সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ডিএনএ পরীক্ষা

অনলাইন ডেটিংয়ের সূত্র ও ডিএনএ পরীক্ষার ফল দুই নারী হত্যার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
রাস্তার পাশে স্যুটকেসে মিলল দুই নারীর মরদেহ, ডিএনএ পরীক্ষায় ধরা পড়েন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে পরিত্যক্ত দুটি স্যুটকেস থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৪ সালের জুনে উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা পৌঁছে যান পার্শ্ববর্তী মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে। নিখোঁজ এক নারীর সন্ধান, অনলাইন পরিচয়ের সূত্র এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফল শেষ পর্যন্ত তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা স্টিভেন জেলিচকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই নারীকে হত্যার দায়ে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড পান। ঘটনাটি নিয়ে এবিসি নিউজের ‘২০/২০’ অনুষ্ঠানে নতুন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। উইসকনসিনের ওয়ালওর্থ কাউন্টিতে স্যুটকেস দুটি পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। একটি স্যুটকেস খুলে তাঁরা দড়ি দিয়ে বাঁধা এক নারীর পচনধরা মরদেহ দেখতে পান। দ্বিতীয় স্যুটকেসে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর আরেক নারীর মরদেহ ছিল। তীব্র পচনের কারণে ঘটনাস্থলেই পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তদন্তকারীদের সামনে তখন তিনটি বড় প্রশ্ন ছিল, নিহত নারীরা কারা, কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে এবং এর জন্য কে দায়ী। পরে তদন্তের সূত্র ধরে মিনেসোটায় নিখোঁজ এক নারীর ঘটনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। মিনেসোটার ফার্মিংটন পুলিশ তখন ৩৭ বছর বয়সী লরা সিমনসনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্ত করছিল। ২০১৩ সালের নভেম্বরে তিনি নিজের মায়ের বাড়ির সামনে একটি গাড়ি রেখে নিখোঁজ হন। গাড়ির ভেতরে তাঁর মুঠোফোন, ব্যাগ, ওষুধ এবং গাড়ি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে মায়ের জন্য লেখা একটি নোট পাওয়া যায়। ওই বছরের শুরুতে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছিলেন। তবে শৈশবের বন্ধু ক্রিস্টিন স্কাউটনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের ছয় সন্তানকে ছেড়ে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না লরা। এ কারণে তাঁর নিখোঁজ হওয়াকে ঘিরে পরিবারের উদ্বেগ বাড়ে এবং পুলিশ রাজ্যজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করে। তদন্তে একটি হোটেলের কর্মীর দেওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই কর্মী পুলিশকে জানান, লরা কয়েক সপ্তাহ আগে এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে এসেছিলেন। লোকটিকে দেখে তাঁর অস্বস্তি হয়েছিল বলে জানান তিনি। হোটেলের নিবন্ধনপত্রে লরার স্বাক্ষর পাওয়া গেলেও তাঁদের প্রবেশের সময়কার নজরদারি ভিডিও সংরক্ষিত ছিল না। তবে হোটেল ছাড়ার সময়ের ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে একা চলে যেতে দেখা যায়। পরে লরার এক বন্ধু পুলিশকে জানান, তিনি অনলাইনে একটি বিশেষ ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কভিত্তিক ডেটিং সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘মিস্টারহ্যান্ডকাফস’ নামের একটি পরিচয় ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। অনুসন্ধান চালিয়ে বন্ধুটি ওই পরিচয়ের আড়ালে থাকা ব্যক্তির নাম জানতে পারেন, তিনি স্টিভেন জেলিচ। জেলিচের পরিচয় সামনে আসার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি মিলওয়াকি এলাকার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। ২০০১ সালে ওয়েস্ট অ্যালিস পুলিশ বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। এর আগে নারীদের ভয় দেখানো ও হয়রানি করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে, যদিও তিনি কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছিলেন। পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে লরার বিষয়ে খোঁজ নেয়, কিন্তু তখন নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে এফবিআই ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্য পুলিশ তদন্তে যোগ দেয়। ২০১৪ সালের মার্চে জেলিচের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং তিনি স্বেচ্ছায় ডিএনএ নমুনা দেন। তবে লরার সঙ্গে কখনো দেখা হওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তখন তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের জুনে উইসকনসিনে স্যুটকেস দুটি উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসে। একটি মরদেহের গোড়ালিতে হৃদয় আকৃতির নকশা এবং তাঁর প্রয়াত মেয়ে অ্যালিসার নাম লেখা একটি বিশেষ উল্কি দেখে তদন্তকারীরা লরা সিমনসনের পরিচয় শনাক্ত করেন। অন্য মরদেহের সঙ্গে বাঁধা দড়ি থেকে পাওয়া ডিএনএর নমুনা জেলিচের নমুনার সঙ্গে মিলে যায়। