চিকিৎসা সেবার নামে চরম প্রতারণা: রোগীদের অজান্তে নিজের শুক্রাণু ব্যবহারের অভিযোগে কাঠগড়ায় মার্কিন চিকিৎসক
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যে একজন উর্বরতা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ এনে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রোগীর সম্মতি ছাড়াই সন্তান ধারণের চিকিৎসার সময় তিনি দাতার শুক্রাণুর পরিবর্তে নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করেছিলেন। বহু বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
দ্য ফোরাম অব ফার্গো-মুরহেড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই ওয়ার্ড কাউন্টি আদালতে দায়ের করা মামলায় টাশিনা গ্রিভস, জানাই নেলসন রেমন্ড এবং তাদের মা জিন অ্যান নেলসন বাদী হয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সন্তান ধারণে সমস্যার কারণে জিন অ্যান নেলসন চিকিৎসক ডেনিস লুটজের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ করেন।
প্রথমবার গর্ভধারণের পর গর্ভপাত হলেও পরবর্তী দুটি গর্ভধারণে ১৯৮৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাশিনা গ্রিভস এবং ১৯৮৬ সালের ২২ মে জানাই নেলসন রেমন্ডের জন্ম হয়। সে সময় লুটজ নর্থ ডাকোটার মিনোট শহরে চিকিৎসা করতেন।
মামলায় বলা হয়েছে, চিকিৎসক নেলসনকে জানিয়েছিলেন যে, তার স্বামী ওয়ারেন নেলসনের শুক্রাণুর সঙ্গে একজন দাতার শুক্রাণু মিশিয়ে ব্যবহার করলে স্বামীর জিনগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
তবে বাদীপক্ষের দাবি, এই ব্যাখ্যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, দাতার শুক্রাণু ব্যবহার না করে চিকিৎসক নিজের শুক্রাণুই ব্যবহার করেন এবং বিষয়টি কখনোই রোগীকে জানাননি।
মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো ভুল, দুর্ঘটনা বা চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং রোগীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন থেকেও ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষা করার পর টাশিনা গ্রিভস ও জানাই নেলসন রেমন্ড জানতে পারেন, তাদের জৈবিক বাবা আসলে চিকিৎসক ডেনিস লুটজ।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, এই তথ্য জানার পর দুই নারী এবং তাদের মা গভীর মানসিক আঘাত, পরিচয়সংকট এবং আবেগগত ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষায় আরও কয়েকজন সম্ভাব্য সৎ ভাইবোনের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, একই চিকিৎসকের মাধ্যমে অন্য রোগীদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই ঘটনা শুধু তিনজন বাদীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নয়; বরং একই সময়ে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া অন্য রোগীরাও একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
ডেনিস লুটজের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চিকিৎসাগত অননুমোদিত হস্তক্ষেপ, রোগীর প্রতি বিশ্বাসভঙ্গ, ইচ্ছাকৃত মানসিক ক্ষতি এবং জৈবিক পিতৃত্ব গোপন করার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কেলেন বুবাক এক বিবৃতিতে বলেন, “এই মামলার মূল বিষয় হলো রোগীর সম্মতি, প্রজনন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, চিকিৎসকের প্রতি আস্থা এবং সন্তানদের নিজেদের জৈবিক পরিচয় ও চিকিৎসা-ইতিহাস জানার অধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “অভিযোগগুলো চিকিৎসা সেবার সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোর একটির সঙ্গে জড়িত। নেলসন পরিবার শুধু জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই সামনে আসেনি, তারা আশঙ্কা করছে অন্য পরিবারও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।”
