ফুটবল ইতিহাসে রেকর্ড বুক আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শব্দ দুটি যেন একে অপরের পরিপূরক। ক্যারিয়ার জুড়ে গোল উৎসবের পাশাপাশি পেনাল্টি স্পট থেকে তাঁর নিখুঁত লক্ষ্যভেদ সবসময়ই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা ভালোবেসে বা কটাক্ষ করে তাঁকে 'পেনাল্ডো' ডাকলেও, ১২ গজের এই চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে যে সিআরসেভেন-ই আসল রাজা, তা আবারও প্রমাণিত হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, রোনালদোর ক্যারিয়ারের বড় বড় সব মাইলফলকের প্রথম গোলটি এসেছে পেনাল্টি থেকেই! বর্তমানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সর্বমোট অফিসিয়াল ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা ৯৭৬টি। ১,০০০ গোলের এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার পথে আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা আর মাত্র ২৪টি গোল দূরে রয়েছেন। পর্তুগিজ মহানায়কের ক্যারিয়ারের সেই ৫টি ঐতিহাসিক 'প্রথম' পেনাল্টি গোল, যা তাঁর এই বিশাল গোলের রাজত্বে বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে: ১. রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগায় প্রথম গোল: ২০০৯ সালে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ২৯ আগস্ট দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে রোনালদোর লা লিগা অভিষেক হয়। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে নিজের গোলের খাতা খোলেন তিনি। ২. ইউরোপা লিগে প্রথম গোল: ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রাজত্ব করলেও ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে উয়েফা ইউরোপা লিগে খেলতে হয়েছিল তাঁকে। ১৫ সেপ্টেম্বর শেরিফ তিরাস্পোলের বিপক্ষে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন সিআরসেভেন। এটিই ছিল ইউরোপা লিগের ইতিহাসে তাঁর প্রথম গোল। ৩. আল নাসরের হয়ে প্রথম গোল: ইউরোপের অধ্যায় চুকিয়ে ২০২৩ সালের শুরুতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে পাড়ি জমান রোনালদো। ৩ ফেব্রুয়ারি আল-ফাতেহের বিপক্ষে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯৩ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে হার থেকে বাঁচান এবং এশিয়ান ক্লাব ফুটবলে নিজের প্রথম গোলটি উদযাপন করেন। ৪. বিশ্বকাপে প্রথম গোল: ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে তরুণ রোনালদো নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি পেয়েছিলেন। ইরানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৮১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জাল খুঁজে নেন ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, যা ছিল বিশ্বমঞ্চে তাঁর সুদীর্ঘ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ। ৫. বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম গোল: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল না পাওয়ার দীর্ঘ খরা অবশেষে কেটেছে রোনালদোর। চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ৬৮ মিনিটে ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের মাধ্যমে পাওয়া একটি পেনাল্টি থেকে দুর্দান্ত গোল করেন তিনি। ৪১ বছর বয়সে এসে করা এই গোলটিই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। সমালোচকরা পেনাল্টি নিয়ে যতই কথা বলুক না কেন, চাপের মুখে ১২ গজ দূর থেকে নার্ভ ঠিক রেখে বল জালে জড়ানো যে সবার কাজ নয়, তা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ক্যারিয়ারের প্রতিটি বড় বাঁকে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।
এক পাশে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আরেকটি বিশ্বকাপ রাঙানোর মিশন, আর অন্য পাশে দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ডিআর কঙ্গোর অস্তিত্বের লড়াই। ডালাসের মাঠে শক্তির বিচারে পর্তুগাল যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও মাঠের ফুটবলে তার ন্যূনতম প্রতিফলন দেখা যায়নি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট কড়া পাহারায় বোতলবন্দী করে রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও সমানে সমান পাল্লা দিয়েছে ডিআর কঙ্গো। সেই ভয়ডরহীন ফুটবলের সুবাদেই শক্তিশালী পর্তুগালকে ১–১ গোলে রুখে দিয়ে স্মরণীয় এক ড্র আদায় করে নিয়েছে আফ্রিকান দলটি। ম্যাচের শুরু থেকেই উইং ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। কঙ্গোর রক্ষণভাগকে প্রবল চাপে রেখে মাত্র ৬ মিনিটেই তারা প্রথম সাফল্যের দেখা পায়। বাঁ প্রান্ত থেকে পেদ্রো নেতোর বাড়ানো নিখুঁত এক ক্রসে ডি-বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান জোয়াও নেভেস। কঙ্গোর পাঁচ ডিফেন্ডারের উপস্থিতিতেও তুলনামূলক কম উচ্চতার নেভেস যেভাবে হেডে গোলটি আদায় করেন, তা ছিল সত্যিই দেখার মতো। তবে শুরুতে এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরও দমে যায়নি কঙ্গো। বরং খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তারা কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করতে থাকে এবং প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে তার ফলও পেয়ে যায়। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে এমবেম্বার কল্যাণে পাওয়া একটি কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পান আর্থার মাসুয়াকু। তার দূরপাল্লার নিখুঁত ক্রসটি খুঁজে নেয় সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ইয়োয়ান উইসাকে। দারুণ এক লাফে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করে উইসা বল জালে জড়ান। আর তাতেই ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে গোলের আনন্দে মাতোয়ারা হন কঙ্গোর ফুটবলাররা। ১-১ সমতায় বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কৌশল বদলান পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেস। তিনি বের্নার্দো সিলভাকে তুলে ফ্রান্সিসকো কনসিকাওকে মাঠে নামান। ৪৮ মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রসে বক্সে কনসিকাও পড়ে গেলে পর্তুগাল পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। এরপর ৫৫ মিনিটে জোয়াও নেভেসের পাসে বল পেয়ে এক দুর্দান্ত ওভারহেড ভলিতে কঙ্গোর জালে বল পাঠান কানসেলো। কিন্তু তিনি অফসাইড পজিশনে থাকায় ভিএআর সেই গোলটি বাতিল করে দেয়। পুরো ম্যাচেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কড়া পাহারায় রাখেন কঙ্গোর ডিফেন্ডার অ্যালেক্স তুয়ানজেবে ও এমবেম্বা। ৬৮ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেস সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও রোনালদো নিজেই শট নিয়ে তা পোস্টের বাইরে মারেন। ৭৪ মিনিটেও রোনালদোর নেওয়া একটি শট তুয়ানজেবের দুর্দান্ত স্লাইডিং ট্যাকলে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায়। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি কাউন্টার অ্যাটাকে পর্তুগিজ রক্ষণভাগকে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগিয়েছে কঙ্গো। বিশেষ করে স্ট্রাইকার সেড্রিক বাকাম্বু একাই রুবেন দিয়াসদের বিরুদ্ধে প্রবল লড়াই চালিয়ে গেছেন। ৫৭ মিনিটে পর্তুগালের ডি-বক্সে ব্রুনো ফের্নান্দেসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাকাম্বু শট নিলেও তা দুর্ভাগ্যবশত পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৭৬ মিনিটে মাঝমাঠে বল পেয়ে নোয়া সাদিকি ফরোয়ার্ড ইয়োয়ান উইসাকে পাস বাড়ালে শেষ মুহূর্তে চমৎকার স্লাইডিংয়ে তা প্রতিহত করেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার থমাস আরাউহো। এর এক মিনিট পরেই বাকাম্বুর পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের বাইরে মারেন নোয়া সাদিকি। শেষ পর্যন্ত পর্তুগাল আর কঙ্গোর অফসাইড ট্র্যাপ ভাঙতে না পারায় হতাশাজনক ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রোনালদোদের।
আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আলোচনায় উঠে এসেছে অংশগ্রহণকারী ফুটবলারদের বয়সের নানা রেকর্ড। একদিকে ৪০ পেরিয়েও মাঠ মাতাতে প্রস্তুত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে যাচ্ছেন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দিন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডনের বয়স হবে ৪৩ বছর ১৬২ দিন। ফলে তিনি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামবেন। তবে গোলরক্ষকদের বাইরে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হবেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ৪১ বছর ১২৬ দিন। রোনালদো এবার রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। একই কীর্তি গড়তে পারেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং মেক্সিকোর গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়াও। অন্যদিকে, এবারের আসরের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ফুটবলার হচ্ছেন মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ১৭ বছর ২৪০ দিন। সবচেয়ে কম বয়সী গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন বেলজিয়ামের মাইক পেন্ডার্স। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় তাঁর বয়স হবে ২০ বছর ৩১৫ দিন। অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হবেন কানাডার আলফনসো ডেভিস। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনের দিন তাঁর বয়স হবে ২৫ বছর ২২১ দিন। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচদের মধ্যেও বয়সের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া কুরাসাওয়ের প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট হবেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ কোচ। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ৭৮ বছর ২৫৭ দিন। অন্যদিকে, জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান থাকবেন সবচেয়ে কম বয়সী কোচদের তালিকার শীর্ষে। বিশ্বকাপ শুরুর সময় তাঁর বয়স হবে ৩৮ বছর ৩২৩ দিন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।