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দুই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। দ্বিতীয় নারী ছিলেন ওরেগনের কটেজ গ্রোভের ১৯ বছর বয়সী জেনি গেমেজ। তদন্তকারীদের কাছে জেলিচ দাবি করেন, অনলাইন ডেটিংয়ের মাধ্যমে গেমেজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাস সীমিত করার এক যৌন আচরণের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁর মৃত্যু হয়। একইভাবে লরার মৃত্যুকেও দুর্ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি। জেলিচের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেমেজের মরদেহ তিনি এক বছরেরও বেশি সময় নিজের ফ্রিজে রেখেছিলেন। পরে মিনেসোটার রচেস্টারে লরার মৃত্যুর পর দুই নারীর মরদেহ গাড়ির ট্রাঙ্কে সরিয়ে নেন। আবহাওয়া উষ্ণ হতে শুরু করলে গাড়ির কাছ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসার কথা এক সহকর্মী উল্লেখ করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি মরদেহ দুটি স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের জানান। দুই নারীকে হত্যার পাশাপাশি মরদেহ গোপন করার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৬ সালে গেমেজের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যার দায় এবং মরদেহ গোপনের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন জেলিচ। এ ঘটনায় তাঁকে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড এবং কারামুক্তির পর ১০ বছরের তত্ত্বাবধানের সাজা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে লরার মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যার দায় স্বীকার করলে তাঁকে আরও ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওয়ালওর্থ কাউন্টিতে মরদেহ গোপনের আরও দুটি অভিযোগে অতিরিক্ত ১০ বছরের সাজাও পান তিনি। আদালতের রায়ে মামলার আইনি নিষ্পত্তি হলেও দুই নারীর পরিবার এখনো তাঁদের হারানোর শোক বহন করছে। জেনি গেমেজের পালক বোন আমান্ডা দুরন বলেন, কাছের কাউকে হারালে জীবন আর আগের মতো থাকে না, সব সময় মনে হয় কোনো একটি অংশ অনুপস্থিত। অন্যদিকে লরার বোন নিকি কার্লসন জানিয়েছেন, প্রতিদিনই তিনি বোনের কথা ভাবেন এবং তাঁকে মিস করেন। তদন্তে অনলাইন পরিচয়, হোটেলের নথি, উল্কির মতো শারীরিক চিহ্ন এবং ডিএনএ প্রমাণ একত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এ ঘটনাটি দেখিয়েছে, একটি নিখোঁজের তদন্ত ও আরেকটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহু অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পারে। সূত্র: এবিসি নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
৪০ বছর পর জানা গেল, যমজ দুই বোনের বাবা আলাদা
সন্দেহে ডিএনএ পরীক্ষা! ৪০ বছর পর জানা গেল, যমজ দুই বোনের বাবা আলাদা

ব্রিটেনের দুই বোন মিশেল ও ল্যাভিনিয়া অসবর্নের জীবনে ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর এক ডিএনএ পরীক্ষা বদলে দিয়েছে পরিবার সম্পর্কে তাদের ধারণা। একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠা এবং কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম নেওয়া এই দুই বোন জানতে পারেন, তাদের জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। অর্থাৎ তারা যমজ হলেও জেনেটিকভাবে তারা সৎবোন। ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল একটি জৈবিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।    মিশেল ও ল্যাভিনিয়া ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন। তাদের মা জানিয়েছিলেন, তাদের বাবার নাম জেমস। তবে কৈশোরে জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হলেও মিশেলের মনে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ছিল, তিনি আসলেই তার জৈবিক বাবা কি না।    এই সন্দেহ থেকেই ২০২১ সালের শেষ দিকে মিশেল বাড়িতে করার জন্য একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট কিনেছিলেন। পরীক্ষার ফল ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি হাতে আসে। ফলাফলে দেখা যায়, জেমস তার জৈবিক বাবা নন। এরপর নিজের পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে মিশেল জানতে পারেন, তার জৈবিক বাবা অ্যালেক্স নামে একজন ব্যক্তি, যিনি তাদের মায়ের পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন।    এরপর ল্যাভিনিয়াও নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রথমে ধারণা করেছিলেন, পরীক্ষার ফল মিশেলের ফলের সঙ্গে মিলবে। কিন্তু ফলাফল পাওয়ার পর সামনে আসে আরও বড় সত্য। দেখা যায়, মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার বাবা একই ব্যক্তি নন। ল্যাভিনিয়ার জৈবিক বাবা হিসেবে আরেক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়, যার নাম আর্থার।    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন। সাধারণভাবে একজন নারীর একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু বের হলে এবং সেগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। পরে দুই ভ্রূণ একই গর্ভে বেড়ে উঠে একই সময়ে জন্ম নিলে তাদের যমজ হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু তাদের জৈবিক বাবা আলাদা হয়।    বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রায় ২০টি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এমন ঘটনা অনেক সময় ধরা পড়ে না, কারণ পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ না থাকলে যমজ সন্তানদের আলাদাভাবে ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। যুক্তরাজ্যে মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার ঘটনাটিকে এ ধরনের প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।    