এ কারণে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তার আইন কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মামলায় বাদীপক্ষ ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ এবং জুরি বিচারের আবেদন জানিয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ডেনিস লুটজ নিউ মেক্সিকোতে বসবাস করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটার মেডিকেল স্কুলের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ডডস এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে লুটজ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভাগের প্রধান। তবে তিনি বলেন, মামলার মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় আগে জানত না। ব্যক্তিগত আইনি বিষয় বা কর্মী-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য না করার নীতির কারণে এ মুহূর্তে তাদের আর কোনো বক্তব্য নেই।
অন্যদিকে, লুটজের আইনজীবীর কাছে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বাড়ি ভাড়া ও আবাসন সংকটের কারণে হাজার হাজার মানুষ গাড়িকেই নিজেদের থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যটিতে প্রতিরাতে প্রায় ৩৪ হাজার গৃহহীন মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি, ভ্যান, আরভি বা অন্যান্য যানবাহনে ঘুমান। তাঁদের প্রায় অর্ধেক থাকেন আরভি, বসবাসের উপযোগী করে পরিবর্তন করা বাস কিংবা ট্রাভেল ট্রেইলারে। গত ২৫ মে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন সংকটের এই চিত্র উঠে এসেছে। একই সঙ্গে এসব যানবাহন রাস্তা থেকে সরাতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীন মানুষের একটি বড় অংশ ফুটপাত কিংবা অস্থায়ী তাঁবুর পরিবর্তে গাড়িতে বসবাস করছেন। অনেকের কাছে এসব যানবাহনই মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়। উচ্চ বাড়িভাড়া, সীমিত আয় এবং সাশ্রয়ী আবাসনের অভাবে তাঁদের পক্ষে নিয়মিত বাসা ভাড়া নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কেউ পুরোনো আরভি কিনছেন, কেউ ভ্যান বা বাসকে থাকার উপযোগী করে তুলছেন। তবে গাড়িতে বসবাসকারী সবার পরিস্থিতি এক নয়। কারও ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সংকট প্রধান কারণ, আবার কেউ ব্যক্তিগত পরিস্থিতি কিংবা জীবনযাপনের পছন্দের কারণে এভাবে থাকছেন। গাড়িতে বসবাসকারী মানুষের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অধিকারকর্মীরা। স্যাক্রামেন্টোভিত্তিক গৃহহীন মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবী টোরি ল্যারেটের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তিনি ন্যাশনাল ভেহিকল রেসিডেন্সি কোয়ালিশনের গবেষণা পরিচালক হিসেবেও কাজ করছেন। তাঁর মতে, প্রচলিত পদ্ধতিতে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা গণনার সময় গাড়িতে বসবাসকারী অনেকে হিসাবের বাইরে থেকে যেতে পারেন। তবে তাঁর দেওয়া সংখ্যাটি একটি ব্যক্তিগত অনুমান, সরকারি হিসাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য নয়। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে রাস্তার পাশে দীর্ঘ সময় ধরে পার্ক করে রাখা বড় যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে আরভি সরানো, পার্কিং টিকিট দেওয়া এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়ার কার্যক্রম চলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া একটি আইনের আওতায় লস অ্যাঞ্জেলেস ও আলামেডা কাউন্টিতে নির্দিষ্ট শর্তে বড় যানবাহন অপসারণের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। যেসব যানবাহনের মূল্য সর্বোচ্চ চার হাজার ডলার এবং মালিক টো ট্রাকের সহায়তা ছাড়া সেগুলো সরাতে পারছেন না, সেসব যানবাহন দ্রুত ধ্বংস করার সুযোগও আইনে রাখা হয়েছে। আগে সংশ্লিষ্ট মূল্যসীমা ছিল ৫০০ ডলার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা কিছু আরভি ও বড় যানবাহন জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তার জন্য সমস্যা তৈরি করছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সিটি কাউন্সিল সদস্য ট্রেসি পার্কের অভিযোগ, কিছু এলাকায় এসব যানবাহন ঘিরে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে গৃহহীন মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর বক্তব্য, বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করে গাড়ি সরিয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যাঁদের