানসারের পর্যায় হতে হবে স্টেজ ১ থেকে স্টেজ ৩এ পর্যন্ত। লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেও সফটওয়্যারটির ব্যবহারের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। সিমবায়োসিসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেসি স্টিভেন্স বলেছেন, রোগীর স্তনের এমআরআইতে আগে থেকেই থাকা জৈবিক ও শারীরিক গঠনসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে প্রচলিত প্যাথলজি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকেরা এখন ব্যক্তিভিত্তিক ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে রোগী ও চিকিৎসকেরা চিকিৎসা বেছে নেওয়ার সময় আরও স্পষ্ট ধারণা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নতুন সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা যাচাইয়ে ২ হাজার ১২৯ জন রোগীর তথ্য নিয়ে একটি বহুকেন্দ্রিক গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সফটওয়্যারের স্কোর অনুযায়ী উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কম ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ গুণ বেশি ছিল। স্কোর ১০ পয়েন্ট বাড়লে ক্যানসার ফিরে আসার আপেক্ষিক ঝুঁকি ২২ শতাংশ বাড়ার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। গবেষণার হিসাবে, সর্বনিম্ন স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে ক্যানসার ফিরে আসার আনুমানিক ঝুঁকি ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে তা ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ১০ বছরের হিসাবে এই ঝুঁকি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। এসব পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট স্কোরভিত্তিক রোগী গোষ্ঠীর আনুমানিক ঝুঁকি তুলে ধরে; কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্যানসার নিশ্চিতভাবে ফিরে আসবে বা আসবে না, তা বলে না। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় রোগটি ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চিকিৎসকেরা এই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা, কেমোথেরাপির প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি হরমোন থেরাপি চালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয় বিবেচনা করতে পারেন। বর্তমানে চিকিৎসকেরা ক্যানসারের পর্যায়, টিউমারের বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল তথ্যের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জিনভিত্তিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেন। নতুন সফটওয়্যারটি এসব পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার একটি উপায় হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মধ্যে ত্বকের ক্যানসার বাদ দিলে স্তন ক্যানসারই সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসার। ২০২৬ সালে দেশটিতে নারীদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ২১ হাজার ৯১০টি নতুন আক্রমণাত্মক স্তন ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। একই বছরে এ রোগে প্রায় ৪২ হাজার ১৪০ নারীর মৃ ত্যু হতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তি ঝুঁকি নিরূপণে বাড়তি সহায়তা দিতে পারে। তবে সফটওয়্যারের ফলাফলকে রোগীর অন্যান্য পরীক্ষার ফল, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করতে হবে। কেবল এআইয়ের স্কোরের ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা নয়। রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও রোগীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতিই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যানসার গবেষক ডা. রচনা শ্রফের ৪৭ বছর বয়সে প্রয়াণ
যে ক্যানসার নিয়ে গবেষণা করতেন, সেই আগ্রাসী ক্যানসারেই প্রাণ গেল ডা. রচনা শ্রফের

পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক ও গবেষক ডা. রচনা শ্রফ নিজেই আগ্রাসী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা গত ১২ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশনসের সহযোগী পরিচালক ছিলেন। টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে শরীরের একটি লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার পর তাঁর পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে চিকিৎসকেরা লিম্ফোমা বা একধরনের র ক্তের ক্যানসার সন্দেহ করেছিলেন। পরবর্তী পরীক্ষায় অ্যাডেনোকারসিনোমা শনাক্ত হয়। মে মাসের শেষ নাগাদ রোগটি শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরীক্ষায় ক্যানসারটি পাকস্থলী বা অন্ত্র থেকে শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পাওয়া গেলেও এর উৎপত্তিস্থল নিশ্চিত করা