ডিএনএ পরীক্ষার ফল শুধু তাদের পারিবারিক পরিচয়ই বদলে দেয়নি, দুই বোনের সম্পর্কেও গভীর আবেগ তৈরি করে। ল্যাভিনিয়া জানান, সত্যটি জানার পর তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। অন্যদিকে মিশেল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও পরীক্ষার ফল তার দীর্ঘদিনের সন্দেহের সঙ্গে মিলে যায়। পরে ল্যাভিনিয়া তার জৈবিক বাবা আর্থারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং নিয়মিত দেখা করতে শুরু করেন।    দুই বোনের এই ঘটনা বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘দ্য গিফট’ অনুষ্ঠানের নতুন মৌসুমেও উঠে এসেছে। সেখানে তারা জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় তাদের জৈবিক পরিচয় সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এলেও তারা একে অপরের জীবনে যমজ বোন হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ। চার দশকের বেশি সময় পর পাওয়া এই তথ্য তাদের পরিবারের অতীত সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করলেও, একই গর্ভে বেড়ে ওঠা এবং একসঙ্গে জীবন কাটানোর সম্পর্কটি তাদের কাছে আলাদা বাস্তবতা হিসেবে রয়ে গেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ডিএনএ পরীক্ষায় আপন বোনের পরিচয় পাওয়ার পর মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের পুনর্মিলন। ছবি: সংগৃহীত
৪০ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, এতদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসলে আপন দুই বোন

নেদারল্যান্ডসে বড় হওয়া দুই নারী মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের বন্ধুত্বের শুরু কৈশোরে। প্রায় তিন দশক ধরে তারা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে চিনেছেন, চেহারা ও স্বভাবের মিল দেখে মজা করে ‘বোন’ও ডাকতেন। কিন্তু তখন কেউ জানতেন না, সেই সম্পর্ক আসলে রক্তের সম্পর্ক।   ভারতীয় বংশোদ্ভূত মীনা ও মিনাল দুজনকেই আশির দশকের শুরুর দিকে মুম্বাইয়ের আলাদা দুটি এতিমখানা থেকে দত্তক নেওয়া হয়। পরে তারা নেদারল্যান্ডসের দুই ভিন্ন পরিবারে বড় হন। তাদের দত্তক পরিবারগুলোর বাড়িও ছিল একে অপরের থেকে মাত্র প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।   ১৯৯৬ সালে কিশোরী বয়সে দত্তক নেওয়া শিশুদের জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক পরিচিতির অনুভূতি তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধুরাও চেহারার মিল দেখে অবাক হয়েছিলেন। মীনার ভাষায়, মিনালের নাক, হাসি ও নানা অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তার নিজের অদ্ভুত মিল ছিল।   সেই পরিচয় দ্রুত বন্ধুত্বে পরিণত হয়। দুজন পরস্পরের ঠিকানা ও ফোন নম্বর নেন এবং চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। স্কুল, বন্ধু, গান, খেলাধুলা থেকে শুরু করে কৈশোরের নানা বিষয় নিয়ে তাদের কথা হতো। এমনকি নিজেদের মধ্যে মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন।   তবে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিনাল পরে ফ্রান্সে চলে যান। অন্যদিকে মীনা সন্তান ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নিজের জৈবিক পরিবারের সন্ধানে মীনা একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেছিলেন। তবে তখন কোনো মিল পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের শুরুর দিকে ফোনের জায়গা খালি করতে তিনি সেই পরীক্ষার অ্যাপও মুছে ফেলেন।   এপ্রিল মাসে মিনালও একই উদ্দেশ্যে একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেন। মে মাসের ২০ তারিখে তিনি ফেসবুকে মীনাকে একটি বার্তা পাঠান, ‘আমাকে মনে আছে?’ বার্তার সঙ্গে তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের একটি ছবি পাঠান। মীনা দ্রুত অ্যাপটি আবার ইনস্টল করেন। এরপর পরীক্ষার ফল দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। ফলাফলে মিনালকে তার ‘পূর্ণ বোন’ হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ তারা একই জৈবিক মা ও বাবার সন্তান।   রয়টার্সকে মীনা বলেন, ফলাফলটি দেখার পর তার মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এমন একটি ধাঁধার টুকরো যেন হঠাৎ হাতে এসেছে। এতদিন যে অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে পারতেন না, ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেটিকেই সত্য প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে মিনাল প্রথমে বুঝতেই পারেননি, ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া ‘মীনা’ সেই কিশোরী বন্ধু, যার সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর আগে তার পরিচয় হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।   আগস্টে নেদারল্যান্ডসের স-হার্টোজেনবস শহরে ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানার পর দুই বোনের প্রথম দেখা হয়। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। কান্না, হাসি ও আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে তারা একে অপরকে স্বাগত জানান। তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই পুনর্মিলনে উপস্থিত ছিলেন। মীনা বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী এবং তিন সন্তানের মা। তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন। মিনালের বয়স ৪৪ বছর। তিনি ফ্রান্সে সঙ্গী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন।   