গাড়ি সচল নয় কিংবা অন্য কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ৭১ বছর বয়সী ডেভিড বুনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। একসময় লিমুজিন পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই ব্যক্তি লস অ্যাঞ্জেলেসের শেরম্যান ওকস এলাকায় একটি ট্রাভেল ট্রেইলারে বসবাস করছিলেন। আগে তিনি একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। কিন্তু ভবনটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনার কারণে তাঁকে সেখান থেকে সরে যেতে হয়। এলাকায় মাসিক বাড়িভাড়া দুই হাজার ডলারের বেশি হওয়ায় সীমিত আয়ে নতুন বাসা নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৬ হাজার ডলারে একটি ব্যবহৃত ট্রেইলার কেনেন। তবে সেটি কোথায় এবং কতদিন পার্ক করে রাখা যাবে, তা নিয়েও তাঁকে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে গাড়িতে বসবাসকারী মানুষদের নিয়ে গবেষণা করছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের সমাজবিজ্ঞানের গবেষক স্যাম লুটজকার। তাঁর গবেষণায় প্রায় ৯০ জনের অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, অনিরাপদ বা জরাজীর্ণ আরভিতে বসবাসের কারণে বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে তাঁর মতে, শুধু পার্কিং টিকিট দেওয়া, গাড়ি জব্দ করা কিংবা ধ্বংস করার মাধ্যমে গৃহহীনতার মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত সামাজিক সহায়তা ও বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না থাকলে এসব পদক্ষেপে দুর্বল অবস্থায় থাকা মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ায় সামগ্রিক গৃহহীনতার হার কিছুটা কমার তথ্য জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রাজ্যজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে বসবাসকারী গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় আনুমানিক ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই হ্রাস প্রায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান সামগ্রিক গৃহহীন পরিস্থিতির, শুধু গাড়িতে বসবাসকারীদের নয়। ফলে গাড়িতে থাকা ৩৪ হাজার মানুষের আগের অনুমান থেকে বর্তমানে সংখ্যাটি কতটা বদলেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ক্যালিফোর্নিয়া সরকার গৃহহীনতা কমাতে আবাসন, অস্থায়ী আশ্রয় এবং বিভিন্ন সহায়তামূলক কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় করছে। তবে সাশ্রয়ী বাসার সংকট এবং নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন ব্যয় বহনের সক্ষমতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, রাস্তা থেকে আরভি সরানোর পাশাপাশি স্থায়ী আবাসনের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। কারণ অনেকের কাছে একটি পুরোনো গাড়ি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং সেটিই তাঁদের একমাত্র থাকার জায়গা।
যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪০ হাজার কর্মীর গোপন তথ্য ফাঁস
মহাকাশে পানি ও রাসায়নিক উপাদান শনাক্তে বাংলাদেশি নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদার উদ্ভাবন!
ফ্লোরিডায় পাখির প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে সাগরে তলিয়ে গেলেন ৩১ বছরের বাবা, স্ত্রী ও দুই কন্যাকে রেখে চিরবিদায়
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পিনেলাস কাউন্টি কমিশনারদের একটি সভায় আজানের রেকর্ডিং বাজানোর কারণে বোরকা পরিহিত এক নারীকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় একটি মসজিদের সম্প্রসারণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত শোনার জন্য আয়োজিত ওই সভায় এই ঘটনা ঘটে। সভা চলাকালীন মাথা থেকে পা পর্যন্ত কালো বোরকায় ঢাকা ওই নারী পোডিয়ামের সামনে আসেন। এ সময় তাঁর কেবল বাঁ চোখটি দৃশ্যমান ছিল। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে কোনো মৌখিক বক্তব্য না দিয়ে সরাসরি আজানের একটি রেকর্ডিং বাজাতে শুরু করেন। এটি কোনো ধরনের প্রতিবাদ নাকি নিছকই কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। প্রায় এক মিনিট ধরে আজানের অডিওটি চলার পর বোর্ডের চেয়ারম্যান ডেভ এগারস তাতে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি ওই নারীকে রেকর্ডিংটি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে জানান, কাউন্টির নিয়ম অনুযায়ী জনসভায় এসে মৌখিক বক্তব্য দেওয়ার বিধান রয়েছে, কোনো অডিও টেপ বা রেকর্ডিং বাজানোর অনুমতি নেই। কিন্তু ওই নারী নির্দেশ অমান্য করলে পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ অফিসের এক ডেপুটি এসে তাঁকে সভাকক্ষ ও ভবন থেকে বাইরে নিয়ে যান। ওই নারীকে বের করে দেওয়ার পরপরই সভাকক্ষে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালে সেখানে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, ওই নারীকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে না। মূলত এই সভার প্রেক্ষাপট ছিল স্থানীয় 'মসজিদ আল রহমান'-এর সম্প্রসারণ বিতর্ক। গত ১৩ অক্টোবর কাউন্টি বোর্ড ৪-৩ ভোটে ওই মসজিদের জায়গাটির ভূমি-ব্যবহার সংশোধনী অনুমোদন করে, যার ফলে সেখানে আরও বড় স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়। মঙ্গলবারের সভায় এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন কিছু বাসিন্দা। কেউ কেউ একে 'পশ্চিমা মূল্যবোধের পরিপন্থি' বলে আখ্যা দেন। তবে মসজিদের পক্ষেও অবস্থান নেন অনেক প্রতিবেশী। তাঁরা জানান, দীর্ঘদিনের প্রতিবেশীদের সাথে তাঁদের কোনো বিরোধ নেই এবং ভবনটিকে কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদের রূপ দিতেই এই সংস্কার করা হচ্ছে। এদিকে সরকারি নথিতে সরাসরি 'মসজিদ' শব্দটি ব্যবহার না করে একে 'কমিউনিটি অ্যাসেম্বলি ফ্যাসিলিটি' হিসেবে উল্লেখ করা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছেন এক কমিশনার।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের নির্বাচনে এওসিকে হালকাভাবে না নিতে রিপাবলিকানদের সতর্কবার্তা
বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের সমর্থন চাইলেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় তামান্নার জোড়া পুরস্কার
নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মী ছাড়াই পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় কাউন্টারে পানির বোতল কিনতে গিয়ে ১৮ শতাংশ বকশিশ দেওয়ার অনুরোধ পেয়েছেন এক ক্রেতা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বকশিশ দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে। সমালোচনার মুখে বিমানবন্দরের দোকান ও খাবারের স্টল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ওটিজিকে (ওটিজি) ওই কাউন্টার থেকে বকশিশ চাওয়ার বিকল্প সরিয়ে ফেলতে বলেছে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি সামনে আনেন চিকিৎসক ক্লে মস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক ভিডিও প্রকাশের জন্য পরিচিত এই চিকিৎসক বিমানবন্দরের একটি স্বয়ংক্রিয় কাউন্টার থেকে ৬ ডলার ৪৯ সেন্ট দিয়ে পানির বোতল কেনার সময় ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে কেনাকাটা সম্পন্ন করার জন্য কোনো কর্মীকে দেখা যায়নি। কিন্তু অর্থ পরিশোধের স্ক্রিনে ১৮ শতাংশ বকশিশ দেওয়ার বিকল্প দেখানো হয়। ভিডিওতে মস প্রশ্ন তোলেন, কাউন্টারে কোনো কর্মী না থাকলে তিনি কাকে বকশিশ দেবেন। তাঁর বক্তব্য, স্বয়ংক্রিয় কাউন্টারে কেনাকাটা করার পরও কেন তাঁকে আলাদাভাবে ১৮ শতাংশ বকশিশ দেওয়ার অনুরোধ এড়িয়ে যেতে হবে। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী নিজেদের বিরক্তির কথা জানান। একজন মন্তব্য করেন, এই প্রবণতায় তিনি বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি বিরক্ত করার জন্য উল্টো টাকা কেটে নেওয়ার বিকল্প থাকা উচিত বলেও ব্যঙ্গ করেন তিনি। আরেকজনের মন্তব্য, স্বয়ংক্রিয় কাউন্টারে নিজে কেনাকাটা করার পরও বকশিশ চাওয়া অযৌক্তিক। অন্য একজন লেখেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ও তাঁর স্বামীও সম্প্রতি আলোচনা করেছেন এবং তাঁদের মতে, বকশিশ চাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আরও কয়েকজন একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বয়ংক্রিয় কাউন্টারে বকশিশ চাওয়ার সমালোচনা করেন। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সেবা নেওয়ার পর বকশিশ দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে ভোক্তাদের অসন্তোষ বাড়ছে। রেস্তোরাঁবিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পপমেনুর ২০২৬ সালের মার্চে পরিচালিত এক জরিপে ৭৮ শতাংশ ভোক্তা বলেছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বকশিশ চাওয়ার প্রচলিত রীতি এখন তাঁদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়। জরিপে অংশ নেওয়া অনেকেই জানিয়েছেন, প্রয়োজন আছে কি না, তা বিবেচনা না করেই বিভিন্ন জায়গায় বকশিশ দেওয়ার অনুরোধের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। পপমেনুর তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল স্ক্রিনে বকশিশ দেওয়ার অনুরোধ দেখালে ৫৯ শতাংশ ভোক্তা বকশিশ দিতে বাধ্য বোধ করেন। তবে এই হার কমেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের জরিপে এমন অনুভূতির কথা জানিয়েছিলেন ৬৬ শতাংশ ভোক্তা। অর্থাৎ, স্ক্রিনে বকশিশ চাওয়ার পর তা দিতে সামাজিক চাপ অনুভব করেন—এমন মানুষের হার ছয় মাসের ব্যবধানে কমেছে। তবে জরিপের ফলাফল থেকে বোঝা যায়, অনেক ভোক্তা এখনো ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বকশিশের অনুরোধ এড়িয়ে যেতে স্বস্তি বোধ করেন না। বিশেষ করে অর্থ পরিশোধের সময় স্ক্রিনে নির্দিষ্ট হারে বকশিশের বিকল্প দেখানো হলে কেউ কেউ মনে করেন, সেটি না দিলে তাঁদের আচরণকে নেতিবাচকভাবে দেখা হতে পারে। ফলে সেবা দেওয়ার ধরন বা কর্মীর উপস্থিতি বিবেচনা না করেই বকশিশ দেওয়ার চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সমালোচনা করছেন অনেকে। নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, স্বয়ংক্রিয় কাউন্টারে বকশিশ দেওয়ার অনুরোধের কোনো জায়গা নেই। কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র জানান, এ ধরনের অনুরোধ যেন গ্রাহকের সামনে না আসে, সে বিষয়ে আগে থেকেই ওটিজির সঙ্গে কাজ করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখানো কাউন্টারটির বিষয়ে ওটিজির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সেখানে বকশিশ দেওয়ার বিকল্প অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বিমানবন্দরের অন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় কাউন্টারেও এ ধরনের অনুরোধ দেখানো হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার কথা জানানো হয়েছে। নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের খাবার ও অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করে ওটিজি। তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বকশিশ দেওয়ার প্রচলন নিয়ে বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন, হোটেলের বিভিন্ন সেবা কিংবা খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজে বকশিশ দেওয়া দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজিটাল পেমেন্ট স্ক্রিনে বকশিশের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় দেখা যাওয়ায় এর পরিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যেখানে কোনো কর্মী সরাসরি সেবা দিচ্ছেন না, সেখানেও একই ধরনের অনুরোধ দেখানো হলে গ্রাহকদের একাংশ তা অযৌক্তিক বলে মনে করছেন। নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের ঘটনায় মূল আপত্তিও সেখানেই। গ্রাহক নিজেই পণ্য বেছে নিচ্ছেন, নিজেই অর্থ পরিশোধ করছেন, অথচ তাঁকে আবার ১৮ শতাংশ বকশিশ দেওয়ার অনুরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বকশিশ দেওয়া ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় থাকছে, নাকি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তা দিতে চাপ তৈরি হচ্ছে—সে প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাঁচ অঙ্গরাজ্য
জন্মতারিখ অনুযায়ী নভেম্বরের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট, কোন দিন অ্যাকাউন্টে আসবে আপনার টাকা