যায়নি। রচনা শ্রফ বিশেষ করে অগ্ন্যাশয় ও পিত্তনালির ক্যানসার নিয়ে কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন। আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি তাঁকে এই দুই ধরনের ক্যানসারের অন্যতম শীর্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করেছে। নিজের গবেষণার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসার নিয়ে ক্লিনিক্যাল গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টুসনে বেড়ে ওঠা শ্রফের গবেষণায় আগ্রহ তৈরি হয় স্কুলজীবনেই। ১৯৯৩ সালে হাইস্কুলের শিক্ষার্থী অবস্থায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার সেন্টারের একটি গবেষণাগারে কাজের সুযোগ পান। ব্রাউন ইউনিভার্সিটি ও থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা এবং এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারে কর্মজীবনের পর ২০১৮ সালে তিনি টুসনে ফিরে আসেন। কর্মজীবনে তাঁর ৮০টির বেশি গবেষণা প্রকাশনা ছিল। তিনি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কলেজ অব মেডিসিনের হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দুরারোগ্য ক্যানসারের নতুন চিকিৎসা যাচাই এবং রোগীদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ছিল তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজের অসুস্থতার মধ্যেও ভবিষ্যৎ গবেষকদের সহায়তায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন শ্রফ। সেপ্টেম্বরে পিত্তনালির ক্যানসার নিয়ে কাজ করা নবীন গবেষকদের জন্য তাঁর নামে একটি স্থায়ী গবেষণা পুরস্কার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, সহকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে এ উদ্যোগে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ হয়। তাঁর স্বামী ডা. পুনিত শ্রফ এবং দুই সন্তান সিমরান ও শচিন রয়েছেন।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সমন্বিত ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ
স্টেজ-৪ স্তন ক্যানসারে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির অনুমোদন দিল এফডিএ

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) অগ্রসর ও ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধের সমন্বিত ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ করে স্টেজ-৪ পর্যায়ের রোগীদের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় এফডিএ জানায়, ইমলুনেস্ট্র্যান্ট (ব্র্যান্ড নাম ইনলুরিও) ও অ্যাবেমাসিক্লিব (ব্র্যান্ড নাম ভারজেনিও) একসঙ্গে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, যাদের ক্যানসার ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর-পজিটিভ, এইচইআর২-নেগেটিভ এবং ইএসআর১ জিনে পরিবর্তন রয়েছে।   ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইনলুরিও ও ভারজেনিও একসঙ্গে ব্যবহার করলে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার বাড়া বা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকিয়ে রাখার সময় গড়ে ১১ দশমিক ১ মাস হয়েছে। শুধু ইনলুরিও ব্যবহার করা রোগীদের ক্ষেত্রে এই সময় ছিল ৫ দশমিক ৫ মাস।   চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণার প্রধান তদন্তকারী কোমল ঝাভেরি বলেন, প্রথম দিকের চিকিৎসা বা সহায়ক চিকিৎসার পরও রোগের অগ্রগতি দেখা দেওয়া রোগীদের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। ক্যানসার বৃদ্ধির দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে ওষুধের সমন্বিত ব্যবহার চিকিৎসায় প্রতিরোধক্ষমতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   এফডিএ জানিয়েছে, ইনলুরিও ব্যবহারে ভ্রূণের ক্ষ তির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা রয়েছে। অন্যদিকে ভারজেনিওর ক্ষেত্রে গুরুতর ডায়রিয়া, শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া, ফুসফুসে প্রদাহ বা ক্ষ তি, লিভারের সমস্যা, শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা এবং ভ্রূণের ক্ষ তির মতো ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।   দুই ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহারের সময় রোগীদের মধ্যে সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি এবং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে।   এফডিএর সুপারিশ অনুযায়ী, ইনলুরিও প্রতিদিন একবার ৪০০ মিলিগ্রাম খালি পেটে সেবন করতে হবে। খাবার খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে অথবা খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পর এটি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ভারজেনিওর ক্ষেত্রে ইনলুরিওর সঙ্গে প্রতিদিন দুইবার ১৫০ মিলিগ্রাম করে সেবনের সুপারিশ করা হয়েছে। খাবারের সঙ্গে বা খাবার ছাড়াও এটি গ্রহণ করা যায়। রোগের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অসহনীয় না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গবেষণাগারে ক্যানসার কোষ, ডিএনএ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ইমেজ বিশ্লেষণ করছেন গবেষকরা