দুই বোনের মধ্যে যোগাযোগও এখন আবার নিয়মিত হয়েছে। তারা প্রায় প্রতিদিন কথা বলছেন এবং একে অপরের স্বামী বা সঙ্গী, সন্তান, ভাইবোন ও পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও লক্ষ্য করছেন, দুজনের কথা বলার ধরন, হাঁটা ও মাথা নাড়ার ভঙ্গিতেও এখনও অনেক মিল রয়েছে।   মিনাল বলেন, জীবনে তিনি সবসময় ভালোবাসা ও যত্ন পেয়েছেন, কিন্তু কোথাও একটা একাকিত্বের অনুভূতি ছিল। নিজের জৈবিক পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা তার ছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় মীনাকে খুঁজে পাওয়ার পর সেই অনুভূতিতে পরিবর্তন এসেছে।   প্রায় ৩০ বছর আগে যে দুই কিশোরী বন্ধুত্বের বন্ধনে যুক্ত হয়েছিল, তারা তখন জানত না তাদের সম্পর্ক আরও গভীর। এখন সেই পুরোনো বন্ধুত্বের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন তারা। মিনালের ভাষায়, তারা বোন হওয়ার আগে বন্ধু ছিল, অথচ এতদিন তারা বোনই ছিল, শুধু সেটা জানত না।   সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ডিএনএ তথ্য কারচুপির দায়ে সাবেক ফরেনসিক বিশ্লেষকের ১০ বছরের জেল
ডিএনএ তথ্য কারচুপির দায়ে সাবেক ফরেনসিক বিশ্লেষকের ১০ বছরের জেল

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ডিএনএ পরীক্ষার তথ্য কারচুপি ও প্রমাণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের দায়ে সাবেক এক ফরেনসিক বিশ্লেষককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কলোরাডো ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) সাবেক বিশ্লেষক ইয়vonne “মিসি” উডসের কর্মকাণ্ডে শত শত ফৌজদারি মামলার ডিএনএ প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, যৌন হামলা ও ডাকাতির ঘটনাও রয়েছে।    ৬৬ বছর বয়সী উডস ৮ সেপ্টেম্বর কলোরাডোর জেফারসন কাউন্টি জেলা আদালতে চারটি গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর সাজা পান। তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, প্রথম-ডিগ্রি মিথ্যা সাক্ষ্য, সরকারি কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। চুক্তির আওতায় আরও অনেক অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়।    আদালতের নথি ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উডস ডিএনএ পরীক্ষার তথ্য পরিবর্তন, কিছু তথ্য মুছে ফেলা এবং পরীক্ষার ফলাফল যথাযথভাবে নথিভুক্ত না করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, কোনো কোনো নমুনা থেকে ডিএনএর পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হতো অথবা কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হতো।    সিবিআই জানিয়েছে, উডসের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক হাজারের বেশি মামলা পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ৪০০টির বেশি মামলা ছিল যৌন হামলার। তদন্তকারীরা জানান, উডসের কর্মকাণ্ডের কারণে বহু মামলার প্রমাণ নতুন করে যাচাই করতে হয়েছে।    ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে। সিবিআইয়ের এক শিক্ষানবিশ ২০১৮ সালের একটি মামলার নথিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুপস্থিত দেখতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরে অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা যায়, উডসের কাজ নিয়ে ২০১৪ সাল থেকেই উদ্বেগ ছিল। ২০১৮ সালে তাকে সাময়িকভাবে ডিএনএ-সংক্রান্ত কাজ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।    উডসের অনিয়মের প্রভাব ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় পড়েছে। মাইকেল ক্লার্ক নামে এক ব্যক্তির হত্যার সাজা বাতিল হওয়ার পর তিনি ২০২৫ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ওই মামলায় উডসের ব্যবস্থাপনা করা ডিএনএ প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রসিকিউটররা পরে মামলাটি পুনরায় চালানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। আরও দুটি হত্যা মামলায় উডসের সংশ্লিষ্টতার কারণে আসামিদের সঙ্গে তুলনামূলক কম সাজায় সমঝোতা করা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।    তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উডসের বিরুদ্ধে তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ডিএনএ শনাক্তকরণ, মিথ্যা তুলনা বা মিথ্যা পজিটিভ ফল তৈরি করেছিলেন। বরং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল বিষয় ছিল পরীক্ষার তথ্য পরিবর্তন, বাদ দেওয়া এবং প্রমাণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম।    আদালতে উডস নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন, তার দায়িত্ব ছিল এমন প্রমাণ নিয়ে কাজ করা যার ওপর আসামি, ভুক্তভোগী, পরিবার ও আদালতের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে। তবে তার ক্ষমা চাওয়া ক্ষতির পুরোপুরি সমাধান করতে পারবে না বলেও তিনি স্বীকার করেন।    উডস ২০২৩ সালে সিবিআই থেকে অবসর নেন। তার কর্মকাণ্ডের কারণে কলোরাডোতে বিপুলসংখ্যক ফৌজদারি মামলা পুনরায় যাচাই করতে হচ্ছে। রাজ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়ার ব্যয় কয়েক মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিবিআই একই সঙ্গে পরীক্ষাগারের কার্যক্রমে সংস্কার এনে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
বিনা অপরাধে ৩৭ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান রবার্ট ডুবয়েস। ছবি: সংগৃহীত
বিনা অপরাধে ৩৭ বছর কারাগারে, নির্দোষ প্রমাণের পর পেলেন ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার

ফ্লোরিডার টাম্পার বাসিন্দা রবার্ট ডুবোইসের জীবনের প্রায় চার দশক কেটে গেছে কারাগারের পেছনে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে এমন এক হত্যা ও যৌন নিপীড়নের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যে অপরাধ তিনি করেননি। প্রায় ৩৭ বছর কারাগারে থাকার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ হয়, তিনি ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়ার চার বছর পর ২০২৪ সালে টাম্পা শহর থেকে তিনি ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমঝোতা অর্থ পান।   ঘটনার শুরু ১৯৮৩ সালে। ফ্লোরিডার টাম্পায় ১৯ বছর বয়সী বারবারা গ্রামসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে তার ওপর যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়। সে সময় তদন্তকারীরা ডুবোইসকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি তখন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ।   মামলায় ডুবোইসের বিরুদ্ধে প্রধান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল ভুক্তভোগীর শরীরে থাকা একটি দাঁতের কামড়ের মতো দাগ। একজন ফরেনসিক দন্তবিশেষজ্ঞ দাবি করেন, ওই দাগের সঙ্গে ডুবোইসের দাঁতের গঠনের মিল রয়েছে। তার দাঁতের ছাঁচও নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় কামড়ের দাগ বিশ্লেষণকে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে এ ধরনের বিশ্লেষণের বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ ও অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।   মামলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল কারাগারের এক তথ্যদাতার সাক্ষ্য। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নিজেরও একাধিক ফৌজদারি মামলা চলছিল এবং ডুবোইসের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিনিময়ে তিনি সুবিধা পেয়েছিলেন বলে তথ্য উঠে আসে। এসব প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই ডুবোইসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।   ১৯৮৫ সালে তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রথমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে সেই সাজা বাতিল হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপ নেয়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি কারাগারে কাটাতে বাধ্য হন। এমনকি প্রায় তিন বছর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবেও তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল।   এরপর কেটে যায় কয়েক দশক। ২০১৮ সালে নির্দোষ প্রমাণিত ব্যক্তিদের ভুল সাজা পুনর্বিবেচনায় কাজ করা সংগঠন ইনোসেন্স প্রজেক্ট ডুবোইসের মামলাটি নতুন করে খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তদন্তকারীরা এমন কিছু অপরাধস্থলের আলামত পুনরায় পরীক্ষা করার সুযোগ পান, যেগুলো আগে নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল।   নতুন ডিএনএ পরীক্ষার ফলই বদলে দেয় পুরো মামলার চিত্র। পরীক্ষায় পাওয়া জেনেটিক তথ্য ডুবোইসকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করেনি। বরং অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। পরবর্তী তদন্তে আমোস রবিনসন ও অ্যাব্রন স্কট নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯৮৩ সালের হত্যাকাণ্ডে অভিযোগ আনা হয়।   ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট প্রায় ৩৭ বছর কারাগারে থাকার পর ডুবোইস মুক্তি পান। ওই সময় তার বয়স ছিল ৫৫ বছর। একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ওই মামলা থেকে নির্দোষ ঘোষণা করে।   কারাগার থেকে বেরিয়ে ডুবোইসকে এমন একটি জীবন নতুন করে শুরু করতে হয়, যার প্রায় চার দশক ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে। পরিবার, সমাজ ও স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে আবার মানিয়ে নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। ইনোসেন্স প্রজেক্টের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও তার হারানো সময় বা সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।   মুক্তির পর আরেকটি সমস্যা সামনে আসে। ফ্লোরিডার তৎকালীন ক্ষতিপূরণ আইনের কঠোর শর্তের কারণে ডুবোইস সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। কিশোর বয়সে তার বিরুদ্ধে থাকা কিছু ছোটখাটো, অহিংস অপরাধের পুরোনো রেকর্ড এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ৩৭ বছর অন্যায়ভাবে কারাগারে কাটানোর পরও স্বাভাবিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ তার জন্য বন্ধ ছিল।   শেষ পর্যন্ত ডুবোইস টাম্পা শহর, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাম্পা সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমঝোতা অনুমোদন করে। এই অর্থ ভুলভাবে কারাবন্দি থাকার ক্ষতির আর্থিক স্বীকৃতি হলেও তার হারানো ৩৭ বছর ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো উপায় নেই।   