টিউমার হওয়ার আগেই স্তনের ক্যানসার ঠেকানোর সম্ভাব্য উপায় খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

স্তনের টিস্যু অতিরিক্ত ঘন হলে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে। এবার এই ঘন টিস্যু কীভাবে রোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ফ্রান্সিসকোর (ইউসিএসএফ) গবেষকেরা। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া বোঝা গেলে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার আগেই ঝুঁকি কমানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে।   মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ঘন স্তন টিস্যু ম্যামোগ্রামে সাদা অংশ হিসেবে দেখা যায়। ফলে স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে ঘন টিস্যুর সঙ্গে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্কও রয়েছে।   নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘন স্তন টিস্যু স্বাভাবিক টিস্যুর তুলনায় বেশি শক্ত বা দৃঢ় হয়। এই শক্ত পরিবেশ স্তনে থাকা ম্যাক্রোফেজ নামের এক ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষের আচরণ বদলে দিতে পারে। এরপর এসব কোষ এমন কিছু রাসায়নিক তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের কোষের ডিএনএতে পরিবর্তন ঘটিয়ে রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   গবেষণাটির প্রধান গবেষক মেরি-কেট হেওয়ার্ড বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জানা ছিল যে ঘন স্তন টিস্যুর সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর পেছনের কারণ এতদিন পরিষ্কার ছিল না। নতুন গবেষণায় টিস্যুর শক্তভাব কীভাবে রোগপ্রতিরোধী কোষের আচরণ পরিবর্তন করে, তার একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া সামনে এসেছে।   গবেষকেরা স্তনের বিভিন্ন টিউমারের নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। পাশাপাশি টিউমারের শক্তভাব এবং টিস্যু শক্ত করতে ভূমিকা রাখা কোলাজেন নামের প্রোটিনের উপস্থিতিও পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, বেশি শক্ত অংশগুলোতে কোলাজেন, দাগের মতো টিস্যু, ম্যাক্রোফেজ এবং ডিএনএ পরিবর্তনের মাত্রা বেশি ছিল।   গবেষণায় আরও দেখা যায়, শক্ত টিস্যুতে এসটিএটি৩ নামের একটি সংকেত-প্রক্রিয়া বেশি সক্রিয় থাকে। এই প্রক্রিয়া স্তনের কোষকে এমন সংকেত দিতে পারে, যার মাধ্যমে আরও বেশি ম্যাক্রোফেজ ওই এলাকায় চলে আসে। পরে এসব ম্যাক্রোফেজ এমন রাসায়নিক তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের কোষে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।   গবেষকেরা ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন ধরনের জেল ব্যবহার করে শক্ত টিস্যুর মতো পরিবেশ তৈরি করেন এবং পরে ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায়, শক্ত পরিবেশ স্তনের কোষে এসটিএটি৩ সক্রিয় করতে পারে এবং এর মাধ্যমে ম্যাক্রোফেজ আকৃষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।   গবেষকেরা আরও একটি বিষয় শনাক্ত করেছেন। ম্যাক্রোফেজ থেকে তৈরি রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিসিস বা আরওএস ম্যাক্রোফেজের ভেতরের চর্বিজাতীয় উপাদানে ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে অ্যালডিহাইড নামের কিছু রাসায়নিক তৈরি হয়, যা আশপাশের কোষে পৌঁছে ডিএনএতে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।   পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও ঘন ও শক্ত স্তন টিস্যুর সঙ্গে বেশি ম্যাক্রোফেজ, বেশি অ্যালডিহাইড, বেশি ডিএনএ পরিবর্তন এবং রোগের আরও অগ্রসর অবস্থার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   গবেষকেরা এখন এমন ওষুধ নিয়ে গবেষণা করতে চান, যা ম্যাক্রোফেজের ভেতরে ক্ষতিকর অ্যালডিহাইড তৈরি হওয়া ঠেকাতে পারে। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে উচ্চঝুঁকির স্তন টিস্যুতে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার আগেই রোগের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা। মানুষের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। নতুন এই প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করতেও আরও পরীক্ষা দরকার বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।আ

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০