ডুবোইসের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় ভুল ফরেনসিক প্রমাণ ও অনির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। তার মামলায় ব্যবহৃত কামড়ের দাগ বিশ্লেষণ পরবর্তী সময়ে বৈজ্ঞানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়। ইনোসেন্স প্রজেক্ট জানিয়েছে, তার মামলা পুনর্বিবেচনার পর একই ধরনের প্রমাণের ওপর নির্ভর করে হওয়া আরও কিছু পুরোনো মামলা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   অর্থ ও আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পরও ডুবোইসের জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময় আর ফেরার নয়। ১৮ বছর বয়সে যে তরুণ কারাগারে ঢুকেছিলেন, তিনি ৫৫ বছর বয়সে মুক্ত মানুষ হিসেবে বাইরে বের হন। মাঝের প্রায় চার দশক তার জীবনের এমন একটি অধ্যায়, যা কোনো ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়েই পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ইনোসেন্স প্রজেক্ট, ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া যমজ দুই শিশুর বাবা আলাদা হওয়ার বিরল ঘটনা এটি। ছবি: সংগৃহীত
একই মায়ের যমজ সন্তান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল দুই শিশুর বাবা দুইজন

ব্রাজিলের গোইয়াস রাজ্যের মাইনেইরোস শহরের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর জানতে পারেন, দুই শিশুর জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। শিশুদের জন্মের প্রায় আট মাস পর করা ডিএনএ পরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল এই ঘটনাকে বলা হয় ‘হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন’।   ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালে। ওই সময় ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম মেট্রোপোলেসের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সম্প্রতি পুরোনো ঘটনাটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণী একই দিনে দুই ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে তিনি যমজ সন্তানের গর্ভধারণ করেন। শুরুতে তিনি ধারণা করেছিলেন, দুই শিশুর বাবা একই ব্যক্তি। তবে সন্তান জন্মের পর তাদের শারীরিক গঠনে কিছুটা পার্থক্য দেখে বিষয়টি নিয়ে তার মনে প্রশ্ন তৈরি হয়।   শিশুদের বয়স যখন প্রায় আট মাস, তখন সম্ভাব্য বাবাকে নিয়ে নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি দুই শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের জৈবিক বাবা। দ্বিতীয় শিশুর সঙ্গে তার কোনো জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এরপর তরুণীর মনে পড়ে, গর্ভধারণের সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি তিনি আরেক ব্যক্তির সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, তিনি অন্য শিশুটির জৈবিক বাবা।   তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার ফল দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়ে যান। তিনি জানান, তিনি জানতেনই না যে একই গর্ভধারণে যমজ দুই শিশুর বাবা আলাদা হতে পারেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুই শিশুকে দেখতে অনেকটাই একই রকম। মামলাটি অনুসরণকারী চিকিৎসক তুলিও ফ্রাঙ্কো, ফ্যাকালদাদে মরগানা পোট্রিচের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, ব্যাখ্যা করেন যে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে হলে একই মাসিক চক্রে একজন নারীর দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ করতে হয়। এরপর উর্বর সময়ের কাছাকাছি সময়ে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দিয়ে ওই দুটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে দুই ভিন্ন পুরুষের সন্তান একই গর্ভে বেড়ে উঠতে পারে।   এ ক্ষেত্রে দুই শিশু অভিন্ন যমজ নয়, বরং ভ্রাতৃযমজ বা দ্বিযুগ্ম যমজ। অর্থাৎ, তারা দুটি আলাদা ডিম্বাণু ও দুটি আলাদা শুক্রাণু থেকে তৈরি হয়। ফলে তাদের মধ্যে জিনগত মিল সাধারণ ভাই-বোনের মতোই হয়। তবে তারা একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও হেটেরোপ্যাটারনাল যমজের এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুপারফেকান্ডেশন’ বলতে একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু ভিন্ন সময়ে নিষিক্ত হওয়াকে বোঝায়। আর যখন ওই ডিম্বাণুগুলো ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, তখন তাকে হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন বলা হয়। মানুষের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল।   মাইনেইরোসের এই ঘটনায় চিকিৎসক তুলিও ফ্রাঙ্কো জানিয়েছিলেন, সে সময়ের প্রাথমিক চিকিৎসা-সাহিত্যে এমন প্রায় ২০টি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছিল। তবে এ সংখ্যা বিশ্বব্যাপী প্রকৃত ঘটনার নির্ভুল হিসাব নয়, কারণ এমন ঘটনা সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষা না করা পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যমজ সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দুই শিশুরই নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ২০২০ সালে কলম্বিয়ায় প্রকাশিত একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণাতেও ভিন্ন বাবার যমজ সন্তানের একটি ঘটনা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, পিতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু একজন যমজের পরীক্ষা করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।   মাইনেইরোসের ওই ঘটনায় দুই শিশুই একই মায়ের সন্তান হলেও তাদের জৈবিক বাবা আলাদা। আর দুই শিশুকে দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় বিষয়টি আরও বিস্ময় তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষাই নিশ্চিত করে দেয়, একই গর্ভধারণে জন্ম নেওয়া দুই যমজের পিতৃত্বের গল্প এক নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নর্থ ডাকোটায় দায়ের হয়েছে নতুন মামলা। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসা সেবার নামে চরম প্রতারণা: রোগীদের অজান্তে নিজের শুক্রাণু ব্যবহারের অভিযোগে কাঠগড়ায় মার্কিন চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যে একজন উর্বরতা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ এনে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রোগীর সম্মতি ছাড়াই সন্তান ধারণের চিকিৎসার সময় তিনি দাতার শুক্রাণুর পরিবর্তে নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করেছিলেন। বহু বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।   দ্য ফোরাম অব ফার্গো-মুরহেড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই ওয়ার্ড কাউন্টি আদালতে দায়ের করা মামলায় টাশিনা গ্রিভস, জানাই নেলসন রেমন্ড এবং তাদের মা জিন অ্যান নেলসন বাদী হয়েছেন।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সন্তান ধারণে সমস্যার কারণে জিন অ্যান নেলসন চিকিৎসক ডেনিস লুটজের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ করেন।   প্রথমবার গর্ভধারণের পর গর্ভপাত হলেও পরবর্তী দুটি গর্ভধারণে ১৯৮৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাশিনা গ্রিভস এবং ১৯৮৬ সালের ২২ মে জানাই নেলসন রেমন্ডের জন্ম হয়। সে সময় লুটজ নর্থ ডাকোটার মিনোট শহরে চিকিৎসা করতেন।   মামলায় বলা হয়েছে, চিকিৎসক নেলসনকে জানিয়েছিলেন যে, তার স্বামী ওয়ারেন নেলসনের শুক্রাণুর সঙ্গে একজন দাতার শুক্রাণু মিশিয়ে ব্যবহার করলে স্বামীর জিনগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।   তবে বাদীপক্ষের দাবি, এই ব্যাখ্যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, দাতার শুক্রাণু ব্যবহার না করে চিকিৎসক নিজের শুক্রাণুই ব্যবহার করেন এবং বিষয়টি কখনোই রোগীকে জানাননি।   মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো ভুল, দুর্ঘটনা বা চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং রোগীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন থেকেও ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষা করার পর টাশিনা গ্রিভস ও জানাই নেলসন রেমন্ড জানতে পারেন, তাদের জৈবিক বাবা আসলে চিকিৎসক ডেনিস লুটজ। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, এই তথ্য জানার পর দুই নারী এবং তাদের মা গভীর মানসিক আঘাত, পরিচয়সংকট এবং আবেগগত ক্ষতির শিকার হয়েছেন।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষায় আরও কয়েকজন সম্ভাব্য সৎ ভাইবোনের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, একই চিকিৎসকের মাধ্যমে অন্য রোগীদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই ঘটনা শুধু তিনজন বাদীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নয়; বরং একই সময়ে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া অন্য রোগীরাও একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।   ডেনিস লুটজের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চিকিৎসাগত অননুমোদিত হস্তক্ষেপ, রোগীর প্রতি বিশ্বাসভঙ্গ, ইচ্ছাকৃত মানসিক ক্ষতি এবং জৈবিক পিতৃত্ব গোপন করার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   বাদীপক্ষের আইনজীবী কেলেন বুবাক এক বিবৃতিতে বলেন, “এই মামলার মূল বিষয় হলো রোগীর সম্মতি, প্রজনন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, চিকিৎসকের প্রতি আস্থা এবং সন্তানদের নিজেদের জৈবিক পরিচয় ও চিকিৎসা-ইতিহাস জানার অধিকার।”   তিনি আরও বলেন, “অভিযোগগুলো চিকিৎসা সেবার সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোর একটির সঙ্গে জড়িত। নেলসন পরিবার শুধু জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই সামনে আসেনি, তারা আশঙ্কা করছে অন্য পরিবারও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।”   এ কারণে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তার আইন কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মামলায় বাদীপক্ষ ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ এবং জুরি বিচারের আবেদন জানিয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ডেনিস লুটজ নিউ মেক্সিকোতে বসবাস করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটার মেডিকেল স্কুলের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ডডস এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে লুটজ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভাগের প্রধান। তবে তিনি বলেন, মামলার মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় আগে জানত না। ব্যক্তিগত আইনি বিষয় বা কর্মী-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য না করার নীতির কারণে এ মুহূর্তে তাদের আর কোনো বক্তব্য নেই।   অন্যদিকে, লুটজের আইনজীবীর কাছে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ডিএনএ পরীক্ষায় ৩৮ বছর পর জন্মের সময় অদলবদলের ঘটনা জানতে পারেন কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসন। ছবি: সংগৃহীত
ডিএনএ পরীক্ষায় ৩৮ বছর পর জানা গেল জন্মের সময় অদলবদল, হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দুই পরিবারের

জন্মের প্রায় ৩৮ বছর পর একটি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন, তারা আসলে ভুল পরিবারের কাছে বড় হয়েছেন। অবিশ্বাস্য এই সত্য সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই ব্যক্তি ও তাদের পরিবার। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভুলের কারণে তারা এমন একটি জীবন হারিয়েছেন, যা প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রাপ্য ছিল।   মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসন নামে দুই ব্যক্তি গত সপ্তাহে নর্থ ডাকোটার অঙ্গরাজ্য আদালতে ইউনিটি মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, ১৯৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি নর্থ ডাকোটার গ্রাফটন শহরের ওই হাসপাতালেই তাদের জন্ম হয় এবং কোনো এক পর্যায়ে দুই নবজাতককে ভুল পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। সে দিন ওই হাসপাতালে জন্ম নেওয়া একমাত্র দুই নবজাতক ছিলেন তারা।   অবিশ্বাস্য এই ঘটনার সূত্রপাত হয় একেবারে কাকতালীয়ভাবে। কাইল বাইলিন একটি পারিবারিক ক্রিসমাস উপহার বিনিময় অনুষ্ঠানে বাড়িতে বসে করা যায় এমন একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পান। কৌতূহলবশত পরীক্ষা করার পর একটি বংশতালিকা-ভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার সঙ্গে এক নারীর জৈবিক আত্মীয়তার মিল পাওয়া যায়। পরে ওই নারীর ভাতিজা জেরেমি মরিসনও ডিএনএ পরীক্ষা করান। ফলাফলে নিশ্চিত হয়, জন্মের সময় দুই শিশুকে ভুল পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছিল।   বাইলিন বলেন, "ফলাফল দেখার পর আমি সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে যাই। কখনো কল্পনাও করিনি যে জন্মের সময় সত্যিই আমাদের অদলবদল করা হয়েছিল।" অন্যদিকে, মরিসন জানান, বাইলিনের ভাইয়ের ছবি দেখেই তার সন্দেহ হয়েছিল। তার ভাষায়, ছবিতে নিজের সঙ্গে আশ্চর্যজনক মিল দেখে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারেননি।   মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাইলিনের কাছে এখনো হাসপাতালের সেই নবজাতকের পরিচয়-বন্ধনী (হাসপাতালের ব্রেসলেট) সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে ভুল করে তাকে "কাইল বাইলিন" হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। অথচ জৈবিকভাবে তিনি আসলে জেরেমি মরিসন ছিলেন।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে কোনো এক সময় দুই নবজাতকের অদলবদল হয়েছিল। তবে তাদের দাবি, হাসপাতালের কর্মীরা এ ঘটনার জন্য দায়ী ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। হাসপাতাল এক বিবৃতিতে জানায়, প্রায় চার দশক পেরিয়ে যাওয়ায় সে সময়ের চিকিৎসা নথি ও কর্মীদের রেকর্ড আর সংরক্ষিত নেই। এছাড়া ওই সময় প্রসূতি বিভাগে কর্মরত কেউ বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত নন। ফলে কীভাবে এই ভুল ঘটেছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।   কাইলকে লালন-পালন করা ইভলিন নিউটন বলেন, "কাইল এখনো আমার ছেলে, এটা কখনো বদলাবে না। কিন্তু আমার জৈবিক সন্তানের সঙ্গে কাটানোর যে জীবন ছিল, তা আমি হারিয়েছি। প্রথম হাঁটা, গাড়ি চালানো শেখা, বিয়ে—এসব মুহূর্ত আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।" জেরেমি মরিসনও জানান, এই সত্য জানার পরও যেসব বাবা-মা তাকে বড় করেছেন, তাদের প্রতিই তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আগের মতোই রয়েছে। তিনি বলেন, "একটি ডিএনএ পরীক্ষা আমার ৩৮ বছরের স্মৃতি মুছে দিতে পারে না।"   বর্তমানে মরিসন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানে ওয়েল্ডিং পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে বাইলিন একাডেমিক পেশায় যুক্ত। দুজনই এখন তাদের জৈবিক বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। যদিও তারা স্বীকার করেছেন, সম্পর্ক গড়ে তোলার এই যাত্রা আবেগঘন এবং কিছুটা অস্বস্তিকরও। তবে একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।   মামলায় দুই পরিবার মানসিক ক্ষতি, অবহেলা এবং চিকিৎসাগত গাফিলতির অভিযোগে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তাদের আইনজীবী টিম ও'কিফ জানান, মামলা করার আগে প্রায় এক বছর হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ইলেকট্রনিক পরিচয় যাচাই, বারকোডযুক্ত পরিচয়-বন্ধনী এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার কারণে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সেন্টার ফর বায়োএথিক্সের শিক্ষক ও শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. জনাথন ম্যারনের ভাষায়, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এমন ভুল "প্রায় কখনোই হওয়ার কথা নয়"।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০